ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ভালুকাবাসী
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজজুড়ে পল্লী বিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর ঘন ঘন লোডশেডিং এবং আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনের ব্যস্ত সময় থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিল্পকারখানার শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিকাজ এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। উপজেলার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দিনে ও রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোথাও স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেকের দাবি, দিনে পাঁচ থেকে আটবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। কোনো এলাকায় ৩০ মিনিট, কোথাও এক থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও এরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাটানোর অভিযোগও করেছেন অনেক গ্রাহক।
সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনলাইনভিত্তিক কাজ, মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চলমান তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটার, রাউটার, আইপিএসসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন গ্রাহকরা।
হবিরবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রাজ্জাক মিয়া বলেন, "দিনে কয়েকবার করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে আমাদের সন্তানরা। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারে না। আবার বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আতঙ্কও রয়েছে।"
ভরাডোবা ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন, "বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন আমাদের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। অনলাইনে লেনদেন, বিকাশ-নগদ সেবা, কম্পিউটারভিত্তিক কাজ সবকিছুই বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এতে ব্যবসায় যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি গ্রাহকদেরও ভোগান্তি বাড়ছে।"
ভালুকা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক বিপিডিবি গ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "গত শুক্রবার রাতে অন্তত ২০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। ছোট শিশুদের নিয়ে পুরো পরিবারকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা, কিন্তু শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না।"
দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ভালুকার অসংখ্য তৈরি পোশাক কারখানা, টেক্সটাইল, ডাইং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানও অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানকে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সময়মতো উৎপাদন শেষ করতে না পারায় সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি খাতেও। সেচনির্ভর জমিতে নির্ধারিত সময়ে পানি সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় কৃষকদের অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক কৃষক জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না। ফলে কৃষিকাজের সময়সূচি ব্যাহত হচ্ছে এবং উৎপাদন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সূত্রে জানা গেছে, তাদের মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৪ লাখ ৮৫ হাজার, বাণিজ্যিক প্রায় ২৫ হাজার ৫০০, শিল্প ৫ হাজার ২০০ এবং সেচ গ্রাহক ৪ হাজার ১০০। সমিতির আওতায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৯০ মেগাওয়াট, অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২১০ থেকে ২১৫ মেগাওয়াট।
এর মধ্যে শুধু ভালুকা ও গফরগাঁও উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ মিলছে মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই ব্যাপক লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে বিপিডিবি ভালুকা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ আবাসিক এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য শ্রেণির গ্রাহক। ভালুকা এলাকায় বিপিডিবির বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াট।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার আকমল হোসেন বলেন, "ভালুকায় চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।"
বিপিডিবি ভালুকা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, "চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণেই লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ সংকট, বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কিংবা কারিগরি ত্রুটি যে কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকুক না কেন, এর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান জরুরি। তাদের মতে, বিদ্যুৎ এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কৃষি ও অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং নাগরিক জীবনের অন্যতম মৌলিক সেবা।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান ঘন ঘন লোডশেডিং ও অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ শুধু জনদুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বিদ্যমান সংকট দ্রুত চিহ্নিত করে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শুধু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই কমবে না, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন এবং কৃষিসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ফিরে পাবে স্বাভাবিক গতি।
বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি মিলনের মতবিনিময়
গাজীপুরের কালীগঞ্জে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার নাগরী এলাকার স্বপ্ন কানন রিসোর্টে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন।
মতবিনিময় সভায় গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য, কর্মকাণ্ড বা সিদ্ধান্ত নিয়ে তথ্য ও যুক্তিনির্ভর গঠনমূলক সমালোচনা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। এখানে প্রত্যেকের মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে কাউকে হেয় করা, অশালীন ভাষা ব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা কোনোভাবেই সুস্থ সামাজিক পরিবেশের জন্য সহায়ক নয়।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষের প্রশ্ন বা সমালোচনা থাকতেই পারে। ভুল-ত্রুটি থাকলে তা তথ্য ও যুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা উচিত। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ পান এবং সমাজে গঠনমূলক আলোচনা তৈরি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিলন বলেন, কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলে যুক্তির মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন করা উচিত। ব্যক্তিগত কটূক্তি, অশ্লীল শব্দ বা অপমানজনক মন্তব্যের মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না।
সভায় অন্যান্যের মাঝে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোলেমান আলম, আশরাফী হাবিবুল্লাহ খোকা, মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেন আরমান মাষ্টারসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধান অতিথি। সভায় নেতৃবৃন্দ স্থানীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম, পারস্পরিক সমন্বয় এবং দলীয় কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি তাদের বক্তব্য শোনেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আসন্ন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ইছাখালী এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ০৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কায়েতপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সেলিম আহমেদ।
সভায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ সেলিম আহমেদ বলেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংগঠিত করে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দলীয় কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কায়েতপাড়ার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রত্যেক ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সক্রিয় হতে হবে। দলের প্রতি আনুগত্য ও ঐক্য বজায় রেখে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
দানবাক্সে মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা
সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং ১৫ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে সিলগালা অবস্থায় থাকা তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খোলা হয়। এরপর পাওয়া নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব করা হয়। এ সময় সন্ধ্যা ৬ টার দিকে দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকা ও বিভিন্ন সরঞ্জামের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
মাজার কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা। স্বর্ণ পাওয়া গেছে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি। পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাজ্যের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ সেন, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরোপের ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের ০.০২৫ পয়সা, পাপুয়া নিউ গিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়া।
এর আগে ১৫ আগস্ট সর্বশেষ দানবাক্স ও মানতের বাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন গণনা করে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এ সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ছাড়াও স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী পাওয়া যায়। এর আগে ১১ জুলাই দানবাক্সের অর্থ গণনা করে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। সেবারও বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী পাওয়া যায়। আর ২২ জুন দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
উল্লেখ্য, প্রায় একমাস ৪দিন পর আবার শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান বাক্সগুলো খোলা হয়েছে। এর আগে গত ২২শে জুন প্রথমবার, ১১ই জুলাই দ্বিতীয়বার ও গত ১৫ আগস্ট ৩৪ দিন পর তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ওইসময় পাওয়া গিয়েছিল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা।
অপ্রতিম হত্যায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ ক্লু
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
আজ শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে তারা ঘটনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বা ‘ক্লু’ পেয়েছেন।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বের হয় অপ্রতিম। তবে সন্ধ্যা নেমে এলেও সে আর ঘরে ফেরেনি। স্বজনেরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার রাতেই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর আজ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থান থেকে অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। আপাতত একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি দোষী না নির্দোষ, তা তদন্তের পরেই জানা যাবে।’
হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, শুধুই একটি আইফোন ছিনতাইয়ের জন্য এই নিষ্পাপ শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে- তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনটি পাওয়া না যাওয়ায় সেটি ছিনতাই করতেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। নিষ্পাপ এই কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন A+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
ঠাকুরগাঁওয়ে সদর উপজেলার ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন- A+ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। সংবর্ধনা স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট তুলে দিয়ে তাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলরূমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ঠাকুরগাঁও এডিপি, ওয়ার্ল্ড ভীষণ বাংলাদেশ এর সহযোগীতায় শিক্ষার্থীদের এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার এসএসসির ২০২৬ সেশনে গোল্ডেন A+ প্রাপ্ত প্রায় ২৭০ জন শিক্ষার্থীকে হাতে সার্টিফিকেট ও সম্মাননা ক্রেস্ট ও সম্মানী দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেন অতিথীরা।
অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খাইরুল ইসলাম সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল হক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আরিফুল্লাহ, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাফেজ মোঃ রশিদ আলম সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক মোঃ মাহমুদুন নবী, অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহাদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ জাকিরুল ইসলাম।
এ সময় অনুষ্ঠানে গোল্ডেন এ প্লাস প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবক ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে দেশ তথা এলাকার মানুষের সেবায় কাজ করার আহবান জানান।
অবৈধ বালু ভরাট বন্ধে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ৯ দফা দাবি পেশ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি আবাসন কোম্পানি কর্তৃক অবৈধ দখল বন্ধে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা কতৃক পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদের মাধ্যমে ৯ দফা দাবী পেশ করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার জলসিঁড়ি প্রকল্পের ৪ নম্বর সেক্টরের অস্থায়ী ক্যাম্পে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় দুই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের প্রতিনিধি হিসেবে আহসান উল্লাহ মাস্টারের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। অন্যদিকে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের পক্ষ থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু তারেক মোহাম্মদ রাশেদের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসীদের নানা সমস্যার কথা শোনেন এবং তাদের দাবি-দাওয়া পূরণের আশ্বাস দেন।
সভায় গ্রামবাসীদের পক্ষে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের সঠিক সীমানা নির্ধারণ (ডিমার্গেশন), বসতবাড়ি বাদ দিয়ে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রকল্প সীমানার ভেতরে থাকা জমির বিনিময়ে গ্রামবাসীদের আনুপাতিক হারে জমি বা প্লট বরাদ্দ, জমির ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এবং স্থানীয় অধিবাসীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানানো হয়।
সংহতি প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, পৈতৃক ভিটা-মাটি রক্ষা ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে ১০টি গ্রামের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আবাসন প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট বৈষম্য ও ভোগান্তি নিরসনে ঘোষিত ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে স্থানীয়দের অধিকার আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
উক্ত আলোচনা সভায় ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন ও সংহতি প্রকাশ করেন- ব্যাংকার আবু বক্কর সিদ্দিক, হোসেন ব্যাপারী, পেশকার শামসুদ্দিন, রফিকুল ইসলাম রফিক, দলিল লেখক গুলজার হোসেন, আহসান উল্লাহ মাস্টার, অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম, বাহার উদ্দিন নয়ন, প্রভাষক নূর সালাম, আমজাদ, ফার্মাসিস্ট সুমন মিয়া, মাহাবুবুর রহমান (বাবু), ঢাকা থেকে আগত প্রতিনিধি হাবিব ও আবদুর রহিম দুয়ারী, আনোয়ার হোসেন এবং হাফেজ আবদুল বাতেন।
সভা থেকে সর্বসম্মতিক্রমে রূপগঞ্জের ১০টি গ্রামের মানুষের স্বার্থে ৯ দফা দাবি দ্রুততম সময়ে মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।