ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় ফিরে আসে। হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, বিমানে সামান্য বৈদ্যুতিক ত্রুটি ধরা পড়ায় সতর্কতামূলকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্টের সুইজারল্যান্ড সফরের অংশ হিসেবে তার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।
বোয়িং ৭৪৭ মডেলের বিমানটি ফিরে আসার পর প্রেসিডেন্টের সফরসূচি বাতিল করা হয়নি। পরে ছোট আকারের একটি বোয়িং ৭৫৭ বিমানে করে সফর পুনরায় শুরু করা হয়।
নতুন বিমানটি আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় মধ্যরাতের একটু পর উড্ডয়ন করে। প্রথম ফ্লাইট ছাড়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর এটি উড্ডয়ন করে। খবর সিবিসি নিউজের।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, উড্ডয়নের পর ক্ররা বিমানে একটি ‘ছোট বৈদ্যুতিক সমস্যা’ শনাক্ত করেন। বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবেই ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিমানে থাকা এক সাংবাদিক জানান, উড্ডয়নের পরপরই প্রেস কেবিনের আলো কিছু সময়ের জন্য নিভে যায়। তবে তখন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে দুটি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলো প্রায় চার দশক ধরে উড়ছে। এগুলোর পরিবর্তে নতুন বিমান তৈরির কাজ করছে বোয়িং। তবে নানা জটিলতায় সেই প্রকল্প একাধিকবার বিলম্বের মুখে পড়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়েছে এক কিশোর। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মধ্যরাতের পর এ ঘটনা ঘটে। আত্মরক্ষায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালালে হামলাকারী নিহত হন।
সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিৎসা দাচিচ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পুলিশি নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা জানিয়েছে, সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার তদন্ত করছে।হামলার সময় দূতাবাসে কোনো কর্মী ছিলেন না। ফলে দূতাবাসের কেউ আহত হননি।
যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটেসার্বিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কালো পোশাক পরা ওই কিশোর দূতাবাসের বাইরে নিরাপত্তারক্ষীদের বুথের দরজা খুলে ভেতরে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
বেলগ্রেডের উচ্চতর সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, হামলাকারী একটি ছুরি ছুড়ে মারলে তা ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাম গালে লাগে।পরে পুলিশ কর্মকর্তা নিজের অস্ত্র বের করে কয়েকটি গুলি ছোড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই হামলাকারীর মৃত্যু হয়। আহত পুলিশ কর্মকর্তার আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাচিচ বলেন, হামলাকারীর কাছে দুটি ছুরি ছিল।
আইএসের সমর্থক সন্দেহে তদন্ত
সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আগে থেকেই হামলাকারীর ওপর নজর রাখছিল। সে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের সমর্থক ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
দাচিচ বলেন, হামলাকারীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আইএসের সমর্থনে কালো পতাকার ছবি ছিল।
হামলাকারী পশ্চিম সার্বিয়ার সাবাচ শহরের বাসিন্দা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর দূতাবাসের আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। নিরাপত্তা জোরদার করা হয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও। সরকার পরিবর্তনের পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগসার্বিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পার্লামেন্ট নির্বাচনের কয়েকদিনের মাথায় এ হামলার ঘটনা ঘটল। রোববারের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচের দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন নির্বাচনে জয় পায়।
তবে নতুন সরকার গঠিত না হওয়ায় এখনো পুলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ভুসিচ ও তার মিত্রদের হাতে রয়েছে।অন্যদিকে, ইসরায়েলেও মঙ্গলবার পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছে। বুথফেরত জরিপে সেখানে কোনো পক্ষের স্পষ্ট জয়ের আভাস পাওয়া যায়নি।
তবে সার্বিয়ায় সরকার পরিবর্তন এবং ইসরায়েলে নির্বাচনের সঙ্গে বেলগ্রেডের দূতাবাসে হামলার সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
আগেও হামলার শিকার হয়েছিল দূতাবাস
বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসে এর আগেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের জুনে ক্রসবো নিয়ে হামলা চালিয়ে এক ব্যক্তি দূতাবাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক সার্বীয় পুলিশ কর্মকর্তাকে আহত করেন। পরে ওই হামলাকারীকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।
বেলগ্রেডের একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত বিশেষ পুলিশ ইউনিট নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।
সার্বিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নতুন হামলার পর দূতাবাস ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: এপি
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গাছের নিচে চাপা পড়ে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনম, অনাকাপল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় একজন করে মারা গেছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ বুধবার স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড়টি। উপকূল অতিক্রমের সময় এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপে ছিল। তখন বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ায় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর কেন্দ্র পুরোপুরি স্থলভাগে প্রবেশ করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এটি উত্তর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং ধীরে ধীরে শক্তি হারাবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ছয় ঘণ্টার মধ্যে অর্ণব ঘূর্ণিঝড়ে এবং পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রেল চলাচলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ১০টি স্থানে গাছ পড়ে যাওয়ার মতো ছোটখাটো বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দ্রুত সেগুলোর সমাধান করেছেন। রেল চলাচল নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
স্পেনে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টার কিছু পর রেনফে ও ইরিও পরিচালিত দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের এক সরকারি মুখপাত্র।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণ ও হতাহতের পূর্ণ সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে একটি খাদে ট্রেনের বগিগুলো কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবাকর্মীদের ডাকা হয়।
রেল পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ জানিয়েছে, মধ্য স্পেনের মোরা ও অরগাস শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে মাদ্রিদ থেকে সেভিয়ার দিকে যাওয়া রেনফে ও ইরিওর দুটি দ্রুতগতির ট্রেন জড়িত ছিল।
তোলেদো শহরের কাছের উরদা পৌরসভার মেয়র ম্যানুয়েল গালান জানান, আহতদের রাখার জন্য একটি ক্রীড়া হল প্রস্তুত করতে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে অনুরোধ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আদিফ জানায়, দুই ট্রেনের পেছন থেকে সংঘর্ষের কারণে মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া দ্রুতগতির রেলপথে চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট
ছবি : সংগৃহীত
গত বছরের বেশির ভাগ সময় ভারত ও চীনের সম্পর্ক সতর্কতার সঙ্গে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোচ্ছিল বলে মনে হয়েছে। কয়েক দশক ধরেই দুই দেশের সম্পর্কে উত্থান-পতন দেখা গেছে। বিশেষ করে হিমালয়ের বিতর্কিত সীমান্ত নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
তবে গত কয়েক দিনের ঘটনাবলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২০ সালের সর্বশেষ সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে বরফ গলতে শুরু করেছিল, তা ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ভঙ্গুর হতে পারে।
সাম্প্রতিক উদ্বেগের সূত্রপাত হয় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানের একটি বক্তব্য থেকে। তিনি বলেছেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে চীনের সেনা সদস্যরা হিমালয়ের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকার কয়েকটি স্থানে বিপুলসংখ্যায় ফিরে এসেছেন। এসব এলাকায় তারা ভারতের দাবি করা ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু স্থাপন করেছে।
ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর মহাপরিচালক শত্রুজিৎ সিং কাপুরের এই বক্তব্য দিল্লিতে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রথমত, দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য খুব একটা শোনা যায় না। সংবেদনশীল সীমান্ত সমস্যাগুলো সাধারণত কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তুলে ধরে।
রাজস্থান রাজ্যে সম্প্রতি কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে কাপুর বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি স্থানে ভারতীয় ও চীনের সেনা সদস্যরাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা এখনো চলছে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ে এই মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনাগুলো শুরু হয়। তবে প্রথম দিকে উভয় পক্ষই সেখান থেকে সেনাসদস্য সরিয়ে নেয়।
তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন পর চীনের সেনা সদস্যরা আরও বেশি সংখ্যায় ফিরে আসে। তারা লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) নামে পরিচিত সীমান্তরেখা নিয়ে ভারতের ধারণা অনুযায়ী ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ছয় থেকে সাত কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু স্থাপন করে।
এলএসি হলো একটি অস্পষ্ট সীমারেখা। এটি দুই প্রতিবেশী দেশের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোকে আলাদা করেছে। তিন হাজার ৪৪০ কিলোমিটার বা প্রায় দুই হাজার ১০০ মাইল দীর্ঘ এই বিতর্কিত সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলছে।
চীন অরুণাচল প্রদেশকে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে দাবি করে। তবে দিল্লি বরাবরই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ভারতের বক্তব্য, অরুণাচল প্রদেশ দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত যে সমস্যাগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে এই সীমান্ত বিরোধ অন্যতম। এটি দেশটির জন্য সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।
এই বিরোধের জেরে ১৯৬২ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী সীমান্তযুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে ভারত শোচনীয় পরাজয়ের মুখে পড়ে।
ছয় দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সীমান্তের বড় একটি অংশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত হয়নি। ফলে দুই দেশই একই ভূখণ্ডের ওপর নিজেদের দাবি বজায় রেখেছে।
এ অঞ্চলের দুর্গম ভূপ্রকৃতি সমস্যাটিকে আরও জটিল করেছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, হ্রদ এবং বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গের কারণে সুস্পষ্ট সীমান্ত নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের সেনা সদস্যরা প্রায়ই মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসেন। কখনো কখনো এসব ঘটনা সহিংস সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দেয়।
সর্বশেষ বড় ধরনের উত্তেজনা দেখা দেয় ২০২০ সালের জুনে। সে সময় লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনের সেনা সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা এবং চারজন চীনের সেনা সদস্য নিহত হন।
১৯৭৫ সালের পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রথম প্রাণঘাতী সংঘর্ষ।
ভারতের বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে, সরকার চীনের কাছে ভূখণ্ড হারিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বারবার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ওই সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে। কূটনৈতিক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। বাণিজ্য ও ভ্রমণও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়েক দফা আলোচনার পর ২০২৪ সালে দুই প্রতিবেশী দেশ সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়।
এরপর থেকে তারা সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু করা এবং সংঘর্ষের পর আরোপ করা ভিসার বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করেন। সাত বছরের মধ্যে এটিই ছিল তার প্রথম ভারত সফর।
এসব ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ক আরও ব্যাপকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে আবার মুখোমুখি অবস্থানের খবর প্রকাশিত হওয়ায় বাস্তবে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কাপুরের বক্তব্যের পর ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস আবারও অভিযোগ করেছে, মোদি সরকার বেইজিংয়ের কাছে ছাড় দিচ্ছে।
কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা জয়রাম রমেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'এই গুরুতর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং তার পুরো প্রশাসন নীরব রয়েছে।'
চীনের সেনা সদস্যরারা ভারতীয় ভূখণ্ড বলে বিবেচিত এলএসি সীমান্তরেখার ছয় থেকে সাত কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু স্থাপন করেছিল—কাপুরের এই বক্তব্য ভারত সরকার স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেনি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত সপ্তাহে বলেন, 'চীনা বাহিনী যখন প্রতিষ্ঠিত টহল দেওয়ার নিয়ম থেকে সরে আসে, তখন সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে বিঘ্নিত হয়।'
তিনি বলেন, দুই দেশই অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ ব্যবহার করছে। তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, চীন ভারতের সঙ্গে হওয়া প্রাসঙ্গিক চুক্তিগুলো 'ধারাবাহিকভাবে এবং কঠোরভাবে মেনে চলছে'।
তিনি আরও বলেন, ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য চীন সীমান্ত এলাকায় 'স্বাভাবিক টহল ও ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম' পরিচালনা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপুরের বক্তব্য থেকে বিতর্কিত সীমান্তে চীনের ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থানের একটি বিরল চিত্র পাওয়া যায়।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্যাম শরণ বলেন, অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে চীনের এ ধরনের তৎপরতা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে।
২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে চীনের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে কয়েক দফা আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।
শ্যাম শরণ বলেন, চীনের এসব পদক্ষেপ 'তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ শুরু করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য যথেষ্ট নয়। তবে এর মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতিতে নতুন কিছু প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব'।
ভারতের বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, চীন লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশ—উভয় এলাকাতেই নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। এর ফলে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।
চীনের গণমুক্তি ফৌজের অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কর্নেল ঝৌ বো এখন বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার মতে, ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ থেকে ভারত ও চীন-উভয় দেশই শিক্ষা পেয়েছে।
তিনি বলেন, 'ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য দুই পক্ষেরই আরও সতর্ক হওয়া উচিত।'
তিনি আরও জানান, অরুণাচল প্রদেশে সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনাগুলো চীনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।
ভারত ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা এমন এক সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও বেশ জটিল অবস্থায় রয়েছে।
মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ভারত ও চীন এখনো একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। গত বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৫১ বিলিয়ন ডলার। তবে এই বাণিজ্যে ভারসাম্য চীনের পক্ষে অনেক বেশি। গত বছর ভারতে চীনের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩১ বিলিয়ন ডলার।
যন্ত্রপাতি, বিরল মৃত্তিকা চুম্বক, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি এবং ওষুধের মতো পণ্যের জন্য ভারত এখনো চীনের ওপর নির্ভরশীল।
এই নির্ভরতার কারণে বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব ভারতের শিল্প খাত এবং অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পেও পড়তে পারে।
গত সপ্তাহে চীন সুড়ঙ্গ খননের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। পাতাল রেল ও মহাসড়ক নির্মাণে এসব যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
চীন বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এই বিধিনিষেধ শুধু ভারতকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়নি। তবে ভারতের অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
নিউইয়র্কের ইউনিভার্সিটি অ্যাট অ্যালবানির অধ্যাপক ক্রিস্টোফার ক্লারি বলেন, 'ভারতের প্রতি চীনের নীতি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভারতের উত্থানকে জটিল করে তোলা যায়। এর মধ্যে উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে নির্দিষ্ট কিছু সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে ভারতকে বাধার মুখে ফেলাও রয়েছে।'
গত বছর বিরল মৃত্তিকা চুম্বকের রপ্তানিতে চীনের বিধিনিষেধ আরোপের সময়ও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন, বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের টারবাইন এবং চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্ক্যানার তৈরিতে এসব চুম্বক ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
চীনের ওই পদক্ষেপের কারণে সাময়িকভাবে ভারতের বিভিন্ন শিল্পে সরবরাহের সমস্যা দেখা দেয়। এতে বোঝা যায়, গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপকরণের ওপর বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ বিশ্বব্যাপী সরবরাহব্যবস্থাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
ভারত এখন নিজস্বভাবে বিরল মৃত্তিকা চুম্বক উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে এই শিল্প গড়ে তুলতে সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
বিতর্কিত সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষের জন্য চীনের সঙ্গে উত্তেজনার প্রভাব আরও তাৎক্ষণিক।
অরুণাচল টাইমসের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক টোঙ্গাম রিনা বলেন, 'সীমান্ত এলাকার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা আমাদের জানিয়েছেন, চীনের অনুপ্রবেশ ও দখলদারির কারণে তারা চারণভূমিতে যেতে পারছেন না। এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এমনটি ঘটছে।'
তিনি আরও বলেন, এর ফলে 'এখানকার মানুষরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গ্রামবাসীরা সাধারণত ওই 'নিষিদ্ধ' এলাকাগুলোতে শিকার করতে বা চমরি গাই পালতে আর ফিরে যান না। আবার কবে সেখানে যাওয়ার অনুমতি পাবেন, সে বিষয়েও তারা নিশ্চিত নন।
এই সীমান্ত বিরোধের প্রভাব দিল্লির বৃহত্তর কৌশলগত হিসাব-নিকাশেও পড়ছে।
ভারতের মধ্যে ক্রমেই এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর ফলে ভবিষ্যতে বেইজিংয়ের সঙ্গে কোনো সংঘাত হলে ভারতকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আগ্রহ সীমিত হতে পারে।
চীনের হয়তো ভারতের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়ানোর বিশেষ আগ্রহ নেই। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত বিরোধ অব্যাহত থাকলে চীন কিছু সুবিধা পেতে পারে।
চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি যত বাড়ছে, ততই দেশটি হিসাব করতে পারে যে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা ভবিষ্যতের আলোচনায় তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
ভারতের জন্য সর্বশেষ সীমান্তে মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনাগুলো একটি সতর্কবার্তা। এগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছে, কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলেই সীমান্তে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয় না।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর বক্তব্য দিচ্ছেন লিবারেল পার্টির প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তার পরিবারের সদস্যদেরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে তিনটি সূত্র ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে তার স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ পরিবারের সদস্যরা ঠিক কোথায় রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন।
রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন ফ্লাভিও। তবে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় স্বীকার করেননি। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পাসপোর্ট জমা দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি। লুলা ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়া হবে এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।’
অর্থ পাচারের একটি তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্লাভিওর পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। সোমবার তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা না দেওয়ায় পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে।
আদালতের আদেশে বলা হয়, ফ্লাভিওর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং তার উল্লেখযোগ্য আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় পাসপোর্ট জব্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সোমবার ফ্লাভিও বলেছিলেন, দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি পাসপোর্ট জমা দিয়ে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানোর কথাও জানিয়েছিলেন।
ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার খবর তার নির্বাচনী প্রচারের ব্যবস্থাপককেও বিস্মিত করেছে। সিনেটর রজেরিও মারিনহো সাংবাদিকদের বলেন, আগের দিনই ফ্লাভিওর সঙ্গে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। নির্বাচনে প্রায় ছয় কোটি ভোট পাওয়ায় বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বে তার থাকা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছিল।
ফ্লাভিওর দেশত্যাগে আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা অভিযোগ করেছেন, বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় আনতে ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করছে। রোববারের নির্বাচনের আগে বলসোনারো পরিবারকে ক্ষমতায় ফেরাতে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ফ্লাভিওর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে বিচারিক নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হারের পর জইর বলসোনারোও পরাজয় স্বীকার না করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ব্রাজিলে ফিরে আসেন। অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দেশটির সরকারি ভবনে তাঁর সমর্থকদের হামলার পর তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ফ্লাভিওর দেশত্যাগ নিয়ে কিছু বলেননি। তবে ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রাসিলিয়ায় সাংবাদিকদের লুলা বলেন, ফ্লাভিও দেশ ছেড়েছেন-এ কথা তিনি মাত্রই শুনেছেন। তার মতে, দেশ ছেড়ে না গিয়ে ব্রাজিলেই থেকে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করা উচিত ছিল ফ্লাভিওর।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিও রোববার ফল বাতিলের দাবি তোলার কথা জানিয়েছিলেন। ভোটে অনিয়মের অভিযোগও করেছিলেন তিনি। তবে সোমবার তার দল লিবারেল পার্টি লুলার বিজয় মেনে নেওয়ার কথা জানায়।
ফ্লাভিও কীভাবে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমার মধ্যে দেশ ছাড়লেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাভিও নিয়মিত অভিবাসন তল্লাশিচৌকি দিয়ে দেশ ছাড়েননি।
ফ্লাভিওর সিনেটর হিসেবে মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হলে তিনি বিচার থেকে পাওয়া দায়মুক্তি হারাবেন।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিজেদের জোট এগিয়ে থাকার আভাসের মধ্যে ‘শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তবে সরকার গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আনুষ্ঠানিক ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার জেরুজালেমে নিজ দল লিকুদ পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ‘লিকুদ দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। আমরা একটি শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার গড়ব।’
মঙ্গলবার ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণ শেষে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে প্রথমে বিরোধী জোট এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেলেও পরবর্তী হালনাগাদে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে যায়।
ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হিসাবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের জোট এগিয়ে আছে ৫০টি আসনে। আরব লিস্ট এগিয়ে রয়েছে ১৯টি আসনে। একক দল হিসেবেও লিকুদ পার্টি এগিয়ে আছে।
তবে ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো জোটই নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে নতুন সরকার গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও জোটের হিসাব-নিকাশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনী ফলাফলে নিজেদের জোট এগিয়ে থাকার খবর পাওয়ার পর জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির প্রধান কার্যালয়ে সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। এ সময় তিনি বলেন, সরকার গঠনের বিষয়ে এখনই আলোচনা করা আগাম হয়ে যাবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভোটের প্রকৃত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করবেন তিনি।
নেতানিয়াহু আরও স্পষ্ট করে বলেন, আরবদের সমর্থন নিয়ে ইসরায়েলে কোনো সরকার পরিচালনা করা হবে না।
এবারের নির্বাচনে ইসরায়েলি আরবদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে। প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের সমীকরণে এসব দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে, বিরোধী জোটের নেতা ও ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকটও সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জনগণকে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানান।
আইজেনকট বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং নেতানিয়াহুর ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।’
নেতানিয়াহুকে জনগণের অনাস্থা মেনে নিয়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির পর আবার নতুন করে নির্বাচন আয়োজন করাকে মারাত্মক ভুল বলে মন্তব্য করেন।
সরকার গঠনের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আইজেনকট বলেন, তিনি সবাইকে নিয়ে একটি দায়িত্বশীল জায়োনিস্ট সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরই ইসরায়েলে সরকার গঠনের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।