ছবি : সংগৃহীত
ইরানের কেশম, কিশ ও আবু মুসা দ্বীপে সম্প্রতি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তাদের চলমান ব্যাপক সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়।
অভিযানের আওতায় বন্দর আব্বাসসহ ইরানের দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন বন্দরনগরীতেও ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলার পর পুরোনো একটি প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের প্রথম দিক থেকেই প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছিল। আর তা হলো, ওয়াশিংটন কি ইরানের ভূখণ্ড দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে?
যুদ্ধের এক মাস পর গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে একটি তথ্য দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানান, ইরানের খারগ দ্বীপে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপ দিয়ে হয়ে থাকে। মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন মন্তব্যের পর সেখানে স্থল অভিযানের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছিল।
গত ১৭ জুন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর দ্বীপ দখলের আলোচনা কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে।
তবে গত সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি। এরপর বিষয়টি আবার নতুন করে সামনে এসেছে। এ ধরনের কোনো অভিযানের পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাকে এটি বলতে পারব না। কারণ, আমি যদি বলি, তবে তা বোকামি হবে।’
তাহলে প্রশ্ন জাগে, এটি কি কেবলই যুদ্ধংদেহী কথাবার্তা, নাকি সত্যিই এমন কিছু ঘটার আশঙ্কা রয়েছে?
ইরানের দ্বীপ দখলে মার্কিন সক্ষমতা
লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক অ্যান্ড্রিয়াস ক্রিগ আল-জাজিরাকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সীমিত কৌশলগত দিক’ বিবেচনা করলে ইরানের দ্বীপগুলো দখল করার মতো সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত আকাশ, নৌ ও উভচর সামরিক শক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ছোট কোনো দ্বীপ দখল করতে পারে।
তবে এর ফলে যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়বে, তা সামাল দেওয়ার সদিচ্ছা তাদের থাকতে হবে।
বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। বড় ও স্থায়ী ঘাঁটির পাশাপাশি ছোট ছোট অগ্রবর্তী ঘাঁটিতেও এসব সেনা অবস্থান করছেন।
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক নাদের হাশেমিও আল-জাজিরার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, শুধু দ্বীপ দখল করাই নয়; বরং সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার মতো সামরিক ও লজিস্টিক (রসদ সরবরাহ) সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের আছে। কারণ, বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে সামরিক দিক থেকে তারা এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে নাদের হাশেমি মনে করেন, আসল প্রশ্ন হলো, এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা মূল্য চোকাতে হবে।
কিংস কলেজের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিগ বলেন, ‘সাময়িকভাবে একটি দ্বীপ দখল করা এক জিনিস। কিন্তু সেখানে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, রসদ সরবরাহ করা এবং সেখান থেকে কৌশলগত সুবিধা আদায় করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।’
ক্রিগ আরও উল্লেখ করেন, কেশম দ্বীপ দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ কঠিন হবে। কারণ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়; বরং বেশ বড় একটি দ্বীপ, যা ইরানের মূল ভূখণ্ডের ঠিক গায়েই অবস্থিত।
হেঙ্গামের মতো ছোট ছোট দ্বীপ হয়তো সহজেই দখল করা যাবে। তবে এগুলো ইরানের গোলন্দাজ বাহিনী, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট নৌকার বহরের নাগালের মধ্যেই থাকবে।
সহযোগী অধ্যাপক ক্রিগ বলেন, একসঙ্গে কয়েকটি দ্বীপ দখল করতে গেলে তা আর ‘সীমিত অভিযান’ থাকবে না। তখন এটি বড় ধরনের একটি উভচর সামরিক অভিযানে রূপ নেবে।
দ্বীপগুলো দখল করলেই যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা দেওয়া বন্ধ করবে, এমন নয়। উল্টো এর ফলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়বে এবং সেগুলোতে টানা হামলা হতে থাকবে। একই সঙ্গে এ ঘটনা তেহরানের হাতে একটি বড় যুক্তি তুলে দেবে। তখন তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘দখলদার শক্তি’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারবে।
অত্যন্ত ব্যয়বহুল অভিযান
এ ধরনের পদক্ষেপে প্রচুর জনবলের প্রয়োজন হবে। সহযোগী অধ্যাপক ক্রিগ ধারণা করেন, একটি সীমিত অভিযানের জন্যও শুরুতে ৫–১০ হাজার সেনার একটি বাহিনীর প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে লড়াকু সেনা, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, প্রকৌশলী, রসদ সরবরাহ, চিকিৎসাসেবা ও কমান্ড শাখার সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
যদি একসঙ্গে কয়েকটি দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সেনার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু দখল নয়, এর পরের লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে গেলেও অতিরিক্ত সেনার প্রয়োজন হবে বলে ক্রিগ জানান।
ক্রিগ বলেন, ‘ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ধেয়ে আসা সরাসরি হামলার মুখে মার্কিন সেনাদের কাজ করতে হবে। এ ছাড়া রসদবাহী জাহাজ, ল্যান্ডিং ক্রাফট ও হেলিকপ্টারগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, মাইন ও কামানের গোলার ঝুঁকির মধ্য দিয়েই সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে হবে।’
যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কিংস কলেজের এই শিক্ষক আরও যোগ করেন, ‘ইরানকে যে তাৎক্ষণিক দ্বীপগুলো পুনর্দখল করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তারা শুধু অবিরাম হামলা চালিয়ে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এতে ওই অঞ্চলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর অবস্থানে পরিণত হবে।’
ক্রিগ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই ওই সেনাদের রসদ সরবরাহ করতে পারে। তবে এ জন্য তাদের নিরবচ্ছিন্ন নৌ নিরাপত্তা ও আকাশপথে আধিপত্য বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের আক্রমণ প্রতিহত করার ব্যবস্থাও চালু রাখতে হবে। তখন সেখানে টিকে থাকাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল মিশন হয়ে দাঁড়াবে। নৌপথ সুরক্ষার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া একটি অভিযান খুব দ্রুতই ভূখণ্ড দখলের এক অন্তহীন যুদ্ধে পরিণত হতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্র আসলেই দক্ষিণাঞ্চলীয় কোনো দ্বীপ, বিশেষ করে খারগ দ্বীপ দখলের চেষ্টা করবে কি না, তা নিয়ে ‘যথেষ্ট সন্দেহ’ প্রকাশ করেছেন জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক হাশেমি।
অধ্যাপক হাশেমি বলেন, এর ফলে মার্কিন সেনাদের ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে। দেশের ভেতরেও এর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক গোষ্ঠী ‘মাগা’ (আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলো) ঘাঁটিতে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। এটি এমন এক রাজনৈতিক ঝুঁকি, যা নিশ্চিতভাবেই ইরাক যুদ্ধের স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাত্ত্বিকভাবে চিন্তা করলে যুক্তরাষ্ট্র আরও অনেক দূর যেতে পারে, এমনকি তারা ইরানের মূল ভূখণ্ডও দখল করতে পারে। ভিয়েতনাম যুদ্ধে তারা পাঁচ লাখ সেনা পাঠিয়েছিল। সেই সক্ষমতা তাদের আজও আছে। কিন্তু রাজনৈতিক দিক থেকে এমন কিছু ভাবাও অসম্ভব। এর বাইরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল প্রভাব তো পড়বেই। আরব বিশ্বের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও ব্যাপক ফাটল ধরবে।
হাশেমি বলেন, ‘এসবই কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা। বাস্তবে এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।’
শুরুতেই কি ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে হবে
ক্রিগ বলছেন, ইরানের যেকোনো দ্বীপ দখল করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল করে দিতে হবে। তবে শুধু বিমান হামলা চালিয়ে সেই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়।
ইরানের অনেক রাডার সিস্টেম, উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাটারি, ড্রোনঘাঁটি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কমান্ড সেন্টারগুলো স্থানান্তরযোগ্য। এগুলোর অনেক কিছুই লুকানো অবস্থায় বা মূল ভূখণ্ডের একেবারে ভেতরে অবস্থিত। ফলে দ্বীপে সেনা নামানোর সময় মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো হয়তো সাময়িকভাবে সেই হুমকি দমিয়ে রাখতে পারবে।
তবে সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হলে তাদের টানা সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে হবে।
ক্রিগ দাবি করেন, দ্বীপ দখলের এ ধারণার মূল দুর্বলতা এখানেই। নৌপথে হুমকি তৈরির জন্য ইরানের আসলে এই দ্বীপগুলোর কোনো প্রয়োজনই নেই। তারা মূল ভূখণ্ড থেকেই অনায়াসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা যদি সত্যিই পুরোপুরি নষ্ট করতে হয়, তবে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের একটি বড় অংশে হামলা চালাতে হবে। এমনকি সম্ভাব্য দখলদারত্বও কায়েম করতে হতে পারে। তিনি বলেন, ‘তেমন পরিস্থিতিতে এ অভিযান আর শুধু দ্বীপ দখলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি বরং আরও বড় পরিসরের একটি স্থলযুদ্ধের সূচনা করবে।’
মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক হাশেমি উল্লেখ করেন, এমন দৃশ্যপট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। এর জন্য এত দিন ধরে চলা হামলার চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি বোমাবর্ষণের প্রয়োজন হবে। এ কারণেই ওয়াশিংটন আদৌ সেই পথে হাঁটবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।
নৌপরিবহন, বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাব
কিংস কলেজের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিগ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো দ্বীপ দখল করলে তেহরান বিষয়টিকে চরম উসকানি হিসেবেই নেবে। এর জবাবে তারা হরমুজ প্রণালিতে আরও বেশি মাইন পুঁতে রাখতে পারে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজ, মার্কিন ঘাঁটি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বাড়িয়ে দিতে পারে তারা।
ক্রিগ আরও জানান, দ্বীপগুলো যার দখলেই থাকুক না কেন, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো খুব স্বাভাবিকভাবেই হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলবে। জাহাজের বিমা খরচ তখন বহুগুণ বেড়ে যাবে। আর পানিতে থাকা মাইন সরাতেও অনেক সময় লাগবে। পাশাপাশি এমন কোনো দখলের ঘটনা উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে। কারণ, এসব দেশ চায় হরমুজ প্রণালি খোলা থাকুক। কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘাঁটি বা ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে চায় না।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ক্রিগের চূড়ান্ত উপসংহার হলো, দ্বীপ দখলের বিষয়টি হয়তো একটি চমকপ্রদ সামরিক ভাবমূর্তি তৈরি করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা’ রক্ষার লড়াইকে ‘ভূখণ্ড দখলের এক যুদ্ধে’ পরিণত করবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাধ্য হয়ে কোনোভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এমন বড় কোনো স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে, যা তারা যেকোনো মূল্যেই এড়াতে চায়।
একসময় হাম নির্মূলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টিকাদানে ঘাটতি ও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাতের কারণে এখন দেশটি হাম রোগের ভয়াবহতম প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হাম-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯-এ পৌঁছেছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। দেখা দিয়েছে শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট। একই সঙ্গে প্রতিদিনই হাম আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে আসার সংখ্যা বাড়ছে।
এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাতের পর থেকেই শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ওই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব চলছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত এবং টিকা সরবরাহে সমস্যার ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু হাম থেকে সুরক্ষাহীন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ এই বয়সে নিয়মিত হাম টিকা দেওয়ার সুযোগ থাকে না।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৩৫।
হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯, যার মধ্যে ১০০টি মৃত্যু পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
টিকাদানে বড় ঘাটতি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার পেছনে দুর্বল কর্মসূচি তদারকি, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তন বড় ভূমিকা রেখেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে টিকা সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার সংসদে তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে সংকট তৈরি হয়েছিল। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালে একটি টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত করা এবং পরের বছর দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাতিল করার ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সংস্থাও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাতের কথা জানিয়েছে।
প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। গত এক দশকে হাম প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। কোভিড-১৯ মহামারির সময় সাময়িকভাবে টিকাদানের হার কমে যাওয়া ছাড়া বেশির ভাগ সময়ই দেশে হাম টিকার আওতা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল।
রোগতত্ত্ববিদ ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকাদানে ঘাটতির কারণেই বাংলাদেশ হাম নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এর আগে কখনো এত বেশি সংখ্যক শিশুর হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা দেখা যায়নি। একই বছরে এত বেশি রোগীও কখনো দেখা যায়নি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আক্রান্ত ও মৃতদের বড় অংশই শিশু।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদানের ঘাটতি পূরণ, টিকার আওতা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
রোগীর চাপে বিপর্যস্ত হাসপাতাল
হামের পাশাপাশি দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়ছে। ফলে একসঙ্গে দুটি সংক্রামক রোগের চাপ সামলাতে গিয়ে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার একদিনেই ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৭১ জন-চলতি বছরের এক দিনে যা সর্বোচ্চ।
ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য ৬০টি শয্যা রাখা হয়েছে। কিন্তু রোগীর চাপ এত বেশি যে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক চিকিৎসক নন্দদুলাল সাহা বলেন, রোগী এত বেশি আসছে যে সবাইকে জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
১ হাজার ৩৫০ রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা থাকা হাসপাতালটিতে বর্তমানে ২ হাজার ৩৫০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। হাম রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত শিশুদের স্যালাইনেরও সংকট দেখা দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
টিকা না পাওয়ার অভিযোগ
হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশুরা। পরিবারগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে। বাড়ছে চিকিৎসার খরচও।
৩৫ বছর বয়সী গৃহকর্মী নাসিমা বেগমের ১৩ মাস বয়সী ছেলে প্রায় দুই মাস আগে হাম আক্রান্ত হয়। চারটি হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ দিন পর ছাড়পত্র পেলেও এখনো তার জ্বর ফিরে আসছে এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।
নাসিমা জানান, অসুস্থ থাকার কারণে সময়মতো তার ছেলেকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে টিকাদান কেন্দ্রে গেলে সেখানে টিকা পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। তার আগের চার সন্তান নিয়মিত টিকা পেয়েছিল।
আরেক পরিবারও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছে।
কারখানাশ্রমিক মোহাম্মদ রিপনের আট মাস বয়সী মেয়ের শরীরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার কয়েক দিন পর আবারও ফুসকুড়ি ও হামের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। শেষ পর্যন্ত বিশেষায়িত হাম হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
রিপন বলেন, তারা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন, কিন্তু সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না।
জরুরি টিকাদানেও পুরোপুরি কাটছে না সংকট
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল থেকে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। এতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরে ১ কোটি ৯৭ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু জরুরি কর্মসূচি দিয়ে সংকট পুরোপুরি সমাধান হবে না। নিয়মিত টিকাদান আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি যেসব শিশু আগে টিকা পায়নি, তাদের জন্য বিশেষ ‘ক্যাচ-আপ’ কর্মসূচিও প্রয়োজন।
হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক রোগ। সাধারণত জ্বর ও শরীরে বিশেষ ধরনের লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। তবে দুটি ডোজ টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
নাসিমার ভাষায়, আমি শুধু চাই আমার ছেলে সুস্থ হয়ে উঠুক। আর কোনো মাকে যেন নিজের সন্তানকে এই রোগে কষ্ট পেতে বা মারা যেতে না হয়।
প্রতীকী ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে গত জুলাইয়ের পর এই প্রথম অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আজ বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নির্ধারণের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যায়। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ায় তেলের দাম এই মাইলফলক পেরিয়ে গেল। পরে অবশ্য তেলের দাম কিছুটা কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। খবর দ্য গার্ডিয়ান
ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক নৌযানে হামলার চেষ্টা করার পর দেশটির একাধিক তেলবাহী জাহাজ ‘ধ্বংস’ করার কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর আগে ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের চারটি শহরে হামলা চালায়। এতে ৭০ জনের বেশি আহত হন। সেই সঙ্গে কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।
আগস্টের শুরু থেকে তেলের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে থামবে—এমন সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ছয় মাস ধরে তেলের দাম ওঠানামা করেছে। ওই প্রণালিতে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ–সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন প্রথম দফায় হামলা শুরু করল, তখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে দাম বেড়ে ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
সংঘাতের মধ্যে এপ্রিলে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল। পরবর্তীকালে ওই অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হলে দাম কমে আসে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর আবার সংঘাত শুরু হয়। এতে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে গ্যাসের বাজারেও। চলতি মাসে যুক্তরাজ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছর সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদেরা আশা করছেন, বছরের শেষ নাগাদ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ অন্তত একবার সুদের হার বাড়াতে পারে।
বিষয়টি হলো, ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধির সঙ্গে তেলের বাজারের পরোক্ষ সম্পর্ক আছে। সুদহার বাড়লে ঋণের খরচ বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগ ও ভোগ কমে যায়; প্রভাব পড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে। জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় দামে প্রভাব পড়ে।
আবার সুদহার বাড়লে ডলার শক্তিশালী হতে পারে। ফলে আমদানিকারকেরা তেল কিনতে গিয়ে চাপে পড়েন। তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে ফেড আবার সুদহার বাড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে চাহিদা কমে যেতে পারে।
এলিজা আজাদ রহমান
অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হলেন আরেক বাংলাদেশি এলিজা আজাদ রহমান। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম কোনো বাংলাদেশি নারী ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হলেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলকক্ষে আয়োজিত সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এলিজা আজাদ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।
এলিজা আজাদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এই দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা ও কাজের পরিধি আরও বাড়ল।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এলিজা আজাদের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আজাদুল ইসলামের মেয়ে।
দুই দশকের বেশি সময় আগে এলিজা আজাদ শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এলিজা আজাদ বলেন, একজন বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অবস্থান তৈরি করা সহজ ছিল না। তিনি চান, নারীরা রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে আরও এগিয়ে আসুক।
এই যাত্রায় স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানালেন এলিজা আজাদ। তিনি বলেন, তা ছাড়া বাংলাদেশি ও স্থানীয় বহু সাংস্কৃতিক কমিউনিটির সমর্থন তিনি পেয়েছেন। তারা তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
এলিজা আজাদ ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটি। সিডনির ডেনহ্যাম কোর্টের বাসিন্দা বোরহান খান লিমন বলেন, এলিজা আজাদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছেন। স্থানীয় সরকারে তার এই অবস্থান প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে, সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করছেন।
এর আগে, বাংলাদেশি সুমন সাহা সিডনির কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিল ও মাসুদ খলিল ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। আরেক বাংলাদেশি মাসুদ চৌধুরী বর্তমানে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ছবি : সংগৃহীত
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যুক্তরাজ্যজুড়ে আকাশপথে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের হিথ্রোসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে বাতিল হয়েছে ১ হাজারের বেশি ফ্লাইট। একই সঙ্গে বিলম্বিত হয়েছে আরও শত শত ফ্লাইট। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ব্রিটেনের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (ন্যাটস) জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে সমস্যা শনাক্ত হয়েছে। সমস্যা সমাধানে প্রকৌশলীরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনের হিথ্রোসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়া করা অন্তত এক হাজার ফ্লাইট ইতোমধ্যেই বাতিল হয়েছে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইজিজেট, কেএলএম ও লুফথানসাসহ বেশ কয়েকটি বড় বিমান সংস্থার ফ্লাইটও এ সমস্যায় পড়েছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে একাধিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়। এতে যুক্তরাজ্যজুড়ে যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন।
যদিও ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং ব্রিটেনের আকাশসীমাও খোলা রয়েছে, তবু বহু ফ্লাইট বিলম্বেরও মুখে পড়েছে। পরে ন্যাটস জানায়, তারা সমস্যার সমাধান করেছে এবং তাদের সিস্টেম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে ন্যাটস জানায়, ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমের সমস্যা ঠিক করা হয়েছে। তবে তারপরও ১৫টি ব্রিটিশ বিমানবন্দরসহ আরও বিভিন্ন জায়গায় ফ্লাইট চলাচলে বিলম্ব অব্যাহত ছিল। বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের বড় জট কাটাতে বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলো কাজ করছে।
এর আগে শুরুতে ন্যাটস জানিয়েছিল, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমেই সমস্যার সূত্র পাওয়া গেছে। স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।
রয়টার্সের উদ্ধৃত ন্যাটসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সমস্যাটি আমাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমেই ছিল। আমাদের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে আছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন’। এতে আরও বলা হয়, ‘ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত আছে এবং আকাশসীমা খোলা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।’
ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর হিথ্রো জানিয়েছে, তারা সমস্যা সমাধানে ন্যাটসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইটের অবতরণ ও উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। এর ফলে দ্রুতই বড় ধরনের বিলম্ব ও ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটে।
ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, হিথ্রোতে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং ৩৬৭টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। গ্যাটউইক বিমানবন্দরে প্রায় ২৫০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়, যা বিমানবন্দরটির মোট ফ্লাইটের প্রায় ৩১ শতাংশ। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সমস্যায় পড়া বিমানবন্দরগুলোতে প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যেই ন্যাটসের সিস্টেম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
একপর্যায়ে লন্ডনের বাইরের বিমানবন্দরগুলোও এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়। এডিনবার্গ বিমানবন্দর যাত্রীদের সতর্ক করে জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তাদের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডাবলিন বিমানবন্দর জানায়, ব্রিটেন থেকে আসা ও ব্রিটেনে যাওয়ার ফ্লাইটও বিঘ্নিত হচ্ছে। লুটন, বার্মিংহাম, অ্যাবারডিন ও গ্লাসগো বিমানবন্দরেও বিলম্ব বা ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া যায়।
বিমান সংস্থাগুলোকেও তাদের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে হয়। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানায়, ন্যাটসের সমস্যার কারণে তাদের ফ্লাইট চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। রয়টার্সের উদ্ধৃত এক বিবৃতিতে বিমান সংস্থাটি বলেছে, ‘এটি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমাদের কর্মীরা যত দ্রুত সম্ভব যাত্রীদের গন্তব্যে পাঠানোর চেষ্টা করছেন এবং এ বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’
এয়ার ইন্ডিয়াও জানায়, ন্যাটসের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যুক্তরাজ্যগামী ও যুক্তরাজ্য থেকে ছেড়ে যাওয়া তাদের ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক্সে দেয়া এক পোস্টে বিমান সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী একাধিক ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন, বিলম্ব বা বাতিল করতে হয়েছে। বিমান ও ক্রুদের অবস্থান নির্ধারিত জায়গায় না থাকায় তাদের অন্য কিছু ফ্লাইটেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানায় এয়ার ইন্ডিয়া।
ইজিজেট জানিয়েছে, এ সমস্যার কারণে ইউরোপজুড়ে ফ্লাইট চলাচলে বিলম্ব হচ্ছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ৯৬টি, ইজিজেটের ৯২টি, কেএলএমের ২০টি, লুফথানসার ১২টি এবং সুইসের ১১টি ফ্লাইট ছিল।
ব্রিটেনের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় এর আগেও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ২০২৪ সালে দেশটির বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছিল, আগের বছর ফ্লাইট পরিকল্পনা প্রক্রিয়াকরণে ত্রুটির পর ন্যাটসকে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। ওই ঘটনায় ব্রিটেনজুড়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল।
বিমান সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আগের ওই সমস্যায় অর্থ ফেরত ও ক্ষতিপূরণ দিতে তাদের ১০ কোটি পাউন্ডের বেশি খরচ হয়েছিল। গত বছরের জুলাইয়েও রাডার-সংক্রান্ত একটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হিথ্রোসহ লন্ডনের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে চার ঘণ্টার বেশি সময় ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর পর এর জবাবে এসব জাহাজে হামলা চালায় আইআরজিসির নৌবাহিনী।
এসময় আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক (ডিডিজি-১১৯) এবং ইউএসএস জন পল জোন্স (ডিডিজি-৫৩)-কে লক্ষ্যবস্তু করে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মার্কিন সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীর আগ্রাসন ও শত্রুতার জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির একটি নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা আরও ১০টি নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে আইআরজিসি। এসব জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি ও সহযোগিতায় ওই এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগ করেছে তারা।
আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ নজরদারি এবং ব্যবস্থাপনার অধীনে রয়েছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। বুধবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত এক সপ্তাহে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে সর্বশেষ ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক মানুষবিহীন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের যে আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি বিকল হয়েছিল, সেটি পুরোনো মডেলের এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা গোপন সরঞ্জাম ছিল না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আইআরজিসির বরাতে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোরে গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানুষবিহীন ও ‘স্মার্ট’ সাবমেরিন আটক করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, আটক করা ডুবোজাহাজটি পানির নিচে ব্যবহারের জন্য বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এটি ২০২৫ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে ইরান। শিগগির আটক করা সাবমেরিনটির ছবি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষবিহীন এই ডুবোজাহাজের সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে পানির নিচে অনুসন্ধান ও নজরদারি, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, মাইন শনাক্তকরণ এবং সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন পরিদর্শন।
তবে ইরানের দাবির পরপরই আল-জাজিরার কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এক দিনেরও বেশি সময় আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ে।
মার্কিন ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ড্রোনটি চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য আঞ্চলিক জলসীমায় জরিপ চালাচ্ছিল। এটি ছিল পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন। এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা ছিল না এবং কোনো গোপন সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রেখেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।