ছবি : সংগৃহীত
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে চড়ে তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন, সেটিতে আগের মডেলের মতো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই। উড়োজাহাজটি কীভাবে নতুন করে প্রস্তুত করা হয়েছে, সে বিষয়ে অবহিত একাধিক কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, এ বিমানে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ক্ষমতা যুক্ত করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে এ ক্ষমতাগুলো না থাকায় এটি নিয়ে বিদেশে ভ্রমণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঝুঁকির বিষয় গত বুধবার আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধে ট্রাম্প হঠাৎ করেই নতুন উড়োজাহাজটি রেখে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে তুরস্ক ছাড়ার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেন।
এ ঘটনার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি দাবির ওপর সবার নজর পড়েছে। সরকারি উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত আগের বিমানবহরটি বেশ পুরোনো হয়ে গেছে অভিযোগ তুলে কাতার থেকে পাওয়া ৭৪৭ বিমানটিকে দ্রুত রাষ্ট্রীয় ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য তিনি অনড় ছিলেন।
গত এক বছর ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাতারের দেওয়া এ উড়োজাহাজের সংস্কারকাজ চলেছে। এটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করার জন্য এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।
এ উড়োজাহাজের নিরাপত্তা শুধু প্রেসিডেন্টের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং তাঁর সঙ্গে থাকা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা, সিক্রেট সার্ভিসের সদস্য, সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্যও সমান জরুরি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এ নতুন উড়োজাহাজ যত দ্রুত সম্ভব চালু করার জন্য শুরু থেকেই জোর দিচ্ছিলেন। আন্তর্জাতিক সফরের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান যথেষ্ট আকর্ষণীয় বা জমকালো নয় বলে তিনি প্রায়ই অসন্তোষ প্রকাশ করতেন।
নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস নতুন উড়োজাহাজটির সক্ষমতা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নের জবাব না দিলেও এর নিরাপত্তাব্যবস্থার পক্ষে সাফাই গেয়েছে। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চ্যং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক আকাশযান। প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এতে উচ্চস্তরের নিরাপত্তা প্রোটোকল যুক্ত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমনটি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রু তাঁর ওপর নজর রাখছে।” আমরা সেসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি হাতিয়ার ব্যবহার করছি।’
কাতার থেকে পাওয়া এ উড়োজাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। বলেছে, প্রেসিডেন্টের বহরের অংশ হিসেবে স্থায়ীভাবে তৈরি হতে থাকা দুটি বোয়িং জেটের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি একটি ‘সেতু’ বা সাময়িক উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে উপহার হিসেবে পাওয়া উড়োজাহাজটি প্রেসিডেন্টকে বহনের জন্য প্রস্তুত, এমন ঘোষণা দেওয়ার সময় বিমানবাহিনী স্বীকার করেছিল, সাময়িক ব্যবহারের জন্য এই উড়োজাহাজে সাধারণত একটি এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সব সরঞ্জাম নেই।
গত ১৯ জুন এক বিবৃতিতে বিমানবাহিনী বলেছিল, ‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা বা মিশনের যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। তবে উড়োজাহাজটি যেন আগামী ৪০ বছর ভালোভাবে সেবা দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে গিয়ে কম ব্যবহৃত মিশন সেটের ক্ষেত্রে (কম প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধা) ছাড় দিতে হয়েছে।’
‘কম ব্যবহৃত মিশন সেট’ বলতে প্রকৃতপক্ষে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি বিমানবাহিনী। তবে উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাতার থেকে পাওয়া এ উড়োজাহাজে আগের মডেলের মতো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই।
ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশ সফরে ট্রাম্পের নতুন উড়োজাহাজ ব্যবহারে বিস্ময়
পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন, বিমানবাহিনীর এমন দুজন সাবেক কর্মকর্তা এ ঘটনায় গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, যেখানে নিরাপত্তাঝুঁকি অনেক বেশি, সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নতুন উড়োজাহাজে চড়ে বিদেশ সফরে গেছেন।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে যে দেশটিতে গিয়েছিলেন, সেই তুরস্কের সঙ্গে রয়েছে ইরানের সীমান্ত। আর এ সপ্তাহেই ইরানজুড়ে নতুন করে একাধিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সাবেক এ কর্মকর্তারা কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজটির সংস্কারকাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তবে তাঁরা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের গতি দেখেই বোঝা যায়, একটি পূর্ণাঙ্গ প্রেসিডেনশিয়াল উড়োজাহাজের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে যেসব নিরাপত্তাব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার, তার সব কটি করার মতো পর্যাপ্ত সময় এখানে পাওয়া যায়নি।
বিমানবাহিনীর সাবেক সেক্রেটারি ফ্রাঙ্ক কেন্ডাল বলেন, ‘সময়স্বল্পতার কারণে একটি সাধারণ এয়ার ফোর্স ওয়ানের সব ধরনের পরিবর্তন এখানে করা সম্ভব হয়নি। তাই এর নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ঘাটতি রয়ে গেছে।’
কেন্ডাল যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন বোয়িং যাতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা দুটি নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজ সরবরাহের কাজ দ্রুত শেষ করে, সেই চেষ্টা তিনি করেছেন।
চলমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে কেন্ডাল আরও বলেন, ‘বর্তমান ইরান পরিস্থিতির কারণে এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সত্যি বলতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুন এ উড়োজাহাজের ব্যবহার দেখে আমি বেশ অবাক হয়েছি।’
বাইডেন প্রশাসনের সময় এয়ার ফোর্স ওয়ান কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা বিমানবাহিনীর সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যান্ড্রু পি হান্টারও একই কথা বলেছেন। তাঁর মতে, ‘একটি বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজকে প্রকৃত অর্থেই এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে গড়ে তুলতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার প্রয়োজন হয়।’
ট্রাম্প তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার ঠিক আগের দিন, সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বিমানবাহিনীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে তাঁরা কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজটির সংস্কারকাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন এবং এতে প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
কানেটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস্টোফার এস মারফি এবং অন্য ১২ সিনেটরের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘ট্রাম্প নিজেই এ উড়োজাহাজের নজিরবিহীন বিলাসিতা নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁর এ বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আরাম ও পছন্দই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’
আঙ্কারায় উড়োজাহাজ বদলের নেপথ্যে
পেন্টাগনের তিনজন সাবেক কর্মকর্তার মতে, এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো বিমানগুলোতে এমন একটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছিল, যা তাপ অনুসরণকারী ক্ষেপণাস্ত্রকে (হিট-সিকিং মিসাইল) ধ্বংস করতে পারত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য নির্মাণাধীন বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজগুলোতেও এ ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিরাপত্তা প্রোটোকলের বর্ণনা দিতে গিয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের ডানার নিচে ও লেজে এ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ বাইরে থেকে দেখা যায়। তবে কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজের ছবিতে এমন কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
এয়ার ফোর্স ওয়ানের ইতিহাসে এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ব্যবহার খুব একটা না হলেও, উড়োজাহাজটির নিরাপত্তার জন্য এটিকে সব সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন বর্তমানে নির্মাণাধীন বোয়িং বিমানগুলোর যে বিবরণ প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে নতুন জেটগুলোতে একটি ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ ও ‘মিশন যোগাযোগব্যবস্থা’ থাকবে। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ‘রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধান নির্বাহী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের’ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য এ নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো থাকা জরুরি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে নিশানা বানিয়েছে ইরান। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পের ওপর প্রাণঘাতী হামলার আগেও তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়েছিল সিক্রেট সার্ভিস। ইরানের গুপ্তচরবৃত্তির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র হামলা আবার শুরু হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ব্রিফিং পাওয়া মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা বিশ্বাস করেন না যে এই মুহূর্তে ট্রাম্পকে হত্যা করার কোনো তাত্ক্ষণিক পরিকল্পনা ইরানের রয়েছে।
গোয়েন্দা মূল্যায়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের জীবন কেড়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা কতটা বড় উসকানি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা জবাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সে সম্পর্কে ইরানের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।
তা সত্ত্বেও আঙ্কারায় থাকাকালীন ইরানের এত কাছাকাছি অবস্থানে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে সিক্রেট সার্ভিস এতটাই চিন্তিত ছিল যে দেশ ছাড়ার সময় তারা প্রেসিডেন্টকে উড়োজাহাজ পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। গত বুধবার নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম এই খবর প্রকাশ করে।
অবশ্য উড়োজাহাজ পরিবর্তনের এ ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প ভিন্ন একটি গল্প শুনিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি পুরোনো উড়োজাহাজে ফিরছেন যাতে নতুন জেটটি আগেভাগে রওনা হতে পারে এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে যাত্রাবিরতি দিয়ে সেনাদের কাছে এর ‘চমৎকার’ রূপ প্রদর্শন করতে পারে।
প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত সামরিক বিমানসংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত থাকা হোয়াইট হাউসের সাবেক একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ভ্রমণের সময় যখনই নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠে, তখনই হোয়াইট হাউসের কর্মী, সামরিক উপদেষ্টা ও সিক্রেট সার্ভিসের মধ্যে প্রায়ই একধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়।
তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা যখনই কোনো পরিবর্তনের দাবি জানান, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সাধারণত তাঁদের সিদ্ধান্ত মেনে নেন, যা সম্ভাব্য হুমকি প্রশমিত করতে সহায়তা করে।
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম আরও বড় ব্যবধানে এগিয়েছে। ভলিউম ও পোশাকের ইউনিটপ্রতি মূল্য দুই দিক থেকেই এগিয়ে যাচ্ছে ভিয়েতনাম। কয়েক বছর ধরেই ক্রমে এ ব্যবধানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি এখন বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ। তৈরি পোশাক দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে এ পণ্য থেকে।
চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম সাত মাস, অর্থাৎ গত জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে সাড়ে ৬ শতাংশ। ভিয়েতনামের কমেছে মাত্র ১ শতাংশ। বাংলাদেশের রপ্তানি কমে ৪৬৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৯৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ, সাত মাসের ব্যবধানে প্রধান বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩২ কোটি ডলার।
অন্যদিকে জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি কম হয়েছে মাত্র ১১ কোটি ডলার। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৩৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে দেশটি। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯৪৬ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম। বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
অটেক্সার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনের অবস্থান তৃতীয় প্রধান রপ্তানিকারক দেশের। গত আলোচ্য সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪৫৬ কোটি ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬৯২ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। আলোচ্য সময়ে দেশটির রপ্তানি বেড়েছে ৩ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ২৭৪ কোটি ডলারের পোশাক, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৬৭ কোটি ডলার। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কম্বোডিয়া। রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ২৬২ কোটি ডলারের পোশাক, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৩৭ কোটি ডলার।
বছরের প্রথম সাত মাসে সারাবিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ৯ শতাংশের মতো। মোট চার হাজার ১৮৩ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে দেশটি। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল চার হাজার ৫৮০ কোটি ডলার। অটেক্সার তথ্য উপাত্ত বলছে, সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের দর ইউনিটপ্রতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের পোশাকের দর কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ভিয়েতনামের পোশাকের কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। চীনা পোশাকের কমেছে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। কেবল মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের পোশাকের ইউনিটপ্রতি দর বেড়েছে ১৪ ও ৬ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে ভারতের অবস্থান ষষ্ঠ। সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৬ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ২৪৫ কোটি ডলারের পোশাক। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৩০ কোটি ডলার।
শেখ হাসিনা ও শেখ সেলিম
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
তার মতে, শেখ সেলিম এখন আওয়ামী লীগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য। তাই শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিমই দলীয় সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে নিজের দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
এ সময় দেশে ফেরার আগ্রহ রয়েছে বলে জানান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তবে দেশে ফিরলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে তার। শেখ হাসিনার দাবি, দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেও তাকে হত্যা করা হতে পারে।
তার দেশে ফেরার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, প্রত্যেকেরই জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই তিনি দেশে ফেরার নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চান না।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা।
তার মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। কোনো সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ভিডিওবার্তায় কথা বলছেন মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বৈধ কাজের ভিসাহীন কর্মীদের দ্রুত দেশে ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দেশটিতে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযানের মধ্যেই হাইকমিশন বলেছে, সরকারি সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রেপ্তার এড়িয়ে বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরে যেতে হবে। স্থানীয় সময় রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অনিয়মিত বা বৈধ নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদের নিজ দেশে ফেরার এ আহ্বান জানানো হয়।
ভিডিও বার্তায় কথা বলেন বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ার প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আপনারা হয়তো জানেন, অনিয়মিত বা ডকুমেন্টবিহীন বিদেশি অভিবাসীদের জন্য বর্তমানে মালয়েশিয়ার সরকারের মাইগ্রেশন বিভাগের একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু রয়েছে, যার নাম- মাইগ্র্যান্ট REPATRIATION PROGRAMME 2 তথা BRM 2.0।
এই কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বা ডকুমেন্টহীন বিদেশি নাগরিক বা কর্মীরা আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা এই কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে চান তাদের সহজ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রথমত বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। যাদের বৈধ পাসপোর্ট নেই বা পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে তারা বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে একটি ট্রাভেল পারমিট বা টিপি নেবেন।
এরপর দেশে ফেরার জন্য বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। মালয়েশিয়ার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, টিকিটের যাত্রার তারিখ ইমিগ্রেশনে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কমপক্ষে পাঁচ দিন পর এবং ১৪ দিনের মধ্যে হতে হবে।
আবেদনকারীকে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। কোনো প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে না।
আবেদনের সময় সঙ্গে রাখতে হবে মূল পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার কপি, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন উভয় পাসপোর্ট, বাংলাদেশে ফেরার বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি ও প্রযোজ্য জরিমানা ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফি ও শর্তাবলি ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নিতে হবে।
তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মনে রাখবেন, BRM 2.0-এর আবেদন করতে কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন। নিজের আবেদন নিজেই করুন এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।’
প্রেস সচিব আরও বলেন, ভাই ও বোনেরা, আপনারা যদি এই কর্মসূচির আওতায় আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে দেশে ফিরতে চান, তাহলে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নিন।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় শিক্ষার্থীদের একটি হোস্টেল ভবন ধসে পড়ে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন আরও ১৫ থেকে ২০ জন। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত ছয়তলা ওই ভবনটি ধসে পড়ে। বেসমেন্ট ও ওপরের দিকে পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবনটি মূলত শিক্ষার্থীদের পেয়িং গেস্ট (পিজি) হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস)-এ নিয়ে আসার পর চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং গুরুতর আহত অপর এক শিক্ষার্থী পরে মারা যান।
চিকিৎসার জন্য আরও তিন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজনের হাত ও পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, আর অন্যজন সামান্য আঘাত পেয়েছেন যাকে পর্যবেক্ষণের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আনুমানিক ১৫-২০ জনের সন্ধানে কর্তৃপক্ষের একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধার অভিযান রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেসমেন্ট এবং ওপরের দিকে পাঁচটি তলা বিশিষ্ট ওই ভবনটি পেয়িং গেস্ট (পিজি) থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। দুপুর দেড়টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ার সময় বেসমেন্টে মেরামতের কাজ চলছিল।
এনডিআরএফ-এর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জীবিতদের সন্ধানে ৭০ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (এনডিআরএফ) দুটি দল এবং একটি ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। আটকে পড়া ব্যক্তিদের শ্বাস নিতে সাহায্য করার জন্য ধ্বংসস্তূপের নিচে অক্সিজেন সিলিন্ডারও নামানো হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হোস্টেলে থাকা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই কেরালা, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা এবং তারা কাছের কলেজগুলোতে পড়াশোনা করতেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং ভবন ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করছে।
পান সারাহ খলিফা
মাদকদ্রব্য তৈরি ও পাচার সংশ্লিষ্ট মামলায় মিসরের একটি আদালত দেশটির সুপরিচিত এক নারী টেলিভিশন উপস্থাপকসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। গতকাল শনিবার দেশটির সরকারি গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ওই উপস্থাপকের নাম সারাহ খলিফা, বয়স ৩৯ বছর। তিনি ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা ও অপরাধ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো।
সরকার-সংশ্লিষ্ট পত্রিকা আল-আহরাম জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ সংগ্রহ এবং সেগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠন এবং লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখা ও বহন করার অভিযোগে কায়রোর একটি আদালত খলিফা ও অপর ১১ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন।
রায় ঘোষণার আগে আদালত মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির কাছে ফতোয়া (ধর্মীয় মতামত) জানতে চেয়েছিলেন। মৃত্যুদণ্ডের মামলায় মিসরের আইনে এটি একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।
টিভি উপস্থাপক সারাহ খলিফার একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিকও রয়েছে। পাশাপাশি, তিনি এমন একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিক, যা বিভিন্ন পার্টি ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আখবার এল-ইয়োম পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে পাচারের উদ্দেশ্যে সিনথেটিক মাদক তৈরি করা এবং বিদেশ থেকে মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করেছে। এ ছাড়া, মাদক তৈরির পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্য একটি মামলায় আদালত সারাহ ও অন্য আসামিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ওই মামলায় এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ ছিল।
মিসরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ধর্ষণসহ কয়েক ধরনের অপরাধ এবং মাদক পাচারের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
মিসরীয় কমিশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মিসরে ৫৪১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রকাশিত ভিডিওতে ওমান উপসাগরে ইরানের তেল ট্যাংকারে মার্কিন বাহিনীর হামলার দৃশ্য
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আঞ্চলিক জলসীমায় দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর মার্কিন বাহিনী তিনটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
তারা জানিয়েছে, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী এবং একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইরানের একাধিক হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং কোনো মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হননি।
এর প্রতিক্রিয়ায়, মার্কিন বাহিনী ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি ডাউনি এবং জাস্কের কাছে এম/টি স্টার্ক ১ নামের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ দুটিকে ‘স্থায়ীভাবে অচল’ করে দিয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন বাহিনী গালফ অব ওমানের কাছে খালি থাকা এম/টি কায়লো, যা নোক্সেন নামেও পরিচিত, সেটিকেও ধ্বংস করেছে। জাহাজটির ক্রুদের জাহাজ ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়ার পর এটি করা হয়। ট্যাংকারটিকে অচল করে দেয়ার জন্য একাধিক স্থানে আঘাত করা হয়েছিল বলেও জানানো হয়েছে।
সেন্টকমের বিবৃতির সঙ্গে প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, জাহাজগুলোতে একের পর এক প্রজেক্টাইল আঘাত হানছে, এরপর বড় বড় আগুনের গোলা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই তিনটি জাহাজ একটি বহু বিলিয়ন ডলারের নেটওয়ার্কের অংশ, যা আইআরজিসি এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের জন্য রাজস্ব আয় করতে ব্যবহৃত হয়।