ছবি : সংগৃহীত
তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামী শনিবার থেকে দেশব্যপী শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ববধানে আয়োজিত এই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচী ক্রীড়া পরিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।
আশির দশকের বহুল জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষন কর্মসূচী ‘নতুন কুঁড়ি’র সফলতার ধারাবাহিকতায় আগামী দিনের খেলোয়ার তৈরীর একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’কে দেখা হচ্ছে।
আগামী ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে দেশের অন্য সকল জেলা স্টেডিয়ামে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীরা উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি সবার সাথে যুক্ত থাকবেন।
আজ এ সম্পর্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে কর্মসূচীর বিস্তারিত গণমাধ্যমকে অবহিত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক।
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে ১২-১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষন, বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র মূল উদ্দেশ্য।
ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুস্থ, সুন্দর, আত্মবিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। একইসাথে দলগত চেতনা, নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলাবোধ বৃদ্ধিতেও খেলাধুলা সহায়তা করে।
মেগা এই ক্রীড়া আয়োজনে ৮টি ইভেন্ট অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, এ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতায় শিশু-কিশোররা তাদের প্রতিভা প্রমানের সুযোগ পাবে।
রেজিষ্ট্রেশনের জন্য খুব অল্প সময় থাকা সত্বেও সারা দেশ থেকে গত ১২-১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন কিশোর-কিশোরী অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন করেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ জন কিশোর ও ৪৪,১৩৩ জন কিশোরী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩২৪ জন আবেদনকারী রয়েছে সিলেট জেলায়। এরপরই ৯৩০৫ রয়েছে চট্টগ্রাম ও ৮৮৯৬ জন রয়েছে ঢাকায়।
আজ উপজেলা পর্যায়ে দল গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে। আগামীকাল চূড়ান্ত তালিকা হাতে পাওয়া যাবে। আগামী ১৩-২২ মে পর্যন্ত চলবে অঞ্চল ও বিভাগীয় পর্যায়ের লড়াই।
সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত সুসংগঠিত একটি কাঠামোর মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতাটি পরিচালনা করা হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তৃনমূল থেকে প্রতিভা খুঁজে আনতে ইউনিয়ন ও সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড পর্যায় থেকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরপর উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক ধাপ পেরিয়ে সেরা প্রতিভারা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করবে।
তিনি আরও বলেন, পুরো বাংলাদেশকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। এসব অঞ্চগুলোর মধ্যে বিভিন্ন জেলা অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে, যাতে কোন মেধা অবমূল্যায়িত না হয়।
ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনে প্রতিটি পর্যায়ে নক আউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ীয় সুইস লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে। ব্যক্তিগত ইভেন্ট এ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই (হিট/নকআউট) এবং ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদান করা হবে। প্রতিটি খেলোয়াড়কে জেলা পর্যায় থেকে জার্সি প্রদান করা হবে। প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের স্বীকৃতিস্বরুপ সনদপত্র প্রদান করা হবে।
জাতীয় পর্যায়ে বাছাইকৃত সেরা খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও নিজেকে পরিনত করার সুযোগ থাকবে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগও এর মাধ্যমে তৈরী হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্ঠরা আশাবাদী। একইসাথে আগামী দিনের ক্রীড়া উন্নয়নে এই কর্মসূচীকে একটি মাইলফলক হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে গণমাধ্যমকে পদত্যাগের বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেন তিনি। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর।
এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবেন।
বেশ কদিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন চলছিল। গত সপ্তাহের শেষ দিকে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে। পদত্যাগপত্রও লেখা হয়। তবে, স্পিকার দেশে না থাকায় তিনি তা জমা দিতে পারেননি। এরই মধ্যে ব্যাংকক সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবারই দেশে ফেরেন স্পিকার।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রপতি, যিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। বিভিন্ন মহলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি ওঠে। গণ-অভ্যুত্থানের পর তার অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তার পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে, সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও তাকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটল। একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পেল।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে জেলা ও দায়রা জজ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ছিলেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তিনি পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এর আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৯ এপ্রিল তিনি ভারতে যান এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে পাবনা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেন।
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আগামীকাল শুক্রবারই (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের কথা জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো রাষ্ট্রপতি কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বঙ্গভবনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, শুক্রবার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার দুপুর নাগাদ পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় দেরি হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের অভ্যন্তরে কোনো সংশয় নেই বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।
বিএনপির একটি নির্ভরশীল সূত্র বলেছে, পদত্যাগ করতে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে দলের উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দায়িত্বপালনরত অবস্থায় সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর যুক্তরাজ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলাকালে তার হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হওয়ায় জরুরিভিত্তিতে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়।
এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণ, রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে অভিভাবকত্ব প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন এবং নতুন সরকারকে শপথ পাঠ করান।
তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদী
দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রক্রিয়ায় এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়া দিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন হবে। ১১ সদস্য দেশের এই সম্মেলনে বাইরের বিভিন্ন দেশকে বিশেষ অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানাতে পারে আয়োজক দেশ।
এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামকে প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা।
জবাবে তিনি বলেন, “আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসেছে, আমরা সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছি।”
সালমান শাহ
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবার পিছিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিন ধার্য ছিল। তবে আজ প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মো. জিয়াউল মোর্শেদ।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা নতুন তারিখ দেন। এ নিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ আটবার পেছাল। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ‘প্রকৃত কারণ’ নিয়ে নানা আলোচনা–জল্পনা আছে। দীর্ঘ ২৯ বছর পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র অভিনেতা ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদকে আসামি করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী ও বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান তাঁকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ র্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব পালন করেন। কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
এ ছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন।
ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে ভূমিকা রাখেন।
প্রায় ৪০ বছরের কর্মজীবনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
স্বৈরাচার পতনের পর গুপ্ত বাহিনীর আত্মপ্রকাশ করেছে: প্রধানমন্ত্রী
নির্বাচন ভবন
স্থানীয় সরকারের প্রথম ধাপের নির্বাচন আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠানের লক্ষে এবং আগস্টে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ‘ইসি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশাকরি, আগামী অক্টোবরে প্রথম ধাপের নির্বাচন করতে পারবো।’
আগস্টের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা যাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কয়টি ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে কম সময়ে বেশি নির্বাচন যাতে করা যায় সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছানো বা বিলম্বিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথম দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নাকি পৌরসভা বা উপজেলা কোনটা আগে আসতে পারে সেটা সুনির্দিষ্টভাবে এখনই বলা সম্ভব নয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয়াবলী বিবেচনায় নিয়েই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনসমূহ অনুষ্ঠিত হবে।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে হয়তো স্থানীয় সরকারের যে প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন শুরু করা হবে সেটা শেষ করা হবে। যেমন-ইউনিয়ন পরিষদ যদি ধরি তাহলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা যদি ধরি পৌরসভা, সিটি করপোরেশন যদি ধরি সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষ করা হবে। এর মধ্যে আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে যদি আদালতের কোন রায় বা কোনো নির্দেশনা থাকে- সেই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হবে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের কোনো চিন্তাভাবনা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।’
‘প্রবাসী ভোটাররা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না’- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এ বিষয়ে এখনো কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।
তিনি বলেন, যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুব ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে অর্থাৎ সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। এটা জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অতএব সেই নির্বাচন সফলতার ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছিল, সেগুলো এই নির্বাচনেও নেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার মাত্রা কমিয়ে আনতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি থাকবে কমিশনের। নির্বাচন কমিশন মনে করে, রাজনৈতিক যে সংস্কৃতি গত নির্বাচন থেকে শুরু হয়েছে, এটা অব্যাহত থাকবে। এটা অব্যাহত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি প্রসঙ্গে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আচরণবিধি নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে এবং এটা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে স্থানীয় সরকারের যে আইন রয়েছে, এই আইনটা একবারে দুর্বল নয়। এ আইন দিয়েই নির্বাচন করা সম্ভব। তবে অবজারভেশনের পরিপ্রেক্ষিতে যদি আইন সংশোধন হয়, তাহলে সেই আইন অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আর যদি আইন সংশোধন না হয় তাহলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে করে নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’