ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো
বিশ্বে চলমান অস্থিরতা মোকাবিলায় একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চয়তা এবং চীনের আধিপত্য মোকাবিলায় একটি ‘স্বাধীনতা জোট’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয় ও অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
ম্যাক্রো এমন একটি ব্যবস্থার কথা বলেন যা ‘সক্ষম ও ইচ্ছুক দেশগুলোর’ সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে এবং যাকে তিনি ‘স্বাধীনতা জোট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এটি কারও বিরুদ্ধে করছি না; বরং অন্যদের সঙ্গে মিলেই করতে চাই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ম্যাক্রোঁ সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে নিষ্ক্রিয় থাকা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতার ওপর বিশ্ব নির্ভর করেছিল, তা এখন পুরোপুরি নড়বড়ে হয়ে গেছে। আমাদের একটি নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমেরিকান শুল্ক এবং চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতার’ মধ্যে ইউরোপকে তার নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা রক্ষা করতে হবে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের প্রভাবশালী শক্তির (চীন ও যুক্তরাষ্ট্র) অধীনস্থ হয়ে পড়া উচিত নয়। দেশগুলোকে চীনের ‘আধিপত্য’ থেকে নির্ভরতা এড়াতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনিশ্চয়তা’র ঝুঁকি থেকেও দূরে থাকতে হবে।
তার মতে, চীন ভর্তুকি, অতিরিক্ত উৎপাদন এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব বাড়াতে চাইছে, আর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ও বহির্দেশীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে ম্যাক্রো বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষণা ও বিজ্ঞান খাতে সহযোগিতা ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরে আমরা এই সহযোগিতার একটি ভাঙন দেখেছি। কিছু দেশ সহযোগিতা বন্ধ করে দিতে শুরু করেছে। আমাদের কিছু সময়ের জন্য প্রতিযোগিতা থামানো উচিত এবং ভাবতে হবে কীভাবে সঠিক সমঝোতা গড়ে তুলে একসঙ্গে কাজ করা যায়।
তিনি ইউরোপকে একটি ‘অত্যন্ত আকর্ষণীয় মহাদেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা আধুনিকায়ন ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং যেখানে আইন ও নিয়ম মেনে চলা হয়। তিনি আরও জানান, ইউরোপ ‘মেড ইন ইউরোপ’ ধরনের একটি নীতি এগিয়ে নিচ্ছে, যা উত্তর আমেরিকার নীতির মতো।
রাভনীত সিং বিট্টু
ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’
পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত তার ভিডিও দেখার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) মধ্যরাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, তার বক্তব্যে যেভাবে শিক্ষার্থী ও তরুণরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, তাতে তিনি আনন্দিত।
ওই ভিডিওবার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, ধন্যবাদ। গতরাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা আমার ভিডিওটি দেখে যেভাবে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন যেন এভাবেই থাকে, আর আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সক্রিয় হয়ে উঠুক।’
ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ। ‘
কড়া আইন আনার ঘোষণা
এর একদিন আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষায়
অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এই উদ্যোগের কথা জানান।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাস করার চেষ্টা করা হবে।
প্রশ্নফাঁস নিয়ে যা বলেছিলেন মোদি
এর আগে বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের।’
তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং ১৯ জুলাই তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরব বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে অভিযোগ তুলে এর প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবিও করেছে তারা। হুথিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলা এবং নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর শুক্রবার (২৪ জুলাই) ইয়েমেনের হুদায়দাহ শহরের সামরিক ঘাঁটি এবং কামারান দ্বীপে বিমান হামলা চালায় সৌদি আরব।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছিল এমন হুথি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তারা চূড়ান্ত ও জোরালো জবাব দিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, এ সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ক্রমেই আরও আন্তরিক হচ্ছে। এ কারণে ইরানের বিরুদ্ধে এখনই বড় ধরনের কোনো সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত তিনি নেননি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চীন ও রাশিয়া ইরানকে অস্ত্র বা গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ায় অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের নিরাপদে এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে।
অন্যদিকে ওমান উপসাগরে মার্কিন অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম। একই সময়ে ইরাকের এরবিল, কুয়েতের উদাইরি এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানি বাহিনী ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের মধ্যে সরকারের সঙ্গে বৈঠকেও নিজেদের প্রধান দাবি থেকে সরে আসেনি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ‘আলোচনার অযোগ্য’ এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু। সরকারের পক্ষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অংশ নেন। সিজেপির প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আরেক তরুণ প্রতিনিধি।
বৈঠক শেষে সৌরভ দাস বলেন, তারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে কোনো আপস হবে না।
তিনি আরও জানান, আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছে।
সিজেপির এক প্রতিনিধি বলেন, সরকার মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া তারা কিছু মেনে নেবেন না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বৈঠক শেষে জে পি নাড্ডা জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে শনিবার আবারও আলোচনা হবে।
দ্য হিন্দু বলছে, এটি সিজেপি ও সরকারের মধ্যে তৃতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
গত ২০ জুলাই দিল্লিতে পার্লামেন্টমুখী মিছিলে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) পেলেট গান ব্যবহার করেছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) জানিয়েছে, তারা এ-সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন যাচাই করছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিলেও সিজেপির অবস্থান, পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় সরকারের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হওয়া উচিত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করা।
এদিকে সরকারের আশ্বাস পাওয়ার পর শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক তার ২৬ দিনের অনশন শেষ করলেও সিজেপি জানিয়েছে, তাদের আন্দোলন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
হরমুজ প্রণালি
যুদ্ধের পরিণতি অনেক সময় তার শুরুর লক্ষ্য থেকে ভিন্ন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়। ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।
শুরুতে এই যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল কখনও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, কখনও আবার ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। কিন্তু প্রায় ছয় মাস পর যুদ্ধটি ভিন্ন এক রূপ নিয়েছে। এর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এখন দেখিয়ে দিয়েছে, তাদের নির্ধারিত শর্তে চলাচল না করলে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে।
বর্তমান বাস্তবতায় মূল প্রশ্ন একটাই– হরমুজ প্রণালি কি আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবেই থাকবে, নাকি কে কখন এবং কী শর্তে এই পথ ব্যবহার করবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা ইরানের হাতে চলে যাবে? যদি এমনটি ঘটে, তাহলে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার ট্রানজিট ফি আদায়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও ইরানের হাতে চলে যেতে পারে।
যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল ও জ্বালানি পণ্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ইরাক, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের প্রায় সব জ্বালানি রপ্তানির প্রধান পথ ছিল এটি। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি রপ্তানিরও গুরুত্বপূর্ণ রুট ছিল হরমুজ। এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ এমন একটি ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছে, যেখানে হরমুজ নিয়মিত বন্ধ থাকতে পারে অথবা বাণিজ্যিকভাবে অনির্ভরযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। তাই একক একটি প্রণালির ওপর নির্ভর না করে একাধিক বিকল্প রপ্তানি পথ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সৌদি আরব তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগর উপকূল পর্যন্ত দেশের ভেতর দিয়ে একটি পূর্ব-পশ্চিম (ইস্ট-ওয়েস্ট) পাইপলাইন নির্মাণে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। সাম্প্রতিক সংকটের সময় এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হচ্ছে। সৌদি আরব ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ পাইপলাইনটির সক্ষমতা আরও ২০ লাখ ব্যারেল বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
হরমুজের দক্ষিণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বন্দর ও পাইপলাইন রয়েছে, যার মাধ্যমে বর্তমানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। দেশটি ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এই সক্ষমতা দ্বিগুণ করে ৩৬ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার জন্য সম্প্রসারণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী হোয়াইট হাউস সফর করেন। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। সিরিয়ার সঙ্গে সমন্বয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাইপলাইন পুনরায় চালু করা এবং নতুন পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে ইরাক ও কুয়েতের তেল ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে।
ইরাকের পরিকল্পনার মধ্যে কিরকুক থেকে তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর জেইহান পর্যন্ত বিদ্যমান পাইপলাইনটির সংস্কারও রয়েছে। জর্ডানে নতুন একটি তেল পাইপলাইন নির্মাণ পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে ইরাক সরকার। এই পাইপলাইন বসরা থেকে পশ্চিম ইরাকের হাদিথা পর্যন্ত যাবে। সেখান থেকে একটি শাখা লাইন জর্ডানের আকাবা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর পর লোহিত সাগর হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি করা হবে।
বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদ্যমান এবং নির্মাণাধীন বিকল্প রুটগুলো ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ হরমুজ দিয়ে সাধারণত যে পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, তার প্রায় ৬০ শতাংশ বহন করতে সক্ষম হবে।
সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসছে সিজেপি
অনশন ও রাজপথের উত্তাল প্রতিবাদের মুখে অবশেষে আন্দোলনকারী তরুণদের দাবি মেনে নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অনুরোধের পর শুক্রবার (২৪ জুলাই) কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়াতে দুপক্ষ বৈঠকে বসেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো পূরণে সরকারের আশ্বাসের পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তাঁর ২৬ দিনের অনশন ভঙ্গ করেন।
স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে নিরপেক্ষ পরিবেশে এই বৈঠকটি শুরু হয়। সরকারের এমন নমনীয় মনোভাব এবং নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার প্রস্তাব মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সিজেপি।
সংগঠনটির জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি আলোচনার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে একটি নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠক করার অনুরোধে সরকার শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছে এবং আলোচনার জন্য কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আশা করি সরকার খোলা মনে আলোচনায় আসবে এবং আন্দোলনরত তরুণদের কথা শুনবে।’
এর আগে সরকারের মন্ত্রী ভবন বা তাদের দাপ্তরিক কার্যালয়ে বৈঠকের সব ধরনের আমন্ত্রণ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল সিজেপি। সরকারের সঙ্গে যেকোনো পরবর্তী আলোচনার জন্য নিরপেক্ষ স্থান নির্ধারণের বিষয়ে তারা অনড় ছিলেন।
এর আগে গত ২০ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেদিন সিজেপির দুই শীর্ষ প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবনে সাক্ষাৎ করতে যান।
পরে অভিযোগ ওঠে, মন্ত্রী ভবন চত্বরে বৈঠক চলাকালীন তাদের প্রায় বন্দি করে রাখা হয়েছিল। ওই অভিজ্ঞতার পর থেকেই আন্দোলনকারীরা সরকারের যেকোনো দাপ্তরিক ভবনের বদলে নিরপেক্ষ স্থানকে প্রধান শর্ত হিসেবে সামনে আনেন।
এদিকে সিজেপি আরও জানিয়েছে, দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের গণপ্রতিবাদ কর্মসূচি থামবে না।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে অনিয়মের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করা।