• প্রকাশ : মঙ্গলবার ০২ জুন, ২০২৬, সময় : ১০:০৭ এএম

অনলাইন অ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারক কথিত ‘জিনের বাদশা’কে আটক করেছে পুলিশ।


মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ।


এর আগে সোমবার (১) জুন রাতে সলঙ্গা থানাধীন বনবাড়ীয়া গ্রাম থেকে কথিত জিনের বাদশা আব্দুল হামিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে।


সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ বলেন, সোমবার সদর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের মমতাজ বেগম নামে এক নারী আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার থানায় মামলা করেন। মামলায় বাদি অভিযোগ করেন, ইকো ভোল্ট নামক একটি সোলার প্যানেল প্রতিষ্ঠানের অ্যাপসে মধ্যে ডিপোজিট করলে অনেক টাকা লাভ পাওয়া যাবে, এমন লোভনীয় অফার দিয়ে বাদি মমতাজ বেগমের মাধ্যমে ১০০ গ্রাহক সংগ্রহ করেন। এক পর্যায়ে বাদির মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আব্দুল হামিদ।


তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে সিইএফ নামক একটি ভুয়া অ্যাপসে টাকা ইনভেস্ট করতে বলে হামিদ। এভাবে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। গত ২ মে বাদি মমতাজ বেগমসহ অন্যান্য গ্রাহকরা তার ইকো ভোল্ট অ্যাপসে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখে অ্যাপসটি সাদা হয়ে যায়। এরপর সিইএফ নামক নতুন অ্যাপসে বেশি বেশি ইনভেস্ট করার জন্য লোভনীয় প্রস্তাব দেন হামিদ। এভাবে বাদি ও অন্যান্য গ্রাহকদের কাছ থেকে আরও ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।


নাজরান রউফ বলেন, এসব ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে আসামি হামিদকে গ্রেপ্তারে সদর থানার একাধিক টিম কাজ শুরু করে। আসামিকে অনুসরণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১ জুন) বনবাড়ীয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১টি ওয়ালটন ট্যাব, একটি স্মার্ট ফোন ও তার প্রতারণার অ্যাপস সম্পর্কে বিভিন্ন প্রচার পত্র জব্দ করা হয়।


অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে বেশি মুনাফার লোভনীয় অফার দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে আসছিলেন আব্দুল হামিদ। টাকা নেওয়ার পর ওই অ্যাপস ডিজেবল করে দেন। প্রতারিত গ্রাহকরা অ্যাপসে ঢুকতে না পেরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আবার নতুন অ্যাপস দিয়ে ইনভেস্ট করার অফার দেন।


এভাবে দফায় দফায় টাকা হাতিয়ে পুনরায় অ্যাপসগুলো ডিজিবল করে ভয়াবহ প্রতারণা করে যাচ্ছেন তিনি। এক পর্যায়ে গ্রাহকরা প্রতারণা বুঝতে পেরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি Hamkail Moakael নামে আইডি থেকে নিজেকে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন।


এভাবে সিরাজগঞ্জের শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জিনের বাদশা আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে।




  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ পিএম

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে গেছে ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এ দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। 


আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে হাসাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 


মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের বাসটি একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধার করা ১১ জনকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এ ছাড়া পাঁচজনকে ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।


ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনায় নিহত একজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর নাম রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। তাঁর বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। 


আহত ১৬ জন হলেন- হৃদয় (৩০), শাহিন আক্তার (৩২), নূর ইসলাম (৫৫), ইমরান (২৭), গিলবাড সরকার (৫৫), তরিকুল ইসলাম (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪০), মিরাজুল ইসলাম (২৮), রফিকুল ইসলাম (৩৫), অনিফিন (১৭), সন্দীপন বসু (৪০), ইকরাম (৪০), রায়হান (২১), হাসিব (২২), তিশা (২৪) ও বোরহান উদ্দিন (৫৫) আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, ডামুরহুদা ও কাপাসডাঙ্গায়। এ ছাড়া মেহেরপুরের মুজিবনগর, ঝিনাইদহের মহেশপুর, ঢাকার আফতাবনগর এবং মাগুরা সদরের বাসিন্দাও রয়েছেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪১ পিএম

সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের ডাকে রাঙামাটি-খাগড়াছড়িতে অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধ চলছে। আজ শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে।


সাজেকে জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি সাজেকবাসীর দাবির প্রতিও সংহতি জানিয়েছে সংগঠনটি।


অবরোধ চলাকালে রাঙামাটি শহরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বেতবুনিয়ায় অবরোধকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে রাঙামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকালে এ সড়কের খামারপাড়া ও ধর্মঘর এলাকায় অবরোধকারীরা গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। 


সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানেও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করা হচ্ছে। ওই সড়কে যানবাহন চলাচল করছে না। অবরোধ চলাকালে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।


অবরোধকারী তপন চাকমা বলেন, সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতেই আমরা অর্ধদিবস অবরোধ পালন করছি।


ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা বলেন, রাঙামাটিতে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালিত হচ্ছে। তবে কয়েকটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দিয়েছে। সাজেকে গোলাগুলির অজুহাতে সাধারণ মানুষের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আমরা সমর্থন করি না। সাজেকবাসীর দাবি ন্যায্য বলেও মন্তব্য করেন।


উষাতন চাকমা আরও বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর আবার হামলা ও মামলা চালানো হলে এবং সাজেকবাসীর দাবি পূরণ না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।


সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাজেকে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও সড়কে কোনো পিকেটার অবস্থান করছেন না।


রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দীন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালিত হচ্ছে। কোথাও সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক ও নৌপথে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীরা পিকেটিং করছেন।


আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন।

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:২৭ এএম

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মাছের আড়ত থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে গ্রেপ্তারের পর সামনে আসছে তার একাধিক অপরাধের চিত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল কারওয়ান বাজারই নয়, নিজের এলাকা আদাবরেও চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক কাজ হাতিয়ে নেওয়া এবং ভবন দখলের মতো নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন এই ছাত্রদল নেতা। ডিবি পুলিশ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তারের খবর জানায়। এরপর আদাবরের মনসুরাবাদ হাউজিং এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নয়ন ও তার অনুসারীদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিলেন স্থানীয় অধিবাসীরা।


বর্তমানে আদাবর মনসুরাবাদ হাউজিংয়ের ৬ নম্বর সড়কে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কের ৫০ থেকে ৬০টি ভবনের পানি ও পয়েন্টনিষ্কাশন লাইনের কাজ জোর করে নিজেদের লোক দিয়ে করাতে ভবনমালিকদের বাধ্য করেছেন নয়নের সমর্থকরা। কাজ শেষে বাড়িপ্রতি ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল দাবি ও জোরপূর্বক আদায় করা হয়।


৬ নম্বর সড়কের ৬৯ ও ৭০ নম্বর বাড়ির নালার কাজের জন্য ৫৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। স্বনামধন্য মিস্ত্রি দিয়ে কাজ করাতে চাইলে চার-পাঁচজন ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রদল নেতা নয়নের লোক পরিচয় দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়িমালিককে হুমকি দেয়া হয়, যা পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়। একই সড়কের আরেকটি ভবনের নিরাপত্তাকর্মী জানান, অন্য মিস্ত্রি দিয়ে যে কাজ ১০ হাজার টাকায় করা যেত, সেখানে তিন ধাপে জোর করে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন এবং সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মজুমদার জসিমের নেতৃত্বে এমব্রয়ডারি কারখানা, ফুটপাতের দোকান এবং নির্মাণাধীন ভবনগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হতো।


এমনকি ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বাবুলের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে নয়ন ও জসিমের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। দখল করতে না পেরে বাড়িটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে ছাত্রদলের একাধিক স্থানীয় নেতাকে হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।


তবে সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান জসিম চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি বিষয়টি মীমাংসার জন্য গিয়েছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।


উল্লেখ্য, গত মাসে মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের আওতাধীন আদাবর থানা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।কমিটির বিলুপ্ত হওয়া সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ দাবি করেছেন, নয়নকে আদাবরের কথা বলে আটক করলেও পরে কারওয়ান বাজারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যা তার মতে এক ধরণের চক্রান্ত।


তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সন্দেহের ভিত্তিতেই নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নয়নের বিরুদ্ধে আসা আদাবরের অন্যান্য চাঁদাবাজির অভিযোগগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও নাম বা সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৭ এএম

বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জ্বালানিমন্ত্রী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে এনসিপির সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেন তিনি। স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সাইবার আইনসহ কর্তৃত্ববাদী আইন বাতিল।


বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক। এ সময় এনসিপির দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর মানুষের সমস্যা বেড়েছে, অথচ সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই।


আর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাচ্ছে না। 


রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ জয়পুরহাটে। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৬ এএম

জয়পুরহাটের কালাইয়ে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের এক তরুণীর সিঁথিতে জোরপূর্বক সিঁদুর পরানোর চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।



এ সময় একপক্ষ বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ তুললেও অপরপক্ষ তা অস্বীকার করে নিজেদের ওপর হামলার দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার পুনট ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালিপাড়া গ্রামে এক তরুণীর সিঁথিতে জোর করে সিঁদুর দিতে চাওয়ার অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং রাতেই তাদের জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত চিচোরন চন্দ্র মালীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।



সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হলেন— সুবর্ণা রাণী (৪০), মলিনা রানী (৫৫), গোবিন্দ চন্দ্র মালী (৪৫), জয় চন্দ্র মালী (২৫) ও চিচোরন চন্দ্র মালী (৪৬)। এদের মধ্যে সুবর্ণা রাণী, মলিনা রানী ও গোবিন্দ চন্দ্র মালী হলেন তরুণীর পক্ষের এবং জয় চন্দ্র মালী ও চিচোরন চন্দ্র মালী হলেন অপরপক্ষের লোক।



স্থানীয়রা জানান, ১৫ বছরের এক তরুণীকে দোলন (১৭) নামের এক যুবক শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিনে সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চেয়েছিল। বিষয়টি ওই তরুণী তার পরিবারকে জানায়। পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে মালিপাড়ায় সালিশ ডাকা হয়। সালিশ চলাকালে দুইপক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বিরোধ সৃষ্টি হয়।



একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তরুণীর পক্ষের তিনজন এবং যুবকের পক্ষের দুজন আহত হন। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।



এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক দোলন বলেন, পল্লবীর সিঁথিতে সিঁদুর দেওয়ার কথা বলেছি। এর জন্য পল্লবীর বাবা-মা অন্য লোকজনকে নিয়ে তিনজনের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। একজনের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে, আরও একজনকে মারধর করে আহত করেছে। হামলার সময় বাড়িঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ অনেক মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।



তবে তরুণীর বাবা শতুঘোন মালী বলেন, মীমাংসার জন্য সালিশ বসে। কথা শুরু হওয়ার একপর্যায়ে দুইপক্ষ তর্কে জড়ালে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের পক্ষের তিনজন আহত হয়। একজনের অবস্থা ভালো না।



কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, আমরা ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ইসমাইল মাহমুদ পাটওয়ারীউত্তাল সৈকত। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ এএম

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইসমাইল মাহমুদ পাটওয়ারী নামে এক আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


বৃহ্স্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে শহরের দেনায়েতপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে রায়পুর থানা পুলিশ।


তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  গ্রেফতার ইসমাইল মাহমুদ পাটওয়ারী রায়পুর উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। তিনি পৌর শহরের ধানহাটা সংলগ্ন নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন।  এ বিষয়ে জানতে তার স্ত্রী রায়পুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তারের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


রায়পুর থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, রাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিযোগে ইসমাইল মাহমুদ পাটওয়ারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠান হবে।