সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে এক বিশেষ ধরনের বিপদ লুকিয়ে আছে, যা কোনো সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি দিয়ে পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। আর বিপদটি হলো, এমন একজন নেতা, যাঁর হারানোর কিছুই নেই, অথচ তাঁর অধীন একটি আস্ত সেনাবাহিনী রয়েছে। আজকের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হলেন সেই নেতাই।
গত মার্চ মাস থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করে রাখা সংঘাতের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটন ও তেহরান গত বুধবার রাতে একটি সমঝোতা স্মারকে (অন্তর্বর্তী চুক্তি) সই করেছে। তবে এ চুক্তিতে ইসরায়েল কোনো পক্ষ ছিল না। নেতানিয়াহুও এটি অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি এ চুক্তির শর্ত মেনে চলতে কোনোভাবেই বাধ্য নন।
নেতানিয়াহুর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আরও এক ধাপ এগিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) কোনো ‘সময়সীমা ছাড়াই’ লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় অবস্থান করবে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই রূপরেখা চুক্তি কার্যকর করার সব দায় সরাসরি ওয়াশিংটনের ওপর চাপিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহও সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে, মাসের পর মাস ধরে আলোচনা চলার পর যে চুক্তিটি সই হলো, সেটি বাস্তবে এখনই বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। আর এ পরীক্ষাটি নিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের এমন এক পক্ষ, যাকে কখনোই এ চুক্তির বেড়াজালে বাঁধা সম্ভব হয়নি।
ধৈর্য হারাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
নেতানিয়াহুর আগের অবাধ্যতাগুলোর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তফাত হলো, হোয়াইট হাউসের সুর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একসময় নেতানিয়াহুকে একজন শর্তহীন মিত্র হিসেবে গণ্য করতেন। তবে জানা গেছে, সম্প্রতি তিনি ব্যক্তিগত আলাপে নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এমনকি লেবাননে ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করে প্রকাশ্যে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি বলব, আরেকটু সংযত হয়ে কাজ করা সম্ভব। প্রতিবার কোনো হিজবুল্লাহ সদস্য একটি ভবনে ঢুকলেই হয়তো পুরো ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আরও কড়া ভাষায় কথা বলেছেন। ট্রাম্পকে গুরুত্ব না দেওয়ায় তিনি নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিরস্কার করেছেন। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে তাঁদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েলকে সরবরাহ করা অস্ত্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ‘মার্কিন করদাতাদের অর্থে তৈরি ও কেনা।’
এ সংঘাতের বহু আগে রাজনৈতিক তাত্ত্বিক হ্যান্স মর্গেনথাউ একটি সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। বাস্তবসম্মত রাজনীতির নীতি অনুযায়ী, কোনো পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের সহনশীলতা কখনোই শর্তহীন হয় না। এটি মূলত স্বার্থের ওপর নির্ভর করে। আর ওয়াশিংটনের সেই স্বার্থ এখন স্পষ্টতই বদলে যাচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ ফাঁদ
বিদেশে নেতানিয়াহুর এ একগুঁয়েমি আসলে দেশের মাটিতে তাঁর রাজনৈতিক দুর্বলতার সঙ্গে জড়িত। ইরান যুদ্ধে নিজের নির্ধারণ করা বড় লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারেননি তিনি। ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ঠেলে দেওয়ার পরও তেহরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন বা পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করার মতো কোনো লক্ষ্যই বাস্তবে রূপ নেয়নি।
ইরানে ইসরায়েলের হামলা ও সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানোর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে এবং একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের প্রতিবেশীদের জড়িয়ে যেকোনো যুদ্ধ শুরুর ক্ষেত্রে যে ধরনের বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়, এখানেও ঠিক তা-ই হয়েছে। দেশের মাটিতে নেতানিয়াহু এমন এক ভোটাভুটি বা নির্বাচনের মুখোমুখি, যেখানে আগামী শরতে (অক্টোবর মাসে) ভোটাররা তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও এখনো রয়ে গেছে। আবার, তাঁর জোট সরকার টিকে আছে এমন কিছু মন্ত্রীদের সমর্থনে, যাঁরা রাজনৈতিকভাবে খোদ নেতানিয়াহুর চেয়েও চরম উগ্রপন্থী। ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ যুদ্ধের শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে এ সরকারকে চরম ব্যর্থ বলে অভিযুক্ত করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একজন প্রধানমন্ত্রীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া কোনো চুক্তি মেনে নেওয়া শুধু যে অপ্রীতিকর তা-ই নয়, বরং এটি তাঁর জন্য রাজনৈতিকভাবেও মারাত্মক আত্মঘাতী হতে পারে; বিশেষ করে যখন সেই চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তার পক্ষে কোনো দৃশ্যমান সাফল্য এনে দিচ্ছে না।
কেন তাঁকে বাগে আনা যাচ্ছে না
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কের মূলে রয়েছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। ওয়াশিংটনই ইসরায়েলকে অস্ত্র, অর্থ ও কূটনৈতিক সুরক্ষা দেয়। অথচ এ তিনটির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল একজন প্রধানমন্ত্রীকে নিজেদের শর্ত মানাতে পারে না তারা।
জন মিয়ারশেইমার ও স্টিফেন ওয়াল্টের মতো বাস্তববাদী গবেষকেরা তাঁদের ‘ইসরায়েল লবি’ সংক্রান্ত বিশ্লেষণে দীর্ঘদিন ধরে একটি যুক্তি দেখিয়ে আসছেন। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কাঠামো ইসরায়েলি নেতাদের এমন এক ধরনের স্বাধীনতা দেয়, যা দেশটির অন্য কোনো মিত্র রাষ্ট্র পায় না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে ইসরায়েলের স্বার্থের সংঘাত তৈরি হলেও এ পরিস্থিতি বদলায় না।
তাই নেতানিয়াহুর টিকে থাকার ক্ষমতা কোনো রহস্য নয়, বরং এটি মার্কিন রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির বড় দাতাগোষ্ঠী, যার মধ্যে অন্যতম শীর্ষ দাতা মিরিয়াম অ্যাডেলসন, মার্কিন সিনেটের ইসরায়েলপন্থী কট্টরপন্থী একটি অংশ ও চরমপন্থী গণমাধ্যমগুলো এখনো নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এ গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের চাপকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে তুলে ধরে।
চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরির নেপথ্য কৌশল
নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটন-তেহরান চুক্তি প্রত্যাখ্যান না করেও কীভাবে তা ভেস্তে দিতে পারেন, তার একটি কৌশলগত পথ রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এখনো চলছে। এসব হামলায় ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হিজবুল্লাহও তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
এই সংঘাতের ধারাবাহিকতা ইরানকে আবারও যুদ্ধের দিকে টেনে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে, যে যুদ্ধ থেকে বের হতেই ইরান সম্প্রতি চুক্তিতে সই করেছে। তেহরানের আলোচকেরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চুক্তির মূল দলিলে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এ চুক্তির মূল চেতনার অংশ। এখন যদি ইরানপন্থী হিজবুল্লাহর হতাহতের সংখ্যা বাড়তেই থাকে এবং ইরান বুঝতে পারে যে ওয়াশিংটন তার নিজের মিত্রকে থামাতে পারছে না বা থামাবে না, তবে এই ভঙ্গুর ও নতুন চুক্তি মেনে চলার কোনো আগ্রহই তেহরানের থাকবে না। চুক্তিটি ছিঁড়ে ফেলার জন্য নেতানিয়াহুর কোনো প্রকাশ্য পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তিনি শুধু লেবাননে এখন যা করছেন, তা চালিয়ে গেলেই হবে, বাকি কাজটা ইরানের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।
মূলকথা
কূটনীতির ভাষায় এমন কিছু পক্ষ থাকে, যারা কোনো চুক্তিতে বাধ্য নয় এবং যাদের কোনো ভেটো দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ক্ষমতাও নেই, অথচ তারা পুরো চুক্তিটি নস্যাৎ করে দিতে পারে। এদের বলা হয় ‘স্পয়লার’ বা চুক্তি বিনষ্টকারী। নেতানিয়াহু এখন ঠিক সেই ভূমিকাই পালন করছেন। তা তিনি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ থেকেই করুন বা এই বিশ্বাস থেকেই করুন যে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সময়সীমার চেয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসন চাইছে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (যেমন ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি বা রূপরেখার মাধ্যমে) মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত থামাতে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত হয়। এটি ওয়াশিংটনের একটি কূটনৈতিক ছক বা সময় পরিকল্পনা। তবে নেতানিয়াহু মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক করে দেওয়া এই সময়ে যুদ্ধ (ইরান কিংবা লেবাননে ইসরায়েলি হামলা) থামালে ইসরায়েলের সামরিক উদ্দেশ্য সফল হবে না। হিজবুল্লাহ বা ইরানকে পুরোপুরি দুর্বল না করে এখনই চুক্তি মেনে নেওয়াটা তাঁর মতে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখতে হবে, কোনো সংঘাত বা সংকটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার পরও যে পক্ষকে কখনোই চুক্তিতে সই করতে বলা হয়নি, শুধু তাদের নীরবতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা যেকোনো শান্তিচুক্তি আসলে চরম ভঙ্গুর হয়ে থাকে।
নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। তিনি তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে চার দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন তিনি। চলমান পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ যেন অপব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৫ দিন ধরে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি। তার পদত্যাগের পর আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কেন্দ্র সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আগের দিন তিনি বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘অসামাজিক শক্তি’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলন যাতে অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকা উচিত।
পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।
দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
ধর্মেন্দ্র প্রধান
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।
এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।
ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।
রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।
এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।
সূত্র: দ্য রিপাবলিক
রাভনীত সিং বিট্টু
ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’
পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।