যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথের কাজ দীর্ঘদিন ধরে মুখ থুবরে পরে রয়েছে
ভোগান্তিতে লাখো মানুষ ঠিকাদারদের দ্বন্দ্বই মূল কারণ মূল ঠিকাদার আত্মগোপণে
ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতা, কাজে গাফলতি ও প্রতারণার কারণে টাঙ্গাইলের নিউ ধলেশ্বরী নদীর উপর কালিহাতী উপজেলার জোকারচরে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে মুখ থুবরে পরে রয়েছে। সামান্য একটু কাজ করেই প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে ঠিকাদার। ছয় বছরে মাত্র তিনটি পিলারে আটকে আছে সেতু নির্মাণ। এতে দুটি উপজেলার লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মুখ থুবরে পড়েছে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ।
টাঙ্গাইল এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিমে চরাঞ্চলের মাহমুদ নগরের গোল চত্ত্বর থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে মহাসড়ক পর্যন্ত সড়ক নির্মিত হয়েছে। জোকারচরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর উপর সেতু নির্মিত হলে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যে জোকারচরে ধলেশ্বরী নদীর উপর সেতু নির্মাণে এলজিইডি ৩৪ কোটি ১৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৬৪ মিটার পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করে। হায়দার কন্সট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড, অবনী এন্টারপ্রাইজ ও সৈয়দ মজিবুর রহমান নামক তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয়েন্টভেঞ্চারে সেতু নির্মাণের কাজ পায়। ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তাদের কার্যাদেশ (ওয়ার্কঅর্ডার) দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়- জোকারচরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর বামতীরে দুইটি ও ডানতীরে একটি পিলার নির্মাণ করেই মূল ঠিকাদার মো. হেকমত আলী এলজিইডি থেকে ৯ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৩ টাকা বিল উঠিয়ে নিয়েছেন। এলাকাবাসী জানায়, একেক সময় একেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সাইটে আসে, মাপ-ঝোক করে, ইট-রড আনে আবার চলে যায়। তারা জানেইনা সেতু নির্মাণের মূল ঠিকাদার কে?
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এলজিইডির চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা। কিন্ত অংশিদারদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি, মতপার্থক্য ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় দেড় বছরে তারা কাজই শুরু করেনি। কার্যাদেশ পাওয়ার দেড় বছর পর জয়েন্টভেঞ্চারের এক অংশিদার সৈয়দ মজিবুর রহমান সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ২০২১ সালে এপ্রিল তিনি ওই সেতুতে তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন।
হঠাৎ করে অপর এক অংশিদার অবনী এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী হেকমত আলী সেই কাজ বন্ধ করে দেয় এমন অভিযোগ করেন সৈয়দ মুজিবুর রহমান। এসব ঘটনায় সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। সৈয়দ মুজিবুর রহমান টাকা ফেরত চেয়ে প্রশাসনসহ বিভিন্নস্থানে চিঠি দেন। তাদের মধ্যে মামলা পাল্টা মামলা হয়। মো. হেকমত আলী অপর দুই ঠিকাদার হায়দার ও সৈয়দ মজিবুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করে গাজিপুরের এক ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের কাছে কাজটি বিক্রি করে দেন।
জয়েন্টভেঞ্চারের অংশিদার সৈয়দ মজিবুর রহমান বলেন, দুই অংশিদার হেকমত ও হায়দার কাজ করবেন না বলে আমাকে স্ট্যাম্পে লিখে দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করার দায়িত্ব দেয়। ২০২১ সালে এপ্রিল মাসে আমি সেখানে তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করি। হঠাৎ করে এক অংশিদার হেকমত সন্ত্রাসী বাহিনী এনে আমার কাজ বন্ধ করে দেয়। সেতুর নির্মাণ সে করবে বলে জানায়।
গাজিপুরের ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, হেকমত আলী তার সাথে প্রতারণা করছেন। তিনি পাইলিং সহ ওই সেতু নির্মাণে দুই কোটি ৫৮ লাখ টাকা হেকমতকে দিয়েছেন। জাল স্বাক্ষরের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলেঙ্গা রিসোর্টে আটকিয়ে সব চুক্তিপত্র ফেরত নেন। তার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তিনি কোনো টাকা ফেরত পাননি।
এদিকে হেকমত সেতুর তিনটি পিলার নির্মাণ করেই ৯ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৩ টাকা বিল উঠিয়ে নেন। ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের পর হেকমত আলী আত্মগোপণে চলে যান। বন্ধ হয়ে যায় অতিগুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণ কাজ।
এদিকে জনগণের যাতায়াতে ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে এলজিইডি কর্র্তৃপক্ষ চলতি বছরের ৯ মার্চ জোকারচরে ওই সেতুর নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রে প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়- ৩৪ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৯ টাকা। নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী-এলহোজ জয়েনভেঞ্চার(জেভি)। তাদের আগামী ২২ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
জোকারচর গ্রামের ইউনুস শেখ, বিদ্যুত মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন, মাসুদ রানা জানান, সেতুটি মূলত যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথের সেতুবন্ধন। সেতুটি নির্মিত হলে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ তৈরি হবে। টাঙ্গাইল শহর সহ পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সহজেই এই সেতু দিয়ে উত্তরাঞ্চলে যেতে পারবে। এতে প্রতি ঈদে মহাসড়কে যানজটও হবেনা। বিকল্প পথ দিয়ে এলেঙ্গা যেতে পারবে। জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানার পারভীন জানান, ঠিকাদারদের একে অপরের মধ্যে মিল না থাকা ও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে যথাসময়ে কাজ শেষ হয়নি। তবে তারা যতটুকু কাজ করেছিল তার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারও নির্বাচন করা হয়েছে। এবার নির্দিষ্ট সময়েই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের বগি
যমুনা সেতু রেল সংযোগপথে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া রেলস্টেশনে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে বেলা ১১টার দিকে শেষ বগিটি রেখে চিলাহাটির দিকে রওনা হয় ট্রেনটি। তবে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস ও রাজশাহী কমিউটার ট্রেন টাঙ্গাইল স্টেশনে এবং মির্জাপুর রেলস্টেশনে লালমনিরহাটগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে থাকার খবর পাওয়া গেছে।
মহেড়া রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি মূল লাইন দিয়ে স্টেশন অতিক্রম করার সময় গার্ড ব্রেকের (ট্রেনের শেষ বগি) চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। চালক ট্রেনটি থামাতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেনটির যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় এক হাজার বলে জানা গেছে।
মহেড়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার শাহিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ট্রেনের চাকার সমস্যার কারণে গার্ড ব্রেক লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় যাত্রীদের ক্ষতি না হলেও কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। লাইনের পয়েন্টও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন (দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন বা বগি উদ্ধারে ব্যবহৃত বিশেষ ট্রেন) এসে লাইনচ্যুত বগিটি সরাবে জানিয়ে শাহিন মিয়া বলেন, এতে বেলা একটা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এর আগেই লাইনচ্যুত বগি রেখে নীলসাগর এক্সপ্রেসকে গন্তব্যে রওনা হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। আর লুপ লাইন (মূল রেলপথের পাশের বিকল্প রেলপথ) দিয়ে আটকে পড়া ট্রেনগুলো চালানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে দেশীয় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ মো.সাইফুল ইসলাম ওরফে শাকের (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় একটি একনলা বন্দুক, বন্দুকের বিভিন্ন অংশ এবং অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন। এর আগে বুধবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আকরাম উদ্দিন হাজী বাড়ির একটি কাচারি ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম দেওটি ইউনিয়নের আকরাম উদ্দিন হাজী বাড়ির মুমিন উল্লার ছেলে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওসমান গনির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই কাচারিঘরে অভিযান চালায়। এ সময় অস্ত্র তৈরির কারিগর হিসেবে পরিচিত সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়।
পরে তার কাচারিঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, বন্দুকের কাঠের বাট, লোহার বাট ও বডির বিভিন্ন অংশ, ট্রিগার, বোল্ট এবং এসএস স্টিলের আটটি ছোট-বড় অংশ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি প্লাস, তারসহ একটি গ্রাইন্ডিং মেশিন ও তিনটি রেত উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন আরও বলেন, আসামীর বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।
নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদীতে নিজের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটবাড়ি দখল, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ তুলেছেন কাজী আজিজ উল্যা নামে এক ব্যক্তি। তার অভিযোগ, বাড়ির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা নিজেদের বসতবাড়িতে ফিরতে পারছেন না। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা।
ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম পাড়ার কাজী বাড়ির বাসিন্দা। তার দাবি, ৯৮ নম্বর মাইজদী মৌজায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমির ওপর পাঁচতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একতলা ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। বাড়িটির নাম আজিজ টাওয়ার।
লিখিত বক্তব্যে কাজী আজিজ অভিযোগ করেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ মাঠকর্মী এবিএম আবদুল মতিন চৌধুরী ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর বোনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনেন। পরে তিনি আরো দেড় শতাংশ জমির জাল দলিল তৈরি করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ফ্ল্যাটবাড়ির একটি অংশ দখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেওয়ায় বিভিন্ন সময়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
কাজী আজিজ বলেন, ২০২৩ সালের ১৩ মে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দাপট দেখিয়ে আবদুল মতিন চৌধুরী ও তার স্ত্রী আজিজুর নাহারের নেতৃত্বে একদল লোক তার ফ্ল্যাটবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার বৃদ্ধ মা সারেজাহান বেগম ও বোন সেলিনা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয়। পরে বাড়িটির একতলা ইউনিট দখল করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবদুল মতিন চৌধুরী বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেলে তিনি পুনরায় বাড়ির দখল বুঝে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তবে গত ১ সেপ্টেম্বর আবদুল মতিন চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী, ছেলেরা এবং বিভিন্ন এলাকার ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারও বাড়িটিতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন কাজী আজিজ। এ সময় তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পুনরায় বাড়িটি দখল করা হয়।
কাজী আজিজের অভিযোগ, বর্তমানে বাড়ির ভেতরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান করিয়ে তাঁকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এতে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাঁদের।
কাজী আজিজ উল্যা তার বসতবাড়ি দখল, হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল মতিন চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহের ভালুকায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
কর্মসূচি উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে যুবদলের নেতাকর্মীরা ভালুকা সরকারি কলেজ মাঠে সমবেত হন। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে কলেজ মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভালুকা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন উপজেলা ও পৌর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন পাঠান এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ খান রুবেল।
যুবদলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা যুবদলের সভাপতি তারেক উল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান খান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক তাজমুল হক মন্ডল, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টন এবং জেলা যুবদলের সদস্য ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া। এ ছাড়া ভালুকা পৌর যুবদল নেতা মিসবাহুল ইসলাম সা'দসহ উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক হাজার নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এ ছাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আসাদ উল্যাহ চৌধুরী ধ্রুব, সদস্যসচিব তোজাম্মেল হক বকুল, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. সুজন এবং কৃষক দলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তারুসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঐতিহাসিক বড় মাঠ দ্রুত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিনাজপুর। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অজুহাতে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকা ঐতিহ্যবাহী এই মাঠ ফিরে পাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
আন্দোলনকারীদের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মাঠটি খুলে দেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
গতকাল বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে ‘বড় মাঠ রক্ষা কমিটি’। এতে বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, খেলোয়াড়, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল, আইনজীবী, ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ জনতা পরে শহরের পৌরসভা-সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বড় মাঠ রক্ষা কমিটির কার্যকরী আহ্বায়ক গোলাম নবী দুলালের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রেহাতুল ইসলাম খোকার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি খালেকুজ্জামান বাবু, সহসভাপতি আখতারুজ্জামান জুয়েল, অধ্যাপক আব্দুল জলিল, রেজাউর রহমান রিজু, অ্যাডভোকেট মেহেরুল ইসলাম, পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন লাবু, মেহেরুল্লাহ বাদল, ডাক্তার শহীদুল্লাহ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এ অঞ্চলের অন্যতম বড় ও ঐতিহ্যবাহী এই মাঠে বিভিন্ন জাতীয় টুর্নামেন্ট, খেলাধুলা, এশিয়ার বৃহত্তম ঈদের জামাত (গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ ময়দান সংলগ্ন), বাণিজ্য মেলা, রাজনৈতিক সমাবেশ ও ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ ছাড়াও প্রতিদিন সকাল-বিকাল সাধারণ মানুষ ও ডায়াবেটিস রোগীরা এখানে হাঁটাচলা ও নির্মল বিনোদনের সুযোগ পান। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর ধরে এ মাঠে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় যুবসমাজ খেলাধুলা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মাঠটি উন্মুক্ত করার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়াসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত মাঠটি উন্মুক্ত করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
কমিটির সদস্য সচিব রেহাতুল ইসলাম খোকা বলেন, ‘এই মাঠ দিনাজপুরের প্রাণ এবং অসংখ্য খেলোয়াড় তৈরির আঁতুড়ঘর। এখন লেখাধুলা বন্ধ। মাঠটি উন্মুক্ত করার দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।’
আহ্বায়ক গোলাম নবী দুলাল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘খেলার জন্য উপযুক্ত বিকল্প কোনো মাঠ না থাকায় আমাদের তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে পড়ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মাঠ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত না করলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
সার্বিক বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্প করেছিল। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মাঠ ব্যবহারের দাবিতে স্থানীয়রা এর আগেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন, আজও করেছেন। আন্দোলনকারীদের এই যৌক্তিক দাবি ও স্মারকলিপি আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।
ছবি : সংগৃহীত
মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেই নদী ও সাগরে ইলিশ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন জেলেরা। এ কারণে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর তীর এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে পল্লিতে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে। জাল ও ট্রলার মেরামতসহ নদী-সাগরে নামতে জ্বালানি ও খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন রাখতে ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে দেশের নদী ও সাগরে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর খোন্দকার ও পূর্ব চর চান্দিয়া এলাকার জেলেপাড়াগুলোতে গতকাল বুধবার সকালে ঘুরে দেখা গেছে, জেলেরা বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার পাশের খোলা জায়গায় বসে জাল মেরামত করছেন। কেউ জাল গুছিয়ে রাখছেন, আবার কেউ নৌকা মেরামত শেষে নদীতে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় জেলে হারাধন জল দাস বলেন, ‘২২ দিন খুব কষ্টে কেটেছে। আমরা তো মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজ পারি না। নদীতে মাছ ধরে আমাদের সংসার চলে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে যেন নদীতে নামতে পারি, সে জন্য সবকিছু প্রস্তুত করে রাখছি।’
চর খোন্দকার এলাকার ট্রলারমালিক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘অন্য সময়ের তুলনায় এবার সাগর ও নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ কম ধরা পড়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাগরে ট্রলার পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলেরাও ইতোমধ্যে ঘাটে এসে ট্রলারে অপেক্ষা করছেন।’
দীর্ঘদিন মাছ ধরতে না পারায় ঋণের কিস্তি, সংসারের খরচ ও নৌকা-জালের দেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক জেলে। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি খাদ্য সহায়তার বরাদ্দ থাকলেও অনেকে চাল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় তাদের পরিবারগুলোতে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে।
এদিকে প্রজনন মৌসুম শেষে ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের নদনদীতে জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের ইলিশকে জাটকা বলা হয়। এ সময় জাটকা ধরা, বিক্রি, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে বড় আকারের ইলিশ ও অন্যান্য মাছ ধরার ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ও জেলেরা আশা করছেন, গতবারের তুলনায় এবার ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।
সোনাগাজী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাছলিমা আকতার বলেন, ‘এবার নিষেধাজ্ঞা আগের তুলনায় অনেক বেশি সফল হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাধারণ মানুষ ও জেলেদের সহযোগিতায় এটি সম্ভব হয়েছে। সাধারণ জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার ব্যাপারে আন্তরিক ছিলেন। আশা করি, ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা ও জেলেদের সচেতন করা হয়েছে।