ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৬:৩৬ এএম

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়া সেই হাই-প্রোফাইল ‘ভাড়ায় খুনের’ মামলায় ভারতীয় নাগরিক নিখিল গুপ্ত গত শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষ স্বীকার করেছেন।


৫৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি যখন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খালিস্তানি আন্দোলনের নেতা মার্কিন নাগরিক গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে নিজের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন, তখন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার এক বিরল ও অকপট চিত্র সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ভারত সরকারের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার যোগসূত্র ছিল।


১৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারক সারাহ নেটবার্নের সভাপতিত্বে এই শুনানিতে সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি কামিল ফ্লেচার, আলেকজান্ডার লি, অ্যাশলে নিকোলাস এবং নিখিল গুপ্তের আইনজীবী ডেভিড টুজারসহ একটি বড় আইনি দল উপস্থিত ছিল।


গুপ্ত মূলত ইংরেজিতেই কথা বলছিলেন। তবুও আইনি বিষয়ের সূক্ষ্ম দিকগুলো যাতে তিনি সঠিকভাবে বুঝতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে উমেশ সি পাসি এবং মধু মিশ্র নামে দুজন হিন্দি দোভাষীকে সেখানে শপথ পাঠ করানো হয়েছিল। শুনানির সময় নিখিল গুপ্ত বলেন, বন্দী থাকাকালে তাঁর ইংরেজি বেশ উন্নত হয়েছে। তবে তাঁর প্রবেশন ইন্টারভিউয়ের সময় তিনি তাঁর আইনজীবীর উপস্থিতি চেয়েছেন।


দোষ স্বীকার করার আগে বিচারক নেটবার্ন একটি পদ্ধতিগত বিষয় পরিষ্কার করেন। সেই অনুযায়ী নিখিল গুপ্ত ডিস্ট্রিক্ট জজের পরিবর্তে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁর দোষ স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। মার্কিন ফেডারেল সিস্টেমে এটি একটি সাধারণ নিয়ম, যেখানে আসামি প্রক্রিয়াটি দ্রুত করতে ডিস্ট্রিক্ট জজের পরিবর্তে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে প্রাথমিক দোষ স্বীকার করেন।


অবশ্য, চূড়ান্ত সাজার রায় ডিস্ট্রিক্ট জজই দেবেন।


নিখিল গুপ্ত নিশ্চিত করেন, তিনি এই অধিকারের বিষয়টি বোঝেন এবং তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এরপর বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান- ভাড়ায় খুনের ষড়যন্ত্র, ভাড়ায় খুনের মূল কাজ এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র।


নিজের ভাষায় স্বীকারোক্তি


যখন নিজের দোষ স্বীকারের সপক্ষে বর্ণনা দেওয়ার সময় আসে, তখন আদালত নিখিলকে নিজের ভাষায় সব বলতে বলেন। আদালতের ট্রান্সক্রিপ্ট থেকে প্রাপ্ত কথোপকথনটি হুবহু নিচে দেওয়া হলো-


আসামি: ২০২৩ সালের বসন্তকালে আমি অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক ব্যক্তিকে হত্যার পরিকল্পনা করতে রাজি হয়েছিলাম। সেই অপরাধকে এগিয়ে নিতে আমি সেলফোন বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অন্য একজনকে ১৫ হাজার ডলার নগদ অর্থ পাঠিয়েছিলাম।


নিখিল গুপ্ত এরপর পরিষ্কার করেন, অর্থ দেওয়ার সময় তিনি ভারতে থাকলেও জানতেন, অর্থ গ্রহণকারী এবং যাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, দুজনই নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে ‘কুইন্স’ এলাকার কথা উল্লেখ করেন।


সম্ভাব্য সাজা


শুনানির সময় আদালত জানান, নিখিল গুপ্ত তার আবেদন পরিবর্তন করে দোষ স্বীকার করতে চান—এ কথা তাদের আগেই জানানো হয়েছিল। গুপ্ত নিশ্চিত করেছেন, অভিযোগপত্রটি ইতিমধ্যে তাঁর জন্য অনুবাদ করা হয়েছে। আদালতে আসার আগে তিনি তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে দোষ স্বীকারের ‘ভালো ও মন্দ’ দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।


এই অপরাধ প্রমাণিত হলে নিখিল গুপ্তের সর্বোচ্চ ৪০ বছরের সাজা হতে পারে। ভাড়ায় খুনের দুটি অভিযোগে ১০ বছর করে এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের জন্য ২০ বছর। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ‘পিমেন্টেল লেটার’ (সাজার সম্ভাব্য হিসাব–সংবলিত আনুষ্ঠানিক চিঠি) অনুযায়ী, তাঁর সাজা ২৩৫ থেকে ২৯৩ মাস (প্রায় ১৯ বছর ৫ মাস থেকে ২৩ বছর ৫ মাস) হতে পারে।


এ ছাড়া নিখিলকে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। নিখিল গুপ্ত নিশ্চিত করেছেন, শুনানির আগে তিনি এই চিঠিটি দেখেছেন এবং আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন।


নিখিল গুপ্তের জন্য ২৩৫ থেকে ২৯৩ মাসের এই সাজার সীমাটি মার্কিন ফেডারেল বিচারব্যবস্থায় ব্যবহৃত ‘সেনটেন্সিং গাইডলাইনস’ নামক একটি জটিল গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে।


প্রসিকিউটররা আদালতকে জানান, নিখিল গুপ্তের ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা বা ‘টোটাল অফেন্স লেভেল’ ৩৮-এ পৌঁছেছে, যা তাঁর সাজার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।


আদালত মামলাটির জন্য আগামী ১৫ মে একটি ‘কন্ট্রোল ডেট’ নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে প্রবেশন বিভাগকে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। মার্কিন ফেডারেল আদালতে ‘কন্ট্রোল ডেট’ হলো এমন একটি সময়সীমা, যার মাধ্যমে আদালত নিশ্চিত করেন, প্রবেশন অফিস আসামির জীবনবৃত্তান্ত ও অপরাধের বিস্তারিত বিশ্লেষণ সম্পন্ন করেছে কি না। এটি আগামী ২৯ মে ডিস্ট্রিক্ট জজ ভিক্টর মারেরোর চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার প্রস্তুতির অংশ বলা যেতে পারে।


দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করা নিখিল গুপ্ত চেক প্রজাতন্ত্রে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে ২০২৪ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে তিনি প্রায় তিন বছর ধরে মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন।


মার্কিন ব্যুরো অব প্রিজনসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক নগরের ‘মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার ব্রুকলিন’-এ বন্দী আছেন। সাজা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই থাকবেন।



সর্বশেষ সব খবর

১৩২ বছরের রেকর্ড খরা যুক্তরাষ্ট্রে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৫ পিএম

এবার তীব্র গরমের মধ্যে পুরো গ্রীষ্মকাল কাটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রবাসী। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছিল তাপপ্রবাহ। এতে দেখা দিয়েছে খরা।


যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) গতকাল বুধবার জানিয়েছে, গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এ তাপমাত্রা পুরো ২০ শতকের গড়ের চেয়ে ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি। 


এর আগে ১৯৩৬ ও ২০২১ সালের গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এবারের গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা সেই রেকর্ডের চেয়েও শূন্য দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা শূন্য দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি।


আগস্ট ছিল পশ্চিম ইউরোপেরও সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মের একটি মাস। এবারের গরম সেখানে ২০০৩ সালের প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহকেও ছাড়িয়ে গেছে।


এনওএএ গত ১৩২ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আবহাওয়ার তথ্য সংরক্ষণ করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ সময়ের মধ্যে কোনো গ্রীষ্মকালে এবারের মতো এত বেশি তাপমাত্রা দেখা যায়নি।


যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে গত আগস্ট ছিল সবচেয়ে উষ্ণ মাস। ওই মাসজুড়ে দেশটিতে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।


সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড তাপমাত্রা ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে। এনওএএর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পাঁচটি উষ্ণতম গ্রীষ্মের চারটিই ছিল গত পাঁচ বছরে। 


বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাপমাত্রা বৃদ্ধিও সেই বৃহত্তর প্রবণতার অংশ।


১৯৩৬ সালের রেকর্ড তাপমাত্রার সময়ে গ্রেট প্লেইনস অঞ্চলে তীব্র গরম ও খরার সঙ্গে ক্ষতিকর কৃষিপদ্ধতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল। 


অন্যদিকে, এবারের গ্রীষ্মকালজুড়ে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়া ক্রমেই তীব্রতর হয়েছে।


গত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের প্রায় ৫৯ শতাংশ এলাকা খরার কবলে ছিল। এক মাসের ব্যবধানে দেশটিতে খরাকবলিত এলাকার পরিমাণ ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গ্রেট প্লেইনস, মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।


টেক্সাস ও ওকলাহোমায় গত আগস্টে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০ শতাংশেরও কম বৃষ্টি হয়েছে। তবে সব জায়গায় পরিস্থিতি একই রকমের শুষ্ক ছিল না। ইন্ডিয়ানা ও ওহাইওর মতো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গত আগস্টে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের প্রায় দ্বিগুণ।


যুক্তরাষ্ট্রে তাপপ্রবাহের তীব্রতা এখনই কমছে না। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, এল নিনো পরিস্থিতি আরও সক্রিয় আর শক্তিশালী হচ্ছে। এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর প্রভাব ২০২৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত থাকতে পারে।


ডব্লিউএমওর প্রধান সেলেস্তে সাওলো গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনকার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে, এটি আমাদের পর্যবেক্ষণ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে। অর্থাৎ চার দশক ধরে আমরা যে মাত্রা দিয়ে এটি পরিমাপ করে আসছি, এবার আক্ষরিক অর্থেই সেই মাত্রার বাইরে চলে যেতে পারে।’


এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিস্থিতি। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বেশি বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যে এল নিনো পরিস্থিতি বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ডব্লিউএমও সতর্ক করে বলেছে, এখনকার এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যা দেখা দিতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রে চলতি সেপ্টেম্বরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে এনওএএ। সংস্থাটি আরও জানায়, দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে খরা অব্যাহত থাকতে পারে কিংবা আরও তীব্র হতে পারে।


এনওএএ আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশকিছু অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের দাবানলের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪৮ পিএম

আগামী নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠাতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ‘অবিলম্বে’ ইরান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে আগ্রহী না হলেও আলোচনা ‘হতে পারে’।


সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা কেবল একটি পারমাণবিক অস্ত্র চায়, আর যদি তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকে, তবে পুরো বিশ্ব বিপদে পড়বে। আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে যাচ্ছি... আরও অনেক বিষয় এখন আলোচনার টেবিলে চলে আসবে, যা তিন মাস আগেও টেবিলে থাকত না।


তেহরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, সত্যি বলতে, আমরা এমন কিছু চাইছি না।


তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি; তাদের দেশ বলে এখন খুব সামান্যই বাকি আছে।


হ্যাঁ, একটি আলোচনা হয়ত হতে পারে। আমাদের নির্বাচনের ঠিক পরপরই এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।


ইসরায়েলের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতিগুলোর ওপর সম্প্রতি যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।


সূত্র: আল জাজিরা


সর্বশেষ সব খবর

ভারতের মাটিতে রাশিয়ার সামরিক বিমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩৩ পিএম

ভারতের  নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো তিনটি রুশ সামরিক যুদ্ধবিমান অবতরণ করেছে। 


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) টাইমস নাউ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিমানগুলো বিমানবন্দরে পৌঁছায়, যার মধ্যে একটি আইএল-৭৬ সামরিক পরিবহন বিমান ছিল।


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে রুশ সামরিক কর্মকর্তা ও একটি অগ্রবর্তী দলকে নিয়ে বিমানগুলো ভারতে পৌঁছায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত বিমান তিনটি নয়ডা বিমানবন্দরেই অবস্থান করছিল এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংস্থাগুলো রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সার্বিক ব্যবস্থার ওপর কড়া নজর রাখছে।


নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটিই প্রথম কোনো বিদেশি সামরিক বিমানের অবতরণ। এর আগে ভারতে আগত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও সামরিক বিমানের ক্ষেত্রে মূলত দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহৃত হতো। ফলে প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিমানও নয়ডায় নামতে পারে বলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।


আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে নয়ডা বিমানবন্দরে ভিভিআইপিদের যাতায়াত ঘিরে প্রস্তুতি ও তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।


সূত্র: টাইমস নাউ

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৮ পিএম

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদ বুধবার ভোট দিয়ে ইরানের পারমাণবিক ‘অমান্যতা’র কারণে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ।


ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের যোগদানে, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের একটি সংঘাত শুরু করার পর থেকে আইএইএ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার পায়নি। ওই সংঘাতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলাও চালানো হয়েছিল। সবশেষ যুদ্ধেও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছে। এই যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এবং আইএইএ বারবার সেখানে প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।


প্রস্তাবটির পক্ষে পড়ে ২৩ ভোট আর বিপক্ষে ৩ ভোট। ভোটদানে বিরত থাকে ৮টি দেশ। রাশিয়া, চীন ও নাইজার এর বিপক্ষে ভোট দেয়।


এতে আইএইএ’র মহাপরিচালককে ইরানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘প্রতিবেদন করার’ অনুরোধ জানানো হয়েছে।


ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি ইরানের পারমাণবিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থতার কারণে ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটিকে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর ঘটনা।


এই পদক্ষেপকে মূলত প্রতীকী হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ইরানের মিত্র চীন ও রাশিয়ার তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নিষেধাজ্ঞায় ভেটো দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ইরান এই প্রস্তাবের নিন্দা করেছে এবং বলেছে, এটি কোনো ফলাফল বয়ে আনবে না।


আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রাজনৈতিক চাপের অধীনে পাস হয়েছে এবং আমাদের দৃষ্টিতে এর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি এএফপিকেও বলেন যে প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ বিপরীত ফল বয়ে আনবে।’

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১১ পিএম

আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে ‘ট্রাম্প লভ্যাংশ’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী সম্মেলনে তিনি এই প্রস্তাব দেন। তবে এই অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়া বা এর আইনি ভিত্তি কী হবে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক থাকায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ১ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট স্থায়ী প্রাইমটাইম ভাষণে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের মেয়াদের ‘ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ দুই বছর’ শেষ করার দাবি করেন। তিনি নিজের কমতে থাকা জনপ্রিয়তার মধ্যেও নিজেকে নির্বাচনের কেন্দ্রে স্থাপন করেন।


জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের কারণে অসন্তুষ্ট ভোটারদের আকর্ষণে তার এই প্রচারণামূলক বক্তব্য কতটুকু প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটদের হাতে আমেরিকার ভবিষ্যৎ ছেড়ে দেওয়া হলে দেশকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পরবর্তী এক দশক সময় লেগে যাবে।


সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৩ পিএম

ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কোরনের কাছে সমুদ্রে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ আগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।


এদিকে আগুন লাগার পর এখন পর্যন্ত ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড।


জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় উপকূল থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার (১ দশমিক ৩ মাইল) দূরে এম/ভি জুন অ্যাস্টার ফেরিটিতে আগুন লাগে। আগুনের পর ফেরিটির পুড়ে যাওয়অর দৃশ্য ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করেছে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড।


স্থানীয় সময় ভোর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এমভি জুন অ্যাস্টার নামের ফেরিটিতে মোট ১৩৪ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১৭ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু সদস্য।


ফেরিটি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার বন্দর থেকে ছেড়ে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা কোরনের দিকে যাচ্ছিল। পথে পালাওয়ান প্রদেশের কোরন এলাকার সমুদ্রসীমায় ফেরিটিতে আগুন ধরে যায়।


আজ দেশটির কোস্ট গার্ডের ক্যাপ্টেন নোয়েমি কায়াবিয়াব জানিয়েছেন, ওই জাহাজে যাত্রী এবং ক্রু তালিকায় মোট ১৩৪ জনের নাম ছিল। তাদের মধ্যে ৫ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই ওই ফেরিতে থাকা ৪২ জনকেও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ৮৭ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।


এ ঘটনায় নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার কাজ চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


নোয়েমি কায়াবিয়াব জানিয়েছেন, যাদের উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৪ জন ক্রু এবং ৩৮ জন যাত্রী। তবে তারা এখন কেউই কথা বলার অবস্থায় নেই। সেই কারণেই আগুন লাগার কারণ জানতে এবং যাত্রীরা সবাই কোথায় ছিল, তা জানতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।


জুন অ্যাস্টার নামে ফেরিটি ম্যানিলা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল বলেও জানা গেছে।

সর্বশেষ সব খবর