ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:৫৬ এএম

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মন্তব্যে বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের ওপর আসন্ন গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নিরপেক্ষতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। 


 প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্বেগ আলোচনার যোগ্য হলেও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার আলোকে মূল্যায়ন করলে এ ধরনের সমালোচনার ভিত্তি নেই। বাংলাদেশের এই সংকটময় সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়, বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাবই ফুটিয়ে তোলে।


১. অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ম্যান্ডেট সংস্কার, আনুষ্ঠানিকতা নয়


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুধু দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নিরপেক্ষ নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য গঠিত হয়নি। এটি দীর্ঘদিনের অপশাসনের ফলে সৃষ্ট শাসনতান্ত্রিক সংকট, জন–অনাস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক চরম দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকার। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত যে এই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা।


প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রফেসর ইউনূস গত আঠারো মাসে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই ফল। তাই এই সংস্কারের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের মূল উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে বোঝার শামিল।


যে অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত, গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মুহূর্তে সেই সংস্কার থেকে সেই সরকার নিজেকে দূরে রাখবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।


২. সুপরামর্শ গণতান্ত্রিক পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ


অন্তর্বর্তীকালীন হোক বা নির্বাচিত হোক আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে নীরব থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। বরং গণতন্ত্রে প্রত্যাশা করা হয় যে নেতারা জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় নীতি ও সংস্কারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর ছেড়ে দেবেন।


অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও গণভোট কোনো টেকনোক্র্যাটিক প্রক্রিয়া নয়। এটি সরাসরি জনগণের মতামত জানার মাধ্যম। সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যখন স্পষ্টভাবে তাঁদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন, তখন ভোটারদের সিদ্ধান্ত আরও তথ্যভিত্তিক ও অর্থবহ হয়।


গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল প্রশ্ন হলো নেতারা অবস্থান নিলেন কি না, তা নয়; বরং—


>ভোটাররা সেই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করতে স্বাধীন কি না


>বিরোধী পক্ষ প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাতে পারছে কি না


>পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য কি না


>এই সব শর্ত বর্তমান প্রেক্ষাপটে অক্ষুণ্ন রয়েছে।


৩. এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য নেতৃত্ব অপরিহার্য


বাংলাদেশের সংস্কার গণভোট কোনো বিমূর্ত নীতিগত প্রশ্ন নয়, এটি দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতার জবাব—যা বছরের পর বছর নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্বিগ্ন রেখেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন এবং তত্ত্বাবধানকারী সংস্থার রাজনীতিকরণের মাধ্যমে দেশকে সংকটে ফেলেছে।


এই বাস্তবতায় সংস্কারের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতারই প্রকাশ। যিনি নিজে সংস্কারের সমস্যা চিহ্নিত করেছেন এবং সমাধানে ঐকমত্য তৈরির নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁর জন্য এখন নীরব থাকা হবে অসংগত ও দায়িত্বহীন।


যে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের বৈধতা সংস্কার থেকে আসে, তাদের পক্ষে সংস্কারের পক্ষে কথা বলা পক্ষপাত নয়, বরং তা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।


৪. আন্তর্জাতিক নজির এই পদ্ধতিকে সমর্থন করে


এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো ব্যতিক্রম নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকার করবে যে বিশ্বজুড়ে বহু দেশে সরকারপ্রধানেরা—ইউরোপ, এশিয়া বা অন্য যেকোনো অঞ্চলে—গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিবর্তনসংক্রান্ত গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এসব ঘটনাকে গণতান্ত্রিক রীতির লঙ্ঘন হিসেবে নয়, বরং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বাভাবিক প্রকাশ হিসেবেই দেখা হয়।


আধুনিক ইতিহাসে এর বহু উদাহরণ রয়েছে:


যুক্তরাজ্য (২০১৬): প্রেসিডেন্ট ডেভিড ক্যামেরন ব্রেক্সিট গণভোটে “থাকুন” ভোটের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালান এবং ইইউ সদস্য পদ বজায় রাখাকে জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরেন।


স্কটল্যান্ড (২০১৪): ফার্স্ট মিনিস্টার অ্যালেক্স স্যালমন্ড “ইয়েস স্কটল্যান্ড” প্রচারণায় ছিলেন প্রধান মুখ এবং গণভোটকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গণতান্ত্রিক সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন।


তুরস্ক (২০১৭): প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর সাংবিধানিক সংশোধনের পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারণা চালান।


কিরগিজস্তান (২০১৬): প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতামবায়েভ সংসদীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।


ফ্রান্স (১৯৬২): প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য গণভোটের পক্ষে সরাসরি জনগণের সমর্থন চান সংসদীয় বিরোধিতা উপেক্ষা করে।


এই সব ক্ষেত্রেই বর্তমান সরকারপ্রধানদের সমর্থনকে অগণতান্ত্রিক বলা হয়নি। বরং এটিকে রাজনৈতিক জবাবদিহিতার প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়েছে—নেতারা যা সঠিক মনে করেন, তার পক্ষে কথা বলেন এবং শেষ পর্যন্ত জনগণের সিদ্ধান্ত মেনে নেন।


গণভোটের বৈধতা নেতাদের নীরবতার ওপর নির্ভর করে না, এটি নির্ভর করে ভোটারদের স্বাধীনভাবে পক্ষে বা বিপক্ষে মত দেওয়ার সুযোগের ওপর।


বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নেই। প্রফেসর ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টারা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লাভ বা দলীয় সুবিধা চান না। তাঁদের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে সময়সীমাবদ্ধ ও অন্তর্বর্তী।


একবার সংস্কার গৃহীত বা প্রত্যাখ্যাত হলে তার বাস্তবায়ন বা পরিণতি বহন করবে নির্বাচিত সরকার। ফলে অযথা প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি খুবই সীমিত এবং এই সমর্থনের সৎ উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।


৫. সরকারি প্রচারণা মানেই জোরজবরদস্তি নয়


জেলা পর্যায়ে প্রচারণা চালানো নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা প্রেক্ষাপটসহ বিবেচনা করা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো সংস্কারের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব জনগণের কাছে স্পষ্ট করা, বিশেষ করে যেখানে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি সচেতন অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।


ক্রান্তিকালীন এ ধরনের সরকারি সম্পৃক্ততা স্বাভাবিক এবং এটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত বা অনৈতিক প্রচারণা বলা যায় না। জনপরিসরে থাকা আলোচনায় সরকারের উপস্থিতি বিরোধী মত দমন করে না, বরং নিশ্চিত করে যে নাগরিকেরা বুঝেশুনে সংস্কার বিষয়ে মতামত দিতে পারেন।


৬. উপসংহার: নীতিগত লঙ্ঘন নয়, গণতান্ত্রিক দায়িত্ব


এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সমর্থনে নয়, বরং দ্বিধা ও নীরবতায়। যে সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, তা সমর্থন না করলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে, ভোটাররা বিভ্রান্ত হবে এবং পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে।


“হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ কারণ—


>অন্তর্বর্তী সরকারের রয়েছে সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট


>প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের জরুরি প্রয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ


>প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যতা


>ভোটারদের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতি


শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণেরই। এটাই গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা। নেতৃত্ব সেই সিদ্ধান্ত কেড়ে নেয় না, বরং তা স্পষ্ট ও অর্থবহ করতে সহায়তা করে।



সর্বশেষ সব খবর

মেট্রোরেল

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৮ এএম

অবশেষে ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের লাইন-৫-এর দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট অনুমোদনের জন্য উঠছে। আগামী বুধবার অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করছে পরিকল্পনা কমিশন। একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করবেন। 


প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাজধানীর পশ্চিম অংশ গাবতলী থেকে পূর্ব অংশ দাশেরকান্দিতে যাওয়া যাবে মাত্র ২৮ মিনিটে। পরিবহন ব্যয়ও কমবে। রুটে প্রতিদিন যাতায়াত করবেন ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী। প্রতিটি ট্রেনে যাত্রী ধারণক্ষমতা দুই হাজার ৩১২ জন। ২১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। সড়কে গাড়ি চলাচল কমবে ১ হাজার ৪৯টি। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে বাতাসে ২ লাখ ৮ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারবে এ প্রকল্প।


২০৩০ সালের জুনে এই মেট্রোরেল নগরবাসীর ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০৩২ সাল পর্যন্ত। এটি মেট্রো লাইন-৫ (উত্তর) ও মেট্রো লাইন-২-কে সংযুক্ত করবে। এর ফলে গোটা রাজধানীই মেট্রোরেল অবকাঠামোর আওতায় আসবে। 


মেট্রোরেল-৫ (দক্ষিণ) লাইনের রুট পরিকল্পনায় দেখা যায়, মোট স্টেশন থাকছে ১৫টি। গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদগেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব, নাছিরাবাদ ও সর্বশেষ স্টেশন হবে দাশেরকান্দি। দৈর্ঘ্য হবে ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথ। উড়ালপথ ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার। পাতাল স্টেশন হবে ১১টি। উড়াল স্টেশন চারটি। 


সূত্র বলছে, এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ) প্রকল্পটি অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে বর্তমান সরকার। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ ও পরিবহন খাত নিয়ে যে রূপরেখা দেওয়া হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ঢাকার যানজট নিরসনে মেট্রোরেল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, মৌলিক প্রকৌশল নকশা, দরপত্র, ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন-সংক্রান্ত পরিকল্পনার কাজ শেষ করা হয়েছে আগেই। 


গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হাদীউজ্জামান বলেন, প্রকল্পটি অবশ্যই গণমুখী। তবে অন্য মেট্রোরেল প্রকল্পের তুলনায় এ প্রকল্পে যাত্রী চাহিদা তুলনামূলক কম। প্রতিটি স্টেশনের সঙ্গে আন্তঃসংযোগের বিষয়টি প্রকল্পভুক্ত করতে হবে, যাতে প্রকল্পটি আরও বেশি গণমুখী হয়। প্রকল্পটির বড় অংশ পাতাল হওয়ায় নির্মাণ ও পরিচালনও চ্যালেঞ্জিং। সে বিষয়েও সতর্কতা প্রয়োজন।


পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির শুরুর দিকে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে ৭ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা কমিয়ে প্রস্তাব পুনর্গঠন করা হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়া সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) এ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে। আগের প্রাক্কলনে মোট ব্যয় ধরা হয় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। এবার ব্যয় ধরা হচ্ছে ৪৭ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। এই ব্যয়ে এডিবি ও ইডিসিএফ দিচ্ছে ৩২ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব জোগান। 


প্রকল্পে বিদেশি অর্থায়ন বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, আলোচনা ও চুক্তি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এস এম জাকারিয়া হক বলেন, এ বিষয়ে এডিবির সঙ্গে আগেই কাঠামো চুক্তি হয়েছিল। নতুন করে আবার এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 


গাবতলী থেকে আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ ‍সালে। ২০২২ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করা হয়। এ বাবদ এবং ডিটেইল্ড ডিজাইনে মোট ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে যায়। পরে ব্যয় কমিয়ে একনেকে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সাড়া না পাওয়ায় একনেকে ওঠানো যায়নি। 


জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, বর্তমান সরকার প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে চাইছে। উন্নয়ন সহযোগীরাও তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনেছে। নগরবাসীর যোগাযোগ উন্নয়ন এবং যানজট থেকে মুক্তির জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উদ্যোগ।


রাজধানীতে যানজটের সমস্যা কমাতে সরকারি গণপরিবহন নেটওয়ার্ক হিসেবে পাঁচটি মেট্রোরেল (এমআরটি) লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। মেট্রোরেল-৬ এরই মধ্যে চালু হয়েছে, যা নগর যাতায়াতে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

আইজিপি আলী হোসেন ফকির

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪০ পিএম

১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা যাকে হত্যা করে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছিল, সেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ ফকিরের রক্ত ও ত্যাগের উত্তরাধিকার আজ স্বাধীন বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ আসনে।


অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে যাঁর পুত্র আলী হোসেন ফকির আজ বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে বহুমুখী সংস্কার প্রচেষ্টা এবং সমান্তরালে তীব্র অপপ্রচার। 


এই লড়াই কেবল একজন ব্যক্তির পদ রক্ষার লড়াই নয়, বরং একটি স্বাধীন দেশের পুলিশ বাহিনীকে দল দাসত্ব থেকে মুক্ত করে 'জনগণের পুলিশ' হিসেবে গড়ে তোলার ঐতিহাসিক লড়াই।


বাবার মাথাবিহীন কবরের ছায়া থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বে 


১৯৭১ সালে শহীদ নূর মোহাম্মদ ফকিরকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাঁর পরিবার একটি মাথাবিহীন মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হয়েছিল। যে শিশুটি সেদিন পিতৃহীন শৈশব পার করেছিল, আজ তিনি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্বে। 


স্বাধীন দেশের মাটিতে বড় হওয়া সেই সন্তান আলী হোসেন ফকিরের কাঁধে এখন পুলিশ বাহিনীকে জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত করার বিশাল দায়। 


স্বাধীনতার মূল্য যে পরিবার রক্ত দিয়ে পরিশোধ করেছে, সেই পরিবারের উত্তরসূরির হাত ধরেই আজ রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কঠিন দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।


সংস্কারের চ্যালেঞ্জ ও জনগণের পুলিশ গড়ার অঙ্গীকার


বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ বাহিনীকে অতীতের বিতর্কিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বের করে আধুনিক, পেশাদার, জবাবদিহিমূলক ও জনগণবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা থানা হবে বিচার চাওয়ার নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না।


পুলিশ কোনো ব্যক্তি, দল বা ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত বাহিনী না হয়ে প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে কাজ করবে এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর। কিন্তু দীর্ঘদিনের চর্চিত ক্ষমতা ও সুবিধার সংস্কৃতিতে যখন আঘাত লাগে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই স্বার্থান্বেশী মহল থেকে প্রতিরোধ ও ষড়যন্ত্রের সৃষ্টি হয়।


অপপ্রচার, কুৎসা ও সত্য উদঘাটনের দাবি


সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও কুৎসা ছড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তথ্য-প্রমাণের চেয়ে রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে অতীতের সুবিধাভোগী ও পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রের অর্থায়নের গুঞ্জন রয়েছে। 


সচেতন মহল মনে করেন, আলী হোসেন ফকির সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন এবং তাঁর কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি; তবে প্রমাণ ছাড়া অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কখনো ন্যায়বিচার বা সাংবাদিকতা হতে পারে না।

 

প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে কে বা কারা অর্থ দিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।


ব্যক্তি আলী হোসেন ফকিরকে টিকিয়ে রাখা এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য নয়; বরং পুলিশ বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার এবং জনগণের পুলিশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আসল কথা। 


শহীদ মুক্তিযোদ্ধার রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো এমন একটি পুলিশ বাহিনী তৈরি করা, যার পোশাক দেখলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত নয়, বরং নিরাপদ বোধ করবে। মিথ্যা, কুৎসা ও ষড়যন্ত্রকে পেছনে ফেলে পুলিশ যেন সত্যিকার অর্থেই জনগণের প্রজাতন্ত্রের বাহিনী হয়ে উঠতে পারে এটাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

সর্বশেষ সব খবর

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩০ পিএম

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। আজ রোববার কমিশন নতুন অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের অনুমোদন দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আগের নিয়োগ, বদলি, পদায়নে দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে নতুন অভিযোগগুলোরও অনুসন্ধান হবে। দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। 


দুদুকে আসা নতুন অভিযোগগুলো হলো- 


দুদুক জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ এসেছে। 


এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণেরও অভিযোগ রয়েছে।   


দুদুকে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তিনি নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে টেন্ডার বাণেজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন। 


দুদকে আসা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ, ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করেন। তিনি হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও গাড়িতে যাতায়াত করেছেন। দুর্নীতির টাকা দিয়ে তিনি পর্তুগালে জমি ক্রয়, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ ও সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করেছেন। 


আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, তিনি দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার ০০০ কোটি টাকা ও সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয় ও বিভিন্ন ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করেছেন। তার দুই বোন জামাই ও ভাগ্নের মাধ্যমে তিনি বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন। 


গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে তার নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রকল্পটির বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ। তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন। 


এছাড়া তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়া ঘুষ লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। 


দুদক জানিয়েছে- আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এসব অভিযোগ নথিভুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

সর্বশেষ সব খবর

সাগর-রুনি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৩ পিএম

বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার বিচার এবং তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে সশরীরে হাজির হয়ে এ আবেদন দাখিল করেন রুনির ভাই নওশের রোমান।


লিখিত এ আবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মেহেরুন রুনি খুন হন। দীর্ঘ ১৪ বছরেও এ হত্যাকাণ্ডের কোনো তথ্য বের করতে পারেনি একাধিক তদন্ত সংস্থা। 


এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাব ব্যর্থ হওয়ার পর হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করতে দেওয়া হয়। অথচ সংস্থাটি তদন্ত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা। 


এছাড়া দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানোর পাশাপাশি আবেদনটি রেজিস্টারভুক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ এএম

তওবা ছাড়া সাদ কান্ধলভীকে বাংলাদেশে আসতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বলেছেন, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে শুরায়ি নেজাম দ্বারা পরিচালিত হবে। শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) সম্মেলনে হেফাজতের আমির এ কথা বলেন। ‘ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’ ব্যানারে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয় ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ও ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে। 


মাওলানা সাদ কান্ধলভী তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভীর প্রপৌত্র। তাঁকে তাবলিগ জামায়াতের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের একাংশ নিজেদের আমির মানেন। কোরান শিক্ষা দিয়ে অর্থগ্রহণ হারাম- সাদ কান্ধলভীর বক্তব্যের কারণে দেওবন্দিধারার আলেমরা তাঁর বিরুদ্ধে। 


বক্তব্য থেকে সরে না আসা পর্যন্ত দেওবন্দের অনুসারী বাংলাদেশের আলিমরা সাদ কান্ধলভীকে টঙ্গীর ইজতেমায় আসতে না দিচ্ছেন না। তিনি আসতে না পারলেও তাঁর অনুসারীরা পৃথক ইজতেমা করেছেন। দুই পক্ষের দুই দফা প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হচ্ছে।


মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ‘ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী। সরকারের উদ্দেশে হেফাজত আমির বলেন, সাদ কান্ধলভী তওবা করে যত দিন দেওবন্দের মুরব্বিদের কাছে রুজু না করবেন, তত দিন তাকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া যাবে না। 


টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে শুরায়ি নেজামের পরিচালনার দাবি করে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, কাকরাইল মারকাজের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে চলবে। সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে না। সাদ কান্ধলভীকে বাংলাদেশে এনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচার করতে হবে। 

হেফাজতের আমির বলেন, তাবলিগের শুরায়ি নেজামের সাথি ও মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর হামলাকারীদের অনেকে ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর’। 


সম্মেলনে ঘোষণাপত্রে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থিদের বিশ্ব ইজতেমা বা তাবলিগের কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে না দেওয়াসহ নানা দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে বক্তৃতা করেন হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক প্রমুখ। 

সর্বশেষ সব খবর

রাজধানীর নভোথিয়েটারে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ এএম

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস, মেশিন লার্নিং ও সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েই নয়, উচ্চশিক্ষা স্তরেও স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষাকে সমানভাবে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।


শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্লেনারি সেশনে তিনি এ কথা বলেন।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় শিক্ষাক্রমে এসব যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রমে বেশ কিছু নতুন বিষয় যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘খেলাধুলা’ ও ‘সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে আসছে আরও দুটি নতুন বিষয়, যার একটি হলো ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূলধারায় নিয়ে এসে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে কারিগরি শিক্ষার এই অংশটুকু সম্পন্ন করতে হবে।


উচ্চশিক্ষায় বাস্তবমুখী জ্ঞান


দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুঁথিগত বিদ্যা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। মাহদী আমিন বলেন, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য নিছক সনদ বা থিওরি যথেষ্ট নয়। থিওরি ও প্র্যাকটিসের উপযুক্ত সমন্বয়ের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের অর্জিত সনদকে কর্মসংস্থান ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির শক্ত হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাক্রম সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে।


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সারা দেশে প্রায় আড়াই হাজার কলেজ থাকার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি—কীভাবে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায় এবং বাস্তবতার নিরিখে পাঠ্যক্রমকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা যায়।’


এর পাশাপাশি দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেড় শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন জানান, তাঁদের লক্ষ্য হলো পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তব জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করা। এ কারণে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিমার্জনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


প্লেনারি সেশনটি সঞ্চালনা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। আলোচনায় আরও অংশ নেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ম তামিম, ইউনেসকো ঢাকা অফিসের শিক্ষা প্রধান এস কিয়াং কো, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ প্রমুখ।

সর্বশেষ সব খবর