ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে উত্তেজনাপূর্ণ কথাবার্তা হয়েছে তাতে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কীভাবে অগ্রসর হওয়া দরকার সে বিষয়ে দুই নেতার ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিফলিত হয়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দুই নেতার মধ্যে এটাই প্রথম কথোপকথন নয়।
এর আগে রোববারও তারা ফোনে কথা বলেছিলেন। সেসময় ট্রাম্প দিনকয়েকের মধ্যেই ইরানে নতুন হামলার দিকে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রসর হচ্ছে বলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বলেছেন ওই কর্মকর্তা। ট্রাম্প যে ইরানে নতুন হামলার কথা বিবেচনা করছেন তা আগেই জানিয়েছিল সিএনএন।
তবে এবার ওয়াশিংটন ইরানে কোনো অভিযানে গেলে তা নতুন নাম পেতে পারে। এ নাম হতে পারে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’, বলেছিল মার্কিন এ সংবাদমাধ্যমটি।
কিন্তু রোববারের ওই ফোনালাপের ২৪ ঘণ্টা পরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে ইরানে মঙ্গলবারের পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেছেন।
কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ফল বের করতে উপসাগরের দেশগুলো সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউস ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা ও পরিস্থিতি সম্বন্ধে অবগত এক ব্যক্তি সিএনএনকে জানিয়েছেন।
“ইরানে আমরা চূড়ান্ত পর্বে রয়েছি। দেখা যাক কী ঘটে।
“হয় আমরা একটি চুক্তি পাবো নয়তো আমরা এমন কিছু করবো যা খানিকটা নোংরা ধরনের। আশা করছি তেমন কিছু করতে হবে না,”
গতকাল বুধবার সকালে সাংবাদিকদের এমনটাই বলেন ট্রাম্প।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আবার ওয়াশিংটন-তেহরান এ চলমান আলোচনায় ‘হতাশ’, তিনি চান ইরানের বিরুদ্ধে ‘আরও আগ্রাসী’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অগ্রসর হতে। এক্ষেত্রে যত দেরি করা হবে, ততই ইরানের লাভ হবে-নেতানিয়াহু এ যুক্তি দিচ্ছেন বলে ভাষ্য ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি সূত্রগুলোর।
সিএনএনকে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহু তার ‘হতাশা’ মঙ্গলবার ব্যক্ত করেছেন; ট্রাম্পকে বলেছেন, হামলা পিছিয়ে দেওয়া ভুল হবে বলেই তিনি মনে করেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া।
ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপে নেতানিয়াহু নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ শুরুর জন্য জোর তদবির চালান বলে বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত এক ইসরায়েলি সূত্রও জানিয়েছে। এই ফোনালাপে দুজনের মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে-ট্রাম্প চাইছেন, চুক্তিতে পৌঁছানো যায় কিনা তা দেখতে, নেতানিয়াহু প্রত্যাশা করছেন অন্য কিছু, বলেছেন ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা।
এ প্রসঙ্গে মন্তব্যের জন্য সিএনএন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দিক থেকে সাড়া পায়নি।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু মঙ্গলবারের এই ‘উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ’ নিয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করে অ্যাক্সিওস। ওই ফোনালাপের পর ইসরায়েলের উদ্বেগ নেতানিয়াহুর আশপাশের কর্মকর্তাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে আরেক ইসরায়েলি সূত্র সিএনএনকে বলেছে।
ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করতে ইসরায়েলি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও ট্রাম্প তেহরানকে কূটনৈতিক পর্যায়ে অবস্থান আরও পোক্ত করার সুযোগ করে দেওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে, বলেছে সূত্রটি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নেতানিয়াহুর হতাশা নতুন নয়। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে যে ভিন্নতা রয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা আগেই তা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। আগের রাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে কী বলেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এ বিষয়ে চালকের আসনে তিনিই আছেন।
“তিনি (নেতানিয়াহু) তা-ই করবেন, যা আমি চাইবো,” বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ফের যুদ্ধে নামতে চাইলেও ট্রাম্প যে চুক্তির জন্য ইরানকে আরও কয়েকদিন সময় দিতে আগ্রহী, বুধবারের ভাষ্যে তাও স্পষ্ট হয়েছে।
একইদিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাদের রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট নুর নিউজকে জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটন পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় করে যাচ্ছে।
“ইরানের দেওয়া প্রাথমিক ১৪ দফার ভিত্তিতে একাধিকবার বার্তা বিনিময় হয়েছে, আমরা মার্কিনিদের মতামত পেয়েছি এবং এখন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে,” বলেছেন মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি।
হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা ও জব্দকৃত সম্পদ এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ নানা ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে যেসব মতবিরোধ রয়েছে তার কোনোটিতেই কয়েকদিন আগ পর্যন্তও কোনো পক্ষকে ছাড় দিতে দেখা যায়নি।
আর ট্রাম্পও বারবার বলে গেছেন, যে কোনো মুহূর্তে তারা সামরিক পদক্ষেপের পথ বেছে নিতে পারেন।
“যদি আমরা সঠিক উত্তর না পাই, খুব দ্রুতই শুরু হয়ে যাবে। আমরা শুরু করার জন্য প্রস্তুত,” বুধবারও এমনটাই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
সুলতান আল-কাহতানি। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের এক হামলার সময় অন্য যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে সুলতান আল-কাহতানি নামের এক বিমানবন্দর কর্মী বীরের মতো প্রাণ হারিয়েছেন।
গত ২১ অক্টোবর বিমানবন্দরে হামলার পরপরই প্রস্থান গেটের কাছে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। সেই আগুন যাতে রানওয়েতে থাকা অন্য কোনো বিমানে ছড়িয়ে না পড়ে এবং যাত্রীদের কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য সুলতান ও তার সহকর্মীরা দ্রুত আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে তারা আগুন নেভাতে প্রাণপণে চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন নেভাতে গিয়ে তিনি এতটাই অতিরিক্ত ধোঁয়া গ্রহণ করেন যে, তার বুকে প্রচণ্ড ব্যথা ও তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
পরবর্তীতে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে আর বাঁচাতে পারেননি। নিহত সুলতানের ছয়টি সন্তান রয়েছে। তার বাবা ছেলের এই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশ ও মানুষের সেবা করতে গিয়েই তার ছেলে শহীদ হয়েছে। চরম বিপদের মুখে নিজের জীবনের পরোয়া না করে অন্যদের প্রাণ বাঁচাতে সুলতানের এই অসাধারণ সাহসিকতা এখন পুরো দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।