ছবি : সংগৃহীত
তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে গোটা ইউরোপ। কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে, কোথাও ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, বেলজিয়াম, স্পেন, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ এখন তাপপ্রবাহের কবলে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ফ্রান্সের। দেশটির অর্ধেকের বেশি অঞ্চল তীব্র তাপপ্রবাহের বিপর্যস্ত। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে গিয়ে সম্প্রতি কয়েকদিনে ফ্রান্সে পানিতে ডুবে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু এক জরুরি বৈঠকের আগে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গত ১৮ জুন থেকে কোনো রকম লাইফগার্ড বা নজরদারিহীন জলাশয়গুলোতে সাঁতার কাটতে গিয়ে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। মূলত প্রচণ্ড গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে ফ্রান্সের সব বয়সী মানুষ দলে দলে নদী ও খালে নামছেন।
ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানান, তীব্র গরম থেকে বাঁচার এই আকুলতা তিনি বুঝতে পারছেন; তবে অনিরাপদ বা নিষিদ্ধ এলাকাগুলোতে সাঁতার কাটার বিষয়ে সবাইকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
গরমের কারণে ফ্রান্সে স্কুল, কলেজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৮৪৫টি স্কুল ইতিমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে। ১৮০০টি স্কুলে পাঠদান হচ্ছে সকালের দিকে। গতকাল সোমবার ফ্রান্সের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মধ্য ফ্রান্সের পইটিয়ার্সে তাপমাত্রা ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই চরম আবহাওয়ার মধ্যেই দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় একটি এলাকায় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
সেখানে একটি বাড়ির সামনে গাড়ির ভেতর থেকে ২ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত গরমের কারণে মা তাদের গাড়ির ভেতরে রেখে গিয়েছিলেন।
গরমের তীব্রতা থেকে নাগরিকদের বাঁচাতে প্যারিস মিউনিসিপ্যালিটি এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে, তারা ২৫ বছরের কম এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেমা হলের ফ্রি টিকিট দিচ্ছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে ইউরোপ।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ‘ওমেগা ব্লক’ নামের একটি বিশেষ আবহাওয়া বিন্যাসের কারণে ইউরোপের বড় অংশজুড়ে তাপ বলয় তৈরি হয়েছে, যা দিনে দিনে তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলছে। তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দাবদাহ ও ঝড় আরও বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে।
থমকে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন:
তীব্র তাপ্রবাহের কারণে ইউরোপের যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। অতিরিক্ত গরমে রেললাইনের সুরক্ষায় ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়ায় প্যারিস থেকে ব্রাসেলসগামী বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে বৈদ্যুতিক পাখার চাহিদা এত বেশি বেড়েছে যে প্যারিসের অধিকাংশ দোকানেই ফ্যান ফুরিয়ে গেছে।
ফ্রান্সের নিয়োগকর্তাদের সংগঠন ‘মেদেফ’-এর প্রধান প্যাট্রিক মার্টিন জানান, গরমের কারণে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি অনেকটাই ধীর হয়ে পড়েছে।
ওদিকে, যুক্তরাজ্যের রেল কর্তৃপক্ষ ‘নেটওয়ার্ক রেল’ যাত্রীদের শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ট্রেন ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। একইসঙ্গে লন্ডন ও হিথ্রো বিমানবন্দরে তীব্র ঝড়-বৃষ্টির কারণেও বেশ কিছু ফ্লাইট ও যোগাযোগ রুট বিঘ্নিত হয়েছে।
জার্মানিতে বেশ কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। কয়েক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা ৪০ ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জার্মানিতে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে তাপপ্রবাহে। ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরেও পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।
ইতালি, স্পেন ও বেলজিয়াম পরিস্থিতি:
তাপপ্রবাহের কারণে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটির ১৫টি শহরে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা (রেড অ্যালার্ট) জারি করেছে। সেইসঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট খাতে কাজের সময় কমানো বা সাময়িকভাবে কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাহিদার কারণে দেশটির তুরিন শহরে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঠেকাতে জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্পেনের আবহাওয়া সংস্থাও দেশের বিভিন্ন অংশে রেড অ্যালার্ট জারি করে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে; এর আগে দেশটির আন্দুজার এলাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।
ওদিকে, বেলজিয়ামেও ক্লাসরুমে অতিরিক্ত গরম সইতে না পেরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা পাশের একটি ঠান্ডা গির্জায় (চার্চ) সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাজ্যেও গরমের কারণে বেশ কিছু স্কুল আগেভাগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
দেশটির আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চার দিনের দাবদাহে কিছু কিছু জায়গায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালের জুনের রেকর্ডকে ভেঙে দিতে পারে।
আপাতত সেখানে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। ওদিকে, বেলজিয়াম এবং পর্তুগালেও তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা