ছবি : সংগৃহীত
হেলেন ইয়াফে ৩০ বছর ধরে নিয়মিত কিউবায় আসা-যাওয়া করছেন। একবার এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় (ক্যাটাগরি ফোর হারিকেন) যখন দ্বীপরাষ্ট্রটির দিকে ধেয়ে আসছিল, সেই সময়ের স্মৃতি আজও গেঁথে আছে তাঁর মনে। এই শিক্ষাবিদ ও পডকাস্টার তখন একটি বাড়িতে আরও ১৩ জনের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন।
প্রবল ঝড় আঘাত হানলেও সেখানে থাকা মানুষের মধ্যে কোনো আতঙ্ক ছিল না। কারণ, দুর্যোগের সময় কার কী ভূমিকা হবে, তা প্রত্যেকে আগে থেকেই জানতেন। ওই বাড়িতে থাকা কেউ কেউ বয়স্ক ও অসহায় প্রতিবেশীদের আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। অন্যরা ঝড়ের বেগ কমার সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কিউবার জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রশংসা পেয়েছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কাছ থেকে। চরম আবহাওয়ার কবলে ঘনঘন পড়লেও কিউবায় প্রাণহানির সংখ্যা খুব কম। দেশটির এই সক্ষমতা সমাদৃত বিশ্বজুড়ে।
দুর্যোগ মোকাবিলার সেই একই মডেলকে এখন অন্য একটি হুমকির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে চাইছে হাভানা। তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত।
কিউবার প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য সম্প্রতি আরও তীব্রতর হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা ৩০ বছর আগের এক ঘটনায় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করেছেন। এতে দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
১৯৯৬ সালে কিউবার কয়েকটি বিমান দেশটির নির্বাসিতদের দ্বারা পরিচালিত দুটি উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছিল। এতে তিনজন মার্কিন নাগরিকসহ চারজন নিহত হয়েছিলেন। এই ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট চারটি ও বিমান ধ্বংস-সংক্রান্ত দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
উত্তেজনার এই আবহে ১৬ মে কিউবার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ ‘সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় পারিবারিক নির্দেশিকা’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবিলায় পরিবারের দায়িত্ব ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিয়মাবলি কী হবে, তা বলা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাতিন আমেরিকান রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক ও ‘কিউবা অ্যানালাইসিস’ পডকাস্টের উপস্থাপক ইয়াফে আল-জাজিরাকে বলেন, এই নির্দেশিকা কিউবার প্রতিরক্ষা তত্ত্ব ‘ওয়ার অব অল পিপল’ বা জনযুদ্ধের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর কিউবা এ নীতি গ্রহণ করে। এর মূল লক্ষ্য হলো গেরিলা যুদ্ধ, স্থানীয় মিলিশিয়া এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগণকে সংগঠিত করে বিদেশি হামলা প্রতিহত করা।
ইয়াফে বলেন, ‘কিউবার প্রত্যেক নাগরিক সামরিকভাবে প্রশিক্ষিত। তাঁরা এই জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার আওতাভুক্ত।’
রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের একটি অংশ। অন্যান্য চাপের মধ্যে রয়েছে গত কয়েক মাস ধরে কিউবার উপকূলে মার্কিন নজরদারি বিমানের টহল বৃদ্ধি, মার্কিন সিনেটে কিউবার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করার ব্যর্থ চেষ্টা এবং কিউবাকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘উল্লেখযোগ্য হুমকি’ ঘোষণা করে নির্বাহী আদেশ জারি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে সেটি তাঁর আমলেই হবে।
একই দিন রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অনেক বছর ধরে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাঁর দাবি, কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থা রেখে সেটি আর ঠিক করা সম্ভব নয়।
কিউবাকে অন্যায়ভাবে ‘হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করায় রুবিওর তীব্র সমালোচনা করেছেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ।
তিনি বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন, যাতে একটি সামরিক আগ্রাসন উসকে দেওয়া যায়। এমন পদক্ষেপ কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্র-উভয় দেশের নাগরিকদের রক্তপাতের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’
এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত শিগগিরই কিউবায় সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে। কিউবা বর্তমানে কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তা সত্ত্বেও কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, দীর্ঘ বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, মার্কিন অবরোধের কারণে জ্বালানিসংকট এবং ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি থাকলেও কিউবা মোটেও অরক্ষিত নয়।
ভেনেজুয়েলা মডেল ‘কাজ করবে না’ কিউবায়
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী গত ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে তাঁর দেশ থেকে তুলে নিয়ে যায়। সেই অভিযানের ক্ষিপ্রতা বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছিল।ইয়াফে জানান, সেই লড়াইয়ে নিহতদের মধ্যে ৩২ জন ছিলেন কিউবার নাগরিক, যাঁরা ‘সত্যিই প্রচণ্ড প্রতিরোধ’ গড়ে তুলেছিলেন। খোদ ট্রাম্প এই প্রতিরোধের কথা স্বীকার করেন।
এদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-ক্যানেল ১৮ মে বলেন, কিউবার বিরুদ্ধে যেকোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ একটি ‘রক্তবন্যা’ ডেকে আনবে। অথচ এই দ্বীপরাষ্ট্র কারও জন্য হুমকি নয়।
ইয়াফে বলেন, ‘তাঁরা (যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা) ভেনেজুয়েলা মডেলের কথা বলছেন। প্রশ্ন হলো, তাঁরা কি কিউবাতেও একই মডেল প্রয়োগ করবেন? কিন্তু এটি কিউবায় কাজ করবে না।’
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘কিউবার নেতা ও জনগণের কথা হলো তাঁরা (মার্কিন কর্মকর্তারা) কী মনে করেন, ওটাই প্রচণ্ড প্রতিরোধ ছিল? সেখানে তো কিউবার নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন মাত্র ৩২ জন। ভাবুন- তাঁরা যদি এখানে আসে, তাহলে এক কোটি মানুষ তাঁদের প্রতিরোধ করবে।’
স্পেনের মাদ্রিদে অবস্থিত এলকানো রয়্যাল ইনস্টিটিউটের আর্জেন্টাইন লাতিন আমেরিকা বিশ্লেষক কার্লোস মালামুদও একমত পোষণ করেন ইয়াফের সঙ্গে। কিউবার চ্যালেঞ্জ ভেনেজুয়েলার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করেন তিনি।
মালামুদ বলেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবার সেনাবাহিনী অনেক বেশি প্রশিক্ষিত। তাঁদের সরঞ্জামও তুলনামূলকভাবে উন্নত।
তবে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর কিউবান স্টাডিজের কিউবান-আমেরিকান পরিচালক সেবাস্তিয়ান আরকোস সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন।
তিনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘কিউবার সামরিক বাহিনী সেকেলে। তাদের মার্কিন বাহিনীকে প্রতিরোধ করার তেমন একটা সামর্থ্য নেই।’
তবে তিনি এটাও মানেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবা বেশি চ্যালেঞ্জিং। এটা যতটা না সামরিক শক্তির কারণে, তার চেয়ে বেশি হলো তারা এই ধরনের অভিযান মোকাবিলায় প্রস্তুতির জন্য দীর্ঘ সময় পেয়েছে।
কিউবার সামরিক সক্ষমতা যা-ই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির দূরত্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। মালামুদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের খুব কাছে হওয়ার কারণে কিউবার পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি। ভেনেজুয়েলা বা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।
কিউবায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যে পাল্টা হামলা হবে, তা কোনো কল্পনা নয়, বরং তা বাস্তব হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষক কার্লোস মালামুদ।
তাঁর ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক জনগণ, মিয়ামিসহ বিভিন্ন শহরে ক্ষয়ক্ষতি করার ক্ষমতা তাদের অনেক বেশি।’
অন্যদিকে সেবাস্তিয়ান আরকোস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন জনমতকে খেপিয়ে তুলতে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাতে পারে।
১৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, কিউবা ৩০০টি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে। তারা গুয়ান্তানামো বে-র মার্কিন নৌঘাঁটি, নৌযান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপ শহর কী ওয়েস্টে হামলার পরিকল্পনা করছে।
তবে ইয়াফে ও মালামুদ এই গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দিহান। তাঁদের মতে, কিউবা কোনো ধরনের সামরিক সংঘাতের পক্ষে নয়। অন্যদিকে আরকোস মনে করেন, অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটি ‘যৌক্তিক’। কারণ, কিউবা সব সময় রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সম্পদের অভাব থাকা সত্ত্বেও দেশটি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
তবে কিউবা এরই মধ্যে প্রতিবেদনটিকে মার্কিন হামলার অজুহাত তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, যেকোনো ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।
ভিন্নধর্মী অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা
সামরিক হিসাব-নিকাশের বাইরে এমন কিছু রাজনৈতিক বিষয় আছে, যা কিউবায় মার্কিন হামলাকে অনেক বেশি জটিল করে তুলতে পারে।
ইয়াফে বলেন, দ্বীপটিতে হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে অভিবাসনের জোয়ার সৃষ্টি হতে পারে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটা ট্রাম্প ও তাঁর দলকে বড় ধরনের চাপে ফেলতে পারে। কারণ, অভিবাসনবিরোধিতা করেই ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছেন।
মালামুদ বলেন, কিউবা বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ভেনেজুয়েলার প্রবাসীদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। মূলত এই দুই পক্ষের মধ্যে কোনো তুলনা চলে না। মার্কিন কংগ্রেসে কিউবা বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদের উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবা বংশোদ্ভূত। এসব কারণে কিউবার প্রবাসী জনগণ ভেনেজুয়েলা ধরনের সমাধান মেনে নেবে না।
মালামুদ এ জটিলতা ব্যাখ্যা করে বলেন, ভেনেজুয়েলায় নেতার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পুরোনো ক্ষমতা কাঠামো রয়ে গেছে। কিউবার নির্বাসিতরা কাস্ত্রো পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া কোনো কিছু মেনে নেবে না।
অন্যদিকে ‘মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু, আমাদের জয় হবেই’-এটা হলো কিউবার বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর জাতীয়তাবাদী চেতনার মূল কথা। তাই যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত রাউল কাস্ত্রোকে অপহরণ করে সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ, এতে একদিকে কিউবান-আমেরিকান সমর্থকেরা সন্তুষ্ট হবেন না। অন্যদিকে রাউল কাস্ত্রোর অপহরণ কিউবার সরকারকে নমনীয় করার বদলে জেদ বাড়িয়ে দেবে।
চরম অর্থনৈতিক সংকটে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি
উরুগুয়ের ওআরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক মাতিয়াস ব্রাম সতর্ক করে বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার পর কিউবায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে হামলার মতো কোনো ঘটনা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
ব্রাম আল-জাজিরাকে বলেন, তাঁর ধারণা ছিল যুক্তরাষ্ট্র কখনো ভেনেজুয়েলায় সরাসরি হামলা চালাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়েছে এবং মাদুরোকে অপহরণ করেছে। তাই তিনি আগে ট্রাম্পকে গুরুত্ব না দিলেও এখন তাঁকে ভয় পাচ্ছেন।
তাঁর মতে, কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, লাতিন আমেরিকার বামপন্থী সরকারগুলো সেদিকে নিবিড় নজর রাখবে। বিশেষ করে কলম্বিয়া ও মেক্সিকো। কারণ, ট্রাম্প এসব দেশকেও হুমকি দিয়ে রেখেছেন।
এদিকে কিউবার গভীর সংকটের মধ্যেই বুধবার দেশটির সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন রুবিও। তিনি হাভানাকে ১০ কোটি ডলারের খাদ্য ও ওষুধ সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন। এটি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের আগের প্রস্তাবেরই অংশ। কিউবার প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-ক্যানেল তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধই যে কিউবার বর্তমান সংকটের মূল কারণ, তা রুবিও স্বীকার করেননি। বরং বিদ্যুৎ, খাদ্য ও জ্বালানি ঘাটতির জন্য তিনি কিউবার নেতৃত্বকেই দায়ী করেছেন।
বিশ্লেষক মালামুদ মনে করেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবা এখনো কিছু কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা দেশটির রয়েছে। কিন্তু গভীর মানবিক সংকট শেষ পর্যন্ত সেই সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
মালামুদ বলেন, কিউবার পরিস্থিতির জটিলতা এখানেই। সংকট এখন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে কিউবার ওয়ার অব অল পিপল বা জনগণের যুদ্ধ নীতি কি শুধু তাত্ত্বিক ধারণা হয়েই থাকবে, নাকি বাস্তবে রূপ নেবে।
হেলেন ইয়াফে মনে করেন, কিউবা লড়বে। তাঁর ভাষায়, হাভানাজুড়ে এখনো একটি স্লোগানই বেশি শোনা যাচ্ছে-‘নো সে রিন্দে নাদিয়ে’, অর্থাৎ এখানে কেউ আত্মসমর্পণ করে না।
ইসরায়েলি হামলার পরে গাজার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রোববার (২৫ অক্টোবর) উপত্যকাটির বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
সূত্র জানায়, গাজা নগরীর ইসলামিক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ইসরায়েলি হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এর কিছুক্ষণ আগে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। হামলার পর গাজা নগরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাক্রম-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানে বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত অনেক ফিলিস্তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
উত্তর গাজায় উপত্যকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আল-রশিদ উপকূলীয় সড়কে বেসামরিক মানুষের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলায় কয়েকজন আহত হন। তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র।
এ ছাড়া জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের পশ্চিমে আল-ফালুজা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে পায়ে আঘাত পাওয়া এক ফিলিস্তিনিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র। খান ইউনিসে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক নারীও মাঝারি মাত্রায় আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আনাদোলুকে জানান, খান ইউনিস শহরের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলের দিকে গুলি ও গোলা ছুড়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ।
মধ্য গাজায় দেইর আল বালাহ শহরের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় ৩৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার ভোরে গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চলীয় আল তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন স্থানে দুটি দফায় বাড়িঘর ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে দুটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৫৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৫৭৩ জন আহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া উপত্যকাটির বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণের পর ফ্রান্সে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খারাপ পরিবেশের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন লাখো মানুষ। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এসব বিক্ষোভে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দিনের শুরুতে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
প্যারিসে শান্তিপূর্ণ মিছিল শেষে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। কিছু বিক্ষোভকারী অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। কয়েকজন মুখোশধারী তরুণ গাড়ির শোরুমের জানালাও ভাঙচুর করেন। রাজধানীতে শনিবার ১৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দক্ষিণের বন্দরনগরী মার্সেইয়ে ময়লার পাত্রে আগুন দেওয়া হয় এবং সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। বোর্দো শহরেও সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরির জন্য ভবনের কাঠের পাটাতন খুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। লিওঁ শহরে নিষিদ্ধ এলাকায় জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ৫৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তুলুজ ও ক্লেরমঁ-ফেরাঁ শহরে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। তুলুজে ২০ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীর হাতে বিস্ফোরণের ঘটনায় কয়েকটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। এর আগে গত সপ্তাহের বিক্ষোভে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। ওই বিক্ষোভের পর সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন। দেশজুড়ে দুই হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের বাণিজ্য ও শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠন।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের মধ্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ পরিস্থিতিতে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বাড়ছে।
সৌদি আরবের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ৭ হাজার ৯৩৪ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। একই সময়ে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৯০৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খবর গালফ নিউজের।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে এসব আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫৪ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন, ৩ হাজার ৮৬৫ জনের বিরুদ্ধে সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৪৮৬ জনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে ১ হাজার ৮৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনুমোদনহীন সীমান্তপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টায় আটক হয়েছেন আরও ২২ জন। আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয়, কর্মসংস্থান বা অন্য কোনোভাবে সহায়তার অভিযোগে আরও ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে অভিবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন ৩৭ হাজার ৬১৮ জন প্রবাসী। তাদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৪৪৯ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ১৬৯ জন নারী। বিবৃতিতে বলা হয়, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহের জন্য ২০ হাজার ২৫২ জনকে নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আরও ৬ হাজার ৫৫৫ জনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনভুক্ত সময়ে মোট ৭ হাজার ৯৩৪ জনকে সৌদি থেকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তবে বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা কোন কোন দেশের নাগরিক, তা বিবৃতিতে উল্লেখ করেনি মন্ত্রণালয়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশে সহায়তা করা, দেশের ভেতরে পরিবহন করা, আশ্রয় দেওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
এ ধরনের অপরাধে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। অপরাধীদের পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন এবং তাদের আশ্রয় দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি অপরাধীদের পরিচয় প্রকাশ করার বিধান রয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের অপরাধ গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত, যার জন্য গ্রেপ্তার করা যায় এবং যা সম্মান ও বিশ্বাসের পরিপন্থী কাজের অন্তর্ভুক্ত।
সন্দেহজনক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা জানাতে বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মক্কা, মদিনা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ৯১১ নম্বরে এবং সৌদি আরবের অন্যান্য এলাকায় ৯৯৯ অথবা ৯৯৬ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষে প্রচারে নেমে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধ এবং চড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন।
গতকাল শনিবার ওহাইওতে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে ওবামা বলেন, “এই প্রশাসনের কিছু বোকামি অন্তত কিছুটা হলেও লাগাম টেনে ধরার জন্য এই নির্বাচনই আমাদের শেষ সেরা সুযোগ।"
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ক্ষমতা দখলের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে বারাক ওবামা নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। এই প্রচারে তিনি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দুর্নীতির নিন্দা করেছেন, ইরান নিয়ে তার কৌশলের সমালোচনা করেছেন এবং হোয়াইট হাউজ সংস্কারে ট্রাম্পের জাঁকজমক নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন।
ওবামা ক্লিভল্যান্ড ও ডেট্রয়েটের সমাবেশে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে তীব্রভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছেন।
মিশিগানে মার্কিন সেনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় ওবামা আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির কিছু বোকামিকে অন্তত কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার একটি 'সার্কিট ব্রেকার' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের এই অচলাবস্থা বা চলমান ধারা ভাঙতে হবে এবং এই সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
ওদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে জর্জিয়ার এক সমাবেশে তার প্রশাসনের অভিবাসন এবং শুল্ক নীতির প্রশংসা করে সমর্থকদের বলেছেন, “আমরা আমেরিকার সুবর্ণ যুগে আছি।”
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য কংগ্রেস কোন দল নিয়ন্ত্রণ করবে তা ঠিক করবে, আর তাই প্রেসিডেন্টের জন্য তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা কতটা সহজ হবে সেটিও এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারণ হয়ে যাবে।
আগাম ভোটগ্রহণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে এবং ট্রাম্প শনিবার ফ্লোরিডায় তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে একসঙ্গে নিজের ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যেই ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচারে নেমে শনিবার ওহাইও এবং মিশিগানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওবামা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিশানা করে সমালোচনা করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি হোয়াইট হাউজ পুনর্সজ্জা করার জন্য ট্রাম্পের চেষ্টা নিয়ে উপহাসও করেন।
ক্লিভল্যান্ডের প্রচার সমাবেশে ওবামা বলেন, “আধুনিক যুগে আমরা দেখিনি এমন বিশৃঙ্খলা, নিষ্ঠুরতা, দুর্নীতি এবং অযোগ্যতার দীর্ঘ দুই বছর পার করার পর, আপনার কাছে 'যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়' বলার সুযোগ এসেছে।”
ওবামা বলেছেন, তিনি সেইসব ভোটারদের প্রতি সহানুভূতিশীল যারা কোভিড মহামারীর পর অর্থনৈতিক এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে ২০২৪ সালে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে তিনি বলেন, অর্থনীতির বর্তমান অবস্থার জন্য ট্রাম্পের কেবল নিজেকেই দোষ দেওয়া উচিত।
“আপনি যদি ভেবে থাকেন যে 'আপনি কার কথা বলছেন' (নাম উল্লেখ না করে ট্রাম্পকে নির্দেশ করে) তার আসার আগে সবকিছু খুব ব্যয়বহুল ছিল, তবে এখন সবকিছু আরও বেশি ব্যয়বহুল।”
ওবামা মিশিগানের প্রচারসমাবেশে জনতার মনের মতো কথা বলে তাদের খুশি করেন। তিনি ডেমোক্র্যাটদের সেইসব সমালোচনার পুনরাবৃত্তি করেন, যা ট্রাম্প এবং তার সব কথায় রিপাবলিকানদের অন্ধ সমর্থন দেওয়াকে নিয়ে করা হয়।
ওবামা বলেন, “জনগণের করের অর্থ ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক ফায়দা লোটার ক্ষেত্রে বর্তমান প্রেসিডেন্টের মতো এমন চতুর ও পারদর্শী কাউকে আগে কখনও দেখা যায়নি। এই প্রেসিডেন্টের মতো ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যকে বেশি বেশি সুবিধা দিতে কাউকে কখনও দেখিনি। এখন মনে হচ্ছে, দলটি হয় দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার, না হয় অযোগ্য সরকার, অথবা কোনও সরকার না থাকার পক্ষে অবস্থান করছে।”
এই সমালোচনার বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়ার অনুরোধে হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে রোববার সকালে ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে চরম অযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন এবং আল-সায়েদকে মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন জিহাদি আখ্যা দিয়েছেন; যিনি ইহুদি, কৃষ্ণাঙ্গ, আমেরিকান এবং ট্রাম্পকে ঘৃণা করেন।
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় ভারতের পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালের মধ্যে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আগামী ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি শুরু করেছে ওড়িশা সরকার। রাজ্যের পাঁচটি জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুই দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর স্কুল, কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। অন্যান্য জেলায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকেরা।
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি প্রশাসনকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য প্রায় ৬০টি ওড়িশা দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর দল, ১৭টি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর দল এবং দমকলের ২২৫টি দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।আবহাওয়া দপ্তর ২৮ অক্টোবর গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় লাল সতর্কতা জারি করেছে। এসব এলাকার কোথাও কোথাও ২০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে। বজ্রপাতের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির কয়েকটি এলাকায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। পুদুচেরির কোস্ট রোড, কৃষ্ণনগর ও লাসপেট এলাকায় পানি জমে দুর্ভোগ বেড়েছে। চেন্নাই, নাগাপট্টিনম, কুড্ডালোর, কারাইকাল, পাম্বান ও তুতিকোরিনসহ একাধিক বন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে ঝড়টির নাম হবে ‘অর্ণব’। নামটি প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। তবে ঝড়টির গতিপথ, শক্তি ও স্থলভাগে আঘাত হানার স্থান সম্পর্কে পরবর্তী পূর্বাভাসের ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যটিতে প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতার এই ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভের সময় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কার্যালয়, একটি পুলিশ স্টেশন ও পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। এ ছাড়া স্থানীয় দুই বিধায়ক ও রাজ্য বিজেপি সভাপতির বাসভবনেও ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার এবং তিনটি শহরে মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট টুডে বলছে, অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের (এসইউএমপি) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে এবং এরপরই পূর্ব সিয়াং জেলার তিন শহরে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন।
গত শুক্রবার জারি করা আদেশে শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টা থেকে জেলার পাসিঘাট, মেবো ও রুকসিনে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা কার্যকর করা হয়।
চলমান আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় পূর্ব সিয়াং জেলা প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর আগে পূর্ব সিয়াংয়ের পুলিশ সুপার পাসিঘাটে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের আদেশে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতি থেকে আরও ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে’। শান্তি ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, সব ধরনের জনসভা, মিছিল, সমাবেশ এবং পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র, দা, ধনুক-তীর, ছোরা, ছুরি, কুঠার ও লাঠিসহ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে- এমন কোনো বস্তু বহন করা যাবে না। তবে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তাকর্মীরা এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন।
এছাড়া ভাঙচুর, সম্পত্তি ধ্বংস, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সহিংসতায় উসকানি দেয়ার মতো কাজ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো মিছিল বা বিক্ষোভও করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় নির্ধারিত এলাকার সব বাসিন্দাকে পুলিশ ও প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম অরুণাচল২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার রাতে পাসিঘাটে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। এ সময় জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগমের (এনএইচপিসি) একটি কার্যালয়, একটি পুলিশ স্টেশন এবং পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। এ ছাড়া দুই স্থানীয় বিধায়ক ও রাজ্য বিজেপি সভাপতির বাসভবনে ভাঙচুর চালানো হয়।
অবশ্য প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক তদন্ত ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একাংশের উদ্বেগ, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা হতে পারে, পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে এবং পূর্বপুরুষের জমি ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে রাজ্য সরকার পানি ব্যবস্থাপনা এবং তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর উজানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটির বৃহত্তর গুরুত্ব তুলে ধরেছে। অরুণাচল প্রদেশে এই নদী সিয়াং নামে পরিচিত।
পূর্ব সিয়াংয়ের ডেপুটি কমিশনার জয়ন্তী পার্টিনের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিনের বেলায় পাসিঘাটে বন্ধ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে বিকেল ৫টায় আনুষ্ঠানিক বন্ধ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক শ বিক্ষোভকারী আন্দোলন চালিয়ে যান, মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট ও নিরাপত্তাকর্মীদের অনুরোধ সত্ত্বেও সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেও পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হয়নি। এরপর জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ও অন্য কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকেন। এতে কয়েকজন আহত হন।
রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। শুরু হয় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর। আর শনিবার ভোর পর্যন্ত এই সহিংসতা চলে।
পাসিঘাটের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ টনি তাতাক নিজেও সহিংসতায় আহত হন। তিনি জানান, হাই রিজিয়ন এলাকায় এনএইচপিসির কার্যালয় এবং একই এলাকার একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের সাত থেকে আটটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
সহিংসতার সময় পাসিঘাট ওয়েস্টের বিধায়ক নিনং এরিং, মারিয়াং-গেকুর বিধায়ক ওনি পানিয়াং এবং অরুণাচল প্রদেশ বিজেপির সভাপতি কালিং ময়ংয়ের বাসভবনেও ভাঙচুর চালানো হয়। আদি জনগোষ্ঠীর সর্বোচ্চ সংগঠন আদি বানে কেবাংয়ের কার্যালয়ও তছনছ করা হয়েছে।
এমন অবস্থায় শনিবার সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সহিংস বিক্ষোভের আমি তীব্র নিন্দা জানাই। এসইউএমপি প্রকল্প নিয়ে যাদের উদ্বেগ রয়েছে, তাদের এমন পথ বেছে না নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাচ্ছি।’