শহীদ আলম
পঞ্চগড়ের দরিদ্র পরিবারের সন্তান শহীদ আলম (২৫)। পেশায় একজন চাতাল শ্রমিক। হৃদযন্ত্রের দুটি ভালভ নষ্ট হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন তিনি। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভালভ প্রতিস্থাপন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। কিন্তু অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তার বাবা নুর ইসলাম।
শহীদ আলম পঞ্চগড় সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলেয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। কিছুদিন আগে চাতালে কাজ করার সময় হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। একই সঙ্গে শুরু হয় রক্তবমি। দ্রুত তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পাঠানো হয় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে।
সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. আসিফ আহসান চৌধুরী জানান, শহীদের হৃদযন্ত্রের দুটি ভালভ নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভালভ প্রতিস্থাপন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন হবে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। আগামী এক মাসের মধ্যে অস্ত্রোপচার করা জরুরি বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
শহীদের বাবা নুর ইসলাম বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রংপুর ও ঢাকায় এক লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। বাড়ির একমাত্র সম্বল গরু ও হাঁস-মুরগি বিক্রি করে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু ভালভ প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলেকে বাঁচাতে হলে দ্রুত অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাব, তা বুঝতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা চাইছি। আপনাদের সহযোগিতায় আমার ছেলেটি হয়তো নতুন জীবন ফিরে পাবে।”
অসহায় বাবার আকুতি, সামর্থ্যবান মানুষের সামান্য সহযোগিতাই পারে শহীদের জীবন বাঁচানোর স্বপ্ন পূরণ করতে। তাই শহীদের চিকিৎসায় এগিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি মানবিক আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার।
আর্থিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ:
মোবাইল নম্বর: ০১৮৪৫-০১৬১৪৮
ছবি : সংগৃহীত
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আবারও শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কারখানায় হাজিরা দেওয়ার পর শ্রমিকদের একটি অংশ বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা আশপাশের অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও কাজে যোগ না দিতে বাধ্য করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে শ্রমিকেরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পুলিশ কয়েকটি পয়েন্ট থেকে তাদের সরিয়ে দেয়।সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকেরা নিজ নিজ কারখানায় প্রবেশ করে কার্ড পাঞ্চের মাধ্যমে হাজিরা নিশ্চিত করেন। এরপর তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার প্রধান ফটকে জড়ো হন। সেখানে অন্য শ্রমিকদেরও কারখানা থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতির অবনতি হলে বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে শতাধিক কারখানার শ্রমিক সড়কে নেমে আসেন।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ কয়েকটি পয়েন্টে ধাওয়া দিয়ে তাদের সরিয়ে দিলে শ্রমিকেরা বিভিন্ন শাখা সড়কে অবস্থান নেন।
শ্রমিকদের দাবি, মজুরি বোর্ড আগামী ডিসেম্বরে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেও কত টাকা বেতন বাড়ানো হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।এদিকে গতকাল সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ এবং পুলিশভ্যান ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাভার শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত রয়েছে। তবে নাশকতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের সাঁজোয়া যানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে।
ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে কয়েক দিনের অস্থিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েক দিন সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের পর কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সড়কে বিক্ষোভের পরিবর্তে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দলবেঁধে কারখানায় প্রবেশ করছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের উপস্থিতিতে ফিরতে শুরু করেছে শিল্পাঞ্চলের কর্মচাঞ্চল্য।
আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার কোনো মহাসড়ক বা আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিকদের অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক ছিল। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে বিজিবির ১২ প্লাটুন, আনসারের পাঁচ প্লাটুন ও এসআরবির আট প্লাটুন সদস্য রয়েছেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জানান, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনের নামে যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। অন্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।
এর আগে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে।
টানা আন্দোলন ও সংঘাতের কারণে শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে আন্দোলন চলাকালে মারধরের শিকার হয়ে তৌফিক হোসেন শেখ নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাও শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।
কয়েক দিনের উত্তেজনা ও অস্থিরতার পর বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার মধ্য দিয়ে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার আভাস মিলছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নোয়াখালীর সেনবাগে পিকআপের বডির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা ৬২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সৈয়দ নুর (৩৩) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পিকআপের চালক গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান কামাল। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার সৈয়দ নুর কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ৫ নম্বর নিলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিকদারপাড়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে মাদকের একটি বড় চালান নোয়াখালীর দিকে আসছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় রাত সোয়া ১টার দিকে টেকনাফ থেকে আসা একটি পিকআপ থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে পিকআপের বডির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৬২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় পিকআপে থাকা সৈয়দ নুরকে গ্রেপ্তার করা হলেও চালক পালিয়ে যায়।
ওসি মো. শাহজাহান কামাল আরও বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সেনবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
শিক্ষার পরিবেশ ফেরাতে উপজেলা প্রশাসনের সচেতনতামূলক প্রচারণা!
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, সন্ধ্যার পর বাইরে আড্ডা এবং মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করছে উপজেলা প্রশাসন। এ পরিস্থিতি উত্তরণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে এসব সচেতনতামূলক নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে।
প্রচারণায় জানানো হয়, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী মাগরিবের পর কোনো শিক্ষার্থী বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ঘোরাফেরা করতে পারবে না। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। ১৮ বছরের কম বয়সী কারও কাছে বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করা যাবে না। এ ছাড়া বিদ্যালয় চলাকালীন শিক্ষার্থীদের দোকানে বসে অযথা আড্ডা দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি ছোট শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ডোবা, পুকুর, খাল ও নদী থেকে তাদের দূরে রাখতে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষার ফলাফলের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এ ধরনের সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রচারিত নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
৩য় আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরি-২৬। ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের গুণাবলি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে শুরু হয়েছে ছয় দিনব্যাপী ‘৩য় আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরি-২৬’। এতে রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে ১৩০টি ইউনিটের প্রায় ১ হাজার ২শ কাব স্কাউট, গার্ল-ইন-কাব স্কাউট, ইউনিট লিডার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ স্কাউটস, দিনাজপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিশনার ও ক্যাম্পুরির ক্যাম্প চিফ মো. আখতারুজ্জামান।
বাংলাদেশ স্কাউটস, দিনাজপুর অঞ্চলের উদ্যোগে ৪ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এ ক্যাম্পুরি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে নীল আকাশ, সবুজ বন, স্কাউটিংয়ে গড়ি জীবন’।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলার স্কাউটরা এতে অংশ নিচ্ছেন। ক্যাম্পুরিতে শিশুদের জন্য থাকছে ১০টি চ্যালেঞ্জভিত্তিক স্কাউটিং কার্যক্রম। এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থাপন করা হয়েছে দুটি ভিলেজ ও চারটি সাব-ক্যাম্প।
অংশগ্রহণকারী শিশুদের আবাসন, খাবার, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজক কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ আয়োজন সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠন সহযোগিতা করছে।
আয়োজকরা জানান, ক্যাম্পুরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর। আর মহাতাঁবুজলসা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলমের।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের মধ্যে নেতৃত্বগুণ, শৃঙ্খলা, আত্মনির্ভরশীলতা, পরোপকারিতা ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়বে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের দক্ষ, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে তারা অনুপ্রাণিত হবে।