ছবি : সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় করতোয়া নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ নিয়ে আলাদা তারিখ ঘোষণা করেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে নৌকা বাইচ বন্ধ ঘোষণা করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলার পঞ্চকোশী ইউনিয়নে করতোয়া নদীর কালিগঞ্জ ঘাটে স্থানীয়দের উদ্যোগে এই নৌকা বাইচ আয়োজন করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বিএনপির পক্ষ থেকে ৭, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর এ প্রতিযোগিতার তারিখ ঘোষণা করা হয়।
এর পরই জামায়াত নেতারা ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচের তারিখ ঘোষণা ও প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে উভয় পক্ষই উপজেলা প্রশাসনের অভিযোগ করে।
বিএনপি আয়োজিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বলেন, ৭-৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে করতোয়া নদীর কালিগঞ্জ ঘাটে ১৭তম নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল।
প্রতিযোগিতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রধান অতিথি এবং সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খানকে বিশেষ অতিথি করা হয়।
তিনি বলেন, “এ অবস্থায় হঠাৎ করে জামায়াত নেতা জহুরুল ইসলাম পেনু আমাদের মঞ্চের পাশে মঞ্চ তৈরি করে একই ঘাটে ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করেন।”
যে কারণে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ঘাট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে নৌকা বাইচ বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
সেলিম রেজা অভিযোগ করে বলেন, মূলত ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন বন্ধ করার উদ্দেশ্য নিয়েই এমন দ্বন্দ্বের পরিবেশ তৈরি করেছে একটি পক্ষ।
তিনি বলেন, “তবে এই প্রতিযোগিতা আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। এটা বন্ধ হওয়া ঠিক হবে না। তাই আমরা সবাই মিলেমিশে প্রতিযোগিতার আয়োজন করার চেষ্টা করছি।”
এদিকে জামায়াত আয়োজিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চকোশী ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পেনু বলেন, “বিদ্যুৎমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি এবং উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্যকে বিশেষ অতিথি করে আমরা ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম।
“তবে বর্তমানে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি হয়তো প্রতিযোগিতায় উপস্থিত হতে পারবেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাদের প্রতিযোগিতা বন্ধের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হানুল ইসলামকে তার ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিএনপি ও জামায়াত একই স্থানে আলাদা আলাদাভাবে কালিগঞ্জ ঘাটে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। কোনো পক্ষই প্রশাসনের অনুমতি নেয়নি।
“পরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেওয়ায় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবনতির আশংকার কথা জানানো হয়েছে। যে কারণে উপজেলা প্রশাসন প্রতিযোগিতা বন্ধ ঘোষণা করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কালিগঞ্জ নৌকা ঘাট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।”
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, কুমিল্লার মানুষ কখনো ফ্যাসিবাদ মেনে নেয়নি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবসময়ই তারা প্রতিবাদ করেছে। এ কারণে চব্বিশের জুলাইয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লার মানুষকে দেখতে পারতেন না এবং তাদের বঞ্চিত করেছেন। আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, যাকে আমরা ২০২৪ সালে বিতাড়িত করেছি, তিনিও কুমিল্লার মানুষকে দেখতে পারতেন না। কারণ কুমিল্লার মানুষ কোনো ফ্যাসিবাদকে কখনো মেনে নেয়নি। স্বাধীনতার পর থেকেই বাকশাল ও ফ্যাসিবাদের জন্য কুমিল্লা এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, কুমিল্লার মানুষ প্রতিবাদ করতে কখনো ভয় পায়নি। জুলাইয়ে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে ওঠে কুমিল্লায়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে রেখেছিল।
শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কুমিল্লার মানুষের ভূমিকার কথা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, সেই কারণে তিনি কুমিল্লার মানুষকে দেখতে পারতেন না। কুমিল্লার মানুষকে বঞ্চিত করতেন। কিন্তু কুমিল্লার মানুষের প্রতিবাদই তাকে এই দেশের বাইরে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছে।
মহাসড়কে ধীর গতি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
পদুয়ার বাজারের পথসভাটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পাশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। তাঁদের অনেকে মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় ঢাকামুখী লেনে যান চলাচলে ধীর গতি সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন চলাচলকারীরা।
অন্যদিকে চট্টগ্রামমুখী লেনে লংমার্চের বিশাল গাড়িবহর চলাচল করায় থেমে থেমে যানজট ও ধীর গতি দেখা দেয়। এতে যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
এর আগে আজ শনিবার সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়। লংমার্চটি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা করার কর্মসূচি রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড এবং সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামেও পথসভার আয়োজন করা হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে আছে—অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া সিমেন্টসহ ১২ জন পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ সব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, একই দিন ভোরে ভোরে হাতিয়া থানাধীন মেঘনা নদীতে কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়ার সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
কোস্ট গার্ড জানায়, শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালীর হাতিয়া থানাধীন মেঘনা নদীতে কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়ার সদস্যরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে ওই এলাকায় সন্দেহজনক দুটি বোটে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা ৫৯৫ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়। এসব সিমেন্টের ২৯ হাজার ৭৫০ কেজি এবং আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা। একই সঙ্গে পাচারকাজে ব্যবহৃত দুটি বোটসহ ১২ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরও বলেন, জব্দ করা সিমেন্ট, বোট ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এএসআই আব্দুল মান্নান
নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার সামনে এক এএসআইয়ের গান ও নাচের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। ভিডিওতে ওই পুলিশ সদস্যকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান।
তিনি বলেন, ওই পুলিশ সদস্যের নাম আব্দুল মান্নান। তিনি সদর নৌ থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত। দাম্পত্য কলহ থেকে মান্নান এমন আচরণ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি মাটিতে বসে গান করছেন। পরে উঠে গানের সঙ্গে নাচতে থাকেন। এ সময় তাকে ঘিরে কয়েকজন মানুষ জড়ো হন।
তারা তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলেও তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে গান ও নাচ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাকে একটি চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওতে মান্নানকে বলতে শোনা যায়, তার স্ত্রী তাকে জুতা দিয়ে মেরেছেন। এ কারণে তিনি এমন আচরণ করছেন। ভিডিওতে কয়েকজনকে মান্নান মাদক সেবন করেছেন কি-না, তা নিয়েও কথা বলতে শোনা যায়।
ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, আব্দুল মান্নান মাদকজাতীয় কোনো কিছু সেবন করেছিলেন কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, মান্নান থানার কোয়ার্টারে থাকেন। তার স্ত্রী সিলেটে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। শুক্রবার রাতে মোবাইলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপরই থানার সামনে তাকে এমন আচরণ করতে দেখা যায়।
ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, মান্নানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘জ্বালানি সংকটের সময়ে লংমার্চের নামে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যয় করে জাতীয় সম্পদের অপচয় করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মসূচি জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে।’
আজ শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
এই লংমার্চ কর্মসূচি অযথাই জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে এবং জাতীয় সম্পদ নষ্ট করবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লংমার্চের জন্য প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি তেল ব্যয় হবে বলে হিসাব করা হচ্ছে। অথচ এটি এমন একটি সময়ে হচ্ছে, যখন দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে। প্রথমদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে লংমার্চের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই সংস্কার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এজন্য সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটিতে বিরোধীদলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।’
দ্বিতীয় শপথ প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এমপি হিসেবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী শপথ নেওয়ার পর যে অতিরিক্ত শপথের কাগজ দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে মনে করি। তবে এ বিষয়ে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতামত থাকলেও সে বিতর্কে আমি যেতে চাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার হিসেবে সফল বা ব্যর্থতার মূল্যায়নের পাশাপাশি গত ছয় মাসে বিরোধীদল হিসেবে তারা কতটুকু সফল হয়েছে, সেটিও জনগণের পর্যালোচনা করা উচিত।’
পরে প্রতিমন্ত্রী খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন এবং স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর খোকসা জানিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান ও খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন হোসেন প্রমুখ।
দরজার সামনে টাঙানো কয়েকটি সহজ শব্দ-‘ভিতরে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই’ এবং ‘জুতা নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করুন।’ তবে এই দুটি নির্দেশনার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সরকারি সেবা ব্যবস্থাকে আরও সহজ, উন্মুক্ত ও নাগরিকবান্ধব করে তোলার একটি ব্যতিক্রমী বার্তা।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইনের কক্ষের সামনে টাঙানো হয়েছে এ দুটি নির্দেশনা। ফলে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা নাগরিকদের আর কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশের অনুমতির জন্য বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। প্রয়োজন হলে তাঁরা সরাসরি কর্মকর্তার কাছে গিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারছেন।
ভূমি অফিসে সাধারণত নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খাসজমি, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য, জমির পর্চা ও রেকর্ড, ভূমি মাপজোকসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেবা ও পরামর্শ নিতে আসেন নাগরিকেরা।
একসময় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশের আগে অনুমতির অপেক্ষা এবং নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যেতে হতো অনেক সেবাগ্রহীতাকে। সেই চিরচেনা অভিজ্ঞতার বিপরীতে ভালুকা ভূমি অফিসের এই উদ্যোগ যেন নাগরিকের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব কমানোর এক প্রতীকী প্রয়াস।
বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ, বয়স্ক সেবাগ্রহীতা, নারী এবং জমিজমা-সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা সাধারণ নাগরিকদের জন্য এ উদ্যোগ স্বস্তির বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে প্রয়োজন হলে সরাসরি কর্মকর্তার কাছে নিজের সমস্যার কথা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সেবা গ্রহণের পরিবেশ আরও সহজ ও মানবিক হয়েছে।
৬নং ভালুকা ইউনিয়ন থেকে সেবা নিতে আসা জব্বার মিয়া বলেন, ‘কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ থাকলে জমিজমা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সহজে জানানো যায়। এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ।’
কাচিনা ইউনিয়নের আরেক সেবাগ্রহীতা রিপন খান বলেন, ‘অনুমতির জন্য বাইরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। আবার জুতা খুলে রাখার ঝামেলাও নেই। এতে অফিসের পরিবেশ অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক মনে হচ্ছে।’
ভূমি সেবার ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে বাড়ছে ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার। নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনের মাধ্যমে গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। অনলাইন সেবা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও জটিলতা নিরসনে নাগরিকেরা সরাসরি ভূমি অফিসে আসেন। আর সেখানেই সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে প্রশাসনের সহজ ও সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘মানুষ ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসেন, অযথা অপেক্ষা বা হয়রানির জন্য নয়। নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা নাগরিকেরা যেন প্রয়োজন হলে সরাসরি তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন, সে জন্যই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নাগরিকবান্ধব, সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
সরকারি সেবার দরজা যে নাগরিকের জন্য আরও উন্মুক্ত হতে পারে, ভালুকা উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের এই ছোট উদ্যোগটি যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে। অনুমতির অপেক্ষা নয়, জটিলতার দেয়াল নয়-সেবাগ্রহীতার প্রয়োজনের কাছে প্রশাসনকে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়াই এখন এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে কবরবাসীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় ২১তম বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর হতে উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের উত্তর ফুলদী গ্রামের মো. জামান মোল্লার উদ্যোগে মরহুম রিয়াজ উদ্দিন খান ওরফে হোসেন আলী মোল্লার বাড়িতে কালীগঞ্জে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে কবরবাসীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় ২১তম বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফুলদী জনতা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মো. নাজমুল হুদা ভূইয়া নয়ন এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও বাড়ী মজলিস মাদ্রাসা জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা মুফতি ড. আহমাদ হাসান গাজীপুরী। বিশেষ বক্তা বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত গাজীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক হযরত মাওলানা মো. আমিন আমিন দেওয়ান আল-আবেদী।
বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও রাজনীতিবীদ মো. মামুনুর রশিদ এর উদ্বোধনী মাহফিলে প্রধান অতিথির প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও রাজনীতিবীদ মো. শাহ রিয়ার মোড়ল মাসুম।
বক্তাগণ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ৫৭০ খ্রীষ্টাব্দে ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে পবিত্র মক্কায় আরবের মরু প্রান্তরে মা আমেনার কোলে মানবতার মুক্তির দূত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) শুভ আগমন করেন। মহানবী (সাঃ) এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য নিহিত রয়েছে অফুরন্ত কল্যাণ ও সফলতা।
পরিশেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও মুক্তি কামনা সহ কবরবাসীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দরবার শরীফের আশেকান, ভক্ত ও মুরিদান সহ সুন্নী মতাদর্শের তরিকত পন্থী শত শত সুন্নী জনতা উপস্থিত ছিলেন।