তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:৩৯ এএম

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক এক মাস পূর্ণ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে এক ধরনের স্থবিরতা বা শীতলতা ছিল, তাতেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় শেখ হাসিনার পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে সরকার ক্ষমতায় আসে, ভারতের চোখে সেটি ছিল একটি 'অনির্বাচিত' সরকার –দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া তাদের আর কোনো ম্যান্ডেট নেই, এমন দাবিও দিল্লির পক্ষ থেকে তখন একাধিকবার করা হয়েছে।


সেই যুক্তিতেই দিল্লি ঢাকার সঙ্গে ‘এনগেজমেন্ট’ কার্যত স্থগিত রেখেছিল। গুরুত্বপূর্ণ সব দ্বিপাক্ষিক আলোচনা থমকে গিয়েছিল, হাই-প্রোফাইল সফরগুলোও বন্ধ ছিল – এমন কী দুই দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের রাস্তাতেও হেঁটেছিল। সে সময় ভারতের ঘোষিত অবস্থান ছিল, আগে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসুক – আর সেটা যে দলেরই সরকার হোক না কেন, তাদের সঙ্গে 'ডিল' করতে দিল্লির কোনো আপত্তি নেই। এখন গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে যে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে তা আন্তর্জাতিক স্তরেও রীতিমতো গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে – এবং সেই ভোটে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি গরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।


১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে বিএনপি-র নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রথম যে বিশ্বনেতারা ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান, তাদের মধ্যে ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। শুধু তাই নয়, সে দিন বিকেলে তিনি টেলিফোনেও মি রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। দেড় বছরের একটা 'পজ' বা বিরতির অবসানে দিল্লি যে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আবার সহজ করে তুলতে চাইছে, সেই ইঙ্গিত সে দিনই পাওয়া গিয়েছিল। এমন কী দল হিসেবে বিএনপি-র সঙ্গে ভারতের একদা অস্বস্তিকর সম্পর্কও আপাতদৃষ্টিতে তাতে বাধা হয়নি। কিন্তু বরফ গলার মধ্যে দিয়ে যে নতুন করে যে সম্পর্কের যাত্রা শুরু, তা কি সত্যিই শেষমেশ প্রত্যাশিত পথে এগোবে?


ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে দু'পক্ষেরই বিপুল পরিমাণে 'স্টেক' বা স্বার্থ আছে তাতে যেমন কোনো সন্দেহ নেই, তেমনি দুটো দেশের রাজনীতিতেই অন্য দেশের গভীর ছায়াপাতও একটি বাস্তবতা। মানে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেমন 'ইন্ডিয়া ফ্যাক্টরে'র গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবে না, তেমনি ভারতের রাজনীতিতে – বিশেষ করে পূর্ব সীমান্তের রাজ্যগুলিতে – বাংলাদেশও বরাবরই একটি আলোচিত ও প্রাসঙ্গিক ইস্যু। ফলে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাস্তবতা – না কি অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাধ্যবাধকতা – কোন বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বেশি প্রভাব ফেলে সেটাও একটা দেখার বিষয় হবে অবধারিতভাবে। এই পটভূমিতে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে কোন পথে যেতে পারে, তা অবশ্যই কয়েকটি নির্দিষ্ট 'ইন্ডিকেটর' বা সূচক দিয়ে পরিমাপ করা যেতে পারে। পরবর্তী কয়েক মাসে এ রকমই পাঁচটি সূচক বা লক্ষণ কী কী হতে পারে, তা থাকছে এই প্রতিবেদনে।


ভিসা কার্যক্রম কি স্বাভাবিক হবে?


বাইরের যে দেশটি থেকে সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটক ভারতে আসতেন, বিলেত-আমেরিকাকে ছাপিয়ে টানা বেশ কয়েক বছর ধরে সেই স্থানটি ছিল বাংলাদেশের দখলে। কোভিড মহামারির ঠিক আগের বছরেও চিকিৎসা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য বা কেনাকেটা-সহ নানা কারণে প্রায় বিশ লক্ষ বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের অগাস্টে ভারত বাংলাদেশে তাদের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সেই পরিসংখ্যান হু হু করে কমে আসে।


বাংলাদেশে গত দেড় বছরে ভারত শুধুমাত্র কিছু মেডিকেল বা ইমার্জেন্সি ভিসাই ইস্যু করেছে, আর সেই সঙ্গে কিছু সংখ্যক 'ডাবল এন্ট্রি' ভিসা – ইউরোপগামী ও ওয়ার্ক পারমিট-প্রত্যাশী বহু বাংলাদেশি নাগরিকের ভারতে এসে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে ভিসার আবেদন করতে যেটির প্রয়োজন হয়। এই ধরনের ভিসার সংখ্যাও আগের তুলনায় ছিল একেবারেই কম। তবে গত এক মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত একাধিক ভারতীয় কূটনীতিক প্রকাশ্যেই বলেছেন, ভারত এবারে ধীরে ধীরে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পথে এগোবে – এবং পর্যটন ভিসা দেওয়াও শুরু করবে। সত্যিই যদি সেটা আগামী কিছুদিনের ভেতরে হয়, তাহলে বোঝা যাবে ভারতের তরফ থেকেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সহজ করার একটা তাগিদ দেখা যাচ্ছে।


তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোথায়?


যখন কোনো দেশের নতুন সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান দায়িত্ব নেন, তখন তিনি তার প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে কোন দেশটিকে বেছে নেন, সেটা ওই সরকারের পররাষ্ট্রনীতি বা কূটনীতির অগ্রাধিকার নিয়ে অবশ্যই একটা জোরালো বার্তা দেয়। বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফরে কোথায় যান, সেটাও ঠিক এই কারণেই দেখার বিষয় হবে। তিনি যদি প্রথম সফরে দিল্লিতে আসেন, তাহলে বোঝাই যাবে বিএনপি-র রাজনীতির সঙ্গে যে ভারত-বিরোধিতার তকমাটা এর আগে জুড়ে ছিল সেটা থেকে তার সরকার বেরোনোর চেষ্টা করছে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবশ্য দিল্লি না এসে প্রথম সফরে সৌদি আরব, বেজিং, ওয়াশিংটন বা এমন কী কাঠমান্ডু, কলম্বো বা ইসলামাবাদেও যেতে পারেন – আর তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেই পদক্ষেপ নিয়ে অবশ্যই কাটাছেঁড়া হবে। আবার এমনও হতে পারে, তিনি নিজে প্রথমেই ভারত সফরে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। প্রথম সারির বিশ্বনেতাদের মধ্যে নরেন্দ্র মোদীই যদি ঢাকায় নতুন সরকারের প্রথম অতিথি হন, সেটাও কম তাৎপর্যপূর্ণ হবে না। বস্তুত ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পরই নরেন্দ্র মোদী ও তারেক রহমানের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে, কিন্তু সেখানে ইতিমধ্যেই পারস্পরিক সফর নিয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা হয়েছে কি না আমাদের জানা নেই। তবে তারেক রহমান যদি সত্যিই ভারত সফরে আসেন, সেটা মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর্ব মেটার আগে নয় – দিল্লিতে কূটনৈতিক সূত্রে আপাতত এমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


বাংলাদেশ সফরে আসবে ভারতের ক্রিকেট দল?


গত বছরের (২০২৫) অগাস্টে তিনটি ওয়ান ডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক খেলতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল – যে সফর শেষ মুহুর্তে বাতিল করা হয়। বিবিসিআই (ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড) তখন বিসিবি বা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়েছিল, অনিবার্য কারণে এখন ভারতের পক্ষে বাংলাদেশে খেলতে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না – এই সফরটি বরং আগামী বছরে রিশিডিউল করা হোক।



বিসিসিআই যে নিজে থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়নি, বরং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ইশারাতেই সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল – এ কথাও ছিল 'ওপেন সিক্রেট'। অর্থাৎ সফর পিছোনোর কারণ ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক। এখন দিনকয়েক পরেই ভারতে শুরু হচ্ছে আইপিএল টুর্নামেন্টের মরশুম, ফলে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরে যেতে হলে আগামী জুনের আগে তা সম্ভব নয়।কিন্তু চলতি বছরে সেই প্রস্তাবিত 'রিশিডিউলড' সফরটি আদৌ হবে কি না, এবং ভারতীয় বোর্ড বাংলাদেশকে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না – সেটা এখনো পুরোপিুরি নিশ্চিত নয়। এর মাঝে ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে আরও অবনতি হয়েছে – ভারতীয় বোর্ড কলকাতা নাইট রাইডার্স স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বলার পর বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতেই অস্বীকার করেছে, যার কারণে শেষ পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই তাদের বাইরে থাকতে হয়েছে।


সেই তিক্ত ঘটনাপ্রবাহের জেরে ভারতীয় দলের পরবর্তী বাংলাদেশ সফর নিয়েও একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে ভারত যখন ২০২৬-এর জুন নাগাদ সফরটি 'রিশিডিউল' করার প্রস্তাব দিয়েছিল তখন তাদের ধারণা ছিল ওই সময়ের মধ্যে ঢাকায় একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসে যাবে এবং সফরের পরিবেশও অনেক অনুকূল থাকবে। সেই ধারণা ইতিমধ্যেই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে, এখন ভারত যদি তাদের কথা রাখে – তাতেও বোঝা যাবে দুই দেশের সম্পর্কের গ্রাফও ইতিবাচক দিকেই মোড় নিচ্ছে।


কী হবে কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোর


গত দেড় বছরের ওপর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। কলকাতা-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস, কলকাতা ও খুলনার মধ্যেকার বন্ধন এক্সপ্রেস বা কমলাপুর-নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে চলাচলকারী মিতালি এক্সপ্রেসের চাকাই রেললাইনে গড়ায়নি সেই ২০২৪-র জুলাই থেকে। আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবাও তখন থেকেই বন্ধ – যদিও অতি সম্প্রতি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত বাস চলাচল আবার খুব সীমিত আকারে শুরু হয়েছে। অথচ এই সংযোগগুলো দুই দেশের মানুষে মানুষে সম্পর্ক (পিপল টু পিপল কনট্যাক্ট) শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।


ভারত আর একটি যে কানেক্টিভিটি প্রকল্পের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে, সেটি হল আগরতলা ও আখাউড়ার মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপন। এই রেললাইনটুকু তৈরি হয়ে গেলে কলকাতা থেকে বাংলাদেশের ভূখন্ড দিয়ে সরাসরি আগরতলায় ট্রেনে চেপে যাওয়া যাবে মাত্র কয়েক ঘন্টাতেই – প্রায় চল্লিশ ঘন্টার জার্নি এক ধাক্কায় কমে আসবে মাত্র আট-দশ ঘন্টায়। ভারত এই কারণেই আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগকে তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য একটি 'গেমচেঞ্জার' হিসেবে দেখে থাকে। কিন্তু দিল্লির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটির কাজও থমকে আছে বহু মাস ধরে। অথচ সীমান্তে প্রকল্পের অতি সামান্য অংশের কাজই বাকি – বাকি কাজ ২০২৩/২০২৪ নাগাদই শেষ হয়ে গিয়েছিল। এখন তারেক রহমানের নতুন সরকারের আমলে এই 'সামান্য অসমাপ্ত' প্রকল্পটি শেষ হয় কি না, এবং হলে কত তাড়াতাড়ি হয় – সেটা অবশ্যই দেখার বিষয় হবে।


ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'কানেক্টিভিটি'-কে ভারত বরাবর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং এই খাতে বিপুল বিনিয়োগও করেছে, কারণ বিশেষ করে ভারতের জন্য এই সংযোগ নানা কারণে খুব প্রয়োজন। এখন সেই কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোর কী গতি হয় এবং দুই দেশের মধ্যে ট্রেন-বাস চলাচল আবার কবে শুরু হয় – সেটাও দুই সরকারের মধ্যে সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে স্পষ্ট একটা বার্তা দেবে।


কবে হবে গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন


ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে যে গঙ্গা জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার তিরিশ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের (২০২৬) ডিসেম্বরেই। এখন এই অতি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি কোন শর্তে নবায়ন হবে – আগের আকারেই সেটি বহাল থাকবে না কি দুই দেশই চুক্তির শর্তে পরিবর্তন চাইবে–সেই আলোচনাও কিন্তু থমকে আছে বহুদিন ধরে। এখন যেটা চলছে তা হল নেহাত টেকনিক্যাল আলোচনা ও দু'দেশের মধ্যে নিয়মমাফিক তথ্যের আদানপ্রদান। কিন্তু চুক্তির নবায়ন করতে হলে যে রাজনৈতিক পর্যায়ের অংশগ্রহণ দরকার, সেটি এখনও হয়ে ওঠেনি। অথচ দুই দেশেরই জানা আছে, সময়মতো চুক্তিটির নবায়ন না হলে গঙ্গার জল ভাগাভাগি নিয়ে বিরাট জটিলতার সৃষ্টি হবে।


এখন তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদী সরকারের মধ্যে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যদি সেই আলোচনা শুরু হয় (কারণ হাতে সময় মাত্রই কয়েক মাস), তাহলে সেটা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। বোঝা যাবে যে, একটি জটিল সমস্যার নিষ্পত্তিতে দুই সরকারের দিক থেকেই তাগিদ আছে এবং তারা একে অন্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এনগেজমেন্টগুলো করতে প্রস্তুত।


এদিকে ভারতের পার্লামেন্টে তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি-রা সম্প্রতি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে যে সব প্রস্তাব এনেছেন বা প্রশ্ন তুলেছেন, তা থেকে স্পষ্ট চুক্তি নবায়নের আলোচনায় তারাও অংশ হতে চায়।


পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনও একেবারে দোরগোড়ায়, রাজ্যের ক্ষমতায় যদি ভোটের পর তৃণমূল কংগ্রেসই থাকে তাহলে গঙ্গা চুক্তির আলোচনায় তাদের মতামত উপেক্ষা করা কেন্দ্রের পক্ষে কঠিন হবে। বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপি বা তৃণমূল কংগ্রেসের যে অবস্থান – পশ্চিমবঙ্গের ভোট মেটার আগে তাতে খুব একটা পরিবর্তন হবে না বলেই ধরে নেওয়া যায়।




নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। 


বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আজ সোমবার বিকালে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, “আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজটি আমরা তখনই সফলভাবে করতে পারব, যখন তোমরা আজকে যারা গ্যালারিতে বসে আছ এবং যারা খেলার মাঠে পুরস্কার পেয়েছ, তোমরা নিজেদেরকে আগামী দিনের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। এখন পড়ার সময় মন দিয়ে পড়তে হবে, একইভাবে মন দিয়ে খেলতে হবে।”


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা সঠিকভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের দিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাকিয়ে আছে, বাংলাদেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা যদি নিজেদের গড়ে তুলতে পারো, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এই কাজ আমরা হয়তো শুরু করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ গড়ার কাজ তোমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”




আমার দৃঢ় বিশ্বাস-আজ প্যান্ডেল ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশুর মধ্য থেকেই আগামী দিনের সফল ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে; যারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা শক্তভাবে নিজেদের আত্মগঠনে মনোযোগ দাও।


ছোট্ট শিশুদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদের সকলের কাছে আমি একটি সহযোগিতা চাই। এই দেশটা আমাদের সকলের। এই দেশের আলো, এই দেশের বাতাস, এই দেশের পরিবেশ আমরা সকলে মিলে যদি ঠিক রাখি, তাহলে একটি সুন্দর পরিবেশ গড়তে পারব। তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তোমার বাসার আশপাশে অনেকে বিভিন্ন রকম ময়লা, প্লাস্টিকের বোতল ফেলে যায়। কেউ এগুলো ফেলছে-সেটি পুকুর হোক, নদীনালা হোক বা বাসার আশপাশে; এখন থেকে যদি এরকম কোনো দৃশ্য তোমাদের চোখে পড়ে, প্লিজ! তোমরা তাকে বারণ করবে। দরকার হলে সেই ময়লাটি তোমরা তুলে নিয়ে গিয়ে যেখানে ময়লা ফেলার জায়গা, নির্দিষ্ট সেই জায়গায় ফেলবে। যাতে আমাদের পরিবেশ, আমাদের নদীর পানি, পুকুরের পানি পরিষ্কার থাকে। সেখানে মানুষ সুন্দরভাবে হাঁটাচলা করতে বা বসতে পারে।”


শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রতিবছর চেষ্টা করবে, তোমার বাড়ির আশপাশে হোক, স্কুলের আশপাশে হোক অথবা যেখানে তুমি সুবিধা মনে কর সেইখানে একটি করে গাছ লাগাতে হবে। গাছ যদি আমরা লাগাতে পারি, আমাদের পরিবেশটা সুন্দর হবে, পরিষ্কার হবে। আমরা সকলে মিলে বুকভরে শ্বাস নিতে পারব।”


তিনি আরও বলেন, “কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা প্রকৃতির প্রতি, বিভিন্ন পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত নির্দয়। আজকে আমার সকল ছোট্ট বন্ধুদের আমি অনুরোধ করব, আসো আমাদের আশপাশে যত কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল যত রকম পশুপাখি আছে আমরা চেষ্টা করব এই যে প্রকৃতির, আল্লাহ দেওয়া বিভিন্ন জীব, পশুপাখি এদের যত্ন নেওয়ার। যত্ন যদি নিতে না পারি, অন্তত আমরা চেষ্টা করব তাদের যাতে কোনো প্রকার ক্ষতি হতে না পারে।”


বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সরকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শিশুরা যে ক্ষেত্রে নিজেদের বিকশিত করতে চায়, তা পড়ালেখা, খেলাধুলা, গান বা ছবি আঁকা-যা-ই হোক না কেন-সরকার তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২২ পিএম

৪৫ দিন পর পুনরায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর অনুমোদন পেয়েছে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স ফেরত দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা চালুর অনুমতি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লাইসেন্স ফেরত পাওয়ায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগ, অন্তঃবিভাগ, জরুরি বিভাগসহ সবধরনের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু হবে।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৪৫.০০.০০০০.০০০.১৬৩.২৭.০০১৪.২৬ (অংশ-২).১০৩ নং স্মারকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে হাসপাতালের কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেয়া হয়।


এদিকে লাইসেন্স ফেরত পাওয়ায় আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি শুকরিয়া আদায় করছে। একই সঙ্গে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেবাগ্রহীতা, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠন, আইনজীবী, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সোস্যাল মিডিয়া এক্টিভিস্ট, শুভানুধ্যায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে যারা আদ্-দ্বীনের পক্ষে সোচ্চার থেকে কথা বলেছেন তাদের সবার প্রতি কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছে।

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহকে আগামী ৫ বছরের জন্য জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ড. মাহবুব উল্লাহ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তিনি কোনো গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে নিজের পছন্দমতো ক্ষেত্রে গবেষণামূলক কাজ করবেন। গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) অবহিত করবেন। পাশাপাশি গবেষণাকাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও প্রতিবেদন জমা দেবেন।


এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ তার গবেষণাকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে অবহিত রাখবে। একই সঙ্গে গবেষণার তথ্য-উপাত্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে পাঠাবে।


প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর গ্রেড-১ অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।


তবে এ সময়ে তিনি অন্য কোনো চাকরিতে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।


আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:৩৭ পিএম

রাজধানীর বড় মগবাজারে অবস্থিত আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সন্তোষজনক বিবেচনা করে শর্তসাপেক্ষে হাসপাতালটিকে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


আদেশে বলা হয়, হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাখিল করা আপিল ও এর বিস্তারিত বিবরণ পর্যালোচনার জন্য গঠিত তদন্ত কমিটিকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত শেষে কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।


তবে হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- দ্য মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২- এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ডিউটি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ সম্পন্ন করা এবং ভবিষ্যতে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ হলে সরকার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।


স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা আদেশে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তার কাছেও আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।


এর আগে হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপিল করলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়।


 চিকিৎসাসেবা চালুর দিন-তারিখ জানালো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল


সিএনজি স্টেশন মালিকদের কর্মসূচি স্থগিত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৪৭ পিএম

গ্যাস সংকটের কারণে আগামী ৩০ জুলাই সিএনজি স্টেশন বন্ধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে স্টেশন মালিক সমিতি। ৩০ জুলাইয়ের কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও দাবি মানতে। এজন্য আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।


সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের কারণে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। দাবি না মানলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও জানান সমিতির নেতারা।


সংগঠনটির চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ, ভবিষ্যতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিশন সমন্বয়ের ব্যবস্থা চালু করা, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত নেওয়ার প্রথা বাতিল এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি ইজারাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।


এর আগে কমিশন বৃদ্ধিসহ ৪ দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই সারা দেশের সব সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।


সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:২৫ পিএম

আগামী সপ্তাহে গ্যাস সংকট পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।


সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সংকট পরিস্থিতি উত্তরণে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি বাসা-বাড়িতে মা-বোনেরা, গৃহিণীরা সংসারের রান্নার কাজে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন। ইন্ডাস্ট্রিগুলোর প্রোডাকশন কম্প্রোমাইজড হয়েছে। এই কারণে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি জনগণের কাছে।


তিনি বলেন, বলতে কোনো দ্বিধা নেই এটা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি নয়। একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু, স্টিল তারা দেশের এই সাপ্লাইটা এনসিওর করে। আমরা তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। আমরা এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারছি না, এটা আমাদের সীমাবদ্ধতা। আমরা এজন্য বারবার দুঃখপ্রকাশ করছি। কিন্তু, একেবারে ২৪/৭ আমাদের টিম তাদের সঙ্গে একান্তভাবে কাজ করছে। আমরা যেটা বললাম, আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে ইনশাআল্লাহ।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, টোটাল সাপ্লাইটা (ত্রুটি দেখা দেওয়া ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ থেকে) ৫০০-৫৫০ এর মতো, আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে ২৮০-৩০০ তারা ন্যাশনাল গ্রিডে, অর্থাৎ ২৮০-৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট পার ডে তারা ন্যাশনাল গ্রিডে সাপ্লাই দিতে সমর্থ হবে। এটা তাদের স্টেটমেন্ট অনুযায়ী বলছি। এটা আমাদের নয়, তাদের তথ্যের ভিত্তিতে।


অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আগামী সপ্তাহে ৫০ শতাংশ সরবরাহ চালু করতে পারলে পরের সপ্তাহে ১০০ শতাংশ করতে পারবে। এটাই এখন পর্যন্ত প্ল্যানিং আছে।


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়।


তিনি বলেন, আমদানিকৃত এলএনজি দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) দিয়ে রি-গ্যাসিফাই করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। গত সপ্তাহে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি এফএসআরইউতে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। পরে ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও সমাধান না হওয়ায় আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হয়েছে। পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এক্সিলারেট এনার্জির বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।


বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টস আনা হচ্ছে। এগুলো এয়ার ফ্রেইটে আনা হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাস্টম ছাড়পত্র দিয়ে মেরামত কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।


প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এফএসআরইউতে একটি বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ওই সময় কাছাকাছি একটি এলএনজি কার্গো থাকলেও দ্রুত সেটি সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।


তিনি আরও জানান, এলএনজি দীর্ঘ সময় মজুত করে রাখা হয় না। জাহাজে করে এলএনজি আসে এবং এফএসআরইউতে তা গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। একটি টার্মিনাল অচল থাকায় কার্গোর সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তবে সামিট পরিচালিত অন্য এফএসআরইউ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।


স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা


জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলা নয়, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও সরকার একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ করছে। স্বল্পমেয়াদে ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস ব্যবহার এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যমেয়াদে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর দীর্ঘমেয়াদে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।


তিনি বলেন, বর্তমানে রি-গ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় প্রয়োজন থাকলেও অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন টার্মিনাল স্থাপন করা গেলে সরবরাহ বাড়ানো যাবে।


অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, ভোলার স্থানীয় চাহিদা, শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজন মেটানোর পর যদি উদ্বৃত্ত গ্যাস থাকে, তাহলে তা মূল ভূখণ্ডে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সঙ্গে আলোচনা শেষে সবকিছু অনুকূলে থাকলে প্রায় এক বছরের মধ্যে সেই গ্যাস শিল্পকারখানা বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।


প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে অফশোর বিডিং রাউন্ড চালু করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো এতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আগামী নভেম্বরে বিড জমা দেওয়ার শেষ সময়।


তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।