সর্বমিত্র চাকমা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠে লাঠি হাতে নিয়ে কিশোরদের কান ধরিয়ে উঠবস করানোর ঘটনার দায় স্বীকার করে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-২ ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ চলছিল। এতে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র এখনো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি এবং বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপও দেখা যায়নি।
সর্বমিত্র চাকমা পোস্টে লেখেন, নিয়মিতভাবে বহিরাগতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে মাঠে প্রবেশ করছিল। নিষেধ করা হলে তারা তা অমান্য করে উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়ে পালিয়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। এমন পরিস্থিতিতে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে গিয়ে তিনি একপর্যায়ে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হন বলে জানান সর্বমিত্র চাকমা। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এজন্য তিনি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন, তা পূরণ করতে পারিনি। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার দায় মাথায় নিয়েই আমি ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, কারও প্রতি ক্ষোভ বা অভিমান থেকে নয়।’
এর আগে রোববার ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমাকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে একদল কিশোরকে কান ধরিয়ে উঠবস করানোর দৃশ্য দেখা যায়। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এছাড়া নানা সময়ে প্রক্টরিয়াল টিমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে বহিরাগত অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযানে সমালোচিত হন তিনি।
পে-স্কেল
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও এখনো প্রকাশ হয়নি নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ এর গেজেট। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করা হলেও গেজেট ও বাস্তবায়ন নির্দেশনা জারির অপেক্ষা রয়েছে।
এর মধ্যেই নতুন পে স্কেলে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, ইনক্রিমেন্ট, মোবাইল, যাতায়াত ও টিফিন ভাতাসহ ১১টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার বিষয়টি সামনে এসেছে। পাশাপাশি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমা কমানো, প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য নতুন ভাতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে মূল বেতন একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
সাম্প্রতিক সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে এবং অন্যান্য ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
১. বাড়িভাড়া ভাতার হার কমছে
নতুন পে-স্কেলের অন্যতম বড় পরিবর্তন বাড়িভাড়া ভাতা। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাড়িভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বর্তমানে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ বাড়িভাড়া দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
যদিও তবে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় শতাংশ কমলেও বাড়িভাড়ার প্রকৃত টাকার অঙ্ক গ্রেডভেদে বাড়তে পারে। অর্থাৎ ভাতার হার কমিয়ে মূল বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে মোট আর্থিক সুবিধার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
২. বয়স-ভেদে চিকিৎসাভাতা
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা পান। নতুন কাঠামোয় বয়স-ভেদে এ ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
৫০ বছর পর্যন্ত বয়সী চাকরিজীবীরা মাসে ৩ হাজার টাকা, ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা, ৬০ বছরের বেশি থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসাভাতা পাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও বয়স অনুযায়ী চিকিৎসাভাতা বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
৩. গ্রেডভেদে কমবে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি
বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবী মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। নতুন কাঠামোয় এ অভিন্ন হার আর থাকছে না।
গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-৬ পর্যন্ত ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। গ্রেড-৫-এ এ হার ৪ শতাংশ, গ্রেড-৪ ও ৩-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হচ্ছে।
অর্থাৎ উচ্চ বেতনভোগী কর্মকর্তাদের মূল বেতন বেশি হলেও প্রতিবছর বেতন বৃদ্ধির শতাংশ তুলনামূলক কম হবে। সশস্ত্র বাহিনীতেও একই ধরনের কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে।
৪. সব গ্রেডে চালু হচ্ছে মোবাইল ভাতা
নতুন বেতন-কাঠামোয় প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা মোবাইল বিল পেয়ে থাকেন।
নতুন প্রস্তাবে প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডে মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এর ফলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরাও প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট মোবাইল ভাতার আওতায় আসবেন। নতুন কাঠামোয় বিশেষ চাহিদা-সম্পন্ন সন্তানের জন্যও মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
৫. যাতায়াত ভাতা দ্বিগুণ
জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহণ খরচ বিবেচনায় যাতায়াত ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে মাসে ৩০০ টাকা পাওয়া গেলেও নতুন কাঠামোয় তা বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতার কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা সহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি-বিনোদন ভাতার বিদ্যমান হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
৬. টিফিন ভাতা বাড়ছে ৩০০ টাকা
নতুন কাঠামোয় টিফিন ভাতাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বর্তমানে মাসে ২০০ টাকা টিফিন ভাতা দেওয়া হয়। এটি বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
একই সঙ্গে ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
৭. প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য নতুন ভাতা
নতুন পে-স্কেলে প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদা-সম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য ভাতা চালু করা হচ্ছে।
প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ দুই সন্তান এ সুবিধার আওতায় আসবে। অর্থাৎ একজন কর্মচারী এ খাতে মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পেতে পারেন।
৮. বাংলা নববর্ষ ভাতা কমছে
কয়েকটি ভাতা বাড়ানো হলেও বাংলা নববর্ষ ভাতার হার কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এ ভাতা দেওয়া হয়।
নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে পাহাড়ি ভাতা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চরভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই থাকবে। তবে এসব ভাতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে।
ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান হারের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।
৯. পেনশনে আসছে পরিবর্তন
এক গ্রেড এক পেনশন বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নিট পেনশনের নতুন সীমা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা হতে পারে।
পেনশন কাঠামোর এই পরিবর্তনের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্তদের চিকিৎসা-ভাতাও বয়স-ভেদে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন বেতন-কাঠামোর আওতায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা নির্ধারণের বিষয়টি গেজেট ও পরবর্তী বাস্তবায়ন নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট হবে।
১০. উচ্চতর গ্রেড ও বিশেষ প্রণোদনায় পরিবর্তন
বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে পদোন্নতি না হলেও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন কাঠামোয় এ সময় কমিয়ে ৮ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পেতে একই গ্রেডে আরও ছয় বছর চাকরির শর্ত রাখা হচ্ছে।
পদোন্নতিযোগ্য পদে কর্মরতরা পদোন্নতি না পেলে চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার এ সুবিধা পাবেন। আর পদোন্নতির সুযোগ নেই এমন ‘ব্লকড পদে’ কর্মরতরা সর্বোচ্চ তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাবেন।
এদিকে ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশেষ প্রণোদনাও নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হবে। প্রথমে মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে চালু করা এ প্রণোদনা পরে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল।
১১. সশস্ত্র বাহিনীর বেতন-ভাতাতেও বড় পরিবর্তন
জাতীয় বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর বেতন ও ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নন-কমব্যাট্যান্ট (এনরোল্ড) বা এনসি (ই) এবং সমতুল্য পদে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২১ হাজার টাকা এবং মেজর জেনারেল ও সমপদে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদকে গ্রেড-২ এবং কর্নেল ও সমপদকে গ্রেড-৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিমানবাহিনীর ফ্লাইং পে বাড়ানোর পাশাপাশি কমান্ড, স্টাফ, টিচিং, কোয়ালিফিকেশন, ডিস্টার্বেন্স ও বিশেষজ্ঞ বেতন ১০ শতাংশ করে এবং দক্ষতা, নিযুক্তি, প্যারাসুট, কমান্ডো বা স্নাইপার, স্কুবা ডাইভিং ও সদাচরণ বেতন ১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। জরিপ ভাতা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিদ্যমান ৮১ ধরনের ভাতাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ভাতা, কিট ভাতা, ডেঞ্জার মানি, দোভাষী ও শিক্ষকতা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা বিদ্যমান হারের তুলনায় ১০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
তবে বাড়িভাড়া, যাতায়াত, কার্যভার, আপ্যায়ন, টিফিন, ধোলাই, পাহাড়ি, উৎসব, শ্রান্তি-বিনোদন, নববর্ষ, শিক্ষা সহায়ক, চিকিৎসা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের অনুরূপ হবে।
২৪ লাখ চাকরিজীবী, সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত উপকৃত হওয়ার কথা
সরকারের হিসাবে নতুন বেতন কাঠামোয় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।
নতুন কাঠামোয় গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১-এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ।
নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এখন অর্থ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়ন নির্দেশনা জারির অপেক্ষা রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর সময় নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সবাই সম্মত হয়েছেন। কমিশন সভায় আলোচনা শেষে নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
আজ বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সংসদ নির্বাচনের মতোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ৬ জুনের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে বৈঠকে সবাই সম্মত হয়েছেন। কমিশন যে প্রাথমিক সময়ের কথা জানিয়েছিল, সেটি সম্ভাব্য সময় ছিল।
নভেম্বর থেকে নির্বাচন শুরু হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, বৈঠক থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কমিশন সভায় আলোচনা করা হবে। এরপর নির্বাচনের সময় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদেরও বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য বলা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সরকার রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।
দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি যে দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ; তারা তাদের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।
মেধাবীদের উৎসাহিত ও সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করতে পারলে এর সুফল অবশ্যই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং দেশ পাবে। এতে দেশ ও দেশের মানুষ উপকৃত হবে।
সরকার গঠনের পর থেকে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার অংশ হিসেবেই এই হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ী মাদরাসার শিক্ষকরা তাদের কিছু সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। এটার সমাধানের কোনো পথ আমাদের কাছে আছে কি-না বা থাকলে সেটা কী, যদি সম্ভব হয়, ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা দেখব। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমরা ইনশাআল্লাহ সেটা দেখার অবশ্যই চেষ্টা করব।
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আপনারা নিয়মমতো আমাদের জানাবেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সেই ব্যবস্থা করব। আমরা চাই আমাদের ছেলে-মেয়েরা এ রকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করুক এবং দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব নিয়ে আসুক।
দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের হয়তো কাজের ধরনটা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য একই। সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন করা, যাতে সবাই মিলে আমরা ভালো থাকতে পারি। মানুষ যাতে মানুষের মতো করে বেঁচে থাকতে পারে। আমরা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে চলতে চাই এবং দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চাই।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের বই উপহার দেন। এর আগে হাফেজরা প্রতিযোগিতায় যে সূরা তিলাওয়াত করে পুরস্কার জিতেছেন, সেই সূরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে দ্বিতীয় হন। এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুন এবং মাওলানা রফিকুল ইসলামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তাঁর স্ত্রী পান্নার দেশ-বিদেশের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অনুসন্ধানের স্বার্থে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করতে সংস্থাটি চিঠি দিয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র আজকের পত্রিকাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রটি জানায়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, শেল কোম্পানি গঠন, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে তাঁর এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির আর্থিক কর্মকাণ্ডের তথ্য চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাধীন বিভিন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে থাকা বন্ধ, সুপ্ত ও চলমান হিসাবের তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণ হিসাবের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, বিনিয়োগ, ব্যাংক হিসাব এবং অর্থ পাচার ও শেল কোম্পানি গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ করা হয়েছে। এসব দেশের বিএফআইইউর সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে।
দুদকের নথি অনুযায়ী, অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। ওই দলের নেতৃত্বে থাকা কর্মকর্তার চাহিদার ভিত্তিতেই বিএফআইইউর কাছে এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এদিকে আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার উদ্যোগ নিয়েছে দুদক। অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, অনুসন্ধান চলাকালে আসিফ মাহমুদ দেশ ছেড়ে গেলে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে।
দুদক সূত্র বলছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, সরকারি পদে নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন, টেন্ডার-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এর মধ্যে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ দিয়ে বিদেশে ভিলা কেনা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ রাখার অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান মো. কামরুল আহসান
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি পাওয়া মো. কামরুল আহসানকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার আরও পাঁচ কর্মকর্তাকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।
এদিকে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসানকে ঢাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এর ফলে তিনি এসবি প্রধানের দায়িত্বও পালন করবেন। এত দিন এসবি প্রধানের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিনকে পুলিশ অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে।
ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া মো. সায়েদুর রহমানকেও পুলিশ অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্ব) থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া মো. মাইনুল হাসানকে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ), রাজশাহীর সারদার অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এত দিন বিপিএর অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমানকে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া মো. ইকবাল হোসেনকে পুলিশ অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ডিআইজি পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তার বদলি
এদিকে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঢাকা রেঞ্জ ও খুলনা রেঞ্জে ডিআইজি হিসেবে দুজনকে পদায়ন করা হয়েছে।
অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট, ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখায় (সিটি এসবি), রেলওয়ে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়েছে। এসবি ঢাকার ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশের অ্যান্টিটেররিজম ইউনিটের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিমকে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) পদে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) মেট্রোরেল পুলিশের ডিআইজি সিদ্দিকী তানজিলুর রহমানকে ঢাকায় সিটি এসবির ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরুর তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ২৪ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরু হবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি বুধবার উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত থাকলেও পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ওইদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকবে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পুনর্নির্ধারণ করা হলো।