• প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫০ এএম

দিনাজপুরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে জাহিদ-খৈয়ম।‌পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুর ইনস্টিটিউট মাঠ প্রাঙ্গণে দিনাজপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তার বক্তব্যে তাঁরা এসব কথা বলেন।


সমাবেশের মূল বিষয় ছিল পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান। 


সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন- সংগ্রামের পর ১২ ফেব্রুয়ারীর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের পছন্দের দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়ীত্ব দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বৈরাচারী শাসনের পর দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দায়ীত্ব বিএনপির নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গ্রহণ করেছে। 


তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের মানুষ ভোটের অধিকার ও কথা বলার স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন অধিকার ফিরে পাওয়ার যে অভিজ্ঞতা পেয়েছে, তা নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। যারা রাজনৈতিকভাবে বিরোধিতা করতে চান, তাঁদের জনগণের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ তাঁদের গ্রহণ করলে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে মানুষের জানমাল ও দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের পাশাপাশি রাজপথে আসার আহ্বান জানিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, এ দেশের মানুষ রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের ইতিহাস জানে। অতীতের অন্যায় ও সহিংসতার বিচার দেশের মাটিতেই হবে বলেও তিনি বক্তব্য দেন।


প্রধান বক্তার বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়ীত্ব পেয়েছে। দিনাজপুরের মানুষও দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দমন, হামলা ও মামলার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


তিনি বলেন, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে দলের ৩১ দফার ভিত্তিতে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।


সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক এবং সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি, সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপি।


সমাবেশে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মোকাররম হোসেন বক্তব্য দেন। বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান বাবু, আলহাজ্ব মাহবুব আহমেদ, মো. আখতারুজ্জামান জুয়েল ও মো. হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল।


জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান চৌধুরী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুন্না, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. নাজমুল হুদা জনি, প্রচার সম্পাদক বাবু চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আখতারুজ্জামান আক্তার এবং কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান বাদশাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউর রহমান রেজা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মণ্ডল বকুল এবং কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম গুরু বক্তব্য দেন।


এ ছাড়া রংপুর বিভাগীয় কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোন্নাফ মুকুল, জেলা বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক শরিফ জাকির হোসেন হীরা, জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসু খাঁন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম, দিনাজপুর জেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মো. জোবায়দুল রহমান, দিনাজপুর জাতীয়তাবাদী পৌর মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. খলিল, দিনাজপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি জিনাত আরা ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন সুলতানা ডিউটিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সমাবেশে দিনাজপুর জেলা বিএনপির বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পৌর বিএনপির বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। বক্তারা দেশের শান্তি, আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও নৈরাজ্য এড়িয়ে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার আহ্বান জানান তাঁরা।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৭ পিএম

দিনাজপুর জিলা স্কুলে শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক কর্মসূচি। “বৃক্ষ রোপণে দেশ সবুজায়ন করি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুর জিলা স্কুলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও মাদকের কুফলবিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিনাজপুর জিলা স্কুলের মুক্তমঞ্চে এসএসসি ২০২৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল-“সবুজ প্রকৃতি-সুস্থ জীবন-সুন্দর ভবিষ্যৎ।”


অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিনাজপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। একটি গাছ কাটলে তার পরিবর্তে একাধিক গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শহরাঞ্চলেও সবুজায়নের সুযোগ রয়েছে; জায়গার স্বল্পতা থাকলেও বাড়ীর ছাদসহ উপযুক্ত স্থানে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো সম্ভব।


তিনি বলেন, বৃক্ষ শুধু পরিবেশ রক্ষার উপাদান নয়, মানুষের মনন ও জীবনযাত্রার সঙ্গেও সবুজের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। একদিকে নতুন গাছ লাগানো হচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালানী, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে গাছ কাটা হচ্ছে। তাই শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও সবাইকে দায়ীত্বশীল হতে হবে। 


শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, মাদক তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি ভয়ংকর সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি।


দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যদি মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেদের দূরে রাখতে না পারে, তাহলে তাদের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। শিক্ষার্থীদের কখনো মাদকের প্রতি আগ্রহী না হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সুস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গঠনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 


অনুষ্ঠানে দিনাজপুর জিলা স্কুলের সরকারী শিক্ষক আহামাদ আলী আজাদ কোরআন-হাদিসের আলোকে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সচেতন করেন। তিনি মাদককে প্রত্যাখ্যান করে সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আজ থেকে মাদককে না বলি, বৃক্ষকে হ্যাঁ বলি।”


আরেক সহকারী শিক্ষক বলেন, বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। রোপণ করা প্রতিটি গাছের নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। তিনি সরকারী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, দেশকে সবুজ রাখতে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো প্রয়োজন। এ সময় তিনি-“বৃক্ষরোপণ করবো জনে জনে, সবুজ দেশে সুস্থ বাতাস লাগুক সবার প্রাণে”-এই স্লোগানকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করার আহ্বান জানান। 


তিনি আরও বলেন, একটি গাছ মানুষের জন্য শুধু পার্থিব কল্যাণের উৎস নয়; যত্নসহকারে গাছ লাগানো ও সংরক্ষণ মানবকল্যাণে অবদান রাখার একটি স্থায়ী মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বৃক্ষের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে।


অনুষ্ঠানে দিনাজপুর জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঈশান কর্মকারও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জিলা স্কুলের কৃষি শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান। 


আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, একটি সবুজ ও সুস্থ সমাজ গঠনের দায়ীত্ব শুধু সরকারের নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে উঠতে পারে নিরাপদ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫১ পিএম

‘আলোকিত গাজীপুর’ মানবিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গত ২৯শে সেপ্টেম্বর, আজ মঙ্গলবার কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ পথচারী এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার, দুপুরের খাবার ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। 


আজ মঙ্গলবার কক্সবাজার ডলফিন মোড়ে চলাচলকারী সাধারণ পথচারীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে পথচারীদের সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে সংগঠনটি। 


এরপর, কক্সবাজার পূর্ব কলাতলী আদর্শ শিক্ষা নিকেতন দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশে দুপুরের খাবার এবং তাদের পড়ালেখা ও বিনোদনের জন্য খেলাধুলার বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়। 


শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের উৎসাহ জোগাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ‘আলোকিত গাজীপুর’ মানবিক সংগঠনের সভাপতি মোস্তাকিম খান, উপদেষ্টা মাসুম রানা, সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান শেখ সাংগঠনিক সম্পাদক আলী শিকদার  নির্বাহী সদস্য মো: হানিফ হোসেন এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার একঝাঁক সংবাদকর্মী। 


সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, মানুষের কল্যাণে এবং মানবিক মূল্যবোধ থেকে তাঁদের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৫ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমিতে সুপারি চারা রোপণকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের চার সদস্যকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নারগানা এলাকার চাঁন মিয়া ভাঙ্গী তাঁদের জমিতে সুপারি চারা রোপণ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন এসে তাঁকে বাধা দিয়ে প্রায় ২০টি সুপারি চারা উপড়ে ফেলে। এতে প্রায় দুই হাজার টাকার ক্ষতি গ্রস্ত হয়। চাঁন মিয়া তার প্রতিবাদ করায় দেশীয় অস্ত্র ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথা ও পেটের বাঁ পাশে এবং ছেন দিয়ে ডান চোখের ওপর আঘাত করেন। চাঁন মিয়ার ডাক চিৎকারে তাঁর স্ত্রী ফরিদা খাতুন, ছেলে মো. তরিকুল ইসলাম ও ছেলের স্ত্রী লিবা আক্তার ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও মারধর করেন। এতে তরিকুল ইসলাম, ফরিদা খাতুন ও লিবা আক্তারও গুরুতর আহত হন।


অভিযোগে আরও জানা যায়, হামলার সময় নারীদের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে দুটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় এবং বসতঘরে ঢুকে বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও আলমারিতে থাকা নগদ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ সময় ভাঙচুরে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। 


পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চাঁন মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় চাঁন মিয়ার স্ত্রী মোছা. ফরিদা খাতুন দক্ষিণ নারগানা এলাকার জনি, জুয়েল, আশিক ওরফে সাব্বির, শাহিনা বেগম, জরিনা বেগম, সুমন, শাকিল মোড়ল ও আবির মোড়লকে অভিযুক্ত করে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 


কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন বলেন, ফরিদা খাতুনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

সর্বশেষ সব খবর

মেঘনা থানা, কুমিল্লা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০৭ পিএম

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের নলচর গ্রামের বিএনপির দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৩০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল্লাহ রবি সরকার ও বিএনপি নেতা আব্দুল বারেকের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। মঙ্গলবার ভোরে বারেক বাহিনীর লোকজন রবি সরকারের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রবি সরকারের লোকজন পাল্টা হামলা চালাতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 


এ বিষয়ে মেঘনা থানা ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, ভোরে নলচর গ্রামের রবিউল্লাহ রবি ও বারেক প্রধানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয়পক্ষই ইট পাথর নিক্ষেপ করেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

মাত্র এক টাকার একটি বড়ি। দেখতে ছোট, গোলাকার। বাজার থেকে কিনে তাতে দেওয়া হয় লাল বা গোলাপি রঙের প্রলেপ। এরপর সেই বড়িই পরিচিত হয়ে ওঠে ‘ইয়াবা’ হিসেবে। দামও লাফ দিয়ে বেড়ে যায়—প্রতি পিস ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে এটি কোনো ইয়াবা নয়। সস্তা ওষুধে রং করে ইয়াবার আদলে তৈরি করে মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। অজানা ওষুধ সেবনে মাদকাসক্তদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর আইডি বাগানপাড়া রেললাইন এলাকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদক কেনাবেচা হয়। মাদকসেবীদের আনাগোনাও চোখে পড়ে।


এ ছাড়া নগরীর চন্দ্রিমা থানার বারো রাস্তা, বুধপাড়া, কোট ঢালান, গুড়িপাড়া, রাজশাহী নিউমার্কেট এলাকা, হরিপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় কৌশলে ইয়াবা এবং ইয়াবার আদলে ওষুধ বিক্রির চক্র গড়ে উঠেছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্থানে চক্রগুলো প্রকৃত মাদকের পাশাপাশি ইয়াবার আদলে তৈরি রং করা মায়াবড়ি (জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি) ও ডুরালাক্স ট্যাবলেট (কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ) বিক্রি করছে। বিশেষ করে কম দামে মাদক পাওয়ার আশায় আসা অনেক তরুণ মাদকসেবী সেখানে ছুটে যাচ্ছে।


অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ইয়াবার আদলে এসব রং করা ট্যাবলেট মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করা হয়। ট্যাবলেটের গায়ে লাল বা গোলাপি রঙের মার্কার বা সাইনপেনের কালি লাগিয়ে ইয়াবার মতো চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে প্রকৃত ইয়াবা বলে মাদকসেবীদের কাছে তা বিক্রি করা হয়। জন্মনিয়ন্ত্রণ ও কোষ্ঠকাঠিন্যের এসব ওষুধেও মজেছেন মাদকসেবীরা।


নগরীর আইডি বাগানপাড়ায় গিয়ে রাফিউল ইসলাম নামে এক মাদকসেবীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ঘন ঘন অভিযানের ফলে অনেকে ইয়াবা বিক্রি করছে না। একজনের কাছ থেকে দুই পিস ‘মাল’ (ইয়াবা) নিয়েছিলেন ২৮০ টাকা পিস হিসেবে। পরে খাওয়ার সময় দেখেন, সেগুলো ওষুধ। কারণ, ওই ওষুধ খাওয়ার পর তার পায়খানার বেগ অনেক বেড়ে গিয়েছিল।


সামসুল ইসলাম নামে আরেকজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ‘এটা ইয়াবার মতো রূপ দেওয়া হয়। কিন্তু এটা মায়া বড়ি রং করে বিক্রি হচ্ছে।’


এদিকে চিকিৎসকদের মতে, মায়াপিল (মায়াবড়ি) কোনো মাদক নয়; এটি একটি যৌগিক মুখে খাওয়ার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি। মায়াপিলের প্রতি সাদা ট্যাবলেটে রয়েছে ইথিনাইল এস্ট্রাডিওল ০.০৩ মিলিগ্রাম ও লেভোনরজেস্ট্রেল ০.১৫ মিলিগ্রাম। আর বাদামি ট্যাবলেটে রয়েছে ফেরাস ফিউমারেট ৭৫ মিলিগ্রাম। অর্থাৎ ২৮টি বড়ির প্যাকেটে ২১টি হরমোনযুক্ত ও ৭টি আয়রন ট্যাবলেট থাকে।


মায়াপিলের প্রধান কাজ গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা। হরমোনের মাধ্যমে এটি মূলত ডিম্বস্ফোটন বন্ধ বা দমন করে এবং জরায়ুমুখের শ্লেষ্মায় পরিবর্তন এনে শুক্রাণুর প্রবেশ কঠিন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যেও মুখে খাওয়ার গর্ভনিরোধক বড়িকে গর্ভধারণ প্রতিরোধের স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এই ওষুধটি নারীর বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়, এখন সেটিই মাদকসেবীদের ইয়াবা বলে খাওয়ানো হচ্ছে।


অন্যদিকে, ডুরালাক্স ৫ মিলিগ্রাম সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ওষুধ। এর কার্যকর উপাদান বিসাকোডিল। এটি একটি স্টিমুল্যান্ট ল্যাক্সেটিভ বা রেচক, যা মূলত কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। কিছু চিকিৎসা পরীক্ষা বা কোলনের পরীক্ষার আগে অন্ত্র পরিষ্কার করতেও বিসাকোডিল ব্যবহার করা হয়।


ডুরালাক্সের অতিরিক্ত বা দীর্ঘদিনের ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে। অতিরিক্ত সেবনে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা এবং শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি অতিরিক্ত ব্যবহারে পটাশিয়ামের মাত্রাও কমে যেতে পারে। আর এই ওষুধটি কোনো কারণ ছাড়া ইয়াবা হিসেবে মাদকসেবীরা গ্রহণ করছেন। এতে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শংকর কে বিশ্বাস জানান, ‘ইয়াবা একটি মাদকদ্রব্য। কিন্তু ডুরালাক্স ও মায়াবড়ি মাদক নয়। কিন্তু তারপরও এসব রং মিশিয়ে খেলে বা রোগ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে খেলে শরীরে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’


অপরাধ বিশ্লেষক সুব্রত কুমার পালের মতে, সস্তা ওষুধ রং করে ইয়াবার আদলে বাজারজাত করার ঘটনা মাদক ব্যবসার নতুন ও উদ্বেগজনক কৌশল। প্রকৃত মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান জোরদার হলে কিছু অসাধু চক্র বিকল্প পদ্ধতিতে মাদকসেবীদের চাহিদা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।


এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র (উপ-পুলিশ কমিশনার) গাজিউর রহমান জানান, ‘শুধু ইয়াবা নয়, সব ধরনের মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে মহানগর পুলিশ মাদক বিক্রির আস্তানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং সেসব জায়গা থেকে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তবে মায়া বড়ি ও ডুরালাক্স ইয়াবার আদলে বিক্রি করার বিষয়ে তিনি জানেন না বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।


জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ‘ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। মাদককারবারিদের ওষুধ রং করে বিক্রি করা নতুন কৌশল হতে পারে। সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে মাদকের বিষয়ে তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ সব খবর

বিশ্ব হার্ট দিবস পালন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৯ পিএম

"হ্রদস্পন্দনের কোন মুহূর্তেই যেন হারিয়ে না যায়", হৃদয়কে ভালোবাসুন হৃদরোগ প্রতিরোধ করুন এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেলছ হাসপাতালে আয়োজনে উক্ত দিবস পালিত হয়েছে।


আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বক্তব্য দেন,২৫০শয্যার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: ফিরোজ জামান জুয়েল, সহকারী পরিচালক ডা: জয়ন্ত কুমার সাহা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মনজুরুল ইসলাম ফুয়াদ।


এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: রেজাউল করিম শিপলু, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা: অনুপম ঝাঁ সহ অন্যান্যরা।

সর্বশেষ সব খবর