ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মানুষ গত প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণ উপভোগ করেছেন। বিরল ও অনন্য এ মহাজাগতিক ঘটনা কোটি কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের প্রত্যক্ষদর্শীরা একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পান। দেশটির স্থানীয় সময় অনুযায়ী গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাতটার কিছু পর এ গ্রহণ চূড়ান্ত রূপ নেয়। এমন পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ এলাকা থেকেই দেখা যায়, সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়েছে।
তবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু অংশে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এসব অঞ্চলের মানুষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হন। ফলে সেখানে নেমে আসে অনেকটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে সমবেত বিশাল জনতা সূর্যগ্রহণের দৃশ্য দেখে বিস্ময় ও উল্লাসে ফেটে পড়ে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের মতে, মহাবিশ্ব যে কতটা ‘বিস্ময়কর’, এ ঘটনা তা আরও একবার মনে করিয়ে দিল।
এ পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথটি শুরু হয়েছিল রাশিয়ার সাইবেরিয়ার উত্তর প্রান্ত থেকে। ভীষণ দুর্গম ও নির্জন এলাকা হওয়ায় সেখানে মানুষের আনাগোনা যেমন ছিল না, তেমনি ছিল না বিজ্ঞানীদের টেলিস্কোপ দিয়ে তা পর্যবেক্ষণের সুযোগ।
তবে দ্রুতই সূর্যগ্রহণের পথ উত্তর মহাসাগর দিয়ে ঘুরে সন্ধ্যার শুরুতে আইসল্যান্ডে পৌঁছায়। এরপর দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়ার ফলে যুক্তরাজ্যের মানুষও মহাজাগতিক এ বিস্ময়ের আংশিক রূপ দেখার সুযোগ পায়।
উত্তর স্কটল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা প্রায় ছয়টার দিকে এ আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে এটি দেখা যায় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের কিছু আগে।
সূর্যগ্রহণের শুরুর দিকে বিষয়টি একেবারেই টের পাওয়া যায়নি। তবে যেসব এলাকার আকাশ মেঘমুক্ত ছিল, সেখানকার মানুষ ধীরে ধীরে চাঁদের আড়ালে সূর্যের একাংশ ঢাকা পড়ার দৃশ্যটি লক্ষ করেন।
মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের বেশির ভাগ এলাকার আকাশ ছিল চমৎকার পরিষ্কার। ফলে সেখানকার বাসিন্দারা টানা এক ঘণ্টা ধরে সূর্যের ওপর দিয়ে চাঁদের ধীরগতিতে এগিয়ে যাওয়ার এক অতুলনীয় দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ পান।
উত্তর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের আকাশ তুলনামূলক মেঘাচ্ছন্ন ছিল। তবে তা সত্ত্বেও বিখ্যাত দর্শনীয় স্থানগুলোতে সাধারণ মানুষের ঢল নামানো ঠেকানো যায়নি।
কেউ কেউ আগেভাগেই বিশেষ সূর্যগ্রহণ চশমা সংগ্রহ করেছিলেন। তবে মহাজাগতিক ঘটনাটির ঠিক আগের দিনগুলোতে চোখের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি এই চশমার বেশ সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে চশমা বিক্রির দোকান, হার্ডওয়্যারসামগ্রীর দোকান, এমনকি বেকারিতে রাখা চশমাগুলোও নিমেষে শেষ হয়ে যায়।
অবশ্য এ চশমা-সংকট মানুষকে ঘরে আটকে রাখতে পারেনি। সূর্যগ্রহণ নিরাপদে দেখার জন্য অনেকেই রান্নাঘরের ঝাঁজরি, কর্নফ্লেক্সের খালি বাক্স ও বিশেষ ধরনের কাগজের টুকরা ব্যবহার করেন।
মূলত চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে, তখনই সূর্যগ্রহণ ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে চাঁদ সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আটকে দেয়। ফলে আমাদের গ্রহের ওপর সাময়িকভাবে ছায়া পড়ে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চাঁদ খুব ধীরে অথচ নিশ্চিতভাবে সূর্যের আরও বেশি অংশ ঢেকে দিতে থাকে। এ সময় পুরো প্রক্রিয়া দেখতে অনেকটা লাইটের আলো কমিয়ে দেওয়া রেগুলেটর বা ডিমার সুইচের মতো কাজ করে।
যুক্তরাজ্য থেকে দেখার সময় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী পুরোপুরি সরলরেখায় ছিল না। এর ফলে সেখানে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। দেশটির বেশির ভাগ এলাকা থেকেই চাঁদের ছায়ায় সূর্যের প্রায় ৯০ শতাংশ ঢাকা পড়ার চিত্র চোখে পড়ে। ১৯৯৯ সালের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণ। তবে কর্নওয়ালে সূর্য ঢাকা পড়ার এ হার ছিল আরও বেশি, প্রায় ৯৫ শতাংশ।
এদিকে স্পেনের কিছু অংশের মানুষ আরও বেশি জাদুকরি অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন। যুক্তরাজ্যের সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাতটায় (স্পেনের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটা) সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একদম নিখুঁতভাবে এক সরলরেখায় চলে আসে। আর এতেই দেখা পাওয়া যায় পূর্ণ সূর্যগ্রহণের।
চিলির বিজ্ঞানী ইয়াসমিন কাত্রিচিও এ বিরল ঘটনাটি দেখতে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর-পশ্চিম স্পেনের আ করুনা শহরে এসেছিলেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সেই মুহূর্তে সবাই উল্লাস করছিলেন এবং এই অসাধারণ দৃশ্যের উত্তেজনা একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলেন। সেই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
মহাবিশ্ব সত্যিই বিস্ময়কর
সাধারণত পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রতি ১৮ মাস বা দেড় বছর পরপর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে। তবে নির্দিষ্ট কোনো একটি এলাকায় এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। হিসাব অনুযায়ী, একই স্থানে সাধারণত প্রায় ৪০০ বছরে মাত্র একবার পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।
স্পেনে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের নির্দিষ্ট গতিপথে সমবেত হওয়া মানুষ সেই বিরল ঘটনারই সাক্ষী হয়েছেন। এ সময় চাঁদের পেছন থেকে উঁকি দেওয়া সূর্যের লালচে আভা দৃশ্যটিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে।
প্রায় ঘুটঘুটে অন্ধকারের বুক চিরে বেরিয়ে আসা সেই আলো আসলে ছিল সূর্যের করোনা বা আলোকবলয়। এটি মূলত হাজার হাজার মাইল দূরের মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়া অত্যন্ত উত্তপ্ত গ্যাসের তীব্র প্রবাহ।
আর যাঁরা খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করছিলেন, তাঁরা হয়তো সূর্যের অশান্ত চৌম্বকক্ষেত্রের কারণে তৈরি হওয়া গ্যাসের ছোট ছোট গোলাপি বলয়ও দেখতে পেয়েছেন। বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা হয় প্রমিনেন্স বা সৌরশিখা। এর কিছুক্ষণ পরই অবশ্য চাঁদ তার আড়ালে লুকিয়ে রাখা সূর্যকে আবারও দৃশ্যমান করতে শুরু করে। এ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ স্থায়ী হয়েছিল দুই মিনিটের কম। তবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ উপভোগ করতে উপস্থিত হওয়া অনেকের জন্যই মুহূর্তটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আমাদের এ পৃথিবীতে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ উপভোগ করতে পারার পুরো বিষয় আসলে এক অবিশ্বাস্য মহাজাগতিক কাকতালীয় ব্যাপার। সূর্য আমাদের পৃথিবী থেকে ১৫ কোটি কিলোমিটার (৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল) দূরে অবস্থিত, যা পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের ঠিক ৪০০ গুণ বেশি। আবার কাকতালীয়ভাবে চাঁদের ব্যাসও সূর্যের ব্যাসের চেয়ে ঠিক ৪০০ গুণ ছোট।
আর এ নিখুঁত অনুপাতের কারণেই আমাদের আকাশ থেকে চাঁদ ও সূর্যকে একদম একই আকারের মনে হয়। চাঁদের আকার যদি সামান্য ছোট হতো কিংবা এর কক্ষপথ পৃথিবী থেকে আরেকটু দূরে থাকত, তবে আমরা মানবজাতি কখনোই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের এ অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্য দেখতে পেতাম না।
বিজ্ঞানীদের মতে, আমরা খুব দ্রুতই, অর্থাৎ ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের এক ‘স্বর্ণযুগে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছি। ফলে সূর্যগ্রহণপ্রেমীরা কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে তিনটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার রোমাঞ্চকর সুযোগ পাবেন।
তবে এই সূর্যগ্রহণের কোনোটিই যুক্তরাজ্য থেকে দেখা যাবে না। ২০২৭ সালে দেশটি থেকে বড়জোর একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে, যেখানে কিছু অঞ্চলে সূর্যের মাত্র ৪৫ শতাংশ ঢাকা পড়বে। এ পরিস্থিতিতে আজকের চেয়ে বড় বা পূর্ণাঙ্গ কোনো সূর্যগ্রহণ দেখতে যুক্তরাজ্যবাসীকে কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হবে।
হিসাব অনুযায়ী, ২০৮১ সালে যুক্তরাজ্যে এমন একটি সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, যেখানে সূর্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ অংশ ঢাকা পড়বে। আর যুক্তরাজ্যে পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণটি দেখা যাবে ২০৯০ সালে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (১২ আগস্ট) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফোর্ট হুড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টারটি টেক্সাসের সালাডো এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এতে থাকা দুই সেনাসদস্যই নিহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর ফোর্ট হুডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন এবং স্থানীয় জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।
তবে দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারটি কী ধরনের কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিল, সে বিষয়ে সামরিক কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিচয়ও তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তাদের স্বজনদের বিষয়টি জানানোর পর পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ফোর্ট হুড কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, এই দুর্ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি মার্কিন বিমানবাহিনীর B-52 বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা আটজনই নিহত হন।
সূত্র: এএফপি
দিল্লির যন্তর মন্তরে পুনরায় আন্দোলন শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দ্বীপকে। বুধবার (১২ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই যন্তর মন্তরে দ্বিতীয় ধাপের আন্দোলন শুরু হবে। তবে ঠিক কোন কারণে আন্দোলন শুরু করা হবে সেটি উল্লেখ করেননি তিনি।
অভিজিৎ বলেন, “ইন্সটাগ্রামে অনেকে কমেন্ট করছেন যে কখন যন্তর মন্তরের সিজন-২ শুরু হবে। আমি তাদের বলতে চাই খুব শিগগিরই সিজন-২ (আন্দোলন) শুরু হবে।”
সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি গত কয়েকদিন ধরেই দেশটির বিভিন্ন জায়গায় চলা তরুণদের অন্যান্য আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করার চেষ্টা করছে। এরমধ্যেই অভিজিৎ এমন মন্তব্য করলেন।
তবে কোন কারণে আন্দোলন শুরু করবেন সেটি স্পষ্ট করেননি তিনি। এছাড়া নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাছে কি দাবি জানাবেন সেটিও উল্লেখ করেননি তিনি।
উত্তরপ্রদেশের স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন
ভারতের উত্তরপ্রদেশের একটি স্কুল শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি হামিরপুর নামে একটি স্থানের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের অফিসের দিকে মিছিল নিয়ে যায়। তাদের দাবি ছিল, স্কুলে যাওয়ার রাস্তাটি ঠিক করে দিতে হবে। ওই মিছিলে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ও ১০০ অভিভাবক অংশ নেন। অভিজিৎ দ্বীপকে এ আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, স্কুলে যাওয়ার রাস্তার দিকে অন্তত এক দশক আগে সরকারের নজর দেওয়া উচিত ছিল।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিযোগ করেছেন, তারা তাদের দলের বৈঠক আয়োজনের জন্য কোনো ভেন্যু পাচ্ছেন না। সব জায়গা থেকে বলা হচ্ছে উপর মহল থেকে ভেন্যু না দিতে নির্দেশ দেওয়া আছে।
তিনি বলেছেন, যদিও তারা বৈঠকের জন্য একটি হল পেয়েছিলেন। কিন্তু এটির মালিককে বৈঠকের দিন সকালে হুমকি দেওয়া হয়।
তার মতে, এই হুমকি ও চাপ দিচ্ছে নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি। যারা দেশের তরুণদের ভয় পায়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাবড়ায় পাকিস্তানি এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি সন্দেহভাজন পাকিস্তানি জঙ্গি ও গুপ্তচর। গ্রেপ্তারের ঘটনাস্থলটি ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
এসটিএফ জানিয়েছে, রানা রউফ নামে ওই ব্যক্তি পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে রানার যোগাযোগ আছে। ২০১২ সালের দিকে তিনি নেপাল সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ করেন। এরপর ভারতীয় জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কলকাতায় থাকতেন। রানাকে গ্রেপ্তার করা হয় মঙ্গলবার গভীর রাতে। এসটিএফ জানিয়েছে, কলকাতার তপসিয়া এলাকায় ওয়াহাব নামে থাকতেন রানা। সেখানে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল ভারতীয় সেনা, রেল, নৌ বাহিনী সম্পর্কে আইএসআইয়ের কাছে তথ্য পাচার করা।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি ভারত থেকে বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনা ছিল রানার। এজন্য তিনি হাবড়ায় গিয়েছিলেন। পরে সেখানে এসটিএফের গোপন অভিযানে গ্রেপ্তার হন। তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিক পাকিস্তানি নম্বরে কথোপকথনের তথ্য এবং সেনা, নৌ ও রেল সংক্রান্ত ছবি পাওয়া গেছে।
রানাকে জাল নথি তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে তপসিয়া থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। প্রাথমিক তদন্তের পর গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ভারতে অনুপ্রবেশের পর রানা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত ছিলেন।
এই ঘটনার কয়েকদিন আগে বর্ধমানে দুজনকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তাদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ছিল। তারা শুভেন্দুর গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৭০০ মানুষ।
এদিকে, বুধবার (১২ আগস্ট) কালি ও পেরেইরাসহ ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোতে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) লাতিন দেশ কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য মতে, এই শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় এটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। সোমবার রাত পর্যন্ত ভূমিকম্প পরবর্তী ২১টি কম্পন (আফটার শক) রেকর্ড করা হয়েছে এবং আরও হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে প্রায় ৫ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে যার অধিকাংশ আবাসিক ভবন ছিল।
জানা গেছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে পশ্চিম কলম্বিয়ায় আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালি, পেরেইরা ও চোকো অঞ্চল। তবে, প্রত্যন্ত চোকো অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির পুরো তথ্য এখনো জানা যায়নি।
এই ভূমিকম্পে কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী বোগোতা থেকে ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই শহরটিতে প্রায় ২২ লাখ মানুষ বসবাস করেন। ভূমিকম্পে শহরটির প্রায় ৪৫টি ভবন পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।
কালি শহরের দক্ষিণাঞ্চলের ভ্যানেসা নামের একটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। সাততলা এই আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ২০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাতুড়ি, কোদাল ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কংক্রিটের স্তর সরানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। তাদের সঙ্গ দিচ্ছেন শত শত স্বেচ্ছাসেবক।
জানা গেছে, ভবনটি ধসে পাশের একটি নার্সারি স্কুলের ওপর পড়ে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ম্যাক্সিমিলিয়ানো হেরেরা জানিয়েছেন, নার্সারিটির ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১৭ জন শিশু আটকে থাকাতে পারে।
আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটির কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা কার্যক্রমের উপপরিচালক ক্যামিলা গোমেজ বলেছেন, এমন একটি অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে, যেখানে আগে থেকেই গভীর সংকট রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জরুরি সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি ‘বেশ ভালোভাবেই চলছে’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী মার্কিন বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের পরিস্থিতি ভালোভাবেই চলছে– একেবারেই ভালো চলছে।
হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ওপর আমাদেরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে, অন্য কারো নয়, কেবল আমাদেরই। আমাদের নৌবাহিনী অবিশ্বাস্য রকমের ভালো এবং আমাদের দেশের জন্য সবকিছু দারুণভাবে এগোচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ইরানকে বিশ্বাস করি না।
ইরানকে অবিশ্বাস করার ক্ষেত্রে আমিই সবার আগে থাকব, তারা আমার সঙ্বেগ প্রতিনিয়ত মিথ্যা কথা বলেছে। এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীর ওপর আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। একইসঙ্গে মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পরিচালনা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনা ‘অগ্রসর পর্যায়ে’ রয়েছে। তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেই উপসাগর ও লোহিত সাগরে জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, পরিস্থিতি আবারও শান্তি বা চুক্তির অনুকূলে এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, গত দুই-তিন দিনের সংকেত বলছে, আমরা কোনো ধরনের সমঝোতার খুব কাছাকাছি।
সূত্র: আল জাজিরা
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দেশটির গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের দায়ে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করার পর এ সাজা দেওয়া হলো।
উল্লেখ্য, সিরিয়ার ইসলামপন্থী নেতা আহমেদ আল-শারার (বর্তমান প্রেসিডেন্ট) নেতৃত্বে দেশটির বিদ্রোহীরা বাশার আল-আসাদ সরকারকে উচ্ছেদ করার সময় তৎকালীন এই প্রেসিডেন্ট পালিয়ে রাশিয়ায় চলে যান। এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার দামেস্কের ফৌজদারি আদালত বাশার আল–আসাদকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। আর আতেফ নাজিবকে পরিকল্পিত ‘হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
আদালত বলেছেন, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে বাশার আল–আসাদ সরকারের সংঘটিত অপরাধগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
প্রসঙ্গত, আরব বসন্তে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে স্বৈরশাসকদের পতন ঘটেছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি টিকে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর নৃশংস স্বৈরশাসন চালিয়ে যান আরও এক যুগের বেশি।
তবে আরব বসন্তের ১৩ বছরের মাথায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতন ঘটে নাটকীয়ভাবে। তাঁর পতনের মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের ৫৩ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের শাসন শুরু হয়েছিল গত শতকের সত্তরের দশকে। বাশার আল-আসাদের বাবা হাফিজ আল-আসাদের হাত ধরে।
হাফিজ আল-আসাদ ১৯৭১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০০০ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর পর সিরিয়ার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন বাশার আল-আসাদ।
ক্ষমতার প্রথম দিকে বাশার আল-আসাদ সংস্কারের ব্যাপারে উদ্যোগী হন। বাবার ২৯ বছরের শাসনামলের বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা তিনি শিথিল করেন। কিন্তু পরে সংস্কারকের ভূমিকা থেকে বাবা হাফিজ আল-আসাদের মতোই একজন কর্তৃত্ববাদী ‘স্বৈরশাসকে’ পরিণত হন।
সিরিয়ায় আরব বসন্তের ঢেউ লাগে ২০১১ সালের মার্চে। দেশটিতে শুরু হয় বাশার আল-আসাদবিরোধী বিক্ষোভ। বিক্ষোভ দমনে সহিংস উপায় বেছে নেন বাশার।
সরকারি দমন-পীড়নের মুখে একপর্যায়ে বাশার আল-আসাদবিরোধীরা হাতে অস্ত্র তুলে নেন। শুরু হয় এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ।
সিরিয়াজুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে। এ লড়াইয়ে একের পর এক এলাকা বাশার আল-আসাদ সরকারের হাতছাড়া হয়।
সিরিয়া সংকটে জড়িয়ে পড়ে আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক পরাশক্তি। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইরান বাশার আল-আসাদের পক্ষ নিয়ে তাঁকে রক্ষায় সামরিক শক্তি নিয়োগ করে।
লেবাননের ইরানপন্থী প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহও সক্রিয়ভাবে বাশার আল-আসাদের পাশে দাঁড়ায়।
মিত্রদের সামরিক সহায়তা নিয়ে ২০২০ সাল নাগাদ আলেপ্পোসহ সিরিয়ার মূল শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান বাশার আল-আসাদ। তখন থেকে সিরিয়ার সিংহভাগ এলাকায় চলছিল বাশার আল-আসাদের শাসন। তবে দেশটিতে সংঘাত, রক্তপাত পুরোপুরি থেমে থাকেনি।
সিরিয়ায় প্রায় ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে ৬ লাখের বেশি মানুষ নিহত হন। বাস্তুচ্যুত হন ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ। গৃহযুদ্ধে ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়ে সিরিয়া। কিন্তু এদিকে সামান্যতম ভ্রুক্ষেপ না করে বাশার আল-আসাদ তাঁর ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে ব্যস্ত থাকেন।
ঠেকানো যায়নি পতন
হঠাৎ বিশ্বের নজর সিরিয়া থেকে অন্যত্র সরে যায়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করে রাশিয়া। এই অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার সামরিক অগ্রাধিকারে চলে আসে ইউক্রেন যুদ্ধ।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজা যুদ্ধ ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। ইসরায়েল-হিজবুল্লাহও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। আবার ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
পরের বছর ২০২৪-এর নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ নির্বাচনের দিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের দৃষ্টি ছিল। নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়ে চমক দেন।
এসব বৈশ্বিক ঘটনার ডামাডোলে সিরিয়া ইস্যু হারিয়ে যেতে বসেছিল। তবে নভেম্বর মাসেরই (২০২৪) শেষ দিকে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের আচমকা ও বিস্ময়কর অগ্রযাত্রার মধ্য দিয়ে আবার বৈশ্বিক নজরের কেন্দ্রে চলে আসে সিরিয়া।
২৭ নভেম্বর সিরিয়ার বিদ্রোহী যোদ্ধারা নতুন করে, নতুন উদ্যমে বাশার আল-আসাদ সরকারবিরোধী অভিযান শুরু করেন। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)।
পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ২৮ নভেম্বর মস্কোয় ছুটে যান বাশার আল-আসাদ। তিনি রাশিয়ার কাছে সামরিক সহায়তা চান। তাঁকে টিকিয়ে রাখার আবেদন জানান। কিন্তু রাশিয়ার চিন্তায় তখন ইউক্রেন। তাই মস্কো আর আগের মতো বাশার আল-আসাদকে সামরিক সহায়তা দিতে আগ্রহ দেখায়নি।
দারুণ হতাশা নিয়ে দেশে ফেরেন বাশার আল-আসাদ। তবে তিনি তাঁর মস্কো সফরের ব্যর্থতা চেপে রাখেন। ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সামরিক কমান্ডারদের মিথ্যা আশার বাণী শোনান। বিদ্রোহীদের সমূলে নির্মূলের হুমকি দেন।
অভিযান শুরুর মাত্র চার দিনের মাথায় ৩০ নভেম্বর সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো দখল করে নেন বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহী যোদ্ধাদের অভিযানের মুখে সিরিয়ার বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থান থেকে পালিয়ে যেতে থাকেন সরকারি সেনাসদস্যরা।
বাশার আল-আসাদকে টিকিয়ে রাখতে রাশিয়া নামকাওয়াস্তে বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা চালায়। অন্যদিকে আলেপ্পো থেকে বিদ্রোহীদের দামেস্ক যাওয়া ঠেকাতে মধ্যবর্তী হামা শহরে যোদ্ধা পাঠায় হিজবুল্লাহ। কিন্তু এসব বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রা থামাতে ব্যর্থ হয়।
একই বছরের ৫ ডিসেম্বর হামা দখল করে নেন বিদ্রোহীরা। তাঁরা দুর্বার গতিতে রাজধানী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। বিদ্রোহীদের হাতে তৃতীয় বৃহত্তম শহর হোমসের পতন হয় ৭ ডিসেম্বর। এরপর দামেস্কের কাছের দেরা ও সুয়েইদা শহরের নিয়ন্ত্রণ হারায় সরকারি বাহিনী।
৭ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদ তাঁর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সেনা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে বাশার আল-আসাদ এ বলে নিশ্চয়তা দেন যে রুশ বাহিনী তাঁকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসবে।
৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সিরিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জালালির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বাশার আল-আসাদ। এই ফোনালাপে মাঠের কঠিন পরিস্থিতির কথা বাশার আল-আসাদকে জানিয়েছিলেন আল-জালালি। জবাবে বাশার আল-আসাদ বলেছিলেন, ‘আগামীকাল, আমরা বিষয়টি দেখব।’
তবে বিষয়টি পরদিন আর দেখার সুযোগ হয়নি বাশার আল-আসাদের। ৮ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীতে ঢুকে পড়েন বিদ্রোহী যোদ্ধারা। বিদ্রোহীদের দামেস্ক দখলের মুখে বাশার আল-আসাদ এদিন ভোরে একটি উড়োজাহাজে করে রাজধানী ছাড়েন। দামেস্ক থেকে যান সিরিয়ার উপকূলীয় শহর লাতাকিয়ায়।
লাতাকিয়ার রুশ বিমানঘাঁটি থেকে বাশার আল-আসাদকে মস্কোয় উড়িয়ে নেওয়া হয়। তিনি এমনভাবে দেশ ছাড়েন যে তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজটিকে রাডারে শনাক্ত করা পর্যন্ত যায়নি।
এরপর বিদ্রোহী যোদ্ধারা ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন, ‘জালিম শাসক বাশার আল-আসাদ পালিয়েছেন। দামেস্ক মুক্ত হয়েছে। সিরিয়া মুক্ত হয়েছে। একটি অন্ধকার যুগের সমাপ্তি হয়েছে। সূচনা হয়েছে এক নতুন যুগের।’