মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইন
প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণকে যৌক্তিক দাবি করে মন্তব্য করার একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার রাতে এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরপরই পুলিশ প্রশাসন এএসআই ইলিয়াস হোসাইনকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে উপজেলার রানীগাঁও বাজারে ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তে যান এএসআই ইলিয়াস। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে। কথা বুঝস না? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না। আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব হইব নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’
এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার ওই বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর তাকে রাতেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকেও অবগত করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মাধবপুর সার্কেল) মো. মাফিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানাব।’
মেঘনা নদীতে জেলেদের ধাওয়া দেওয়ার সময় নৌ-পুলিশের একটি স্পিডবোট ডুবে গেছে
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা নদীতে জেলেদের ধাওয়া দেওয়ার সময় নৌ-পুলিশের একটি স্পিডবোট ডুবে গেছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও একটি শটগান নিখোঁজের কথা জানিয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে উপজেলার ষাটনলের সটাকি লঞ্চঘাট থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর সদর নৌ-পুলিশের ইনচার্জ আজমগীর হোসাইন।
চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ডুবে যাওয়া স্পিডবোটটি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ শটগান উদ্ধারে ঘটনাস্থলে ডুবুরি দল নামানো হয়েছে।
মা ইলিশ সংরক্ষণে চলমান নিষেধাজ্ঞায় গত ২৪ ঘণ্টায় চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৪টি মামলায় মোট ২৮ জেলেকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর নৌ-পুলিশের অভিযানে ১৪ জন এবং মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়। বাকি চারজনকে অন্যান্য ফাঁড়ির অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় জেলেদের কাছ থেকে নৌকা, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও মা ইলিশ জব্দ করা হয়। জব্দ করা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানা ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া জব্দ করা অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
সচেতনতামূলক বার্তা নিয়ে জেলেদের পাশে ‘ক্লিন চাঁদপুর’
সাগর থেকে নদীর মিঠা পানিতে ডিম ছাড়তে আসা মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময়ে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা উপকূলীয় জেলেদের সচেতন করা ও খাদ্য সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে ‘ক্লিন চাঁদপুর’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত শহরের পুরান বাজার রনাগোয়াল, হরিসভা, দোকানঘর, বহরিয়া এলাকায় জেলেদেরকে মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সচেতনতামূলক প্রচারণা করা হয়।
এ সময় অসাধু উপায়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার না করা এবং মা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতে অনুরোধ জানান সংগঠনের সদস্যরা। সেইসঙ্গে সংগঠনটির পক্ষ থকে দুই শতাধিক জেলেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।
‘ক্লিন চাঁদপুর’ এর সভাপতি নুরুল আমিন খান আকাশ বলেন, উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সরকারের দেওয়া নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ইলিশ না ধরার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কারণ ইলিশ জাতীয় সম্পদ। এটি রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ২২ দিনের জন্য সরকার জেলেদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। তারপরও জেলেদের পাশে ক্ষুদ্র উপহার নিয়ে এসেছেন তারা। তাদের যেন কিছুটা হলেও সহায়ক হয়।
মির্জা ফয়সল আমিন
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে বেকারত্ব দূর করা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণাকালে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। এ সময় এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
প্রচারণায় মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। বেকারত্ব দূর করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে কাজ করতে চান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন এবং নিজেদের অধিকার নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এলাকার সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নও তাঁর লক্ষ্য।
এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা তুলে ধরে ভোটারদের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান বিএনপির এই প্রার্থী।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৮৪টি পূজামণ্ডপে ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন শিল্পপতি অনিরুদ্ধ রায়। প্রতিটি পূজামণ্ডপে দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকা করে।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সিংগাইর পৌর এলাকার আঙ্গারিয়া মহল্লায় রায় বাড়ির গীতা রায় ভবনে ‘শ্রীমতি গীতা রায়ের দুর্গোৎসব সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬’ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পূজামণ্ডপগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে এ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শিল্পপতি অনিরুদ্ধ রায়। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ডা. সজিব কুমার সাহা সভা সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিন কবির ও সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ উপজেলার ৮৪টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত সুবিধাভোগীদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
গাজীপুরের শ্রীপুরে পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল, চলাচলের এজমালি রাস্তা কেটে পরিবার অবরুদ্ধ করার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ আইন উদ্দিন (৫৮)।
আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, শ্রীপুর থানাধীন তেলিহাটি মৌজার (জেএল-১০) আরএস ৪৩৪ নং খতিয়ানের ৬২০৪, ৬২০৫ ও ৬২০৬ নং দাগের সম্পত্তি তাদের পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত। উক্ত জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী হুমায়ুন রশিদ, জসিম উদ্দিন, নুরুল আমিন, জহিরুল ও আল-আমীনসহ তাদের সহযোগীরা বেআইনিভাবে সীমানা প্রাচীর বিনষ্ট করে জমি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। একই সাথে তাদের বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র এজমালি রাস্তাটি কেটে আরসিসি পিলার বসিয়ে পরিবারটিকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগী আইন উদ্দিন আরও জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিবাদীরা উক্ত জমিতে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণে বাধা দিলে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ফলে পরিবার নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে ভুক্তভোগী পরিবারটি বেআইনি দখল বন্ধ, পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
সাগর হোসেন ও তার মা মুন্নি খাতুন
অবশেষে বৃদ্ধা মা মুন্নি খাতুনের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সাগর হোসেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও আদালতের উদ্যোগে মায়ের ভরণপোষণসহ সব দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। নিজের ভুল স্বীকার করে মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন সাগর। রোববার ‘বৃদ্ধ মা চান একসঙ্গে থাকতে, ছেলে নারাজ’ শিরোনামে সমকালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি প্রশাসন ও আদালতের নজরে আসে।
সোমবার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদের উপস্থিতিতে তার কার্যালয়ে মা ও ছেলের মধ্যকার বিরোধের সমাধান হয়। এ সময় সাগর হোসেন ও তার মা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান। পরে মাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে ফেরেন সাগর। এ সময় সাগরের মামা জাকির হোসেন ও খালু মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সংবাদটি আদালতের নজরে এলে স্বপ্রণোদিত হয়ে উদ্যোগ নেন আদালত। রোববার বিকেলে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমানকে মা ও ছেলেকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ওসি নিজের গাড়িতে করে তাদের পাবনা আদালতে নিয়ে যান। সাঁথিয়া থানার আমলি আদালতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনার পর তাদের মধ্যকার বিরোধের সমাধান করা হয়।
আদালতে নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হন সাগর। মায়ের সঙ্গে এমন আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তার সঙ্গে আর এমন আচরণ করবেন না বলে জানান। একই সঙ্গে মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান।
সাগর হোসেন সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের প্রয়াত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম পুলিশের সদস্য।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর মা ও ছেলের মধ্যে দায়িত্ব পালন ও ভরণপোষণ নিয়ে একটি পারিবারিক মামলার শুনানি হয় সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এ সময় ইউএনও সেলিম আহমেদ সাগরকে মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য বুঝিয়ে দেন। তবে মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে রাজি হননি তিনি।
একপর্যায়ে ইউএনওকে সাগর বলেন, মাকে সঙ্গে রাখলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। মাকে সঙ্গে রাখতে পারবেন না জানিয়ে মাসে কত টাকা দেবেন, তা নির্ধারণ করে দিতে বলেন। এ ঘটনায় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
ছেলের কাছে ফিরতে পেরে খুশি মুন্নি খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ভুল বুঝে আমাকে অনেক কথা বলেছে। এখন সে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। আমি আমার ছেলেকে চেয়েছিলাম, ছেলেকে পেয়েছি। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই। ছেলের সব ভুল আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। দেশবাসীও আমার ছেলেকে ক্ষমা করে দেবেন। এখন আমি ছেলের বাড়িতে ফিরে এসেছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছেলের কাছেই থাকতে চাই। মা হিসেবে এটাই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।’
সাগর হোসেন বলেন, ‘মা ইউএনও স্যারের কাছে ভরণপোষণের জন্য অভিযোগ করায় আগে আবেগ, ক্ষোভ ও অভিমান থেকে অনেক কথা বলেছিলাম। স্যারের কথা না শুনে মাকে টাকা দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সঙ্গে রাখতে চাইনি। মাকে সঙ্গে দিলে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম। ওসি স্যার আমাকে গাড়িতে করে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। আমি অনুতপ্ত। এখন থেকে মাকে নিজের কাছে রেখে তাঁর দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করব। আমি আমার মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাই।’
সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে মা ও ছেলেকে গাড়িতে করে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাদের বক্তব্য শুনে বিরোধের সমাধান করে দেন। পরে মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এরপরও তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, তার ও আদালতের উদ্যোগে মা ও ছেলের বিরোধের সমাধান হয়েছে। সাগর নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন। এখন থেকে তারা একসঙ্গে থাকবেন এবং সাগর মায়ের ভরণপোষণ করবেন বলে আশাবাদী তিনি। মানবিক এই উদ্যোগে ভূমিকা রাখতে পেরে ভালো লাগছে উল্লেখ করে ইউএনও এ বিষয়ে আদালত ও সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
বরখাস্তকৃত শুভ চন্দ্র বর্মন
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর ঘুষ নেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীর নাম শুভ চন্দ্র বর্মন। তিনি ওই ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৭ অক্টোবর ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘হাজীগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর রাজারগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন’ শিরোনামে সংবাদ ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হয়। এতে অফিস সহায়ক শুভ চন্দ্র বর্মনকে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে দেখা যায়।
আদেশে আরও বলা হয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়কের সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। সরকারি দায়িত্বে থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুর্নীতির শামিল।
এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। একই বিধিমালা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ ১১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার লক্ষ্যে অভিযোগ বিবরণী প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর জন্য হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঝাটিকা অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতার জন্য ভূমি অফিসগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে।