রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কুমারপাড়া গ্রামে নিজ ক্ষেতে মিজানুর রহমান
শুরুর গল্পটা ছিল কিছুটা ভিন্ন। ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হন কৃষক মিজানুর রহমান মিজান। মুহূর্তের মধ্যেই অনলাইন থেকে বীজ সংগ্রহ করে শুরু করেন পরীক্ষামূলক চাষ। সেই ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো ধান নিয়ে এখন নতুন স্বপ্ন দেখছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের কামারপুর গ্রামের এই কৃষক। ব্ল্যাক রাইস চাষ এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। কামারপুর গ্রামের মধ্যপাড়ার ছোট্ট মাঠজুড়ে সবুজের মাঝে ভিন্ন রঙের ধানের উপস্থিতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। খবর পেয়ে আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত কৃষক ও দর্শনার্থী দেখতে আসছেন এই ক্ষেত।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্ল্যাক রাইসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, প্রোটিন ও খাদ্য-আঁশ রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর। প্রচলিত ধানের চেয়ে প্রতি মণে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি পাওয়া যায় বলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও এটি চাষে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক মজিদ সরদার বলেন, মিজানুরের এই উদ্যোগ সফল হলে কৃষিতে বৈচিত্র্য আসবে।
কৃষক মিজানুর বলেন, বীজ, সার ও সেচ মিলে মোট খরচ হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। ফলন আশানুরূপ হলে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এই ধান চাষ করবেন।
কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাগমারায় বছরে ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হলেও ‘ব্ল্যাক রাইস’ এবারই প্রথম। পুষ্টিগুণ ভালো এবং বাজারে উচ্চমূল্য পাওয়ায় এটি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলছে। কৃষি অফিস থেকে এই উচ্চমূল্যের ধান চাষে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বার এর সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল।
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু হায়াত মো. নুরনবী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মো. মহেবুল্লাহ আবু নুর, রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন, রুহিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, রুহিয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি আনার আলীসহ জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। জনসভায় বক্তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
নাটোরে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যাংক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ও তার কন্যা তাসফিয়া (৮) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও ছোট ছেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারটি পূজার ছুটিতে মাগুরা থেকে রাজশাহী বেড়াতে যাচ্ছিল। মঙ্গলবার নাটোর মহাসড়কে বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শহিদুল ইসলামের বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ গ্রামে। তিনি মাগুরা জেলায় ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় তার সঙ্গে মারা গেছে তার ছোট মেয়ে।
দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা বেগম ও ছোট ছেলে লাবিব (১১) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রুবিনা বেগম পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী পূবালী ব্যাংক শাখায় কর্মরত আছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, পূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে রাজশাহী ভায়রার বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম। এর আগে গতকাল সোমবার বিকেল ৪টার দিকে রুবিনা বেগম তার দুই সন্তানকে নিয়ে মির্জাগঞ্জ থেকে স্বামী শহিদুল ইসলামের কর্মস্থল মাগুরায় যান। সেখান থেকে আজ সকালে সপরিবার বাসে উঠে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন তারা। পথিমধ্যে নাটোরে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে তাদের বহনকারী বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শহিদুল ইসলাম ও তার মেয়ে মারা যান।
মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, দুই সারি শয্যার মাঝখানে আহত অবস্থায় একটি স্ট্রেচারে আছে লাবিব। হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রায় দেড় ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তখনো শয্যা পায়নি সে। কিছুক্ষণ পর লাবিব ও তার মাকে সিটি স্ক্যান করাতে বহির্বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে আরও ৩০ থেকে ৪০ মিনিট কাটে। পরে তাদের আবার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ফিরিয়ে আনা হয়। দুপুর ২টা পর্যন্তও তাদের শয্যার ব্যবস্থা হয়নি।
লাবিবের খালু শহিদুর রহমান বলেন, ‘দুর্গাপূজার ছুটিতে ওরা সপরিবারে আমাদের বাড়িতে আসছিল। লাবিব-তাসফিয়া আর আমার দুই সন্তান খুব আনন্দিত ছিল। ভোরে ঘুম থেকে উঠে ওরা কোথায় আছে জানতে শহিদুলকে ফোন করি। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। ফজরের নামাজ শেষে আবার ফোন করলে এক পুলিশ সদস্য দুর্ঘটনার খবর জানান। এরপরই আমরা নাটোরের উদ্দেশে রওনা হই।’
তিনি বলেন, ‘সেখানে গিয়ে দেখি, শহিদুল ও তাসফিয়া আর নেই। লাবিব ও রুবিনার অবস্থাও গুরুতর ছিল। তারা কথা বলতে পারছিল না, হুঁশও ছিল না। দ্রুত তাদের রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু এখানে আসার পর দেড় ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো শয্যা পাইনি। পরে সিটি স্ক্যানের জন্য নেওয়া হয়। স্ক্যানের পর শয্যা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’
কথা বলতে বলতে বিমর্ষ হয়ে পড়েন শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ওদের বাবা-মা দুজনই চাকরি করতেন। তাই লাবিব-তাসফিয়ার খুব একটা বেড়াতে যাওয়া হতো না। এবারের ছুটিটা নিয়ে ওরা অনেক আনন্দিত ছিল। কিন্তু সেই আনন্দ আর রইল না। ওদের বেড়াতে যাওয়ার স্বপ্নটাই শেষ হয়ে গেল।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নিহত শহিদুল ইসলামের বড় ভাই মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, পূজার ছুটিতে সবাই মিলে রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাড়িতে আনন্দ করতে যাচ্ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল। আমার ভাই শহিদুল ইসলাম ও ভাতিজি তাসফিয়া ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও নিষ্পাপ সন্তানটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এতে ১৪ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৪ জন রামেক হাসপাতালে ভর্তি। নাটোর জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছেন।
বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক শামীম হোসেন বলেন, বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাই নবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, আহতদের উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। সড়কে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন- জাজিরা উপজেলার আরোব আলী ফকিরের ছেলে সামাদ ফকির (৭০), কাজিরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবি সাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার শালাল মোল্লা (৪৫), কাজির হাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), রাজাশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাসটির চালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামে বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০) এবং ফরিদপুরের বাকুন্দা এলাকার অমুল্য চন্দ্রের ছেলে হিমেস (২৮)।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার বাইরে তিন বিভাগের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের অংশ হিসেবে রংপুরের ধর্মসভা পূজামন্ডপে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২ টার দিকে তিনি রংপুর নগরীর এই ঐতিহাসিক ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ) মন্দিরের পূজামণ্ডপ পৌছান তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সৈয়দপুর থেকে রংপুর আসার পথে মহাসড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। যাত্রাপথে তিনি তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় সংক্ষিপ্ত দুটি পথসভায় বক্তব্য দেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তাঁর সাথে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুন রায় চৌধুরী, সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। রংপুরের কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী দুপুরের দিকে বিমানযোগে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সমাজের খেটে খাওয়া মানুষসহ সব শ্রেণির মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নেতাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রাপথে পাগলাপীর এলাকায় সংক্ষিপ্ত পথসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে এখন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা চলছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। একইভাবে সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—যারা বাংলাদেশে আছি, এ দেশ আমাদের। তাই সবাই মিলে পরিশ্রম করে দেশকে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। এটাই হোক আমাদের আজকের প্রত্যাশা।’
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার বাইরে তিন বিভাগের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের অংশ হিসেবে রংপুরে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পথে মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। যাত্রাপথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দুটি সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রংপুর নগরীর ঐতিহাসিক ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ) মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।
যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে দুটি গাড়িই দুমড়ে-মুচড়ে গেছে
নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জন। মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
নাটোর জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক শামীম হোসেন বলেন, বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাই নবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, আহতদের উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। সড়কে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আক্তার হামিদ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি জানান, বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ভেতর আটকেপড়া যাত্রীদের উদ্ধারে বেগ পেতে হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, এটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসন।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আবদুল্লাহ শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। সোমবার বিকেল ৩টা থেকে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপগুলোতে উপস্থিত হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য শেখ মো. আবদুল্লাহ ভাগ্যকুল ইউনিয়নের হরিসভা কামারগাঁও, বাঘড়া মনিপাড়ার ঋষিবাড়ি, বাঘড়া বাজার দুর্গা মন্দির, মধ্য কামারগাঁও নাগর নন্দী পূজা মণ্ডপ এবং মাইজপাড়া বাবুর বাড়ি নাট মন্দিরসহ একাধিক মণ্ডপ ঘুরে দেখেন।
মণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু দুলাল দাস,সহকারি কমিশনার ভূমি শ্রীনগর আফরোজা তানিয়া ও শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হাফিজুল ইসলাম খানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে বাঘড়া মনিপাড়ার ঋষিবাড়ি পূজা মণ্ডপ এলাকায় গিয়ে সংসদ সদস্য জলাবদ্ধতা এবং এর কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় মণ্ডপে আগত ভক্ত ও স্থানীয়দের যাতায়াতে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে দেখে তিনি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।
জলাবদ্ধতার বিষয়ে ক্ষোভ ও সমবেদনা প্রকাশ করে সংসদ সদস্য শেখ মো. আবদুল্লাহ বলেন,এর আগেও এলাকাটি পরিদর্শন করেছি নিচু এলাকা হওয়ায় এখানে সহজে পানি জমে থাকে যার কারণে ডেঙ্গু মশার বংশবিস্ত করে সাধারণ মানুষের বসবাস করতে চরম কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে এই এলাকার মানুষের ভোটে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েও এখনো এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে না পারায় নিজেকে নিজের কাছেই ছোট মনে হচ্ছে।
তিনি অঙ্গীকার করে বলেন,আমি কথা দিচ্ছি,অতিসত্বর এখানে আমাদের ইঞ্জিনিয়ার পাঠাবো যত দ্রুত সম্ভব এই পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি জানান সংসদ সদস্যের এই আশ্বাসে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পরিদর্শনের সময় তিনি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দকে নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশ পূজা উদযাপনের আহ্বান জানান এবং সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।