ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:১৯ এএম

ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পর আবারও বড় ধরনের পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে। এ সময় আতঙ্কিত  বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। 


গত সপ্তাহের ওই বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে এখন চরম মানবিক সংকট বিরাজ করছে।


গত সোমবার ভোরে আঘাত হানা ওই পরাঘাতের তীব্রতা ছিল ৪ দশমিক ৬। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। অবশ্য কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে, এর তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ১। রাজধানী কারাকাস ও বিধ্বস্ত বন্দরনগরী লা গুইরা এ সময় কেঁপে ওঠে। লা গুইরার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।


ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নেতা হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এই পরাঘাতে নতুন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে মাটির কম্পন আর ভূমিকম্পের সতর্কসংকেত শুনে কারাকাস ও লা গুইরার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


কারাকাসের এল হাতিলো এলাকার বাসিন্দা আমারেলিস মেন্দোজা বলেন, ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। কাঁপুনিতে হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে যায়। আগের অন্য পরাঘাতগুলো টের না পেলেও আজকের কম্পনটি গত বুধবারের ভূমিকম্পের মতোই শক্তিশালী মনে হয়েছে।’


এই পরাঘাতে রাজধানীর আলতামিরা ও সান বার্নার্দিনো এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়শিবির ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছিল। নতুন করে ভবনধসের ভয়ে অনেকে অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে বা ফুটপাতে তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। বারবার পরাঘাতে কারাকাস মেট্রোর অবকাঠামো ইতিমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোর আরও ক্ষতির আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু লাইন আবারও বন্ধ করে দিয়েছে।


সান বার্নার্দিনোতে গত সপ্তাহের ভূমিকম্পে ২২ ইউনিটের ‘রিটা’ অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। সোমবারের কম্পনের পর সেখানে উদ্ধারকাজ প্রায় দেড় ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়।


নতুন সপ্তাহ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর কিছু দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। তবে মানবিক সংকট গভীর হওয়ায় পার্ক ও গণচত্বরগুলোয় আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার লাশের ব্যাগ দেবে বলে জানিয়েছে। তবে তারা আশা করছে, নিহতের সংখ্যা যেন এত বেশি না হয়।


ভেনেজুয়েলায় নিযুক্ত জাতিসংঘের সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোল্লা দেল তিন্দারো সরকারি তথ্যের বাইরে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি বলেন, ‘নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে জানানো তথ্যের চেয়ে নিশ্চিতভাবেই বেশি হবে।’


তিন্দারো আরও বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মনেপ্রাণে আশা করছি, নিহতের সংখ্যা যেন ওই সংখ্যার (১০ হাজার) চেয়ে কম হয়।’


আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তার প্রশংসাও করেন তিন্দারো। তিনি জানান, ২৭টি দেশ থেকে ২ হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ১৬০টির বেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর উদ্ধারকাজে পাঠানো হয়েছে।


ভেনেজুয়েলার দুটি প্রধান বন্দরের একটি মেরামত করেছে মার্কিন নৌবাহিনী (ইউএস মেরিনস)। এখন সেখান দিয়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা সম্ভব হবে।


মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘লা গুইরা বন্দরটি সচল হয়েছে। সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ফোর্ট লডারডেল বন্দরটি ব্যবহার করছে।’


কারাকাস ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আসা কয়েক শ বাস্তুচ্যুত পরিবার রাজধানীর পূর্ব দিকের ২০০ একর আয়তনের ‘পার্কে দেল এস্তে’ পার্কে আশ্রয় নিয়েছে।কারাকাসের বেলো ক্যাম্পো এলাকার বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী কাতিউস্কা আসুয়াজে চার সন্তান নিয়ে ঘর ছেড়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেকোনো কিছুর চেয়ে জীবনের দাম বেশি।’


আসুয়াজো আরও বলেন, ‘ছাদের একটি পলেস্তারা আগেই খসে পড়েছিল। আমরা চাচ্ছিলাম না মাথার ওপর বাড়িটি ধসে পড়ুক। তাই চলে এসেছি।’


কারাকাসের পশ্চিমে ৩৬ বছর বয়সী মারিউরি পেরেজ ও ৪০ বছর বয়সী জাইমে ব্লাঙ্কোর ঘরটি ধসে পড়েছে। তাঁদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।


পেরেজ বলেন, ‘আমাদের এখন একটি তাঁবু বা ঘুমানোর জন্য অন্তত একটি গদি প্রয়োজন। প্রতিবেশীরা আমাদের খাবার দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের ঘুমানোর কোনো জায়গা নেই।’


গত বুধবার দেশটিতে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ তীব্রতার জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশি–বিদেশি উদ্ধারকর্মীরা যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত ব্যক্তিদের খুঁজছিলেন, ঠিক তখনই নতুন করে পরাঘাতটি অনুভূত হলো।


গত রোববার লা গুইরা রাজ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তি ও তাঁর কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে কিছুটা আশার আলো দেখা দেয়।


ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমরা আজকেও জীবিত মানুষ উদ্ধার করেছি। তাই এই উদ্ধার তৎপরতা বন্ধ হবে না।’


তবে জীবিত মানুষ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এল সালভাদর থেকে আসা এক উদ্ধারকর্মী এএফপিকে বলেন, ‘এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে হয়তো কেবল লাশই পাওয়া যাবে। তবে আমরা আশা ছাড়ছি না। ভাগ্য ভালো থাকলে হয়তো কাউকে জীবিতও পেতে পারি।’


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৫ হাজার ৩৪ জন আহত হয়েছেন। প্রায় ৮০০ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজে ধীরগতি ও পূর্বপ্রস্তুতির অভাব নিয়ে সরকারের সমালোচনা হচ্ছে।


উদ্ধারকাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ। এর মধ্যে লাখ লাখ মানুষ স্যানিটেশনসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।    




পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫৪ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। 


দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।


আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।


দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।


ধর্মেন্দ্র প্রধান

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৪৭ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।


এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।


নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।


ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। 


মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।


ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক। 


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে। 


গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।


মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।


রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।


এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।


এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।


অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।  


সূত্র: দ্য রিপাবলিক



রাভনীত সিং বিট্টু

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’


পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত তার ভিডিও দেখার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।  শুক্রবার (২৪ জুলাই) মধ্যরাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, তার বক্তব্যে যেভাবে শিক্ষার্থী ও তরুণরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, তাতে তিনি আনন্দিত।


ওই ভিডিওবার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, ধন্যবাদ। গতরাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা আমার ভিডিওটি দেখে যেভাবে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন যেন এভাবেই থাকে, আর আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সক্রিয় হয়ে উঠুক।’


ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ। ‘


কড়া আইন আনার ঘোষণা


এর একদিন আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষায়


অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এই উদ্যোগের কথা জানান।


বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাস করার চেষ্টা করা হবে।


প্রশ্নফাঁস নিয়ে যা বলেছিলেন মোদি


এর আগে বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের।’


তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং ১৯ জুলাই তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।


এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া