• প্রকাশ : রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৯:০৫ এএম

ইসলামাবাদে প্রথম বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা আলোচনা রয়েছে অনিশ্চয়তায়। মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তেহরানের একের পর এক অপরিপক্ব ও অগোছালো বক্তব্য এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর ধারাবাহিকতায় ইরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি দেশটি তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।


ঘটনার মোড় পরিবর্তনের সূত্রপাত গত শুক্রবার, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার খোলার ঠিক পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির একটি এক্স পোস্ট থেকে।


সেখানে আব্বাস আরাগচি লিখেছিলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ায় এখন থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার ঠিক করে দেওয়া পথ দিয়ে এই জাহাজগুলো যাতায়াত করতে পারবে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি যত দিন থাকবে, এই সুযোগও তত দিন থাকবে।


আরাগচির এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১২ ডলার কমে যায়। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় পাকিস্তানও। শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেশটির কর্মকর্তারা তখন তেহরানেই ছিলেন।


তবে আরাগচির পোস্টটি হয়তো অস্পষ্ট ও অসম্পূর্ণ ছিল, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। তেলের দাম হুট করে পড়ে যাওয়ায় এর প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এ খবরকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। 


ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব সিদ্ধান্তের জন্য তেহরানকে তিনি ধন্যবাদও জানান।


ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবিও করেছেন, বাজার প্রভাবিত করতেই আরাগচি ওই পোস্ট দিয়েছিলেন। ইরানি আইনপ্রণেতা মোর্তজা মাহমুদি বলেছেন, এখন যুদ্ধের পরিস্থিতি না থাকলে এক্সে এমন মন্তব্য করার জন্য আরাগচির অভিশংসন হওয়া উচিত ছিল। আরাগচির বিরুদ্ধে বারবার ‘ভুল সময়ে ভুল বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগও আনেন তিনি।


কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রভাবাধীন সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ আরাগচির পোস্টটিকে ‘ভুল অথবা অসম্পূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করে। সংস্থাটি জানায়, ‘প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই পোস্টটি দেওয়া হয়েছে। এতে জাহাজ চলাচলের শর্ত, বিস্তারিত তথ্য ও পদ্ধতি নিয়ে নানা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।’


কায়হানের মতো কট্টরপন্থী সংবাদপত্রগুলো আরাগচির কাছে তাঁর পোস্টটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল।


এমনকি ইরানের অভ্যন্তরে রাজনীতিতে মাহমুদ সাদেগির মতো আরাগচির প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তিরাও মনে করেন, এই ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে হওয়া উচিত ছিল। তাঁদের মতে, এমন কোনো মাধ্যমে এটি দেওয়া ঠিক হয়নি, যা ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করে।


হরমুজে নতুন করে অচলাবস্থা শুরু হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, আগামী বুধবার দুই পক্ষের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে পরবর্তী সপ্তাহ থেকেই তিনি আবারও বোমা হামলা শুরু করবেন। এ পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালিতে আরেকটি বিপজ্জনক সংঘাতের পথ তৈরি করেছে। যদিও সেখানে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নৌবাহিনীর মধ্যে সরাসরি কোনো যুদ্ধ হয়নি।


আগামীকাল সোমবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপক গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা আবার আলোচনায় বসতে রাজি নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ‘অযৌক্তিক’ দাবিদাওয়া তুলেছে।


ইরানের এই কঠোর অবস্থান থেকে বোঝা যায়, দেশটির পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে এখন আইআরজিসির প্রভাবই সবচেয়ে বেশি। আইআরজিসি ভয় পাচ্ছিল যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি হয়তো ওয়াশিংটনকে সময়ের আগেই অপ্রয়োজনীয় কিছু ছাড় দিয়ে দিচ্ছেন।


ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একের পর এক পোস্ট দেওয়ায় আইআরজিসির ক্ষোভ আরও বাড়ে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং শান্তি আলোচনা দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ট্রাম্পের ওই পোস্টগুলোর অনেক কথাই ছিল মিথ্যা।


পরে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা হয়, ইসলামাবাদে আলোচনায় গালিবাফের সঙ্গী আরাগচি আসলে বলতে চেয়েছিলেন- যেসব জাহাজ আইআরজিসি নৌবাহিনীর অনুমতি নেবে, নির্ধারিত রুট ব্যবহার করবে এবং নির্ধারিত টোল পরিশোধ করবে, শুধু সেগুলোই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে।


ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই এক সরকারি সাক্ষাৎকারে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনাই হয়নি।


ট্রাম্পের উদ্দেশে গালিবাফ সাফ জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালি খোলা নাকি বন্ধ থাকবে, তা নির্ধারণ করবে ইরানি সামরিক বাহিনী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো পোস্ট নয়।


যুদ্ধ থামানোর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প এতটাই মরিয়া যে তিনি সবকিছু খুব দ্রুত শেষ করতে চাইছেন। কিন্তু পরিস্থিতি আসলে পুরোপুরি তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই। কারণ, এর জন্য ইরানের রাজি হওয়া প্রয়োজন। 


অন্যদিকে ইরান এখনো বিশ্বাস করে, হরমুজ প্রণালি তাদের প্রধান শক্তির জায়গা। পরিস্থিতি তাদের পক্ষেই আছে। তাই আলোচনায় ফেরার জন্য ইরানের কোনো তাড়াহুড়ো নেই।


শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা অর্জনে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর শুরুটা হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবাননে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে চাপ দেন।


ধারণা করা হয়েছিল, এই যুদ্ধবিরতির ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং প্রথম ধাপে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফিরে পাওয়াসহ একের পর এক ঘটনা ঘটবে, যা যুদ্ধ বন্ধের পথে নিয়ে যাবে।


কিন্তু ট্রাম্প অধৈর্য হয়ে আগেভাগেই অনেক বেশি অনুমান করে ফেলেন এবং একের পর এক ঘোষণা দিতে শুরু করেন। এর মধ্যে একটি ছিল- ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকবে।


শনিবার সকালে ট্রাম্পের দেওয়া এই ঘোষণাই ইরানের আবার কঠোর হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। শর্তসাপেক্ষে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় তাঁরা আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়। ইরান দাবি করে, তারা ইতিমধ্যে ভারতীয় তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।


তেহরান থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় আবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এর পাশাপাশি আরও গভীর সমস্যা সামনে এসেছে। ইরান মনে করে, হরমুজ প্রণালির ওপর স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আইনগত ও নৈতিক অধিকার তাদের রয়েছে।


ইরানের আইনজীবী রেজা নাসরি এ বিষয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, একটি সমুদ্রপথ বা প্রণালি তখনই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে, যখন সেটি কেবল যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যখন সেই পথ ব্যবহার করে সেটির পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের ওপর অন্য দেশ হামলা চালায় বা সেখানে স্থায়ী সামরিক আস্তানা গড়ে তোলে, তখন সেটি আর সাধারণ পথ থাকে না। তখন ওই উপকূলীয় দেশ নিরাপত্তার খাতিরে সেই পথ বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার রাখে।



  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৬ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Laborum Consequuntu

Laborum Consequuntu

Dolore qui laborum i


Voluptas ad tempora

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ পিএম

Laborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum Consequuntu


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৫৯ এএম

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে বলেছে।


প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


ফেসবুকে মোদি জানান, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে দেওয়া ওই বার্তায় মোদি আরও লেখেন, ‘যারা আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চায়, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’


৬ সপ্তাহে সর্বোচ্চ তেলের দাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৪ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখন ১০০ ডলারের কাছাকাছি চলে গেছে।


আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮৮ ডলার অতিক্রম করেছে। 


আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৯৩ ডলার বা ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪১ ডলার বা ১ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে। খবর রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া। 


গতকাল তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। ফলে ব্রেন্টের দাম ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের দিকে বাজার সব সময় নজর রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২তম রাতে ইরানে হামলা চালানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। 


হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যখনই কোনো জাহাজে হামলা করবে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। তাঁর এ মন্তব্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়বে, এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা আছে- এমন পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরণে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তাদের ভাষ্য, ওই ঘটনার পর আরও দুটি ট্যাংকার যাত্রাপথ থেকে ফিরে যায়।


আইআরজিসি আরও বলেছে, এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান চলাকালে হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। এই প্রণালি এখন পুরোপুরি বন্ধ। ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো ট্যাংকার প্রণালিতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে দেওয়া হবে না বলেও তারা সতর্ক করেছে। এদিকে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে অভিযান আরও জোরদার করায় সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কা বেড়েছে।


হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল বহনকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। তাদের দাবি, সামরিক অভিযানে তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা করেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি পতাকাবাহী ট্যাংকার এনসেলিয়া লোহিত সাগরে হামলার শিকার হয়েছে।


এ ছাড়া হুতিদের দাবি, সৌদি বন্দরের দিকে যেতে নিষেধ করে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর প্রায় ১০টি জাহাজ ফিরে গেছে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।


এসব ঘটনায় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথ-হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালি-দিয়ে তেল পরিবহন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসির এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শিপিং কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে মাইন পাতা আছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অকার্যকর ঘোষণার পর এবার তেলের দাম এখনো ১০০ ডলারের নিচেই আছে। যদিও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত আছে। 


এর আগে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল, এখন দাম তার চেয়ে ৩০ ডলার কম।


শাহবাজ শরিফ, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আসিম মুনির

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৯ পিএম

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা সুবিধা চেয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মেয়াদে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে।


আজ বুধবার (২২ জুলাই) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের এই অনুরোধ এমন সময় এসেছে, যখন দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান সহায়তা কর্মসূচির অধীনে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় ইসলামাবাদের কূটনৈতিক অবস্থানও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে দেশটি।


অনুমোদন মিললে এই তহবিল পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে, রুপির ওপর চাপ কমাতে এবং বহুপাক্ষিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসে সহায়ক হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানান, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।


পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বৈঠকে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে সহজ প্রবেশাধিকার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং দেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহযোগিতা চেয়েছেন আওরঙ্গজেব। পাশাপাশি দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।


বর্তমানে পাকিস্তান ৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করছে দেশটি। ২০২৩ সালে সার্বভৌম ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে পাকিস্তান প্রথমে ৩ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ স্ট্যান্ডবাই ঋণ পায়। 


পরে আরও ৭ বিলিয়ন ডলারের ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি’ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদিত হয়।


তবুও পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনো মূলত আইএমএফের অর্থছাড়, দ্বিপক্ষীয় সহায়তা এবং চীন ও সৌদি আরবের মতো অংশীদারদের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।


দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।


উল্লেখ্য, মুদ্রা স্থিতিশীলতা সহায়তা সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’-এর মাধ্যমে দেওয়া বিশেষ আর্থিক ব্যবস্থা। এর আওতায় ডলার সহায়তা, মুদ্রা বিনিময় চুক্তি বা গ্যারান্টির মাধ্যমে কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করা হয়।


রয়টার্স জানিয়েছে, এ ধরনের সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী ডলার সোয়াপ লাইনের বাইরে একটি পৃথক ব্যবস্থা। ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনাকে দেওয়া সহায়তার আগে সর্বশেষ বড় ধরনের এমন প্যাকেজ ২০০২ সালে উরুগুয়েকে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মেক্সিকোর সঙ্গে ১৯৪০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা রয়েছে।


জাপান প্রথমবারের মতো 'কোকুশোবি' বা 'প্রচণ্ড গরম দিন' ঘোষণা করেছে

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

জাপানের মধ্যাঞ্চলের তিনটি শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। ফলে দেশটি প্রথমবারের মতো 'কোকুশোবি' বা 'প্রচণ্ড গরম দিন' ঘোষণা করেছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরোনো বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে চলতি বছরের এপ্রিলে নতুন এই সতর্কতা চালু করেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা।


গতকাল মঙ্গলবার জাপানের মধ্যাঞ্চলের তিন শহর তাজিমি, গুজো এবং তয়োদায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এই তীব্র তাপমাত্রা আগামী সপ্তাহেও অব্যাহত থাকবে- এমন ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাপানের আওহাওয়া সংস্থা।


তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সেই দিনগুলোকে জাপানে ‘কোকুশোবি’ বলা হয়। তীব্র গরমের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এই পরিভাষাটি চালু করা হয়েছিল।


বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহওয়া ঘন ঘন দেখা দিতে থাকার মধ্যে জাপানে প্রথমবারের মতো ‘অসহনীয় গরমের দিন’ ঘোষণা করা হল। গত বছর জাপানের ইসেসাকি নগরীতে এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখা গিয়েছিল।


জাপানে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের জন্য বিশেষ পরিভাষা আছে। যেমন: যেসব দিনে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যায় তাকে বলে মোসোবি বা ‘চরম গরম দিন’।


কিন্তু ‘কোকু’ শব্দটি আরও প্রচণ্ড বা প্রখর তাপ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। কিয়োদো নিউজের খবরে বলা হয়েছে, দেশের ৯১৪ টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রর প্রায় ৩০০ টিতেই মঙ্গলবার মোসোবি রেকর্ড করা হয়েছে।


তাছাড়া, কর্তৃপক্ষ দেশের ৪০ টিরও বেশি প্রশাসনিক এলাকায় হিটস্ট্রোক অ্যালার্ট জারি করেছে। লোকজনকে এয়ারকন্ডিশন ব্যবহার করা, যথেষ্ট পানি পান, লবণ খাওয়া এবং বাইরে কম যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বয়স্ক মানুষদেরকে শীতল পরিবেশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


জাপানের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানায়, টোকিও দমকল বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সিটি হাসপাতালে ৩ থেকে ১০৩ বছর বয়সের মোট ২৮৭ জনকে হিটস্ট্রোকের কারণে ভর্তি করা হয়েছে। এবছর এটিই হিটস্ট্রোকে হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড।


দমকল বিভাগও অ্যালার্ট জারি করে লোকজনকে তাপ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।


মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং বেশি মাত্রায় ঘটছে। গত বছর জাপান ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম পার করেছে।


আন্দোলনের চাপের মুখে মোদি

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:০১ এএম

পরীক্ষাসংক্রান্ত কেলেঙ্কারির পর জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ভারতের পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় এমপিদের সমর্থন পাওয়ার পর আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজধানী নয়াদিল্লির প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে আজ বুধবার (২২ জুলাই) অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে হাজার হাজার সমর্থকের বিশাল জমায়েত দেখা গেছে। 


শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার আর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। খবর এএফপির। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-ভিত্তিক আন্দোলন সিজেপির নেতৃত্বে ভারতজুড়ে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তার সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীরা রাজধানী ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। 


উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা যন্তর মন্তর ছাড়ব না। যে দেশে মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছিল, সরকারের সমালোচনা করাকে দেশদ্রোহিতা বলা হতো, আমরা এখন সেই দেশকে জাগিয়ে তুলেছি।"


বেশিরভাগ তরুণ ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন মঙ্গলবার দেশটির বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার পর মোদি সরকারের জন্য বড় সংকট তৈরি করে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। 


কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গত সোমবার (২০ জুলাই) আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো পুলিশি দমনপীড়নের জন্য সরকারের ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাহুল গান্ধীকে প্রতিবাদস্থল থেকে তুলে নিয়ে দুই ঘণ্টা আটকে রাখে পুলিশ। আজ বুধবার কালো পোশাক পরে পার্লামেন্টে উপস্থিত হয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন তিনি। 


অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, তরুণেরা যখন রাজপথে, তখন প্রধানমন্ত্রী নীরব ভূমিকা পালন করছেন।


এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত মে মাসে, যখন দেশটির প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত আদালতে শুনানির সময় তরুণদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা এবং ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ককরোচ জনতা পার্টির, যা এখন বেকারত্ব ও সরকারি অনিয়মের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারগ্যাস প্রয়োগ করে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে।


মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনলাইন মূল্যায়নে অনিয়মের কারণে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হলে এই অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতির উত্তাপ বুঝে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সংস্কার এবং আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। 


তবে দিল্লি ছাড়িয়ে এখন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে চাপের মুখে থাকা সরকার কীভাবে এই অচলাবস্থা নিরসন করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।