তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা, ক্ষোভ। তাদের অনেকে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দল পরিচালনার জন্য সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে। তাদের কেউ যেমন অভিযোগ করছেন, অভিষেক ব্যানার্জি তাদের দলটিকে "শেষ করে দিলেন", কেউ সামাজিক মাধ্যমে তার উদ্ধত আচরণের কথা লিখছেন, তেমনই তারই উদ্যোগে যে পরামর্শদাতা সংস্থা নিযুক্ত হয়েছিল, সেই 'আইপ্যাক'-এর বিরুদ্ধেও ক্ষুব্ধ অনেকে।আইপ্যাক কর্মীদের 'মাতব্বরি'র কথাও বলেছেন এক নেতা।
আবার সিনেমা জগৎ বা ক্রীড়া জগৎ থেকে যারা তৃণমূল কংগ্রেসে এসেছিলেন, এমন একাধিক পরাজিত প্রার্থী ও টিকিট না পাওয়া অভিনেতাও রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। একাধিক নেতা- মন্ত্রী স্থানীয় গণমাধ্যমে এমন অভিযোগও তুলেছেন যে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা নিয়মিত জেলা ও স্থানীয় স্তরের নেতাদের কাছে অর্থ দাবি করতেন।
ভোটের ফলাফল বেরোনোর পর থেকেই যেভাবে দলের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন, তার প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, ওই সব বক্তব্যের সঙ্গে দল সহমত পোষণ করে না। বরং চারজন নেতা ও মুখপাত্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছে দলটি।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-সহ দলের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী নিজেদের কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
মালদা জেলার প্রবীণ নেতা ও সাবেক পর্যটনমন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী এর জন্য সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির দিকে আঙুল তুলেছেন।
নির্বাচনের ফলাফলের পর তিনি সংবাদমাধ্যমে দলের 'বিপর্যয়ের' জন্য অভিষেক ব্যানার্জিকে দায়ী করে বলেছেন, "একজনই ব্যক্তি আছে যিনি দলটিকে তিলে তিলে শেষ করে দিলেন। তিনি অভিষেক ব্যানার্জি। … দলটাকে যেভাবে নিয়ে গিয়েছিল কর্পোরেট হাউসের মতো, এখানে বাংলাতে কর্পোরেট হাউসে (রাজনীতি) চলে না।"
তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী এবং দলের বর্ষীয়ান নেতা অতীন ঘোষ সংবাদমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন আধুনিক নেতা। তিনি পার্টিটাকে একটি সংগঠিত আকার দিতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছিলেন। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে মানুষের পালস বোঝা যায় না।" তিনি মনে করেন, তৃণমূল স্তরে এমন নেতৃত্বের প্রয়োজন যারা সরাসরি "মানুষের সঙ্গে মিশে মানুষের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করবেন।"
'দলবিরোধী মন্তব্যের' জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে নারায়ন চৌধুরী ছাড়াও ঋজু দত্ত, পাপিয়া ঘোষ, কোহিনুর মজুমদার এবং কার্তিক ঘোষের মতো নেতানেত্রী ও মুখপাত্রদের শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।
'কর্পোরেট স্টাইলে দল চালানো যায়না'
তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ সরাসরি পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের 'মাতব্বরি'র কথা বলছেন। প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রবীণ নেতা খগেশ্বর রায় বলেন, "এই ফলাফলের জন্য আমি ৯৮ শতাংশ আইপ্যাক-কেই দায়ী করব। আমি ১৯৯৮ সাল থেকে দলের হয়ে কাজ করছি। পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা, অনেক নির্বাচন দেখেছি। কিন্তু ২০২১ সাল থেকে আইপ্যাক আমাদের ওপর মাতব্বরি শুরু করল।" তার অভিযোগ, আইপ্যাকের কর্মীরা তৃণমূল স্তরের মানুষের পালস বুঝতে ব্যর্থ।
তার কথায়, "ওরা আসতেন রাজকীয় মেজাজে, এসি গাড়িতে ঘুরে বেড়াতেন। এভাবে দল চালানো যায় না, মানুষের সঙ্গেও মেলামেশা করা যায় না।"
খগেশ্বর রায়ের দাবি, "আইপ্যাক ঠিক করে দিত প্রার্থী কে হবেন বা দলের কর্মসূচি কী হবে। আমরা পুরনো কর্মী হলেও আমাদের কোনো গুরুত্ব ছিল না। দলের অনেক অনুষ্ঠানে আমাদের ডাকা হতো না। এই দলটা কি ওরা গড়েছে, না আমরা? আসল তৃণমূল কংগ্রেসের আদর্শ বা আবেগ, কোনোটাই ওরা বুঝতে পারেনি।"
আরজিকর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক কর্মরত চিকিৎসকের নির্যাতন ও খুনের ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন প্রাক্তন আমলা জহর সরকার। এ বছরের নির্বাচনের আগে, ১৯শে এপ্রিল সমাজিক মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, আইপ্যাকের প্রভাবে দলে একটি 'কর্পোরেট-স্টাইল' রাজনীতির সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। "এটা অত্যন্ত দূঃখজনক। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলির নিজস্ব সদস্য থাকা উচিত। অথচ রাজ্য সরকার ও দলের বাইরে আইপ্যাক নামের একটি তৃতীয় শক্তি সবস্তরে প্রভাব ফেলত," লিখেছিলেন তিনি।
অর্থের বিনিময়ে টিকিট বিলির অভিযোগ
এর আগে, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা অভিযোগ তুলেছিলেন যে, পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক 'টাকার বিনিময়ে' নির্বাচনের টিকিট দেয়। প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায় সংবাদমাধ্যমে আগে বলেছিলেন, প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে উনি 'টাকার কাছে হেরে গেছেন।' বিবিসি সেই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করলে উনি বলেন, "আমি আইপ্যাকের কার্যকলাপ নিয়ে অনেক কিছু বলেছি। টাকার ব্যাপারটা যার বোঝার তিনি বুঝে যাবেন।"
নির্বাচনের আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৭৪ বিধায়ককে প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের যুক্তি ছিল, পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু টিকিট না পেয়ে নেতাদের একাংশ তখন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। পূর্বস্থলী উত্তর আসনের প্রাক্তন বিধায়ক সেই সময়ে সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেছিলেন, তিনি আইপ্যাককে টাকা দিতে পারেননি বলে তাকে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এইসব অভিযোগ ভোটের আগে থেকেই উঠছিল। কখনোই আইপ্যাক-এর তরফে এ নিয়ে কোনো বিবৃতি আসেনি।
'ভালো কাজ করার জায়গা দিত না'
অন্যদিকে, ক্রীড়া দফতরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যেই দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, দলের পক্ষ থেকে একটি 'ললিপপের' মতো তাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, এবং দফতরে 'চা-বিস্কুট' খাওয়া ছাড়া তার কোনো কাজ ছিল না।
সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "যখন আমাকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিল জয়যুক্ত হওয়ার পর, তখন আমি ভেবেছিলাম যে, অনেক কিছু উন্নয়ন উন্নতি করতে পারব এই দফতরে এসে। কিন্তু যা দেখলাম, এখানে ভালো কাজ করার জায়গা দিত না অরূপ বিশ্বাস।" অরূপ বিশ্বাস ছিলেন বিদায়ী মন্ত্রিসভায় রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মনোজ তিওয়ারি বলেন, লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে অব্যবস্থা এবং বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী তিনি। এছাড়া, ক্রীড়া পরিকাঠামো আরও মজবুত করার তার স্বপ্নও 'নষ্ট' করে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন মি. তিওয়ারি।
বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর কাছে পরাজিত হয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক এবং ব্যারাকপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, "২০২১-এ আমার রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ। মানুষ আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন কাজ করার। পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে সেভাবেই বিধায়কের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে গেছি। সে অধ্যায় শেষ হলো ২০২৬-এ। সঙ্গে শেষ হলো আমার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা।" "বাংলার মানুষের মতামতে বাংলায় নতুন সরকার এসেছে। … আশা করব আপনাদের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে যাবে উন্নতির পথে।"
রাজ চক্রবর্তী ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন। বিধায়ক থাকাকালীন তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমোদিত কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন।
অন্যদিকে, শিলিগুড়ি কেন্দ্রে পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেব বলেন, "নির্বাচনের ফলাফলের পেছনে দলের স্ট্র্যাটেজিতে কী ত্রুটি ছিল, তা নিয়ে আমি দলের সঙ্গে আলোচনা করব। আমি মনে করি, নির্বাচনে অনেক অনিয়ম হয়েছে। আমার চোখের সামনে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কারচুপি হয়েছে। আমি দলের খুব পুরোনো কর্মী, সবার সামনে দলের নিন্দা করতে চাই না।"
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা