তেহরানের এক ব্যানারে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুলুল্লাহ খোমেনি, পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতিকৃতি (ছবি-এএফপি)

  • প্রকাশ : বুধবার ০৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:১৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি  ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের আরও অনেক শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা প্রাণ হারান। এর মধ্য দিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের একটি যুগের অবসান ঘটে। তবে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্র ভেঙে পড়েনি। বরং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ইরান দ্রুত নতুন বাস্তবতায় নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। 


অনেক বিশ্লেষকের মতে, বিপ্লব-পরবর্তী নতুন এই নেতৃত্ব আগের তুলনায় বেশি বাস্তববাদী, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম এবং কৌশলগতভাবে আরও সক্রিয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই পরিবর্তন কি শুধু নেতৃত্বের পালাবদল, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রকে নিঃশেষ করে ফেলা। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অনেক পর্যবেক্ষকের প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি।


ঐতিহাসিক ভার্সাই থেকে মধ্যপ্রাচ্য

গত মাসে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। স্থানটি বেছে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ, একই প্রাসাদে ১৯১৯ সালে সই হয়েছিল ঐতিহাসিক ভার্সাই চুক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিয়েছিল এই চুক্তি। সেই ইতিহাসের সঙ্গে এবারের মাত্র দেড় পৃষ্ঠার নতুন এই সমঝোতা স্মারকের তুলনা করতে শুরু করেন অনেকে। দুই চুক্তির প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও প্রশ্ন উঠেছে—এই সমঝোতাও কি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস বদলে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে? যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও তা এখন পর্যন্ত ভঙ্গুর। হরমুজ প্রণালি ঘিরে ছোট ছোট সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধের মূল কারণগুলোরও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলটি এখনো অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।


ইরানকি আরও শক্তিশালী?

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ভালি নাসরের মতে, বড় যুদ্ধ শুধু বিজয়ী-পরাজিত নির্ধারণ করে না, এটি পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক দাবার ছকই বদলে দেয়। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের প্রভাব এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তবে শেষ পর্যন্ত এটি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নতুনভাবে সাজিয়ে দিতে পারে।’ যুদ্ধের আগে ইরানকে অত্যন্ত দুর্বল বলেই মনে করা হচ্ছিল।


দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত ছিল। পারমাণবিক কর্মসূচিও বড় ধাক্কা খেয়েছিল। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। একই সময়ে ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়ে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের সরকার ক্ষমতা হারায়। লেবাননে হিজবুল্লাহ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। গাজায় হামাসের ওপর ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান চলে। ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধেও একাধিক হামলা হয়। 


এসব কারণে অনেক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও বলা হয়েছিল, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান সম্ভবত সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যুদ্ধের ফলের সঙ্গে এ ধারণা পুরোপুরি মিলছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক চাপের মধ্যেও ইরান রাষ্ট্র হিসেবে টিকে গেছে। শুধু তাই নয়, বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতাও দেখাতে পেরেছে তেহরান। ফলে যুদ্ধ শেষে প্রশ্নটি নতুনভাবে সামনে আসে—আসলে কে কাকে দুর্বল করল?


ভিন্ন কৌশলে নতুন নেতৃত্ব

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ভালি নাসরের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যাকে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসন পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত ইরানের জন্য সুবিধাজনক হয়ে দাঁড়াতে পারে। তার ভাষায়, একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্ম এখন ক্ষমতায় এসেছে। তারা একদিকে যেমন যুদ্ধ পরিচালনা করছেন, অন্যদিকে শান্তি আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছেন।


নাসর বলেন, ‘ইরানের নতুন এই নেতৃত্ব আগের প্রজন্মের মতো আদর্শবাদী নয়, বরং রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করে না।’ নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বয়স ৫৬ বছর। তার বাবা প্রয়াত আলি খামেনির চেয়ে প্রায় ৩০ বছর ছোট তিনি। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ওয়াহিদিসহ বর্তমান নেতৃত্বের বেশিরভাগই বিপ্লব-পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল বলেন, ‘দীর্ঘদিন আলি খামেনির নেতৃত্বই রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তনের বড় বাধা ছিল। তার বিদায়ের পর সেই কাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’


আড়াল থেকে সর্বোচ্চ নেতা: বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আলি খামেনির সময় ইরান এমন একটি কৌশল অনুসরণ করত, যেখানে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না গিয়েও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা হতো। কিন্তু নতুন নেতৃত্ব সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনায়ও অংশ নেয়।


ভালি নাসরের মতে, আগের নেতৃত্বের তুলনায় বর্তমান নেতৃত্ব অনেক বেশি ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। এমনকি সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তাদের দ্বিধা কম। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২০ সালের ঘটনাটি উল্লেখ করেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আইআরজিসির কমান্ডার কাশেম সোলেইমানি নিহত হলে, ইরান ঘোষণা দিয়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এতে কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধে সেই সংযম দেখা যায়নি। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এ দফায় কুয়েতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক সেনা আহত হয়।


উপসাগরীয় রাজনীতিতে বদলে যাচ্ছে সমীকরণ

বিবিসির মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা-নীতি নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব দেশ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু এবার সেই ঘাঁটিগুলোই ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, উপসাগরীয় অনেক দেশ এখন বুঝতে পারছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকির কারণও হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, এ কারণেই উপসাগরীয় দেশগুলো ধীরে ধীরে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। এমনকি সৌদি আরবও আঞ্চলিক বৈঠকের উদ্যোগ নিতে পারে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি। তবে ভায়েজ মনে করেন, এর অর্থ এই নয় যে উপসাগরীয় দেশগুলো এখনই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয় ছেড়ে দেবে। কারণ বাস্তবে ওয়াশিংটনের বিকল্প এখনো তাদের হাতে নেই।


বদলাবে কি ইরানের সাধারণ মানুষের ভাগ্য?

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সময় ইরানের জনগণকে নিজেদের সরকার নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।তেহরানে নতুন নেতৃত্ব এলেও সাধারণ মানুষের জন্য আরও স্বাধীন বা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা এখনো সামনে আসেনি। চ্যাথাম হাউজের বিশ্লেষক আনিসেহ বাসিরি তাবরিজির মতে, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এখন নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা। তাই ভিন্নমত দমনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে সামাজিক কিছু ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে হিজাবের বাধ্যবাধকতা কার্যত শিথিল হয়েছে। তেহরানের কিছু রেস্তোরাঁয় নীরবে মদ বিক্রিও চলছে—যা আগে কল্পনাও করা যেত না।


অধ্যাপক ভালি নাসরের মতে, এসব পরিবর্তনের পেছনে আদর্শগত কোনো কারণ নেই। বরং যুদ্ধের পর রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই সরকার বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যুদ্ধের পর বদলে গেছে সাধারণ মানুষের মনোভাবও। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের সাধারণ মানুষের মানসিকতায়ও বড় পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করছে বিবিসি।


বহু বছর ধরে সরকারের কঠোর দমন-পীড়নে ক্ষুব্ধ থাকা অনেক মানুষ যুদ্ধের সময় ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হতে দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন—তাদের প্রকৃত শত্রু কে? যুদ্ধের প্রথম দিনেই মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহু শিশুর মৃত্যু সেই প্রশ্নকে আরও তীব্র করে তোলে।


বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিজেদের ‘মুক্তিদাতা’ হিসেবে তুলে ধরছিল, তাদের হামলায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন উপলব্ধিও তৈরি হয়েছে ইরানি সমাজের একাংশে। 


চীনের মতো সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ইরান

আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আলি ভায়েজ বর্তমান পরিস্থিতিকে মাও-পরবর্তী চীনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, ইরানের পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা এখন বুঝতে পারছে যে পুরোনো পথে আর এগোনো সম্ভব নয়। রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে জনগণের সঙ্গে নতুন এক সামাজিক সমঝোতা গড়ে তুলতে হবে। তবে সেই পরিবর্তন কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ ক্ষমতার কেন্দ্র আগের চেয়ে আরও বেশি মাত্রায় আইআরজিসির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষিত তরুণদের বড় একটি অংশ এখনো মনে করেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।



কূটনীতিতে নতুন সুযোগ: যুদ্ধের পর উত্তেজনা পুরোপুরি না কমলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক ‘মৌলিকভাবে পরিবর্তনের’ সম্ভাবনার কথা বলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড়ের বিনিময়ে যদি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়, তাহলে সেটি ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হতে পারে। সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের জন্য কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যাতে ইরান সীমিত পরিসরে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারে।


আলোচনা সফল হলে ইরানের জব্দ থাকা কয়েকশ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের পথও খুলে যেতে পারে। এছাড়া সমঝোতা স্মারকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। যদিও এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব অর্থনৈতিক প্রণোদনাই নতুন নেতৃত্বকে সমঝোতার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে পারে।


চ্যাথাম হাউজের সানাম ভাকিল মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্য এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতা ব্যর্থ হলে বা আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প ধৈর্য হারালে নতুন করে সামরিক সংঘাতও শুরু হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের অবিশ্বাস, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও লেবাননসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকট এখনো অমীমাংসিত। ফলে সামনে যেমন নতুন সম্পর্ক গড়ার সুযোগ রয়েছে, তেমনি ব্যর্থতার ঝুঁকিও সমানভাবে রয়ে গেছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান ভেঙে পড়বে—এই ধারণা বাস্তবে সফল হয়নি। বরং ইরানের নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তুলনামূলক বেশি বাস্তববাদী, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এবং একই সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই পথেই এগোতে আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়—এই পরিবর্তন ইরানের জন্য নতুন স্থিতিশীলতার সূচনা করবে, নাকি আবারও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে মধ্যপ্রাচ্যকে।



  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Laborum Consequuntu

Aaaa Update Laborum Consequuntu

Dolore qui laborum i


Voluptas ad tempora

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ পিএম

Laborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum Consequuntu


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৫৯ এএম

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে বলেছে।


প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


ফেসবুকে মোদি জানান, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে দেওয়া ওই বার্তায় মোদি আরও লেখেন, ‘যারা আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চায়, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’


৬ সপ্তাহে সর্বোচ্চ তেলের দাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৪ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখন ১০০ ডলারের কাছাকাছি চলে গেছে।


আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮৮ ডলার অতিক্রম করেছে। 


আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৯৩ ডলার বা ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪১ ডলার বা ১ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে। খবর রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া। 


গতকাল তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। ফলে ব্রেন্টের দাম ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের দিকে বাজার সব সময় নজর রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২তম রাতে ইরানে হামলা চালানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। 


হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যখনই কোনো জাহাজে হামলা করবে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। তাঁর এ মন্তব্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়বে, এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা আছে- এমন পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরণে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তাদের ভাষ্য, ওই ঘটনার পর আরও দুটি ট্যাংকার যাত্রাপথ থেকে ফিরে যায়।


আইআরজিসি আরও বলেছে, এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান চলাকালে হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। এই প্রণালি এখন পুরোপুরি বন্ধ। ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো ট্যাংকার প্রণালিতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে দেওয়া হবে না বলেও তারা সতর্ক করেছে। এদিকে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে অভিযান আরও জোরদার করায় সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কা বেড়েছে।


হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল বহনকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। তাদের দাবি, সামরিক অভিযানে তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা করেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি পতাকাবাহী ট্যাংকার এনসেলিয়া লোহিত সাগরে হামলার শিকার হয়েছে।


এ ছাড়া হুতিদের দাবি, সৌদি বন্দরের দিকে যেতে নিষেধ করে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর প্রায় ১০টি জাহাজ ফিরে গেছে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।


এসব ঘটনায় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথ-হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালি-দিয়ে তেল পরিবহন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসির এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শিপিং কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে মাইন পাতা আছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অকার্যকর ঘোষণার পর এবার তেলের দাম এখনো ১০০ ডলারের নিচেই আছে। যদিও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত আছে। 


এর আগে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল, এখন দাম তার চেয়ে ৩০ ডলার কম।


শাহবাজ শরিফ, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আসিম মুনির

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৯ পিএম

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা সুবিধা চেয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মেয়াদে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে।


আজ বুধবার (২২ জুলাই) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের এই অনুরোধ এমন সময় এসেছে, যখন দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান সহায়তা কর্মসূচির অধীনে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় ইসলামাবাদের কূটনৈতিক অবস্থানও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে দেশটি।


অনুমোদন মিললে এই তহবিল পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে, রুপির ওপর চাপ কমাতে এবং বহুপাক্ষিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসে সহায়ক হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানান, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।


পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বৈঠকে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে সহজ প্রবেশাধিকার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং দেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহযোগিতা চেয়েছেন আওরঙ্গজেব। পাশাপাশি দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।


বর্তমানে পাকিস্তান ৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করছে দেশটি। ২০২৩ সালে সার্বভৌম ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে পাকিস্তান প্রথমে ৩ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ স্ট্যান্ডবাই ঋণ পায়। 


পরে আরও ৭ বিলিয়ন ডলারের ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি’ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদিত হয়।


তবুও পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনো মূলত আইএমএফের অর্থছাড়, দ্বিপক্ষীয় সহায়তা এবং চীন ও সৌদি আরবের মতো অংশীদারদের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।


দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।


উল্লেখ্য, মুদ্রা স্থিতিশীলতা সহায়তা সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’-এর মাধ্যমে দেওয়া বিশেষ আর্থিক ব্যবস্থা। এর আওতায় ডলার সহায়তা, মুদ্রা বিনিময় চুক্তি বা গ্যারান্টির মাধ্যমে কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করা হয়।


রয়টার্স জানিয়েছে, এ ধরনের সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী ডলার সোয়াপ লাইনের বাইরে একটি পৃথক ব্যবস্থা। ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনাকে দেওয়া সহায়তার আগে সর্বশেষ বড় ধরনের এমন প্যাকেজ ২০০২ সালে উরুগুয়েকে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মেক্সিকোর সঙ্গে ১৯৪০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা রয়েছে।


জাপান প্রথমবারের মতো 'কোকুশোবি' বা 'প্রচণ্ড গরম দিন' ঘোষণা করেছে

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

জাপানের মধ্যাঞ্চলের তিনটি শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। ফলে দেশটি প্রথমবারের মতো 'কোকুশোবি' বা 'প্রচণ্ড গরম দিন' ঘোষণা করেছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরোনো বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে চলতি বছরের এপ্রিলে নতুন এই সতর্কতা চালু করেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা।


গতকাল মঙ্গলবার জাপানের মধ্যাঞ্চলের তিন শহর তাজিমি, গুজো এবং তয়োদায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এই তীব্র তাপমাত্রা আগামী সপ্তাহেও অব্যাহত থাকবে- এমন ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাপানের আওহাওয়া সংস্থা।


তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সেই দিনগুলোকে জাপানে ‘কোকুশোবি’ বলা হয়। তীব্র গরমের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এই পরিভাষাটি চালু করা হয়েছিল।


বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহওয়া ঘন ঘন দেখা দিতে থাকার মধ্যে জাপানে প্রথমবারের মতো ‘অসহনীয় গরমের দিন’ ঘোষণা করা হল। গত বছর জাপানের ইসেসাকি নগরীতে এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখা গিয়েছিল।


জাপানে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের জন্য বিশেষ পরিভাষা আছে। যেমন: যেসব দিনে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যায় তাকে বলে মোসোবি বা ‘চরম গরম দিন’।


কিন্তু ‘কোকু’ শব্দটি আরও প্রচণ্ড বা প্রখর তাপ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। কিয়োদো নিউজের খবরে বলা হয়েছে, দেশের ৯১৪ টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রর প্রায় ৩০০ টিতেই মঙ্গলবার মোসোবি রেকর্ড করা হয়েছে।


তাছাড়া, কর্তৃপক্ষ দেশের ৪০ টিরও বেশি প্রশাসনিক এলাকায় হিটস্ট্রোক অ্যালার্ট জারি করেছে। লোকজনকে এয়ারকন্ডিশন ব্যবহার করা, যথেষ্ট পানি পান, লবণ খাওয়া এবং বাইরে কম যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বয়স্ক মানুষদেরকে শীতল পরিবেশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


জাপানের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানায়, টোকিও দমকল বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সিটি হাসপাতালে ৩ থেকে ১০৩ বছর বয়সের মোট ২৮৭ জনকে হিটস্ট্রোকের কারণে ভর্তি করা হয়েছে। এবছর এটিই হিটস্ট্রোকে হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড।


দমকল বিভাগও অ্যালার্ট জারি করে লোকজনকে তাপ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।


মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং বেশি মাত্রায় ঘটছে। গত বছর জাপান ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম পার করেছে।


আন্দোলনের চাপের মুখে মোদি

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:০১ এএম

পরীক্ষাসংক্রান্ত কেলেঙ্কারির পর জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ভারতের পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় এমপিদের সমর্থন পাওয়ার পর আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজধানী নয়াদিল্লির প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে আজ বুধবার (২২ জুলাই) অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে হাজার হাজার সমর্থকের বিশাল জমায়েত দেখা গেছে। 


শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার আর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। খবর এএফপির। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-ভিত্তিক আন্দোলন সিজেপির নেতৃত্বে ভারতজুড়ে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তার সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীরা রাজধানী ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। 


উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা যন্তর মন্তর ছাড়ব না। যে দেশে মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছিল, সরকারের সমালোচনা করাকে দেশদ্রোহিতা বলা হতো, আমরা এখন সেই দেশকে জাগিয়ে তুলেছি।"


বেশিরভাগ তরুণ ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন মঙ্গলবার দেশটির বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার পর মোদি সরকারের জন্য বড় সংকট তৈরি করে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। 


কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গত সোমবার (২০ জুলাই) আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো পুলিশি দমনপীড়নের জন্য সরকারের ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাহুল গান্ধীকে প্রতিবাদস্থল থেকে তুলে নিয়ে দুই ঘণ্টা আটকে রাখে পুলিশ। আজ বুধবার কালো পোশাক পরে পার্লামেন্টে উপস্থিত হয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন তিনি। 


অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, তরুণেরা যখন রাজপথে, তখন প্রধানমন্ত্রী নীরব ভূমিকা পালন করছেন।


এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত মে মাসে, যখন দেশটির প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত আদালতে শুনানির সময় তরুণদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা এবং ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ককরোচ জনতা পার্টির, যা এখন বেকারত্ব ও সরকারি অনিয়মের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারগ্যাস প্রয়োগ করে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে।


মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনলাইন মূল্যায়নে অনিয়মের কারণে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হলে এই অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতির উত্তাপ বুঝে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সংস্কার এবং আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। 


তবে দিল্লি ছাড়িয়ে এখন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে চাপের মুখে থাকা সরকার কীভাবে এই অচলাবস্থা নিরসন করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।