নিজেকে স্বৈরশাসক বললেন ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৭:১৯ এএম

নিজেকে স্বৈরশাসকের সঙ্গে তুলে করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) ভাষণ দেওয়ার পর এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেছে তিনি।


ট্রাম্প বলেন, আমরা একটি ভালো ভাষণ দিয়েছি এবং খুব ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। সাধারণত তারা বলে যে আমি একজন ভয়াবহ একনায়ক ধরনের মানুষ, হ্যাঁ আমি একজন স্বৈরশাসক। কিন্তু মাঝে মাঝে আপনাদের একজন একনায়কের প্রয়োজন হয়!


ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন তিনি গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে কানাডা ও ইউরোপের দেশগুলোর ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন। 


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন যে, তার দেওয়া বক্তব্যগুলো রক্ষণশীল বা উদারপন্থী কোনো আদর্শের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তা কেবল ‘সাধারণ জ্ঞান’ বা কমন সেন্সের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অবশ্য ট্রাম্প এবারই প্রথম নিজেকে একনায়কের সাথে তুলনা করলেন তা নয়। 


এর আগে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ওয়াশিংটনে ফেডারেল দমন-পীড়ন জোরদার এবং জাতীয় পতাকা পোড়ানো ব্যক্তিদের বিচারের নির্দেশ দেওয়ার সময় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অনেক আমেরিকানই হয়তো একজন একনায়ককে পছন্দ করবেন।


সে সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, অনেকেই বলছে যে আমরা হয়তো একজন একনায়ককেই পছন্দ করি। তবে আমি একনায়ক হতে পছন্দ করি না। আমি কেবল অসাধারণ সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন একজন বুদ্ধিমান মানুষ।


ট্রাম্পের এই একনায়কসুলভ আচরণের প্রতিফলন দেখা গেছে বিশ্বের অন্যান্য স্বৈরশাসকদের প্রতি তার বিভিন্ন সময়ে করা প্রশংসার মাধ্যমে। তিনি বারবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘খুবই বুদ্ধিমান’ এবং ‘শক্তিশালী নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমনকি ২০২২ সালে ইউক্রেনে পুতিনের আক্রমণকেও তিনি ‘চমৎকার’ বলে প্রশংসা করেছিলেন।


তবে কয়েক সপ্তাহের তীব্র উত্তেজনার পর ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে তার অনড় অবস্থান থেকে কিছুটা পিছিয়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড দখলে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবেন না এবং এর বিরোধিতাকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকেও আপাতত সরে এসেছেন। 


এর বদলে আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি নিয়ে একটি কাঠামোগত চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।  ট্রাম্পের এই হঠাৎ সুর নরম করায় আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, তার ‘একনায়ক’ সুলভ মন্তব্য এবং অনিশ্চিত পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ইউরোপীয় ও কানাডীয় নেতাদের মধ্যে এখনো গভীর সংশয় রয়ে গেছে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক। 


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে। 


গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।


মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।


রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।


এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।


এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।


অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।  


সূত্র: দ্য রিপাবলিক



রাভনীত সিং বিট্টু

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’


পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত তার ভিডিও দেখার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।  শুক্রবার (২৪ জুলাই) মধ্যরাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, তার বক্তব্যে যেভাবে শিক্ষার্থী ও তরুণরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, তাতে তিনি আনন্দিত।


ওই ভিডিওবার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, ধন্যবাদ। গতরাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা আমার ভিডিওটি দেখে যেভাবে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন যেন এভাবেই থাকে, আর আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সক্রিয় হয়ে উঠুক।’


ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ। ‘


কড়া আইন আনার ঘোষণা


এর একদিন আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষায়


অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এই উদ্যোগের কথা জানান।


বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাস করার চেষ্টা করা হবে।


প্রশ্নফাঁস নিয়ে যা বলেছিলেন মোদি


এর আগে বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের।’


তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং ১৯ জুলাই তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।


এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৪৪ এএম

সৌদি আরব বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে অভিযোগ তুলে এর প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবিও করেছে তারা। হুথিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলা এবং নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর শুক্রবার (২৪ জুলাই) ইয়েমেনের হুদায়দাহ শহরের সামরিক ঘাঁটি এবং কামারান দ্বীপে বিমান হামলা চালায় সৌদি আরব।


সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছিল এমন হুথি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তারা চূড়ান্ত ও জোরালো জবাব দিয়েছেন।


তিনি দাবি করেন, এ সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে।


এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ক্রমেই আরও আন্তরিক হচ্ছে। এ কারণে ইরানের বিরুদ্ধে এখনই বড় ধরনের কোনো সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত তিনি নেননি।


ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চীন ও রাশিয়া ইরানকে অস্ত্র বা গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।


এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ায় অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের নিরাপদে এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে।


অন্যদিকে ওমান উপসাগরে মার্কিন অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম। একই সময়ে ইরাকের এরবিল, কুয়েতের উদাইরি এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানি বাহিনী ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো।


সূত্র: আল জাজিরা


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ এএম

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের মধ্যে সরকারের সঙ্গে বৈঠকেও নিজেদের প্রধান দাবি থেকে সরে আসেনি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ‘আলোচনার অযোগ্য’ এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।


শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু। সরকারের পক্ষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অংশ নেন। সিজেপির প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আরেক তরুণ প্রতিনিধি।


বৈঠক শেষে সৌরভ দাস বলেন, তারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে কোনো আপস হবে না।


তিনি আরও জানান, আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছে।


সিজেপির এক প্রতিনিধি বলেন, সরকার মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া তারা কিছু মেনে নেবেন না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে বৈঠক শেষে জে পি নাড্ডা জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে শনিবার আবারও আলোচনা হবে।


দ্য হিন্দু বলছে, এটি সিজেপি ও সরকারের মধ্যে তৃতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক।


গত ২০ জুলাই দিল্লিতে পার্লামেন্টমুখী মিছিলে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) পেলেট গান ব্যবহার করেছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) জানিয়েছে, তারা এ-সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন যাচাই করছে।


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিলেও সিজেপির অবস্থান, পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় সরকারের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হওয়া উচিত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করা।


এদিকে সরকারের আশ্বাস পাওয়ার পর শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক তার ২৬ দিনের অনশন শেষ করলেও সিজেপি জানিয়েছে, তাদের আন্দোলন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।


হরমুজ প্রণালি

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৫৯ এএম

যুদ্ধের পরিণতি অনেক সময় তার শুরুর লক্ষ্য থেকে ভিন্ন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়। ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। 


শুরুতে এই যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল কখনও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, কখনও আবার ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। কিন্তু প্রায় ছয় মাস পর যুদ্ধটি ভিন্ন এক রূপ নিয়েছে। এর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ।


বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এখন দেখিয়ে দিয়েছে, তাদের নির্ধারিত শর্তে চলাচল না করলে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে।


বর্তমান বাস্তবতায় মূল প্রশ্ন একটাই– হরমুজ প্রণালি কি আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবেই থাকবে, নাকি কে কখন এবং কী শর্তে এই পথ ব্যবহার করবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা ইরানের হাতে চলে যাবে? যদি এমনটি ঘটে, তাহলে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার ট্রানজিট ফি আদায়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও ইরানের হাতে চলে যেতে পারে।


যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল ও জ্বালানি পণ্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ইরাক, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের প্রায় সব জ্বালানি রপ্তানির প্রধান পথ ছিল এটি। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি রপ্তানিরও গুরুত্বপূর্ণ রুট ছিল হরমুজ। এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ এমন একটি ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছে, যেখানে হরমুজ নিয়মিত বন্ধ থাকতে পারে অথবা বাণিজ্যিকভাবে অনির্ভরযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। তাই একক একটি প্রণালির ওপর নির্ভর না করে একাধিক বিকল্প রপ্তানি পথ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


সৌদি আরব তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগর উপকূল পর্যন্ত দেশের ভেতর দিয়ে একটি পূর্ব-পশ্চিম (ইস্ট-ওয়েস্ট) পাইপলাইন নির্মাণে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। সাম্প্রতিক সংকটের সময় এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হচ্ছে। সৌদি আরব ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ পাইপলাইনটির সক্ষমতা আরও ২০ লাখ ব্যারেল বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।


হরমুজের দক্ষিণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বন্দর ও পাইপলাইন রয়েছে, যার মাধ্যমে বর্তমানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। দেশটি ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এই সক্ষমতা দ্বিগুণ করে ৩৬ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার জন্য সম্প্রসারণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।


গত সপ্তাহে ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী হোয়াইট হাউস সফর করেন। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। সিরিয়ার সঙ্গে সমন্বয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাইপলাইন পুনরায় চালু করা এবং নতুন পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে ইরাক ও কুয়েতের তেল ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে।


ইরাকের পরিকল্পনার মধ্যে কিরকুক থেকে তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর জেইহান পর্যন্ত বিদ্যমান পাইপলাইনটির সংস্কারও রয়েছে। জর্ডানে নতুন একটি তেল পাইপলাইন নির্মাণ পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে ইরাক সরকার। এই পাইপলাইন বসরা থেকে পশ্চিম ইরাকের হাদিথা পর্যন্ত যাবে। সেখান থেকে একটি শাখা লাইন জর্ডানের আকাবা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর পর লোহিত সাগর হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি করা হবে।


বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদ্যমান এবং নির্মাণাধীন বিকল্প রুটগুলো ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ হরমুজ দিয়ে সাধারণত যে পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, তার প্রায় ৬০ শতাংশ বহন করতে সক্ষম হবে।