গ্রামীণ সড়ক ধরে এগিয়ে চলেছে ভিআইপি গাড়ি। সামনে পিছনে নেই গতানুগতিক মোটরসাইকেলের বহর। মাঝপথে হঠাৎই থেমে গেলে গাড়ি। খুলে গেল গাড়ির দরজা। ভিতর থেকে নেমে এলেন নেতা। ধান কাটার ভরা মওসুম তখন। মাঠে কাজ করছেন একদল কিষাণ-কিষাণী। এক পা, দু’পা করে তাদের দিকে এগিয়ে গেলেন নেতা। কামলারা ভয় পেলেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তারা। নেতা তাদের একদম কাছে গিয়ে তাদের ভঙ্গিমায় তাদের ভাষায় সালাম দিলেন (গড় লাগি)। কুশল জিজ্ঞাসা করলেন। সুখ দু:খের কথাও শুনলেন। আনন্দে অভিভূত হয়ে পড়লেন তারা। অভিভূত হলেন উপস্থিত অন্যরাও। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর মাঠের কাহিনী এটি। আর নেতা হলেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের নবনির্বাচিত এমপি ফজলে হুদা বাবুল।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় মাটির কাছাকাছি থাকতে চাই, কৃষকের ঘামেই দেশের সমৃদ্ধি।”
তার ভাষায়, বিএনপি মাঠে ঘাটে কৃষকের মাঝে, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশনেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বার্তা। জনসেবাই রাজনীতি। বিএনপি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে চলছে। সাধারণ মানুষের ভালবাসাই বিএনপির রাজনৈতিক শক্তি। মাঠের ঘামে যে মানুষ দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে, সেই কৃষকের সম্মানেই গড়ে উঠবে নতুন নওগাঁ, নতুন বাংলাদেশ। কৃষকের হাসি মানেই দেশের সমৃদ্ধি।
নওগাঁ-৩ থেকে শুরু হোক উন্নয়ন, মানবতা আর ভালোবাসার নতুন ইতিহাস। এমপি ফজলে হুদা বাবুল বলেন, “আদিবাসীদের জন্য আমি দুই উপজেলায় দুইটা প্রতিষ্ঠান করতে চাই, আদিবাসীদের সংস্কৃতি ধারণ করার জন্য এবং সংরক্ষণ করার জন্য।”
প্রতিবছরের মত চলতি ইরি বোরো মওসুমেও ধান কাটা শ্রমিকের দারুণ সংকট দেখা দেয়। গত ১৬ মে এমপি ফজলে হুদা বাবুল নিজে নেতাকর্মীদের নিয়ে দু:স্থ কৃষকের ধান কেটে দেন। শুধুমাত্র ফটো সেশনের জন্য নয়, বরং লুঙ্গি পড়ে, গামছা লাগিয়ে, কাস্তে হাতে দিনভর অন্যদের সাথে ধান কেটেছেন তিনি। মাঠে বসে পান্তা খেয়েছেন সবার সাথে। কাটার পর মাড়াই। তারপর বস্তায় ভরে কৃষকের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। পরে তার নেতাকর্মীরা কয়েক দিন ধরে অব্যাহত রেখেছিলেন সে ধান কাটা। এছাড়া তার নির্দেশে নেতারা মাঠের পরে মাঠ পেরিয়ে তপ্ত রৌদ্রে দগ্ধ ধান কাটা শ্রমিকদের পাশে গিয়ে তাদের ঠান্ডা পানি আর খাবার বিতরণ করেছেন।
নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণের পরপরই তিনি দুই উপজেলার আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রতিদিন। গেছেন মাটি ও মানুষের গভীরে, সাধারণ জনতার কাতারে। খেটে খাওয়া মানুষের সাথে দারুণ সখ্য গড়ে তুলেছেন। শুনেছেন তাদের দু:খ গাথা, সহযোগিতা করেছেন বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত ফিরে আসেন তিনি তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ভোটারদের মাঝে। ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি যান মহাদেবপুর উপজেলার নুরপুর মধ্যপাড়া আদিবাসী পাড়ায়। গতবছর ৩১ জানুয়ারি সড়ক দূর্ঘটনায় এই গ্রামের একই পরিবারের চার জনসহ মোট পাঁচ জন নিহত হয়েছিলেন। এমপি ফজলে হুদা বাবুল সেখানে গিয়ে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে মোট এক লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন। দুর্ঘটনার সময়ও তিনি সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জ্ঞাপন করেছিলেন। কিন্তু আচরণবিধি ভঙ্গ হতে পারে এই আশঙ্কায় তখন তাদের আর্থিক সহযোগিতা করতে পারেননি। এসময় তিনি উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের দু:স্থদের মধ্যে দেড় হাজার কম্বল বিতরণ করেন। এগুলোও আচরণবিধির কারণে আগে বিতরণ করতে পারেননি। গত ১৭ বছর তিনি বিভিন্ন সময় দু:স্থদের মধ্যে কয়েক হাজার শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করেছেন। সম্পূর্ণ নিজের অর্থে। নির্বাচিত হবার পর সরকারি অনুদান আসে। কিন্তু অল্প। তিনি নিজ তহবিল থেকে আরো কম্বল, শাড়ি, লুঙ্গি, ঢেউ টিন কিনে এবং বিভিন্ন দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ টাকা বিতরণ করেছেন।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং নিজ তহবিল থেকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। ১৪ মার্চ তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে গিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন ক্যানসার আক্রান্ত তার বাল্যবন্ধু এস, এম, জার্জিস আলম চপলের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। ২২ মে বদলগাছীতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম ও শিক্ষার্থী তাসনিমের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
আনুষ্ঠানিকভাবে ইফতার মাহফিল আয়োজন করা রাজনৈতিক রেওয়াজ। আন্দোলনের দিনগুলিতে তিনি দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে পৃথক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থে। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় গত ১৪ মার্চ তিনি মহাদেবপুর উপজেলার শিবপুর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘসময় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সাথে কাটান, তাদের খোঁজ খবর নেন, সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন, তাদের সাথে ইফতার করেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
১৪ মার্চ তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিজে ঝাড়ু হাতে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর, আশেপাশের রাস্তা, ড্রেন পরিষ্কার করেন। মহাদেবপুরেও অনুরুপ কর্মসূচি পালন করা হয়।
১৪ মার্চ তিনি বদলগাছীতে একটি অনুষ্ঠানে যান তার গাড়িবহর রেখে, একটি ভ্যানগাড়িতে চেপে। তার এসব কর্মকান্ড সরকারি দায়িত্বের মধ্যে নয়। কিন্তু একের পর এক তার এসব চমক লাগানো কর্মকান্ড তাকে একজন মানবিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি এখন দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছে একজন মানবতার ফেরিওয়ালা।
খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক
খুলনায় শারদীয় দূর্গাপূজা ২০২৬ ইং উপলক্ষে আজ ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিং প্রদান করেন খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক।
এ সময় তিনি বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি ব্রিফিংয়ে এসপি ডিউটিরত সকল সদস্যকে উৎসাহ যোগান এবং সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।
উক্ত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিঃ পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এস. এম. আল বেরুনী, অতিঃ পুলিশ সুপার ট্রাফিক ও ডিএসবি, আবির সিদ্দিকী শুভ্র, অতিঃ পুলিশ সুপার, (বি-সার্কেল) মোঃ খায়রুল আনাম, বিপিএম-সেবা, অতিঃ পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) মোঃ সালাউদ্দিন সহ ডিউটিতে মোতায়েনকৃত ফোর্সবৃন্দ।
ড্রেনের পাশে নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ড্রেনের পাশে পড়ে থাকা একদিন বয়সী এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় লোকজন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা শিশুটিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে চৌমুহনী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশগঞ্জ এলাকায় সমীরের বাড়ির গলির পেছনে ড্রেনের পাশে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে মহেশগঞ্জ বাজার এলাকায় পথচারীরা নবজাতক কন্যাশিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতকের পরিচয় ও তার মা-বাবার সন্ধান বের করার চেষ্টা চলছে। কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে রেখে গেছে, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬
"দূর্বার তারুন্য, দূর্নীতি রুখবেই" এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঝালকাঠির নলছিটিতে দুর্নীতি দমন কমিশন পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল দশটায় সরকারি নলছিটি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উপজেলার সরকারি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাওতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নান্দিকাঠি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বিচারকরা প্রতিযোগিতায় নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কে বিজয়ী ও সরকারি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় রানারআপ ঘোষণা করেন। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হয়েছেন নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ইকরা অমি আলম।
বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডু, নলছিটি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ সমিটির সভাপতি শামসুল আলম খান বাহারের সভাপতিত্বে এসময় আর-ও উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান, সরকারি নলছিটি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খায়রুল বাশার, প্রভাষক মানবেন্দ্র মুখার্জী, জয়নাল আবেদীন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য আবদুল কুদ্দুস, শাহাদাত আলম, শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, নলছিটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মল্লিক মনিরুজ্জামান।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পল্লী চিকিৎসক সমিতির নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় সমিতির পক্ষ থেকে নবাগত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয় রূপগঞ্জ পল্লী চিকিৎসক সমিতির কর্মকর্তা বৃন্দ নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে এ সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
রূপগঞ্জ পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ওমর শাহজাদা শাহাদাত, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম আজহার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ ওমর, কোষাধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা, প্রচার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, সহপ্রচার সম্পাদক তুষার আহমেদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আসমা আক্তার ঝুলি এবং চিকিৎসাবিষয়ক সম্পাদক ডালিম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সমিতির নির্বাহী সদস্য শাওন আহমেদ ও শামীম আহমেদসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সমিতির নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পল্লী চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় সমিতির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাঁরা জনস্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারবেন।
নাটোর-১, (লালপুর - বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান কোন ভেদাভেদ না রেখে কেবলমাত্র সবাইকে বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিতি দেওয়ার জন্য এবং তাদের প্রত্যেকটি অধিকারকে সমুন্নত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নাটোরের লালপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ৪৬টি মন্দিরে জিআর চালের ডিও প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল আরও বলেন, আগামী বছর সারা বাংলাদেশের মন্দির গুলো এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাবে আপনারা নিজেরাই স্বাবলম্বী হয়ে মন্দির পরিচালনা এবং নিজেদের পুজো অনেক চমৎকার ভাবে উদযাপন করতে পারেন সে ব্যবস্থা আমরা করবো।
সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এই বাংলাদেশ এখন আর কেউ আপনাদের সংখ্যালঘু বলতে পারবে না, আমি এখন একটি মসজিদে যেমন অনুদান দেই সাথে সাথে একটি মন্দিরের জন্যও অনুদান দেই।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মো. মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু ও হামিদুর রহমান বাবু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ রঞ্জু, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে টেবিলে মাথা রেখে রাজিয়া সুলতানা নামক এক শিক্ষিকার ঘুমানোর অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।
ঘটনাটি ঘটেছে জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গতকাল শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা একটি টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো অবস্থান করছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
কয়েকজন সাংবাদিক বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। তারা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মিনিট শ্রেণিকক্ষের সামনে অবস্থান করেন। এ সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের হৈচৈ ও চিৎকারের একপর্যায়ে শিক্ষিকার ঘুম ভাঙ্গে।
বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লাস চলাকালে এভাবে ঘুমানো উচিত হয়নি। ক্লাস চলছিল, অথচ তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীরাও তখন চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। তিনি দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলার সময় একজন শিক্ষকের এভাবে ঘুমিয়ে পড়া স্বাভাবিক বিষয় নয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিশুদের নিয়মিত পাঠদান ও সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় তারা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ঘুমিয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মমতা বেগম বলেন,এই শিক্ষিকা এর আগে যেখানে চাকুরী করতেন সেখানে একই কাজ করতে, বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষিকার সাথে ঝগড়া,তর্ক করতেন বলে জানিয়েছেন। বারবার শর্তক করার পরেও কোন ভাবে তিনি আমাদের কথা শুনতে রাজি না। তিনি আরো জানান জলঢাকা উপজেলার শিক্ষা অফিসার স্যার এর আগেও শর্তক করেছিলেন ১৪ দিনের কিন্তু ওনার কোন পরির্বতন নেই।
ক্লাস চলাকালে ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়ে আর একজন শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাজিয়া সুলতানা সব সময় আমাদের তিন জন শিক্ষকের সাথে ঝগড়া ঝাটি করেন, স্কুলের কাছে বাসা কিছুক্ষণ পরপর ক্লাস না করে বাসায় যান, এই বিষয়ে বার বার বলার পরেও তিনি তার ইচ্ছা মতো চলেন।
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ক্লাসে ঘুমানোর কোনো নিয়ম নেই। কোনো শিক্ষক অসুস্থ হলে তিনি ছুটি নিতে পারেন। ভালো না লাগলেও প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে ছুটি নেওয়া যায়। অথচ তিনি সেটা না করে ক্লাসে ঘুমিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসি হ্যাপি বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের এই ধরনের আচরণকে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার পরিবেশের জন্য মারাত্মক পরিপন্থী হিসেবে দেখেন।বিষয়টি আমরা তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।