ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ও একেকটি ২০০০ পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের মোট ৬০ হাজার বোমা বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে কয়েক শ কোটি ডলারের একটি চুক্তি সই করছে দুই দেশ। আর মার্কিন করদাতাদের অর্থে বিশাল অঙ্কের এ চুক্তির ব্যয় মেটানো হবে।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে মারাত্মক ও বিধ্বংসী এ যুদ্ধাস্ত্র ইসরায়েলের কাছে বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত অনানুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসকেও জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কখনো একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক বোমা ইসরায়েলে পাঠায়নি। গাজায় প্রায় তিন বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের অনবরত সহিংসতা ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানের মধ্যেই এ বিশাল অঙ্কের অস্ত্র চুক্তির বিষয়টি সামনে এল। এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ বাসিন্দা।
যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সময় ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ এসব বোমা সরবরাহ করতে যাচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে তাদের নিজেরই অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের কারণে এ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, মার্কিন প্রশাসন আসলে ইসরায়েলকে কোন ধরনের বোমা দিচ্ছে? মারণাস্ত্রগুলো দিয়ে ইসরায়েল নতুন করে কী ধরনের আগ্রাসন চালাতে পারে?
কোন ধরনের অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা
ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, সব সময়ই একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বিদেশে অস্ত্র বিক্রি করা হয়। তবে প্রক্রিয়াধীন কোনো চুক্তির বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক নীতি অনুযায়ী কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার আগে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয় নিশ্চিত করে না বা এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করে না।
তবে বিভিন্ন সূত্রের খবর, ওয়াশিংটন ইসরায়েলের কাছে ৬০ হাজার শক্তিশালী বোমা সরবরাহের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। সম্ভাব্য চুক্তির অধীন ২০ হাজার এমকে-৮৪ বোমা, ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা ও বাংকার ধ্বংস করতে সক্ষম ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর বোমা ইসরায়েলের কাছে বিক্রি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশাল এ অস্ত্র চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ২৮০ কোটি ডলার। এ ব্যয়ের সিংহভাগই মেটানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং’ নামের বিশেষ কর্মসূচির আওতায়। এই ব্যবস্থায় ওয়াশিংটন মূলত তার নিজস্ব করদাতাদের তহবিল থেকে ইসরায়েলকে অর্থ দেয়, যাতে দেশটি সেই অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে।
সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে তিন ধরনের বোমা সরবরাহ করবে, তা আগেই বলা হয়েছে। বোমাগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক—
এমকে-৮৪
এটি মূলত মার্ক ৮০ সিরিজের বোমার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী। প্রায় ২ হাজার পাউন্ড বা ৯০৭ কেজি ওজনের বোমাটি মূলত বড় বড় ভবন ও মাঝারি ধরনের সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে সর্বোচ্চ মাত্রার বিস্ফোরণ ঘটাতে তৈরি করা হয়েছে। এমকে-৮৪ যেখানে আঘাত হানে, সেখান থেকে শত শত মিটার দূর পর্যন্ত ভবন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারে। তবে বোমাটি সব সময় নিশানায় নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম নয়।
বিএলইউ-১১৭
এটিও প্রায় ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা। দেখতে হুবহু এমকে-৮৪ বোমার মতো হলেও এর ভেতরে ভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়। এ বোমায় নিখুঁতভাবে নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম প্রযুক্তি যুক্ত করা যায়। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে নিরাপদে রাখার জন্য এই বোমার গায়ে বিশেষ এক ধরনের তাপ প্রতিরোধী প্রলেপ দেওয়া থাকে।
আই-২০০০ পেনিট্রেটর
এ বোমা সাধারণত ‘বাংকার বাস্টার’ নামে পরিচিত। প্রায় ২ হাজার পাউন্ডের এ শক্তিশালী মারণাস্ত্র মাটির নিচে বা কংক্রিটের অত্যন্ত শক্ত কোনো কাঠামো ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। এ বিশেষ সক্ষমতার কারণে এর বাইরের ধাতব আবরণ এমকে-৮৪ বোমার চেয়ে অনেক বেশি পুরু ও শক্ত হয়ে থাকে।
এর আগে ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইসরায়েলে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমার কিছু সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। বিভিন্ন হামলায় অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে সে সময় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে সেই স্থগিতাদেশ পুরোপুরি তুলে দেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি কংগ্রেসের পর্যালোচনা ছাড়াই ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেন। এই মারণাস্ত্রের মধ্যে ৩৫ হাজার ৫০০টির বেশি শক্তিশালী বোমা ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের কাছে আরও ৬৬৭ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়।
ইসরায়েল আগে কখন এত ওজনের বোমা ব্যবহার করেছে
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং লেবাননে প্রায় চার দশক ধরে ২ হাজার পাউন্ডের এসব শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করে আসছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর গাজায় পুরোদমে যুদ্ধ শুরু করার বহু আগে থেকেই এ ধ্বংসাত্মক মারণাস্ত্র ব্যবহার করছে দেশটি।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৮১ সালে ইরাকের বাগদাদের কাছে একটি পারমাণবিক চুল্লি ধ্বংস করতে ‘অপারেশন অপেরা’ নামে এক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল। সেই অভিযানে এসব বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। এর ঠিক পরের বছর লেবানন ও সিরিয়াতেও এ ধরনের বোমাবর্ষণ করে তারা। এতে সে সময় বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছিলেন।
প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক গবেষণা ও বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট অন ডিফেন্স অলটারনেটিভসের (পিডিএ) তথ্য অনুযায়ী, একটি ২ হাজার পাউন্ডের বোমা বিস্ফোরণের স্থান থেকে ৩৫ মিটার বা ১১৫ ফুটের ভেতরের সবকিছু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, জখম কিংবা সম্পূর্ণ ঝাঁঝরা করে দিতে পারে। মাটির ধরনভেদে এ বোমা বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ৫০ ফুট (১৫ মিটার) চওড়া ও ১৬ ফুট (৫ মিটার) গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়।
গাজায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ইসরায়েল এসব বিধ্বংসী বোমা আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘন ঘন ব্যবহার করছে।
২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর গাজা নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে একটি ২ হাজার পাউন্ডের বোমা ফেলেছিল ইসরায়েল। বোমায় বিধ্বস্ত ভবনগুলোর মধ্যে এক বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়। ডজন ডজন বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় সে সময় জানিয়েছিল, ইসরায়েলের এ বোমা হামলা যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য হতে পারে।
২০২৪ সালের নভেম্বরের দিকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ওয়াশিংটন এ আদালতের এখতিয়ার ও আইনি কর্তৃত্ব উপহাস করে উড়িয়ে দিয়েছে।
বোমাগুলো কতটা প্রাণঘাতী
আল-জাজিরার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দ্য রেস্ট অব দ্য স্টোরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজায় এমন অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনির খোঁজ পেয়েছে উদ্ধারকারী দল, যাঁরা বোমার আঘাতে একপ্রকার হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন। হামলার পর ঘটনাস্থলে তাঁদের রক্তের দাগ বা মাংসের ছোট ছোট টুকরা ছাড়া মরদেহের আর কোনো অবশিষ্টাংশ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্রের (যা সাধারণত ভ্যাকুয়াম বা অ্যারোসল বোমা নামে পরিচিত) ব্যবহারকে দায়ী করেছেন। ইসরায়েলের ব্যবহার করা শক্তিশালী এসব বোমা বিস্ফোরণের মুহূর্তে ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা তৈরি করতে সক্ষম।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিতে দেখানো হয়েছে, কীভাবে ইসরায়েলি গোলাবারুদের বিশেষ রাসায়নিক মিশ্রণ মাত্র কয়েক সেকেন্ডে মানুষের শরীর পুড়িয়ে ছাইয়ে পরিণত করে। গাজায় মানুষের এভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সুনির্দিষ্ট কিছু মারণাস্ত্র চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে এমকে-৮৪ এবং বিএলইউ সিরিজের বাংকারবিধ্বংসী বোমাগুলো অন্যতম।
রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ ভাসিলি ফাতিগারভ বলেন, এ আধুনিক অস্ত্রগুলো শুধু মানুষকে মেরেই ফেলে না, বরং যেকোনো বস্তু পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেয়। এই বোমার আগুনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে রাসায়নিক মিশ্রণের সঙ্গে অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও টাইটানিয়ামের গুঁড়া যোগ করা হয়। ফলে বিস্ফোরণের সময় তাপমাত্রা আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে উন্নীত হয়, যা মানব শরীরকে মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন করার জন্য যথেষ্ট।
৬০ হাজার বোমা সরবরাহ কতটা তাৎপর্যপূর্ণ
এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হিসাব করলে, ২ হাজার পাউন্ডের ৬০ হাজার বোমার ওজন দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ হাজার ৪০০ টন। বিশাল ওজনের এত বোমা কতটা প্রলয়ংকরী হতে পারে, তা কিছু তুলনামূলক উদাহরণ দিলে সহজে বোঝা যাবে। এ ওজন নিউইয়র্কের বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের পুরো ইস্পাতের কাঠামোর ওজনের প্রায় সমান অথবা প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের মূল লোহার কাঠামোর চেয়ে প্রায় সাত গুণ বেশি ভারী।
১৯৪৫ সালের মার্চে জাপানের টোকিওতে চালানো ভয়াবহ বোমা হামলায় এক রাতেই ৮০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সেই রক্তক্ষয়ী হামলায় মোট ১ হাজার ৬০০ টনের বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। সে তুলনায় ইসরায়েলে প্রায় ৩৫ গুণ বেশি ওজনের বোমা পাঠানো হবে।
আরও বড় পরিসরে তুলনা করলে, এই ৫৪ হাজার ৪০০ টন বোমার ওজন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে জার্মানির বার্লিন শহরের ওপর ফেলা সব বোমার মোট ওজনের প্রায় সমান। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের মূল ভূখণ্ডে ফেলা মোট বোমার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ওজনের সমান যুদ্ধাস্ত্র এবার এককভাবে ইসরায়েলকে দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্র কি নিজেই গোলাবারুদ সংকটে
হ্যাঁ, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পেন্টাগন) একটি বিশেষ নজরদারি প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত সোমবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কারণে ওয়াশিংটনের গোলাবারুদের ভান্ডার, বিশেষ করে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ফলে দেশটির সামরিক খাতের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
পেন্টাগনের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংকট কমাতে তারা বর্তমানে অস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি উৎপাদনের সময়সীমা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ উপাদান, যন্ত্রাংশ ও সুনির্দিষ্ট কিছু গোলাবারুদ নতুন করে মজুত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তাদের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে চমৎকার ও উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরি করছে। এ আধুনিক অস্ত্রগুলো মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলে থাকা আমাদের সামরিক বাহিনীর কাছে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে।’
বোমা বিক্রি নিয়ে প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক বোমা বিক্রিসংক্রান্ত খবর প্রকাশ্যে আসার পর দেশটির রাজনৈতিক মহলে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, গাজায় নেতানিয়াহু সরকার যা করেছে, তা মূলত গণহত্যা। নতুন করে ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো হাজার হাজার বোমা লেবানন এবং সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতেও একই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে ব্যবহার করা হবে।
অন্যদিকে মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন এ অস্ত্র বিক্রি আটকে দিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ তুলেছেন, মার্কিন করদাতাদের টাকায় কেনা বোমাগুলো এমন একটি সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে, যার প্রধান (নেতানিয়াহু) একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিনও এক পোস্টে লিখেছেন, মার্কিন নাগরিকেরা এ সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দেননি এবং যুক্তরাষ্ট্র এটি সমর্থন করে না। তাঁদের করের টাকা ও মারণাস্ত্র হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে ব্যবহার করা হয়েছে।
আবদুল আল-সাইদ
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী আবদুল আল–সাইদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে যাচ্ছেন তিনি।
আল–সাইদ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্সকে দুই লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন।
মিসরীয় বংশোদ্ভূত আবদুল আল-সাইদ গত নভেম্বরে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান সহযোগীরা জোর দিয়ে প্রচার চালিয়েছিলন, আল-সাইদের মুসলিম পরিচয়, ইসরায়েল ইস্যুতে অবস্থান এবং প্রগতিশীল নীতিগুলো তাদের সম্প্রদায়গুলোকে ঝুঁকিতে ফেলবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।
তবে এ প্রচারণায় কান দেননি মিশিগানের ভোটারেরা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবশ্যই নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত। আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করব। আশা করি, একসঙ্গে কাজ করার কোনো পথ বের করতে পারব।’
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ট্রাম্প দায়ী করেছেন নিজের নাম ব্যালটে না থাকাকে। অর্থাৎ, তিনি নিজে প্রার্থী না হওয়ায় দলের প্রার্থীরা প্রত্যাশিত ফল পাননি বলে মনে করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘ব্যালটে আমি ছিলাম না। যদি থাকতাম, তাহলে আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতাম!’নির্বাচনে নিজের সমর্থন দেওয়া পরাজিত প্রার্থীদের নিয়েও কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে সাউথ ক্যারোলাইনার প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামের পরাজয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘দেখলাম ডারলিন হেরে গেছেন। বাহ, এটা তো অবিশ্বাস্য!’
এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন, সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নরসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকটি পদে ভোট হচ্ছে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষ সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ; দুটির নিয়ন্ত্রণই রিপাবলিকানদের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হলো প্রতিনিধি পরিষদ। সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। সাধারণত আইন প্রণয়নের প্রস্তাব প্রথমে এই কক্ষে উত্থাপন ও আলোচনা করা হয়, পরে তা সিনেটে পাঠানো হয়।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স, বিবিসি
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ১৯ নভেম্বর। গতকাল মঙ্গলবার আইসিজে এ তথ্য জানিয়েছে।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে এ মামলা করেছিল।
আইসিজে জানিয়েছে, ১৯ নভেম্বর গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টায় বিচারকেরা রায় পড়া শুরু করবেন।
মামলায় গাম্বিয়া অভিযোগ করেছিল, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান গণহত্যার শামিল ছিল। ওই অভিযানের পর অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ওই অভিযানে হত্যা, ব্যাপক ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধান কমিশন বলেছে, ওই অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ সংঘটিত হয়েছিল।
তবে মিয়ানমার গণহত্যার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির দাবি, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বৈধভাবে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে করা ওই মামলায় এক দশকের বেশি সময় পর রায় হতে যাচ্ছে। এ ধরনের মামলায় আদালতের ইতিহাসে এটি হবে তৃতীয় রায়।
এই রায়ের প্রভাব ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে করা অন্য মামলাগুলোর ওপরও পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলা। ইসরায়েল অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি বছরের শেষের পর ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
টেলিফোনে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে বিবি (বেনিয়ামিন) নেতানিয়াহু এবং আমি একটি চুক্তি করেছি। আমরা ইসরায়েলকে এক বছরে ৪০০ কোটি ডলার দিই। আমরা কয়েক মাস আগেই চুক্তি করেছি যে আমরা এটি বন্ধ করে দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এতে তাদের কোনো সমস্যা নেই, কারণ তারা এখন খুব সফল একটি দেশ হয়ে উঠেছে। তাদের এই টাকার দরকার নেই। আর আমরাও ইসরায়েলকে আর টাকা দেব না।’
ট্রাম্প বলেন, ‘কাজেই এটা শুধুই অর্থের অপচয়। কারণ, আমরা আগেই একমত হয়েছি যে এই বছরের শেষ থেকে আমরা ইসরায়েলকে আর টাকা দিচ্ছি না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তাদের প্রয়োজন হলে আমরা ইসরায়েলকে সাহায্য করব। তারা একটি দারুণ মিত্রদেশ। আর আমরাও সবার চেয়ে সেরা মিত্র।’
যুক্তরাষ্ট্র অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ইসরায়েলকে সবচেয়ে বেশি সামরিক সহায়তা দেয়। তবে চুক্তি অনুযায়ী, এই তহবিলের বেশির ভাগ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র কিনতেই খরচ করতে হয়।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা প্রায় পুরোপুরি মিথ্যা বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার ১০ বছর মেয়াদি চুক্তিটি ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরের আগে শেষ হবে না। এই চুক্তির আওতায় ইহুদি রাষ্ট্রটি বছরে ৩৮০ কোটি ডলার পেয়ে থাকে।
নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে এবং বারবার ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের কথা বলেছেন ঠিকই। তবে তিনি আগামী দশকে ধাপে ধাপে এটি করার কথা বলেছেন, ট্রাম্পের মতো হঠাৎ করেই সব বন্ধের কথা বলেননি।
প্রেসিডেন্ট তাঁর এই ঘোষণাকে ঠিক প্রমাণ করতে জোর দিয়ে বলেন যে ইসরায়েল একটি ভালো মিত্র এবং তারা এই নীতিকে সমর্থন করে। কিন্তু কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সকালে তাঁর এমন সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের কাছেই ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি কতটা অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সহায়তা বন্ধের আকস্মিক ঘোষণায় ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়ে চরম বিস্ময়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বছরের শেষে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণায় তাঁরা অবাক হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা জানিয়েছে, একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘সহায়তা বন্ধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়নি।’ ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘মন্ত্রণালয় এটি বন্ধের ইচ্ছার কথা জানত। কিন্তু হঠাৎ করেই এখনই এটি বন্ধ করার সিদ্ধান্তে আমরা অবাক হয়েছি।’
সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নাম প্রকাশ না করে শীর্ষস্থানীয় একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার কথা তুলে ধরেছে। তিনি বলেছেন, এই ঘোষণার কারণে অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, ‘দুই বছরের সহায়তা ছেড়ে দেওয়ার মানে হলো ৮০০ কোটি ডলার হারানো। আমরা এই অর্থ কোথায় পাব? এটা পরিষ্কার—নাগরিকদের করের টাকা থেকে নিতে হবে।’
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে শিগগিরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থকদের উল্লাস
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। ভোটের ফলাফলও আসতে শুরু করেছে। দেশটির কংগ্রেসের দুটি কক্ষ- প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট- উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধসের কারণে প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ১০০ আসনের সিনেটে এবার দুটি শূন্য আসনসহ ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে।
দেশটির স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এর মধ্যে দুটিতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এরই মধ্যে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে সাতটি আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এখন পর্যন্ত কোনো আসনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জয়লাভের খবর পাওয়া যায়নি।
সিবিএস নিউজের এক পূর্বাভাস জানিয়েছে, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিচ্ছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২১৮টি আসনে জয়ী হবে এবং রিপাবলিকানরা অন্তত ১৬০টি আসন পাবে।
সবার মনোযোগ টেক্সাস, মিশিগান ও মেইন- এই তিনটি অঙ্গরাজ্যের দিকে। নির্বাচনে এই তিনটি অঙ্গরাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। টেক্সাস অঙ্গরাজ্য থেকে গত ৩০ বছরে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটে যাননি, কিন্তু সাবেক স্কুল শিক্ষক জেমস টালারিকো সেই ইতিহাস বদলাতে চাইছেন। ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সঙ্গে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইদ এবং রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যে লড়াই মনোযোগ কেড়েছে। যেখানে রোববার শেষ মুহূর্তে এল-সাইদের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারির প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। প্রাথমিক ভোট গণনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের হিসাবে তিনি পেয়েছেন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোট। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৭২ হাজার ৬৪২টি ভোট গণনা করা হয়েছে। যা মোট ভোটের ২১ দশমিক ৭ শতাংশ। এখনও প্রায় ৩৮ লাখ ৬২ হাজার ভোট গণনা বাকি রয়েছে।
প্রাথমিক ফলে আবদুল এল-সাইয়েদ পেয়েছেন ৫ লাখ ৮২ হাজার ৭৪৬ ভোট। অন্যদিকে মাইক রজার্সের ঝুলিতে রয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৪ ভোট। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখিত লিডিয়া ক্রিস্টেনসেন পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৯১ ভোট। নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এল-সাইয়েদকে হারাতে হলে মাইক রজার্সকে বাকি ভোটের অন্তত ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ পেতে হবে।
মেইন অঙ্গরাজ্যের বর্তমান সিনেটর সুসান কলিন্স একজন রিপাবলিকান, যিনি ট্রাম্পকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য থাকা এই অঙ্গরাজ্যে নিজের আসন ধরে রাখার লড়াই করছেন তিনি, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রয় জ্যাকসনের কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের এসব আসনের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।
বর্তমানে দুই কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চাইছে। ভোট গণনা শুরুর পর প্রথম ফলাফল আসতে শুরু করেছে। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্ক ওয়ার্নারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও, টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যের ফলাফল। এসব জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ হাড্ডাহাড্ডি। তবে ভোট গণনা শেষ হলেই সব আসনের ফলাফল দ্রুত জানা যাবে, এমন নয়।
অঙ্গরাজ্যভেদে ভোট গণনার পদ্ধতি ও গতি আলাদা। কোথাও ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ ভোট গণনা হয়ে যায়। আবার কোথাও ডাকযোগে পাঠানো ও আগাম ভোটের ব্যালট গণনা করতে বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে মেইন ও আলাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যে ফলাফল জানতে দেরি হতে পারে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করতেও সময় লাগে। এ কারণে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
পারমাণবিক বিস্ফোরণ। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে নাগরিকদের করণীয় বিষয়ে পাঁচটি সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রচার করা হয়েছে। এতে বিস্ফোরণের সময় কীভাবে আশ্রয় নিতে হবে, তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে এলে কী করতে হবে এবং কখন আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়া যাবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে নাগরিকদের জন্য প্রচারিত নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা, আশ্রয় গ্রহণ এবং তেজস্ক্রিয় দূষণ থেকে সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো:
বিস্ফোরণের ঝলকের দিকে তাকাবেন না, আশ্রয় নিন
পারমাণবিক বিস্ফোরণের তীব্র আলোর দিকে সরাসরি তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে। বিস্ফোরণ ঘটলে দ্রুত শক্ত কোনো প্রতিবন্ধকের আড়ালে আশ্রয় নিতে হবে। বিস্ফোরণের তরঙ্গ পার না হওয়া পর্যন্ত উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে।
বিস্ফোরণের পর নিকটস্থ ভবনে প্রবেশ করুন
বিস্ফোরণের তরঙ্গ চলে যাওয়ার পর নিকটস্থ ভবনে প্রবেশ করতে হবে। জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকতে হবে। বিস্ফোরণের পর বাইরে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখা বা ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। গাড়িকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করতেও নিষেধ করা হয়েছে।
তেজস্ক্রিয় কণা দূর করতে শরীরের খোলা অংশ ধুয়ে ফেলুন
তেজস্ক্রিয় ধুলার সংস্পর্শে এলে কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে শরীরের খোলা অংশ ধুয়ে ফেলতে হবে। এ ক্ষেত্রে কন্ডিশনার ছাড়া সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। গোসল করা সম্ভব না হলে পানি বা ভেজা কাপড় দিয়ে মুখ, হাত ও শরীরের অন্যান্য খোলা অংশ পরিষ্কার করতে হবে।
অন্তত ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়স্থলে থাকুন
পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়স্থলের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
সরে যাওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন
২৪ ঘণ্টা পার হলেই আশপাশের পরিবেশ নিরাপদ হয়ে গেছে, এমনটি ধরে নেওয়া যাবে না। নিরাপদে সরে যাওয়ার পথ সম্পর্কে সরকারি ঘোষণা ও জরুরি সম্প্রচার অনুসরণ করতে হবে। কোনো ভবনের ভেতরে আগুন লাগলে বা ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলে অন্য নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।
নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক সতর্কতা, উপযুক্ত আশ্রয় গ্রহণ এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরাপদে সরে যাওয়ার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি