ইজে ও স্যাম কিম
নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিনেমা ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন কোরীয়-মার্কিন গায়িকা ও গীতিকার ইজে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ কম নয়। এবার বিয়ে করলেন তিনি। তাঁর বর সংগীত প্রযোজক ও গীতিকার স্যাম কিম। শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়। গত সোমবার ‘ভোগ’ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানা গেছে। বিয়ের পর তাঁর স্বামী স্যাম কিমের সঙ্গে প্রেমের গল্প এখন আলোচনায়। সংগীতের সূত্রেই পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম– দুজনের সম্পর্কের শুরু ২০১৭ সালে।
ইজের আসল নাম কিম উন-জে। স্যাম কিম একসময় সংগীত প্রযোজক হিসেবে কাজ করতেন। পরে পেশা বদলে যুক্ত হন কোডিংয়ের কাজে। ২০১৭ সালে একটি গানের লেখার সেশনে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্কে জড়ান তারা।
২০২৩ সালের অক্টোবরে বাগদান হয় তাদের। তবে সম্পর্কের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো এতদিন অনেকটাই আড়ালে রেখেছিল এই জুটি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইনস্টাগ্রামে কিছু ছবি প্রকাশের মাধ্যমে বাগদানের খবর জানান ইজে। ইজে ও স্যাম শুধু প্রেমিক-প্রেমিকাই নন; সংগীতের কাজেও একে অপরের সহযোগী।
ইজের প্রথম জনপ্রিয় গান ‘সাইকো’, যেটি কে-পপ গার্ল গ্রুপ রেড ভেলভেট-এর থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গান ‘ইন অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ পর্যন্ত তাঁর সংগীতযাত্রায় স্যামের অবদান রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভালচারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইজে তাদের পরিচয়ের কথা বলেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘সে মূলত আমার গানের লেখার সঙ্গী ছিল। ২০১৭ সালে একটি সেশনে আমাদের পরিচয় হয়। আমরা সত্যিই একসঙ্গে বড় হয়েছি।’ ইজে জানিয়েছেন, মঞ্চে ওঠার আগে ভয় ও উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতেও স্যাম তাঁকে সহায়তা করেন। ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গান ‘হোয়াট ইট সাউন্ডস লাইক’-এর কণ্ঠের বিন্যাসও রেকর্ড করা হয়েছিল ব্রুকলিনে ইজের অ্যাপার্টমেন্টে। সেখানে স্যামও কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
এর আগে ফোর্বসকে ইজে বলেছিলেন, ‘আমি সব সময় গাড়িতে নিজের গান চালাই। গাড়ির স্পিকারে কেমন শোনায়, তা পরীক্ষা করার জন্য ডেমো তৈরি করি। স্যাম সব সময় আমাকে মতামত দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গীতিকার হিসেবে আমি যা করি, এটি তারই প্রতিফলন। আমরা একসঙ্গে গান শুনি, উপভোগ করি। বাস্তবেও আমরা ঠিক এভাবেই সময় কাটাই।’
‘কেন এই নিঃসঙ্গতা, কেন এই মৌনতা, আমাকে ঘিরে...’– এই লাইনগুলো আজও উচ্চারিত হয় শ্রোতাদের মুখে। সৃষ্টির ৩২ বছর পরও এই গানের আবেদন এতটুকু কমেনি। সে কারণে ‘নিঃসঙ্গতা’ গানটি আনপ্লাগড সংগীতায়োজন রেকর্ড করেছেন সোলস সদস্যরা। একযোগে প্রকাশ করছেন শিল্পী পার্থ বড়ুয়া ও ব্যান্ডের ইউটিউব চ্যানেলে। সোলস সদস্যদের কথায়, মাত্র এক দিনের নোটিশে বিটিভির জন্য যে গানটি তৈরি হয়েছিল, সেই ‘নিঃসঙ্গতা’ সংগীতাঙ্গনে এতটা আলোড়ন সৃষ্টি করবে; যুগের পর যুগ অনুরণন তুলে যাবে শ্রোতামনে, তা কল্পনাও করেননি তারা। আর এই গানের প্রতি যতটা ভালো লাগা শ্রোতাদের, ততটাই সৃষ্টির আনন্দ মিশে আছে তাদের মনে। সে কারণে আনপ্লাগড ভার্সনে গানটি রেকর্ড করে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যা অনেকের ভালো লাগবে বলে তাদের বিশ্বাস।
কালজয়ী এই গানের সৃষ্টি নিয়ে সোলসের লিড গিটারিস্ট ও কণ্ঠশিল্পী পার্থ বড়ুয়া বলেন, ‘নিঃসঙ্গতা’ গানের জন্ম অনেকটা গল্পের মতো মনে হয়। সেই ১৯৯৪ সালের কথা। তপন চৌধুরী সোলস ছাড়ার পর অ্যালবাম প্রকাশনাও থেমে গেছে। সেই সময়ে হঠাৎ একদিন বিটিভিতে সোলসের ডাক পড়ে নতুন একটি গান করার জন্য। তখন বিটিভি ছাড়া অন্য কোনো টিভি চ্যানেল ছিল না। যে জন্য সেখানে পারফর্ম করতে পারা যে কোনো শিল্পী ও ব্যান্ডের জন্য ছিল বাড়তি পাওয়া। আমরাও তাই এক দিনের নোটিশে গান তৈরিতে উঠেপড়ে লেগেছিলাম। গীতিকার কবির বকুলের কাছ থেকে গীতিকথা লিখিয়ে নিয়ে এক রাতেই শেষ করে ফেলেছি গানের সুর ও সংগীতায়োজন। পরদিনই বিটিভিতে গিয়ে গানটি রেকর্ড করেছি। এরপর ‘নিঃসঙ্গতা’ বিটিভিতে প্রচারের পর যা হয়েছে, তা আজ এক ইতিহাস।
সম্প্রতি সোলস সদস্যরা ব্যান্ডের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে কানাডা সফর করে এসেছেন। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে কানাডা সফরে যায় দেশের সবচেয়ে পুরোনো এই ব্যান্ড। এই সফরের প্রথম কনসার্ট ছিল সাসকাচুয়ানে। প্রথম আয়োজনে সোলসের পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের দারুণ সাড়া ফেলেছিল। যে কারণে বাড়াতে হয়েছে তাদের কনসার্ট সংখ্যা। সাসকাচুয়ানের পর একে একে কানাডার ক্যালাগেরি, হ্যালিফ্যাক্স ও এডমন্টনে অনুষ্ঠিত কনসার্টে অংশ নিয়েছে অসংখ্য কালজয়ী গানের এই ব্যান্ড। কানাডায় ধারাবাহিকতায় আয়োজনের সমাপ্তি টানে স্কারবোরোয়। সোলসের কণ্ঠশিল্পী পার্থ বড়ুয়ার কথায়, উত্তর আমেরিকার বৃহৎ এই দেশটিতে আগেও কনসার্ট করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এবারের এই কনসার্ট সফর ব্যান্ডের সবার জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা ও ভালো লাগার। কারণ একটাই, ধারাবাহিক কনসার্টের মধ্য দিয়ে ব্যান্ডের ৫০ দশক পূর্তি উদযাপন করতে পারা। আশার কথা হলো, প্রতিটি কনসার্টে দর্শক সমাগম ও তাদের আনন্দ উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো, যা দীর্ঘদিন আমাদের মনে অনুরণন তুলে যাবে।
প্রসঙ্গত, সোলসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। সে বছরই দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও প্রথম সারির ব্যান্ড সোলস গানের ভুবনে পথচলার ৫০ বছর পূর্ণ করে। দেশের একমাত্র ব্যান্ড হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারা নিয়ে সোলস সদস্যরা নানা আয়োজন শুরু করেন, যা কয়েকটি ধাপে চলমান।
জেলার ২ সিনেমার পোস্টার।
গোটা দেশজুড়ে রজনীকান্তের অগণিত ভক্ত। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে তো তিনি ‘থালাইভা’। আর সেই ভক্তকুলের মধ্যে অন্যতম সাঞ্জু স্যামসন। আর সেটা এমন পর্যায়ে যে রজনীর নতুন সিনেমা ‘জেলার ২’ দেখার জন্য একাই হলের সব টিকিট কিনে নিলেন এই তারকা ক্রিকেটার। আগেই সিনেমাটা দেখার ইচ্ছা ছিল। সেটা হয়নি বলে এবার ঝুঁকি নেননি বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার।
সাঞ্জু যে রজনীকান্তের ভক্ত, সেটা আর নতুন করে বলার নয়। এর আগেও তিনি বহুবার সে কথা স্বীকার করেছেন। তবে ভারতে তারকা ক্রিকেটারদের সর্বসমক্ষে বের হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা আছে। তাই বলে কি প্রিয় হিরোর সিনেমা বড় পর্দায় দেখার সুযোগ হাতছাড়া করা যায়?
সাঞ্জু বলেন, ‘রজনী স্যারের সিনেমা দেখতে আমার দারুণ লাগে। আমি সবসময় তার সিনেমা দেখার জন্য মুখিয়ে থাকি। তাই সময় পেলেই তার সিনেমা দেখতে চলে যাই। কালই দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু দিল্লিতে একটু অনুষ্ঠানে আটকে পড়ায় আর যাওয়া হয়নি।’এবার যাতে আর মিস না হয়, তাই গোটা হলই বুক করে নিয়েছেন সাঞ্জু। তিনি বলেন, ‘কপাল ভালো, আজ সুযোগ পেয়েছি। তাই হলের সব টিকিট কেটে নিয়েছি। আমি আমার বন্ধুদের সিনেমা দেখতে নিমন্ত্রণ করেছি। আমার স্ত্রীও থাকবে। রজনী স্যারকে বড় পর্দায় দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।’এখানেই শেষ নয়। এরপর ভারতীয় দল নিউজিল্যান্ডে উড়ে যাবে। তার আগে টিম ইন্ডিয়ার ম্যানেজমেন্টে যারা তামিল জানেন, তাদেরকেও এই সিনেমা দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সাঞ্জু।মেগাস্টার রজনীকান্তের ‘জেলার’ বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল। সেই সময় থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, কবে আসবে ছবির সিকুয়েল? গত ১৫ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। স্বাভাবিক ভাবেই অন্যান্য বারের মতো এখানেও তাকে দেখানো হয়েছে ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ভাবমূর্তিতেই।
মা-বাবা হওয়ার আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন খুশির খবর দিলেন বলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং। দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্মের এক মাস পর এবার তার নাম প্রকাশ করেছেন এই তারকা দম্পতি। নবরাত্রির আবহে এবার ছোট মেয়ের প্রথম ঝলকও অনুরাগীদের সাথে ভাগ করে নিলেন তারা। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি সুন্দর পারিবারিক ছবি শেয়ার করে দীপিকা ও রণবীর মেয়ের নাম জানিয়েছেন দেবী পাড়ুকোন সিং। ছবিতে এই দম্পতির পাশাপাশি দেখা গেছে তাদের বড় মেয়ে দুয়া পাড়ুকোন সিংকেও। নাম প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ভক্ত ও অনুরাগীরা।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্মের খবর যৌথভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন দীপিকা ও রণবীর। সে সময় নবজাতকের পায়ের পাতার একটি ছবি প্রকাশ করেন তারা। ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় লেখা ছিল, ‘স্বাগত ফুটফুটে রাজকন্যা!’ পোস্টের শেষে বড় মেয়ে দুয়া, দীপিকা ও রণবীরের নামও উল্লেখ করা হয়েছিল।সন্তানের জন্মের খবর জানানোর সময়ই ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল নবজাতকের নাম নিয়ে। অবশেষে এক মাস পর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন তারকা দম্পতি।
এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম কন্যাসন্তান দুয়া পাড়ুকোন সিংয়ের জন্ম হয়। আর গত মাসে দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের আগমনের পর এবার ‘দেবী’ নামের মধ্য দিয়ে তাদের পরিবারে যোগ হলো নতুন এক অধ্যায়। দ্বিতীয় সন্তানের আগমন এবং নাম প্রকাশকে ঘিরে আনন্দে ভাসছেন দীপিকা-রণবীরের অনুরাগীরা।
রান্নাবিষয়ক প্রতিযোগিতার মঞ্চে নতুন দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। দীর্ঘদিন ধরে ‘সেরা রাঁধুনী’ অনুষ্ঠানের বিচারকের আসনে দেখা গেছে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাকে। তবে এবার নবম আসরে তাঁর জায়গায় দেখা যাবে জয়াকে।
নিজেই একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে খবরটি জানিয়েছেন জয়া আহসান। বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকলেও রান্নাবিষয়ক কোনো আয়োজনের বিচারক হিসেবে এবারই প্রথম দেখা যাবে তাঁকে।ভিডিও বার্তায় জয়া জানান, ‘সেরা রাঁধুনী’র নবম আসরে বিচারক হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন তিনি। যারা রান্না করতে ভালোবাসেন কিংবা রান্নাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের জন্য এই আয়োজন বিশেষ সুযোগ তৈরি করবে বলেও জানান অভিনেত্রী। তাঁর মতে, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই অনুষ্ঠান বহু রাঁধুনির জীবনে পরিবর্তন আনার সুযোগ তৈরি করেছে।এবারের আসরে জয়া আহসানের সঙ্গে বিচারকের দায়িত্ব পালন করবেন দুই পেশাদার শেফ শুভব্রত মৈত্র ও শাহিদ শাহিন। ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতার নিবন্ধন শুরু হয়েছে। আগ্রহীরা আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর জন্য থাকছে ১৫ লাখ টাকার পুরস্কার।
মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হবে ‘সেরা রাঁধুনী’র নবম আসর। নতুন বিচারক হিসেবে জয়াকে পাওয়ার খবরে অনুষ্ঠানটির দর্শকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে পূর্ণিমাকে ঘিরে সম্প্রতি মা হতে যাওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। গত শুক্রবার একটি রিয়েলিটি শোতে অংশ নেওয়ার পর তাঁর একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই আলোচনা শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি অভিনেত্রী।
বলিউড তারকাদের ঘিরে হামলা ও হুমকির ঘটনায় আবারও আলোচনায় কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। মুম্বাইয়ে অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় হামলার দায় স্বীকারের পাশাপাশি সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে বার্তাটির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
কারাগারে বন্দী থাকা সত্ত্বেও অপরাধজগতের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, বিদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রভাব ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন লরেন্স বিষ্ণোই। পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যা, সালমান খানের বাসভবনের বাইরে গুলি এবং মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও তার নাম উঠে এসেছে।১৯৯৩ সালে ভারতের পাঞ্জাবে জন্ম লরেন্স বিষ্ণোইয়ের। শৈশব কাটে আবোহার এলাকায়। পরে পড়াশোনার জন্য চণ্ডীগড়ে যান। সেখানে ডিএভি কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। এ সময়ই গোল্ডি ব্রারের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাত্ররাজনীতিকে কেন্দ্র করে বিরোধ ও সংঘাতের পর ধীরে ধীরে অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়েন তিনি বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হামলা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পরও অপরাধজগতের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। তাদের দাবি, কারাগারের বাইরে থাকা সহযোগীদের মাধ্যমে চক্রের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
বর্তমানে গুজরাটের আহমেদাবাদের সবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন লরেন্স বিষ্ণোই। তাকে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে বলিউড অভিনেতা সালমান খানের বিরোধের সূত্র ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা। রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে সালমানের বিরুদ্ধে।
বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে ক্ষোভ তৈরি হয়। ২০১৮ সালে এ মামলায় সালমান খানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
একই বছর সালমানকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা সামনে আসে। পরবর্তী সময়েও অভিনেতার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে।
২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের বাইরে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি গুলি চালান। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে বিষ্ণোই চক্রের যোগসূত্রের কথা উঠে আসে। এরপর থেকে সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে।
২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডের পর বড় পরিসরে আলোচনায় আসে বিষ্ণোই চক্রের নাম। বিদেশে অবস্থানরত গোল্ডি ব্রার ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলোও এ ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগীদের অভিযুক্ত করে।
এরপর ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে খুন হন মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকি। সালমান খানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় সালমানকে সহায়তাকারীদের হুমকি দেওয়া হয়। এতে অভিনেতাকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।
২০২৫ সালে কানাডার সারেতে কৌতুকাভিনেতা কপিল শর্মার ক্যাফেতে একাধিকবার গুলি চালানোর ঘটনাও আলোচনায় আসে। একটি হামলার দায় স্বীকার করে ছড়ানো বার্তায় সালমানের সঙ্গে কপিলের সম্পর্কের প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালক রোহিত শেঠির মুম্বাইয়ের জুহুর বাড়িতে গুলির ঘটনার পরও বিষ্ণোইয়ের সহযোগী পরিচয়ে দায় স্বীকারের বার্তা সামনে আসে। এসব ঘটনার সঙ্গে চক্রটির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রতিটি ক্ষেত্রেই তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করা জরুরি।
কারাগারে বন্দী থেকেও অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার অভিযোগ লরেন্স বিষ্ণোইকে নিয়ে আলোচনার অন্যতম বিষয়। তদন্তকারীদের দাবি, তার সহযোগীরা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং দেশের বাইরে অবস্থান করেও চক্রের কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
সিএনএনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কারাগার থেকে যোগাযোগ, বিদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের ভূমিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে বিষ্ণোই চক্রের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চক্রের সদস্যদের মধ্যে তথ্য সীমিত রাখার কৌশল অনুসরণ করা হয়। এতে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষে অপরাধের পরিকল্পনা, নির্দেশদাতা এবং মাঠপর্যায়ে হামলাকারীদের মধ্যে যোগসূত্র প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে চক্রটির প্রতিটি অপরাধে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সরাসরি নির্দেশ বা অংশগ্রহণ ছিল এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
তারকাদের লক্ষ্য করে হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায় স্বীকারের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্লেষকদের নজরে রয়েছে। এ ধরনের বার্তা হামলার শিকার ব্যক্তি ও তার ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে অপরাধী চক্রের পরিচিতি, প্রভাব এবং ভীতিকর ভাবমূর্তি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচার হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
তবে কোনো গোষ্ঠীর নামে বার্তা ছড়িয়ে পড়লেই সেই গোষ্ঠী হামলার সঙ্গে জড়িত এমনটি ধরে নেওয়া যায় না। বার্তার উৎস, সত্যতা, হামলাকারীদের পরিচয় এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই করা জরুরি।
টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়িয়ে পড়া বার্তার সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সরাসরি যোগসূত্র তদন্তে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।