ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৩ মে, ২০২৬, সময় : ১০:১০ এএম

হেলেন ইয়াফে ৩০ বছর ধরে নিয়মিত কিউবায় আসা-যাওয়া করছেন। একবার এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় (ক্যাটাগরি ফোর হারিকেন) যখন দ্বীপরাষ্ট্রটির দিকে ধেয়ে আসছিল, সেই সময়ের স্মৃতি আজও গেঁথে আছে তাঁর মনে। এই শিক্ষাবিদ ও পডকাস্টার তখন একটি বাড়িতে আরও ১৩ জনের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। 


প্রবল ঝড় আঘাত হানলেও সেখানে থাকা মানুষের মধ্যে কোনো আতঙ্ক ছিল না। কারণ, দুর্যোগের সময় কার কী ভূমিকা হবে, তা প্রত্যেকে আগে থেকেই জানতেন। ওই বাড়িতে থাকা কেউ কেউ বয়স্ক ও অসহায় প্রতিবেশীদের আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। অন্যরা ঝড়ের বেগ কমার সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।


প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কিউবার জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রশংসা পেয়েছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কাছ থেকে। চরম আবহাওয়ার কবলে ঘনঘন পড়লেও কিউবায় প্রাণহানির সংখ্যা খুব কম। দেশটির এই সক্ষমতা সমাদৃত বিশ্বজুড়ে।


দুর্যোগ মোকাবিলার সেই একই মডেলকে এখন অন্য একটি হুমকির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে চাইছে হাভানা। তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত।


কিউবার প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য সম্প্রতি আরও তীব্রতর হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা ৩০ বছর আগের এক ঘটনায় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করেছেন। এতে দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


১৯৯৬ সালে কিউবার কয়েকটি বিমান দেশটির নির্বাসিতদের দ্বারা পরিচালিত দুটি উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছিল। এতে তিনজন মার্কিন নাগরিকসহ চারজন নিহত হয়েছিলেন। এই ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট চারটি ও বিমান ধ্বংস-সংক্রান্ত দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।


উত্তেজনার এই আবহে ১৬ মে কিউবার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ ‘সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় পারিবারিক নির্দেশিকা’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবিলায় পরিবারের দায়িত্ব ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিয়মাবলি কী হবে, তা বলা হয়েছে।


যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাতিন আমেরিকান রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক ও ‘কিউবা অ্যানালাইসিস’ পডকাস্টের উপস্থাপক ইয়াফে আল-জাজিরাকে বলেন, এই নির্দেশিকা কিউবার প্রতিরক্ষা তত্ত্ব ‘ওয়ার অব অল পিপল’ বা জনযুদ্ধের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।


সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর কিউবা এ নীতি গ্রহণ করে। এর মূল লক্ষ্য হলো গেরিলা যুদ্ধ, স্থানীয় মিলিশিয়া এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগণকে সংগঠিত করে বিদেশি হামলা প্রতিহত করা।


ইয়াফে বলেন, ‘কিউবার প্রত্যেক নাগরিক সামরিকভাবে প্রশিক্ষিত। তাঁরা এই জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার আওতাভুক্ত।’


রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের একটি অংশ। অন্যান্য চাপের মধ্যে রয়েছে গত কয়েক মাস ধরে কিউবার উপকূলে মার্কিন নজরদারি বিমানের টহল বৃদ্ধি, মার্কিন সিনেটে কিউবার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করার ব্যর্থ চেষ্টা এবং কিউবাকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘উল্লেখযোগ্য হুমকি’ ঘোষণা করে নির্বাহী আদেশ জারি।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে সেটি তাঁর আমলেই হবে।


একই দিন রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অনেক বছর ধরে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাঁর দাবি, কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থা রেখে সেটি আর ঠিক করা সম্ভব নয়।


কিউবাকে অন্যায়ভাবে ‘হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করায় রুবিওর তীব্র সমালোচনা করেছেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ। 


তিনি বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন, যাতে একটি সামরিক আগ্রাসন উসকে দেওয়া যায়। এমন পদক্ষেপ কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্র-উভয় দেশের নাগরিকদের রক্তপাতের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’


এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত শিগগিরই কিউবায় সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে। কিউবা বর্তমানে কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তা সত্ত্বেও কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, দীর্ঘ বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, মার্কিন অবরোধের কারণে জ্বালানিসংকট এবং ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি থাকলেও কিউবা মোটেও অরক্ষিত নয়।


ভেনেজুয়েলা মডেল ‘কাজ করবে না’ কিউবায়


যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী গত ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে তাঁর দেশ থেকে তুলে নিয়ে যায়। সেই অভিযানের ক্ষিপ্রতা বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছিল।ইয়াফে জানান, সেই লড়াইয়ে নিহতদের মধ্যে ৩২ জন ছিলেন কিউবার নাগরিক, যাঁরা ‘সত্যিই প্রচণ্ড প্রতিরোধ’ গড়ে তুলেছিলেন। খোদ ট্রাম্প এই প্রতিরোধের কথা স্বীকার করেন।


এদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-ক্যানেল ১৮ মে বলেন, কিউবার বিরুদ্ধে যেকোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ একটি ‘রক্তবন্যা’ ডেকে আনবে। অথচ এই দ্বীপরাষ্ট্র কারও জন্য হুমকি নয়।


ইয়াফে বলেন, ‘তাঁরা (যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা) ভেনেজুয়েলা মডেলের কথা বলছেন। প্রশ্ন হলো, তাঁরা কি কিউবাতেও একই মডেল প্রয়োগ করবেন? কিন্তু এটি কিউবায় কাজ করবে না।’


বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘কিউবার নেতা ও জনগণের কথা হলো তাঁরা (মার্কিন কর্মকর্তারা) কী মনে করেন, ওটাই প্রচণ্ড প্রতিরোধ ছিল? সেখানে তো কিউবার নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন মাত্র ৩২ জন। ভাবুন- তাঁরা যদি এখানে আসে, তাহলে এক কোটি মানুষ তাঁদের প্রতিরোধ করবে।’


স্পেনের মাদ্রিদে অবস্থিত এলকানো রয়্যাল ইনস্টিটিউটের আর্জেন্টাইন লাতিন আমেরিকা বিশ্লেষক কার্লোস মালামুদও একমত পোষণ করেন ইয়াফের সঙ্গে। কিউবার চ্যালেঞ্জ ভেনেজুয়েলার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করেন তিনি।


মালামুদ বলেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবার সেনাবাহিনী অনেক বেশি প্রশিক্ষিত। তাঁদের সরঞ্জামও তুলনামূলকভাবে উন্নত।


তবে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর কিউবান স্টাডিজের কিউবান-আমেরিকান পরিচালক সেবাস্তিয়ান আরকোস সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। 


তিনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘কিউবার সামরিক বাহিনী সেকেলে। তাদের মার্কিন বাহিনীকে প্রতিরোধ করার তেমন একটা সামর্থ্য নেই।’


তবে তিনি এটাও মানেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবা বেশি চ্যালেঞ্জিং। এটা যতটা না সামরিক শক্তির কারণে, তার চেয়ে বেশি হলো তারা এই ধরনের অভিযান মোকাবিলায় প্রস্তুতির জন্য দীর্ঘ সময় পেয়েছে।


কিউবার সামরিক সক্ষমতা যা-ই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির দূরত্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। মালামুদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের খুব কাছে হওয়ার কারণে কিউবার পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি। ভেনেজুয়েলা বা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।


কিউবায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যে পাল্টা হামলা হবে, তা কোনো কল্পনা নয়, বরং তা বাস্তব হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষক কার্লোস মালামুদ। 


তাঁর ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক জনগণ, মিয়ামিসহ বিভিন্ন শহরে ক্ষয়ক্ষতি করার ক্ষমতা তাদের অনেক বেশি।’


অন্যদিকে সেবাস্তিয়ান আরকোস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন জনমতকে খেপিয়ে তুলতে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাতে পারে।


১৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, কিউবা ৩০০টি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে। তারা গুয়ান্তানামো বে-র মার্কিন নৌঘাঁটি, নৌযান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপ শহর কী ওয়েস্টে হামলার পরিকল্পনা করছে।


তবে ইয়াফে ও মালামুদ এই গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দিহান। তাঁদের মতে, কিউবা কোনো ধরনের সামরিক সংঘাতের পক্ষে নয়। অন্যদিকে আরকোস মনে করেন, অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটি ‘যৌক্তিক’। কারণ, কিউবা সব সময় রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সম্পদের অভাব থাকা সত্ত্বেও দেশটি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।


তবে কিউবা এরই মধ্যে প্রতিবেদনটিকে মার্কিন হামলার অজুহাত তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, যেকোনো ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।


ভিন্নধর্মী অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা


সামরিক হিসাব-নিকাশের বাইরে এমন কিছু রাজনৈতিক বিষয় আছে, যা কিউবায় মার্কিন হামলাকে অনেক বেশি জটিল করে তুলতে পারে।


ইয়াফে বলেন, দ্বীপটিতে হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে অভিবাসনের জোয়ার সৃষ্টি হতে পারে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটা ট্রাম্প ও তাঁর দলকে বড় ধরনের চাপে ফেলতে পারে। কারণ, অভিবাসনবিরোধিতা করেই ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছেন।


মালামুদ বলেন, কিউবা বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ভেনেজুয়েলার প্রবাসীদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। মূলত এই দুই পক্ষের মধ্যে কোনো তুলনা চলে না। মার্কিন কংগ্রেসে কিউবা বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদের উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবা বংশোদ্ভূত। এসব কারণে কিউবার প্রবাসী জনগণ ভেনেজুয়েলা ধরনের সমাধান মেনে নেবে না।


মালামুদ এ জটিলতা ব্যাখ্যা করে বলেন, ভেনেজুয়েলায় নেতার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পুরোনো ক্ষমতা কাঠামো রয়ে গেছে। কিউবার নির্বাসিতরা কাস্ত্রো পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া কোনো কিছু মেনে নেবে না।


অন্যদিকে ‘মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু, আমাদের জয় হবেই’-এটা হলো কিউবার বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর জাতীয়তাবাদী চেতনার মূল কথা। তাই যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত রাউল কাস্ত্রোকে অপহরণ করে সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ, এতে একদিকে কিউবান-আমেরিকান সমর্থকেরা সন্তুষ্ট হবেন না। অন্যদিকে রাউল কাস্ত্রোর অপহরণ কিউবার সরকারকে নমনীয় করার বদলে জেদ বাড়িয়ে দেবে।


চরম অর্থনৈতিক সংকটে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি


উরুগুয়ের ওআরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক মাতিয়াস ব্রাম সতর্ক করে বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার পর কিউবায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে হামলার মতো কোনো ঘটনা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।


ব্রাম আল-জাজিরাকে বলেন, তাঁর ধারণা ছিল যুক্তরাষ্ট্র কখনো ভেনেজুয়েলায় সরাসরি হামলা চালাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়েছে এবং মাদুরোকে অপহরণ করেছে। তাই তিনি আগে ট্রাম্পকে গুরুত্ব না দিলেও এখন তাঁকে ভয় পাচ্ছেন।


তাঁর মতে, কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, লাতিন আমেরিকার বামপন্থী সরকারগুলো সেদিকে নিবিড় নজর রাখবে। বিশেষ করে কলম্বিয়া ও মেক্সিকো। কারণ, ট্রাম্প এসব দেশকেও হুমকি দিয়ে রেখেছেন।


এদিকে কিউবার গভীর সংকটের মধ্যেই বুধবার দেশটির সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন রুবিও। তিনি হাভানাকে ১০ কোটি ডলারের খাদ্য ও ওষুধ সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন। এটি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের আগের প্রস্তাবেরই অংশ। কিউবার প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-ক্যানেল তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।


তবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধই যে কিউবার বর্তমান সংকটের মূল কারণ, তা রুবিও স্বীকার করেননি। বরং বিদ্যুৎ, খাদ্য ও জ্বালানি ঘাটতির জন্য তিনি কিউবার নেতৃত্বকেই দায়ী করেছেন।


বিশ্লেষক মালামুদ মনে করেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবা এখনো কিছু কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা দেশটির রয়েছে। কিন্তু গভীর মানবিক সংকট শেষ পর্যন্ত সেই সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।


মালামুদ বলেন, কিউবার পরিস্থিতির জটিলতা এখানেই। সংকট এখন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।


এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে কিউবার ওয়ার অব অল পিপল বা জনগণের যুদ্ধ নীতি কি শুধু তাত্ত্বিক ধারণা হয়েই থাকবে, নাকি বাস্তবে রূপ নেবে।


হেলেন ইয়াফে মনে করেন, কিউবা লড়বে। তাঁর ভাষায়, হাভানাজুড়ে এখনো একটি স্লোগানই বেশি শোনা যাচ্ছে-‘নো সে রিন্দে নাদিয়ে’, অর্থাৎ এখানে কেউ আত্মসমর্পণ করে না।




নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:১০ পিএম

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। তিনি তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।


আজ শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। 


পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে চার দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন তিনি। চলমান পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ যেন অপব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৫ দিন ধরে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি। তার পদত্যাগের পর আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কেন্দ্র সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।


প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আগের দিন তিনি বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘অসামাজিক শক্তি’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।


তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলন যাতে অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকা উচিত।


পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫৪ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। 


দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।


আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।


দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।


ধর্মেন্দ্র প্রধান

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৪৭ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।


এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।


নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।


ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। 


মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।


ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক। 


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে। 


গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।


মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।


রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।


এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।


এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।


অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।  


সূত্র: দ্য রিপাবলিক



রাভনীত সিং বিট্টু

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’


পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।