ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনায় অচলাবস্থা থাকলেও তেহরান ‘শক্তিশালী অবস্থানে’ আছে।
শুক্রবার ডাক্তারদের এক সমাবেশে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা এখন শক্তি ও মর্যাদার অবস্থানে আছি। তাই এখনই যুদ্ধের অবসান ঘটানোই ভালো।”
তিনি বলেন, “পুরো বিশ্ব আমাদের বিজয় স্বীকার করছে এবং জোর দিয়ে বলছে, আমেরিকা সব ধরনের আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করে আমাদের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে এবং সারা বিশ্বে ঘৃণিত হয়েছে।”
আল জাজিরা লিখেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেজেশকিয়ানের ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কর্তৃত্বের অধীন। এর মধ্যেই পার্লামেন্টের কট্টরপন্থি সমালোচকদের বিরোধিতার মুখে জুনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি। ওই সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে নানা ছাড় দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই চুক্তির এমন একটি ধারাও তারা দেখাতে পারবে না, যেটিকে আত্মসমর্পণ হিসেবে গণ্য করা যায়। এতে সব প্রতিশ্রুতিই অপর পক্ষের জন্য প্রযোজ্য।”
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা করে। তার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম এশিয়ার যেসব দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি রয়েছে সেসব দেশে হামলা চালায় ইরান। তার পর থেকে একাধিকবার যুদ্ধ বিরতির সমঝোতায় পৌঁছলেও কার্যত যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারক হওয়ার পর স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরু হলেও তা থমকে যায়।
এ সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই শুক্রবার ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, নতুন কোনো হুমকি দেখা দিলে পাল্টা হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হুমকির জবাবে ‘বিধ্বংসী’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর এ হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, “ইরানের জবাব হবে চূড়ান্ত এবং ব্যাপক। স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি রয়েছে। শত্রুর নতুন হুমকির বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিধ্বংসী, শাস্তিমূলক ও মারাত্মক জবাব দেবে।”
ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা শুরু করার এবং সমঝোতার লক্ষ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার বিষয়ে শুক্রবার ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছে।
পাশাপাশি তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে প্রভাবিত করা সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথটির একটি অংশ তেহরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম বলছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশ দিয়ে গোপনে তেলবাহী জাহাজের বহর পরিচালনা ও সেগুলোর নিরাপত্তা দিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। এর ফলে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের আলোচনায় বসার আগ্রহ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এর মানে হল, আমরা পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা দেখছি।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পুরো অঞ্চলেই আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যার মধ্যে স্থলভাগের অনেকটা এলাকাও পড়ে। তাই তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমার মতে, তারা সঠিক চুক্তিতে যেতে এখনও প্রস্তুত নয়।”
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সতর্ক করে বলেন, কোনও দেশ ইরানকে যে কোনও ধরনের সহায়তা করলে তাদেরও অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত সোমবার জানানো হবে বলে জানিয়েছিলেন বেসেন্ট।
ছবি : সংগৃহীত
কোনো দেশ পরিচালনা করেন না। নেই নিজস্ব সেনাবাহিনী। এমনকি কোনো সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার ক্ষমতাও নেই। তারপরও জাতিসংঘ মহাসচিবের পদটি বিশ্বমঞ্চে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।
এ পদে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিরা একের পর এক যুদ্ধ এড়াতে সহায়তা করেছেন, শান্তিচুক্তি প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছেন এবং মানবিক সংকটে বিশ্ব কীভাবে সাড়া দেবে, সেটির দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমান মহাসচিব ও পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। পরদিন জাতিসংঘের দশম মহাসচিব হিসেবে নতুন কেউ দায়িত্ব নেবেন।
নতুন মহাসচিব বাছাইয়ের জন্য নিরাপত্তা পরিষদে এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফায় অনানুষ্ঠানিক ভোট হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত আটজন প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশ। প্রথম দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের এক প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও তিনি দ্বিতীয় দফার ভোটে পিছিয়ে গেছেন। বিপরীতে অবস্থান মজবুত হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের এক প্রার্থীর।
পরিষদে প্রথম দফার ভোটটি হয় জুলাই মাসে। গত শুক্রবার দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোট হয়েছে। তবে এসব ভোটে এগিয়ে থাকা প্রার্থীই যে মহাসচিব হবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলো যেকোনো সমীকরণ বদলে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন কারও মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া যায় না।
কারা প্রার্থী হয়েছেন?
পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে আছেন পাঁচজন নারী ও তিনজন পুরুষ। তাদের মধ্যে ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘে নিজ দেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আরেক প্রার্থী কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনসিটিএডি) প্রধান। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কৃষ্ণসাগর শস্য উদ্যোগের সমঝোতা করাতে ২০২২ সালে তিনি ভূমিকা রাখেন। ৭০ বছর বয়সী গ্রিনস্প্যান ইহুদি পরিবারের সন্তান। হলোকাস্টের সময় তাঁর মা-বাবা কোস্টারিকায় আশ্রয় নেন।
চিলির আগুস্তো পিনোশের শাসনামলে নির্যাতনের শিকার হওয়া মিশেল বাশেলেত এবার প্রার্থী হয়েছেন। বাশেলেত চিলির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট (২০০৬) ছিলেন। পরে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধানের দায়িত্ব নেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকটি দেশের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। তিনি চীনের উইঘুর সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন।
৭৪ বছর বয়সী বাশেলেতকে সমর্থন দিয়েছে মেক্সিকো ও ব্রাজিল। তবে নিজ দেশের পক্ষ থেকে তিনি কোনো সমর্থন পাননি। গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে কথা বলায় যুক্তরাষ্ট্রও তাঁর সমালোচনা করেছে।
বাকি প্রার্থীদের মধ্যে আছেন- ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা (৬১)। তিনি এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনিও নিজ দেশের সমর্থন পাননি। একই দেশ থেকে প্রার্থী হয়েছেন ইভোনে আ-বাকি। ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল।
এছাড়া, কাতারে রাষ্ট্রদূত থাকার সময় উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন।
এরপর আছেন আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি। তিনি জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাইরে থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাকি সাল (৬৪)। তিনি সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক বিক্ষোভ দমনে তাঁর বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ আছে। এতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হন।
এছাড়া, কফি আনানের সময় আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করা ওলারা ওতুনু (৭৫) এবার প্রার্থী হয়েছেন। তিনি উগান্ডার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
কোন দেশের প্রার্থীরা এগিয়ে?
শুক্রবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে এগিয়ে আছেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট। কূটনীতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের গোপন ভোটে পিছিয়ে গেছেন আগের মাসে এগিয়ে থাকা কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান।
প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধান খুব বেশি নয়। তৃতীয় স্থানে আছেন, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি। এরপরের অবস্থানে আছেন পর্যায়ক্রমে সেনেগালের মাকি সাল, চিলির মিশেল বেশেলেত, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা ও উগান্ডার ওলারা ওতুনু।
জাতিসংঘের শীর্ষ পদটি বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বণ্টনের একটি রীতি আছে। সে অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা থেকে কারও মহাসচিব হওয়ার কথা। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানা ছাড়াও এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের অধিকাংশই এই অঞ্চলের।
নতুন প্রার্থী যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জাতিসংঘ বিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল ফোর্তি সম্প্রতি এএফপিকে বলেন, ‘ভেটো ক্ষমতাধারী পাঁচ দেশ নিজেদের অবস্থান জানাতে আরও সময় নিতে পারে। একইসঙ্গে নতুন প্রার্থীরাও এই দৌড়ে যোগ দিতে পারেন।’
একই ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যে প্রার্থীদের দেখছি, তাদের কাউকে নিয়ে যদি অচলাবস্থা তৈরি হয়, যদি কেউই এগিয়ে যেতে না পারেন, তাহলে আরও কিছু প্রার্থীকে এই দৌড়ে দেখা যেতে পারে।’
কীভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই
নিরাপত্তা পরিষদে এমন আরও অনানুষ্ঠানিক ভোট হওয়ার কথা আছে। সভাপতি দেশ ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিনা লাসেন বলেছেন, পরবর্তী অনানুষ্ঠানিক ভোটের সময় নির্ধারণ নিয়ে পরিষদে আলোচনা চলছে। আর সদস্য দেশ কঙ্গোর রাষ্ট্রদূত জেনন এনগাই মুকঙ্গো বলেছেন, এখনই ঐকমত্যে পৌঁছানোর সময় আসেনি।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৯টি ভোট পেতে হবে। একইসঙ্গে তাঁর বিপক্ষে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো থাকা যাবে না। এই দুই বাধা পার হতে পারলে সেই প্রার্থীর নাম অনুমোদনের জন্য সাধারণ পরিষদে তোলা হয়।
১৯৮০-এর দশকের শুরুতে দুই প্রার্থীকে ভেটো দেওয়া নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। এ ধরনের অবস্থা যাতে পরবর্তীতে তৈরি না হয় সেজন্য চূড়ান্ত প্রার্থীকে বাছাইয়ের আগে অনানুষ্ঠানিক ভোটের ব্যবস্থা চালু হয়। স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশের সমালোচনা থাকলেও প্রক্রিয়াটি এখনো চালু আছে।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য কোনো প্রার্থীর বিপরীতে তিনটি মতামতের যেকোনো একটি দিতে পারে। সেগুলো হলো- সমর্থন, বিরোধিতা অথবা কোনো মত নেই। এই প্রক্রিয়ার শুরুর দিকে ব্যালটের রং একই রকম থাকে। নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটের পর পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের জন্য ব্যালটের রং আলাদা করা হয়। ওই সময় কোনো প্রার্থীর বিপক্ষে ভেটো থাকার বিষয়টি বোঝা যায়। তবে কোন দেশ ভেটো দিয়েছে তা জানা যায় না।
উল্লেখ্য, পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশ ভেটো ক্ষমতার অধিকারী। সেগুলো হলো- চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। ১০টি দেশ দুই বছরের জন্য অস্থায়ী সদস্য হয়।
আগের মহাসচিবরা কেমন ছিলেন
জাতিসংঘ সনদে (১৯৪৫) মহাসচিবকে রাজনৈতিক নেতা নয়; বরং সংস্থাটি প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জাতিসংঘ সচিবালয়ের প্রধান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পদে নির্বাচিত ব্যক্তিরা এমন দেশ থেকে এসেছেন, যেসব দেশকে বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
সংস্থাটির প্রথম মহাসচিব ছিলেন নরওয়ের ত্রিগভে লি। তিনি ১৯৪৬ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কোরীয় যুদ্ধ নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরোধিতার মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর ১৯৫৩ সালে দায়িত্ব পান সুইডেনের দাগ হ্যামারশোল্ড। কোনো বিষয়ে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকলে তিনি মধ্যস্থতা ও পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মহাসচিবের কার্যালয়কে কাজে লাগাতেন।
পরবর্তী মহাসচিবরা শান্তিরক্ষায় এই পদের ভূমিকা আরও বিস্তৃত করেন। মিয়ানমারের উ থান্ট (১৯৬১-১৯৭১) কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন। অস্ট্রিয়ার কার্ট ভাল্ডহাইম (১৯৭২-১৯৮১) মধ্যপ্রাচ্য, সাইপ্রাস ও নামিবিয়ায় কাজের মাধ্যমে ‘শাটল কূটনীতি’র ধারণা এগিয়ে নেন।
পেরুর হাভিয়ের পেরেস দে কুয়েলার (১৯৮২-১৯৯১) ইরান-ইরাক যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতা করেন। মিসরের বুতরোস বুতরোস-ঘালি (১৯৯২-১৯৯৬) স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। ঘানার কফি আনান (১৯৯৭-২০০৬) জাতিসংঘের নিজস্ব কাঠামোর ভেতর থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসে মহাসচিব হওয়া প্রথম ব্যক্তি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বান কি-মুন (২০০৭-২০১৬) জলবায়ু পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দেন। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সময় জাতিসংঘকে অর্থায়ন কমে যাওয়া এবং গাজা, ইউক্রেন, সুদান ও ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। এসব যুদ্ধে স্থায়ী সদস্যদের ভেটোর কারণে বাধ্যতামূলক প্রস্তাব বারবার আটকে গেছে।
মহাসচিবের কী কী ক্ষমতা আছে
সনদের ৯৯ নম্বর অনুচ্ছেদে জাতিসংঘ মহাসচিবের রাজনৈতিক ক্ষমতার কথা বলা আছে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে- এমন যেকোনো বিষয়কে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনতে পারেন। মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাস্তবে এই ক্ষমতা খুব অল্প কয়েকবার ব্যবহার হয়েছে।
মহাসচিবের চারটি প্রধান দায়িত্বের মধ্যে আছে- মধ্যস্থতা, নেতৃত্ব, প্রশাসন ও সতর্ক করা। তিনি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে বা গোপনে মধ্যস্থতা করতে পারেন। পুরো জাতিসংঘের পক্ষে কথা বলার একমাত্র কর্মকর্তা তিনি।
একইসঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রধান। এছাড়া, কোনো বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগে, বিভিন্ন প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মহাসচিব ওই বিষয় সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সতর্ক করতে পারেন।
তবে এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি কোমল পানীয়র বোতল ও কিছু হালকা খাবার হাতে দিয়ে এক বাবা তাঁর সাত বছর বয়সী ছেলেকে মাউন্ট ফুজির সাড়ে ছয় হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত একটি বেঞ্চে বসিয়ে রেখে চলে যান। সে সময় চারপাশ ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। পড়ছিল ঝিরঝির বৃষ্টিও।
মাউন্ট ফুজি জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত। কেন ওই ব্যক্তি সেখানে নিজের শিশুসন্তানকে একা বসিয়ে রেখে চলে গেলেন, তা খুঁজতে তদন্তে নামে পুলিশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির বয়স ৪৮ বছর। তিনি তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে মাউন্ট ফুজিতে হাইকিংয়ে যান। কিন্তু পর্বতে উঠতে গিয়ে পথে ছোট ছেলে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন বাবা ছেলেকে ‘সেখানে অপেক্ষা করতে’ বলেন এবং বড় ছেলেকে নিয়ে পর্বতারোহণ চালিয়ে যান।
পরে ওই পর্বতে অবস্থিত একটি আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মীরা চূড়ার দিকে যাওয়া একটি হাইকিং পথের ষষ্ঠ স্টেশনের কাছে শিশুটিকে খুঁজে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। একপর্যায়ে শিশুটির বাবাকে পথটির সপ্তম ও অষ্টম স্টেশনের মাঝামাঝি স্থানে খুঁজে পাওয়া যায়। শিশুটিকে যেখানে পাওয়া যায়, সেখান থেকে ওই ব্যক্তির অবস্থানের দূরত্ব ছিল প্রায় তিন ঘণ্টার হাঁটা পথ।
স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ছেলেটিকে পাওয়া যায়। পরে ওই বাবা ওপরের স্টেশন থেকে ফিরে এসে ছেলের সঙ্গে মিলিত হন। টানা আট ঘণ্টার অপেক্ষায় ছেলেটি ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়েছিল বলে জানা গেছে।
এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তিকে তিরস্কার করেছেন। জাপান টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন কর্মকর্তা ওই বাবাকে বলেন, এভাবে একটি শিশুকে একা ফেলে রেখে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ জন্য প্রয়োজনে যদি একসঙ্গে পর্বতে ওঠার পরিকল্পনা বাদ দিতে হয়, সেটাই করা উচিত ছিল।
নিজের এমন সিদ্ধান্তের জন্য ওই ব্যক্তি ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিবারটি ফুজিনোমিয়া রুটে পর্বতে উঠেছিল। রুটটি পর্বতের পঞ্চম স্টেশন থেকে শুরু হয়েছে। এ স্টেশন পর্যন্ত গণপরিবহনে পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে চূড়ায় পৌঁছাতে হাঁটা পথে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ও চূড়া থেকে নিচে নামতে আরও তিন ঘণ্টা লাগে বলে পর্বতারোহণের গাইডরা জানিয়েছেন।
১২ হাজার ৩৮৯ ফুট (৩ হাজার ৭৭৬ মিটার) উচ্চতার মাউন্ট ফুজিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পর্বতারোহণ–সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
গত জুলাই মাসে ৯৯ বছর বয়সী এক নারী এ পথে ওঠার সময় পড়ে গিয়ে আঘাত পান। পরে তাঁকে উদ্ধার করতে হয়।
আর গত বছর, নির্ধারিত পর্বতারোহণ মৌসুমের বাইরে মাউন্ট ফুজিতে ওঠা ২৭ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে চার দিনের মধ্যে দুবার উদ্ধার করতে হয়। হারিয়ে যাওয়া মুঠোফোন খুঁজতে তিনি দ্বিতীয়বার পর্বতে যান।
রাজধানী টোকিওর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ফুজিকে ২০১৩ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়। মাউন্ট তাতে ও মাউন্ট হাকুর সঙ্গে এটি জাপানের ঐতিহ্যবাহী তিন ‘পবিত্র পর্বতের’ একটি।
প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ মাউন্ট ফুজিতে আরোহণ করেন। ভিড় এড়াতে কয়েকটি রুটে প্রতিদিন কতজন উঠতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ
ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় আবেদন করা শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় অমিত শাহ বলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পাবেন। এটি আমার প্রতিশ্রুতি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের এ বিষয়ে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
সিএএ-এর অধীনে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা সংগ্রাহকদের কর্তৃত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেও তিনি জানান। সব শরণার্থীকে সম্মানের সঙ্গে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন অমিত শাহ।
এর আগে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্তবর্তী আটটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলা সংগ্রাহকদের সিএএ-এর আওতায় বিচারাধীন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা দিয়েছে। আগে এসব আবেদন কেন্দ্রীয় সরকারের শুমারি, গোয়েন্দা ব্যুরো (আইবি) ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হতো।
তৃণমূল কংগ্রেস ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিএএ বিরোধিতার সমালোচনা করে অমিত শাহ বলেন, আমরা যখন সিএএ এনেছিলাম, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে নিয়ে উপহাস করতেন। তিনি বলতেন, তার সরকার এটি বাস্তবায়ন হতে দেবে না। মমতাদিদি, আপনি এই আইন কার্যকর করতে রাজি হননি, কিন্তু আপনাকে ও আপনার সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। এখন আমাদের এখানে বিজেপি সরকার রয়েছে।
তিনি আরও জানান, চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে রাজ্য থেকে সব অনুপ্রবেশকারীকে বিতাড়িত করবে রাজ্য সরকার।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের ওডিশা প্রদেশ উপকূল থেকে ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ২৪ জন ক্রু সদস্য নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। এমভি ওশান উইনার নামে ওই কার্গো জাহাজটি বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ওডিশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে দশটার দিকে যাত্রা শুরু করে। শনিবার (২২ আগস্ট) ডুবে যাওয়া জাহাজটি ১৭০০ টন লোহার আকরিজক বহন করছিল বলে জানা গেছে। খবর এনডিটিভির।
জাহাজটিতে ২৪ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে চীনের ২০ জন, মিয়ানমারের ৩ জন এবং একজন বাংলাদেশি ছিলেন। এটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল বলে জানা গেছে।
শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ওডিশার শ্রী বিজয়পুরামের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন এমন একটি বার্তা আসে যে, জাহাজটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। জাহাজটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ভিক্টরি স্টার গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড ওই বার্তায় নৌযানটির অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তারও অনুরোধ করে।
ঘটনার পরপরই ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ও ভারতীয় নৌবাহিনী একটি যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। এরইমধ্যে সেখানে উদ্ধার তৎপরতায় দুটি জাহাজ যোগ দিয়েছে এবং আরও একটি জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এরইমধ্যে ডুবে যাওয়া জাহাজের দুইজনকে উদ্ধার করেছে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারীরা।
হরমুজ প্রণালি
বিভিন্ন মাধ্যমে অনুরোধের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। শনিবার (২২ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সম্প্রতি ইরাক সফর করেন। এই সফরে ডলারকে পাশ কাটিয়ে নিজস্ব মুদ্রায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের কথা জানান ঘালিবাফ। এর পাশাপাশি ইরাকি ট্যাংকারগুলোকে হরমুজ পারাপারে বিশেষ অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল বাগদাদ।
শনিবার(২২ আগস্ট) ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরাকের তেলবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে সহযোগিতা করেছে ইরান। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকি তেল রপ্তানির বিষয়টি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাগদাদ।
তবে, বিষয়টি এখনও জটিল রয়ে গেছে বলে তিনি জানান। বাগদাদে অনুষ্ঠিত ‘বাগদাদ ডায়ালগ’ নীতি সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ইরাক। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনও অনেক কম। হামলার ঝুঁকি থাকায় এই জলপথে যাচ্ছে না তেলবাহী ট্যাংকার।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি জানিয়েছেন, তুরস্কের জেইহান (Ceyhan) বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে বাগদাদ। একই সঙ্গে সিরিয়ার বানিয়াস (Baniyas) এবং জর্ডানের আকাবা (Aqaba) বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি শুরু করারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, হরমুজে চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরাক। সংঘাত শুরুর আগে ইরাক প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত এবং মাসে গড়ে ১০ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। এর বেশিরভাগই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বসরা তেল টার্মিনাল থেকে রপ্তানি করা হতো। তবে, হরমুজে সংঘাতের কারণে দেশটির তেল উৎপাদন ও রপ্তানি অনেকাংশে কমেছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।
আদালত বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত এখতিয়ারের সীমা ছাড়িয়ে ওই নীতি নেওয়া হয়েছিল। ম্যানহাটানের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস গতকাল শুক্রবার এ নীতি বাতিল করে রায় দেন।
বিচারক বলেন, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। নীতিটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থী। আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ভিসার আবেদন যাচাই করে কোনো আবেদনকারীকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারা।
সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ করা বিচারক ভার্গাস তাঁর রায়ে বলেন, ‘আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করার এ নীতি প্রচলিত আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।’
জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ওই নীতিতে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। এসব দেশের মধ্যে লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছিল। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অনেক দেশও এ তালিকায় ছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ওপর তাঁদের নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেশি। এ কারণেই তাঁদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।
এ রায়ের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।
বিচারক ভার্গাস এ রায় দিয়েছেন অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা ‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক’ ও ‘আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার’ নামে দুটি সংগঠনের করা মামলায়। সঙ্গে মামলায় ছিলেন তালিকাভুক্ত ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীরা। এ ছাড়া এসব দেশের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য তাঁদের পক্ষে যেসব মার্কিন নাগরিক অভিবাসী ভিসার আবেদন করেছিলেন, তাঁরাও মামলায় ছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসন জানুয়ারিতে এই নীতি কার্যকর করার সময় বলেছিল, এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি ভাতা কিংবা অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতির কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।