হিমেল ফটোগ্রাফি ক্রিকেট লীগ (HPCL) সিজন-৬-এর প্লেয়ার নিলাম
জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হিমেল ফটোগ্রাফি ক্রিকেট লীগ (HPCL) সিজন-৬-এর প্লেয়ার নিলাম। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় ময়মনসিংহ নগরীর সিলভার ক্যাসেলে উৎসবমুখর পরিবেশে এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
নিলামে অংশ নেয় ছয়টি দল- The Renegades, Team Jomidar, Red Lables, Old Warriors, Sky Kings ও Shuttle Strikers। প্রতিটি দলের জন্য রাখা হয়েছে একজন করে আইকনিক খেলোয়াড়। এ ছাড়া নিলামে তোলা হয় মোট ৬০ জন খেলোয়াড়কে। পছন্দের খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে নিলামে অংশ নেয় দলগুলোর প্রতিনিধিরা।
আগামী ২৭ ও ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে হিমেল ফটোগ্রাফি ক্রিকেট লীগের ষষ্ঠ আসরের খেলা। নিলামকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। পছন্দের খেলোয়াড়দের নিয়ে শক্তিশালী দল গঠন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট আসরের প্রত্যাশায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলভার ক্যাসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারহান বেগ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হিমেল মল্লিক।
আয়োজনের স্পনসর প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- Silver Castle Resort, Photo Focus - The Camera City, 3S Softech Ltd., Universal Hospital, Masud Khan Beauty Zone, চাষী ফিড, Halal Steps, M/S Ashfaque Enterprise, B3 Global, Mymensingh Travellers, ACE – A Center for Education, Nawabiana, Tailormen এবং JomiderBari Events।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের আসর খেলোয়াড় ও ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে এবং ময়মনসিংহের ক্রীড়াঙ্গনে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান
গাইবান্ধা সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের হাট দাড়িয়াপুর এলাকায় হাট বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে জমে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে। উক্ত আয়োজনে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গ্রাম পুলিশ, শিক্ষার্থী ও স্কাউটস সদস্যসহ স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক, উপজেলা কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম, সহকারী কমিশনার(ভূমি) নাজমুস শাহাদাত ফাহিম, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মারজান সরকার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পিটন, ঘাগোয়া ইউপি চেয়ারম্যান(ভারপ্রাপ্ত) শফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তারা উপস্থিত জনতা ও পথচারীদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফল করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও বসবাসের স্থানগুলো যেন সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখা হয় সে বিষয়ে আহবান করা হয়।
মির্জা ফয়সল আমিন
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও এক আসনের ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি বলেন বিরোধী দলকে ভোট দিলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে তাই আপনারা সবাই ধানের শীষে ভোট দিবেন।
আজ শনিবার (১৭অক্টোবর) রায়পুর ইউনিয়নের মৌলানি-চুনিহারি বাজার সংলগ্ন এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফয়সল বলেন বিরোধী দলকে সরকার বেশি উন্নয়নমূলক কাজ দিতে চায় না। কারণ তারা সরকারকে সব সময় গালিগালাজ করে। সরকারের বিপক্ষে লেগে থাকে। তাই এই এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আপনারা সবাই ধানের শীষে ভোট দিবেন। এ সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র ছয় মাস হয়েছে এই ছয় মাসেই ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় দিনাজপুরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। তিনি আরোও বলেন ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, একটি ইপিজেড একটি একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু সহ অনেক অনেক বড় বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। রাস্তাঘাট ও মসজিদ মন্দিরে অনেক অনদান দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্প গুলো কাজ শেষ করতে পারলে ঠাকুরগাঁয়ের হাজার হাজার বেকার লোকদের কর্মসংস্থান হবে তাই না? তাই এই এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আপনারা সবাই ধানের শীষে ভোট দিবেন তো? একথা বলেন তিনি।
প্রচারণায় মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, সরকারি দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন। তাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠানো হলে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে। বিরোধী দল নির্বাচিত হলে উন্নয়নকাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে।
এসময় তিনি এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশার কথা শোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের প্রচারণা চলছে। ভোটারদের সমর্থন আদায়ে প্রার্থীরা নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। প্রচারণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনি কার্যক্রমও গতি পাচ্ছে।
দিনাজপুরে বিজিবি মোতায়েন
ধুকুরঝাড়ী সার্বজনীন দুর্গামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন রংপুর রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত রিজিয়ন কমান্ডার ও দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার। শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর অংশ হিসেবে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর দায়ীত্বপূর্ণ এলাকায় মোট ৮৬টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) রংপুর রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত রিজিয়ন কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান, বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি এবং দিনাজপুর সেক্টর সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার ধুকুরঝাড়ী সার্বজনীন দুর্গামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন, রংপুরের আওতাধীন এলাকায় সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৭৩১টি এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১৬৪টিসহ মোট ৮৯৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১৩৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর সেক্টরের আওতাধীন এলাকায় রয়েছে মোট ২১০টি পূজামণ্ডপ। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়ীত্ব পালন করছেন ৩১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য।
অন্যদিকে, দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর দায়ীত্বপূর্ণ দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার ৯৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় দিনাজপুর শহর এলাকার ২২টি, দিনাজপুর জেলার সীমান্ত এলাকার ২৩টি এবং ঠাকুরগাঁও জেলার সীমান্ত এলাকার ৪১টিসহ মোট ৮৬টি পূজামণ্ডপে ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রংপুর রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত রিজিয়ন কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা, জনগণের সহযোগীতা ও গণমাধ্যমের দায়ীত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার মাধ্যমে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করে তোলা সম্ভব। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।
বিজিবির সদস্যরা ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়ীত্ব পালন করবেন।
পরিদর্শনকালে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান, সহকারী পরিচালক মোঃ মাহফুজুর রহমান, পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি সুধীর চন্দ্র, সম্পাদক পঞ্চম রায়, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আগুনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কান্নায় ভেঙে পড়া এক নারীকে বলতে শোনা যায় ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও।’
ওই নারী পর্যটক পূজার বন্ধে তার পরিবার নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে এসেছেন। তিনি এক সাংবাদিকের বোন বলে জানা গেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সাইফকে বারবার ডাকছেন এবং বলছেন, ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও।’
তবে সাইফ সম্পর্কে তার কে, বেঁচে আছেন কিনা তা জানা যায়নি।
আগুনে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ৬ জন। হতাহতদের উদ্ধারে কাজ চলছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আকতার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে সাতটি লাশ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, ওই রিসোর্টে মোট ১৭ পর্যটক ছিলেন। নিহত ব্যক্তিরা পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ‘অনেকে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতজন পর্যটক মারা গেছেন, তা জানতে একটু সময় লাগবে।’
এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ৮টা থেকে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টটিতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ কাজ করেছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। আগুনের সূত্রপাত, ক্ষতির পরিমাণ এবং রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
বিশাল আকৃতির বাগাড় মাছ
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে এক জেলের জালে ৯০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির একটি বাগাড় মাছ ধরা পড়েছে। পরে এক মাছ ব্যবসায়ী মাছটি কিনে নিয়ে দেড় হাজার টাকা কেজি দরে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
গতকাল শুক্রবার উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের পুটিমারী এলাকার নদে জেলে নরেন্দ্র নাথের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি বাজারে তুললে তা দেখতে উৎসুক লোকজন ভিড় করেন। আজ শনিবার মাছটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পড়লে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তালিকা অনুযায়ী, বাগাড় একটি মহাবিপন্ন প্রাণী। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, এই মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন না থাকায় প্রকাশ্যে বাগাড় শিকার ও বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার চিলমারীর পুটিমারী এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদে জাল ফেলেন জেলে নরেন্দ্র নাথ। সকালে তাঁর জালে ৯০ কেজি ওজনের বাগাড় মাছটি ধরা পড়ে। এরপর থানাহাট বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সাজু মিয়া মাছটি ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনে নেন। সন্ধ্যায় চিলমারীর পাম্পমোড় এলাকায় মাছটি কেটে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করা হয় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়।
মাছ ব্যবসায়ী সাজু মিয়া বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমে যাওয়ায় এখন জেলেদের জালে বাগাড়, পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। বাজারে এসব মাছের বাজারে চাহিদা ব্যাপক। বড় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, আমলাসহ রাজনৈতিক নেতারা অগ্রিম অর্ডার দিয়ে এসব মাছ কেনেন। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মাছ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে।
চিলমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. এমদাদুল হক বলেন, বড় বাগাড় মাছ ধরা পড়ার খবর তিনি শুনেছেন। ব্রহ্মপুত্রে দেশি বড় মাছের প্রজনন ও বংশ বিস্তার নিশ্চিত করতে মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
আগুনে পুড়ে গেছে টুপটুপ রিসোর্ট
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আকতার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আগুনে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ৬ জন। হতাহতদের উদ্ধারে কাজ চলছে।
এদিকে আগুনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক নারীকে কান্নার সুরে বলতে শোনা যায় ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও।’
জানা গেছে, ওই নারী পর্যটক পূজার বন্ধে তার পরিবার নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে এসেছেন। তিনি এক সাংবাদিকের বোন বলে জানা গেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সাইফকে বারবার ডাকছেন এবং বলছেন, ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও।’ তবে সাইফ সম্পর্কে তার কে, বেঁচে আছেন কিনা তা জানা যায়নি।
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে সাতটি লাশ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, ওই রিসোর্টে মোট ১৭ পর্যটক ছিলেন। নিহত ব্যক্তিরা পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ‘অনেকে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতজন পর্যটক মারা গেছেন, তা জানতে একটু সময় লাগবে।’
এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ৮টা থেকে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টটিতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ কাজ করেছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। আগুনের সূত্রপাত, ক্ষতির পরিমাণ এবং রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।