শুভেন্দু অধিকারী

  • প্রকাশ : সোমবার ১১ মে, ২০২৬, সময় : ৬:২৩ এএম

গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আজ সোমবার প্রথমবার সচিবালয় নবান্নে অফিস করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। 


মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট ১৪ তলায় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দুর সঙ্গেই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রমাণিক। অবশ্য তাঁদের দপ্তর এখনও বণ্টন হয়নি। এই বৈঠকে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। 


এছাড়া একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেন শুভেন্দু। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পসহ প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০ এবং অন্যান্য সেন্ট্রাল স্পনসরড স্কিমে রাজ্য সরকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে বৈঠকে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির বয়স পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে।


সকাল থেকে একের পর দলীয় কর্মসূচি সেরে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয় থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌঁছেন নবান্নতে। সেখানেই তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়া হয়। তারপরই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাসহ একাধিক ইস্যুতে বৈঠক করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ছিলেন বেশ কয়েকটি দপ্তরের সচিব ও কর্মকর্তা। 


শান্তি নিশ্চিত সরকারের অগ্রাধিকার


এরই মধ্যে বৈঠকের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লিখেছেন, ‘আজ রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্যে মুখ্যসচিব শ্রী দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্র সচিব শ্রীমতী সঙ্ঘামিত্রা ঘোষ, রাজ্যের ডিজিপি শ্রী সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার শ্রী অজয় নন্দের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করলাম। 


পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, সুশাসন ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। রাজ্যের জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করাই প্রাথমিকভাবে সরকারের অগ্রাধিকার।’


আজ সোমবার নবান্নে এরপর আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলা ১২টায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে ১টা নাগাদ বৈঠক শুরু করেন ২৩ জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে। 


এরপর বিকেল ৪টায় নবান্নে বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। যদিও তার আগে শুভেন্দু অংশ নেন সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয়ে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান শুভেন্দু। 


বিজেপির নিহত ৩২১ কর্মীর পাশে সরকার


সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপির অকালে ঝরে যাওয়া ৩২১ জনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছি, সমবেদনা জানিয়েছি। তাদের পরিবারের প্রতি এই সরকার দায়বদ্ধ। হত্যার বিচার চান তাঁরা। তা আমরা দেব। 


শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছি। মন্ত্রিসভায় আমার পাঁচজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতীর্থ উপস্থিত ছিলেন। ডবল ইঞ্জিন সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবে। 


প্রথমত, দীর্ঘদিন পর ভয়মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন দেখলো দেশের মানুষ। এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ভোটকর্মী, গণনাকর্মী, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও সমস্ত প্রার্থীদের আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। যাদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই ৩২১ জনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’


সীমান্ত সুরক্ষায় ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তর


শুভেন্দু বলেন, ‘রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গেছে। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আজ থেকেই জমি ট্রান্সফার করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের সচিব ও মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএসএফ যতটা জমি চেয়েছে ততটা জমি দেওয়া হবে। 


আগের সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য ভূমি দপ্তরকে কাজ করতে দেয়নি। আমরা ভূমি দপ্তরকে আজ থেকেই রেডি থাকা জমি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া করতে বলেছি। আগের সরকারের মতো আলাপ করা প্রশ্নোত্তরে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বা তার ক্যাবিনেট যাবে না।’


এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিএসএফকে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে।


কেন্দ্রীয় সরকারের নানা প্রকল্পে যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার


কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্প যেগুলোতে এতদিন রাজ্য সরকার যুক্ত হয় নেই সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন প্রথম ক্যাবিনেটের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে আমরা যুক্ত হব। আমরা আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হলাম। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের উপদেষ্টা ও মুখ্য সচিবের সঙ্গে অতি দ্রুত সম্পন্ন করবেন। প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০ এবং অন্যান্য সেন্ট্রাল স্পনসরড স্কিমে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। উজলা যোজনার ৮ লাখ ৬৫ হাজার পিটিশন যেটা আগের সরকার কেন্দ্রকে পাঠায়নি, আমরা সেটা পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আগের সিআরপিসি আইপিসি চলছিল। আমরা আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, তার সঙ্গেও আমরা যুক্ত হলাম।’


বাড়ানো হলো সরকারি চাকরির বয়স


শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স পাঁচ বছর বৃদ্ধি করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, ২০১৫ সালের পর রাজ্যে সরকারি চাকরিতে কোনো নিয়োগ হয়নি। তাই প্রচুর শিক্ষিত যুবক-যুবতীর বয়স চলে গেছে। সে কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হলো। 


১৬ জুন ২০২৫, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জনগণনার জন্য মিনিস্টার হোম অ্যাফেয়ার্স থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই ফাইল ফেলে রেখেছিল। এরা শুধু পশ্চিমবাংলার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি দেশের সঙ্গে দেশের সংবিধানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এদের মূল লক্ষ্যই ছিল এই জনগণনা আটকে দিয়ে মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। এই মুহূর্ত থেকে জনগণনার কাজ আজ থেকেই শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।’ 


‘আমিত্ব’ নয়, ‘আমরা’ নীতিতে চলব


শুভেন্দুর দাবি, আমাদের কিছু পেপার ওয়ার্কের প্রয়োজন আছে। আমাদের সংকল্পপত্রে যে ঘোষণাগুলো করেছিলাম সেই বিষয়ে আরও কিছু সিদ্ধান্ত আমরা পরের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেব। এই সরকার ‘আমিত্বে’ বিশ্বাস করে না, ‘আমরা’ নীতিতে চলবে। বেঁচে থাকা চার-পাঁচ পার্সেন্ট সমালোচক, তারাও যাতে কোনো সমালোচনা করতে না পারে, আমরা তেমনভাবেই কাজ করব। আমাদের উপর ভরসা রাখুন, আমরা ঠিক পথেই চলব। আগের সিএমকে তো প্রশ্ন করতে পারতেন না।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম আরও বড় ব্যবধানে এগিয়েছে। ভলিউম ও পোশাকের ইউনিটপ্রতি মূল্য দুই দিক থেকেই এগিয়ে যাচ্ছে ভিয়েতনাম। কয়েক বছর ধরেই ক্রমে এ ব্যবধানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি এখন বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ। তৈরি পোশাক দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে এ পণ্য থেকে।


চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম সাত মাস, অর্থাৎ গত জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে সাড়ে ৬ শতাংশ। ভিয়েতনামের কমেছে মাত্র ১ শতাংশ। বাংলাদেশের রপ্তানি কমে ৪৬৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৯৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ, সাত মাসের ব্যবধানে প্রধান বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩২ কোটি ডলার। 


অন্যদিকে জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি কম হয়েছে মাত্র ১১ কোটি ডলার। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৩৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে দেশটি। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯৪৬ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম। বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 


অটেক্সার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনের অবস্থান তৃতীয় প্রধান রপ্তানিকারক দেশের। গত আলোচ্য সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪৫৬ কোটি ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬৯২ কোটি ডলার। 


যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। আলোচ্য সময়ে দেশটির রপ্তানি বেড়েছে ৩ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ২৭৪ কোটি ডলারের পোশাক, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৬৭ কোটি ডলার। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কম্বোডিয়া। রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ২৬২ কোটি ডলারের পোশাক, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৩৭ কোটি ডলার। 


বছরের প্রথম সাত মাসে সারাবিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ৯ শতাংশের মতো। মোট চার হাজার ১৮৩ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে দেশটি। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল চার হাজার ৫৮০ কোটি ডলার। অটেক্সার তথ্য উপাত্ত বলছে, সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের দর ইউনিটপ্রতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের পোশাকের দর কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ভিয়েতনামের পোশাকের কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। চীনা পোশাকের কমেছে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। কেবল মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের পোশাকের ইউনিটপ্রতি দর বেড়েছে ১৪ ও ৬ শতাংশ। 


যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে ভারতের অবস্থান ষষ্ঠ। সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৬ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ২৪৫ কোটি ডলারের পোশাক। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৩০ কোটি ডলার।

সর্বশেষ সব খবর

শেখ হাসিনা ও শেখ সেলিম

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪১ পিএম

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।


তার মতে, শেখ সেলিম এখন আওয়ামী লীগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য। তাই শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিমই দলীয় সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।


ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।


দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে নিজের দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।


এ সময় দেশে ফেরার আগ্রহ রয়েছে বলে জানান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তবে দেশে ফিরলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে তার। শেখ হাসিনার দাবি, দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেও তাকে হত্যা করা হতে পারে।


তার দেশে ফেরার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, প্রত্যেকেরই জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই তিনি দেশে ফেরার নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চান না।


সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা।


তার মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। কোনো সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সর্বশেষ সব খবর

ভিডিওবার্তায় কথা বলছেন মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ এএম

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বৈধ কাজের ভিসাহীন কর্মীদের দ্রুত দেশে ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দেশটিতে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযানের মধ্যেই হাইকমিশন বলেছে, সরকারি সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রেপ্তার এড়িয়ে বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরে যেতে হবে। স্থানীয় সময় রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অনিয়মিত বা বৈধ নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদের নিজ দেশে ফেরার এ আহ্বান জানানো হয়।


ভিডিও বার্তায় কথা বলেন বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ার প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আপনারা হয়তো জানেন, অনিয়মিত বা ডকুমেন্টবিহীন বিদেশি অভিবাসীদের জন্য বর্তমানে মালয়েশিয়ার সরকারের মাইগ্রেশন বিভাগের একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু রয়েছে, যার নাম- মাইগ্র্যান্ট REPATRIATION PROGRAMME 2 তথা BRM 2.0।


এই কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বা ডকুমেন্টহীন বিদেশি নাগরিক বা কর্মীরা আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা এই কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে চান তাদের সহজ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে।


তিনি বলেন, প্রথমত বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। যাদের বৈধ পাসপোর্ট নেই বা পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে তারা বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে একটি ট্রাভেল পারমিট বা টিপি নেবেন।


এরপর দেশে ফেরার জন্য বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। মালয়েশিয়ার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, টিকিটের যাত্রার তারিখ ইমিগ্রেশনে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কমপক্ষে পাঁচ দিন পর এবং ১৪ দিনের মধ্যে হতে হবে।


আবেদনকারীকে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। কোনো প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে না।


আবেদনের সময় সঙ্গে রাখতে হবে মূল পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার কপি, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন উভয় পাসপোর্ট, বাংলাদেশে ফেরার বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট।


সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি ও প্রযোজ্য জরিমানা ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফি ও শর্তাবলি ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নিতে হবে।


তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মনে রাখবেন, BRM 2.0-এর আবেদন করতে কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন। নিজের আবেদন নিজেই করুন এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।’


প্রেস সচিব আরও বলেন, ভাই ও বোনেরা, আপনারা যদি এই কর্মসূচির আওতায় আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে দেশে ফিরতে চান, তাহলে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নিন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৫ এএম

ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় শিক্ষার্থীদের একটি হোস্টেল ভবন ধসে পড়ে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন আরও ১৫ থেকে ২০ জন। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত ছয়তলা ওই ভবনটি ধসে পড়ে। বেসমেন্ট ও ওপরের দিকে পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবনটি মূলত শিক্ষার্থীদের পেয়িং গেস্ট (পিজি) হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস)-এ নিয়ে আসার পর চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং গুরুতর আহত অপর এক শিক্ষার্থী পরে মারা যান।


চিকিৎসার জন্য আরও তিন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজনের হাত ও পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, আর অন্যজন সামান্য আঘাত পেয়েছেন যাকে পর্যবেক্ষণের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আনুমানিক ১৫-২০ জনের সন্ধানে কর্তৃপক্ষের একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধার অভিযান রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।


একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেসমেন্ট এবং ওপরের দিকে পাঁচটি তলা বিশিষ্ট ওই ভবনটি পেয়িং গেস্ট (পিজি) থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। দুপুর দেড়টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ার সময় বেসমেন্টে মেরামতের কাজ চলছিল।


এনডিআরএফ-এর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জীবিতদের সন্ধানে ৭০ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (এনডিআরএফ) দুটি দল এবং একটি ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। আটকে পড়া ব্যক্তিদের শ্বাস নিতে সাহায্য করার জন্য ধ্বংসস্তূপের নিচে অক্সিজেন সিলিন্ডারও নামানো হয়েছিল।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হোস্টেলে থাকা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই কেরালা, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা এবং তারা কাছের কলেজগুলোতে পড়াশোনা করতেন।


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং ভবন ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করছে।

সর্বশেষ সব খবর

পান সারাহ খলিফা

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪০ পিএম

মাদকদ্রব্য তৈরি ও পাচার সংশ্লিষ্ট মামলায় মিসরের একটি আদালত দেশটির সুপরিচিত এক নারী টেলিভিশন উপস্থাপকসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। গতকাল শনিবার দেশটির সরকারি গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


ওই উপস্থাপকের নাম সারাহ খলিফা, বয়স ৩৯ বছর। তিনি ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা ও অপরাধ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো।


সরকার-সংশ্লিষ্ট পত্রিকা আল-আহরাম জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ সংগ্রহ এবং সেগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠন এবং লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখা ও বহন করার অভিযোগে কায়রোর একটি আদালত খলিফা ও অপর ১১ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন।


রায় ঘোষণার আগে আদালত মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির কাছে ফতোয়া (ধর্মীয় মতামত) জানতে চেয়েছিলেন। মৃত্যুদণ্ডের মামলায় মিসরের আইনে এটি একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।


টিভি উপস্থাপক সারাহ খলিফার একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিকও রয়েছে। পাশাপাশি, তিনি এমন একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিক, যা বিভিন্ন পার্টি ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আখবার এল-ইয়োম পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে পাচারের উদ্দেশ্যে সিনথেটিক মাদক তৈরি করা এবং বিদেশ থেকে মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।


আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করেছে। এ ছাড়া, মাদক তৈরির পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।


অন্য একটি মামলায় আদালত সারাহ ও অন্য আসামিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ওই মামলায় এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ ছিল।


মিসরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ধর্ষণসহ কয়েক ধরনের অপরাধ এবং মাদক পাচারের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।


মিসরীয় কমিশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মিসরে ৫৪১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রকাশিত ভিডিওতে ওমান উপসাগরে ইরানের তেল ট্যাংকারে মার্কিন বাহিনীর হামলার দৃশ্য

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫০ এএম

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আঞ্চলিক জলসীমায় দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর মার্কিন বাহিনী তিনটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।


তারা জানিয়েছে, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী এবং একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইরানের একাধিক হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং কোনো মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হননি।


এর প্রতিক্রিয়ায়, মার্কিন বাহিনী ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি ডাউনি এবং জাস্কের কাছে এম/টি স্টার্ক ১ নামের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ দুটিকে ‘স্থায়ীভাবে অচল’ করে দিয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।


সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন বাহিনী গালফ অব ওমানের কাছে খালি থাকা এম/টি কায়লো, যা নোক্সেন নামেও পরিচিত, সেটিকেও ধ্বংস করেছে। জাহাজটির ক্রুদের জাহাজ ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়ার পর এটি করা হয়। ট্যাংকারটিকে অচল করে দেয়ার জন্য একাধিক স্থানে আঘাত করা হয়েছিল বলেও জানানো হয়েছে।


সেন্টকমের বিবৃতির সঙ্গে প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, জাহাজগুলোতে একের পর এক প্রজেক্টাইল আঘাত হানছে, এরপর বড় বড় আগুনের গোলা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে।


মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই তিনটি জাহাজ একটি বহু বিলিয়ন ডলারের নেটওয়ার্কের অংশ, যা আইআরজিসি এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের জন্য রাজস্ব আয় করতে ব্যবহৃত হয়।

সর্বশেষ সব খবর