ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৩৯ এএম

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মানুষ গত প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণ উপভোগ করেছেন। বিরল ও অনন্য এ মহাজাগতিক ঘটনা কোটি কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের প্রত্যক্ষদর্শীরা একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পান। দেশটির স্থানীয় সময় অনুযায়ী গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাতটার কিছু পর এ গ্রহণ চূড়ান্ত রূপ নেয়। এমন পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ এলাকা থেকেই দেখা যায়, সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়েছে।


তবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু অংশে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এসব অঞ্চলের মানুষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হন। ফলে সেখানে নেমে আসে অনেকটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে সমবেত বিশাল জনতা সূর্যগ্রহণের দৃশ্য দেখে বিস্ময় ও উল্লাসে ফেটে পড়ে। 


জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের মতে, মহাবিশ্ব যে কতটা ‘বিস্ময়কর’, এ ঘটনা তা আরও একবার মনে করিয়ে দিল।


এ পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথটি শুরু হয়েছিল রাশিয়ার সাইবেরিয়ার উত্তর প্রান্ত থেকে। ভীষণ দুর্গম ও নির্জন এলাকা হওয়ায় সেখানে মানুষের আনাগোনা যেমন ছিল না, তেমনি ছিল না বিজ্ঞানীদের টেলিস্কোপ দিয়ে তা পর্যবেক্ষণের সুযোগ।


তবে দ্রুতই সূর্যগ্রহণের পথ উত্তর মহাসাগর দিয়ে ঘুরে সন্ধ্যার শুরুতে আইসল্যান্ডে পৌঁছায়। এরপর দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়ার ফলে যুক্তরাজ্যের মানুষও মহাজাগতিক এ বিস্ময়ের আংশিক রূপ দেখার সুযোগ পায়।


উত্তর স্কটল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা প্রায় ছয়টার দিকে এ আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে এটি দেখা যায় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের কিছু আগে।


সূর্যগ্রহণের শুরুর দিকে বিষয়টি একেবারেই টের পাওয়া যায়নি। তবে যেসব এলাকার আকাশ মেঘমুক্ত ছিল, সেখানকার মানুষ ধীরে ধীরে চাঁদের আড়ালে সূর্যের একাংশ ঢাকা পড়ার দৃশ্যটি লক্ষ করেন।


মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের বেশির ভাগ এলাকার আকাশ ছিল চমৎকার পরিষ্কার। ফলে সেখানকার বাসিন্দারা টানা এক ঘণ্টা ধরে সূর্যের ওপর দিয়ে চাঁদের ধীরগতিতে এগিয়ে যাওয়ার এক অতুলনীয় দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ পান।


উত্তর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের আকাশ তুলনামূলক মেঘাচ্ছন্ন ছিল। তবে তা সত্ত্বেও বিখ্যাত দর্শনীয় স্থানগুলোতে সাধারণ মানুষের ঢল নামানো ঠেকানো যায়নি।


কেউ কেউ আগেভাগেই বিশেষ সূর্যগ্রহণ চশমা সংগ্রহ করেছিলেন। তবে মহাজাগতিক ঘটনাটির ঠিক আগের দিনগুলোতে চোখের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি এই চশমার বেশ সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে চশমা বিক্রির দোকান, হার্ডওয়্যারসামগ্রীর দোকান, এমনকি বেকারিতে রাখা চশমাগুলোও নিমেষে শেষ হয়ে যায়।


অবশ্য এ চশমা-সংকট মানুষকে ঘরে আটকে রাখতে পারেনি। সূর্যগ্রহণ নিরাপদে দেখার জন্য অনেকেই রান্নাঘরের ঝাঁজরি, কর্নফ্লেক্সের খালি বাক্স ও বিশেষ ধরনের কাগজের টুকরা ব্যবহার করেন।


মূলত চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে, তখনই সূর্যগ্রহণ ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে চাঁদ সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আটকে দেয়। ফলে আমাদের গ্রহের ওপর সাময়িকভাবে ছায়া পড়ে।


সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চাঁদ খুব ধীরে অথচ নিশ্চিতভাবে সূর্যের আরও বেশি অংশ ঢেকে দিতে থাকে। এ সময় পুরো প্রক্রিয়া দেখতে অনেকটা লাইটের আলো কমিয়ে দেওয়া রেগুলেটর বা ডিমার সুইচের মতো কাজ করে।


যুক্তরাজ্য থেকে দেখার সময় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী পুরোপুরি সরলরেখায় ছিল না। এর ফলে সেখানে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। দেশটির বেশির ভাগ এলাকা থেকেই চাঁদের ছায়ায় সূর্যের প্রায় ৯০ শতাংশ ঢাকা পড়ার চিত্র চোখে পড়ে। ১৯৯৯ সালের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণ। তবে কর্নওয়ালে সূর্য ঢাকা পড়ার এ হার ছিল আরও বেশি, প্রায় ৯৫ শতাংশ।


এদিকে স্পেনের কিছু অংশের মানুষ আরও বেশি জাদুকরি অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন। যুক্তরাজ্যের সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাতটায় (স্পেনের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটা) সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একদম নিখুঁতভাবে এক সরলরেখায় চলে আসে। আর এতেই দেখা পাওয়া যায় পূর্ণ সূর্যগ্রহণের।


চিলির বিজ্ঞানী ইয়াসমিন কাত্রিচিও এ বিরল ঘটনাটি দেখতে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর-পশ্চিম স্পেনের আ করুনা শহরে এসেছিলেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সেই মুহূর্তে সবাই উল্লাস করছিলেন এবং এই অসাধারণ দৃশ্যের উত্তেজনা একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলেন। সেই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’


মহাবিশ্ব সত্যিই বিস্ময়কর


সাধারণত পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রতি ১৮ মাস বা দেড় বছর পরপর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে। তবে নির্দিষ্ট কোনো একটি এলাকায় এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। হিসাব অনুযায়ী, একই স্থানে সাধারণত প্রায় ৪০০ বছরে মাত্র একবার পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।


স্পেনে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের নির্দিষ্ট গতিপথে সমবেত হওয়া মানুষ সেই বিরল ঘটনারই সাক্ষী হয়েছেন। এ সময় চাঁদের পেছন থেকে উঁকি দেওয়া সূর্যের লালচে আভা দৃশ্যটিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে।


প্রায় ঘুটঘুটে অন্ধকারের বুক চিরে বেরিয়ে আসা সেই আলো আসলে ছিল সূর্যের করোনা বা আলোকবলয়। এটি মূলত হাজার হাজার মাইল দূরের মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়া অত্যন্ত উত্তপ্ত গ্যাসের তীব্র প্রবাহ।


আর যাঁরা খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করছিলেন, তাঁরা হয়তো সূর্যের অশান্ত চৌম্বকক্ষেত্রের কারণে তৈরি হওয়া গ্যাসের ছোট ছোট গোলাপি বলয়ও দেখতে পেয়েছেন। বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা হয় প্রমিনেন্স বা সৌরশিখা। এর কিছুক্ষণ পরই অবশ্য চাঁদ তার আড়ালে লুকিয়ে রাখা সূর্যকে আবারও দৃশ্যমান করতে শুরু করে। এ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ স্থায়ী হয়েছিল দুই মিনিটের কম। তবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ উপভোগ করতে উপস্থিত হওয়া অনেকের জন্যই মুহূর্তটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


আমাদের এ পৃথিবীতে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ উপভোগ করতে পারার পুরো বিষয় আসলে এক অবিশ্বাস্য মহাজাগতিক কাকতালীয় ব্যাপার। সূর্য আমাদের পৃথিবী থেকে ১৫ কোটি কিলোমিটার (৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল) দূরে অবস্থিত, যা পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের ঠিক ৪০০ গুণ বেশি। আবার কাকতালীয়ভাবে চাঁদের ব্যাসও সূর্যের ব্যাসের চেয়ে ঠিক ৪০০ গুণ ছোট।


আর এ নিখুঁত অনুপাতের কারণেই আমাদের আকাশ থেকে চাঁদ ও সূর্যকে একদম একই আকারের মনে হয়। চাঁদের আকার যদি সামান্য ছোট হতো কিংবা এর কক্ষপথ পৃথিবী থেকে আরেকটু দূরে থাকত, তবে আমরা মানবজাতি কখনোই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের এ অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্য দেখতে পেতাম না।


বিজ্ঞানীদের মতে, আমরা খুব দ্রুতই, অর্থাৎ ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের এক ‘স্বর্ণযুগে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছি। ফলে সূর্যগ্রহণপ্রেমীরা কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে তিনটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার রোমাঞ্চকর সুযোগ পাবেন।


তবে এই সূর্যগ্রহণের কোনোটিই যুক্তরাজ্য থেকে দেখা যাবে না। ২০২৭ সালে দেশটি থেকে বড়জোর একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে, যেখানে কিছু অঞ্চলে সূর্যের মাত্র ৪৫ শতাংশ ঢাকা পড়বে। এ পরিস্থিতিতে আজকের চেয়ে বড় বা পূর্ণাঙ্গ কোনো সূর্যগ্রহণ দেখতে যুক্তরাজ্যবাসীকে কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হবে।


হিসাব অনুযায়ী, ২০৮১ সালে যুক্তরাজ্যে এমন একটি সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, যেখানে সূর্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ অংশ ঢাকা পড়বে। আর যুক্তরাজ্যে পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণটি দেখা যাবে ২০৯০ সালে।








সর্বশেষ সব খবর

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৫২ পিএম

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ায় পারস্পরিক আস্থা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সময় সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


বিজ্ঞপ্তিতে জানা‌নো হয়, বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলন কক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করে কক্ষ ত্যাগ করেন।


আজারবাইজানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সিআইসিএ-এর এই সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন। এখানে এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ পিএম

পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি স্কুলের  ছাদ ধসের ঘটনায় ২৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।


রেসকিউ ১১২২-এর আঞ্চলিক পরিচালক আরিফ খাত্তাক জানিয়েছেন, স্কুল ভবন ধসে পড়ার পর উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। তার তথ্যমতে, একজন নারী শিক্ষকসহ মোট ২৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।


এক বার্তায় তিনি বলেন, "ভবনটি ধসে পড়ার পর প্রাথমিকভাবে ১৬টি মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অভিযান চলে এবং শেষ পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে একজন নারী শিক্ষক রয়েছেন।"


তিনি আরও বলেন, "প্রথমে আমাদের জানানো হয়েছিল যে ভবনটি ধসে পড়েছে। কিন্তু এখানে পৌঁছানোর পর আমরা জানতে পারি, এটি তিনতলা একটি ভবন ছিল। এই তিনতলা ভবনটি ছিল অস্থায়ী কাঠামোর... গুরুতর আহত হয়েছেন ৪৫ জন। তাদের প্রদেশের বড় হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।" আরিফ খট্টক জানান, এই উদ্ধার অভিযানে ১০০ জন উদ্ধারকর্মী, ১৮টি অ্যাম্বুলেন্স এবং তিনটি ভারী যান অংশ নেয়।


এদিকে, স্থানীয় লেডি রিডিং হাসপাতালের (এলআরএইচ) মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম এক বিবৃতিতে বলেছেন, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বেশিরভাগ শিশুই মাথায় আঘাত পেয়েছে। অনেক অভিভাবক হাসপাতালে এসে জড়ো হয়েছেন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহায়তা চেয়েছে।


মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের বয়স ছয় থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলআরএইচে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পেশোয়ারের কর্তৃপক্ষ দুপুরের দিকে জানিয়েছে যে স্কুল ভবন ধসে পড়ার পর উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। তবে সেখানে এখনো ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে।


পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলটির মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিলাল আহমেদ ঘটনাস্থল থেকে আরো জানিয়েছেন, স্কুলটি একটি দোতলা ভবনে অবস্থিত। ভবনটিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে তৈরি ছাদের বদলে প্রিফ্যাব্রিকেটেড ছাদ ছিল বলে মনে হচ্ছে। ধ্বংসাবশেষ দেখে ধারণা করা যায়, ওপরের একটি কক্ষের ছাদের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ার পর সেটিই নিচতলায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুদের ওপর গিয়ে পড়ে।


স্কুলটির সামনে মানুষের ভিড় 


এদিকে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, "এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে পুরো জাতি স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে।" প্রেসিডেন্ট নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।


এতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট "আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন"। এছাড়া তিনি ঘটনার কারণ নির্ধারণে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন।


পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকায় এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রাদেশিক গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন।


সরু রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা


ঘটনাস্থলে থাকা এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, স্কুলটি শহরের এমন একটি সরু গলির মধ্যে অবস্থিত, যেখানে একবারে মাত্র একটি গাড়ি চলাচল করতে পারে। এ কারণে উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধারকাজ চালাতে এবং আহতদের হাসপাতালে নিতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।


প্রত্যক্ষদর্শী সোহাইল বলেন, "আমার বোন আমাকে ফোন করে বলেছিল, 'ভাই, তাড়াতাড়ি আসো'। স্কুলের ছোট ছোট শিশুরা ছাদের নিচে চাপা পড়েছিল। আমি এবং এলাকার লোকজন দ্রুত কোদাল দিয়ে তাদের বের করার চেষ্টা করি।" উদ্ধারকাজ এখনো চলছে এবং স্কুলটি বা সেখারকার কারো সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, এমন ব্যক্তিদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।


এর আগে পেশোয়ারের উদ্ধার কর্মকর্তা বিলাল ফাইজি বলেন, "আজ সকালে ৮টা ৪৮ মিনিটে নিয়ন্ত্রণকক্ষে খবর আসে যে স্কুলটির ছাদ ধসে পড়েছে। আমরা সেখানে পৌঁছে দেখি, ভবনটির একটি ছাদ আরেকটি ছাদের ওপর ধসে পড়েছে। ওই শ্রেণিকক্ষের শিশুরা এর নিচে চাপা পড়ে।"

সর্বশেষ সব খবর

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ কিংবা টানা আলোচনা-কোনোটিই চায় না ইরান। তবে ওয়াশিংটন তেহরানের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।


তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সুসংহত করতে হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।


গালিবাফ বলেন, ‘যখনই আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয় অর্জন করব, তখন রাজনৈতিক অঙ্গনেও সেই বিজয়ের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে হবে।’


ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, ‘এর অর্থ অন্তহীন যুদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা নয়। আমরা শত্রুকে ক্লান্ত করে তুলতে লড়াই করি, যাতে তারা আমাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।’


এদিকে হরমুজ প্রণালীর কাছে দুটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ কোনো বস্তু আঘাত হানে। অন্য জাহাজটি সমুদ্রের মাইনে আঘাত পেয়ে ডুবে যায় বলে জানা গেছে। ওই অঞ্চলে অব্যাহত হামলার কারণে জাহাজ চলাচলের গতি কমে এসেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।


যদিও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলে আবারও দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং ইরান তাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা হারিয়েছে।


অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের প্রথম সারির নেতারা চলে গেছেন। তারা দ্বিতীয় সারির নেতাদের বেছে নিয়েছিল। তাদেরও অনেকে চলে গেছেন। এরপর তৃতীয় সারির নেতাদের বেছে নেয়া হয়েছে। তাদের অর্ধেকও চলে গেছেন। তারা আমাকে আর কাউকে হত্যা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে বলেছিল। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৬ এএম

ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে মার্চেন্ট নেভির কর্মকর্তা সৌরভ রাজপুতকে হত্যার দায়ে তার স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি ও স্ত্রীর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১২৬টি শুনানি ও ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ রায় ঘোষণা করেন জেলা জজ অরবিন্দ কুমার মিশ্র। এর দুই সপ্তাহ আগে দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। খবর এনডিটিভির।


মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মিরাটের ইন্দ্রা নগরে নিজেদের বাড়িতে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুসকান ও সাহিল। প্রথমে খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে সৌরভকে অচেতন করেন তার স্ত্রী। পরে সাহিল বাড়িতে পৌঁছালে দুজন মিলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।


হত্যার পর বাথরুমে সৌরভের মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। এরপর দেহের খণ্ডিত অংশগুলো একটি বড় নীল প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে তাতে বালি, পানি ও সিমেন্টের মিশ্রণ ঢেলে দেওয়া হয়। মরদেহের অস্তিত্ব গোপন করতেই এভাবে ড্রামটি সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করে দেন তারা। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে ড্রামটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।ঘটনার পর মুসকান ও সাহিল হিমাচল প্রদেশে পালিয়ে যান। এদিকে, সৌরভ বেঁচে আছেন এবং ব্যবসায়িক কাজে বাইরে রয়েছেন—এমন ধারণা তৈরি করতে স্বামীর ফোন ব্যবহার করে স্বজনদের বার্তা পাঠাতেন মুসকান।


তবে স্বজনদের সন্দেহ হলে ১৭ মার্চ তারা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সৌরভের বাড়িতে যান। এ সময় সৌরভ ও মুসকানের ছয় বছর বয়সী মেয়ে প্রতিবেশীদের বলে, ‘বাবা ড্রামের ভেতর।’ পরে পুলিশ ড্রামটি কেটে সেখান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। এর দুই দিন পর মুসকান ও সাহিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।


বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ পারিপার্শ্বিক, প্রযুক্তিগত ও ভৌত প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। স্থানীয় দোকানিরা সাক্ষ্য দেন, অভিযুক্তরা তাদের কাছ থেকে নীল ড্রাম, সিমেন্ট, বালি ও মাংস কাটার ছুরি কিনেছিলেন। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও টাওয়ারের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে অপরাধের সময় ঘটনাস্থলে সাহিলের উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।


রায় ঘোষণার আগে মুসকানের বাবা-মা আদালতকে জানান, সৌরভ ভালো মানুষ ছিলেন এবং অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তাদের আপত্তি নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর থেকে মুসকানের পরিবারের সদস্যরা কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে যাননি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১৬ এএম

হাসপাতালের নোংরা মেঝে পরিষ্কার করতে বাধ্য করা হয়েছে এক রোগীর মাকে—এমন একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের দামো জেলা হাসপাতালে। হাসপাতালের নিজস্ব সেবা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা থাকতে কেন একজন অসহায় রোগীর স্বজনকে দিয়ে এই কাজ করানো হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের দামো জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মাকে জোরপূর্বক হাসপাতাল চত্বরের মেঝে থেকে ময়লা পরিষ্কার করানোর এই অভিযোগ সামনে আসে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলা, হাসপাতালের কর্মীদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং সাধারণ রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের বিষয়টি আবার নতুন করে উসকে দিয়েছে।


তবে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সংক্ষিপ্ত ওই ভিডিওটি থেকে ঘটনার পেছনের আসল প্রেক্ষাপট বা ঠিক কী পরিস্থিতিতে ওই মহিলাকে মেঝেসাফাইয়ের কাজ করতে বলা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।


এদিকে  ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সাফাই গেয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, সম্প্রতি নয় বরং এই ভিডিওটি দেড় থেকে দুই মাস আগের পুরনো একটি ঘটনা। পুরো বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

নেহা বোরা

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:২৩ পিএম

প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও সাধারণ সম্মেলন উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও সংহতি বার্তা জানিয়েছেন ভারতের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-র সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা। 


গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজেদের ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তাটি শেয়ার করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।


ভিডিও বার্তায় নেহা বোরা বলেন, ভারতজুড়ে এখন যে জেন-জি আন্দোলন চলছে, তা মূলত শুরু হয়েছে বাংলাদেশকে দেখে। আমাদেরকে পথ দেখানোর জন্য ও ভারতের তরুণ সমাজের প্রতি সমর্থন জুগিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমরা জানি, বাংলাদেশে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা ছিল, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই। বর্তমানে ভারতে যে বিক্ষোভ চলছে, তার উদ্দেশ্যেও এক।


তিনি আরও বলেন, আমরা আপনাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। আপনাদের কাছ থেকে আমরা অনুপ্রেরণা পেয়েছি ও আপনাদের করা আন্দোলন থেকে শিখতে পেরেছি। আশা করি, আপনারা ও আমরা মিলে একটি ভালো দক্ষিণ এশিয়া গড়তে পারবো।


সূত্র: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ফেসবুক পেজ

সর্বশেষ সব খবর