শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট সীমান্তে পৃথক অভিযানে তিন কোটি ছয় লাখ ৯৪ হাজার টাকা সিজার মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। এর মধ্যে পাথরবোঝাই একটি ভারতীয় ট্রাক থেকে ৭০৮ পিস ট্রাকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও পাঁচটি বেনারসি শাড়ি এবং ভোলাহাট থেকে ১৩৫টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর এলাকায় অভিযান চালায় ৫৯ বিজিবি। এ সময় পাথরবোঝাই একটি ভারতীয় মালিকবিহীন ট্রাক জব্দ করা হয়। পরে ট্রাকটি তল্লাশি করে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ৭০৮ পিস ভারতীয় ট্রাকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও পাঁচটি বেনারসি শাড়ি উদ্ধার করা হয় যার মূল্য দুই কোটি ৫৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলাহাট উপজেলার আলীমোড় এলাকায় খড়কপুর বিওপির বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ১৩৫টি ভারতীয় বিভিন্ন মডেলের চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করে । এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়। অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে ইজিবাইকের চালক পালিয়ে যায়। এ অভিযানে জব্দ করা পণ্যের মূল্য ৪৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
দুটি অভিযানে সব মিলিয়ে জব্দ করা চোরাচালানী পণ্যের মূল্য প্রায় তিন কোটি সাত লাখ টাকা।
৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জব্দকৃত চোরাচালানী পণ্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
রংপুরে সিটি প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির পুনরায় সভাপতি পদে আগামীর সময়ের স্বপন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদে করতোয়ার হুমায়ুন কবীর মানিক ও কোষাধ্যক্ষ পদে ঢাকা মেইলের রেজাউল করিম জীবন নির্বাচিত হয়েছেন।
শনিবার (১ নভেম্বর) রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ২০২৬-২০২৮ সেশনের জন্য ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্যান্যরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি দৈনিক বার্তার এস এম খলিল বাবু, সহসভাপতি মতপ্রকাশের হামীম আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রথম খবরের তারিকুল ইসলাম তারেক, দফতর সম্পাদক সংবাদ সারাবেলার কামরুল হাসান টিটু, প্রচার সম্পাদক মাছরাঙা টেলিভিশনের ফুয়াদ হাসান, সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পাদক বায়ান্নর আলোর এস এম শহীদুল আলম, ক্রীড়া সম্পাদক প্রতিদিনের বার্তার হাসান রাসেল, কার্যকরী সদস্য দৈনিক সাইফের শাকিল আহমেদ, বাংলাদেশ সমাচারের শাহ আলম ও আখিরা’র মৌসুমী শঙ্কর ঋতা।
কার্যকরি এই কমিটি গঠনের পূর্বে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পূর্বে কমিটির মেয়াদকালে আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করা সাপেক্ষে অনুমোদন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি স্বপন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পূর্বের (২০২৪-২০২৬) বর্ষের কার্যকরি কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
পরে নির্বাচনের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি করা হয়। সেই আহবায়ক কমিটির উদ্যোগে পরে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
সাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বপন চৌধুরী, এস এম খলিল বাবু, হুমায়ুন কবীর মানিক, তারিকুল ইসলাম তারেক, রেজাউল করিম জীবন, কামরুল হাসান টিটু, ফুয়াদ হাসান, এস এম শহিদুল আলম, শাহ আলম, আরমানুল হক, আলী হায়দার রনি, মৌসুমী শঙ্কর ঋতা, আলমগীর হোসেন অপু, সাঈদ মফিদুল হক বাবু ও আমানত আলীসহ সদস্যগণ।
এদিকে, সিটি প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে সাহিত্য একাডেমী, অভিযাত্রিক, ছড়া সংসদ রংপুর, মৌচাক পরিবার, গীতিকবি সংসদ রংপুরসহ বিভিন্ন সংগঠনসহ বিভিন্ন সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১০নং হবিরবাড়ী ইউনিয়নে গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া। এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তাঁদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়ন ভাবনা জানার পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টি তুলে ধরছেন তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটের সময় সহযোগিতা করে থাকেন তিনি। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় করছেন জিয়া। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এলাকার নাগরিকসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সমস্যার বিষয়ে তাঁদের মতামত জানার চেষ্টা করছেন তিনি।
শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হবিরবাড়ী ইউনিয়নে উন্নয়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি নাগরিকসেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পাঞ্চলের উপযোগী সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশার ক্ষেত্রেও নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, এলাকার সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সহজে যোগাযোগের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি জনপ্রতিনিধিকে জানাতে পারেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে তাঁদের মতামত প্রতিফলিত হয় এমন একটি জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকারব্যবস্থা প্রত্যাশিত।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়া জানান, দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে চান তিনি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “হবিরবাড়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণ নির্বাচিত করলে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং সাধ্যমতো সেগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নকে শুধু রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি, যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যাশা ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন জিয়াউর রহমান জিয়া। তাঁর এই গণসংযোগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক তৎপরতারই অংশ। তবে দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনে যিনিই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন, তিনি যেন দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেন এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নাগরিকসেবা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ৩ টা ৪৫ ঘটিকায় দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে,বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন।এ সময় তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।পরে ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।এতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তানজিন রহমান রিদু ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরসাদিপুর গ্রামের মিন্টুর ছেলে ও জামায়াত নেতা খাজা আহামেদের ক্যাডার বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী,মোটরসাইকেলটি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের।
এ বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাজ করছে।ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের অবদান স্মরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা সিলেটে উচ্চশিক্ষা ও কৃষিশিক্ষার নতুন দিগন্ত খুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় এম. সাইফুর রহমানের অবদান এ অঞ্চলের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে। শিক্ষার প্রসারে তাঁর আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কৃষির উন্নয়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সমন্বিত কৃষিনীতি থাকলে দেশের সমৃদ্ধি আরও দ্রুত ও টেকসই হবে। কৃষি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়নে উৎপাদন, বাজার, প্রযুক্তি ও কৃষকের জীবনমানকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের পতিত জমি চিহ্নিত করে চাষের আওতায় আনতে হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি আরও বলেন, উর্বর কৃষিজমি রক্ষা করা জরুরি। উন্নয়ন পরিকল্পনায় পতিত বা কম উৎপাদন শীল জমি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কার্যকর ভূমি ব্যবহার নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।
কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে রিজভী বলেন, হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে প্রকৃত কৃষকেরা সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
এর আগে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। বেলুন ও সাদা পায়রা উড্ডয়ন করা হয়। কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজনও ছিল। পরে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সংসদ সদস্য মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা ও মোহাম্মদ আব্দুল মালিক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদারসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের মূল ভিত্তি। কৃষির আধুনিকায়ন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনেও গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
টিউবওয়েল বসানোর সময় মাটি থেকে গ্যাসের সঙ্গে বের হচ্ছে আগুন। ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সুন্দলপুর সাউথ-১ নামে আরেকটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। কূপটির দুটি জোনে মোট ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (২ নভেম্বর) উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপে অগ্নি প্রজ্বালনের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কূপটি থেকে প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থায়নে এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই কূপটির খননকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক উদ্যোগে এবং বাপেক্স পরিচালিত ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কূপটির খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
সংস্থা সূত্রে আরও জানা যায়, বাপেক্সের বিজয়-১০ রিগ ব্যবহার করে গত ৮ জুলাই খননকাজ শুরু করা হয়। প্রায় ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন শেষে কূপটির দুটি জোনে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, কূপটির এই দুটি জোনে মোট ৯ হাজার ৭৬৯ কোটি ঘনফুট বা ৯৭.৬৯ বিসিএফ গ্যাসের মজুত রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করলে এই গ্যাসের আনুমানিক মূল্য ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এই কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই কূপটি থেকে আগামী ২০ বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুল হাসান গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কূপটিতে তেল বা অন্য কোনও পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা জানতে আগামী ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ ও ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) পরীক্ষা করা হবে।