ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ এএম

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে চড়ে তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন, সেটিতে আগের মডেলের মতো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই। উড়োজাহাজটি কীভাবে নতুন করে প্রস্তুত করা হয়েছে, সে বিষয়ে অবহিত একাধিক কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, এ বিমানে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ক্ষমতা যুক্ত করা হয়নি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে এ ক্ষমতাগুলো না থাকায় এটি নিয়ে বিদেশে ভ্রমণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঝুঁকির বিষয় গত বুধবার আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধে ট্রাম্প হঠাৎ করেই নতুন উড়োজাহাজটি রেখে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে তুরস্ক ছাড়ার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেন।


এ ঘটনার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি দাবির ওপর সবার নজর পড়েছে। সরকারি উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত আগের বিমানবহরটি বেশ পুরোনো হয়ে গেছে অভিযোগ তুলে কাতার থেকে পাওয়া ৭৪৭ বিমানটিকে দ্রুত রাষ্ট্রীয় ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য তিনি অনড় ছিলেন। 


গত এক বছর ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাতারের দেওয়া এ উড়োজাহাজের সংস্কারকাজ চলেছে। এটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করার জন্য এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।


এ উড়োজাহাজের নিরাপত্তা শুধু প্রেসিডেন্টের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং তাঁর সঙ্গে থাকা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা, সিক্রেট সার্ভিসের সদস্য, সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্যও সমান জরুরি।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এ নতুন উড়োজাহাজ যত দ্রুত সম্ভব চালু করার জন্য শুরু থেকেই জোর দিচ্ছিলেন। আন্তর্জাতিক সফরের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান যথেষ্ট আকর্ষণীয় বা জমকালো নয় বলে তিনি প্রায়ই অসন্তোষ প্রকাশ করতেন।


নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য


গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস নতুন উড়োজাহাজটির সক্ষমতা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নের জবাব না দিলেও এর নিরাপত্তাব্যবস্থার পক্ষে সাফাই গেয়েছে। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চ্যং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক আকাশযান। প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এতে উচ্চস্তরের নিরাপত্তা প্রোটোকল যুক্ত করা হয়েছে। 


প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমনটি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রু তাঁর ওপর নজর রাখছে।” আমরা সেসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি হাতিয়ার ব্যবহার করছি।’


কাতার থেকে পাওয়া এ উড়োজাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। বলেছে, প্রেসিডেন্টের বহরের অংশ হিসেবে স্থায়ীভাবে তৈরি হতে থাকা দুটি বোয়িং জেটের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি একটি ‘সেতু’ বা সাময়িক উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


তবে উপহার হিসেবে পাওয়া উড়োজাহাজটি প্রেসিডেন্টকে বহনের জন্য প্রস্তুত, এমন ঘোষণা দেওয়ার সময় বিমানবাহিনী স্বীকার করেছিল, সাময়িক ব্যবহারের জন্য এই উড়োজাহাজে সাধারণত একটি এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সব সরঞ্জাম নেই।


গত ১৯ জুন এক বিবৃতিতে বিমানবাহিনী বলেছিল, ‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা বা মিশনের যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। তবে উড়োজাহাজটি যেন আগামী ৪০ বছর ভালোভাবে সেবা দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে গিয়ে কম ব্যবহৃত মিশন সেটের ক্ষেত্রে (কম প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধা) ছাড় দিতে হয়েছে।’


‘কম ব্যবহৃত মিশন সেট’ বলতে প্রকৃতপক্ষে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি বিমানবাহিনী। তবে উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাতার থেকে পাওয়া এ উড়োজাহাজে আগের মডেলের মতো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই।


ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশ সফরে ট্রাম্পের নতুন উড়োজাহাজ ব্যবহারে বিস্ময়


পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন, বিমানবাহিনীর এমন দুজন সাবেক কর্মকর্তা এ ঘটনায় গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, যেখানে নিরাপত্তাঝুঁকি অনেক বেশি, সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নতুন উড়োজাহাজে চড়ে বিদেশ সফরে গেছেন।


উল্লেখ্য, ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে যে দেশটিতে গিয়েছিলেন, সেই তুরস্কের সঙ্গে রয়েছে ইরানের সীমান্ত। আর এ সপ্তাহেই ইরানজুড়ে নতুন করে একাধিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


সাবেক এ কর্মকর্তারা কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজটির সংস্কারকাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তবে তাঁরা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের গতি দেখেই বোঝা যায়, একটি পূর্ণাঙ্গ প্রেসিডেনশিয়াল উড়োজাহাজের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে যেসব নিরাপত্তাব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার, তার সব কটি করার মতো পর্যাপ্ত সময় এখানে পাওয়া যায়নি।


বিমানবাহিনীর সাবেক সেক্রেটারি ফ্রাঙ্ক কেন্ডাল বলেন, ‘সময়স্বল্পতার কারণে একটি সাধারণ এয়ার ফোর্স ওয়ানের সব ধরনের পরিবর্তন এখানে করা সম্ভব হয়নি। তাই এর নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ঘাটতি রয়ে গেছে।’ 


কেন্ডাল যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন বোয়িং যাতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা দুটি নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজ সরবরাহের কাজ দ্রুত শেষ করে, সেই চেষ্টা তিনি করেছেন।


চলমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে কেন্ডাল আরও বলেন, ‘বর্তমান ইরান পরিস্থিতির কারণে এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সত্যি বলতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুন এ উড়োজাহাজের ব্যবহার দেখে আমি বেশ অবাক হয়েছি।’


বাইডেন প্রশাসনের সময় এয়ার ফোর্স ওয়ান কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা বিমানবাহিনীর সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যান্ড্রু পি হান্টারও একই কথা বলেছেন। তাঁর মতে, ‘একটি বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজকে প্রকৃত অর্থেই এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে গড়ে তুলতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার প্রয়োজন হয়।’


ট্রাম্প তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার ঠিক আগের দিন, সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বিমানবাহিনীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে তাঁরা কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজটির সংস্কারকাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন এবং এতে প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।


কানেটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস্টোফার এস মারফি এবং অন্য ১২ সিনেটরের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘ট্রাম্প নিজেই এ উড়োজাহাজের নজিরবিহীন বিলাসিতা নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁর এ বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আরাম ও পছন্দই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’


আঙ্কারায় উড়োজাহাজ বদলের নেপথ্যে


পেন্টাগনের তিনজন সাবেক কর্মকর্তার মতে, এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো বিমানগুলোতে এমন একটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছিল, যা তাপ অনুসরণকারী ক্ষেপণাস্ত্রকে (হিট-সিকিং মিসাইল) ধ্বংস করতে পারত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য নির্মাণাধীন বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজগুলোতেও এ ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।


নিরাপত্তা প্রোটোকলের বর্ণনা দিতে গিয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের ডানার নিচে ও লেজে এ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ বাইরে থেকে দেখা যায়। তবে কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজের ছবিতে এমন কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি।


এয়ার ফোর্স ওয়ানের ইতিহাসে এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ব্যবহার খুব একটা না হলেও, উড়োজাহাজটির নিরাপত্তার জন্য এটিকে সব সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।


মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন বর্তমানে নির্মাণাধীন বোয়িং বিমানগুলোর যে বিবরণ প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে নতুন জেটগুলোতে একটি ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ ও ‘মিশন যোগাযোগব্যবস্থা’ থাকবে। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ‘রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধান নির্বাহী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের’ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য এ নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো থাকা জরুরি।


মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে নিশানা বানিয়েছে ইরান। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পের ওপর প্রাণঘাতী হামলার আগেও তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়েছিল সিক্রেট সার্ভিস। ইরানের গুপ্তচরবৃত্তির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।


ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র হামলা আবার শুরু হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ব্রিফিং পাওয়া মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা বিশ্বাস করেন না যে এই মুহূর্তে ট্রাম্পকে হত্যা করার কোনো তাত্ক্ষণিক পরিকল্পনা ইরানের রয়েছে।


গোয়েন্দা মূল্যায়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের জীবন কেড়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা কতটা বড় উসকানি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা জবাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সে সম্পর্কে ইরানের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।


তা সত্ত্বেও আঙ্কারায় থাকাকালীন ইরানের এত কাছাকাছি অবস্থানে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে সিক্রেট সার্ভিস এতটাই চিন্তিত ছিল যে দেশ ছাড়ার সময় তারা প্রেসিডেন্টকে উড়োজাহাজ পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। গত বুধবার নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম এই খবর প্রকাশ করে।


অবশ্য উড়োজাহাজ পরিবর্তনের এ ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প ভিন্ন একটি গল্প শুনিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি পুরোনো উড়োজাহাজে ফিরছেন যাতে নতুন জেটটি আগেভাগে রওনা হতে পারে এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে যাত্রাবিরতি দিয়ে সেনাদের কাছে এর ‘চমৎকার’ রূপ প্রদর্শন করতে পারে।


প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত সামরিক বিমানসংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত থাকা হোয়াইট হাউসের সাবেক একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ভ্রমণের সময় যখনই নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠে, তখনই হোয়াইট হাউসের কর্মী, সামরিক উপদেষ্টা ও সিক্রেট সার্ভিসের মধ্যে প্রায়ই একধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়।


তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা যখনই কোনো পরিবর্তনের দাবি জানান, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সাধারণত তাঁদের সিদ্ধান্ত মেনে নেন, যা সম্ভাব্য হুমকি প্রশমিত করতে সহায়তা করে।



  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Laborum Consequuntu

Aaaa Update Laborum Consequuntu

Dolore qui laborum i


Voluptas ad tempora

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ পিএম

Laborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum ConsequuntuLaborum Consequuntu


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৫৯ এএম

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে বলেছে।


প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


ফেসবুকে মোদি জানান, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে দেওয়া ওই বার্তায় মোদি আরও লেখেন, ‘যারা আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চায়, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’


৬ সপ্তাহে সর্বোচ্চ তেলের দাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৪ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখন ১০০ ডলারের কাছাকাছি চলে গেছে।


আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮৮ ডলার অতিক্রম করেছে। 


আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৯৩ ডলার বা ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪১ ডলার বা ১ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে। খবর রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া। 


গতকাল তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। ফলে ব্রেন্টের দাম ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের দিকে বাজার সব সময় নজর রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২তম রাতে ইরানে হামলা চালানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। 


হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যখনই কোনো জাহাজে হামলা করবে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। তাঁর এ মন্তব্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়বে, এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা আছে- এমন পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরণে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তাদের ভাষ্য, ওই ঘটনার পর আরও দুটি ট্যাংকার যাত্রাপথ থেকে ফিরে যায়।


আইআরজিসি আরও বলেছে, এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান চলাকালে হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। এই প্রণালি এখন পুরোপুরি বন্ধ। ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো ট্যাংকার প্রণালিতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে দেওয়া হবে না বলেও তারা সতর্ক করেছে। এদিকে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে অভিযান আরও জোরদার করায় সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কা বেড়েছে।


হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল বহনকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। তাদের দাবি, সামরিক অভিযানে তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা করেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি পতাকাবাহী ট্যাংকার এনসেলিয়া লোহিত সাগরে হামলার শিকার হয়েছে।


এ ছাড়া হুতিদের দাবি, সৌদি বন্দরের দিকে যেতে নিষেধ করে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর প্রায় ১০টি জাহাজ ফিরে গেছে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।


এসব ঘটনায় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথ-হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালি-দিয়ে তেল পরিবহন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসির এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শিপিং কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে মাইন পাতা আছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অকার্যকর ঘোষণার পর এবার তেলের দাম এখনো ১০০ ডলারের নিচেই আছে। যদিও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত আছে। 


এর আগে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল, এখন দাম তার চেয়ে ৩০ ডলার কম।


শাহবাজ শরিফ, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আসিম মুনির

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৯ পিএম

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা সুবিধা চেয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মেয়াদে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে।


আজ বুধবার (২২ জুলাই) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের এই অনুরোধ এমন সময় এসেছে, যখন দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান সহায়তা কর্মসূচির অধীনে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় ইসলামাবাদের কূটনৈতিক অবস্থানও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে দেশটি।


অনুমোদন মিললে এই তহবিল পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে, রুপির ওপর চাপ কমাতে এবং বহুপাক্ষিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসে সহায়ক হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানান, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।


পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বৈঠকে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে সহজ প্রবেশাধিকার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং দেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহযোগিতা চেয়েছেন আওরঙ্গজেব। পাশাপাশি দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।


বর্তমানে পাকিস্তান ৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করছে দেশটি। ২০২৩ সালে সার্বভৌম ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে পাকিস্তান প্রথমে ৩ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ স্ট্যান্ডবাই ঋণ পায়। 


পরে আরও ৭ বিলিয়ন ডলারের ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি’ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদিত হয়।


তবুও পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনো মূলত আইএমএফের অর্থছাড়, দ্বিপক্ষীয় সহায়তা এবং চীন ও সৌদি আরবের মতো অংশীদারদের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।


দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।


উল্লেখ্য, মুদ্রা স্থিতিশীলতা সহায়তা সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’-এর মাধ্যমে দেওয়া বিশেষ আর্থিক ব্যবস্থা। এর আওতায় ডলার সহায়তা, মুদ্রা বিনিময় চুক্তি বা গ্যারান্টির মাধ্যমে কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করা হয়।


রয়টার্স জানিয়েছে, এ ধরনের সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী ডলার সোয়াপ লাইনের বাইরে একটি পৃথক ব্যবস্থা। ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনাকে দেওয়া সহায়তার আগে সর্বশেষ বড় ধরনের এমন প্যাকেজ ২০০২ সালে উরুগুয়েকে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মেক্সিকোর সঙ্গে ১৯৪০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা রয়েছে।


জাপান প্রথমবারের মতো 'কোকুশোবি' বা 'প্রচণ্ড গরম দিন' ঘোষণা করেছে

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

জাপানের মধ্যাঞ্চলের তিনটি শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। ফলে দেশটি প্রথমবারের মতো 'কোকুশোবি' বা 'প্রচণ্ড গরম দিন' ঘোষণা করেছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরোনো বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে চলতি বছরের এপ্রিলে নতুন এই সতর্কতা চালু করেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা।


গতকাল মঙ্গলবার জাপানের মধ্যাঞ্চলের তিন শহর তাজিমি, গুজো এবং তয়োদায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এই তীব্র তাপমাত্রা আগামী সপ্তাহেও অব্যাহত থাকবে- এমন ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাপানের আওহাওয়া সংস্থা।


তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সেই দিনগুলোকে জাপানে ‘কোকুশোবি’ বলা হয়। তীব্র গরমের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এই পরিভাষাটি চালু করা হয়েছিল।


বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহওয়া ঘন ঘন দেখা দিতে থাকার মধ্যে জাপানে প্রথমবারের মতো ‘অসহনীয় গরমের দিন’ ঘোষণা করা হল। গত বছর জাপানের ইসেসাকি নগরীতে এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখা গিয়েছিল।


জাপানে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের জন্য বিশেষ পরিভাষা আছে। যেমন: যেসব দিনে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যায় তাকে বলে মোসোবি বা ‘চরম গরম দিন’।


কিন্তু ‘কোকু’ শব্দটি আরও প্রচণ্ড বা প্রখর তাপ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। কিয়োদো নিউজের খবরে বলা হয়েছে, দেশের ৯১৪ টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রর প্রায় ৩০০ টিতেই মঙ্গলবার মোসোবি রেকর্ড করা হয়েছে।


তাছাড়া, কর্তৃপক্ষ দেশের ৪০ টিরও বেশি প্রশাসনিক এলাকায় হিটস্ট্রোক অ্যালার্ট জারি করেছে। লোকজনকে এয়ারকন্ডিশন ব্যবহার করা, যথেষ্ট পানি পান, লবণ খাওয়া এবং বাইরে কম যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বয়স্ক মানুষদেরকে শীতল পরিবেশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


জাপানের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানায়, টোকিও দমকল বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সিটি হাসপাতালে ৩ থেকে ১০৩ বছর বয়সের মোট ২৮৭ জনকে হিটস্ট্রোকের কারণে ভর্তি করা হয়েছে। এবছর এটিই হিটস্ট্রোকে হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড।


দমকল বিভাগও অ্যালার্ট জারি করে লোকজনকে তাপ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।


মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং বেশি মাত্রায় ঘটছে। গত বছর জাপান ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম পার করেছে।


আন্দোলনের চাপের মুখে মোদি

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:০১ এএম

পরীক্ষাসংক্রান্ত কেলেঙ্কারির পর জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ভারতের পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় এমপিদের সমর্থন পাওয়ার পর আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজধানী নয়াদিল্লির প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে আজ বুধবার (২২ জুলাই) অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে হাজার হাজার সমর্থকের বিশাল জমায়েত দেখা গেছে। 


শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার আর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। খবর এএফপির। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-ভিত্তিক আন্দোলন সিজেপির নেতৃত্বে ভারতজুড়ে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তার সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীরা রাজধানী ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। 


উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা যন্তর মন্তর ছাড়ব না। যে দেশে মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছিল, সরকারের সমালোচনা করাকে দেশদ্রোহিতা বলা হতো, আমরা এখন সেই দেশকে জাগিয়ে তুলেছি।"


বেশিরভাগ তরুণ ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন মঙ্গলবার দেশটির বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার পর মোদি সরকারের জন্য বড় সংকট তৈরি করে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। 


কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গত সোমবার (২০ জুলাই) আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো পুলিশি দমনপীড়নের জন্য সরকারের ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাহুল গান্ধীকে প্রতিবাদস্থল থেকে তুলে নিয়ে দুই ঘণ্টা আটকে রাখে পুলিশ। আজ বুধবার কালো পোশাক পরে পার্লামেন্টে উপস্থিত হয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন তিনি। 


অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, তরুণেরা যখন রাজপথে, তখন প্রধানমন্ত্রী নীরব ভূমিকা পালন করছেন।


এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত মে মাসে, যখন দেশটির প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত আদালতে শুনানির সময় তরুণদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা এবং ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ককরোচ জনতা পার্টির, যা এখন বেকারত্ব ও সরকারি অনিয়মের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারগ্যাস প্রয়োগ করে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে।


মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনলাইন মূল্যায়নে অনিয়মের কারণে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হলে এই অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতির উত্তাপ বুঝে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সংস্কার এবং আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। 


তবে দিল্লি ছাড়িয়ে এখন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে চাপের মুখে থাকা সরকার কীভাবে এই অচলাবস্থা নিরসন করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।