ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬, সময় : ৫:৪৩ এএম

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে উত্তেজনাপূর্ণ কথাবার্তা হয়েছে তাতে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কীভাবে অগ্রসর হওয়া দরকার সে বিষয়ে দুই নেতার ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিফলিত হয়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দুই নেতার মধ্যে এটাই প্রথম কথোপকথন নয়। 


এর আগে রোববারও তারা ফোনে কথা বলেছিলেন। সেসময় ট্রাম্প দিনকয়েকের মধ্যেই ইরানে নতুন হামলার দিকে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রসর হচ্ছে বলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বলেছেন ওই কর্মকর্তা। ট্রাম্প যে ইরানে নতুন হামলার কথা বিবেচনা করছেন তা আগেই জানিয়েছিল সিএনএন। 


তবে এবার ওয়াশিংটন ইরানে কোনো অভিযানে গেলে তা নতুন নাম পেতে পারে। এ নাম হতে পারে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’, বলেছিল মার্কিন এ সংবাদমাধ্যমটি।


কিন্তু রোববারের ওই ফোনালাপের ২৪ ঘণ্টা পরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে ইরানে মঙ্গলবারের পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেছেন।


কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ফল বের করতে উপসাগরের দেশগুলো সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউস ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা ও পরিস্থিতি সম্বন্ধে অবগত এক ব্যক্তি সিএনএনকে জানিয়েছেন।


“ইরানে আমরা চূড়ান্ত পর্বে রয়েছি। দেখা যাক কী ঘটে।


“হয় আমরা একটি চুক্তি পাবো নয়তো আমরা এমন কিছু করবো যা খানিকটা নোংরা ধরনের। আশা করছি তেমন কিছু করতে হবে না,” 


গতকাল বুধবার সকালে সাংবাদিকদের এমনটাই বলেন ট্রাম্প।


ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আবার ওয়াশিংটন-তেহরান এ চলমান আলোচনায় ‘হতাশ’, তিনি চান ইরানের বিরুদ্ধে ‘আরও আগ্রাসী’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অগ্রসর হতে। এক্ষেত্রে যত দেরি করা হবে, ততই ইরানের লাভ হবে-নেতানিয়াহু এ যুক্তি দিচ্ছেন বলে ভাষ্য ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি সূত্রগুলোর।


সিএনএনকে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহু তার ‘হতাশা’ মঙ্গলবার ব্যক্ত করেছেন; ট্রাম্পকে বলেছেন, হামলা পিছিয়ে দেওয়া ভুল হবে বলেই তিনি মনে করেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া।


ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপে নেতানিয়াহু নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ শুরুর জন্য জোর তদবির চালান বলে বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত এক ইসরায়েলি সূত্রও জানিয়েছে। এই ফোনালাপে দুজনের মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে-ট্রাম্প চাইছেন, চুক্তিতে পৌঁছানো যায় কিনা তা দেখতে, নেতানিয়াহু প্রত্যাশা করছেন অন্য কিছু, বলেছেন ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা।


এ প্রসঙ্গে মন্তব্যের জন্য সিএনএন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দিক থেকে সাড়া পায়নি।


ট্রাম্প-নেতানিয়াহু মঙ্গলবারের এই ‘উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ’ নিয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করে অ্যাক্সিওস। ওই ফোনালাপের পর ইসরায়েলের উদ্বেগ নেতানিয়াহুর আশপাশের কর্মকর্তাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে আরেক ইসরায়েলি সূত্র সিএনএনকে বলেছে।


ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করতে ইসরায়েলি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও ট্রাম্প তেহরানকে কূটনৈতিক পর্যায়ে অবস্থান আরও পোক্ত করার সুযোগ করে দেওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে, বলেছে সূত্রটি।


তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নেতানিয়াহুর হতাশা নতুন নয়। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে যে ভিন্নতা রয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা আগেই তা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। আগের রাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে কী বলেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এ বিষয়ে চালকের আসনে তিনিই আছেন।


“তিনি (নেতানিয়াহু) তা-ই করবেন, যা আমি চাইবো,” বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।


ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ফের যুদ্ধে নামতে চাইলেও ট্রাম্প যে চুক্তির জন্য ইরানকে আরও কয়েকদিন সময় দিতে আগ্রহী, বুধবারের ভাষ্যে তাও স্পষ্ট হয়েছে।


একইদিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাদের রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট নুর নিউজকে জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটন পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় করে যাচ্ছে।


“ইরানের দেওয়া প্রাথমিক ১৪ দফার ভিত্তিতে একাধিকবার বার্তা বিনিময় হয়েছে, আমরা মার্কিনিদের মতামত পেয়েছি এবং এখন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে,” বলেছেন মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি।


হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা ও জব্দকৃত সম্পদ এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ নানা ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে যেসব মতবিরোধ রয়েছে তার কোনোটিতেই কয়েকদিন আগ পর্যন্তও কোনো পক্ষকে ছাড় দিতে দেখা যায়নি।


আর ট্রাম্পও বারবার বলে গেছেন, যে কোনো মুহূর্তে তারা সামরিক পদক্ষেপের পথ বেছে নিতে পারেন।


“যদি আমরা সঠিক উত্তর না পাই, খুব দ্রুতই শুরু হয়ে যাবে। আমরা শুরু করার জন্য প্রস্তুত,” বুধবারও এমনটাই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২৯ এএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা। ৩৬ দিনের টানা আন্দোলনের ফলে বিজেপি সরকার তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে বিশ্বাস তাদের। শিক্ষার্থী ও যুবকদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে আন্দোলন সফল হয়েছে বলে মনে করছে সিজেপি।


এই সফল আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপি নেতারা রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, এ নিয়ে সব স্তরে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, এমন প্রশ্নে তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, “ভারতে কখনোই কোনো কিছুকে না বলবেন না।”


তবে সিজেপি এখনই পূর্ণকালীন রাজনীতিতে নামার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যুব নেতৃত্বাধীন তৃণমূল আন্দোলনকে শক্তিশালী করাই তাদের অগ্রাধিকার।


রানকা এনডিটিভিকে বলেছেন, “আমার মনে একমাত্র যে বিষয়টি কাজ করছে তা হল, বাড়িতে ফেরা ও ঘুমানো, বিশ্রাম নেবো আর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবো। গত কয়েক মাস ধরে আমি বাড়ি থেকে দূরে আছি আর আমি সত্যিই আরাম করতে চাই। গত দুই মাসে যা যা ঘটেছে তা আমাদের সবাইকেই কাবু করে ফেলেছে বলে আমার ধারণা।


“এটা গর্বের মুহূর্ত। এটা সত্যি খুশি হওয়ার, স্বস্তি পাওয়ার মুহূর্ত। এরপর কী হয় দেখবো আমরা।”


তিনি রাজনৈতিক জীবনের কথা নাকচ করে দিচ্ছে কি না, সরাসরি এমন প্রশ্নে তিন বলেন, “আমি যা অনুভব করি ভারতে কখনোই কোনো কিছুকে না বলতে নেই।”


সৌরভ দাস জোর দিয়ে জানিয়েছেন, রাজনীতি তাদের দলের তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য নয়।


তিনি বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট। এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, কারণ ইতোমধ্যে (দেশে) ৭৫০ থেকে ৮০০ মতো রাজনৈতিক দল আছে। এগুলোর কোনোটিই তরুণদের ইচ্ছাকে পূর্ণতা দিতে সক্ষম না।


“আর আমরা এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই যেন ক্ষমতায় থাকা যেকোনো রাজনৈতিক দল বা নেতা তরুণদের জন্য কাজ করতে সমর্থ হয় আর তাদের দাবি পূরণ করে। এই মুহূর্তে এটাই আমাদের কর্মসূচী।”


ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, আন্দোলনের পথ থেকে এখনই সরছেন না তারা। লিখিতভাবে সরকার সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা না জানালে অবস্থান মঞ্চ ছাড়বেন না তার


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২১ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ১৫ দিনের সংঘাতে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে থাকা ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি অত্যাধুনিক নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন ধ্বংসের দাবিও করেছে বাহিনীটি। শনিবার আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ও মেহের নিউজ এজেন্সি।


আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেন, ৮ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চলা ১৫ দিনের লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার দাবি, ওই সময়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হামলায় ১১টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়।


তিনি আরও দাবি করেন, ধ্বংস হওয়া ১৭টি ড্রোনের মধ্যে আটটি ছিল সংযোজনের অপেক্ষায় থাকা (আনপ্যাকড) ড্রোন।


আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, যা একটি হ্যাঙ্গারের ভেতরে ছিল, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (ট্যাংকার) বিমান রয়েছে।


তবে আইআরজিসির এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলতি মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক আর কার্যকর নেই।


এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এর প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানে ৫৯ জন নিহত এবং ৫৯২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্যকেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কারমানপুরের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।


এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত পূর্ববর্তী দফার মার্কিন হামলায় ইরানে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন বলে ইরানের দাবি। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী ছিলেন। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হন।

 


নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:১০ পিএম

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। তিনি তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।


আজ শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। 


পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে চার দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন তিনি। চলমান পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ যেন অপব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৫ দিন ধরে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি। তার পদত্যাগের পর আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কেন্দ্র সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।


প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আগের দিন তিনি বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘অসামাজিক শক্তি’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।


তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলন যাতে অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকা উচিত।


পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫৪ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। 


দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।


আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।


দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।


ধর্মেন্দ্র প্রধান

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৪৭ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।


এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।


নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।


ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। 


মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।


ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।