ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি হয়েছে।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৪:৫১ এএম

আনুষ্ঠানিকভাবে 'ভেনেজুয়েলার তেল' বিক্রি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম চালানে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের তেল (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ছয় হাজার ১০০ কোটি) বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তবে এই তেলের ক্রেতা কে বা কারা, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি। আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন ও টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। 


হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স এক বিবৃতিতে টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, 'ভেনেজুয়েলার মাদক-সন্ত্রাসী নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর তাৎক্ষণিকভাবে দেশটির সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক জ্বালানি চুক্তি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মানুষের উপকারে আসবে।'


'মার্কিন তেল খাতের যে প্রতিষ্ঠানগুলো ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামোকে পুনরুজ্জীবিত করতে নজিরবিহীন বিনিয়োগ করতে আগ্রহী ও প্রস্তুত, তাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল ইতিবাচক আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের পশ্চিম গোলার্ধকে মাদক-সন্ত্রাসী, মাদক পাচারকারী ও বিদেশি শত্রুর হাত থেকে সুরক্ষা দিচ্ছেন', যোগ করেন তিনি। 


ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে আরও তেল বিক্রি হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।


তেল বিক্রির খবর সবার আগে প্রকাশ করে নিউইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সেমাফর। 


সংবাদমাধ্যমটি জানায়, তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হচ্ছে। কাতারের একটি ব্যাংকও এর অন্তর্ভুক্ত।


সেমাফরের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কাতারের 'উদার মুদ্রানীতির' কারণে অর্থের প্রবাহে জটিলতা কম।  এ কারণেই কাতারের ব্যাংক বেছে নেওয়া হয়েছে।


ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যতদিন পর্যন্ত না 'সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গতভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়', ততদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই 'ভেনেজুয়েলা চালাবে'।


সঙ্গে দেশটির তেলের মজুদ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মার্কিন নেতা। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ঊর্ধ্বে ভেনেজুয়েলার ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল 'জব্দ' করে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে। তেল বিক্রির অর্থ যুক্তরাষ্ট্র সরকারই বণ্টন করবে। এ ক্ষেত্রে এটা নিশ্চিত করা হবে যাতে কোনো দুর্নীতিবাজ মহল বা শাসকগোষ্ঠী এর ফায়দা নিতে না পারে। বরং দেশটির জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে তেল বিক্রির অর্থ।


গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলার রুগ্ন জ্বালানি খাতের পুনর্নির্মাণে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্রের তেল খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।


তবে অর্থের এই অঙ্কের পেছনে কোনো হিসাব আছে কি না, সেটা স্পষ্ট করেননি রিপাবলিকান নেতা। কোন কোন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে রাজি হয়েছে এবং কি পরিমাণে, সে বিষয়ে কিছুই বলেননি সাবেক আবাসন ব্যবসায়ী ট্রাম্প।


অপরদিকে, মার্কিন জ্বালানি খাতের প্রতিনিধিরা ট্রাম্পের এসব পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। 


হোয়াইট হাউসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে এক্সনমোবিল-এর প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস বলেন, '(ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাত) আপাতত বিনিয়োগযোগ্য নয়। আগে সেখানে বেশ কয়েক ধরনের আইনি ও বাণিজ্যিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিনিয়োগের বিনিময়ে আমরা কি পাব, সেটা বোঝার জন্য এটা ন্যুনতম পূর্বশর্ত।'


অন্যান্য কর্মকর্তারাও লাতিন আমেরিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেন।


গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে তেল খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন ট্রাম্প ও তার শীর্ষ সহযোগীরা।


তা সত্ত্বেও, দিন শেষে কোনো প্রতিষ্ঠানই কারাকাসে লাখো-কোটি ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়নি বলে জানা গেছে।


গতকাল বুধবার তেল বিক্রির খবর পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।


গতকাল বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কানাডাসহ অন্যান্য প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় কম দামে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:২১ পিএম

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় মাইনে আঘাত লেগে তিনটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।


আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, জাহাজগুলো তাদের নির্ধারিত নয়- এমন একটি দক্ষিণের পথ ব্যবহার করছিল। আগুন লাগার পর সেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ উপকূলে পড়ে থাকে।


ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে আইআরজিসির নৌবাহিনীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, জাহাজগুলো নিজেদের সব রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তারা হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত দক্ষিণের পথ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। জাহাজগুলোতে আগুন লাগার ফলে পরিবেশেরও ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। 


তাদের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত পথ দূষিত হয়েছে। ওই পথে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোর মালিক ও নাবিকদের দায়ী করেছে ইরানের নৌবাহিনী।


একই সঙ্গে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের (সেন্টকম) সাইবার জগতের বক্তব্য বা দাবিতে গুরুত্ব না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। 


তাদের ভাষ্য, ‘যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের’ জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। 


তবে তিনটি জাহাজের নাম, সেগুলোর পতাকাবাহী দেশ, হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না এবং আগুন লাগার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া যায়নি।


সূত্র: আল-জাজিরা


মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫০ পিএম

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। উদ্দেশ্য ছিল দেশটির ওপর নতুন করে হামলা ঠেকানো ও শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করা। সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এমন তথ্য জানিয়েছে।


গণমাধ্যমটির বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যান্স সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান রেজাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ওই চিঠি পাঠানো হয়। এতে সম্ভাব্য আলোচনার কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে ‘স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সামরিক অভিযান’ চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশকে এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে বলেছে ওয়াশিংটন। তবে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।


এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, নতুন করে হামলা হলে তারাও বিস্তৃত পরিসরে পাল্টা আঘাত হানবে। মোহসেন রেজাই বলেছেন, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অন্যান্য স্থাপনা।


বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম

ইসরায়েলের নির্বাচনে স্পষ্ট ফল না আসায় দেশটির ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রায় ৮৬ শতাংশ (কোনো কোনো খবরে ৯০ শতাংশ) ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৫৩টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।


অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও আপাতত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। নতুন সরকার গঠনের আলোচনা চলাকালে, এমনকি আগামী বছর আরেকটি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্তও তিনি এ দায়িত্বে থাকতে পারেন।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ইহুদি ভোটারের সমর্থন পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। তবে তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। ফলে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা চলাকালে এবং সম্ভবত আগামী বছর আরেকটি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।


বুধবার (২৮ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ইসরায়েলের তিনটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি, কট্টর ডানপন্থি ও অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর জোট সব মিলিয়ে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন।


ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ফলে এসব দলের ব্যাপক সমর্থন ছাড়া আইজেনকটের ক্ষমতায় যাওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ইহুদি রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেই আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করছেন।


এদিকে ভোট গণনা এখনো চলতে থাকায় ফলাফলে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে নেতানিয়াহুবিরোধী মধ্য-বামপন্থি থেকে কট্টর ডানপন্থি দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত আইজেনকটের জোট নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গিয়েছিল, তার চেয়ে অনেক পিছিয়ে পড়েছে।


রয়টার্স বলছে, নতুন সরকার গঠনের জন্য জোট গঠনের আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। আগামী বছর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্তও তাকে এই দায়িত্বে থাকতে হতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর কিছু বিধিনিষেধ থাকলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তাদের থাকে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


ইসরায়েল ডেমোক্র্যাসি ইনস্টিটিউটের গবেষক গাই লুরি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা নিয়মিত সরকারের মতোই। তবে তাদের ক্ষেত্রে ‘সংযম বজায় রাখার দায়িত্ব’ রয়েছে এবং কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা তুলনামূলকভাবে সীমিত।


রয়টার্স বলছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর রাত ৩টার পর (বাংলাদেশ সময় ৭টার পর) নিজের দল লিকুদ পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। এসময় তিনি ‘শক্তিশালী ডানপন্থি জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান।


বক্তব্যে ইসরায়েলের সামরিক সাফল্য তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেন। নেতানিয়াহুর ভাষায়, ইরানের যে হুমকির কথা তিনি বলছেন, তা ‘চিরতরে’ দূর করার ক্ষেত্রে দুই দেশের সামনে ‘ইতিহাসের এক অনন্য সুযোগ’ এসেছে।


ট্রাম্প এর আগে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় রাখার জন্য ইসরায়েলি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে দুই নেতা মিলে ইরানে ‘কাজ শেষ করতে’ পারেন। নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু ‘খুব ভালো করেছেন’। তার দাবি, নেতানিয়াহুর পক্ষে ট্রাম্পের সমর্থনই ‘তাকে অনেক সাহায্য করেছে’।


এদিকে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন বলে স্বীকার করেছেন আইজেনকটও। তবে রাজনৈতিক স্বার্থে নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যবহার করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।


আইজেনকট বলেন, ‘আমি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রধান এবং সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—নেতানিয়াহু একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী। তার হাতে কোনো ম্যান্ডেট নেই, জনগণের আস্থাও নেই। আপনাদের চ্যালেঞ্জ করার যেকোনো প্রচেষ্টার মুখে দৃঢ় থাকুন।’


এর আগে নেতানিয়াহুর দপ্তর ইরান সংঘাতকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল। বুধবার এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও দপ্তরটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।


এদিকে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে নেতানিয়াহুর থাকার সম্ভাবনা ইসরায়েলের আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে। দেশটির মুদ্রা শেকেলের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ১০ শেকেলে দাঁড়িয়েছে। তেল আবিবের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলোও ৩ শতাংশের বেশি কমেছে।


রয়টার্স বলছে, নির্বাচনের ফল ইসরায়েলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী নেতানিয়াহুর শাসনামলে দেশটির ইহুদিদের মধ্যে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে। ইসরায়েলের ইতিহাসের প্রথমার্ধে রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী মধ্য-বামপন্থিরা এখন ছোট একটি গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।


বর্তমানে প্রায় সব ইহুদি দলই ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৯০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত শান্তি প্রচেষ্টার ভিত্তি ছিল এই স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা।


এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম নির্বাচন। ওই দিন হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে আটক করা হয়। ওই হামলার পর গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ইসরায়েল।


গাজায় যুদ্ধের কারণে ভূখণ্ডটির বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, সেখানে ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।


নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এসব অভিযোগকে তিনি ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেন। এ ছাড়া ইসরায়েলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও চলছে। আর এই মামলাকে তিনি প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৬ পিএম

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো লক্ষ্য করে রাতভর ৬১৩টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি। এর মধ্যে অধিকাংশ ড্রোনই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে জানান, শহরের দিকে এগিয়ে আসার সময় ২৩১টি চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভি) ধ্বংস করেছে আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী। বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শহর থেকে দূরবর্তী এলাকাগুলোতে বাকি ড্রোনগুলোও প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


মস্কো অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে চালানো বড় ধরনের ড্রোন হামলাগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী রেকর্ডসংখ্যক হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে। সে সময় ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন ধ্বংসের কথা জানিয়েছিল তারা।


এদিকে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভেও হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র ইহর তেরেখভ। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান।



  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৬ পিএম

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়া থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরত রাখার মতো কোনো সমঝোতা খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই যোগাযোগের খবর প্রকাশ করে। মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে তারা জানায় যে, চিঠি এবং পরবর্তী আলোচনায় কোনো নির্দিষ্ট শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে কথা হয়নি। বরং আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


পরে নিউইয়র্ক টাইমসও এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এবং যোগাযোগ সম্পর্কে অবগত এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে একই তথ্য নিশ্চিত করে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চিঠিটি পাঠানো হয় এবং রোববার তা ইরানি পক্ষের কাছে পৌঁছায়। চিঠিতে ভ্যান্স সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানান এবং মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রাখেন। একইসঙ্গে তিনি আলোচনার শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচ্যসূচিতে রাখার কথাও উল্লেখ করেন।


নিউইয়র্ক টাইমসকে এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির নেতৃত্ব এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। আজকের মধ্যেই মোহসেন রেজাই আনুষ্ঠানিকভাবে এর জবাব দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দুই পক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই কাতার বা তুরস্কে আলোচনা শুরু হতে পারে।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের কাছে একটি নতুন চুক্তির খসড়া উপস্থাপন করেছে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। তবে তেহরান ওই পরিকল্পনাকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব হিসেবে মানতে নারাজ; বরং একে একটি ‘অগ্রহণযোগ্য ধারণা’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা।


সূত্র: আল জাজিরা


স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৮ এএম

স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার পর দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে এই রাষ্ট্রীয় শোক কার্যকর হয়েছে। খবর- বিবিসি। 


একই সঙ্গে রেলওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।


দুর্ঘটনার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের শুরুতে স্পেনের একই রেলপথে ঘটে যাওয়া অন্য আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত হয়েছিল। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে, বর্তমান দুর্ঘটনার সঙ্গে পূর্বের ওই ঘটনার কোনো মিল নেই। তবুও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


উচ্চগতির রেলব্যবস্থার ওপর জনসচেতনতা ও আস্থা ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে পেদ্রো সানচেজ আরও বলেন, স্পেনের মতো দেশে একই বছরে উচ্চগতির ট্রেনের দুটি দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই খাতে যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।


দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে ধাক্কা দেয় আরেক ট্রেন, ঝরল ৬৮ প্রাণ


বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে ঘটে এ দুর্ঘটনা। যে দুটি ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে; সেগুলোর দুটিই ছিল দ্রুতগতির ট্রেন। আর দুটি ট্রেন মাদ্রিদ থেকে সোয়েদাদে যাচ্ছিল। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্ত ৬৮ জন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেছেন, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই অঞ্চলটির রেললাইনের প্রধান এলজেডবি সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে সেখানে থাকা সব ট্রেনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামার সংকেত দেওয়া হয়।


যারমধ্যে ছিল দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেন’ এবং ‘ইরো ট্রেন’। ওই সময় রেনফে ট্রেনটি পেছনে ছিল। আর ইরো ট্রেনটি ২৫ কিলোমিটার সামনে ছিল।


সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার স্পেনের সরকারি রেলঅবকাঠামো পরিচালনা সংস্থা (আদিফ) ট্রেন পরিচালনার কমান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নেয়।


এরপর যিনি কমান্ডে ছিলেন তিনি ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ চলার অনুমতি দেন। যদিও সিগন্যালে লালবাতি ছিল।


কিন্তু ২৫ কিলোমিটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ‘ইরো ট্রেনটি’ দাঁড়িয়েই ছিল।


লালবাতি সত্ত্বেও ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ শুধুমাত্র চলার অনুমতিই দেওয়া হয়নি, এটিকে কোনো গতির সীমাও বেধে দেওয়া হয়নি। ফলে ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটি’ ২০০ কিলোমিটার গতিতে গিয়ে ২৫ কিলোমিটার সামনে থাকা ‘ইরো ট্রেনকে’ সজোরে ধাক্কা মারে।