প্রায় চার দশক আগে যে বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে পা রেখেছিলেন, সেখানেই কেটে গেল তাঁর পুরো কর্মজীবন। টানা দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেলেন। সোমবার সেই বিদ্যালয় থেকেই বিদায় নিলেন শিক্ষক বেলা রানী দেব। তবে তাঁর বিদায়টা ছিল অন্য রকম।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন বেলা রানী দেব। গতকাল সোমবার দুপুরে তাঁর বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকর্মীরা মিলে এক বর্ণিল আয়োজন করেন। সেখানে অংশ নেন স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। ফুল, উপহার আর ভালোবাসায় ভরিয়ে দেওয়ার পর ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় প্রিয় শিক্ষককে। ঘোড়ার গাড়ির সামনে-পেছনে ছিল মোটরসাইকেলের বহর, যেন রাজকীয় বিদায়।
মেঘলা দিনে বিদায়ের আয়োজন
সোমবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। দুপুরে শুরু হয় হালকা থেকে ভারী বৃষ্টি। এর মধ্যেই বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। প্যান্ডেলের নিচে সাজানো চেয়ার।
বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের সবুজ মাঠ কাদায় থকথকে হয়ে গেলেও আয়োজন থামেনি। পানি সরাতে নালা কাটা থেকে শুরু করে নানা ব্যবস্থা করেন আয়োজকেরা। বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের কাছেই তখন দাঁড়িয়ে ছিল একটি ঘোড়ার গাড়ি।
একপর্যায়ে বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছান বেলা রানী দেব। তাঁকে দেখেই ছুটে আসেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কেউ জড়িয়ে ধরেন, কেউ সালাম দেন। নারী অভিভাবকদের অনেকে তাঁকে আলিঙ্গন করেন। বিদায়ের আয়োজন হলেও মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আনন্দ ও আবেগময়।
ফুল, উপহার আর স্মৃতির ভার
বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। অতিথি, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী—সবাই যোগ দেন আয়োজনে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ চন্দ্র ধরের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার, বিশেষ অতিথি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জলিল তালুকদার, উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক মো. রেজওয়ানুল হক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও লেখক মহিদুর রহমান, অন্যতম আয়োজক তুহিন জুবায়ের প্রমুখ।
বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বেলা রানী দেবও। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে শিশুশিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি পড়ে যায়। কারও হাতে ফুল, কারও হাতে ফুলের মালা, আবার কারও হাতে উপহারের ছোট-বড় রঙিন বাক্স। দল বেঁধে কিংবা একা একা এসে তারা প্রিয় শিক্ষকের হাতে উপহার তুলে দেয়। সহকর্মী ও অভিভাবকেরাও দেন উপহার।
‘ভালো শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা মনে রাখে’
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও লেখক মহিদুর রহমান বলেন, ‘ভালো শিক্ষকের নির্দেশক (ইন্ডিকেটর) হচ্ছেন তাঁর শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষক পাওয়া যায়, কিন্তু মনে থাকে এক-দুজনকে। শিক্ষার্থীরা ওই এক-দুজনকেই স্মরণ করেন। বেলা রানী দেব তাঁর কাজ দিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন।’
সংবর্ধনার অন্যতম আয়োজক এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তুহিন জুবায়ের বলেন, ‘আমরা তাঁকে দিদিমণি ডাকি। আমরা তাঁর কাছে পড়েছি, আমাদের সিনিয়ররা পড়েছেন। শৈশব থেকেই তাঁকে দেখে আসছি। এত দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষা দিয়েছেন, আমরা আমাদের দায় থেকে এই আয়োজন করেছি। তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো কর্তব্য মনে করেছি। আমাদের চেষ্টা ছিল এমন কিছু করা, যাতে অবসর সময়ে এই স্মৃতিটুকু মনে করে তিনি আনন্দ পান, ভালো থাকেন।’
বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং রাজনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহনা আক্তার, মেহজাবীন আক্তার ও জান্নাত আক্তারও এসেছিল প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে। তারা জানায়, বেলা রানী দেব তাদের খুব আনন্দ দিয়ে পড়াতেন। পাঠ্যসূচির বাইরেও জ্ঞান অর্জনের জন্য নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন তিনি।
‘এই স্কুলটা আমার বাড়ির মতো’
বিদ্যালয় থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে উত্তর নন্দীউড়া গ্রামে বেলা রানী দেবীর বাড়ি। ১৯৮৭ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন তিনি।
এরপর আর অন্য কোথাও যেতে হয়নি। তাঁর স্বামী রবীন্দ্র লাল দেব সরকারি চাকরি করতেন। তিনি মারা গেছেন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। মেয়ে আবার মায়ের সেই বিদ্যালয়েই সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
৩৯ বছরের বেশি সময় একই বিদ্যালয়ে কাটানোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বেলা রানী দেব বলেন, ‘আমার অনেক ছাত্রছাত্রী দেশে-বিদেশে। তারা যে আমাকে এতটা ভালোবাসে, এত আন্তরিক- এটা আমি আগে বুঝিনি। এই স্কুলটা আমার বাড়ির মতো, পরিবারের মতো।’ একটু থেমে তিনি বলেন, ‘এই স্কুলের শুরুতে যারা শিক্ষার্থী ছিল, তাদের সন্তানকে পড়িয়েছি। আজকের যে আয়োজন, এতে কত যে আনন্দ হচ্ছে, এটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’
কথা বলতে বলতে ভারী হয়ে আসে তাঁর গলা, চোখে জমে ওঠে অশ্রু। এত বছরের মায়ার বাঁধন ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর চোখে-মুখে।
বিদায় মুহূর্ত ঘনিয়ে আসে। বিদ্যালয় ভবন থেকে শিক্ষকের বের হওয়ার পথে দুই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় শিক্ষার্থীরা। ড্রাম ও বাদ্যের তালে উড়তে থাকে নানা রঙের ধোঁয়া। এরপর অপেক্ষায় থাকা ঘোড়ার গাড়িতে তুলে দেওয়া হয় বেলা রানী দেবকে। সামনে-পেছনে মোটরসাইকেলের বহর। সেই পুরোনো পথ ধরে রাজকীয় সাজে এগিয়ে চলে ঘোড়ার গাড়ি-তাঁর বাড়ির দিকে। এই পুরোনো পথ ধরে আগের মতো হয়তো তাঁর আর এই বিদ্যালয়ে ফেরা হবে না। তবে এই রঙিন পথটি অনেক দিন তাঁর মনে থাকবে।
গ্রাম পুলিশ। লোগো
গ্রাম পর্যায়ে শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা পালনকারী ‘দফাদার’ পদবি পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ করা হয়েছে। এছাড়া ‘মহল্লাদার’ পদ পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ’ করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাহিনী সংক্রান্ত বিধিমালায় সংশোধন এনে নতুন পদবি নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬১ নং আইন)-এর ধারা ৯৬ ও ধারা ৪৮-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি সম্পর্কিত বিধিমালা, ২০১৫’-এর অধিকতর সংশোধন করেছে।
সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে উপরি-উক্ত বিধিমালার সর্বত্র উল্লিখিত ‘দফাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘মহল্লাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খুলনার দিঘলিয়ায় পড়ে থাকা মুড়ির প্যাকেট খুলতে গিয়ে বিস্ফোরণে এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার সেনহাটি কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে।
মনিরুল দিঘলিয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। স্থানীয়রা জানান, ভোর পৌনে ৬টার দিকে ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে ফিরছিলেন তিনি। এ সময় তার বাড়ির দরজার সামনে পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান। কেউ ভুল করে বাইরে রেখেছে ভেবে প্যাকেটটি ঘরের ভেতরে নিয়ে রাখেন। মুড়ির প্যাকেটটি ঘরের ভেতর মেঝেতে রাখার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে।
তারা জানান, এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায় এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্রে আগুন ধরে। স্থানীয়রা খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
দিঘলিয়া থানার ওসি অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য দূর্বৃত্তরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ অভিমুখে এলজিইডির বাস্তবায়নে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা পাকাকরণের কাজ চলছে।
দীর্ঘদিন থেকে খানাখন্দে ভরপুর রাস্তা যেন যৌবন ফিরে পেল এমনটা মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্ষাকালে এই পথ দিয়ে প্রায় হাঁটু পরিমাণ কাঁদা হতো৷ ইদিলপুর থেকে ধাপের হাট যেতে ঘুরতে হতো ১০ কিলোমিটার রাস্তা। এতে করে উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত অর্থের পাশাপাশি নষ্ট হতো পণ্যও৷ সেইসাথে শিক্ষার্থীদেরও পড়তে হতো চরম বিপাকে। এমনকি রাস্তা খারাপ থাকায় বিয়ে পর্যন্ত ভেঙ্গে যেত।
বর্তমানে এলজিইডি সাদুল্লাপুরের নিবিড় তদারকিতে রাস্তার কাজ স্টিমেট অনুযায়ী হচ্ছে এমনটাই জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
রাস্তা উন্নয়নের বিষয়ে ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ রহমান জানান, রাস্তার কাজে ব্যবহৃত সকল মালামাল মানসম্মত দেখেছি। তবে আমার ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে এটা ভেবেই অনেক ভালো লাগছে।
ধান,হলুদ,মরিচ,পেঁয়াজসহ বহু কৃষিজাত পণ্যের সমাহার ধাপেরহাট ও ইদিলপুর এলাকায়। উর্বর মাটিতে যেন সোনা ফলে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নীতকরণের ফলে এখানকার কৃষি একধাপ এগিয়ে যাবে এমনটাই দাবি সচেতন মহলের।
রাস্তা নির্মাণ নিয়ে কথা হয় সাদুল্লাপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মেনাজ এর সাথে তিনি জানান, ইদিলপুরে আমাদের ২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। রাস্তায় প্রতিটা লেয়ারে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ভালোভাবে করা হয়েছে। আমাদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট সকলে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
রাস্তা উন্নয়ন মানেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তবে কাজের মান ভালো হলেই স্থায়িত্ব ভালো হবে। ভালো কাজে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এমনটা প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। ছবি: সংগৃহীত
ঝালকাঠির নলছিটিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার( ৩ নভেম্বর) সকাল এগারোটায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি- ২ আসনের সাংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ,নলছিটি পাবলিক লাইব্রেরি এন্ড সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বাহার,নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান হেলাল খান,ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ নলছিটি উপজেলার সভাপতি মাওলানা শাহজালাল হোসাইন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তৌহিদুল আলম মান্না, সদস্য সচিব সাইদুল কবির রানা প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাজমুল হায়দার বাদল। এসময় উপজেলার ১০৭ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং নাশকতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে থেকে ময়মনসিংহের ভালুকায় দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা ও পৌর যুবদল।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় নেতাকর্মীদের সড়কের পাশে অবস্থান নিতে এবং বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুল কবির মো. মামুন, সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম খান রাজু, ভালুকা উপজেলা যুবদলের সভাপতি তারেক উল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান খান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক তাজমুল হক মন্ডল এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টন। এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে অংশ নিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। তবে শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে কোনো পক্ষ যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে দেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বক্তারা বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক রয়েছেন। যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও নৈরাজ্য মোকাবিলায় তারা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থানে থাকা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মোতায়েনকৃত সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ি এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি আশুলিয়া, মিরপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর লাইভ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সংযোগস্থল ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের ব্যবহৃত বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যা দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল এবং শিল্পাঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।