জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষের দিকে। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এখনও প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করলেও দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদে এই নির্বাচন গোপন ব্যালটে হওয়ার কথা ছিল। তবে বিদ্যমান আইনে নির্বাচন প্রকাশ্যে হওয়ার কথা বলা আছে।
প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মধ্যে যৌথ সভা হয়। বৈঠক শেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি। সুতরাং কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিল হবে। ভোট হবে প্রকাশ্য ব্যালটে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ২০ আগস্ট বিরতিহীনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ ভোট হবে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ডেকেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ২৭ আগস্ট এ অধিবেশন বসবে।
নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন এমপিরা
ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ সচিবালয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। সভায় ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের স্থান, সময় ও ভোটের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন। সহায়ক কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন।
আখতার আহমেদ জানান, ব্যালট পেপারে ভোটদাতার ক্রমিক নম্বর, নাম, বিভক্তি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। ব্যালটের নির্ধারিত অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য যাঁকে ভোট দিতে চান, তাঁর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। ভোট দেওয়ার পর সংসদ সদস্যরা তিনটি ব্যালট বাক্সের যে কোনো একটিতে ব্যালট পেপার জমা দিতে পারবেন। ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কোনো সংসদ সদস্য অনিবার্য কারণে দেরিতে উপস্থিত হলে তিনি যাতে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, সে জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অব্যাহত রাখা হবে।
অধিবেশন কক্ষেই ব্যালট পেপার গণনা
ইসি সচিব বলেন, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর অধিবেশন কক্ষেই ব্যালট পেপার গণনা করা হবে। গণনার জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। মোট ব্যালটের সংখ্যা ৩৪৯টি। গণনা শেষে কতটি ব্যালট বৈধ এবং প্রার্থীরা কত ভোট পেয়েছেন, তা নির্ধারণ করা হবে। গণনা শেষে নির্বাচন কর্মকর্তা প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এসে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
ইসি সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে। তাদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সংসদ সচিবালয় থেকেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহায়ক কর্মকর্তা দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের কমিশনাররা উপস্থিত থাকতে চাইলে তাদের নামও সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো সংসদ সদস্য বিপক্ষ দলের প্রার্থীকে ভোট দিলে তা ফ্লোর ক্রসিং হবে কিনা– সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, এটা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটা রাজনৈতিক প্রশ্ন, আপনি রাজনৈতিক নেতাদের কাছে করবেন।
ভোট গণনা থেকে ফলাফল ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে।
তিনি বলেন, (ভারপ্রাপ্ত) রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং (ভারপ্রাপ্ত) স্পিকারের ভোট দেওয়ার সময়টি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর ভোট শেষের পর গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল হওয়া পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।
ঢাকায় লোডশেডিং শুরু
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট চলছে। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈরী আবহাওয়ায় সামিটের টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমেছে।
জ্বালানির এই সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে না পারায় এক সপ্তাহ ধরে ঢাকার বাইরে তীব্র লোডশেডিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতির চাপে এখন ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মজুত যাতে ফুরিয়ে না যায়, সে জন্য গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমানো হয়। মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হচ্ছিল। আজ বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাহত হয়। যানবাহনেও সিএনজি পেতে দীর্ঘ সারি পড়ে যায় ফিলিং স্টেশনে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে। প্রতিটি বয়লারের সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে কাজ চলছে। এটি চালু করার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। এতে ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ থাকবে এক্সিলারেটের। এটি কবে করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনো নির্দিষ্ট করে কোনো সময় ঠিক করা হয়নি।
সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধের পর শুরুর দিকে দিনে ৫৬ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করেছে সামিট। এরপর সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। গত সোমবার এলএনজি নিয়ে নতুন একটি জাহাজ আসে বঙ্গোপসাগরে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন জাহাজ থেকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করা যায়নি। তাই সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে পেট্রোবাংলার নির্দেশে সরবরাহ কমিয়ে দেয় সামিট।
শনিবার বাড়তে পারে গ্যাস সরবরাহ
দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
এখন এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ৩০ কোটি ঘনফুটের কম। এতে গ্যাসের মোট সরবরাহ নেমে এসেছে ১৯৩ কোটি ঘনফুটে। গতকালও এটি ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট।
এতে গ্যাস সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ সংস্থা। বৃহত্তম গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাসের দিনে চাহিদা ১৯০ থেকে ২০০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে তারা সরবরাহ পায় ১৫৫ কোটি ঘনফুট। এলএনজি সরবরাহ কমার পর এটি ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। গত দুই দিন ১০০ কোটি ঘনফুট করে পাচ্ছিল। আজ সন্ধ্যার পর থেকে এটি আরও কমতে পারে।
খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। প্রকৃতির ওপর ভরসা করতে হচ্ছে সরকারকে। আজ দিনভর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেছে। এতে কমেছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। এ ছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, কাল রাতের মধ্যে সমুদ্র স্বাভাবিক হতে পারে। এটি ঠিক থাকলে শনিবার থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারবে সামিট।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ রাতে বলেন, আগামীকাল রাতে আবহাওয়ার উন্নতি হলে শনিবার ভোরে জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে শনিবার দুপুরের পর থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে সামিট। শুক্র-শনি ছুটির দিনে বিদ্যুৎ-জ্বালানির চাহিদা কিছুটা কম থাকায় মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কম হতে পারে।
ঢাকায় ১ ঘণ্টা করে লোডশেডিং
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশের সব বিপণিবিতান, মার্কেট ও দোকানপাট খোলার সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন নিয়মে বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্ত গতকাল বুধবার থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, সংকট সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন বিদ্যুৎ খাত বেশি সমস্যায়। দেশে মানুষের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ আছে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ যাতে না কমে, পেট্রোবাংলাকে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই শিল্পে কমেছে গ্যাসের সরবরাহ। বাসাবাড়িতেও রান্নার চুলা জ্বালাতে সমস্যা হতে পারে।
তবে গ্রামের মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমাতে ঢাকাতেও লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গ্রামের মানুষকে ভোগান্তি থেকে কিছুটা পরিত্রাণ দিতেই ঢাকাতে সহনীয় লোডশেডিং করা হচ্ছে। সব ঠিকঠাক থাকলে রোববার থেকে বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির বড় রকমের উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকো। এ সংস্থা দুটির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গতকাল বুধবার রাত থেকে ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বুধবার রাত ১১টা থেকে এটি শুরু হয়। এতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দেখা দেয়।
গতকাল মধ্যরাতে পান্থপথ, যাত্রাবাড়ী, রাজাবাজার, লালমাটিয়া, মণিপুরি পাড়াসহ বেশি কিছু এলাকা থেকে লোডশেডিংয়ের অভিযোগ করেন গ্রাহকেরা। কেউ কেউ বলেছেন, একাধিকবার লোডশেডিং হয়েছে তাঁর এলাকায়।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিপিডিসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৫০ মেগাওয়াট, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট ও ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হবে। আর বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং করা হবে না। কোনো এলাকায় একবারের বেশি লোডশেডিং হবে না। তার মানে, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার একজন গ্রাহক মাত্র ১ ঘণ্টা লোডশেডিং পাবেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) ত্রুটি সারাতে কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি বলেন, ‘এই সংকটের সময় আসলে আমার কিছু করার নেই এখন। এফএসআরইউ ছাড়া গ্যাস নামাতে পারব না। এখন শুধু দিনগোনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই, ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন এফএসআরইউতে, এছাড়া আমার কিছু করার নেই।’
আজ বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু কিছু জিনিস তো বুঝতে হবে, এটা আমাদের নিজের হাতের মধ্যে নেই। এখন এফএসআরইউ খারাপ হয়ে গেছে, আমি তো জোরজবরদস্তি করে বলতে পারব না যে সারিয়ে দাও। ইঞ্জিনিয়াররা যেভাবে আমাদেরকে বলবে, সেভাবেই কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, মেরামতের জন্য বিদেশ থেকে তার (সরঞ্জাম) আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা সাইটে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এফএসআরইউ মেরামত করার মূল দায়িত্ব আমেরিকান কোম্পানির, যারা এর মালিক। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন।
শিগগিরই এর সুফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে এফএসআরইউ খারাপ হলেও জ্বালানি কেনা বন্ধ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গতকালও চারটি কার্গো কেনা হয়েছে। এফএসআরইউ সচল হওয়ার পর কার্গোগুলো আসার সঙ্গে সঙ্গে যদি আমরা আনলোড করতে পারি, তাহলে সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।’
এর পাশাপাশি কম লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে শিল্পকারখানাগুলোয় যেন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়েও সরকার ব্যবস্থাপনা করার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী।
এর মধ্যে একটির কার্যাদেশ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি দুটিরও অর্ডার দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের সব এফএসআরইউ চট্টগ্রামের দিকে। তাই খুলনার দিকে নতুন টার্মিনাল বসাতে হবে। পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টের জায়গাগুলো নিয়ে ইতিমধ্যে সমীক্ষা চলছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি বড় দল এসেছে, যারা এফএসআরইউতে বিনিয়োগ করতে চায়। তারা আগ্রহ প্রকাশ করলে দ্রুত চিঠি দিতে বলেছি, যাতে আমরা তাদের কাজ দিতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্যাস আমদানি করতেই হবে। তবে আমদানির পর তা সাধারণ মানুষের কাছে ঠিকমতো পৌঁছে দিতে শুধু এফএসআরইউ বসালেই হবে না, পাইপলাইনের সীমাবদ্ধতাও দূর করতে হবে। চট্টগ্রাম থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত গ্যাস লাইনের ঘাটতি থাকায় নতুন পাইপলাইন করারও পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া ভোলা থেকে গ্যাস এনে ব্যবহারের বিষয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর অনুসন্ধান না করে শুধু আমদানির ওপর নির্ভর করে দেশটাকে এই জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমদানির জন্য যদি অবকাঠামো ঠিকমতো করা হতো, দুটি এফএসআরইউয়ের জায়গায় যদি চারটি বসানো হতো, তাহলে আজ আমাদের এই সমস্যায় পড়তে হতো না।’
বর্তমান সরকার বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে দ্রুত কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে এবং আরও দুটি রিগ (খননযন্ত্র) কেনার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান তিনি।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, এর আগে গুজব রটিয়ে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি করা হয়েছিল। তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘সিঙ্গেল বায়ার সিস্টেমের’ কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যাহত হতে পারে বলে তিনি কিছু শতাংশ বেসরকারি খাতে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু গুজব ছড়ানো হয় যে বসুন্ধরা গ্রুপকে পুরো তেলের ব্যবসা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘যেটা নিয়ে এখনো কোনো পলিসিই (নীতিমালা) হয়নি, সেটা নিয়ে এমন প্রচার। পলিসি হওয়ার আগেই অমুককে দিয়ে দিয়েছি, তমুককে দিয়ে দিয়েছি-এমন প্রচার হলে সরকারের তো নতুন কিছু করার উৎসাহ বা উদ্যোগই থাকবে না।’
যেকোনো নতুন নীতিমালা প্রণয়নের আগে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
শাহবাগ মোড়ে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম
ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত ও যন্ত্রচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র ব্যাটারি রিকশা তৈরি বন্ধে নির্ধারিত কিছু কারখানা ঠিক করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল (এআই সিগন্যাল) ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যেসব অটোরিকশা বা যন্ত্রচালিত রিকশাকে অনুমতি দেওয়া হবে, সেগুলো যত্রতত্র তৈরি করা যাবে না। ঢাকা শহরের জন্য নির্ধারিত কিছু কারখানা ঠিক করে দেওয়া হবে। এসব কারখানায় রিকশা উৎপাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কারিগরি সহায়তা দেবে। নির্ধারিত কারখানাগুলোর অনুমোদন ও কারিগরি বিষয়গুলো যাচাইয়ের পর উৎপাদনের সুযোগ দেওয়া হবে।
ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থায় নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। সময়সীমার মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সৌরশক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বিদ্যুতের ওপর চাপও কমবে। এ বিষয়ে সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনা রয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
ঢাকার যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমাতে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। সরকারকে সময় দিলে ধীরে ধীরে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগে শাহবাগ মোড়ে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে আরও ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এ ধরনের সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ
ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন ও ত্রুটির পর গ্যাস সংকটের জন্য ক্ষমা চেয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে ‘মোরাল সাপোর্ট’ চেয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি বলেছেন, শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে—এ বাস্তবতা তিনি বোঝেন। কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্যাংক ঋণের সুদ ও শ্রমিকের বেতন চালিয়ে যাওয়ার চাপের বিষয়টিও তিনি জানেন। বৃহস্পতিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “মিটিংয়ের শুরুতেই আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে আজকের যে সমস্যাটা, সে সমস্যাটার জন্য আমিসহ সবাই ভোগান্তির মধ্যে আছি।”
গভীর সমুদ্রে থাকা একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে আগুন লাগার পর গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়টি মন্ত্রী অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।
তার ভাষ্য, এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা সরকার “কল্পনাও” করেনি। টার্মিনালের পাশে থাকা আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যাওয়ায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দেশে থাকা দুটি এফএসআরইউর একটিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কমার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখন শুধু আমার দিন গোনা ছাড়া আর কিছু করার নাই। আর ওই যে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছে এফএসআরইউতে, এটা করা ছাড়া আমার কিছু নাই।”
সংকট সমাধানে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে দাবি করে তিনি বলেন, “এ সরকার জনগণের সরকার। জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে বলে আমরা এখানে এসে সরকার গঠন করতে পেরেছি।”
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার ‘দিনরাত’ কাজ করছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, “উই অল আর ভেরি সিরিয়াস।”
তবে এফএসআরইউ মেরামতের সময়সহ কিছু বিষয় ‘সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে তার ভাষ্য।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “এখন এফএসআরইউ খারাপ হয়ে গেছে। এখানে তো আমি জোরজবরদস্তি করে বলতে পারব না। ইঞ্জিনিয়াররা যেভাবে আমাদেরকে বলবে, সেভাবেই হবে।”
ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিট মেরামতের পর দুটি বয়লার সমন্বয় করতে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হবে বলে প্রকৌশলীরা সরকারকে জানিয়েছেন। ওই সময়ে গ্যাস সংকট আরও বাড়তে পারে বলে তথ্য দেন মন্ত্রী।
গ্যাসের ঘাটতি সামলাতে সরকার চার কার্গো এলএনজি কিনেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউ সচল হলে সেগুলো খালাস করে সরবরাহ বাড়ানো যাবে।
টার্মিনালের পুড়ে যাওয়া তার বিদেশ থেকে আনতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেগুলো আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কাস্টমসে দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আলোচনায় শিল্পোদ্যোক্তারা গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, বাড়তি জ্বালানি খরচ এবং ব্যাংকঋণের সুদের চাপের কথা তুলে ধরেন।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারীকরণ ও শিল্পায়নের শুরুর সময় তিনিও একজন শিল্পোদ্যোক্তা ছিলেন। তাই শিল্পের চাপ তার জানা আছে।
“আমি তো আপনাদেরই একজন। আপনাদের কষ্টটা আমার চেয়ে বেশি আর কে বোঝে? কারণ আমি জানি, আমরা যখন ইন্ডাস্ট্রি করছি, আমাদের এই ইন্টারেস্টের চাকা কীভাবে ঘুরছে।”
কারখানা বন্ধ থাকলেও যে সুদের হিসাব বন্ধ হয় না, সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সবার ছুটি আছে, কিন্তু ইন্টারেস্টের ছুটি নাই। ছুটির দিনেও ইন্টারেস্ট বাড়তে থাকে।”
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তিনবার শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সরকার শিল্পের সংকট কাটাতে পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।
“ইন্ডাস্ট্রি না চললে আমার ইকোনমিক গ্রোথ হবে কই থেকে? সুতরাং আমাদের জন্য শিল্পকে চালায়ে রাখা শিরোধার্য।”
শিল্প সচল রাখতে যা যা করা দরকার, সরকার তা করবে বলেও আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
বর্তমান সরকার যে পাঁচ বছরের জন্য এসেছে, সে কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “ইলেকশনে যদি জনগণ না নেয়, আমরা চলে যাব। এটা আমাদের অতীতে রেকর্ডও আছে।”
সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোর বড় দুর্বলতাগুলো কমিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে বলে তিনি জানান।
বক্তব্যের শেষ দিকে আবারও ক্ষমা চেয়ে মন্ত্রী বলেন, “এটা আমাদের ক্রিয়েট করার সমস্যা না। কিন্তু সরকার যখন দায়িত্ব নিয়েছি, দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের। সে দায়িত্ব অবহেলা করছি না। আমরা সবাই চেষ্টা করছি অতি দ্রুত যেন আপনাদের সমস্যার সমাধান করতে পারি।”
ছবি : সংগৃহীত
লালদীঘির পাড় জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হয়ে গেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের বিপুল এই অর্থের ‘ঘাটতি’ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত ১০ আগস্ট দায়ের করা মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় এ মামলা করেন। এতে কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন।
এজাহার অনুযায়ী, কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন। ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে।
পরবর্তী হিসাব-নিকাশ, ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। কামরুল হোসেন ঘাটতির বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় তিনি ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।
মামলার এজাহারে কামরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভল্টে টাকা জমা দেওয়ার সময় ১ হাজার টাকার বড় বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের ছোট নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। এতে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে ভল্টে টাকা রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম থাকতো।
জাফরুল্লাহ তানভীর দেখাশোনা করার শর্তে ওই অর্থ বিনিয়োগ করে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামের একটি গরুর খামারের কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে সেখানে ৫০ থেকে ৬০টি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে।
মামলার আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নয়। সে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করে। অথচ তাকে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমার ছেলের কাছে এত টাকা দেওয়ার কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণও দেখানো হয়নি। ৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে আমার স্ত্রীর মোবাইলে ব্যাংক থেকে ফোন করে বলা হয়, ছেলে লালদীঘি ব্যাংকে আটক আছে।
এর আগে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন অন্যদিনের মতো আমার ছেলেকে ফোন করে ব্যাংকে ডেকে নিয়ে যান’।
তিনি বলেন, রাতেই আমরা সাত-আটজন আত্মীয়স্বজন নিয়ে ব্যাংকে যাই। কিন্তু ব্যাংকের লোকজন আমাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। পরে কোতোয়ালী থানায় গিয়ে ওসিকে বিষয়টি জানাই। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাত ২টার দিকে আবার ব্যাংকে গেলে পুলিশ আমার ছেলেসহ কামরুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যায়। আমার ছেলে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করতো।
ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন মাঝেমধ্যে তাকে লাভে টাকা দিতেন এবং পরে লাভসহ নিয়ে নিতেন। কিন্তু ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আমার ছেলের কাছে দেওয়া হয়েছিল-এমন কোনো প্রমাণ আমাদের দেখানো হয়নি। ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি’।
চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, ভল্টে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি পাওয়া গেলে শুধু ক্যাশ ইনচার্জের দায় দেখেই বিষয়টি শেষ করা যাবে না। শাখা ব্যবস্থাপনার তদারকি ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।
ছবি : সংগৃহীত
ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি বলেছেন, পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে টার্মিনাল বসানোর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এ জন্য বিনিয়োগকারীও খোঁজা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে একটি এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে এভাবে আগুন লাগার বিষয়টি সরকার ‘কল্পনাও’ করেনি।
“এফএসআরওতে আগুন লেগেছে। লাগার পরে থেকে তো আমাদের এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে,” বলেন তিনি।
ওই ঘটনায় ক্ষতি আরও বড় হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, টার্মিনালের পাশে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ ছিল। আগুন লাগার পর সেটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া গেছে।
তিনি বলেন, দেশে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর একটিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়। অন্যটি চালু থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিট মেরামতের পর দুটি ইউনিট একসঙ্গে চালু করতে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হবে বলে প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।
ফলে ওই সময় গ্যাস সংকট আরও বাড়তে পারে জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “এখন শুধু আমার দিন গোনা ছাড়া আর কিছু নাই।”
তবে লোডশেডিং যাতে কম হয় এবং শিল্পে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন জ্বালানিমন্ত্রী।
গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে সরকার চার কার্গো এলএনজি কিনেছে বলে জানান মন্ত্রী। টার্মিনাল সচল হলে দ্রুত এসব কার্গো খালাস করে সরবরাহ বাড়ানোর আশা করছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সরকার একটি নতুন এফএসআরইউর অর্ডার দিয়েছে। আরও তিনটি টার্মিনাল স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
“পায়রা, তারপর মোংলা এবং হিরণ পয়েন্টের এই জায়গাগুলো আমরা স্টাডি করছি এবং ইনভেস্টরদেরকে আমরা ইনভাইট করছি।”
২০২৯ সালের মধ্যে এসব টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্য ধরার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন টার্মিনাল করলেই গ্যাস সরবরাহ বাড়বে না, সেজন্য সঞ্চালন লাইনও দরকার হবে।
চট্টগ্রাম থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত গ্যাস সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন এফএসআরইউ বসালেও বিদ্যমান পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ সীমিত।
এ জন্য সমুদ্রের নিচ দিয়ে নতুন পাইপলাইন করে বাখরাবাদ পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানেও জোর দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। বাপেক্সকে দিয়ে নতুন কূপ খনন শুরু করার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানির জন্য আরও দুটি রিগ কেনার অর্ডার দেওয়ার কথা তিনি বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ভোলার গ্যাস কনটেইনারে করে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেজন্য একটি বেসরকারি কোম্পানিকে ৩০টি কনটেইনার ট্রাকে গ্যাস পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে কনটেইনারে গ্যাস সরবরাহের প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে কনটেইনার সরবরাহ করতে হলে সেগুলো চীনে তৈরি করে আনতে হবে।
এই ব্যবস্থা চালু করা গেলে শিল্পে গ্যাসের চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
রাতেও বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা
অনুষ্ঠানে জ্বালানিমন্ত্রী দেশে বিদ্যুতের চাহিদার ‘ধরন’ বদলে যাওয়ার কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকত। এখন মধ্যরাতেও চাহিদা বেশি থাকে। আগের দিন রাত ১২টার দিকে দেশে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল জানিয়ে এর কারণ হিসেবে রাতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়ার প্রবণতার কথা বলেন মন্ত্রী।
এসব বাহনকে ‘গরিবের টেসলা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা রাতে চার্জে বসে। এসব চার্জিংয়ের বড় অংশ অবৈধ সংযোগে চলে।”
অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের বাধা ও হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।
ব্যবসায়ীদের ‘কষ্ট’
আলোচনায় শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, বাড়তি ডিজেল খরচ এবং ব্যাংকঋণের চাপের কথা তুলে ধরেন।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও একসময় শিল্পোদ্যোক্তা ছিলেন। তাই কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্যাংকঋণের সুদ, শ্রমিকের বেতন ও অন্যান্য খরচ চালিয়ে যাওয়ার চাপ তিনি বোঝেন।
“আমি তো আপনাদেরই একজন। আপনাদের কষ্টটা আমার চেয়ে বেশি কে বোঝে?”
কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্যাংকঋণের সুদ যে বন্ধ থাকে না এবং শ্রমিকের যে বেতন দিতে হয়, সে কথা স্বীকার করে ব্যবসায়ীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখান জ্বালানি মন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছেন। শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
মন্ত্রী বলেন, “ইন্ডাস্ট্রি যদি না চলে, তাহলে আমার ইকোনমির গ্রোথ হবে কই থেকে?”
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামী সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরবেন।
বেসরকারি তেল আমদানির নীতিমালা হয়নি
বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আলোচনা নিয়ে নানা প্রচারের কথাও মন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন।
তিনি বলেন, সরকার কোনো কোম্পানিকে তেল আমদানির ব্যবসা দিয়ে দেয়নি। এ বিষয়ে এখনও কোনো নীতিমালা হয়নি।
“পলিসি হওয়ার আগে অমুককে দিয়ে দিয়েছি, তমুককে দিয়ে দিয়েছি, এই যে প্রচার…।”
মন্ত্রী বলেন, সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই বেসরকারি খাতে তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বাজারজাতের নীতি করা হবে।