স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
“মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশস্ত্র মাদক কারবারীদের দমন করছেন, কিন্তু তাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই। এই আইনগত শূন্যতা ও আধুনিক চ্যালেঞ্জ দূর করতে দুই-একদিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বিল’ উত্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে এই বাহিনীকে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন অর্গান হিসেবে শক্তিশালী করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী সশস্ত্র মাদক কারবারী ও চোরাকারবারীদের শক্ত হাতে দমনে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণসহ ৯ এমএম পিস্তল ও আধুনিক অস্ত্র দেওয়া হবে।”
ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে শুক্রবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক লভ্যাংশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে, যেখানে কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা সর্বোচ্চ। এই অমিত সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের সম্ভাবনাময় ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ বিনির্মাণে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে তরুণ সমাজকে অবশ্যই মাদকমুক্ত রাখতে হবে। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম অঙ্গীকার ছিল দেশের যুব সমাজকে মাদক ও জুয়ার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। শুক্রবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।
আদালতে বিচারাধীন মাদক মামলার জট প্রসঙ্গে তিনি জানান, শুধুমাত্র ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদকের মামলা পেন্ডিং রয়েছে। বিচারক স্বল্পতার কারণে এই বিপুল সংখ্যক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সংশোধিত আইনে মামলার সংখ্যা বিবেচনায় যেখানে প্রয়োজন, সেখানে মাদকের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ স্থাপনের কঠোর বিধান রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া মাদক নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে আধুনিক ‘ডগ স্কোয়াড’ সংযোজন এবং সিআরপিসি অনুযায়ী আসামি গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়ার অন্তর্বর্তী সময়ে রাখার জন্য ‘হাজতখানা’ স্থাপনের আইনি প্রস্তাব করা হয়েছে। মাদকের রাসায়নিক পরীক্ষার জালিয়াতি রুখতে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে উন্নত কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে বলেও তিনি জানান।
ডিজিটাল অপরাধের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মাদক ও জুয়ার অপরাধসমূহ সাইবার স্পেস এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হয়েছে। মাদক পাচারকারী চক্র বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার আড়ালে তরুণ সমাজকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। তিনি বলেন, ১৮৬৭ সালের প্রাচীন জুয়া প্রতিরোধ আইন দিয়ে বর্তমান যুগের আধুনিক অনলাইন বেটিং ও ক্রিপ্টো-অপরাধ দমন সম্ভব নয়। মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে বেনামী সিমের মাধ্যমে ওটিপি ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে যে অর্থপাচার বা মানি লন্ডারিং হচ্ছে, তা কঠোরভাবে ট্র্যাকিংয়ের জন্য এনটিএমসির পরামর্শে আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার শুধু খুচরা বিক্রেতা বা বহনকারীদের ধরপাকড়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মাদক ব্যবসার মূল হোতা, অর্থ জোগানদাতা বা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মাদকের কালো টাকা দিয়ে অর্জিত সমস্ত অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য নতুন সংশোধনীতে কঠোর ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ এবং ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’ এর আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে এ ধরনের ৯টি মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে এবং আরও ২৩টি গুরুতর অনুসন্ধান বর্তমানে চলমান রয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, র্যাব ও পুলিশের সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ঢাকার উত্তরার মতো জায়গায় জঘন্যতম সিনথেটিক ড্রাগ 'কিটামিন'-এর ল্যাবরেটরি আবিষ্কার হওয়া প্রমাণ করে অপরাধীরা কতখানি আধুনিক। প্রথাগত মাদকের পাশাপাশি নতুন সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক মাদক বা ‘নিউ সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্টেন্সেস’ এর প্রাদুর্ভাব মাদকাসক্তির ঝুঁকিকে আরও ঘনীভূত করেছে। তাই আমাদের আইনকেও অত্যাধুনিক করতে হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মাদকাসক্তি একটি মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক ব্যাধি। যারা এর ফাঁদে পড়েছেন, তারা সমাজ বা রাষ্ট্রের চোখে অপরাধী নন, বরং তারা রোগী। তাই তাদের সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে বিভাগীয় পর্যায়ে ২০০ শয্যার সরকারি নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। একই সাথে সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা এবং মনো-সামাজিক কাউন্সেলিং জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়নে সরকার আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি করেছে এবং এডিকশন প্রফেশনালদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, মাদক কোনো একক দেশের বা একক সংস্থার পক্ষে দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন। তিনি দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ এবং সকল স্বেচ্ছাসেবী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। মন্ত্রী এর আগে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে স্থাপিত মাদকবিরোধী বিশেষ স্টল পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের থিম সং প্রদর্শন করা হয়। মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত একজন ব্যক্তি অনুষ্ঠানে তাঁর অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। এছাড়া মন্ত্রী বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন ও বিশেষ স্যুভেনিরের মোড়ক উন্মোচন করেন এবং মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন।
উল্লেখ্য, ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ এর এবারের প্রতিপাদ্য হলো- ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: বিদ্যমান ইস্যু, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী প্রতিক্রিয়া’। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাদক নিরাময় ও গবেষণার সঙ্গে জড়িত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
নগরীর যানজট নিরসন ও নৌপথ জনপ্রিয় করতে আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
নৌমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছর ধরে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালু ছিল এবং সেই ওয়াটার বাস গত ১০ বছরে ক্ষতি করেছে ৫৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রত্যেক বছর ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার মতো। এখন নতুন করে বিআইডব্লিউটিএ সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস আবার পরিচালনা করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নৌপথের ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে এই মুহূর্তে ড্রেজিং করে সচল রাখা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের মতো। ড্রেজিং চলমান রয়েছে নৌপথ সচল রাখার জন্য। সংরক্ষিত ড্রেজিং সব সময়ের জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে বাস্তবায়ন করা হয়। যেখানে নৌপথের নাব্যতা রক্ষা করা দরকার, নৌচলাচল রুট যেখানে সচল আছে, তা ড্রেজিং করে নিয়মিতভাবেই সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার চারপাশে যে নদী, সেখানে দূষণ আছে এবং সেই দূষণ কী প্রক্রিয়ায় হচ্ছে, তা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করে ৪২৪টি স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে কেমিক্যাল বর্জ্য আছে, লিকুইড বর্জ্য আছে, সলিড বর্জ্য আছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ঢাকার এই চারপাশে যে পাঁচটি নদী, তা দূষণমুক্ত করার জন্য ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে এবং গতকাল এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বিত মিটিং হয়েছে, কমিটি করা হয়েছে, এই পাঁচটি নদী পরিদর্শন করা হয়েছে।
নৌ-পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এই দূষণমুক্ত করার জন্য ওয়াসা, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর দুই সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়- সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যে কার্যক্রম ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে আগামীতে নদীগুলির পাড় সংরক্ষণ এগুলিও এই বিষয়ের মধ্যে আমলে আনা হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পবর্জ্য যাতে আর নদীতে না যায়, সেজন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। চিকিৎসকের শূন্য পদের সংখ্য ১১ হাজার ৪৯৫টি। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত সংসদে প্রশ্নের জবাব দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে আরও জানানো হয়, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড অনুসারে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন। সরকারের চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ৩ বছর ধরে চাহিদার তুলনায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও চিকিৎসা উপকরণের সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী জানান, ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মাঠপর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।
মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের আসনসংখ্যা ৫ হাজার ১০০টি। বেসরকারি ৬৮টি মেডিকেল কলেজের আসন ৬ হাজার ২৭৮টি।
হামের প্রাদুর্ভাবের যে কারণ
গোপালগঞ্জ-১ আসনের মো. সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের টিকা সংগ্রহ না হওয়া এবং পরে দেশজুড়ে টিকা সংকটের পেছনে মূল কারণ ছিল টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক নীতি পরিবর্তন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ইউনিসেফের সতর্কতা উপেক্ষা করা।
এই প্রশ্নের লিখিত জবাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই বিলম্ব ও সংকটের প্রধান কারণগুলোও তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পিছিয়ে যাওয়া এবং পরে ২০২৫ সালে সরকারের পক্ষ থেকে একটি পরিপূরক হাম-রুবেলা বিশেষ ক্যাম্পেইন বাতিল করা হয়। ফলে নিয়মিত টিকাদানের আওতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং পরে দেশের শিশু ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে হামের প্রাদুর্ভাব মারত্মক রূপ নেয়।
জাকাত সংগ্রহ ৭ কোটি টাকা
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অর্থ বছরে সংগৃহীত জাকাতের পরিমাণ ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৯ টাকা সরকারি জাকাত ফান্ডে জমা আছে। বাকি টাকা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের জাকাত ফান্ডে জমা আছে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, দেশের বিভিন্ন মত ও পথের প্রখ্যাত আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসন এবং সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ ও মতবিনিময়ের লক্ষ্যে উপজেলাভিত্তিক গবেষণা ও ইফতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।
৩৫ বছরে নৌ দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৫২ জন নিহত
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, প্রথমবারের মতো পরিচালিত নৌযান শুমারি কার্যক্রমে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮১৩টি নৌযান তালিকাভুক্ত হয়েছে।
সংরক্ষিত আসনের সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, গত ৩৫ বছরে ৪৭ হাজার ৬০৬টি নৌযানের বিরুদ্ধে মামলা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৬৭১টি মামলা মেরিন কোর্টে বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমানে নয় হাজার ৯৩৫টি নৌযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত ৩৫ বছরে নৌ দুর্ঘটনায নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৫২ জন এবং আহতের সংখ্যা ৮০৭ জন।
ছবি : সংগৃহীত
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন উপজেলাভিত্তিক হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। এক্ষেত্রে একটি উপজেলার যতগুলো ইউনিয়ন আছে, সবগুলোয়ে একই সঙ্গে নির্বাচন হবে। আজ সোমবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
আখতার আহমেদ বলেন, "ইউপি নির্বাচন কয়েক ধাপে হবে। এক্ষেত্রে পাঁচ ধাপে নাকি ছয় ধাপে হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে আমি এটুকু বলতে পারি উপজেলাভিত্তিক নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে একটি উপজেলার যতগুলো ইউনিয়ন আছে সেগুলো একই সঙ্গে হবে। "
তার কথায়, “এক উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন একসঙ্গে হলে, বাকিগুলো অন্য ধাপে হলে একটা বিশৃঙ্খলা হয়ে যাবে। তাই একই সঙ্গে এক উপজেলার সবগুলোতে নির্বাচন হবে এবং কয়েক ধাপে হবে নির্বাচন।”
এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়টি কমিশন নির্ধারণ করবে বলেও জানিয়েছেন ইসি সচিব।
সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড ইস্যু প্রসঙ্গে বৈঠক করেন ইসি সচিব। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইউপি নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় নির্বাচনের বিধিমালা নিয়ে ইসি সচিব বলেন, এই ভোটে পোস্টার থাকবে না। এছাড়াও কিছু পরিবর্তন এসেছে।
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ইতোমধ্যে বলেছেন, সেপ্টেম্বরে তফসিল দিয়ে নভেম্বরে ইউপি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা এবং জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে।
ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন সচিব আখতার আহমেদ।
এর আগে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার রোববার বলেছিলেন, “এই নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। সেটার আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং এর প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা রাখি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা সিডিউলটা ডিক্লেয়ার করতে পারব। নির্বাচন পূজা, পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হবে।”
গত ২১ অগাস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে ওই আসনটি শূন্য হয়েছে।
দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। এর আওতায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মাসিক সম্মানী, উৎসব ভাতা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তাদের এ অবদান বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
নীতিমালার আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে উৎসব ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়মিত আয় ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যেই এ উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিকল্পভাবে আয় করার সুযোগ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের পেশাগত দক্ষতাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছেন। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে তাদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমবে এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।
সংসদ অধিবেশন
দান করার পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন– এমন বিধান রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাস হয়েছে। গতকাল রোববার সংসদে ‘১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামন্ডমেন্ট) বিল’ সংসদে পাস হয়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিলের ওপর আনা বিরোধী সদস্যদের জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করা হয়।
পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, পিতামাতা বা পিতামহ/মাতামহ তাঁর সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি ভোগের অধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।
বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্টত কন্ট্রাডিকশন আছে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কী কোরআনের মূলনীতি রাখব নাকি বাদ দেব? আমি মনে করি, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই আইন এভাবে উপস্থাপন করায় সমাজে ব্যাপক উচ্ছৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই আইন দ্বারা হকদারের হকও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।’
আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে জামায়াতের নাজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল, তারা কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। কিন্তু কোরআন-সুন্নাহ সুস্পষ্ট বিরোধী এই আইন পাস করতে যাচ্ছে। ইসলামিক স্কলারদেরও এই আইনটি নিয়ে ঘোর আপত্তি রয়েছে।
পাবনা-৩ আসনের আলী আছগার এই বিলকে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আখ্যায়িত করেন।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সব সন্তান পিতামাতার সঙ্গে এই আচরণ করছেন না। গুটি কয়েক অপরাধীর সঙ্গে আমাদের মূল চিন্তা ও বিশ্বাসে সাংঘর্ষিক আইন আমরা পাস করতে পারি না।’
বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলীম বলেন, এই আইন না করে কোরআনে বিধান রয়েছে এক-তৃতীংয়াশের বেশি কেউ দান করতে পারবে না। সেই বিধানটি আইনে পরিণত করা দরকার। ইসলামিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই আইনে ইসলামিক স্কলারদের মতামত দরকার।
শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ বলে একটি নিয়ম থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, অধিকাংশ সংসদ সদস্য এই আইন পাসের সময় হয় বিরোধিতা করবেন, না হয় চুপ থাকবেন। ইসলামিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি কাঠামো তৈরি হলে তা আমরা মেনে নিতে পারি না।’
ময়মনসিংহ-৬ আসনের কামরুল হাসান বলেন, ‘এই আইন সংশোধন করতে গিয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে হাত দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে কৌশলে এই আইন পাস করা হচ্ছে। এই আইন সব ধর্মের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে যে বিধান যুক্ত করা হয়েছে, তাতে আমাদের চরম আপত্তি রয়েছে। এই আইন পর্যালোচনা করা না হলে জনবিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে।’
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের (স্বতন্ত্র) শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘এই আইন দ্রুত পাস করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি। যাতে কোনো কুলাঙ্গার সন্তান দ্বারা কোনো বাবা-মা লাঞ্ছিত না হন।’
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মা-বাবার কথা বিবেচনা করে এই বিল আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই আইন হেবা বা অন্যভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এখানে আমরা মুসলিম ল’কে টাচ করিনি। এই আইনে যে গিফটের (সম্পত্তি হস্তান্তর) কথা বলা হচ্ছে, তা হেবা নয়। এটি হেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এই আইনে হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর বাধাগ্রস্ত হবে না।’
মুসলিম পারিবারিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এই বিলটি এনেছি।’
ইসলামী ব্যাংকিং প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসলামিক আইনে সুদ নয়, মুনাফা নেওয়া হয়। উনারা মুনাফা নেন কিন্তু লোকসানের ভাগ নেন না। লোকসানের ভাগদান না হলে ইসলামিক এই ব্যাংকিং সিস্টেম অনুমোদিত না, কিন্তু এটা চলছে।
একাধিক মুসলিম দেশের উদাহরণ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই আইন অগণিত পিতামাতার শেষ নিঃশ্বাস শান্তিতে নিতে সহায়তা করবে। এই আইন সমাজের চাহিদা পূরণ করবে। মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১-এর তুলনায় ইসলামের সঙ্গে অসাংঘর্ষিক।’
ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নতুন বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন ও ব্যয়ের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।
নতুন আচরণবিধির অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো পোস্টার নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল করার সুযোগ থাকবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।
ডিজিটাল প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতেও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ। এআই ব্যবহার করে এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না। ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার কিংবা কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে।
সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেও কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে।
নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।
নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।নির্বাচন কমিশনের নতুন এ বিধিমালার মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন বন্ধ এবং ডিজিটাল প্রচারণায় এআই-নির্ভর অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান এবারের উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।