ছবি : সংগৃহীত
হেলেন ইয়াফে ৩০ বছর ধরে নিয়মিত কিউবায় আসা-যাওয়া করছেন। একবার এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় (ক্যাটাগরি ফোর হারিকেন) যখন দ্বীপরাষ্ট্রটির দিকে ধেয়ে আসছিল, সেই সময়ের স্মৃতি আজও গেঁথে আছে তাঁর মনে। এই শিক্ষাবিদ ও পডকাস্টার তখন একটি বাড়িতে আরও ১৩ জনের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন।
প্রবল ঝড় আঘাত হানলেও সেখানে থাকা মানুষের মধ্যে কোনো আতঙ্ক ছিল না। কারণ, দুর্যোগের সময় কার কী ভূমিকা হবে, তা প্রত্যেকে আগে থেকেই জানতেন। ওই বাড়িতে থাকা কেউ কেউ বয়স্ক ও অসহায় প্রতিবেশীদের আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। অন্যরা ঝড়ের বেগ কমার সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কিউবার জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রশংসা পেয়েছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কাছ থেকে। চরম আবহাওয়ার কবলে ঘনঘন পড়লেও কিউবায় প্রাণহানির সংখ্যা খুব কম। দেশটির এই সক্ষমতা সমাদৃত বিশ্বজুড়ে।
দুর্যোগ মোকাবিলার সেই একই মডেলকে এখন অন্য একটি হুমকির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে চাইছে হাভানা। তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত।
কিউবার প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য সম্প্রতি আরও তীব্রতর হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা ৩০ বছর আগের এক ঘটনায় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করেছেন। এতে দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
১৯৯৬ সালে কিউবার কয়েকটি বিমান দেশটির নির্বাসিতদের দ্বারা পরিচালিত দুটি উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছিল। এতে তিনজন মার্কিন নাগরিকসহ চারজন নিহত হয়েছিলেন। এই ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট চারটি ও বিমান ধ্বংস-সংক্রান্ত দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
উত্তেজনার এই আবহে ১৬ মে কিউবার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ ‘সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় পারিবারিক নির্দেশিকা’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবিলায় পরিবারের দায়িত্ব ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিয়মাবলি কী হবে, তা বলা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাতিন আমেরিকান রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক ও ‘কিউবা অ্যানালাইসিস’ পডকাস্টের উপস্থাপক ইয়াফে আল-জাজিরাকে বলেন, এই নির্দেশিকা কিউবার প্রতিরক্ষা তত্ত্ব ‘ওয়ার অব অল পিপল’ বা জনযুদ্ধের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর কিউবা এ নীতি গ্রহণ করে। এর মূল লক্ষ্য হলো গেরিলা যুদ্ধ, স্থানীয় মিলিশিয়া এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগণকে সংগঠিত করে বিদেশি হামলা প্রতিহত করা।
ইয়াফে বলেন, ‘কিউবার প্রত্যেক নাগরিক সামরিকভাবে প্রশিক্ষিত। তাঁরা এই জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার আওতাভুক্ত।’
রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের একটি অংশ। অন্যান্য চাপের মধ্যে রয়েছে গত কয়েক মাস ধরে কিউবার উপকূলে মার্কিন নজরদারি বিমানের টহল বৃদ্ধি, মার্কিন সিনেটে কিউবার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করার ব্যর্থ চেষ্টা এবং কিউবাকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘উল্লেখযোগ্য হুমকি’ ঘোষণা করে নির্বাহী আদেশ জারি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে সেটি তাঁর আমলেই হবে।
একই দিন রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অনেক বছর ধরে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাঁর দাবি, কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থা রেখে সেটি আর ঠিক করা সম্ভব নয়।
কিউবাকে অন্যায়ভাবে ‘হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করায় রুবিওর তীব্র সমালোচনা করেছেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ।
তিনি বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন, যাতে একটি সামরিক আগ্রাসন উসকে দেওয়া যায়। এমন পদক্ষেপ কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্র-উভয় দেশের নাগরিকদের রক্তপাতের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’
এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত শিগগিরই কিউবায় সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে। কিউবা বর্তমানে কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তা সত্ত্বেও কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, দীর্ঘ বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, মার্কিন অবরোধের কারণে জ্বালানিসংকট এবং ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি থাকলেও কিউবা মোটেও অরক্ষিত নয়।
ভেনেজুয়েলা মডেল ‘কাজ করবে না’ কিউবায়
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী গত ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে তাঁর দেশ থেকে তুলে নিয়ে যায়। সেই অভিযানের ক্ষিপ্রতা বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছিল।ইয়াফে জানান, সেই লড়াইয়ে নিহতদের মধ্যে ৩২ জন ছিলেন কিউবার নাগরিক, যাঁরা ‘সত্যিই প্রচণ্ড প্রতিরোধ’ গড়ে তুলেছিলেন। খোদ ট্রাম্প এই প্রতিরোধের কথা স্বীকার করেন।
এদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-ক্যানেল ১৮ মে বলেন, কিউবার বিরুদ্ধে যেকোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ একটি ‘রক্তবন্যা’ ডেকে আনবে। অথচ এই দ্বীপরাষ্ট্র কারও জন্য হুমকি নয়।
ইয়াফে বলেন, ‘তাঁরা (যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা) ভেনেজুয়েলা মডেলের কথা বলছেন। প্রশ্ন হলো, তাঁরা কি কিউবাতেও একই মডেল প্রয়োগ করবেন? কিন্তু এটি কিউবায় কাজ করবে না।’
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘কিউবার নেতা ও জনগণের কথা হলো তাঁরা (মার্কিন কর্মকর্তারা) কী মনে করেন, ওটাই প্রচণ্ড প্রতিরোধ ছিল? সেখানে তো কিউবার নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন মাত্র ৩২ জন। ভাবুন- তাঁরা যদি এখানে আসে, তাহলে এক কোটি মানুষ তাঁদের প্রতিরোধ করবে।’
স্পেনের মাদ্রিদে অবস্থিত এলকানো রয়্যাল ইনস্টিটিউটের আর্জেন্টাইন লাতিন আমেরিকা বিশ্লেষক কার্লোস মালামুদও একমত পোষণ করেন ইয়াফের সঙ্গে। কিউবার চ্যালেঞ্জ ভেনেজুয়েলার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করেন তিনি।
মালামুদ বলেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবার সেনাবাহিনী অনেক বেশি প্রশিক্ষিত। তাঁদের সরঞ্জামও তুলনামূলকভাবে উন্নত।
তবে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর কিউবান স্টাডিজের কিউবান-আমেরিকান পরিচালক সেবাস্তিয়ান আরকোস সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন।
তিনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘কিউবার সামরিক বাহিনী সেকেলে। তাদের মার্কিন বাহিনীকে প্রতিরোধ করার তেমন একটা সামর্থ্য নেই।’
তবে তিনি এটাও মানেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবা বেশি চ্যালেঞ্জিং। এটা যতটা না সামরিক শক্তির কারণে, তার চেয়ে বেশি হলো তারা এই ধরনের অভিযান মোকাবিলায় প্রস্তুতির জন্য দীর্ঘ সময় পেয়েছে।
কিউবার সামরিক সক্ষমতা যা-ই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির দূরত্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। মালামুদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের খুব কাছে হওয়ার কারণে কিউবার পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি। ভেনেজুয়েলা বা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।
কিউবায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যে পাল্টা হামলা হবে, তা কোনো কল্পনা নয়, বরং তা বাস্তব হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষক কার্লোস মালামুদ।
তাঁর ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক জনগণ, মিয়ামিসহ বিভিন্ন শহরে ক্ষয়ক্ষতি করার ক্ষমতা তাদের অনেক বেশি।’
অন্যদিকে সেবাস্তিয়ান আরকোস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন জনমতকে খেপিয়ে তুলতে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাতে পারে।
১৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, কিউবা ৩০০টি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে। তারা গুয়ান্তানামো বে-র মার্কিন নৌঘাঁটি, নৌযান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপ শহর কী ওয়েস্টে হামলার পরিকল্পনা করছে।
তবে ইয়াফে ও মালামুদ এই গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দিহান। তাঁদের মতে, কিউবা কোনো ধরনের সামরিক সংঘাতের পক্ষে নয়। অন্যদিকে আরকোস মনে করেন, অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটি ‘যৌক্তিক’। কারণ, কিউবা সব সময় রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সম্পদের অভাব থাকা সত্ত্বেও দেশটি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
তবে কিউবা এরই মধ্যে প্রতিবেদনটিকে মার্কিন হামলার অজুহাত তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, যেকোনো ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।
ভিন্নধর্মী অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা
সামরিক হিসাব-নিকাশের বাইরে এমন কিছু রাজনৈতিক বিষয় আছে, যা কিউবায় মার্কিন হামলাকে অনেক বেশি জটিল করে তুলতে পারে।
ইয়াফে বলেন, দ্বীপটিতে হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে অভিবাসনের জোয়ার সৃষ্টি হতে পারে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটা ট্রাম্প ও তাঁর দলকে বড় ধরনের চাপে ফেলতে পারে। কারণ, অভিবাসনবিরোধিতা করেই ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছেন।
মালামুদ বলেন, কিউবা বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ভেনেজুয়েলার প্রবাসীদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। মূলত এই দুই পক্ষের মধ্যে কোনো তুলনা চলে না। মার্কিন কংগ্রেসে কিউবা বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদের উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবা বংশোদ্ভূত। এসব কারণে কিউবার প্রবাসী জনগণ ভেনেজুয়েলা ধরনের সমাধান মেনে নেবে না।
মালামুদ এ জটিলতা ব্যাখ্যা করে বলেন, ভেনেজুয়েলায় নেতার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পুরোনো ক্ষমতা কাঠামো রয়ে গেছে। কিউবার নির্বাসিতরা কাস্ত্রো পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া কোনো কিছু মেনে নেবে না।
অন্যদিকে ‘মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু, আমাদের জয় হবেই’-এটা হলো কিউবার বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর জাতীয়তাবাদী চেতনার মূল কথা। তাই যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত রাউল কাস্ত্রোকে অপহরণ করে সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ, এতে একদিকে কিউবান-আমেরিকান সমর্থকেরা সন্তুষ্ট হবেন না। অন্যদিকে রাউল কাস্ত্রোর অপহরণ কিউবার সরকারকে নমনীয় করার বদলে জেদ বাড়িয়ে দেবে।
চরম অর্থনৈতিক সংকটে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি
উরুগুয়ের ওআরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক মাতিয়াস ব্রাম সতর্ক করে বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার পর কিউবায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে হামলার মতো কোনো ঘটনা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
ব্রাম আল-জাজিরাকে বলেন, তাঁর ধারণা ছিল যুক্তরাষ্ট্র কখনো ভেনেজুয়েলায় সরাসরি হামলা চালাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়েছে এবং মাদুরোকে অপহরণ করেছে। তাই তিনি আগে ট্রাম্পকে গুরুত্ব না দিলেও এখন তাঁকে ভয় পাচ্ছেন।
তাঁর মতে, কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, লাতিন আমেরিকার বামপন্থী সরকারগুলো সেদিকে নিবিড় নজর রাখবে। বিশেষ করে কলম্বিয়া ও মেক্সিকো। কারণ, ট্রাম্প এসব দেশকেও হুমকি দিয়ে রেখেছেন।
এদিকে কিউবার গভীর সংকটের মধ্যেই বুধবার দেশটির সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন রুবিও। তিনি হাভানাকে ১০ কোটি ডলারের খাদ্য ও ওষুধ সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন। এটি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের আগের প্রস্তাবেরই অংশ। কিউবার প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-ক্যানেল তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধই যে কিউবার বর্তমান সংকটের মূল কারণ, তা রুবিও স্বীকার করেননি। বরং বিদ্যুৎ, খাদ্য ও জ্বালানি ঘাটতির জন্য তিনি কিউবার নেতৃত্বকেই দায়ী করেছেন।
বিশ্লেষক মালামুদ মনে করেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবা এখনো কিছু কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা দেশটির রয়েছে। কিন্তু গভীর মানবিক সংকট শেষ পর্যন্ত সেই সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
মালামুদ বলেন, কিউবার পরিস্থিতির জটিলতা এখানেই। সংকট এখন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে কিউবার ওয়ার অব অল পিপল বা জনগণের যুদ্ধ নীতি কি শুধু তাত্ত্বিক ধারণা হয়েই থাকবে, নাকি বাস্তবে রূপ নেবে।
হেলেন ইয়াফে মনে করেন, কিউবা লড়বে। তাঁর ভাষায়, হাভানাজুড়ে এখনো একটি স্লোগানই বেশি শোনা যাচ্ছে-‘নো সে রিন্দে নাদিয়ে’, অর্থাৎ এখানে কেউ আত্মসমর্পণ করে না।
একসময় হাম নির্মূলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টিকাদানে ঘাটতি ও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাতের কারণে এখন দেশটি হাম রোগের ভয়াবহতম প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হাম-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯-এ পৌঁছেছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। দেখা দিয়েছে শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট। একই সঙ্গে প্রতিদিনই হাম আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে আসার সংখ্যা বাড়ছে।
এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাতের পর থেকেই শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ওই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব চলছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত এবং টিকা সরবরাহে সমস্যার ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু হাম থেকে সুরক্ষাহীন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ এই বয়সে নিয়মিত হাম টিকা দেওয়ার সুযোগ থাকে না।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৩৫।
হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯, যার মধ্যে ১০০টি মৃত্যু পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
টিকাদানে বড় ঘাটতি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার পেছনে দুর্বল কর্মসূচি তদারকি, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তন বড় ভূমিকা রেখেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে টিকা সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার সংসদে তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে সংকট তৈরি হয়েছিল। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালে একটি টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত করা এবং পরের বছর দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাতিল করার ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সংস্থাও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাতের কথা জানিয়েছে।
প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। গত এক দশকে হাম প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। কোভিড-১৯ মহামারির সময় সাময়িকভাবে টিকাদানের হার কমে যাওয়া ছাড়া বেশির ভাগ সময়ই দেশে হাম টিকার আওতা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল।
রোগতত্ত্ববিদ ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকাদানে ঘাটতির কারণেই বাংলাদেশ হাম নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এর আগে কখনো এত বেশি সংখ্যক শিশুর হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা দেখা যায়নি। একই বছরে এত বেশি রোগীও কখনো দেখা যায়নি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আক্রান্ত ও মৃতদের বড় অংশই শিশু।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদানের ঘাটতি পূরণ, টিকার আওতা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
রোগীর চাপে বিপর্যস্ত হাসপাতাল
হামের পাশাপাশি দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়ছে। ফলে একসঙ্গে দুটি সংক্রামক রোগের চাপ সামলাতে গিয়ে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার একদিনেই ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৭১ জন-চলতি বছরের এক দিনে যা সর্বোচ্চ।
ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য ৬০টি শয্যা রাখা হয়েছে। কিন্তু রোগীর চাপ এত বেশি যে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক চিকিৎসক নন্দদুলাল সাহা বলেন, রোগী এত বেশি আসছে যে সবাইকে জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
১ হাজার ৩৫০ রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা থাকা হাসপাতালটিতে বর্তমানে ২ হাজার ৩৫০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। হাম রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত শিশুদের স্যালাইনেরও সংকট দেখা দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
টিকা না পাওয়ার অভিযোগ
হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশুরা। পরিবারগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে। বাড়ছে চিকিৎসার খরচও।
৩৫ বছর বয়সী গৃহকর্মী নাসিমা বেগমের ১৩ মাস বয়সী ছেলে প্রায় দুই মাস আগে হাম আক্রান্ত হয়। চারটি হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ দিন পর ছাড়পত্র পেলেও এখনো তার জ্বর ফিরে আসছে এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।
নাসিমা জানান, অসুস্থ থাকার কারণে সময়মতো তার ছেলেকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে টিকাদান কেন্দ্রে গেলে সেখানে টিকা পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। তার আগের চার সন্তান নিয়মিত টিকা পেয়েছিল।
আরেক পরিবারও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছে।
কারখানাশ্রমিক মোহাম্মদ রিপনের আট মাস বয়সী মেয়ের শরীরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার কয়েক দিন পর আবারও ফুসকুড়ি ও হামের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। শেষ পর্যন্ত বিশেষায়িত হাম হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
রিপন বলেন, তারা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন, কিন্তু সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না।
জরুরি টিকাদানেও পুরোপুরি কাটছে না সংকট
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল থেকে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। এতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরে ১ কোটি ৯৭ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু জরুরি কর্মসূচি দিয়ে সংকট পুরোপুরি সমাধান হবে না। নিয়মিত টিকাদান আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি যেসব শিশু আগে টিকা পায়নি, তাদের জন্য বিশেষ ‘ক্যাচ-আপ’ কর্মসূচিও প্রয়োজন।
হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক রোগ। সাধারণত জ্বর ও শরীরে বিশেষ ধরনের লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। তবে দুটি ডোজ টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
নাসিমার ভাষায়, আমি শুধু চাই আমার ছেলে সুস্থ হয়ে উঠুক। আর কোনো মাকে যেন নিজের সন্তানকে এই রোগে কষ্ট পেতে বা মারা যেতে না হয়।
প্রতীকী ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে গত জুলাইয়ের পর এই প্রথম অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আজ বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নির্ধারণের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যায়। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ায় তেলের দাম এই মাইলফলক পেরিয়ে গেল। পরে অবশ্য তেলের দাম কিছুটা কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। খবর দ্য গার্ডিয়ান
ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক নৌযানে হামলার চেষ্টা করার পর দেশটির একাধিক তেলবাহী জাহাজ ‘ধ্বংস’ করার কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর আগে ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের চারটি শহরে হামলা চালায়। এতে ৭০ জনের বেশি আহত হন। সেই সঙ্গে কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।
আগস্টের শুরু থেকে তেলের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে থামবে—এমন সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ছয় মাস ধরে তেলের দাম ওঠানামা করেছে। ওই প্রণালিতে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ–সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন প্রথম দফায় হামলা শুরু করল, তখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে দাম বেড়ে ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
সংঘাতের মধ্যে এপ্রিলে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল। পরবর্তীকালে ওই অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হলে দাম কমে আসে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর আবার সংঘাত শুরু হয়। এতে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে গ্যাসের বাজারেও। চলতি মাসে যুক্তরাজ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছর সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদেরা আশা করছেন, বছরের শেষ নাগাদ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ অন্তত একবার সুদের হার বাড়াতে পারে।
বিষয়টি হলো, ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধির সঙ্গে তেলের বাজারের পরোক্ষ সম্পর্ক আছে। সুদহার বাড়লে ঋণের খরচ বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগ ও ভোগ কমে যায়; প্রভাব পড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে। জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় দামে প্রভাব পড়ে।
আবার সুদহার বাড়লে ডলার শক্তিশালী হতে পারে। ফলে আমদানিকারকেরা তেল কিনতে গিয়ে চাপে পড়েন। তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে ফেড আবার সুদহার বাড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে চাহিদা কমে যেতে পারে।
এলিজা আজাদ রহমান
অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হলেন আরেক বাংলাদেশি এলিজা আজাদ রহমান। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম কোনো বাংলাদেশি নারী ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হলেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলকক্ষে আয়োজিত সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এলিজা আজাদ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।
এলিজা আজাদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এই দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা ও কাজের পরিধি আরও বাড়ল।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এলিজা আজাদের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আজাদুল ইসলামের মেয়ে।
দুই দশকের বেশি সময় আগে এলিজা আজাদ শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এলিজা আজাদ বলেন, একজন বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অবস্থান তৈরি করা সহজ ছিল না। তিনি চান, নারীরা রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে আরও এগিয়ে আসুক।
এই যাত্রায় স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানালেন এলিজা আজাদ। তিনি বলেন, তা ছাড়া বাংলাদেশি ও স্থানীয় বহু সাংস্কৃতিক কমিউনিটির সমর্থন তিনি পেয়েছেন। তারা তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
এলিজা আজাদ ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটি। সিডনির ডেনহ্যাম কোর্টের বাসিন্দা বোরহান খান লিমন বলেন, এলিজা আজাদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছেন। স্থানীয় সরকারে তার এই অবস্থান প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে, সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করছেন।
এর আগে, বাংলাদেশি সুমন সাহা সিডনির কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিল ও মাসুদ খলিল ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। আরেক বাংলাদেশি মাসুদ চৌধুরী বর্তমানে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ছবি : সংগৃহীত
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যুক্তরাজ্যজুড়ে আকাশপথে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের হিথ্রোসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে বাতিল হয়েছে ১ হাজারের বেশি ফ্লাইট। একই সঙ্গে বিলম্বিত হয়েছে আরও শত শত ফ্লাইট। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ব্রিটেনের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (ন্যাটস) জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে সমস্যা শনাক্ত হয়েছে। সমস্যা সমাধানে প্রকৌশলীরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনের হিথ্রোসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়া করা অন্তত এক হাজার ফ্লাইট ইতোমধ্যেই বাতিল হয়েছে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইজিজেট, কেএলএম ও লুফথানসাসহ বেশ কয়েকটি বড় বিমান সংস্থার ফ্লাইটও এ সমস্যায় পড়েছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে একাধিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়। এতে যুক্তরাজ্যজুড়ে যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন।
যদিও ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং ব্রিটেনের আকাশসীমাও খোলা রয়েছে, তবু বহু ফ্লাইট বিলম্বেরও মুখে পড়েছে। পরে ন্যাটস জানায়, তারা সমস্যার সমাধান করেছে এবং তাদের সিস্টেম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে ন্যাটস জানায়, ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমের সমস্যা ঠিক করা হয়েছে। তবে তারপরও ১৫টি ব্রিটিশ বিমানবন্দরসহ আরও বিভিন্ন জায়গায় ফ্লাইট চলাচলে বিলম্ব অব্যাহত ছিল। বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের বড় জট কাটাতে বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলো কাজ করছে।
এর আগে শুরুতে ন্যাটস জানিয়েছিল, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমেই সমস্যার সূত্র পাওয়া গেছে। স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।
রয়টার্সের উদ্ধৃত ন্যাটসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সমস্যাটি আমাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমেই ছিল। আমাদের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে আছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন’। এতে আরও বলা হয়, ‘ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত আছে এবং আকাশসীমা খোলা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।’
ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর হিথ্রো জানিয়েছে, তারা সমস্যা সমাধানে ন্যাটসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইটের অবতরণ ও উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। এর ফলে দ্রুতই বড় ধরনের বিলম্ব ও ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটে।
ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, হিথ্রোতে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং ৩৬৭টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। গ্যাটউইক বিমানবন্দরে প্রায় ২৫০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়, যা বিমানবন্দরটির মোট ফ্লাইটের প্রায় ৩১ শতাংশ। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সমস্যায় পড়া বিমানবন্দরগুলোতে প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যেই ন্যাটসের সিস্টেম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
একপর্যায়ে লন্ডনের বাইরের বিমানবন্দরগুলোও এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়। এডিনবার্গ বিমানবন্দর যাত্রীদের সতর্ক করে জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তাদের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডাবলিন বিমানবন্দর জানায়, ব্রিটেন থেকে আসা ও ব্রিটেনে যাওয়ার ফ্লাইটও বিঘ্নিত হচ্ছে। লুটন, বার্মিংহাম, অ্যাবারডিন ও গ্লাসগো বিমানবন্দরেও বিলম্ব বা ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া যায়।
বিমান সংস্থাগুলোকেও তাদের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে হয়। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানায়, ন্যাটসের সমস্যার কারণে তাদের ফ্লাইট চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। রয়টার্সের উদ্ধৃত এক বিবৃতিতে বিমান সংস্থাটি বলেছে, ‘এটি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমাদের কর্মীরা যত দ্রুত সম্ভব যাত্রীদের গন্তব্যে পাঠানোর চেষ্টা করছেন এবং এ বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’
এয়ার ইন্ডিয়াও জানায়, ন্যাটসের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যুক্তরাজ্যগামী ও যুক্তরাজ্য থেকে ছেড়ে যাওয়া তাদের ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক্সে দেয়া এক পোস্টে বিমান সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী একাধিক ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন, বিলম্ব বা বাতিল করতে হয়েছে। বিমান ও ক্রুদের অবস্থান নির্ধারিত জায়গায় না থাকায় তাদের অন্য কিছু ফ্লাইটেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানায় এয়ার ইন্ডিয়া।
ইজিজেট জানিয়েছে, এ সমস্যার কারণে ইউরোপজুড়ে ফ্লাইট চলাচলে বিলম্ব হচ্ছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ৯৬টি, ইজিজেটের ৯২টি, কেএলএমের ২০টি, লুফথানসার ১২টি এবং সুইসের ১১টি ফ্লাইট ছিল।
ব্রিটেনের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় এর আগেও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ২০২৪ সালে দেশটির বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছিল, আগের বছর ফ্লাইট পরিকল্পনা প্রক্রিয়াকরণে ত্রুটির পর ন্যাটসকে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। ওই ঘটনায় ব্রিটেনজুড়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল।
বিমান সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আগের ওই সমস্যায় অর্থ ফেরত ও ক্ষতিপূরণ দিতে তাদের ১০ কোটি পাউন্ডের বেশি খরচ হয়েছিল। গত বছরের জুলাইয়েও রাডার-সংক্রান্ত একটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হিথ্রোসহ লন্ডনের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে চার ঘণ্টার বেশি সময় ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর পর এর জবাবে এসব জাহাজে হামলা চালায় আইআরজিসির নৌবাহিনী।
এসময় আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক (ডিডিজি-১১৯) এবং ইউএসএস জন পল জোন্স (ডিডিজি-৫৩)-কে লক্ষ্যবস্তু করে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মার্কিন সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীর আগ্রাসন ও শত্রুতার জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির একটি নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা আরও ১০টি নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে আইআরজিসি। এসব জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি ও সহযোগিতায় ওই এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগ করেছে তারা।
আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ নজরদারি এবং ব্যবস্থাপনার অধীনে রয়েছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। বুধবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত এক সপ্তাহে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে সর্বশেষ ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক মানুষবিহীন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের যে আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি বিকল হয়েছিল, সেটি পুরোনো মডেলের এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা গোপন সরঞ্জাম ছিল না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আইআরজিসির বরাতে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোরে গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানুষবিহীন ও ‘স্মার্ট’ সাবমেরিন আটক করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, আটক করা ডুবোজাহাজটি পানির নিচে ব্যবহারের জন্য বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এটি ২০২৫ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে ইরান। শিগগির আটক করা সাবমেরিনটির ছবি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষবিহীন এই ডুবোজাহাজের সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে পানির নিচে অনুসন্ধান ও নজরদারি, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, মাইন শনাক্তকরণ এবং সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন পরিদর্শন।
তবে ইরানের দাবির পরপরই আল-জাজিরার কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এক দিনেরও বেশি সময় আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ে।
মার্কিন ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ড্রোনটি চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য আঞ্চলিক জলসীমায় জরিপ চালাচ্ছিল। এটি ছিল পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন। এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা ছিল না এবং কোনো গোপন সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রেখেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।