গাইবান্ধায় স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ঘাঘট নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছেন নিয়ন হুদা (৪০) নামের এক যুবক। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কাজলঢোপ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিখোঁজ নিয়ন হুদা গাইবান্ধা শহরের পশ্চিমপাড়া এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
স্বজন সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজার ছুটি কাটাতে সম্প্রতি বাড়িতে আসেন নিয়ন। বুধবার তিনি সদর উপজেলার কাজলডোপ এলাকায় তাঁর বড় ভায়রা মাকসুদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যান। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে চারজন একসঙ্গে বাড়ির পাশে ঘাঘট নদীতে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে অন্য তিনজন নদী থেকে তীরে উঠে এলেও পানির তোড়ে বা স্রোতে নিখোঁজ হন নিয়ন। এর পর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে গাইবান্ধা সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে নদী থেকে নিয়নকে উদ্ধারের জন্য রংপুরের ডুবুরি দলের সহায়তা চাওয়া হয়।
গাইবান্ধা সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রিফাত আল মামুন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয়ভাবে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি রংপুরের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে পৌঁছালেই নদীতে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হবে।
এদিকে ছুটির দিনে বেড়াতে এসে এভাবে নদীতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নিয়নের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয়জনকে দ্রুত ফিরে পাওয়ার আশায় নদীর তীরে অপেক্ষা করছেন তাঁর স্বজনেরা।
নাটোরের লালপুরের ভেল্লাবাড়ীয়া হযরত বাগুদেওয়ান (রহ.) মাজার ও মসজিদে চুরির ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে দুর্বৃত্তরা মাজারের সিন্দুক ও মসজিদের দানবাক্স ভেঙে টাকা নিয়ে যায়। এ সময় প্রায় তিন ফুট লম্বা একটি স্টিলের বাক্সও নিয়ে যায় তারা।
চুরি হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জানান, সিন্দুকে প্রায় তিন বছরের টাকা জমা ছিল। তিন থেকে চার মাস পরপর সিন্দুক খোলা হলে প্রতিবার ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়।
মাজার কমিটির সভাপতি ও লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, মাজারে চুরির ঘটনা ঘটেছে। মসজিদের দানবাক্স প্রতি শুক্রবার খোলা হয়। এ ছাড়া চুরি হওয়া সিন্দুকটি পুরোনো ছিল এবং একটি পুরোনো বাক্সে কাগজপত্র রাখা ছিল। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গেছে। মামলা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালপুরে আদর্শ সন্তান গঠনে পিতা-মাতার ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর জেনাস তা'লিমুল কোরআন মাদরাসায় হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং হাফেজ সোয়াইফ আহমেদ ইউসুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামিক আলোচক ও সমাজ সেবক মাওলানা মোঃ আকবর আলী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিলমাড়ীয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও ইসলামি বক্তা হাফেজ মো. সুলতান মাহমুদ সাইফী, মোহরকয়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শাহিন ইসলাম টিপু, জোতগৌরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুল কাদের। বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল হালিম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কোমলমতি শিশুদের সহিহ দ্বীন ও পবিত্র কোরআন শিক্ষায় শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে জেনাসের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সমাজের কর্ণধার। তাই শৈশব থেকেই শিশুদের ইসলামি শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। এতে তারা ভবিষ্যতে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
বক্তারা আরও বলেন, সন্তানদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পিতা-মাতার সচেতনতা, সঠিক দিকনির্দেশনা ও নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। পারিবারিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমন্বয়ে শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শরীয়তপুর ট্রাফিক পুলিশ বক্স সামনে গাড়িচালকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে শরীয়তপুর জেলা নিরাপদ সড়ক কমিটি।
আজ ২২ অক্টোবর ২০২৬ নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গাড়িচালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর জেলা নিরাপদ সড়ক কমিটির সভাপতি এডভোকেট মাসুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মিজানুর রহমান মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক কাওছার হোসেন, কোষাধ্যক্ষসহ আসাদ খান সহ সংগঠনের একাধিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা চালকদের হাতে সচেতনতামূলক লিফলেট তুলে দেন এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা জরুরি। ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং অসতর্কভাবে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
তাঁরা আরও বলেন, একটি দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয় না, বরং একটি পরিবারকে চিরদিনের জন্য বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। তাই নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হোক- এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে পঞ্চগড়ে ‘ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বাধীনতা তরুণ যুব সংগঠন, জগদলের আয়োজনে এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির ১ নম্বর সদস্য সচিব পদমর্যাদার নেতা মো. শামসুজ্জামান বিপ্লব। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামীম ইসলাম।
এতে সভাপতিত্ব করেন ১ নম্বর অমরখানা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মো. জয়নাল আবেদিন। এ সময় স্বাধীনতা তরুণ যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা এবং যুবসমাজের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
তারা টুর্নামেন্ট সফল করতে সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দ, খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
ছবি : সংগৃহীত
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি চলছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল। এ তথ্য নিশ্চিত করেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব।
তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি চলছে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। তাঁরা আজ সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে ফিরছিলেন। তবে আঞ্চলিক দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধে কারণে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁরা উজোবাজার এলাকায় আটকা পড়েন।
অবরোধকারীরা উজোবাজার এলাকায় অবস্থান করায় পর্যটকেরা সেখান থেকে সরতে পারছিলেন না। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা সরে যান। এরপর বেলা ১১টার দিকে পর্যটকের গাড়িবহর উজোবাজার এলাকা ছাড়ে। এ ঘটনার পরই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানায় পুলিশ।
গতকাল বুধবার সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামের দুটি সংগঠন। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি জানায়, আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলবে। তাই গতকালকের মধ্যে সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে আসার অনুরোধ করা হয়।
আঞ্চলিক দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের পর নিরাপত্তার কারণ উল্লেখ করে সাজেক বন্ধের ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন। গতকাল সন্ধ্যায় এক গণবিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আজ বিকেল চারটার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের এ নির্দেশনা মেনে আজ সকালে সাজেক ছাড়ছিলেন পর্যটকেরা। তবে সাজেক থেকে বের হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই বাঘাইছড়ির উজোবাজারে অবরোধকারীদের সামনে পড়েন তাঁরা।
সাজেকে পর্যটকবাহী যানবাহনের লাইনম্যান মো. ইয়াসিন বলেন, অন্যদিন সাজেক থেকে পর্যটকবাহী যান সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু অবরোধের কারণে আজ ছেড়েছে সকাল ৯টায়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যদের পাহারায় প্রায় দুই হাজার পর্যটক সাজেক ছেড়েছেন।
এর আগে ১৫ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। ১১ অক্টোবর একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
অবরোধ ও পর্যটন বন্ধের ঘোষণায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, অবরোধের কারণে পর্যটকদের সাজেক ছাড়তে হচ্ছে। অনেকে রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন পর্যটকেরা। সাজেকে সড়ক অবরোধ হলে শুধু পর্যটক বা ব্যবসায়ীরা নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
ময়মনসিংহের ভালুকায় অসুস্থ হওয়ার পর ছুটি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ওই কারখানার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক শ্রমিককে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকের নাম তাসমিনা আক্তার (৩১)। তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশবাড়ি এলাকার ফজলুল রহমানের মেয়ে।
কারখানার সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে কাজে যোগ দেন তাসমিনা। পরে কারখানার ফিনিশিং বিভাগের সাত নম্বর ফ্লোরে কাজ করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহকর্মীদের অভিযোগ, অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছুটির আবেদন করলেও তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়নি।
পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কারখানার নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে সেখানে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাসমিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন সড়কে প্রতিবাদ জানান।
এ সময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি এবং কর্মস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
ময়মনসিংহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৫-এর সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফিরোজ রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অসুস্থ হওয়ার পরও তাসমিনাকে ছুটি না দেওয়ার অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভালুকা শিল্পাঞ্চল পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আনছার উদ্দিন জানান, তাসমিনা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বুধবার সকাল আটটার দিকে শারীরিক সমস্যা নিয়ে তিনি কারখানার মেডিকেল সেন্টারে যান। সেখানকার চিকিৎসক ডা. জ্যোতি শুভ পাল তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং শ্বাসকষ্ট দূর করতে অক্সিজেন সাপোর্ট দেন।
এসপি মোহাম্মদ আনছার উদ্দিন আরও জানান, ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর তাসমিনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কারখানার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এ সময় একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও একজন নার্সসহ মোট তিনজন চিকিৎসাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে একই অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গে তাকে সেখানে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, ছুটি না দেওয়ার অভিযোগ ও চিকিৎসা দিতে বিলম্বের অভিযোগের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।