ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৯ মে, ২০২৬, সময় : ৬:০৪ এএম

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে ইসরায়েলের আরও একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি থাকার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ৩ মার্চ এক মেষপালক আওয়াদ আল-শাম্মারি দুর্ঘটনাক্রমে একটি ঘাঁটির কাছে গেলে ইসরায়েলি হেলিকপ্টার থেকে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। 


গোপন ঘাঁটিগুলো ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হতো। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে জানলেও ইরাককে জানায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও গোপন ঘাঁটি থাকতে পারে বলে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।


দিনটি ছিল ৩ মার্চ, স্থানীয় সময় বেলা প্রায় ২টা। একটি পিকআপ ট্রাক ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমি দিয়ে কাঁপতে কাঁপতে এগিয়ে যাচ্ছে। মরুভূমিতে বসবাস করা স্থানীয় বেদুইন বসতির কাছে সেটি পরিচিত এক দৃশ্য। পিকআপটি স্থানীয় এক মেষপালকের। তিনি বাজার করতে কাছের শহর আল-নুখাইবে যাচ্ছিলেন।


তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই পিকআপটি ফিরে আসে, যা একেবারেই অস্বাভাবিক ছিল। ফিরে আসার সময় সেটিতে আগুন জ্বলছিল এবং গুলিতে সেটি ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল।


তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, একটি হেলিকপ্টার ট্রাকটিকে (পিকআপ) ধাওয়া করছিল এবং বারবার গুলি চালাচ্ছিল, একপর্যায়ে সেটি মরুভূমিতে বালুর মধ্যে থেমে যায়। সেটিতে তখনো আগুন জ্বলছিল।


ইরাকের মরুভূমিতে প্রাণঘাতী এই হামলা নিয়ে আগে কখনো কোথাও খবর প্রকাশ পায়নি। ট্রাকটি ২৯ বছর বয়সী আওয়াদ আল-শাম্মারির। শাম্মারির চাচাতো ভাই আমির আল-শাম্মারি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তাঁর ভাই আওয়াদ ট্রাকটি নিয়ে বাজার করতে বের হয়েছিলেন। কিন্তু পথ চলতে গিয়ে তিনি অজান্তে ইরাকের মরুভূমিতে গোপনে স্থাপন করা একটি ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির মুখোমুখি পড়ে যান। 


অত্যন্ত গোপনীয় এবং দারুণভাবে সুরক্ষিত ওই সামরিক আস্তানার কাছাকাছি চলে যাওয়ার কারণেই আওয়াদকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে বিশ্বাস তাঁর পরিবারের।


আওয়াদ আল-শাম্মির কারণেই শেষ পর্যন্ত থলের বিড়াল বের হয়ে আসে। জানা যায়, এক বছরের বেশি সময় ধরে ইসরায়েল তাদের শত্রুদেশ ইরাকের ভেতরে দুটি গোপন সামরিক স্থাপনা থেকে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। দুর্ভাগ্যজনক সেই যাত্রা শুরুর পর থেকে ভয়াবহ পরিণতির আগে কোনো একসময় আওয়াদ ইরাকের আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি যা দেখেছিলেন, তা জানাতে সক্ষম হয়েছিলেন।


ওই মেষপালক বলেছিলেন, সেখানে একটি উড়োজাহাজ ওঠা-নামার পথ এবং সেটি ঘিরে সেনা, হেলিকপ্টার ও তাঁবুর সমাবেশ রয়েছে।


জ্যেষ্ঠ ইরাকি ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, বাগদাদের আঞ্চলিক মিত্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য ইসরায়েল সেখানে একটি ঘাঁটি পরিচালনা করছিল।


এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ইরাকের ভেতরে ইসরায়েলের একটি সামরিক ফাঁড়ি থাকার খবর প্রকাশ করে। ইরাকি কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমিতে আওয়াদের আবিষ্কার করা সামরিক স্থাপনাটি ইসরায়েলের দ্বিতীয় আরেকটি ঘাঁটি।


আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, আওয়াদ আল-শাম্মারি যে ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছিলেন, সেটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধেরও আগে তৈরি। ২০২৫ সালের জুনে তেহরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধে ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হয়েছিল।


আঞ্চলিক কর্মকর্তারা আরও বলেন, দেশের বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চল বেছে নিয়ে ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই ইসরায়েল অস্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু করে, যাতে ভবিষ্যৎ সংঘাতের সময় অভিযান চালানোর জন্য সেগুলো ব্যবহার করা যায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের এই ফাঁড়ি ও ঘাঁটি এবং আওয়াদ আল-শাম্মারির হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য করা একাধিক অনুরোধে সাড়া দেয়নি।


তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়াদ হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেছেন।


ইসরায়েলি ঘাঁটিগুলো নিয়ে যেসব কর্মকর্তা কথা বলেছেন, তাঁদের অধিকাংশই এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল নিরাপত্তা বিষয় হওয়ায় নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তবে তাঁরা যে তথ্য দিয়েছেন, তা ইঙ্গিত করে যে অন্তত একটি ঘাঁটি, যেটিতে আওয়াদ হঠাৎ করে পৌঁছে গিয়েছিলেন, সেটির বিষয়ে ২০২৫ সালের জুন মাস থেকেই অথবা তারও আগে থেকে ওয়াশিংটনের কাছে তথ্য ছিল।


এর অর্থ দাঁড়ায়, বাগদাদের অন্য প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত এ বিষয়ে ইরাককে কোনো তথ্য দেয়নি। তাদের শত্রু বাহিনী যে গোপনে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে, এটা ওয়াশিংটন বাগদাদকে জানতে দেয়নি।


ইরাকের পার্লামেন্ট সদস্য ওয়াদ আল-কাদু বলেন, ‘এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব, দেশটির সরকার ও তার বাহিনীগুলোর পাশাপাশি ইরাকি জনগণের মর্যাদার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা প্রদর্শন করার শামিল।’


আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, ইরাকের নিরাপত্তাব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ইসরায়েলের সেই হিসাব-নিকাশের অংশ ছিল, যার ভিত্তিতে ইসরায়েল ধরে নিয়েছিল, ইরাকে গোপনে সামরিক আস্তানা গড়ে সেখান থেকে সামরিক অভিযান চালানো তাদের জন্য নিরাপদ হবে।


দুজন ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত বছর জুনের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ এবং চলমান সংঘাত-উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের উড়োজাহাজগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে ইরাককে তাদের রাডার বন্ধ করতে বাধ্য করেছিল। এর ফলে বাগদাদ শত্রুর তৎপরতা শনাক্তের জন্য আরও বেশি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল।


ইসরায়েলের এসব ঘাঁটির উপস্থিতির তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া ইরাকের জন্যও অস্বস্তিকর কিছু প্রশ্ন তৈরি করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মরুভূমির এক মেষপালকের নজরে পড়ার আগপর্যন্ত সত্যিই কি ইরাকি বাহিনী নিজেদের ভূখণ্ডে বিদেশি সেনাদের উপস্থিতি জানত না? নাকি তারা জানত, কিন্তু উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?


যেকোনো সম্ভাবনাই এই ইঙ্গিত করে, দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের টানাপোড়েনে আটকে থাকা ইরাক এখনো নিজের ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়নি।


আল-কাদু বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তা নেতৃত্বের অবস্থান অত্যন্ত লজ্জাজনক।’


এ নিয়ে ইরাকি সেনাবাহিনীর ওয়েস্টার্ন ইউফ্রেতিস ফোর্সেসের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আল-হামদানি বলেন, মেষপালকের এই আবিষ্কারের এক মাসের বেশি সময় আগে থেকে তাঁর বাহিনী মরুভূমিতে ইসরায়েলি উপস্থিতির বিষয়ে সন্দেহ করে আসছিল।


আল-হামদানি বলেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত ইরাক সরকার এ নিয়ে নীরব।


ইরাকের সরকার এখন পর্যন্ত তাদের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি ঘাঁটির অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। এটি স্বীকার করা তাদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।


কারণ, ইসরায়েলের সঙ্গে ইরাকের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দেশটির জনগণ ইসরায়েলকে শত্রু হিসেবে দেখে।


ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইরাকের কাছে ‘কোনো ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।’


মরুভূমিতে ইসরায়েলের ঘাঁটির উপস্থিতির তথ্য প্রকাশের পর ইরাকে ক্ষোভ বাড়ছে। ফলে দেশটিতে ইরানের প্রভাব সীমিত করার যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা হুমকির মুখে পড়তে পারে।


আঞ্চলিক দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, আওয়াদ যে ঘাঁটির তথ্য প্রকাশ করেছিলেন, সেটি ইসরায়েলের বিমানবাহিনীকে অভিযানে সহায়তা, জ্বালানি সরবরাহ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হতো।


এসব ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছিল, যাতে ইসরায়েলি উড়োজাহাজগুলোকে ইরান পর্যন্ত পৌঁছাতে যে দূরত্ব অতিক্রম করতে হতো, তা কমানো যায়। এটি মূলত সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য একটি অস্থায়ী উপস্থিতির কথা মাথা রেখে তৈরি করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুনে যুদ্ধের সময় এই ঘাঁটি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল বলে জানান দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা।


গত বছরের যুদ্ধের পর দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেছিলেন, অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ‘বিমানবাহিনী এবং স্থল কমান্ডো বাহিনীর সমন্বয় ও প্রতারণামূলক কৌশলের কারণে’ ইসরায়েলি অভিযানে সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছিল।


মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান তদারকির দায়িত্বে থাকা পেন্টাগনের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরাকে ইসরায়েলি অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রশ্নগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাছে পাঠাতে বলেছে।


তবে সাবেক শীর্ষ মার্কিন সামরিক কমান্ডার, পেন্টাগনের কর্মকর্তারা এবং ওই অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করা মার্কিন কূটনীতিকেরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিজেদের ভেতর যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, তাতে সেন্ট্রাল কমান্ড ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে ইসরায়েলি উপস্থিতির বিষয়ে কিছুই জানে না—এটা কল্পনাতেও বিশ্বাস করা অসম্ভব।


বিপজ্জনক গোপন তথ্য যেভাবে ফাঁস হলো


ইরাকের আঞ্চলিক কমান্ডার জেনারেল আল-হামদানি দাবি করেন, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমির বেদুইন সম্প্রদায়গুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে আঞ্চলিক কমান্ডকে সেখানে অস্বাভাবিক সামরিক তৎপরতার বিষয়ে নানা খবর দিচ্ছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী কাছাকাছি না গিয়ে বরং দূর থেকে ‘সম্ভাব্য ইসরায়েলি বাহিনীর সন্দেহজনক তৎপরতার ওপর নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল’।


তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে এ বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছিল, কিন্তু কোনো উত্তর পায়নি বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।


আওয়াদ আল-শাম্মারি যেদিন বিদেশি বাহিনীর মুখোমুখি হন, সেদিন তিনিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর চাচাতো ভাই এবং কারবালা আঞ্চলিক অপারেশন কমান্ডের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ফাহিম আল-গুরাইতি।


তার কিছু সময় পর জেনারেল আল-গুরাইতি ও আওয়াদ আল-শাম্মারির পরিবারের সদস্যরা জানান, সেনাবাহিনী ও তাঁর স্বজনেরা তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারছেন না। তাঁর পরিবার দুই দিন ধরে খোঁজাখুঁজি করে, এরপর হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করা বেদুইন বাসিন্দাদের সন্ধান পায়। তাদের কাছ থেকে তাঁরা আওয়াদের শেষ পরিণতির কথা জানতে পারে, জানতে পারে তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল।


আওয়াদের চাচাতো ভাই আমির বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল, আওয়াদের পিকআপের মতোই দেখতে একটি পুড়ে যাওয়া পিকআপ ট্রাক সেখানে পড়ে আছে, কিন্তু কেউ সেখানে যাওয়ার সাহস করেনি। আমরা সেখানে গিয়ে পোড়া ট্রাক ও পুড়ে যাওয়া মরদেহ দেখতে পাই।’


আওয়াদের পরিবার তাঁর রক্তাক্ত ও পোড়া মরদেহের ছবি দেখিয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, তাঁর মাথা ও আঙুল পুড়ে কালো হয়ে গেছে। ছবিতে পোড়া পিকআপও দেখা যাচ্ছে। জেনারেল আল-গুরাইতি ও জেনারেল আল-হামদানি বলেন, মেষপালকের কাছ থেকে খবর পাওয়ার এক দিন পর ইরাকের আঞ্চলিক কমান্ড একটি পুনর্বীক্ষণ দল সেখানে পাঠায়।


তারও এক দিন পর ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইউনিটগুলো এলাকাটির কাছে পৌঁছালে তারা গোলাগুলির মুখে পড়ে। এতে এক সেনা নিহত এবং দুজন আহত হন, দুটি যানবাহনে বোমা হামলা চালানো হয়। এরপর ইউনিটগুলো সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়।


বাগদাদে ইরাকের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তখনো বোঝার চেষ্টা করছিলেন, সেখানে আসলে কী ঘটেছিল।


দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের কারণে তাঁদের প্রচেষ্টা বারবার ব্যাহত হয়। শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা ঘটনাটিকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি বা এর গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছিলেন।


সেনাদের ওপর হামলা ও সেনা হতাহতের ঘটনার পর জনসমক্ষে ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ড জানিয়েছিল, ‘বিদেশি’ বাহিনী তাদের সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ নিয়ে অভিযোগ করেছে।


আর ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল-আমির ইয়ারাল্লাহ গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বলে জানান জেনারেল আল-হামদানি এবং দুজন জ্যেষ্ঠ ইরাকি কর্মকর্তা। তাঁরা বলেন, ‘মার্কিন বাহিনী নিশ্চিত করেছিল, ওই কাজ তাদের বাহিনীর নয়, ওটা মার্কিন বাহিনী নয়। তখন আমরা বুঝতে পারি, এটি ইসরায়েলি বাহিনী ছিল।’


ইরাকি সেনাদের ওপর হামলার চার দিন পর, ৮ মার্চ ইরাকি পার্লামেন্ট সামরিক নেতৃত্বকে একটি গোপন ব্রিফিং আয়োজনে বাধ্য করে। ওই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত পার্লামেন্ট সদস্যরা জানান, তাঁরা এর বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারেননি। তবে তাঁদের একজন হাসান ফাদাম নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইসরায়েল ইরাকের ভেতরে অন্তত আরও একটি ফাঁড়ি স্থাপন করেছিল।


হাসান ফাদাম বলেন, আল-নুখাইবেরটি সেই ঘাঁটিগুলোর একটি, শুধু এটির অবস্থান ফাঁস হয়েছে।


আরেক ইরাকি কর্মকর্তা দ্বিতীয় ঘাঁটির অস্তিত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে সেটির অবস্থান সম্পর্কে আলাদা কিছু জানাননি। শুধু বলেছেন, সেটিও দেশটির পশ্চিমের মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত।


সাবেক ও বর্তমান দুজন জ্যেষ্ঠ ইরাকি কর্মকর্তা বলেন, সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী ইরাকি ভূখণ্ডে কোনো কার্যক্রম চালালে তা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বাগদাদকে জানানো বাধ্যতামূলক।


ওই দুই কর্মকর্তা বলেন, এর অর্থ দাঁড়ায়, ওয়াশিংটন হয় ইসরায়েলি কার্যক্রম গোপন রেখেছিল অথবা ইরাকের শীর্ষ কমান্ডকে জানানো হয়েছিল, তারা তা গোপন রেখেছিল।


তবে কর্মকর্তারা এ–ও বিশ্বাস করেন, মরুভূমির ওই মেষপালক ঘটনাটি প্রকাশ করার আগপর্যন্ত ইরাকি নেতৃত্ব বিদেশি সামরিক বাহিনীর ওই উপস্থিতি যে ইসরায়েলি বাহিনী ছিল, তা তারা জানত-এমনটা প্রায় অসম্ভব। বরং খুব সম্ভবত তারা সেটিকে মার্কিন ঘাঁটি বলে ধরে নিয়েছিল।




পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৩ এএম

গত আগস্টের শেষের দিকে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট একটি নতুন আইন পাস করেছে। তড়িঘড়ি করে পাসকৃত এই আইনের মাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পদের ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর কমান্ড কাঠামো পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এই আইনের মাধ্যমে তা আরও এক ধাপ এগোল।


গত ২০ আগস্ট দেশটির জাতীয় পরিষদ ‘ডিফেন্স ফোর্সেস অব পাকিস্তান অ্যাক্ট, ২০২৪’ এবং ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি অ্যাক্ট, ২০১০’-এর একটি সংশোধনী অনুমোদন করে। এই দুটি আইন যৌথভাবে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) পদের আইনি কাঠামো নিশ্চিত করেছে। গত বছরের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই পদ তৈরি করা হয়।


বিল দুটি জাতীয় পরিষদের মূল কার্যসূচিতে ছিল না। তবু সেদিন সকালে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়ার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা পাস হয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বরে ২৭তম সংবিধান সংশোধনীও একইভাবে সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় পাস করা হয়েছিল।


২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের চার দিনের সংঘাতের ঠিক এক বছর পর এই আইনি পরিবর্তনগুলো আনা হলো। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৬ সালে তিন বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) মধ্যে সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে ‘চেয়ারম্যান অব দ্য জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি’ (সিজেসিএসসি) পদ তৈরির পর এটিই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর উচ্চতর কমান্ড কাঠামোর সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন।


পুরোনো সিজেসিএসসি পদটি এখন বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে ‘ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স’ (ডিএফএইচকিউ), যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিডিএফ। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, একই সঙ্গে সেনাপ্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।


এই পরিবর্তনের পেছনে মূল যুক্তি কী এবং নতুন সদর দপ্তরে নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এ বিষয়ে সামরিক বাহিনীর তথ্য শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) কাছে লিখিত প্রশ্ন পাঠালেও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা কোনও জবাব পায়নি।


পাকিস্তানের সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এই কাঠামোতে দেশটির সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধান ও সিডিএফ আসিম মুনিরের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানের গুরুত্ব অনেকাংশে কমে গেছে। এ ছাড়া সামরিক বাহিনী সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সিভিল প্রশাসনের ভূমিকাও বহুলাংশে খর্ব হবে।


বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাওয়ালপিন্ডিভিত্তিক একজন অবসরপ্রাপ্ত থ্রি-স্টার জেনারেল এই ব্যবস্থাকে একটি বিধিবদ্ধ ‘চেইন অব কমান্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এখন থেকে চেইন অব কমান্ড হবে—প্রধানমন্ত্রী, তারপর সিডিএফ ও তার নতুন সদরদপ্তর, এরপর সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রধানগণ এবং সবশেষে মাঠপর্যায়ের ফরমেশনগুলো।


তবে অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতে, আদেশ প্রয়োগের ক্ষমতা না থাকলে কেবল প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিশেষ অর্থ থাকে না। অবসরপ্রাপ্ত থ্রি-স্টার জেনারেল ও সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব নাঈম খালিদ লোধি বলেন, ‘কমান্ডার যদি পুরস্কার বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারেন, তবে সেই কমান্ড কার্যকর হয় না। ডিফেন্স ফোর্সেসের কমান্ডার এখন একজন প্রকৃত কমান্ডার এবং এই আইনের মাধ্যমে তা যথাযথভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ পেয়েছে।’


লোধি আল জাজিরাকে জানান, আগের ব্যবস্থায় ‘নৌ বা বিমানবাহিনীর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আইনি সুযোগ প্রধান কর্মকর্তার ছিল না। তিনি কেবল সেনাবাহিনীর ভেতরে ব্যবস্থা নিতে পারতেন, কিন্তু এখন এটি সর্বাত্মক রূপ নিয়েছে।’


সিডিএফ ও তার দপ্তরকে দেয়া নতুন এই ক্ষমতা তিন বাহিনীর মধ্যকার ভারসাম্য নষ্ট করছে কি না—তা নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।


নতুন আইনের অধীনে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের’ (এনএসসি) প্রধান পদের কর্মকর্তাকে অবশ্যই সেনাবাহিনী থেকে আসতে হবে। সিডিএফ-এর সুপারিশেই নিযুক্ত হবেন তিনি।


২০২৬ সালের জুলাইয়ে জেনারেল সৈয়দ আমের রেজাকে প্রথম সিএনএসসি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। পূর্বে চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে দায়িত্বরত এই কর্মকর্তাকে লেফট্যানেন্ট জেনারেল থেকে পদোন্নতি দিয়ে এ পদে বসানো হয়। নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা আর এই পদে বসতে পারবেন না।


সামরিক বাহিনীর সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই পরিবর্তন নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে। ইসলামাবাদভিত্তিক এই কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ‘যেহেতু তিন বাহিনীর সব জ্যেষ্ঠ পদের পদোন্নতি ও নিয়োগ এখন সিডিএফ অনুমোদন করবেন, তাই এটি কালক্রমে অন্য দুটি বাহিনীর স্বতন্ত্র সত্তাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।’ অন্য বাহিনীর কারও মাধ্যমে নিজস্ব পদোন্নতি নির্ধারিত হলে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


অবসরপ্রাপ্ত ভাইস অ্যাডমিরাল আহমেদ সাঈদের মতে, এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি নৌবাহিনীর জন্য।


এই আইনি পরিবর্তনের ফলে সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ হ্রাস পাচ্ছে কি না—তা নিয়েই সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমান আইনজীবী কর্নেল ইনাম রহিম বলেন, নতুন আইনটি নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তা সামরিক বাহিনীর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


তিনি জানান, আগে কোনও কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা অবসর দিতে হলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার কাছে সামারি পাঠাতে হতো। এখন সেই ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে সিডিএফ-এর একক এখতিয়ারে।


রহিম আল জাজিরাকে বলেন, ‘তাকে আর কোথাও কোনো ফাইল পাঠাতে হবে না। তিনি কেবল একটি চিঠি ইস্যু করবেন, আর সেই কর্মকর্তা বরখাস্ত বা অবসরে চলে যাবেন।’


ইসলামাবাদভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক যুক্তি দেন, নতুন এই আইনটি সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ড থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে’—যা গত বছরের সংবিধান সংশোধনীতেও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।


তিনি বলেন, ‘সিডিএফ-কে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর অপারেশনাল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ প্রদান করে রাজনৈতিক সরকার মূলত ২৪৩ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে।’


আসিম মুনির সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি নিজের ক্ষমতাকে সুসংহত করার চেষ্টায় লেগেছিলেন। এই আইনের মাধ্যমে তার সেই মিশন পূর্ণতা পেল বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানে এখন প্রধানমন্ত্রীর পরেই সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয় তাকে।


এমনকি ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যখন দৌড়ঝাঁপ করছিলেন–তখন তার পাশে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার নন, বরং বেশিরভাগ সময়ই সেখানে দেখা গেছে আসিম মুনিরকে। কূটনৈতিক সার্কেলে তার এমন উপস্থিতি প্রমাণ করে, সিডিএফ-এর হাত আসলে কতদূর পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।


আর তিন বাহিনীর ওপর এক অর্থে তার সর্বময় ক্ষমতা পেয়ে যাওয়ার পর নৌ ও বিমানবাহিনীতে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে বলেও ধারণা বিশ্লেষকদের। সামরিক ক্ষমতাকে এভাবে কেন্দ্রীভূত করা হলে ভবিষ্যতে তা তিন বাহিনীর স্বতন্ত্র সক্ষমতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অতি সিডিএফ নির্ভরতা বাহিনীগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে নেতৃত্বশূন্য করতে পারে, যা হবে ধ্বংসেরই নামান্তর।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১৫ এএম

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত ও বড় আকারে কমে যাবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম প্রতি গ্যালন ৩ ডলারে নেমে আসবে। শেষ পর্যন্ত তা ২ ডলারের নিচেও নামতে পারে। এক গ্যালনে প্রায় ৩ দশমিক ৮ লিটার।


ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তেলের দাম দ্রুত কমবে।’ একই সঙ্গে তিনি পুনরায় সতর্ক করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।


তবে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৩৪ ডলারে উঠেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ১৫ ডলার বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৬৩ ডলার।


মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভূখণ্ড বা সম্পদে নতুন করে হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।


এ পরিস্থিতিতে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দামে ঝুঁকিমূল্য যুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে ব্রেন্ট তেলের দাম ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


বিশ্বের অপরিশোধিত তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে এই নৌপথে তেল পরিবহন ব্যাহত হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সূত্র: আল-জাজিরা


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম আরও বড় ব্যবধানে এগিয়েছে। ভলিউম ও পোশাকের ইউনিটপ্রতি মূল্য দুই দিক থেকেই এগিয়ে যাচ্ছে ভিয়েতনাম। কয়েক বছর ধরেই ক্রমে এ ব্যবধানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি এখন বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ। তৈরি পোশাক দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে এ পণ্য থেকে।


চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম সাত মাস, অর্থাৎ গত জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে সাড়ে ৬ শতাংশ। ভিয়েতনামের কমেছে মাত্র ১ শতাংশ। বাংলাদেশের রপ্তানি কমে ৪৬৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৯৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ, সাত মাসের ব্যবধানে প্রধান বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩২ কোটি ডলার। 


অন্যদিকে জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি কম হয়েছে মাত্র ১১ কোটি ডলার। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৩৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে দেশটি। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯৪৬ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম। বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 


অটেক্সার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনের অবস্থান তৃতীয় প্রধান রপ্তানিকারক দেশের। গত আলোচ্য সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪৫৬ কোটি ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬৯২ কোটি ডলার। 


যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। আলোচ্য সময়ে দেশটির রপ্তানি বেড়েছে ৩ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ২৭৪ কোটি ডলারের পোশাক, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৬৭ কোটি ডলার। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কম্বোডিয়া। রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ২৬২ কোটি ডলারের পোশাক, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৩৭ কোটি ডলার। 


বছরের প্রথম সাত মাসে সারাবিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ৯ শতাংশের মতো। মোট চার হাজার ১৮৩ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে দেশটি। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল চার হাজার ৫৮০ কোটি ডলার। অটেক্সার তথ্য উপাত্ত বলছে, সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের দর ইউনিটপ্রতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের পোশাকের দর কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ভিয়েতনামের পোশাকের কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। চীনা পোশাকের কমেছে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। কেবল মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের পোশাকের ইউনিটপ্রতি দর বেড়েছে ১৪ ও ৬ শতাংশ। 


যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে ভারতের অবস্থান ষষ্ঠ। সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৬ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ২৪৫ কোটি ডলারের পোশাক। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৩০ কোটি ডলার।


শেখ হাসিনা ও শেখ সেলিম

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪১ পিএম

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।


তার মতে, শেখ সেলিম এখন আওয়ামী লীগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য। তাই শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিমই দলীয় সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।


ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।


দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে নিজের দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।


এ সময় দেশে ফেরার আগ্রহ রয়েছে বলে জানান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তবে দেশে ফিরলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে তার। শেখ হাসিনার দাবি, দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেও তাকে হত্যা করা হতে পারে।


তার দেশে ফেরার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, প্রত্যেকেরই জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই তিনি দেশে ফেরার নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চান না।


সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা।


তার মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। কোনো সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


ভিডিওবার্তায় কথা বলছেন মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ এএম

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বৈধ কাজের ভিসাহীন কর্মীদের দ্রুত দেশে ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দেশটিতে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযানের মধ্যেই হাইকমিশন বলেছে, সরকারি সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রেপ্তার এড়িয়ে বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরে যেতে হবে। স্থানীয় সময় রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অনিয়মিত বা বৈধ নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদের নিজ দেশে ফেরার এ আহ্বান জানানো হয়।


ভিডিও বার্তায় কথা বলেন বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ার প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আপনারা হয়তো জানেন, অনিয়মিত বা ডকুমেন্টবিহীন বিদেশি অভিবাসীদের জন্য বর্তমানে মালয়েশিয়ার সরকারের মাইগ্রেশন বিভাগের একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু রয়েছে, যার নাম- মাইগ্র্যান্ট REPATRIATION PROGRAMME 2 তথা BRM 2.0।


এই কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বা ডকুমেন্টহীন বিদেশি নাগরিক বা কর্মীরা আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা এই কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে চান তাদের সহজ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে।


তিনি বলেন, প্রথমত বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। যাদের বৈধ পাসপোর্ট নেই বা পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে তারা বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে একটি ট্রাভেল পারমিট বা টিপি নেবেন।


এরপর দেশে ফেরার জন্য বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। মালয়েশিয়ার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, টিকিটের যাত্রার তারিখ ইমিগ্রেশনে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কমপক্ষে পাঁচ দিন পর এবং ১৪ দিনের মধ্যে হতে হবে।


আবেদনকারীকে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। কোনো প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে না।


আবেদনের সময় সঙ্গে রাখতে হবে মূল পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার কপি, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন উভয় পাসপোর্ট, বাংলাদেশে ফেরার বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট।


সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি ও প্রযোজ্য জরিমানা ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফি ও শর্তাবলি ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নিতে হবে।


তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মনে রাখবেন, BRM 2.0-এর আবেদন করতে কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন। নিজের আবেদন নিজেই করুন এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।’


প্রেস সচিব আরও বলেন, ভাই ও বোনেরা, আপনারা যদি এই কর্মসূচির আওতায় আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে দেশে ফিরতে চান, তাহলে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নিন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৫ এএম

ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় শিক্ষার্থীদের একটি হোস্টেল ভবন ধসে পড়ে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন আরও ১৫ থেকে ২০ জন। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত ছয়তলা ওই ভবনটি ধসে পড়ে। বেসমেন্ট ও ওপরের দিকে পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবনটি মূলত শিক্ষার্থীদের পেয়িং গেস্ট (পিজি) হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস)-এ নিয়ে আসার পর চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং গুরুতর আহত অপর এক শিক্ষার্থী পরে মারা যান।


চিকিৎসার জন্য আরও তিন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজনের হাত ও পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, আর অন্যজন সামান্য আঘাত পেয়েছেন যাকে পর্যবেক্ষণের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আনুমানিক ১৫-২০ জনের সন্ধানে কর্তৃপক্ষের একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধার অভিযান রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।


একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেসমেন্ট এবং ওপরের দিকে পাঁচটি তলা বিশিষ্ট ওই ভবনটি পেয়িং গেস্ট (পিজি) থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। দুপুর দেড়টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ার সময় বেসমেন্টে মেরামতের কাজ চলছিল।


এনডিআরএফ-এর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জীবিতদের সন্ধানে ৭০ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (এনডিআরএফ) দুটি দল এবং একটি ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। আটকে পড়া ব্যক্তিদের শ্বাস নিতে সাহায্য করার জন্য ধ্বংসস্তূপের নিচে অক্সিজেন সিলিন্ডারও নামানো হয়েছিল।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হোস্টেলে থাকা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই কেরালা, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা এবং তারা কাছের কলেজগুলোতে পড়াশোনা করতেন।


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং ভবন ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করছে।