ছবি : সংগৃহীত
কোনো দেশ পরিচালনা করেন না। নেই নিজস্ব সেনাবাহিনী। এমনকি কোনো সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার ক্ষমতাও নেই। তারপরও জাতিসংঘ মহাসচিবের পদটি বিশ্বমঞ্চে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।
এ পদে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিরা একের পর এক যুদ্ধ এড়াতে সহায়তা করেছেন, শান্তিচুক্তি প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছেন এবং মানবিক সংকটে বিশ্ব কীভাবে সাড়া দেবে, সেটির দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমান মহাসচিব ও পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। পরদিন জাতিসংঘের দশম মহাসচিব হিসেবে নতুন কেউ দায়িত্ব নেবেন।
নতুন মহাসচিব বাছাইয়ের জন্য নিরাপত্তা পরিষদে এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফায় অনানুষ্ঠানিক ভোট হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত আটজন প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশ। প্রথম দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের এক প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও তিনি দ্বিতীয় দফার ভোটে পিছিয়ে গেছেন। বিপরীতে অবস্থান মজবুত হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের এক প্রার্থীর।
পরিষদে প্রথম দফার ভোটটি হয় জুলাই মাসে। গত শুক্রবার দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোট হয়েছে। তবে এসব ভোটে এগিয়ে থাকা প্রার্থীই যে মহাসচিব হবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলো যেকোনো সমীকরণ বদলে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন কারও মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া যায় না।
কারা প্রার্থী হয়েছেন?
পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে আছেন পাঁচজন নারী ও তিনজন পুরুষ। তাদের মধ্যে ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘে নিজ দেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আরেক প্রার্থী কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনসিটিএডি) প্রধান। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কৃষ্ণসাগর শস্য উদ্যোগের সমঝোতা করাতে ২০২২ সালে তিনি ভূমিকা রাখেন। ৭০ বছর বয়সী গ্রিনস্প্যান ইহুদি পরিবারের সন্তান। হলোকাস্টের সময় তাঁর মা-বাবা কোস্টারিকায় আশ্রয় নেন।
চিলির আগুস্তো পিনোশের শাসনামলে নির্যাতনের শিকার হওয়া মিশেল বাশেলেত এবার প্রার্থী হয়েছেন। বাশেলেত চিলির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট (২০০৬) ছিলেন। পরে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধানের দায়িত্ব নেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকটি দেশের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। তিনি চীনের উইঘুর সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন।
৭৪ বছর বয়সী বাশেলেতকে সমর্থন দিয়েছে মেক্সিকো ও ব্রাজিল। তবে নিজ দেশের পক্ষ থেকে তিনি কোনো সমর্থন পাননি। গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে কথা বলায় যুক্তরাষ্ট্রও তাঁর সমালোচনা করেছে।
বাকি প্রার্থীদের মধ্যে আছেন- ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা (৬১)। তিনি এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনিও নিজ দেশের সমর্থন পাননি। একই দেশ থেকে প্রার্থী হয়েছেন ইভোনে আ-বাকি। ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল।
এছাড়া, কাতারে রাষ্ট্রদূত থাকার সময় উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন।
এরপর আছেন আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি। তিনি জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাইরে থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাকি সাল (৬৪)। তিনি সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক বিক্ষোভ দমনে তাঁর বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ আছে। এতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হন।
এছাড়া, কফি আনানের সময় আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করা ওলারা ওতুনু (৭৫) এবার প্রার্থী হয়েছেন। তিনি উগান্ডার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
কোন দেশের প্রার্থীরা এগিয়ে?
শুক্রবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে এগিয়ে আছেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট। কূটনীতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের গোপন ভোটে পিছিয়ে গেছেন আগের মাসে এগিয়ে থাকা কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান।
প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধান খুব বেশি নয়। তৃতীয় স্থানে আছেন, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি। এরপরের অবস্থানে আছেন পর্যায়ক্রমে সেনেগালের মাকি সাল, চিলির মিশেল বেশেলেত, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা ও উগান্ডার ওলারা ওতুনু।
জাতিসংঘের শীর্ষ পদটি বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বণ্টনের একটি রীতি আছে। সে অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা থেকে কারও মহাসচিব হওয়ার কথা। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানা ছাড়াও এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের অধিকাংশই এই অঞ্চলের।
নতুন প্রার্থী যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জাতিসংঘ বিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল ফোর্তি সম্প্রতি এএফপিকে বলেন, ‘ভেটো ক্ষমতাধারী পাঁচ দেশ নিজেদের অবস্থান জানাতে আরও সময় নিতে পারে। একইসঙ্গে নতুন প্রার্থীরাও এই দৌড়ে যোগ দিতে পারেন।’
একই ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যে প্রার্থীদের দেখছি, তাদের কাউকে নিয়ে যদি অচলাবস্থা তৈরি হয়, যদি কেউই এগিয়ে যেতে না পারেন, তাহলে আরও কিছু প্রার্থীকে এই দৌড়ে দেখা যেতে পারে।’
কীভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই
নিরাপত্তা পরিষদে এমন আরও অনানুষ্ঠানিক ভোট হওয়ার কথা আছে। সভাপতি দেশ ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিনা লাসেন বলেছেন, পরবর্তী অনানুষ্ঠানিক ভোটের সময় নির্ধারণ নিয়ে পরিষদে আলোচনা চলছে। আর সদস্য দেশ কঙ্গোর রাষ্ট্রদূত জেনন এনগাই মুকঙ্গো বলেছেন, এখনই ঐকমত্যে পৌঁছানোর সময় আসেনি।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৯টি ভোট পেতে হবে। একইসঙ্গে তাঁর বিপক্ষে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো থাকা যাবে না। এই দুই বাধা পার হতে পারলে সেই প্রার্থীর নাম অনুমোদনের জন্য সাধারণ পরিষদে তোলা হয়।
১৯৮০-এর দশকের শুরুতে দুই প্রার্থীকে ভেটো দেওয়া নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। এ ধরনের অবস্থা যাতে পরবর্তীতে তৈরি না হয় সেজন্য চূড়ান্ত প্রার্থীকে বাছাইয়ের আগে অনানুষ্ঠানিক ভোটের ব্যবস্থা চালু হয়। স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশের সমালোচনা থাকলেও প্রক্রিয়াটি এখনো চালু আছে।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য কোনো প্রার্থীর বিপরীতে তিনটি মতামতের যেকোনো একটি দিতে পারে। সেগুলো হলো- সমর্থন, বিরোধিতা অথবা কোনো মত নেই। এই প্রক্রিয়ার শুরুর দিকে ব্যালটের রং একই রকম থাকে। নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটের পর পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের জন্য ব্যালটের রং আলাদা করা হয়। ওই সময় কোনো প্রার্থীর বিপক্ষে ভেটো থাকার বিষয়টি বোঝা যায়। তবে কোন দেশ ভেটো দিয়েছে তা জানা যায় না।
উল্লেখ্য, পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশ ভেটো ক্ষমতার অধিকারী। সেগুলো হলো- চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। ১০টি দেশ দুই বছরের জন্য অস্থায়ী সদস্য হয়।
আগের মহাসচিবরা কেমন ছিলেন
জাতিসংঘ সনদে (১৯৪৫) মহাসচিবকে রাজনৈতিক নেতা নয়; বরং সংস্থাটি প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জাতিসংঘ সচিবালয়ের প্রধান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পদে নির্বাচিত ব্যক্তিরা এমন দেশ থেকে এসেছেন, যেসব দেশকে বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
সংস্থাটির প্রথম মহাসচিব ছিলেন নরওয়ের ত্রিগভে লি। তিনি ১৯৪৬ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কোরীয় যুদ্ধ নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরোধিতার মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর ১৯৫৩ সালে দায়িত্ব পান সুইডেনের দাগ হ্যামারশোল্ড। কোনো বিষয়ে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকলে তিনি মধ্যস্থতা ও পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মহাসচিবের কার্যালয়কে কাজে লাগাতেন।
পরবর্তী মহাসচিবরা শান্তিরক্ষায় এই পদের ভূমিকা আরও বিস্তৃত করেন। মিয়ানমারের উ থান্ট (১৯৬১-১৯৭১) কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন। অস্ট্রিয়ার কার্ট ভাল্ডহাইম (১৯৭২-১৯৮১) মধ্যপ্রাচ্য, সাইপ্রাস ও নামিবিয়ায় কাজের মাধ্যমে ‘শাটল কূটনীতি’র ধারণা এগিয়ে নেন।
পেরুর হাভিয়ের পেরেস দে কুয়েলার (১৯৮২-১৯৯১) ইরান-ইরাক যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতা করেন। মিসরের বুতরোস বুতরোস-ঘালি (১৯৯২-১৯৯৬) স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। ঘানার কফি আনান (১৯৯৭-২০০৬) জাতিসংঘের নিজস্ব কাঠামোর ভেতর থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসে মহাসচিব হওয়া প্রথম ব্যক্তি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বান কি-মুন (২০০৭-২০১৬) জলবায়ু পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দেন। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সময় জাতিসংঘকে অর্থায়ন কমে যাওয়া এবং গাজা, ইউক্রেন, সুদান ও ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। এসব যুদ্ধে স্থায়ী সদস্যদের ভেটোর কারণে বাধ্যতামূলক প্রস্তাব বারবার আটকে গেছে।
মহাসচিবের কী কী ক্ষমতা আছে
সনদের ৯৯ নম্বর অনুচ্ছেদে জাতিসংঘ মহাসচিবের রাজনৈতিক ক্ষমতার কথা বলা আছে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে- এমন যেকোনো বিষয়কে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনতে পারেন। মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাস্তবে এই ক্ষমতা খুব অল্প কয়েকবার ব্যবহার হয়েছে।
মহাসচিবের চারটি প্রধান দায়িত্বের মধ্যে আছে- মধ্যস্থতা, নেতৃত্ব, প্রশাসন ও সতর্ক করা। তিনি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে বা গোপনে মধ্যস্থতা করতে পারেন। পুরো জাতিসংঘের পক্ষে কথা বলার একমাত্র কর্মকর্তা তিনি।
একইসঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রধান। এছাড়া, কোনো বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগে, বিভিন্ন প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মহাসচিব ওই বিষয় সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সতর্ক করতে পারেন।
তবে এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ায় পারস্পরিক আস্থা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সময় সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলন কক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করে কক্ষ ত্যাগ করেন।
আজারবাইজানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সিআইসিএ-এর এই সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন। এখানে এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি স্কুলের ছাদ ধসের ঘটনায় ২৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।
রেসকিউ ১১২২-এর আঞ্চলিক পরিচালক আরিফ খাত্তাক জানিয়েছেন, স্কুল ভবন ধসে পড়ার পর উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। তার তথ্যমতে, একজন নারী শিক্ষকসহ মোট ২৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এক বার্তায় তিনি বলেন, "ভবনটি ধসে পড়ার পর প্রাথমিকভাবে ১৬টি মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অভিযান চলে এবং শেষ পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে একজন নারী শিক্ষক রয়েছেন।"
তিনি আরও বলেন, "প্রথমে আমাদের জানানো হয়েছিল যে ভবনটি ধসে পড়েছে। কিন্তু এখানে পৌঁছানোর পর আমরা জানতে পারি, এটি তিনতলা একটি ভবন ছিল। এই তিনতলা ভবনটি ছিল অস্থায়ী কাঠামোর... গুরুতর আহত হয়েছেন ৪৫ জন। তাদের প্রদেশের বড় হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।" আরিফ খট্টক জানান, এই উদ্ধার অভিযানে ১০০ জন উদ্ধারকর্মী, ১৮টি অ্যাম্বুলেন্স এবং তিনটি ভারী যান অংশ নেয়।
এদিকে, স্থানীয় লেডি রিডিং হাসপাতালের (এলআরএইচ) মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম এক বিবৃতিতে বলেছেন, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বেশিরভাগ শিশুই মাথায় আঘাত পেয়েছে। অনেক অভিভাবক হাসপাতালে এসে জড়ো হয়েছেন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহায়তা চেয়েছে।
মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের বয়স ছয় থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলআরএইচে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পেশোয়ারের কর্তৃপক্ষ দুপুরের দিকে জানিয়েছে যে স্কুল ভবন ধসে পড়ার পর উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। তবে সেখানে এখনো ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে।
পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলটির মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিলাল আহমেদ ঘটনাস্থল থেকে আরো জানিয়েছেন, স্কুলটি একটি দোতলা ভবনে অবস্থিত। ভবনটিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে তৈরি ছাদের বদলে প্রিফ্যাব্রিকেটেড ছাদ ছিল বলে মনে হচ্ছে। ধ্বংসাবশেষ দেখে ধারণা করা যায়, ওপরের একটি কক্ষের ছাদের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ার পর সেটিই নিচতলায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুদের ওপর গিয়ে পড়ে।
স্কুলটির সামনে মানুষের ভিড়
এদিকে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, "এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে পুরো জাতি স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে।" প্রেসিডেন্ট নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট "আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন"। এছাড়া তিনি ঘটনার কারণ নির্ধারণে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন।
পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকায় এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রাদেশিক গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন।
সরু রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা
ঘটনাস্থলে থাকা এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, স্কুলটি শহরের এমন একটি সরু গলির মধ্যে অবস্থিত, যেখানে একবারে মাত্র একটি গাড়ি চলাচল করতে পারে। এ কারণে উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধারকাজ চালাতে এবং আহতদের হাসপাতালে নিতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সোহাইল বলেন, "আমার বোন আমাকে ফোন করে বলেছিল, 'ভাই, তাড়াতাড়ি আসো'। স্কুলের ছোট ছোট শিশুরা ছাদের নিচে চাপা পড়েছিল। আমি এবং এলাকার লোকজন দ্রুত কোদাল দিয়ে তাদের বের করার চেষ্টা করি।" উদ্ধারকাজ এখনো চলছে এবং স্কুলটি বা সেখারকার কারো সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, এমন ব্যক্তিদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে পেশোয়ারের উদ্ধার কর্মকর্তা বিলাল ফাইজি বলেন, "আজ সকালে ৮টা ৪৮ মিনিটে নিয়ন্ত্রণকক্ষে খবর আসে যে স্কুলটির ছাদ ধসে পড়েছে। আমরা সেখানে পৌঁছে দেখি, ভবনটির একটি ছাদ আরেকটি ছাদের ওপর ধসে পড়েছে। ওই শ্রেণিকক্ষের শিশুরা এর নিচে চাপা পড়ে।"
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ কিংবা টানা আলোচনা-কোনোটিই চায় না ইরান। তবে ওয়াশিংটন তেহরানের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সুসংহত করতে হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
গালিবাফ বলেন, ‘যখনই আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয় অর্জন করব, তখন রাজনৈতিক অঙ্গনেও সেই বিজয়ের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে হবে।’
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, ‘এর অর্থ অন্তহীন যুদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা নয়। আমরা শত্রুকে ক্লান্ত করে তুলতে লড়াই করি, যাতে তারা আমাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।’
এদিকে হরমুজ প্রণালীর কাছে দুটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ কোনো বস্তু আঘাত হানে। অন্য জাহাজটি সমুদ্রের মাইনে আঘাত পেয়ে ডুবে যায় বলে জানা গেছে। ওই অঞ্চলে অব্যাহত হামলার কারণে জাহাজ চলাচলের গতি কমে এসেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
যদিও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলে আবারও দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং ইরান তাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা হারিয়েছে।
অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের প্রথম সারির নেতারা চলে গেছেন। তারা দ্বিতীয় সারির নেতাদের বেছে নিয়েছিল। তাদেরও অনেকে চলে গেছেন। এরপর তৃতীয় সারির নেতাদের বেছে নেয়া হয়েছে। তাদের অর্ধেকও চলে গেছেন। তারা আমাকে আর কাউকে হত্যা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে বলেছিল। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’
ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে মার্চেন্ট নেভির কর্মকর্তা সৌরভ রাজপুতকে হত্যার দায়ে তার স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি ও স্ত্রীর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১২৬টি শুনানি ও ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ রায় ঘোষণা করেন জেলা জজ অরবিন্দ কুমার মিশ্র। এর দুই সপ্তাহ আগে দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। খবর এনডিটিভির।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মিরাটের ইন্দ্রা নগরে নিজেদের বাড়িতে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুসকান ও সাহিল। প্রথমে খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে সৌরভকে অচেতন করেন তার স্ত্রী। পরে সাহিল বাড়িতে পৌঁছালে দুজন মিলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।
হত্যার পর বাথরুমে সৌরভের মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। এরপর দেহের খণ্ডিত অংশগুলো একটি বড় নীল প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে তাতে বালি, পানি ও সিমেন্টের মিশ্রণ ঢেলে দেওয়া হয়। মরদেহের অস্তিত্ব গোপন করতেই এভাবে ড্রামটি সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করে দেন তারা। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে ড্রামটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।ঘটনার পর মুসকান ও সাহিল হিমাচল প্রদেশে পালিয়ে যান। এদিকে, সৌরভ বেঁচে আছেন এবং ব্যবসায়িক কাজে বাইরে রয়েছেন—এমন ধারণা তৈরি করতে স্বামীর ফোন ব্যবহার করে স্বজনদের বার্তা পাঠাতেন মুসকান।
তবে স্বজনদের সন্দেহ হলে ১৭ মার্চ তারা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সৌরভের বাড়িতে যান। এ সময় সৌরভ ও মুসকানের ছয় বছর বয়সী মেয়ে প্রতিবেশীদের বলে, ‘বাবা ড্রামের ভেতর।’ পরে পুলিশ ড্রামটি কেটে সেখান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। এর দুই দিন পর মুসকান ও সাহিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ পারিপার্শ্বিক, প্রযুক্তিগত ও ভৌত প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। স্থানীয় দোকানিরা সাক্ষ্য দেন, অভিযুক্তরা তাদের কাছ থেকে নীল ড্রাম, সিমেন্ট, বালি ও মাংস কাটার ছুরি কিনেছিলেন। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও টাওয়ারের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে অপরাধের সময় ঘটনাস্থলে সাহিলের উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
রায় ঘোষণার আগে মুসকানের বাবা-মা আদালতকে জানান, সৌরভ ভালো মানুষ ছিলেন এবং অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তাদের আপত্তি নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর থেকে মুসকানের পরিবারের সদস্যরা কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে যাননি।
হাসপাতালের নোংরা মেঝে পরিষ্কার করতে বাধ্য করা হয়েছে এক রোগীর মাকে—এমন একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের দামো জেলা হাসপাতালে। হাসপাতালের নিজস্ব সেবা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা থাকতে কেন একজন অসহায় রোগীর স্বজনকে দিয়ে এই কাজ করানো হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের দামো জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মাকে জোরপূর্বক হাসপাতাল চত্বরের মেঝে থেকে ময়লা পরিষ্কার করানোর এই অভিযোগ সামনে আসে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলা, হাসপাতালের কর্মীদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং সাধারণ রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের বিষয়টি আবার নতুন করে উসকে দিয়েছে।
তবে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সংক্ষিপ্ত ওই ভিডিওটি থেকে ঘটনার পেছনের আসল প্রেক্ষাপট বা ঠিক কী পরিস্থিতিতে ওই মহিলাকে মেঝেসাফাইয়ের কাজ করতে বলা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সাফাই গেয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, সম্প্রতি নয় বরং এই ভিডিওটি দেড় থেকে দুই মাস আগের পুরনো একটি ঘটনা। পুরো বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে।
নেহা বোরা
প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও সাধারণ সম্মেলন উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও সংহতি বার্তা জানিয়েছেন ভারতের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-র সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজেদের ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তাটি শেয়ার করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।
ভিডিও বার্তায় নেহা বোরা বলেন, ভারতজুড়ে এখন যে জেন-জি আন্দোলন চলছে, তা মূলত শুরু হয়েছে বাংলাদেশকে দেখে। আমাদেরকে পথ দেখানোর জন্য ও ভারতের তরুণ সমাজের প্রতি সমর্থন জুগিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমরা জানি, বাংলাদেশে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা ছিল, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই। বর্তমানে ভারতে যে বিক্ষোভ চলছে, তার উদ্দেশ্যেও এক।
তিনি আরও বলেন, আমরা আপনাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। আপনাদের কাছ থেকে আমরা অনুপ্রেরণা পেয়েছি ও আপনাদের করা আন্দোলন থেকে শিখতে পেরেছি। আশা করি, আপনারা ও আমরা মিলে একটি ভালো দক্ষিণ এশিয়া গড়তে পারবো।
সূত্র: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ফেসবুক পেজ