পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ
ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন এবং অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভারতকে বন্ধুত্বের প্রমাণ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় কাঠের সেতু-সংলগ্ন এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাঁর প্রত্যাশা, ভারত গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করে চুক্তিটি নবায়ন করবে এবং অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা অনুযায়ী বণ্টন নিশ্চিত করবে। এর মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রমাণ দিতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সমর্থন নিয়ে বিতর্ক ছিল। তাঁর মতে, গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করে ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন করা হলে সেই বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
এ সময় পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চুসহ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, মীরগড় কাঠের সেতু এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদন পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা আনন্দ প্রকাশ করেন। এ উপলক্ষে তাঁরা প্রতিমন্ত্রীকে মিষ্টিমুখ করান। সেতুটি নির্মিত হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
পরে প্রতিমন্ত্রী পঞ্চগড় জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগসংবলিত লিফলেট বিতরণ করেন।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক শুক্কুর আলী
গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন নতুন বাজার এলাকা থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক শুক্কুর আলীকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। গ্রেপ্তার শুক্কুর আলী টঙ্গী পূর্ব থানার পূর্ব আরিচপুর নতুন বাজার রেলগেট এলাকার বাসিন্দা হান্নান মিয়ার ছেলে। গত ২২ আগস্ট ঘোষিত টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটিতে তিনি স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক পদ পান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শুক্কুর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকছুদুল আলম বলেন, শুক্কুর আলী টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদ্য ঘোষিত কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
দুই শিশুর পা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে
মাথায় সাদা টুপি, পরনে পাঞ্জাবি। ছয় থেকে সাত বছর বয়সী ছোট্ট শিশুটির পা শিকল দিয়ে বাঁধা। মেঝেতে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে কান্না করছে সে। তার মতো একই অবস্থা আরেক শিশুর। পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থাতেই পবিত্র কোরআন পড়ছে সে। গতকাল শনিবার রাত থেকেই শিশুদের নির্যাতনের এমন দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছবি দুটি লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলেকজান্ডার মাদ্রাসায়ে বাবুত তাকওয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তোলা। গত বছর একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে এতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।
অবশ্য শুধু এ দুটি ছবি নয়। একই প্রতিষ্ঠানের এমন নির্যাতনের আরও কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিও প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে এক শিশুশিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় দিচ্ছেন মাদ্রাসার একজন শিক্ষক। একপর্যায়ে ওই শিশুর মাথায়ও আঘাত করেন তিনি। পরে স্টিলের স্কেল দিয়ে আঘাত করা হয় ওই শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে। অন্য একটি ভিডিওতে এক শিশুকে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে মাথায় উপর্যুপরি চড়-থাপ্পড় দিতে দেখা গেছে। আরেকটি ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে মারধর করতে দেখা যায়।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদ্রাসাটিতে শিশুশিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায়ই অমানবিক আচরণ করা হয়। তবে শিশুরা বাড়িতে ফিরে এসব ঘটনা অভিভাবকদের জানাত না। ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আসে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, ভিডিওগুলো প্রায় এক মাস আগের।
ভিডিওতে মোট দুজন শিক্ষককে শিশুদের মারধর করতে দেখা গেছে। তাঁদের একজন হাবিব উল্লাহ । তিনি মাদ্রাসাটির প্রধান শিক্ষক পদে রয়েছেন। এ ছাড়া তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রামগতি পৌরসভা শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এ ঘটনায় জড়িত আরেক শিক্ষকের নাম জানা যায়নি।
শিশুদের নির্যাতের বিষয়টি স্বীকার করেন শিক্ষক হাবিব উল্লাহ । তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আসলে ভুল হয়ে গেছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসন থেকেও আমাদের সতর্ক করা হয়েছে। এটি নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। অভিভাবকেরা বলেছেন, ভবিষ্যতে এমনটি যেন আর না হয়। ওই শিক্ষার্থীরা এখন মাদ্রাসায় রয়েছে।’
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, ঘটনাটি চরম নিষ্ঠুর। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা হাবিব উল্লাহ এ নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। অভিভাবকদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরা কেউ মামলা করতে রাজি হননি। মামলা ছাড়া এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) লক্ষ্মীপুর শাখার সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, মাদ্রাসায় কোমলমতি শিশুদের শিকলে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও অমানবিক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষালাভের কথা, সেখানে তাদের ওপর এমন নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
মহাদেবপুরের জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজ
প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পর অবশেষে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজে অনার্স পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয় খোলার অনুমতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গত ৪ অক্টোবর এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করে। এতে অন্যান্য কলেজের সঙ্গে জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজে অনার্স পর্যায়ে ইংরেজি, গণিত, অর্থনীতি, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা ও ব্যবস্থাপনা বিষয় খোলার লক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।
জাতীয় সংসদের নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ফজলে হুদা বাবুলের এ সংক্রান্ত গত ৯ জুন তারিখের আধাসরকারি পত্রের (ডিও) পরিপ্রেক্ষিতে এই অনুমতি দেয়া হয় বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই অনুমতি অনার্স কোর্স খোলার একদম প্রাথমিক পদক্ষেপ। জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজ ইতোমধ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত হওয়ায় অন্যান্য প্রক্রিয়া সহজ হবে। মন্ত্রণালয়ের এই অনুমতির পর এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয় কোড বরাদ্দ ও আসন সংখ্যা অনুমোদনের প্রক্রিয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজ পরিদর্শক সরেজমিনে পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করে রিপোর্ট দিবেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এই রিপোর্ট উত্থাপন করা হবে। বিষয়টি সেখানে নিস্পত্তি হলে ওইসব বিষয়ে অনার্স পর্যায়ে পাঠদানের চুড়ান্ত অনুমতি দেয়া হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজের পুরাতন ভবন, একাডেমিক ভবন, বিজ্ঞান ভবন, বায়োলজি, কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স ভবন, লাইব্রেরী, অডিটোরিয়াম, আর্টস বিল্ডিং ছাড়াও একটি ছয়তলা নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অনার্সের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খোলার জন্য প্রয়োজনীয় ক্লাস রুম, লাইব্রেরী, ল্যাব ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। তবে রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। কলেজটিতে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যাণিজ্য বিভাগে মোট এক হাজার ১০০ জন এবং স্নাতক পর্যায়ে বিএ ও বিএসএস বিভাগে ৭৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব বিষয়ে পাঠদানের জন্য ২৪ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন। এছাড়া ১৩ জন কর্মচারির পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫ জন। অনার্স কোর্স চালু হলে বিষয়ভিত্তিক অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
জানতে চাইলে, জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. লোকনুজ্জামান আহম্মেদ বলেন, ওই নয়টি বিষয় ছাড়াও বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং দর্শনসহ মোট ১৩টি বিষয় খোলার প্রক্রিয়া চলছে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ২০২৭-‘২৮ শিক্ষাবছরে অনার্সে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু হতে পারে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভর্তি বিজ্ঞপ্তির সাথে এই কলেজের নামও অন্তর্ভূক্ত হবে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৭ সালে। সেবছর ৩১ জুলাই ‘জাহাঙ্গীরপুর কলেজ’ নামে এর নামফলক উন্মোচন করেন রাজশাহীর তদানিন্তন জেলা প্রশাসক এম. এ. সাঈদ। এর মূল উদ্যোক্তা নওগাঁর তদানিন্তন মহকুমা প্রশাসক আজিজুল হক। এটি প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেন জমিদার ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় চৌধুরী।
১৯৮৩ সালের শেষদিকে তদানিন্তন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মহাদেবপুর কলেজ মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে ভাষণ দানকালে কলেজটিকে সরকারিকরণ করা হলো বলে ঘোষণা দেন। পরের বছর ৯ জানুয়ারি থেকে এটি ‘জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজ’ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তখন পর্যন্ত এখানে শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় ছিল।
১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর কলেজটিকে এর অধিভূক্ত করা হলে স্নাতক (পাশ) পর্যায় চালু হয়। এরপর বছরের পর বছর অতিবাহিত হয়েছে একইভাবে। জেলার অন্য সব উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি কলেজে স্নাতক (সম্মান) পর্যায় চালু হলেও মহাদেবপুরে তা চালুর উদ্যোগ নেননি কেউ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নওগাঁ সদরে নওগাঁ সরকারি কলেজ ও নওগাঁ সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজে ১৯৯৬ সালে, নওগাঁ আস্তান মোল্লা কলেজে ২০১৩ সালে, পত্নীতলা উপজেলায় নজিপুর সরকারি কলেজে ২০১০ সালে, সাপাহার উপজেলায় সাপাহার সরকারি কলেজে ২০১১ সালে, বদলগাছী উপজেলায় বদলগাছী সরকারি কলেজে এবং আত্রাই উপজেলায় মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজে ২০১২ সালে, মান্দা উপজেলায় মান্দা মোমিন-শাহানা সরকারি কলেজে ২০১৩ সালে, পোরশা উপজেলায় পোরশা ডিগ্রি কলেজে ২০১৫ সালে এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় নিয়ামতপুর সরকারি কলেজে ২০১৬ সালে অনার্স পর্যায় চালু হয়। এই অবস্থায় নওগাঁ-৩ আসনের এমপি ফজলে হুদা বাবুল ডিও লেটার দিয়ে মহাদেবপুরে অনার্স কোর্স চালুর উদ্যোগ নেয়ায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ভালবাসা অর্জন করেছেন। বিভিন্ন মহল তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এই উদ্যোগে তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবেন।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন,সিলেটের অঞ্চলের মৌলিক সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো সাংবাদিকেরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকার যেসব সমস্যা যে মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত, সেগুলো সমাধানে তিনি কাজ করার আশ্বাস দেন।
সিলেটের দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। এমনকি বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে যাতে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে না যায়, সে বিষয়েও সরকার উদ্যোগ নেবে। শনিবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাব-নূর ফাউন্ডেশন আয়োজিত শিক্ষা সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনুর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম এবং জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকার সহ-সভাপতি তোফায়েল খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। শুধু সিলেট নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলে-মেয়েরাও এ সহায়তার আওতায় আসবে। মেধার বিকাশে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট অঞ্চলে শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশনের পক্ষ শনিবার প্রায় ৪৮ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের চিকিৎসার জন্যও দেশব্যাপী আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষও এ সহায়তার আওতায় রয়েছেন।
সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে তাঁদের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে নূর ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা ও সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর বলেন, শিক্ষার প্রসার ও মানুষের কল্যাণের চিন্তা থেকেই নূর ফাউন্ডেশনের শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষক পরিবারের সন্তান হিসেবে শিক্ষার প্রতি তাঁর পরিবারের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাঁর প্রবাসী ভাইয়ের সহযোগিতায় শুরু হওয়া এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকেও এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে ফাউন্ডেশনের তহবিল এক কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের। এ অর্থ ওয়াক্ফভিত্তিক স্থায়ী আমানত হিসেবে সংরক্ষণ করে এর আয় থেকে প্রতিবছর শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সিলেট প্রেসক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরে মুকতাবিস উন নূর বলেন, ১৯৭৭ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৫০ হাজার টাকার অনুদানের মধ্য দিয়ে প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ভবনটির সম্প্রসারণ ঘটে। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সিলেট প্রেসক্লাবকে সাততলা ভবনে রূপ দেওয়ার স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শামসুল ইসলাম বলেন, নূর ফাউন্ডেশনের শিক্ষা সহায়তা উদ্যোগ সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য ও তাঁদের সন্তানদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজকে আলোকিত করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা সহায়তা এবং তাঁদের সন্তানদের শিক্ষা ও শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বেশি মানুষকে জানানো গেলে শ্রমজীবী পরিবারগুলো উপকৃত হবে। এ ধরনের উদ্যোগ উপজেলা পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শামসুল ইসলাম আরও বলেন, অর্থের অভাবে কোনো শিশুর স্বপ্ন নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। শিক্ষা প্রসার, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং নৈতিকতাসম্পন্ন সমাজ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সিলেট প্রেসক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের কল্যাণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকার সহ-সভাপতি তোফায়েল খান তাঁর বক্তব্যে সাংবাদিকদের সমাজের বিবেক ও দর্পণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে অবহেলিত মানুষের দুর্দশা ও বঞ্চনার চিত্র উঠে আসে, যা সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সিলেট প্রেসক্লাবের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্মরণীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট প্রেসক্লাবের নেতারা সাংবাদিকদের চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর কল্যাণ তহবিল গঠনের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে অনেক সাংবাদিককে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়। তাঁদের চিকিৎসা ও দুর্দিনে পাশে দাঁড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জরুরি। বক্তারা সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ট্রেনের আসন ও টিকিট সংকট, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে জটিলতা এবং প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সেবা সহজ করার বিষয়েও মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও সিলেটবাণীর নির্বাহী সম্পাদক এম এ হান্নান, সাবেক সহসভাপতি জিয়াউস শামস শাহীন, সহ-সভাপতি ফয়সল আলম, দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যুরোপ্রধান হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, দৈনিক নয়াদিগন্তের ব্যুরোপ্রধান আব্দুল কাদের তাপাদার, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ফয়ছল আমিন ও প্রেসক্লাবের সহসাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্লাব সদস্য এম এ মতিন। পরে অতিথিকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা। অনুষ্ঠানে মোট ১৮ জনের হাতে শিক্ষা সহায়তার অর্থ প্রদান করা হয়।
সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে পিকেটার সড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে
রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
এতে সাজেকে যাতায়াতকারী পর্যটকদের ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাজেকে অবস্থানরত বেশ কিছু পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা। এতে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এর আগে শনিবার বিকেলে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নাম ব্যবহারকারী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকে ধারাবাহিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে।
পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, ‘জেএসএস নামধারী সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা এই অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকার তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের লাইনম্যান মো. ইয়াছিন আরাফাত জানান, শনিবার সরকারি নিরাপত্তা বহর বা স্কর্টের সঙ্গে ছোট-বড় গাড়ি ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে ৯০টি যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করেছে। এসব যানবাহনে প্রায় ৯০০-এর বেশি পর্যটক সাজেকে পৌঁছেছেন।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, অবরোধের কারণে আগের মতো দুই দফার পরিবর্তে দুপুর ২টায় একবার স্কর্ট চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই স্কর্টে পর্যটকদের সাজেক থেকে নামানো এবং নতুন পর্যটকদের প্রবেশের ব্যবস্থা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের উদ্যোগে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে উৎসবমুখর পরিবেশে এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতার জমজমাট ফাইনালে পুরুষ বিভাগে দামুড়হুদা থানা দল এবং নারী বিভাগে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
মহিলা বিষয় চুয়াডাঙ্গা সদর থানা চ্যাম্পিয়ন এবং পুরুষ বিভাগে রানার আপ হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানার নবাগত ওসি মনিরুজ্জামান সকল খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা বালক বালিকা উভয় টিমের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান। ফাইনাল খেলা শেষে জমকালো ও পরিপাটি আয়োজনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন এবং চ্যাম্পিয়ন -রানার আপ দলের মাঝে ট্রফি ও পুরস্কার বিতরণ করেন। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার।
টুর্নামেন্টে চমৎকার খেলে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট ও ম্যান অফ দি ফাইনাল নির্বাচিত হন দামুড়হুদা থানা পুরুষ দলের খেলোয়াড় হাসান আলী। এছাড়া বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন দল চুয়াডাঙ্গা সদর থানার জুলি খাতুন ম্যান অব দ্যা ফাইনাল নির্বাচিত হন ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, কমিউনিটি পুলিশের মূল লক্ষ্যই হলো পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা। খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক, মোবাইল,জোয়ার মতো অপরাধ এবং সব ধরনের সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখে। আমাদের জাতীয় খেলা কাবাডি কেবল শারীরিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলার প্রতীক। আমি আশা করি, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার যুবসমাজ আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং আমরা সবাই মিলে একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও সুন্দর চুয়াডাঙ্গা গড়ে তুলতে পারব।”
অনুষ্ঠানটি চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মিনহাজুল ইসলাম।
উক্ত ফাইনাল ম্যাচে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান,আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)রাকিবুল ইসলাম, জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান হক,দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম, এবং পুলিশ লাইন্সের আর আই আব্দুস সামাদ, ডিস্টোর ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর রবীন্দ্রনাথ সরকার সহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।
তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে সমাপনী দিনে নারী-পুরুষ উভয় বিভাগের ফাইনালে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
পুরুষ বিভাগের ফাইনালে দামুড়হুদা থানা দল একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে ৫৯-২২ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অন্যদিকে, নারী বিভাগে তুমুল লড়াইয়ের পর চুয়াডাঙ্গা সদর থানা দল ৩৭-৩০ পয়েন্টে দামুড়হুদা থানা দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে।
তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা গুলো পরিচালনা করেন রকিবুল ইসলাম (ইসলাম রকিব),ফিরোজ উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক, আব্দুল হাই, বিলকিচ নাহার,আইরিন ইসলাম ও মনসুর আলী।
উল্লেখ্য, ১ম পুলিশ কাবাডি প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী নারী-পুরুষ সকল টিমের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার পুরস্কারের ব্যবস্থা করেন। যা ছিল চুয়াডাঙ্গা পুলিশ কাবাডির ইতিহাসের এক অনন্য সুন্দর অধ্যায়।
সে কারণে চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী শতাধিক খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের প্রশংসায় ভাসছেন চুয়াডাঙ্গার নবাগত পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার।