যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথের কাজ দীর্ঘদিন ধরে মুখ থুবরে পরে রয়েছে
ভোগান্তিতে লাখো মানুষ ঠিকাদারদের দ্বন্দ্বই মূল কারণ মূল ঠিকাদার আত্মগোপণে
ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতা, কাজে গাফলতি ও প্রতারণার কারণে টাঙ্গাইলের নিউ ধলেশ্বরী নদীর উপর কালিহাতী উপজেলার জোকারচরে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে মুখ থুবরে পরে রয়েছে। সামান্য একটু কাজ করেই প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে ঠিকাদার। ছয় বছরে মাত্র তিনটি পিলারে আটকে আছে সেতু নির্মাণ। এতে দুটি উপজেলার লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মুখ থুবরে পড়েছে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ।
টাঙ্গাইল এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিমে চরাঞ্চলের মাহমুদ নগরের গোল চত্ত্বর থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে মহাসড়ক পর্যন্ত সড়ক নির্মিত হয়েছে। জোকারচরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর উপর সেতু নির্মিত হলে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যে জোকারচরে ধলেশ্বরী নদীর উপর সেতু নির্মাণে এলজিইডি ৩৪ কোটি ১৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৬৪ মিটার পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করে। হায়দার কন্সট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড, অবনী এন্টারপ্রাইজ ও সৈয়দ মজিবুর রহমান নামক তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয়েন্টভেঞ্চারে সেতু নির্মাণের কাজ পায়। ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তাদের কার্যাদেশ (ওয়ার্কঅর্ডার) দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়- জোকারচরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর বামতীরে দুইটি ও ডানতীরে একটি পিলার নির্মাণ করেই মূল ঠিকাদার মো. হেকমত আলী এলজিইডি থেকে ৯ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৩ টাকা বিল উঠিয়ে নিয়েছেন। এলাকাবাসী জানায়, একেক সময় একেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সাইটে আসে, মাপ-ঝোক করে, ইট-রড আনে আবার চলে যায়। তারা জানেইনা সেতু নির্মাণের মূল ঠিকাদার কে?
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এলজিইডির চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা। কিন্ত অংশিদারদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি, মতপার্থক্য ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় দেড় বছরে তারা কাজই শুরু করেনি। কার্যাদেশ পাওয়ার দেড় বছর পর জয়েন্টভেঞ্চারের এক অংশিদার সৈয়দ মজিবুর রহমান সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ২০২১ সালে এপ্রিল তিনি ওই সেতুতে তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন।
হঠাৎ করে অপর এক অংশিদার অবনী এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী হেকমত আলী সেই কাজ বন্ধ করে দেয় এমন অভিযোগ করেন সৈয়দ মুজিবুর রহমান। এসব ঘটনায় সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। সৈয়দ মুজিবুর রহমান টাকা ফেরত চেয়ে প্রশাসনসহ বিভিন্নস্থানে চিঠি দেন। তাদের মধ্যে মামলা পাল্টা মামলা হয়। মো. হেকমত আলী অপর দুই ঠিকাদার হায়দার ও সৈয়দ মজিবুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করে গাজিপুরের এক ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের কাছে কাজটি বিক্রি করে দেন।
জয়েন্টভেঞ্চারের অংশিদার সৈয়দ মজিবুর রহমান বলেন, দুই অংশিদার হেকমত ও হায়দার কাজ করবেন না বলে আমাকে স্ট্যাম্পে লিখে দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করার দায়িত্ব দেয়। ২০২১ সালে এপ্রিল মাসে আমি সেখানে তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করি। হঠাৎ করে এক অংশিদার হেকমত সন্ত্রাসী বাহিনী এনে আমার কাজ বন্ধ করে দেয়। সেতুর নির্মাণ সে করবে বলে জানায়।
গাজিপুরের ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, হেকমত আলী তার সাথে প্রতারণা করছেন। তিনি পাইলিং সহ ওই সেতু নির্মাণে দুই কোটি ৫৮ লাখ টাকা হেকমতকে দিয়েছেন। জাল স্বাক্ষরের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলেঙ্গা রিসোর্টে আটকিয়ে সব চুক্তিপত্র ফেরত নেন। তার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তিনি কোনো টাকা ফেরত পাননি।
এদিকে হেকমত সেতুর তিনটি পিলার নির্মাণ করেই ৯ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৩ টাকা বিল উঠিয়ে নেন। ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের পর হেকমত আলী আত্মগোপণে চলে যান। বন্ধ হয়ে যায় অতিগুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণ কাজ।
এদিকে জনগণের যাতায়াতে ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে এলজিইডি কর্র্তৃপক্ষ চলতি বছরের ৯ মার্চ জোকারচরে ওই সেতুর নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রে প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়- ৩৪ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৯ টাকা। নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী-এলহোজ জয়েনভেঞ্চার(জেভি)। তাদের আগামী ২২ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
জোকারচর গ্রামের ইউনুস শেখ, বিদ্যুত মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন, মাসুদ রানা জানান, সেতুটি মূলত যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথের সেতুবন্ধন। সেতুটি নির্মিত হলে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ তৈরি হবে। টাঙ্গাইল শহর সহ পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সহজেই এই সেতু দিয়ে উত্তরাঞ্চলে যেতে পারবে। এতে প্রতি ঈদে মহাসড়কে যানজটও হবেনা। বিকল্প পথ দিয়ে এলেঙ্গা যেতে পারবে। জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানার পারভীন জানান, ঠিকাদারদের একে অপরের মধ্যে মিল না থাকা ও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে যথাসময়ে কাজ শেষ হয়নি। তবে তারা যতটুকু কাজ করেছিল তার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারও নির্বাচন করা হয়েছে। এবার নির্দিষ্ট সময়েই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সন্ত্রাসী সাকিল
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাকিল (৩৭) ওরফে বুলেট সাকিল নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা তারাব পৌরসভার বরাবো রসূলপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সাকিল উপজেলা বরাবো রসূলপুর এলাকার মৃত মোস্তাফা মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা বলেন, সাকিল তারাব , বিশ্বরোড ও বরাব এলাকায় কিশোরগ্যাং দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ করে। সাকিল ও তার বাহিনীর সদস্যরা মাদক ও অস্ত্র রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবারহ করে থাকে। এছাড়া তারাব ও বিশ্বরোড এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি, জমি দখলসহ নানা অপকর্ম করে বেড়ায় সাকিল ও তার বাহিনীর সদস্যরা। তাদের কারণে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কে থাকতে হয়। তুচ্ছ ঘটনাতেও সাকিল ও তার বাহিনীর সদস্য অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচ এম সালাউদ্দিন জানান, তারাব পৌরসভার তারাবো এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে দুই গ্রুপের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলি বর্ষণ ও ককলেট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার এজাহার নামীয় আসামী সাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার নিলতী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু দীপক চন্দ্র শীল (৪৫) পরলোকগমন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে কাউখালীর শিক্ষক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র জানাগেছে, বাবু দীপক চন্দ্র শীল একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও শিক্ষা-অনুরাগী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, সাধারণ সম্পাদক ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ, ইজিএস শিক্ষা নিকেতনের সাবেক সভাপতি সবুজ হোসেন চৌধুরী এফসিএ, শিক্ষক সমিতির (কামরুজ্জামান) সভাপতি কিরণ চন্দ্র হালদার, বাংলাদেশ প্রধান শিক্ষক পরিষদের পিরোজপুর জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক তানভীর আহমেদ নাজমুছ সাকিব, শিক্ষক সমিতি (কামরুজ্জামান) কাউখালী শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, কাউখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাইনুল ইসলাম এবং জোলাগাতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুস্তম আলী, তাতীদল কাউখালী উপজেলা শাখার যুগ্ন আহবায়ক মো. গিয়াস উদ্দিন সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এক যৌথ শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে দীপক চন্দ্র শীলের অবদান ও স্মৃতি শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মাঝে দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষা অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে সুমন মিয়া নামে এক হোটেল মালিককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বাচল জলসিড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে সুমন মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানা একটি অভিযোগ দেন।
সুমন মিয়া জানান, তিনি পূর্বাচল উপশহরের জলসিড়ি এলাকায় একটি খাবারের হোটেল চালান। শুক্রবার দুপুরে তার হোটেলের কর্মচারী শামীম রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দেয়। এসময় সুমন মিয়া বিষয়টি দেখতে পেয়ে এগিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা চলে যায়। কিছুক্ষণ পরেই ইজিবাইকের ভেতরে থাকা সোহেল মিয়া, রাব্বিল, রাসেল আহমেদ, মাহবুবুরসহ অজ্ঞাত ৪/৫ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সুমনের হোটেলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে এলোপাথারীভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। সুমন মিয়ার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে প্রতিপক্ষের লোকজন হুমকি ধমকি দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা সুমন মিয়াকে উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে চিকিৎসা দেন।
এ ব্যাপারে রুপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, এই ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ দুই কিশোরের লাশ সাড়ে ৩ ঘন্টা পর উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর)শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট এলাকায় গোসলে নেমে নিখোঁজ হয় ২ কিশোর। অনেক খোজাখুজির পর দুপুর আড়াই টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতরা হলো উত্তর-পূর্ব পাড়ার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১৩) এবং কেফায়েত উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ অরজিন (১৫)।
বেশ কয়েক ঘণ্টা পর জুমার নামাজের পর স্থানীয়দের সহায়তায় নাফ নদীতে তল্লাশি চালিয়ে দুজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
দুই কিশোরের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। খবর পেয়ে শাহপরীর দ্বীপ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে তারা গোসলে নেমে সাতার কাটতে গিয়ে স্রোতের টানে পানিতে তলিয়ে যায়। কারণ এসময় জোয়ারের প্রবল স্রোতে পড়ে শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে পানিতে তলিয়ে গেলে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিব্রতবোধ করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শুক্রবার বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনা অবমুক্তকরণ শেষে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন।
আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই নির্বাচনে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারে। গতকালও (শুক্রবার) আমাকে একজন প্রশ্ন করেছিলেন, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিয়ে যারা প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগ নিয়ে তো এই মুহূর্তে প্রশ্ন করা ঠিক না, উচিতও না। কারণ আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনকে নিয়ে আমাদের পর্যায়ে প্রশ্ন করলে আমরা বিব্রতবোধ করি।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না জানিয়ে এ সময় এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। তবে স্থানীয়ভাবে বিএনপি-সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধিত আইনে আগের মতো দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ধানের শীষের মতো জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। নির্বাচন হবে দলনিরপেক্ষভাবে এবং সাধারণ প্রতীকে।
মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী–উপজেলা বিএনপি প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে সমর্থিত প্রার্থী রাখার চেষ্টা করবে। এ জন্য স্থানীয় বিএনপি সংবাদ সম্মেলন বা কর্মী সভার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ইউনিয়নে দলের সমর্থিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারবে।
তিনি বলেন, এটি দলীয় প্রার্থী বা দলীয় মনোনয়ন নয়, বরং দলীয় সমর্থন। দলকে মাঠপর্যায়ে সুসংগঠিত রাখা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে সর্বোচ্চ একজন প্রার্থী রাখার চেষ্টা করা হবে।
কোনো ইউনিয়নে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকলে স্থানীয় বিএনপি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি। একজনকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের সুযোগ দিয়ে অন্যজনকে অন্য কোনোভাবে দলের কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার চেষ্টা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এরপরও কোনো ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থেকে গেলে এবং কেউ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বগুড়া জেলা বিএনপি ও উপজেলা বিএনপি যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিতে পারবে।
অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব, ওসি শাহীনুজ্জামানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গ্যাসের ১৫ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও আড়াই লাখ টাকা জরিমানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত গ্যাস সংযোগ এবং গ্যাসের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)।
অভিযানে ১৫টি গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি ১৩ জনকে মোট ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবাল (৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার রাধানগর, কৃষ্ণনগর ও বাঞ্ছারামপুর মধ্যপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এবং পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযানে অবৈধভাবে ব্যবহৃত ১৫টি রেগুলেটর জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় ৭০০ ফুট অবৈধ প্লাস্টিক পাইপলাইন উচ্ছেদ ও জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১৫টি গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে ৯টি অবৈধ সংযোগে ১৭টি ডিবি, অতিরিক্ত চুলা ব্যবহারের কারণে দুটি সংযোগে অতিরিক্ত ২ ডিবি, জিআই লাইন বর্ধিত করায় ১০ ডিবি এবং আবাসিক সংযোগ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের দায়ে একটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
মোবাইল কোর্টের তথ্যানুযায়ী, অভিযানে মোট ১৭টি ডিবি আবাসিক এবং ৩টি ছোট বাণিজ্যিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ আইনসহ সংশ্লিষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে তাদের কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
অভিযানে বিজিডিসিএলের ভিজিলেন্স বিভাগ, গৌরীপুর এরিয়া বিতরণ কার্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস কুমিল্লা, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিডিসিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, গ্যাস চুরি ও নিয়মবহির্ভূত ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।