হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজারে ব্রিটিশ হাই কমিশনার
স্মৃতি মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। স্মৃতি মানুষকে সুখ দেয় এবং দুঃখও দেয়। তেমনি এক স্মৃতি নিয়ে আমি বেঁচে আছি। ২০০৪ সালের ২১ মে শুক্রবার হযরত শাহজালাল (রহ:) এর মাজার জিয়ারতে আসেন তৎকালীন বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী। এ সময় তিনি সহ আমরা অনেকেই গ্রেনেড হামলার শিকার হই। গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি আজও ভুলতে পারিনি। ঘটনাটি আমাকে বার বার পীড়া দেয়। এ ভয়াবহ ঘটনার দীর্ঘ ২২ বছর অতিবাহিত হচ্ছে।
তারপরও মনের ওই ভয়ংকর স্মৃতি আজও মন থেকে চলে যায়নি। ঘটনার দিন হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজার প্রাঙ্গণে গেলে বৃটিশ হাই কমিশনারের সাথে গ্রেনেড হামলার শিকার হই। দীর্ঘ ১৮ দিন এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরলেও এখনও পায়ে ও হাতে অসংখ্য প্লিন্টার নিয়ে অসহ্য যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে জীবন ধারণ করছি। আজও সেই ২১মে’র দিনটি আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, সেই ভয়ংকর ঘটনার কথা।
সিলেটের ইতিহাসে ২০০৪ সালের ২১ মে নির্মম একটি দিন। এ দিনে আমাদের গৌরব সিলেটি বংশোদ্ভুত বৃটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীসহ সরকারী কর্মকর্তা, আইনজীবী সাংবাদিকসহ সিলেটের অনেক মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজার প্রাঙ্গণ। এ ঘটনার বিচারও হয়েছে।
২১ মে শুক্রবার ২০০৪ সাল। সকাল ১১টা। গোসল সেরে বের হই হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজার প্রাঙ্গণের উদ্দেশ্যে। তখন সিলেটের প্রাচীনতম পত্রিকা দৈনিক যুগভেরীতে কাজ করতাম। বাসা ছিল নগরীর মীরবক্সটুলায়। বাসা থেকে হেটে হেটে যাত্রা শুরু করি। তখন সম্ভবত বেলা ১২ টা বা তার চাইতে বেশি হবে। হযরত শাহজালাল (রহ:) দরগা প্রাঙ্গণের প্রধান ফটকের কাছে গিয়ে দেখি তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবুল হোসেন ও তার গানম্যান জীবন মিয়াকে নিয়ে দাঁড়ানো। এ এলাকায় তেমন পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি।
তখন আমি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একজন পুলিশকে জিজ্ঞেস করলাম কোনো ভিআইপির আসবেন না কি? জবাবে বৃটিশ হাই কমিশনারের আগমন সম্পর্কে জানলাম। তবে আগে জানতাম তিনি সিলেট আসছেন। মনে হয় দরগায় আসাটা স্বাভাবিক। কারণ যেকোনো ভিআইপি সিলেট আসলে দরগাহ হযরত শাহজালাল (রহ:) এর মাজারে আসেন। এ বিষয়ে আগের দিন অফিসেও আলোচনা হয়েছে তার সফরসূচি নিয়ে। শহরের অভ্যন্তরে আমাকেও নিউজ কভার এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তবে মাজারে আসবেন এটা আমাকে নিশ্চিত করা হয়নি। যাক দরগার অবস্থানের কিছু সময় যাওয়ার পর তৎকালীন বৃটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী সেখানে আসলে জেলা প্রশাসক আবুল হোসেন তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে শাহজালাল (রহ:) মাজারে নিয়ে যান। তখন ব্রিটিশ হাই কমিশনারের সাথে কুশল বিনিময় করে পরিচয় দিই। তাকে কেমন আছেন বললে, তিনি ভাল আছেন বলে জানান। সিলেটি ভাষায় তিনি একথা বলেন। তারপর তাকে মাজারে জিয়ারতে নিয়ে যাওয়া হয়। মাজার জিয়ারত শেষে হযরত শাহজালাল (রহ:) মসজিদে ঢুকে প্রথম কাতারে জুমার নামাজ আদায় করেন।
তৎকালীন ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজারে জুমার নামাজ শেষে প্রচন্ড ভীড়ের মধ্যে বের হন। এ সময় আমিও মসজিদের প্রধান সিড়ি থেকে নামার সময় তার কাছ থেকে কুশল বিনিময় করে বিদায় নেই। উৎসুক জনতা তাদের প্রিয় হাই কমিশনার বের হওয়ার সাথে সাথে কমমর্দন করতে থাকেন। তিনি যখন মসজিদের সিড়ি থেকে নামেন তখন আমি মহিলা ইবাদতখানার সামনে ছিলাম। তিনি মানুষের ভিড়ের জন্য করমর্দন করতে করতে এগুতে পারছিলেন না। মানুষ আর মানুষ। সবাই চায় প্রিয় হাই কমিশনার এর সাথে করমর্দন করতে।
আমি প্রধান ফটকের বাম দিকের একটি রাস্তা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করি, সেখানেও মানুষের ভিড়। তারপর আর এদিকে যাওয়া হলো না। কারণ প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে বিপুল মানুষের উপস্থিতি হয় দরগাহ মসজিদে। তাই বাধ্য হয়ে প্রধান ফটক দিয়ে যাওয়ার জন্য সামনে আসলাম। তখন আমি মাজার প্রাঙ্গণে খেজুর গাছের পাশে ছিলাম। ইচ্ছা এখন সামনের দিকে যাওয়ার।
তারপর হঠাৎ বিকট শব্দ হলো। কালো ধোয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন। বারুদের গন্ধে ও বিকট শব্দ নাক মুখ কান যেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। দু’পা তখন মনে হয় অবশ হয়ে গেছে। তখন মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। কিছু বলতে পারছিনা। পায়ে জ্বালা পোড়া শুরু হয়ে গেছে। সে সময় বোঝা গেছে যে আর বাঁচবো না। কাত হয়ে মাজার প্রাঙ্গণে পড়ে থাকলেও কেউ কাছে আসছেন না। তখন জ্ঞান থাকতে আমি ফোন করি যুগভেরীর তৎকালীন ফটো সাংবাদিক শেখ আশরাফুল আলম নাসির এর মোবাইলে। তখন তিনি ফোন কেটে দেন।
তারপর ফোন করি তৎকালীন যুগভেরীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আজিজ আহমদ সেলিমকে। তিনি ফোন ধরলে আমি বলি মাজারে গ্রেনেড হামলা হয়েছে। আমিও আহত হয়েছি। তারপর আর কিছু বলতে পারি না। কিছু হুশ হলে দেখি এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪র্থ তলায় বারান্দায় পড়ে আছি। পুলিশ ও জনগণ আমাকে হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন। তখন আমার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ সময় দেখি আমাদের এলাকার আকিলপুর গ্রামের সফিক আহমদ নামের এক যুবক হাসপাতালের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করছে। সে আমার অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে বলে কী হয়েছে?
তখন তাকে আমার পকেটে থাকা মোবাইল বের করতে বলি এবং আমার বাড়ীর মোবাইল নম্বর দেখিয়ে বাড়ীতে জানাতে বলি। তারপর সফিকের সাথে পুলিশসহ অন্যান্য লোকজন আমাকে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ তলার ৪নং ওয়ার্ডে মেঝেতে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আমাকে মেঝেতে ফেলে রাখলেও কোন ডাক্তার তখন আসেননি। এ সময় আবার প্রচুর রক্তকরণ হচ্ছে।
মাজার প্রাঙ্গণ থেকে ওসমানী হাসপাতাল পর্যন্ত কিন্তু প্রচুর রক্তকরণ হয়েছে। এতে আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। তারপর ওসমানী হাসপাতালে তখনকার দৈনিক যুগভেরীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মরহুম আজিজ আহমদ সেলিম, জাবের আহমদ চৌধুরী ও সাংবাদিক মির্জা সোহেল আমাকে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেন। তখন আমাকে প্রচুর স্যালাইন দেওয়া হয়। তারপর রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। আমার মনে কিছুটা শান্তি আসে এবং কখন ঘুমিয়ে পড়ি তা বলতে পারি না। তারপর বাড়ি থেকে আমার আত্মীয় স্বজন আসেন। হাসপাতালে দীর্ঘ ১৮ দিন চিকিৎসাধীন ছিলাম। এ সময় আমার ডান পায়ের উরুতে মেজর অপারেশন করে গ্রেনেডের অংশ বের করা হয়। এটা ছিল বড় আকারের। তারপরও শরীরের অনেক স্থানে প্রিন্টার রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে অনেক গণ্যমান্য লোকজন আমাকে দেখেন ও সান্ত্বনা দেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বষির্য়ান আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ, সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী মরহুম মরহুম আকবর হোসেন, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের হুইপ মরহুম ফজলুল হক আসপিয়া, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ইনাম আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মরহুম বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, নিখোজ বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি এম. ইলিয়াস আলী, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মরহম আ.ন.ম শফিকুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইফতেখার হোসেন শামীম,
কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলার সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আওয়ামলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রহমান, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মো. আশফাক আহমদ, সিলেট সিটি করর্পোরেশন এর সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল খালিক, কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাটির সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারী আব্দুর রহমান জামিল, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, বিএনপি নেতা আব্দুল মালেক খান, সাবেক মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম আলহাজ্ব মাহমুদ হোসেন মঞ্জু, এডভোকেট কল্যাণ চৌধুরী, সিলেট ল কলেজের সাবেক জিএস মো. আলমগীর হোসেন, সুরমা বয়েজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও যুব সংগঠক আনোয়ার হোসেন, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্টির নেতৃবৃন্দ, বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাষ্ট্রির নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের নেতৃবৃন্দ, সিলেট প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, বিএমএ’র নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ সাংবাদিক সহকর্মীরা।
এ ছাড়া সুরমা বয়েজ ক্লাবের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি আফজাল রশীদ চৌধুরী বিশেষভাবে খোঁজ খবর নিয়েছেন। তারা আমার খোজ খবর নেন ও আশু সুস্থতা কামনা করেন। সকলের দোয়ায় আমি বেঁচে গেলেও বুক, হাত ও পায়ে অনেক প্লিন্টার নিয়ে জীবন যাপন করছি। এগুলোর জন্য হাতে ও পায়ে মাঝে মধ্যে যন্ত্রণাও হয়। এ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় এতো রক্তকরণ হওয়ায় আমার শরীর রক্তে ভেসে গিয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল হয়তো আমি আর বাঁচব না। কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে শরীরে প্লিন্টার নিয়ে এখনও বেঁচে আছি।
হাসপাতালে থাকাকালীন পুলিশ, সিআইডিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকরা দেখা করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর হামলার ২২ বছর অতিক্রম হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের ফাঁসি কার্যকর ও দু’জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডের রায় হয়েছে। বিস্ফোরক মামলার বিচার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় সিআইডি পুলিশ আমাদের আহতদের বিভিন্নভাবে স্বাক্ষ্য নিয়েছে। ঘটনাস্থলে এনে সাক্ষীদের ডামি ছবি তুলেছেন। এছাড়া আমার কাছ থেকে স্থানীয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
তৎকালীন ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর সাথে গ্রেনেড হামলার দীর্ঘদিন পর কোতোয়ালী থানার এক এসআই নোটিশ দেন কোতোয়ালী থানায় উপস্থিত হওয়ার জন্য। রাষ্ট্রীয় কাজের স্বার্থে কোতোয়ালী থানায় গেলে সিআইডির তৎকালীন এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান, তৎকালীন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আমিসহ কয়েক জন আহত লোকের সাক্ষ্য নেন এবং আহতদের একটি গাড়ীতে করে দরগাহ গেইট প্রাঙ্গণে নিয়ে আসেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ডামি ছবি তুলতে হবে। তখন আমরা সেদিনের অবস্থানের ডামি ছবি তুলতে যাই এবং আমাদের বক্তব্যও তিনি রেকর্ড করেন। তখন আমরা এ ঘটনার সুবিচার দাবি করি। তারপর সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল৬ এ হত্যা ও বিস্ফোরন মামলার স্বাক্ষ্য প্রদান করি।
তবে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩ জনের ফাঁসি ও দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন এবং তা কার্যকরও হয়েছে। এছাড়া সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ৬ এ চার্জশীট ভূক্ত আমরা ৫৬ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তে চলে যায়। তারপর আরো ২জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়।
এ মামলাটি প্রথমে সিলেট চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচার চলে। বর্তমানে মামলাটি স্থানান্তর হয়ে জন নিরাপত্তা বিঘ্নকারি অপরাধ নিরোধ ট্রাইব্যুনালে বিচারধীন রয়েছে। এ রকম জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে এবং প্রাণহানীসহ আমাদের মতো মানুষের যাতে প্রাত্যহিক যন্ত্রণা পেতে না হয় তা চাই।
সড়কে ‘শৃঙ্খলা ফেরানোর’ চেষ্টার অংশ হিসেবে ই-রিকশা নিবন্ধন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার দিয়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
ডিএসসিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ই-রিকশার নিবন্ধনে মঙ্গলবার থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের আবেদন ফরম বিতরণ করা হবে। নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬ অনুসরণ করে এ নিবন্ধন পরিচালিত হচ্ছে।আবেদনকারীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নিবন্ধনের আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে আবেদনপত্রের সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার মূল রসিদ, নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট।
ডিএসসিসির ঘোষণা অনুযায়ী, আবেদন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা ও কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি আবেদন ফরম সংগ্রহ ও ই-রিক্সার নিবন্ধন গ্রহণ করতে পারবেন। ফরম সংগ্রহ বা জমা দিলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না; সব মানদণ্ডে উত্তীর্ণ বাহনকেই সনদ দেওয়া হবে।
ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ)। ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ) উদ্ধার করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়।
৪২ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বাশালগাঁও বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরাচালানিদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী ও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত টহল ও নজরদারীর পাশাপাশি অপরাধী চক্রের গতিবিধি এবং তাদের ব্যবহৃত কৌশল শনাক্তে কাজ করছে। সীমান্তের যেকোনো স্থানে সন্দেহজনক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিজিবির লক্ষ্য শুধু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত চোরাচালান চক্রের তৎপরতা বন্ধ করাও। এ লক্ষ্যে সীমান্তজুড়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও সজাগ রয়েছেন।
সভার আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১০নং হবিরবাড়ী ইউনিয়নে গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া। এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তাঁদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়ন ভাবনা জানার পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টি তুলে ধরছেন তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটের সময় সহযোগিতা করে থাকেন তিনি। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় করছেন জিয়া। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এলাকার নাগরিকসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সমস্যার বিষয়ে তাঁদের মতামত জানার চেষ্টা করছেন তিনি।
শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হবিরবাড়ী ইউনিয়নে উন্নয়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি নাগরিকসেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পাঞ্চলের উপযোগী সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশার ক্ষেত্রেও নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, এলাকার সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সহজে যোগাযোগের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি জনপ্রতিনিধিকে জানাতে পারেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে তাঁদের মতামত প্রতিফলিত হয় এমন একটি জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকারব্যবস্থা প্রত্যাশিত।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়া জানান, দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে চান তিনি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “হবিরবাড়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণ নির্বাচিত করলে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং সাধ্যমতো সেগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নকে শুধু রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি, যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যাশা ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন জিয়াউর রহমান জিয়া। তাঁর এই গণসংযোগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক তৎপরতারই অংশ। তবে দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনে যিনিই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন, তিনি যেন দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেন এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নাগরিকসেবা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ৩ টা ৪৫ ঘটিকায় দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে,বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন।এ সময় তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।পরে ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।এতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তানজিন রহমান রিদু ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরসাদিপুর গ্রামের মিন্টুর ছেলে ও জামায়াত নেতা খাজা আহামেদের ক্যাডার বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী,মোটরসাইকেলটি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের।
এ বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাজ করছে।ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের অবদান স্মরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা সিলেটে উচ্চশিক্ষা ও কৃষিশিক্ষার নতুন দিগন্ত খুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় এম. সাইফুর রহমানের অবদান এ অঞ্চলের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে। শিক্ষার প্রসারে তাঁর আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কৃষির উন্নয়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সমন্বিত কৃষিনীতি থাকলে দেশের সমৃদ্ধি আরও দ্রুত ও টেকসই হবে। কৃষি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়নে উৎপাদন, বাজার, প্রযুক্তি ও কৃষকের জীবনমানকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের পতিত জমি চিহ্নিত করে চাষের আওতায় আনতে হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি আরও বলেন, উর্বর কৃষিজমি রক্ষা করা জরুরি। উন্নয়ন পরিকল্পনায় পতিত বা কম উৎপাদন শীল জমি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কার্যকর ভূমি ব্যবহার নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।
কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে রিজভী বলেন, হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে প্রকৃত কৃষকেরা সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
এর আগে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। বেলুন ও সাদা পায়রা উড্ডয়ন করা হয়। কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজনও ছিল। পরে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সংসদ সদস্য মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা ও মোহাম্মদ আব্দুল মালিক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদারসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের মূল ভিত্তি। কৃষির আধুনিকায়ন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনেও গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।