ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:২১ এএম

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি ইরানি দ্বীপ দখলের জন্য সেনা পাঠাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন মেরিন সেনা ও ছত্রীসেনারা (প্যারাট্রুপার) সেখানে একটি মরণফাঁদে পড়তে পারেন। কারণ, তাঁদের রসদ সরবরাহব্যবস্থা থাকবে অরক্ষিত আর কৌশলগত লক্ষ্যগুলোও অস্পষ্ট। মিডল ইস্ট আইকে এমনটাই বলেছেন সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা।


ওই এলাকায় মার্কিন সামরিক অভিযানটি শুরু হবে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও রাডার ব্যবস্থা অচল (জ্যাম) করার মধ্য দিয়ে। আর এর পরপরই চালানো হবে ব্যাপক বোমা হামলা।


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনসের সাবেক চিফ অব স্টাফ সেথ ক্রুমরিক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে প্রস্তুতিমূলক এবং বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বর্তমানে গ্লোবাল গার্ডিয়ান নামের একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্রুমরিক। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের পর ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করতে ‘প্রস্তুতিমূলক’ হামলা চালানো হবে।


যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি দ্বীপ দখলের চেষ্টা করতে পারে। তবে তিনটি দ্বীপের ওপর বেশি নজর থাকবে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে খারগ দ্বীপ। কুয়েতের উল্টো দিকে অবস্থিত এই দ্বীপটিতে এমন সব স্থাপনা রয়েছে, যেখান থেকে ইরান তাদের মোট তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি করে।


আবু মুসা এবং এর কাছাকাছি আরও দুটি ছোট দ্বীপ উপসাগরীয় অঞ্চলের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। ১৯৭১ সালে ইরানের সাবেক শাহ এগুলো দখল করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত এই দ্বীপগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছে।


অন্য একটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে কেশম দ্বীপ। এটি দখল করা সবচেয়ে কঠিন হবে। কারণ, এটি আয়তনে সবচেয়ে বড় এবং এখানে ইরানের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক রয়েছে। এসব সুড়ঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করে রাখা হয়।


প্রায় দেড় লাখ ইরানি এই দ্বীপে বসবাস করেন। দ্বীপটি বন্দর আব্বাস থেকে খুব সামান্য দূরত্বে অবস্থিত। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে কেশম এবং এর পাশের দ্বীপ লারাকের মধ্যবর্তী পথ দিয়ে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।


আকাশপথে আগ্রাসনের আশঙ্কা বেশি


বিশ্লেষকেরা প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপ যুদ্ধের আলোচনায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মেরিন সেনাদের সমুদ্র থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওকিনাওয়া এবং আইও জিমা দ্বীপের দিকে উঠে আসার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড্যানিয়েল ডেভিস বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ থাকায় মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীর প্রথম অংশটি সম্ভবত আকাশপথেই আসবে।


ডেভিস বলেন, ‘ইউএসএস বক্সার বা ইউএসএস ত্রিপোলিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার করে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই আমি দেখছি না।’ তিনি মূলত দুটি উভচর যুদ্ধজাহাজের কথা বুঝিয়েছেন, যেগুলোতে করে কয়েক হাজার মার্কিন মেরিন সেনাকে এই অঞ্চলে আনা হচ্ছে। এই জাহাজগুলো ছোট আকারের ল্যান্ডিং ক্রাফট (উপকূলে সেনা ও রসদ পৌঁছানোর নৌযান) ও হোভারক্রাফট (উভচর যান) বহনে সক্ষম।


ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ’-এর সিনিয়র ফেলো ডেভিস বলেন, ‘এখানে কেবল একটিই বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, আর তা হলো আকাশপথ।’

মার্কিন সেনাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ভি-২২ অস্প্রে টিল্ট-রোটর বিমান, চিনুক এবং ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করবে।


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত শুক্রবার বলেছেন, স্থলসেনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। তবে এর মধ্যেও ওই অঞ্চলে স্থল অভিযানে পারদর্শী একটি বাহিনী পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন।


প্রায় ২ হাজার ৫০০ সেনার সমন্বয়ে গঠিত দুটি ‘মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের আরও ৩ হাজার ছত্রীসেনাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ইউএস নেভাল পোস্টগ্রাজুয়েট স্কুলের শিক্ষক কালেভ সেপ বলেন, মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীকে সম্ভবত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘাঁটির ওপর নির্ভর করতে হবে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দিলে, তারা (মার্কিন বাহিনী) এটি করতে পারবে না।’


এর আগে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে সমর্থন দেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। আমিরাত প্রকাশ্যে এমন যেকোনো যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে, যা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। সৌদি আরব জনসমক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে তুলনামূলক কম আক্রমণাত্মক হলেও, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।


‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ’র সিনিয়র ফেলো ডেভিস বলেন, হেলিকপ্টারে করে আসা মার্কিন সেনারা কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন এবং এমনকি হালকা অস্ত্র ও আরপিজি (কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ট্যাংকবিধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্র) হামলার মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।


ডেভিস বলেন, ‘আমি বাজি ধরে বলতে পারি যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সেনা নামানো হবে। তবে ইরানও মানচিত্র পড়তে জানে, তাই তারা এর জন্য প্রস্তুত থাকবে।’


‘ফকল্যান্ড আক্রমণের চেয়েও কঠিন’


মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি থাকা কোনো দ্বীপ দখল করার জন্য পশ্চিমা কোনো আক্রমণকারী বাহিনীর শেষ চেষ্টা ছিল ১৯৮২ সালে। ওই সময় ব্রিটেন আর্জেন্টিনার কাছ থেকে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ পুনরায় দখল করে নেয়। সেই সময় উভচর অবতরণের (দ্বীপের তীরে ওঠার) সময় আর্জেন্টিনার বিমানবাহিনী ব্রিটিশ জাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে ইরানের কাছে এখনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন রয়েছে। আর্জেন্টিনা থেকে ফকল্যান্ডের দূরত্বের তুলনায় ইরানের দ্বীপগুলো দেশটির মূল ভূখণ্ডের অনেক বেশি কাছাকাছি। এর ফলে এমনকি প্রথাগত কামানের সাহায্যেও মূল ভূখণ্ড থেকে এই দ্বীপগুলো রক্ষা করা অনেক সহজ।


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা সেপ বলেন, ‘ব্রিটিশদের জন্য ফকল্যান্ড জয় যতটা কঠিন ছিল, পারস্য উপসাগরের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা এবং ড্রোন যুদ্ধের উন্নতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি এখন আরও বেশি কঠিন।’ তিনি বলেন, ‘খুব কম বিশেষজ্ঞই বিশ্বাস করেন যে ইরান মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীর অবতরণ ঠেকাতে পারবে। কিন্তু একবার মার্কিন মেরিন সেনারা বা ছত্রীসেনারা সেখানে পৌঁছে গেলে, তারা প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়বে। খারগ এবং বিশেষ করে কেশম দ্বীপের ভূপ্রকৃতি ইরানি সেনাদের লুকিয়ে থেকে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর সুযোগ করে দেবে।’


‘মোজাইক ডিফেন্স’ প্রয়োগ করবে ইরান


ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) স্থলযুদ্ধবিষয়ক সিনিয়র ফেলো রুবেন স্টুয়ার্ট বলেন, ইরান তাদের ‘মোজাইক ডিফেন্স’ বা খণ্ড খণ্ড প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর আরও বেশি জোর দেবে।


২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সাদ্দাম হোসেনের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সাজানো (টপ টু ডাউন) সামরিক বাহিনীকে দ্রুত পরাজিত করেছিল, তা দেখার পরই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই বিকেন্দ্রীভূত কমান্ড কাঠামো বা ‘ডিসেন্ট্রালাইজড কমান্ড স্ট্রাকচার’ প্রবর্তন করে।


চলমান যুদ্ধজুড়ে এই ‘মোজাইক ডিফেন্স’ ব্যবস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে। আইআরজিসির ৩১টি পৃথক কমান্ড রয়েছে—প্রতিটি প্রদেশের জন্য একটি করে। সেখানকার কর্মকর্তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণের স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা রয়েছে। এমনকি আইআরজিসিকে আরও ছোট ছোট শাখায় বিভক্ত করা সম্ভব।


স্টুয়ার্ট বলেন, ‘তারা গেরিলাযুদ্ধের ওপরই বেশি নির্ভর করবে। আমেরিকানদের এমন কোনো সুযোগ দেবে না, যাতে তাদের খোলা ময়দানে টেনে এনে উন্মুক্ত লড়াইয়ে জড়াতে পারে।’


তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথে বিমান হামলার পাশাপাশি সমুদ্র ও স্থল থেকে ইরানের ওপর অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন মাটিতে থাকা মেরিন সেনা এবং ছত্রীসেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু বা কৌশলে নতুন করে পরিবর্তন আনতে হবে।


আইআইএসএসের সিনিয়র ফেলো স্টুয়ার্ট বলেন, ‘আমরা এমন এক বিমান ও নৌবাহিনীর কথা বলছি, যারা কয়েক সপ্তাহ ধরে অত্যন্ত তীব্রগতিতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এখন মাটিতে থাকা সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে তাদের শক্তিতে টান পড়বে।’


‘আ ব্রিজ টু ফার’


স্টুয়ার্ট বলেন, একবার মার্কিন সেনারা উপকূলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নিলে, তাদের জন্য নিয়মিত খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং গোলাবারুদ সরবরাহের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত সেখানে রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া গাড়ি এবং এমনকি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও মোতায়েন করতে চাইবে। একই সঙ্গে আহত সেনাদের চিকিৎসার জন্য পুনরায় জাহাজে বা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে।


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা সেপ বলেন, ‘একবার সেনারা সেখানে অবস্থান নিলে তাদের রসদ সরবরাহের বিষয়টি সামনে আসবে। এটি একটি বড় সমস্যা। এই সেনাদের টিকে থাকার জন্য নিয়মিত খাদ্য, জ্বালানি, গোলাবারুদ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে।’


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের হিসাব অনুযায়ী, লড়াইয়ে থাকা প্রতি একজন সেনার বিপরীতে নয়জন সহায়ক কর্মীর প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে আবার জলসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং আকাশপথের সুরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী অন্তর্ভুক্ত নয়।’ বলে রাখা ভালো, সেনাদের সহায়তার জন্য যুদ্ধজাহাজ ছাড়াও পারস্য উপসাগরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো সামরিক ঘাঁটির একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে।


কিন্তু পারস্য উপসাগর অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানি হামলার মুখে বেশ অরক্ষিতই প্রমাণিত হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কিং ফাহাদ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে। অন্যদিকে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি অনুযায়ী দেখা গেছে যে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিটি ইতিমধ্যে ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।


নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই অঞ্চলে থাকা ১৩টি ঘাঁটির অধিকাংশ ইরানি হামলায় এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো এখন আর বসবাসের উপযোগী নেই।


মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য মেরিন সেনা এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন হলো ‘অগ্রগামী’ বা মূল আক্রমণকারী শক্তি। সাধারণত একটি বড় আক্রমণকারী বাহিনীর অবতরণের জন্য উপকূলে প্রাথমিক অবস্থা তৈরি করতে এদের ব্যবহার করা হয়। তবে এই ধরনের বাহিনীকে যখন তাদের সক্ষমতার অতিরিক্ত বিস্তৃত করা হয়, তখন তার পরিণতি কী হতে পারে—ইতিহাসে এমন অনেক সতর্কতামূলক উদাহরণ রয়েছে।


‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ’-এর সিনিয়র ফেলো ডেভিস বলেন, ‘এই বাহিনীগুলো নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে অত্যন্ত দক্ষ, কারণ তারা খুব দ্রুত অগ্রসর হতে পারে। কিন্তু যে মুহূর্তে তারা এক জায়গায় স্থির হয়ে যায়, তখনই তারা শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তখন তাদের সুরক্ষা এবং নিয়মিত রসদ সরবরাহ করার প্রয়োজন পড়ে।’ তিনি বলেন, ‘এটি হবে অনেকটা শুটিং গ্যালারির (মরণফাঁদ) মতো।’


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ‘অপারেশন মার্কেট গার্ডেন’-এর ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেন আইআইএসএসের সিনিয়র ফেলো স্টুয়ার্ট। ওই অভিযানে ছত্রীসেনারা মূলত নেদারল্যান্ডসে নাৎসি জার্মানির প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।


স্টুয়ার্ট বলেন, ‘“আ ব্রিজ টু ফার” হলো আকাশপথে মোতায়েন করা এমন এক বাহিনীর ধ্রুপদি উদাহরণ, যারা কোথাও অবস্থান নিতে পারলেও তা ধরে রাখতে পারে না। পারস্য উপসাগরেও এমনটি ঘটতে পারে। কারণ, সেখানে তারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আওতার মধ্যে থাকবে।’ তিনি এখানে ১৯৭৭ সালের শন কনারি এবং মাইকেল কেইন অভিনীত সিনেমার কথা উল্লেখ করেছেন, যা ওই সামরিক বিপর্যয়কে সামনে এনেছিল।


আক্রমণাত্মক অবস্থানে ইরান


ইরানও আক্রমণাত্মক অবস্থানে যেতে পারে। চলতি সপ্তাহে একজন ইরানি নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেছেন, তেহরান বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় অঞ্চল দখলের জন্য প্রস্তুত। বিশ্লেষকেরা এই সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও তাঁরা বলেছেন, অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।


লন্ডনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস গ্রুপের বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্টিফেনস বলেন, ‘হুতিরা এখনো এই সংঘাতে প্রবেশ করেনি (অবশ্য শনিবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে এই সংঘাতে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা)। আমার ধারণা, ইরান হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংঘাত আরও বাড়লে তাদের কাজে লাগানোর জন্য অপেক্ষা করছে। আর স্থল আক্রমণ হবে তেমনই একটি বড় উসকানি।’


বাবেল মান্দেব প্রণালি বর্তমানে সৌদি আরবের লাখ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে এসব তেল রপ্তানি করা হচ্ছে। হুতিরা যদি লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনসের সাবেক চিফ অব স্টাফ ক্রুমরিক বলেন, ইরানও পারস্য উপসাগরজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি খারগ দ্বীপ দখল করতে যায়, তবে ইরান নিশ্চিতভাবেই আরও বেশি পানি শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেল উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে।


ক্রুমরিক বলেন, ইরানের অধিকাংশ দ্বীপ দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের খুব একটা লাভ হবে না, তবে খারগ দ্বীপ দখল করার পেছনে ‘প্রধানত অর্থনৈতিক কারণ’ থাকতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনসের সাবেক চিফ অব স্টাফ আরও বলেন, ‘এটি দখল ইরানি শাসনব্যবস্থাকে এক কঠিন সমস্যার মুখে ফেলে দেবে। যেমন আপনি কি আপনার দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের ওপর অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং কামানের গোলা নিক্ষেপ করবেন। যেখানে কিছু মার্কিন সেনা বা ছত্রীসেনা মারা যেতে পারে; কিন্তু একই সঙ্গে আপনার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডও পঙ্গু হয়ে যাবে?’


তেল রপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে এই দ্বীপটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানতে চায়, তবে তারা স্বেচ্ছায় এমনটি করতে পারে।


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা সেপ বলেন, একই সময়ে কেশম বা আবু মুসার মতো দ্বীপগুলো দখল করলে হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে খুব একটা কাজে আসবে না। তিনি বলেন, ‘পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো থেকে যে সুবিধা পাওয়া যায়, তার বাইরে এই দ্বীপগুলো তেমন নতুন কোনো বাড়তি সুবিধা দেবে না।’




ভূমিকম্প

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৩ পিএম

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে দুই দেশের একাধিক অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুসারে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.২।


শুরুতে এর মাত্রা ৫.৮ বলে ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫.২ নির্ধারণ করা হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের ১১০ কিলোমিটার গভীরে।


আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে দেশটির রাজধানী কাবুল, নানগারহারসহ আশপাশের কয়েকটি প্রদেশে কম্পন অনুভূত হয়। তবে আফগানিস্তানে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


অন্যদিকে, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা এবং উত্তরের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে।


দুই দেশেই পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।


তথ্যসূত্র: রয়টার্স, জিও নিউজ। 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৮ এএম

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা নির্বাচনে নাটকীয় জয় পেয়েছেন। কট্টর ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে তিনি ঐতিহাসিকভাবে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় বসছেন। প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ৮০ বছর বয়সী এই বামপন্থী নেতা পেয়েছেন ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে তাঁর ৪৫ বছর বয়সী প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৪৮.২৫ শতাংশ ভোট।


অক্টোবরের শুরুতে নির্বাচনের প্রথম ধাপে বলসোনারোর কাছে অল্প ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন লুলা। এতে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। আর প্রগতিশীল ব্রাজিলীয়রা তিন সপ্তাহের জন্য হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন। আশির দশকে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর এমনটা আর কখনোই হয়নি। প্রথম ধাপে দ্বিতীয় হওয়া কোনো প্রার্থী এর আগে দ্বিতীয় ধাপে জিততে পারেননি।


কিন্তু গতকাল রোববার লুলা ঠিক সেই অসম্ভব কাজটাই করে দেখিয়েছেন। এতে সাও পাওলোর রাস্তায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সেখানকার একটি হোটেলে বসেই তিনি ভোট গণনা দেখছিলেন।


ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর লুলার অন্যতম প্রধান মিত্র রেজিনাল্ডো লোপেস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আমার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে...এর মধ্য দিয়ে ব্রাজিল বিশ্বকে জানিয়ে দিল যে কট্টর ডানপন্থীরা হলো ফ্যাসিবাদী। তারা কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে, গরিবদের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবং সমকামীদের বিরুদ্ধে...। আমরা এই দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে  নতুন করে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছি।’


তিন সপ্তাহ আগে ব্রাজিলের এই প্রেসিডেন্ট ২২ লাখ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু এবার তিনি ৪৩ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।


৮১ বছর বয়সী এই বামপন্থী নেতা তাঁর সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার মধ্য দিয়েই এই বিশাল ব্যবধান গড়ে তুলেছেন। তাঁর মিত্ররা এটিকেই সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন।


প্রথম ধাপে ভোট না দেওয়ার হার ছিল রেকর্ড ২১.০৮। এ কারণে লুলার ভোটাররাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। কারণ, তাঁরা ভোটকেন্দ্র থেকে বেশ দূরে থাকেন। তবে দ্বিতীয় ধাপে ভোট না দেওয়ার এই হার কমে ১৯.২১–এ নেমে আসে।


আগামীকাল মঙ্গলবার লুলার বয়স ৮১ বছর পূর্ণ হবে। এই জয় তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের চূড়ান্ত অধ্যায়। সত্তরের দশকের শেষের দিকে সাও পাওলোর শিল্প শহরতলিতে একজন শ্রমিকনেতা হিসেবে তাঁর এই জীবন শুরু হয়েছিল।


গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন লুলা। রাজনীতিতে আসার পর ১৯৮৯, ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালে টানা তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। ২০০২ সালে তিনি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনিই শ্রমিক শ্রেণি থেকে উঠে আসা প্রথম প্রেসিডেন্ট।  


সংবিধান অনুযায়ী, টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পর লুলা পদত্যাগ করেছিলেন। তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে বলসোনারোর বাবা এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে হারিয়ে তিনি আবারও ক্ষমতায় ফেরেন। পরে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র করার অপরাধে জইর বলসোনারোকে কারাগারে পাঠানো হয়।


লুলার এই জয় বলসোনারোর জন্য একটি দুঃসংবাদ।  তিনি এখন ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি আশা করেছিলেন যে ছেলে জিতলে তিনি হয়তো মুক্তি পাবেন এবং সরকারে কোনো পদ পাবেন।


এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও একটি বড় ধাক্কা। তিনি বলসোনারো পরিবারের মিত্র।


ট্রাম্প আশা করেছিলেন, লাতিন আমেরিকায় তাঁর সমর্থক নেতাদের তালিকায় বলসোনারোও যুক্ত হবেন।


লুলার জয়ের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ব্রাসিলিয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেই বলসোনারো গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন এবং তাঁর ছেলে সেখান থেকেই ভোট গণনা দেখছিলেন।


গত শনিবার লুলার সমর্থকেরা দুটি বিশাল শোডাউন করেন। রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকতে ১০ লাখের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। এর চেয়েও বেশি মানুষ সাও পাওলোর প্রাণকেন্দ্র পাওলিস্তা অ্যাভিনিউতে মিছিল করেন।


রিও ডি জেনিরোর সমাবেশে ট্রাকচালক জোসিয়াস সিলভা কথা বলেন। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা বলসোনারোবিরোধী বিক্ষোভের পর লুলার ফিরে আসার বিষয়ে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।


সিলভা দাবি করেন, ‘জনগণ জেগে উঠেছে... এর আগে কখনো এমন বিক্ষোভ হয়নি। এটি ব্রাজিলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।’


গতকাল সন্ধ্যায় লুলার শত শত সমর্থক ভোট গণনা দেখতে আবারও পাওলিস্তা অ্যাভিনিউতে ফিরে আসেন। তখন তাঁরা লুলার ছবিযুক্ত লাল পতাকা ওড়াচ্ছিলেন।


শুরুতে লুলার এগিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ৩৫ বছর বয়সী কামিলো বুয়ার্কে বলেন, ‘এখানে থাকতে পেরে এবং লুলার জন্য লড়াই করতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। আমার চারপাশের এই মানুষের শক্তি, আনন্দ আর ভালোবাসা থেকেই আমার আত্মবিশ্বাস এসেছে। এটাই হলো গণতন্ত্র।’


ইসরায়েলি হামলার পরে গাজার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১১ এএম

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রোববার (২৫ অক্টোবর) উপত্যকাটির বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু।


সূত্র জানায়, গাজা নগরীর ইসলামিক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ইসরায়েলি হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।


বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এর কিছুক্ষণ আগে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। হামলার পর গাজা নগরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাক্রম-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানে বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত অনেক ফিলিস্তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।


 উত্তর গাজায় উপত্যকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আল-রশিদ উপকূলীয় সড়কে বেসামরিক মানুষের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলায় কয়েকজন আহত হন। তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র।


এ ছাড়া জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের পশ্চিমে আল-ফালুজা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে পায়ে আঘাত পাওয়া এক ফিলিস্তিনিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র। খান ইউনিসে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক নারীও মাঝারি মাত্রায় আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আনাদোলুকে জানান, খান ইউনিস শহরের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলের দিকে গুলি ও গোলা ছুড়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ।


মধ্য গাজায় দেইর আল বালাহ শহরের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় ৩৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।


স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার ভোরে গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চলীয় আল তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন স্থানে দুটি দফায় বাড়িঘর ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে দুটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।


২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৫৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৫৭৩ জন আহত হয়েছেন।


২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া উপত্যকাটির বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। 


শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণের পর ফ্রান্সে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪০ এএম

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খারাপ পরিবেশের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন লাখো মানুষ। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এসব বিক্ষোভে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দিনের শুরুতে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।


বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


প্যারিসে শান্তিপূর্ণ মিছিল শেষে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। কিছু বিক্ষোভকারী অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। কয়েকজন মুখোশধারী তরুণ গাড়ির শোরুমের জানালাও ভাঙচুর করেন। রাজধানীতে শনিবার ১৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দক্ষিণের বন্দরনগরী মার্সেইয়ে ময়লার পাত্রে আগুন দেওয়া হয় এবং সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। বোর্দো শহরেও সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরির জন্য ভবনের কাঠের পাটাতন খুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। লিওঁ শহরে নিষিদ্ধ এলাকায় জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।


ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ৫৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তুলুজ ও ক্লেরমঁ-ফেরাঁ শহরে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। তুলুজে ২০ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীর হাতে বিস্ফোরণের ঘটনায় কয়েকটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। এর আগে গত সপ্তাহের বিক্ষোভে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। ওই বিক্ষোভের পর সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন। দেশজুড়ে দুই হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের বাণিজ্য ও শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠন।


জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের মধ্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ পরিস্থিতিতে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বাড়ছে। 


সৌদি আরবের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৩ এএম

আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ৭ হাজার ৯৩৪ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। একই সময়ে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৯০৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খবর গালফ নিউজের।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে এসব আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হয়।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫৪ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন, ৩ হাজার ৮৬৫ জনের বিরুদ্ধে সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৪৮৬ জনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।


এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে ১ হাজার ৮৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনুমোদনহীন সীমান্তপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টায় আটক হয়েছেন আরও ২২ জন। আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয়, কর্মসংস্থান বা অন্য কোনোভাবে সহায়তার অভিযোগে আরও ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে অভিবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন ৩৭ হাজার ৬১৮ জন প্রবাসী। তাদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৪৪৯ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ১৬৯ জন নারী। বিবৃতিতে বলা হয়, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহের জন্য ২০ হাজার ২৫২ জনকে নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আরও ৬ হাজার ৫৫৫ জনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনভুক্ত সময়ে মোট ৭ হাজার ৯৩৪ জনকে সৌদি থেকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।


তবে বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা কোন কোন দেশের নাগরিক, তা বিবৃতিতে উল্লেখ করেনি মন্ত্রণালয়।


সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশে সহায়তা করা, দেশের ভেতরে পরিবহন করা, আশ্রয় দেওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।


এ ধরনের অপরাধে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। অপরাধীদের পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন এবং তাদের আশ্রয় দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি অপরাধীদের পরিচয় প্রকাশ করার বিধান রয়েছে।


মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের অপরাধ গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত, যার জন্য গ্রেপ্তার করা যায় এবং যা সম্মান ও বিশ্বাসের পরিপন্থী কাজের অন্তর্ভুক্ত।


সন্দেহজনক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা জানাতে বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মক্কা, মদিনা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ৯১১ নম্বরে এবং সৌদি আরবের অন্যান্য এলাকায় ৯৯৯ অথবা ৯৯৬ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে।


সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষে প্রচারে নেমে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধ এবং চড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন।


গতকাল শনিবার ওহাইওতে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে ওবামা বলেন, “এই প্রশাসনের কিছু বোকামি অন্তত কিছুটা হলেও লাগাম টেনে ধরার জন্য এই নির্বাচনই আমাদের শেষ সেরা সুযোগ।"


যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ক্ষমতা দখলের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে বারাক ওবামা নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। এই প্রচারে তিনি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দুর্নীতির নিন্দা করেছেন, ইরান নিয়ে তার কৌশলের সমালোচনা করেছেন এবং হোয়াইট হাউজ সংস্কারে ট্রাম্পের জাঁকজমক নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন।


ওবামা ক্লিভল্যান্ড ও ডেট্রয়েটের সমাবেশে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে তীব্রভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছেন।


মিশিগানে মার্কিন সেনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় ওবামা আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির কিছু বোকামিকে অন্তত কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার একটি 'সার্কিট ব্রেকার' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের এই অচলাবস্থা বা চলমান ধারা ভাঙতে হবে এবং এই সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।


ওদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে জর্জিয়ার এক সমাবেশে তার প্রশাসনের অভিবাসন এবং শুল্ক নীতির প্রশংসা করে সমর্থকদের বলেছেন, “আমরা আমেরিকার সুবর্ণ যুগে আছি।”


আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য কংগ্রেস কোন দল নিয়ন্ত্রণ করবে তা ঠিক করবে, আর তাই প্রেসিডেন্টের জন্য তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা কতটা সহজ হবে সেটিও এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারণ হয়ে যাবে।


আগাম ভোটগ্রহণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে এবং ট্রাম্প শনিবার ফ্লোরিডায় তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে একসঙ্গে নিজের ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যেই ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচারে নেমে শনিবার ওহাইও এবং মিশিগানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওবামা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিশানা করে সমালোচনা করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি হোয়াইট হাউজ পুনর্সজ্জা করার জন্য ট্রাম্পের চেষ্টা নিয়ে উপহাসও করেন।


ক্লিভল্যান্ডের প্রচার সমাবেশে ওবামা বলেন, “আধুনিক যুগে আমরা দেখিনি এমন বিশৃঙ্খলা, নিষ্ঠুরতা, দুর্নীতি এবং অযোগ্যতার দীর্ঘ দুই বছর পার করার পর, আপনার কাছে 'যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়' বলার সুযোগ এসেছে।”


ওবামা বলেছেন, তিনি সেইসব ভোটারদের প্রতি সহানুভূতিশীল যারা কোভিড মহামারীর পর অর্থনৈতিক এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে ২০২৪ সালে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে তিনি বলেন, অর্থনীতির বর্তমান অবস্থার জন্য ট্রাম্পের কেবল নিজেকেই দোষ দেওয়া উচিত।


“আপনি যদি ভেবে থাকেন যে 'আপনি কার কথা বলছেন' (নাম উল্লেখ না করে ট্রাম্পকে নির্দেশ করে) তার আসার আগে সবকিছু খুব ব্যয়বহুল ছিল, তবে এখন সবকিছু আরও বেশি ব্যয়বহুল।”


ওবামা মিশিগানের প্রচারসমাবেশে জনতার মনের মতো কথা বলে তাদের খুশি করেন। তিনি ডেমোক্র্যাটদের সেইসব সমালোচনার পুনরাবৃত্তি করেন, যা ট্রাম্প এবং তার সব কথায় রিপাবলিকানদের অন্ধ সমর্থন দেওয়াকে নিয়ে করা হয়।


ওবামা বলেন, “জনগণের করের অর্থ ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক ফায়দা লোটার ক্ষেত্রে বর্তমান প্রেসিডেন্টের মতো এমন চতুর ও পারদর্শী কাউকে আগে কখনও দেখা যায়নি। এই প্রেসিডেন্টের মতো ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যকে বেশি বেশি সুবিধা দিতে কাউকে কখনও দেখিনি। এখন মনে হচ্ছে, দলটি হয় দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার, না হয় অযোগ্য সরকার, অথবা কোনও সরকার না থাকার পক্ষে অবস্থান করছে।”


এই সমালোচনার বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়ার অনুরোধে হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।


তবে রোববার সকালে ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে চরম অযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন এবং আল-সায়েদকে মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন জিহাদি আখ্যা দিয়েছেন; যিনি ইহুদি, কৃষ্ণাঙ্গ, আমেরিকান এবং ট্রাম্পকে ঘৃণা করেন।