শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে সৃষ্ট শ্রম অসন্তোষের মধ্যে শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক জনজীবন ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে মোট ২৪ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।বুধবার (৪ নভেম্বর) সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
এর মধ্যে সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় ৫ প্লাটুন; গাজীপুরের চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস, পোড়াবাড়ি, মাস্টারবাড়ি বিদ্যুৎ এলাকা, তেলিপাড়া, সফিপুর, চন্দ্রা ও কালিয়াকৈর এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চাষাঢ়া, ঝালকুড়ি ব্রিজ, বিসিক শিল্প এলাকা ও কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।এছাড়া, শ্রমিক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিল্পাঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আগামী ১১ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শুধু ঢাকায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পিএসসির প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫১তম বিসিএসের (বিশেষ) লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার হল, আসনবিন্যাস ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা যথাসময়ে পিএসসির ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে (http://bpsc.teletalk.com.bd) প্রকাশ করা হবে।
এদিকে চিকিৎসকদের জন্য আয়োজিত ৫১তম বিশেষ বিসিএসে চূড়ান্তভাবে আবেদন করেছেন ৪৪ হাজার ৬৩৫ জন প্রার্থী।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-সংকট মোকাবিলায় এ বিশেষ বিসিএসের আয়োজন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ বিসিএসের মাধ্যমে মোট ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে সহকারী সার্জন পদে ৪ হাজার ৭০০ জন এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৩০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশে চলমান পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন ও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ভারত নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাক্ষিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান স্পষ্ট করেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। সেখানে নানা ঘটনাবলি ঘটছে এবং আমরা সেসব ঘটনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা একটি ইতিবাচক, ভবিষ্যৎমুখী ও গঠনমূলক সম্পর্কের অভিমুখে কাজ করতে চাই।
বাংলাদেশে ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে গড়ায়। বিশেষ করে ঢাকার মিরপুর এলাকায় সকালে কিছু কারখানা আংশিক চালু হলে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গঙ্গা পানি চুক্তিসহ দ্বিপক্ষীয় নদী ব্যবস্থাপনার বিষয়টি উঠে এলে রণধীর জয়সওয়াল জানান, আন্তঃসীমান্ত নদী সংক্রান্ত যেকোনও আলোচনা নির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। গঙ্গাসহ সব আন্তঃসীমান্ত নদীর বিষয়ে আলোচনার জন্য এটিই আনুষ্ঠানিক ও কাঠামোবদ্ধ মাধ্যম।এ ছাড়া ঢাকা ও নয়া দিল্লির মধ্যে আসন্ন উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশের নেতৃত্বের কাছে ভারতের পক্ষ থেকে একটি স্থায়ী আমন্ত্রণ রয়েছে। জয়সওয়াল বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এই বিষয়ে কোনও নতুন আপডেট থাকলে তা আপনাদের জানানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ওয়াই-আকৃতিতে নির্মাণ এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে।অন্যদিকে, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কর্মকর্তারাও।
মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। ছবি: সংগৃহীত