• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩০ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৯:৩৩ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩০ পিএম

শান্তিনগরের মুদি দোকানি জাহিদ হাসানের দোকানে সব পণ্য পাওয়া গেলেও তিনি নিজের তিন বছরের কন্যাশিশুর জন্য খাদ্যদ্রব্য কেনেন ‘একটু উন্নত’ ডিপার্টমেন্ট-স্টোর থেকে। তার বিশ্বাস, ভালো ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর। দাম একটু বেশি হলেও তিনি সেখান থেকেই সন্তানের জন্য গুঁড়া দুধ, চকলেট, চিপস ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য কেনেন। 


পরীবাগের বাসিন্দা সালেহা চৌধুরী জানান, বাচ্চারা চকলেট, চিপস প্রভৃতি পছন্দ করে।


একটু বেশি দাম হলে ব্র্যান্ডের পণ্য কিনে থাকেন তিনি। শুধু তারাই নন, প্রত্যেক বাবা-মা সন্তানের জন্য একটু নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার খোঁজেন। ভালো ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্যকে নিরাপদ মনে করেন তারা। কিন্তু ‘ভালো ব্র্যান্ডের’ খাবারেও এখন ক্ষতিকর উপাদান মিলছে।


যেসব পণ্য মানুষ চোখ বন্ধ করে বাচ্চাদের জন্য কিনছেন তাতেও ভেজাল উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে। বাচ্চাদের প্রিয় গুঁড়া দুধ তৈরি হচ্ছে ভেজাল ‘হয়ে পাউডার’ দিয়ে (এক ধরনের সাদা পাউডার)। সেসবে ‘দুগ্ধ উপাদান’ খুবই সামান্য। সম্প্রতি ল্যাব টেস্টে গোয়ালিনী নামের গুঁড়া দুধে মাত্র ১৭ শতাংশ দুগ্ধ উপাদান পাওয়া গেছে। বাকি অন্তত ৬৭ শতাংশ ভেজাল উপাদান।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, সস্তার ‘হয়ে পাউডার’ মিশিয়ে চকচকে মোড়কে বাজারে বিক্রি হচ্ছে বাহারি মিল্ক পাউডার। আদালতে প্রমাণ হওয়ার পরও আইনের ফোকর গলে সামান্য শাস্তিতেই পার পেয়ে যাচ্ছে জড়িতরা। ক্রেতাদের বোঝার উপায় নেই যে, গুঁড়া দুধের নামে তারা বাচ্চাদের ‘হয়ে পাউডার’ খাওয়াচ্ছেন। এরকম অনেক মানহীন শিশুখাদ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। ভেজাল খাদ্যের ব্যাপারে সরকারের তৎপরতা খুবই সামান্য।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পণ্য সরকার নির্ধারিত মান নিশ্চিত না করেই বাজারজাত করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর উদাসীনতায় আইন থাকলেও কার্যকরী হচ্ছে না। যারা এসব করে তারা সহজেই ফোকর গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক, বিক্রেতা কাউকে উল্লেখযোগ্য শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে ভেজাল খাদ্য তুলে দিতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের মুখে। এমনকি আমদানি করা ‘উন্নত’ মানের পণ্যেও ভেজাল ধরা পড়ছে।


সম্প্রতি বেশ কিছু শিশুখাদ্যে ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা হয়েছে। মামলার নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হয়। বিদেশি পণ্যের আমদানিকারকদের শাস্তি দেওয়া হলেও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণহীন। ভেজাল প্রমাণিত হওয়ার পরও পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ অনুসন্ধানের জন্য যে ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল দরকার, তা এ খাতে নেই। বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


গুঁড়া দুধে দুগ্ধ উপাদান ১৭ শতাংশ


কয়েক মাস আগে ‘গোয়ালিনী ডেইলি ফুলক্রিম মিল্ক পাউডার’ গুঁড়া দুধের নমুনা সংগ্রহ করেছিল ডিএসসিসির খাদ্য পরিদর্শকরা। গোয়ালিনীর পণ্য রাসায়নিক ও ভৌত দুই পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হয়নি।


পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা গেছে, তাতে দুগ্ধ উপাদান আছে মাত্র ১৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। বাকি ৫৮.৯২ শতাংশ ভেজাল উপাদান। অন্যন্য উপাদানেও ভেজালের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। ৬৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভেজাল উপাদানে তৈরি হচ্ছে গোয়ালিনীর গুঁড়া দুধ।


গোয়ালিনী গুঁড়া দুধে দুগ্ধ চর্বির পরিমাণ থাকার কথা ছিল ৪২ শতাংশ বা তার কমবেশি। কিন্তু রাসায়নিক পরীক্ষায় এর পরিমাণ পাওয়া গেছে মাত্র ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৩৪ দশমিক ৪২ শতাংশ ভেজাল উপাদান। দুগ্ধ প্রোটিন কমপক্ষে ৩৪ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে মাত্র ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এখানে ভেজালের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।


গুঁড়া দুধ বলে বিক্রি হওয়া পণ্যটিতে দুগ্ধ উপাদানের পরিমাণ থাকার কথা ছিল অন্তত ৭৬ শতাংশ। অম্লতা থাকার কথা ছিল অনূর্ধ্ব ১৮ শতাংশ, গোয়ালিনীতে পাওয়া গেছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। লেডের নির্ধারিত মান শূন্য দশমিক ০২ থাকলেও এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ৫ শতাংশ আর্দ্রতার জায়গায় পাওয়া গেছে ৪ দশমিক ১১ শতাংশ।


প্যাকেটের গায়ে পুষ্টিগুণের তালিকা দেওয়া আছে। এসব পণ্য ল্যাবে পরীক্ষা করে তালিকার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। এমনকি স্ট্যান্ডার্ড মানের সঙ্গেও উপাদানের অনেক ফারাক পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


‘গোয়ালিনী ডেইলি ফুলক্রিম মিল্ক পাউডার’ নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহার ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। গত ১০ ডিসেম্বর স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথি ওই আদেশ দেন। নিম্নমানের গুঁড়া দুধ সরবরাহের দায়ে এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন আলমের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল একই আদালত। পরে আদালতে হাজির হয়ে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি এবং তাদের ভেজাল পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। গত ডিসেম্বর মাসে গোয়ালিনী গুঁড়া দুধের কিছু প্যাকেট ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


মামলার বাদী এবং প্রসিকিউটিং অফিসার মোহা. কামরুল হাসান বলেন, ‘দোষ স্বীকার করায় আদালত পণ্য ধ্বংসের আদেশ দেয়।’


এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন আলমের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। কোম্পানির অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি দেশের বাইরে গেছেন। তবে এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি কর্মকর্তারা।


তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু গোয়ালিনীই নয়, আসলাম টি কোম্পানির ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, একই কোম্পানির পূর্ণ ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ, ডানো ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, ড্যানিশ ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, ইনস্ট্যান্ট ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার (নেসলে) ও স্টারশিপ গুঁড়া দুধ ল্যাব টেস্টে উত্তীর্ণ হয়নি। এসব গুঁড়া দুধের আমদানিকারকদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে।


ভেজাল পণ্যের বিএসটিআই লোগো : বাজারজাত করা বেশ কয়েকটি গুঁড়া দুধের প্যাকেটে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) লোগো এবং কিউআর কোড দেখা গেছে। অন্যান্য পণ্যেও এই লোগো পেয়েছেন খাদ্য পরিদর্শকরা। তারা বলছেন, পণ্যের নমুনা নির্ধারিত মান পূর্ণ করলেই বিএসটিআই লোগো ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী গুঁড়া দুধ, চকলেট, বিস্কুট বা শিশুখাদ্যে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।


বিএসটিআই-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আইনে বাধ্যবাধকতা থাকায় ভেজাল অনেক পণ্যের প্যাকেটের গায়ে নকল লোগো এবং কিউআর কোড দেওয়া থাকে।


বিএসটিআইয়ের সমন্বয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘মানহীন অনেক পণ্যে বিএসটিআইয়ের নকল লোগো দেওয়ার অভিযোগ আছে। বিষয়টি মাথায় রেখে লোগোর সঙ্গে এখন কিউআর কোড দিয়ে দেওয়া হয়। গ্রাহকরা কিউআর কোড স্ক্যান করলে ওই পণ্য নিবন্ধিত কি না, নিশ্চিত হতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘বিএসটিআই নিবন্ধিত কোনো পণ্যে ভেজাল প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হয়।’


মানহীন কিটক্যাট চকলেট : পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আমদানি করা কিটক্যাট চকলেট অনেক শিশু-কিশোর, এমনকি বড়দেরও প্রিয়। কিন্তু এ চকলেটেই মান রক্ষা করা হচ্ছে না। ক্ষতিকর উপাদানসহ এ চকলেট ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ পণ্য শিশু-কিশোরদের না দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরো জোরালো করার তাগিদ দিয়েছেন।


সম্প্রতি, শিশু খাদ্যে ভেজাল সন্দেহে রাজধানীর ফকিরাপুলের আমানিয়া বেকারি অ্যান্ড সুইটস থেকে এক বক্স কিটক্যাট সংগ্রহ করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-২-এর নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোহা. কামরুল হাসান। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নমুনা জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগার এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরীক্ষার করে কিটক্যাট চকলেট মানসম্মত নয় বলে সনদ দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারদের নোটিস দেয় ডিএসসিসি। এরপর নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর ২৬, ৩৭, ৩৯ ও ৪০ ধারা লঙ্ঘনের জন্য ওই আইনের ৫৮ ধারায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে অভিযোগ করা হয়। গত বছর ৩ নভেম্বর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পুরান ঢাকার চকবাজারের সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মোজাম্মেল হোসাইনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তাছাড়া কোকোলা ওয়েফার নামক একটি শিশুখাদ্যে ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় পণ্যটি তুলে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিল আদালত।


শিশুস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি : এ নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ কার্যালয়ের উপপরিচালক (পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও গবেষণা) ডা. মো. আকতার ইমামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভেজাল পণ্যে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রেন ডেভেলপমেন্টে সমস্যা হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘এজন্য সরকারের আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হতে হবে।’


বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, ‘শিশু খাদ্য খুবই স্পর্শকাতর। এটার মান নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে থাকি। আমাদের ল্যাবে প্রতি বছর দেড় থেকে দুই হাজার নমুনা পরীক্ষা করার সক্ষমতা আছে। ল্যাবের সক্ষমতা আরো বাড়াতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘যেসব পণ্যে সন্দেহ হয় বা অভিযোগ পাওয়া যায় সেসব পণ্যের ব্যাপারে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। অনেক সময় ভালো ব্র্যান্ডের মোড়কেও ভেজাল পণ্য পাওয়া যায়।’ কারও গোপন কারখানা থাকলে, কোনো পণ্যে সন্দেহ হলে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বিষয় : গুঁড়া দুধ



সর্বশেষ সব খবর

সিলেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে


প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৪৫ পিএম

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সরকার নতুন নীতিমালা ও মূল্যবোধভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সিলেট বিভাগ দিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা হয়েছে।


তিনি আজ (রবিবার) সিলেট নগরীর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সেশন পরিচালনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। 


প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা হুবহু অনুসরণ নয় বরং বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। প্রাথমিক পর্যায়ে Foundational Learning শতভাগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয়, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশবরেণ্য বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নীতিমালার প্রথম খসড়া আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


তিনি বলেন, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে মিড-ডে মিল কর্মসূচি পাইলট পর্যায়ে রয়েছে। এর বাস্তবায়নে পাওয়া ত্রুটি সংশোধনে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তদারকি, কারখানা পরিদর্শন, খাদ্য প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ ও বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘মাদার্স কমিটি’ গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাইলটিং সফল হলে ২০২৭ সালের শুরু থেকে কর্মসূচিটি সারা দেশে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেও নীতিমালার আওতায় আনা হবে। এসব বিদ্যালয়ের কারিকুলাম, শিক্ষকের মান, অবকাঠামো ও শিক্ষা ক্যালেন্ডার নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।


সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখওয়াত এরশেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ রানা। এসময় সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৩২ পিএম

এনসিপিসহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে আপাতত সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান দেখেনি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 


তিনি বলেন, ‘এখন যারা তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটা অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।’


আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে 


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যায় না। 


এছাড়া পদ ছেড়ে দেওয়ার পরও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই হিসেবে, সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে। 


তিনি বলেন, ‘তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিধি-বিধান অনুযায়ী করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। এখন সেই সময়টায় সংবিধান অনুসারে, তিনি প্রিভিলেজড এবং ইমিউনিটি আছে তার, ফৌজদারি অপরাধ ইত্যাদির বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা করা যায় না।’


সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’র বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনি আইনানুগ যা সুবিধা পাবেন অবশ্যই পাবেন এবং তার প্রটেকশনের জন্য এসএসএফ-পিজিআর সুবিধা পাওয়ার ছয় মাসের বিধান আছে। এছাড়া পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে তার নিরাপত্তার বিষয় গ্রহণ করা হবে।


এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি আলাপ করেছেন-এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা এরকম একটা নিউজ দিল, কী তথ্য প্রমাণ আছে সেটা তাকেই জিজ্ঞেস করতে হয়। আমাদের কাছে সে রকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে হয় না, এটা আমার কাছে অলিক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়।’


এর আগে, গত ২৩ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। 


রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখনকার সময়ের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইনানুসারে চলবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 


তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেই সময় দায়িত্ব পালনকালীন তার বিরুদ্ধে কি কোনো অভিযোগ কেউ দিয়েছিল? দিয়ে থাকলে সেটা তখনকার সময়ে যদি কোনো কিছুর রেকর্ড করে থাকে সেটা তখনকার বিষয়, বিধি-বিধান অনুসারে চলবে, আইনানুসারে চলবে।’  


পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন, সংবিধানে আইনগতভাবে যা যা সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তার সবই নিয়ম অনুযায়ী পাবেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।


তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর বিশেষ সুরক্ষার জন্য এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাসের একটি নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। সেই ছয় মাসের নিরাপত্তার পূর্ণ সুযোগ তিনি নিয়ম অনুযায়ী পাবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাঁর নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনানুগভাবে তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তার সবই পাবেন।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাস দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। 

সর্বশেষ সব খবর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:২০ পিএম

লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি আলাপ করেছেন- এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা এরকম একটা নিউজ দিল, কী তথ্য প্রমাণ আছে সেটা তাকেই জিজ্ঞেস করতে হয়। আমাদের কাছে সে রকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে হয় না, এটা আমার কাছে অলিক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়।’


এর আগে, গত ২৩ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে বিশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। এদিকে এনসিপিসহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে। 


তবে এ বিষয়ে আপাতত সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান দেখেনি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এখন যারা তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটা অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।’ 


রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখনকার সময়ের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইনানুসারে চলবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 


তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেই সময় দায়িত্ব পালনকালীন তার বিরুদ্ধে কি কোনো অভিযোগ কেউ দিয়েছিল? দিয়ে থাকলে সেটা তখনকার সময়ে যদি কোনো কিছুর রেকর্ড করে থাকে সেটা তখনকার বিষয়, বিধি-বিধান অনুসারে চলবে, আইনানুসারে চলবে।’  


পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন, সংবিধানে আইনগতভাবে যা যা সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তার সবই নিয়ম অনুযায়ী পাবেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।


তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর বিশেষ সুরক্ষার জন্য এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাসের একটি নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। সেই ছয় মাসের নিরাপত্তার পূর্ণ সুযোগ তিনি নিয়ম অনুযায়ী পাবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাঁর নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনানুগভাবে তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তার সবই পাবেন।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাস দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৫৮ পিএম

সেনাবাহিনী সদর দফতরে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ (১ম পর্ব)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


আজ রোববার (২৬ জুলাই) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই পর্ষদের উদ্বোধন করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।


আইএসপিআর জানায়, প্রথম পর্বের এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে শহীদ হওয়া এবং আহত সেনা সদস্যদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন তিনি।


পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য ও উপযুক্ততার ওপর জোর দেয়ার নির্দেশ দেন।


দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য তিনি সেনাবাহিনীর সব সদস্যের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ প্রকাশ করেন।


অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 


পরে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

সর্বশেষ সব খবর

বঙ্গভবন ছেড়ে যাচ্ছে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের গাড়িবহর

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ পিএম

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছেড়েছেন। শুক্রবার পদত্যাগের পর আজ রোববার বঙ্গভবন ছাড়েন তিনি। বেলা আড়াইটার কিছু আগে সপরিবারে বঙ্গভবন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর বের হতে দেখা যায়। রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে নিজ বাসায় উঠবেন মো. সাহাবুদ্দিন।


গাড়ি বহরে রাষ্ট্রপতির গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৮টি গাড়ি দেখা গেছে। টানা ৩ বছর ৪ মাস পর রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সপরিবারে উঠছেন তিনি। পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ না করে ১ বছর ৮ মাস আগেই তিনি নিজের একান্ত নিবাসে ফিরে যাচ্ছেন। বঙ্গভবন ছাড়ার খবরে দুপুর থেকেই গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। উৎসুক জনতাও বঙ্গভবনের সামনের রাস্তায় জড়ো হন। দুপুর থেকেই বঙ্গভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপর থাকতে দেখা গেছে।


পদত্যাগের পর গুলশানের বাড়িটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে বাড়িটির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি। মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছাড়ার পর সেখানে এখন দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 


গত শনিবার সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ফোনে সমকালকে জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি শিগ্‌গির সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংকক যাবেন। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে এরই মধ্যে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ বলে জানালেন। চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে যাবেন তিনি।


সাবেক রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে শুক্রবার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, তিনি হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হওয়ায় ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক জটিল রোগেও আক্রান্ত। এর ফলে তিনি মাঝে-মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। 


সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে ক’দিন আগে থেকেই তার ব্যক্তিগত মামলাল গুলশানের বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। গুলশানের বাড়িটির পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কাজও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সর্বোচ্চ ওই বাসভবনটিতে আজ শনিবারই তার শেষদিন। গত ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। 


সংবিধানের চতুর্থ ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি ও অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৩৪ পিএম

আগামী বছরের জন্য হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ নিবন্ধন কার্যক্রম। এ সময়ের মধ্যেই হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। 


এতে বলা হয়, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়।


নিবন্ধন কীভাবে করবেন


সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে (hajj.gov.bd) ইউজার তৈরি করে যে কেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।


এ ছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।


নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যে কোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিত ব্যক্তিদের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের আগে হজযাত্রীদের ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে। 


সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে। 


তবে বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।


পাসপোর্টের মেয়াদ


প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরন ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।


১৫ বছরের কম বয়সীরা হজে যেতে পারবে না


ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবে না। এ ছাড়া দুরারোগ্য ব্যাধি- যেমন- হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়বিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমনেশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন- এমন ক্যানসার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবেন না।


জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন-যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবেন না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো নারী হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবেন না।


প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের তথ্য, জেলা, হজের ধরন ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর