ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রভাব হারাচ্ছে ইসরায়েল। এ নিয়ে বিরোধীদের চাপের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে আদৌ কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে তেল আবিব, তা নিয়ে সন্দিহান ইসরায়েলিরা। অথচ কয়েক মাস আগেও অঞ্চলটিতে নিজেদের আধিপত্যের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে মনে করছিল ইসরায়েল।
ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওরি গোল্ডবার্গ বলেন, ‘ইসরায়েলের বিরোধীরা অভিযোগ করছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নতি স্বীকার করে গাজায় যুদ্ধ খুব তাড়াতাড়ি শেষ করে দিয়েছেন। ইসরায়েলকে লেবানন থেকে কার্যত তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, সিরিয়ায় কাজ করার স্বাধীনতাও বন্ধ হয়ে গেছে। ইসরায়েলের হাতে এখন যা আছে, তা হলো ফিলিস্তিনিদের হত্যা করার স্বাধীনতা। আর কাতার, তুরস্ক ও মিশর এখন ইসরায়েলের আপত্তি সত্ত্বেও গাজার বিষয়ে যুক্ত হওয়ায়, সেটুকুও বেশিদিন আর থাকবে না।’
ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলের শীর্ষ ব্যক্তিরা সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলের আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহকে নিজেদের মতো করে গড়ে নেওয়ার ক্ষমতা যে কমে গেছে, তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। গাজায় দুই বছর ধরে চলা গণহত্যায় ইসরায়েলের হাতে ৭১ হাজার ৮০০র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন নেতৃত্বে চলে এসেছে বলেই মনে হচ্ছে। গাজার প্রশাসন তদারকির বোর্ডে তুরস্ক ও কাতারকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইসরায়েলের আপত্তিও অগ্রাহ্য করেছে ওয়াশিংটন।
সিরিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারকে দুর্বল করার ইসরায়েলি আকাঙ্ক্ষাও ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজের কারণে বাধার মুখে পড়েছে। বরং যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে নেতানিয়াহু সরকারকে দামেস্কের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে চাপ দিচ্ছে। লেবাননেও ইসরায়েলের পদক্ষেপ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নির্ণায়ক—হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেতের ওপর নির্ভরশীল বলেই জানা যাচ্ছে।
ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে ইসরায়েল কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে—তা অনেকের কাছেই অনিশ্চিত। এমনকি এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না যে, ইসরায়েলের উদ্বেগ উপেক্ষা করেই ওয়াশিংটন আলোচনায় বসতে পারে।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে নেতানিয়াহুর সাবেক সহকারী ও রাজনৈতিক জরিপ বিশ্লেষক মিচেল বারাক বলেন, ‘একটি আশঙ্কা রয়েছে—ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলা না চালিয়ে আলোচনার পথে যাবেন। এতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকবে, কিন্তু তিনি নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরে এমন এক সমঝোতা করবেন, যাতে শাসকগোষ্ঠী থেকেই যাবে। তিনি লেনদেনভিত্তিক রাজনীতিবিদ—এটাই তার ধরন। গাজার মতোই হবে—ইসরায়েল চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করবে, তারপর নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, যার স্বার্থ ট্রাম্পের অধীনে সব সময় আমাদের সঙ্গে মেলে না।’
‘বিগ ব্যাড উলফ’
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান প্রশ্নে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর সক্ষমতা সীমিত হলেও, নতুন একটি যুদ্ধ শুরু হলে তা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে বর্তমান সংকট থেকে স্বস্তি দেবে—এই ধারণা প্রায় সবার মধ্যেই রয়েছে।
চ্যাথাম হাউজের যোসি মেকেলবার্গ বলেন, ইরান হলো ইসরায়েলের ‘বিগ ব্যাড উলফ’—এমন এক ভূরাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, যাকে অনেক ইসরায়েলি কেবল ইসরায়েল ধ্বংসের জন্যই বিদ্যমান বলে মনে করেন।
তার মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নেতানিয়াহুর ঘরোয়া সংকট থেকে দৃষ্টি সরানোর কার্যকর উপায় হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঘিরে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে তদন্ত, বিচার বিভাগের নজরদারি ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা এবং তার চলমান দুর্নীতির মামলাগুলো।
মেকেলবার্গ বলেন, হিব্রুতে একটা প্রবাদ আছে—‘সৎ মানুষের কাজ অন্যরা করে দেয়।’ আমি এক মুহূর্তের জন্যও বলছি না যে নেতানিয়াহু সৎ, তবে তিনি নিশ্চয়ই চান তার কাজটা অন্যরা করে দিক।
যুদ্ধ চান নেতানিয়াহু?
ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে জনমনে আসলে কতটা আগ্রহ রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
গত বছরের জুনে শুরু হওয়া সংঘাতে ইসরায়েল ইরানের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পেরেছিল। তবে ইরানও বারবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হয়। এটি দেখিয়ে দেয়—ইসরায়েল এ অঞ্চলে যে যুদ্ধগুলো চালাচ্ছে, সেগুলো থেকে সাধারণ মানুষ নিরাপদ নয়।
গোল্ডবার্গের মতে, নেতানিয়াহুর জন্য ইরানের সঙ্গে সংঘাতের হুমকি বাস্তব যুদ্ধের চেয়েও বেশি উপকারী। ‘নেতানিয়াহুর যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। তার আসলে কিছুই করার দরকার নেই, শুধু টিকে থাকতে পারলেই হলো—আর সেটা তিনি দারুণভাবে পারেন,’ বলেন তিনি।
তার কথায়, বিশ্বাসযোগ্য কোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর অভাব এবং বাস্তব যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে।
গোল্ডবার্গ বলেন, নেতানিয়াহুর বিচার বিভাগ সংস্কারের বিরোধিতাকারীদের মধ্যে একটা ঠাট্টার কথা চালু আছে—‘এইবার সে শেষ।’ কিন্তু নেতানিয়াহু কখনোই শেষ হন না। তিনি একটি গণহত্যা চালিয়েছেন, আর ইসরায়েলের মানুষ আপত্তি তুলছে কেবল তার ব্যবস্থাপনা নিয়ে। তিনি অঞ্চলজুড়ে সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব হারাচ্ছেন, অথচ খুব কম মানুষই সেটা লক্ষ্য করছে। আমার মনে হয় না, এবারই ‘শেষ’ হবে।
নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। তিনি তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে চার দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন তিনি। চলমান পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ যেন অপব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৫ দিন ধরে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি। তার পদত্যাগের পর আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কেন্দ্র সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আগের দিন তিনি বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘অসামাজিক শক্তি’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলন যাতে অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকা উচিত।
পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।
দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
ধর্মেন্দ্র প্রধান
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।
এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।
ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।
রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।
এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।
সূত্র: দ্য রিপাবলিক
রাভনীত সিং বিট্টু
ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’
পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।