জাপানে ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত শক অ্যাবজরবার
‘ঢাকায় কি আজ ভূমিকম্প হয়েছে?’ এমন প্রশ্ন লিখছেন অনেকে; কেউবা আবার ইংরেজিতে 'আর্থ কোয়েক টুডে' লিখে গুগলে সার্চ করছেন।
গত ২১ নভেম্বর সকালে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে গোটা বাংলাদেশে যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে সপ্তাহ পেরিয়েও তা থেকে বের হতে পারেননি অনেকে। এক সপ্তাহের মধ্যে ছয়বার কম্পন অনুভূত হওয়ায় বলতে গেলে আতঙ্ক ফিরে ফিরে এসেছে। ফলে ভূমিকম্প নিয়ে নানা প্রশ্ন জানতে চাইছে মানুষ।
তবে বাংলাদেশের কাছাকাছিই এমন দেশ রয়েছে, যেখানে ভূমিকম্প প্রায় নিত্যদিনের ব্যাপার। দেশটি বাংলাদেশের পূর্বদিকের একটু দূরবর্তী প্রতিবেশী জাপান। সে দেশে বছরে প্রায় দেড় হাজারের মতো ভূমিকম্প হয়, সুনামির সতর্কতাও দেওয়া হয় বিভিন্ন সময়।
তাহলে জাপান কীভাবে ভূমিকম্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে?
দেশটিতে অসংখ্য বহুতল ভবনও রয়েছে। নিয়মিত ভূমিকম্পের মধ্যে থাকা একটি দেশ আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিংবা কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখে? এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কয়েকটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠা বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে কী শিখতে পারে?
তার আগে জেনে নেওয়া যাক, জাপানে এত ভূমিকম্প কেন হয়।
জাপানি দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অব ফায়ার'-এর ওপর অবস্থিত। যেখানে ইউরেশিয়ান, ফিলিপাইন ও প্যাসিফিক টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়েছে। অর্থাৎ জাপান তিনটি মিলিত টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থান করছে। এটিকে পৃথিবীতে ভূতাত্ত্বিকভাবে সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চল বলা হয়।
এই ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার কারণেই জাপানে এত ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
এর মধ্যে অনেক ছোট ভূমিকম্প সাধারণ মানুষ হয়তো টেরই পায় না, আর মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প দেশটিতে একরকম স্বাভাবিক ঘটনা। তবে, অনেকবার বড় ভূমিকম্পের সাক্ষীও হয়েছে জাপান।
জাপান থেকে শেখার যা আছে
বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায় প্রতিবছরই আবির্ভূত হয়। আর তা হয় এখানকার আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে। দুর্যোগ হিসেবে ভূমিকম্প এখানে বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো নিয়মিত নয়।
দেশটিতে সরকারি ও নাগরিক পর্যায়ে বন্যা বা ঘূর্ণিঝড় নিয়ে যতটুকু প্রস্তুতি থাকে, ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ততটুকুও নেই। বাংলাদেশে ভূমিকম্পে ঝাঁকুনির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা ছাড়া এ নিয়ে আর কোনো ধারণা পাওয়া যায় না সাধারণ আলাপচারিতায়।
এমন প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভূমিকম্পের বিষয়ে জাপানের কাছ থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে।
জাপানের সঙ্গে আর্থসামাজিক পার্থক্যকে বিবেচনায় রেখেও তারা বলছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার মতো কিছু বিষয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটিকে অনুসরণ করতে পারে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের একজন ভূতত্ত্ববিদ ও ভূমিকম্প বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ূন আখতার বলেন, গত ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্প বাংলাদেশে যেভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, জাপানের নাগরিকরা সাধারণত সেভাবে ভয় পান না।
তার জন্য, প্রতিনিয়ত ভূমিকম্পের মুখোমুখি হওয়াকেই একমাত্র কারণ বলে মনে করেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের এই অধ্যাপক। বরং 'সচেতনতা ও প্রস্তুতি'র কারণেই সেটি সম্ভব হয়েছে, যোগ করেন তিনি।
অধ্যাপক আখতার যে ‘প্রস্তুতি’র কথা বলছিলেন, একেবারে অল্প বয়স থেকেই প্রত্যেক জাপানি নাগরিক তার মধ্য দিয়ে যায় বলে জানান বাংলাদেশি স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব।
তিনি বলেন, ‘জাপানে একটা বাচ্চা জন্মের পর থেকেই ভূমিকম্পের বিষয়ে শেখা শুরু হয়। নিয়মিত মহড়ার মধ্য দিয়ে তারা জানে তাৎক্ষণিক কী করতে হবে।’
শৈশবে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির জন্য স্কুলগুলোতেও নিয়মিত মহড়া হয়। শিশুরা মহড়ায় ডেস্কের নিচে আশ্রয় নেওয়ার অনুশীলন করে। ভূমিকম্পের পরপর তার নিরাপদ আশ্রয়ের স্থান কোথায় হবে তা সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয় তাদের। সাধারণত ১৫ দিন পরপর এ ধরনের অনুশীলন হয় বলে জানা যায়।
নিয়মিত ড্রিল (মহড়া) করতে বিশেষ অর্থের প্রয়োজন নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য জায়গায় সেটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা যেতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক হুমায়ূন আখতার।
জাপানে নিকটতম আশ্রয়কেন্দ্র যেমন পার্ক বা খেলার মাঠ কোথায় অবস্থিত, সে সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা থাকে, যাতে তারা ভবন থেকে নিরাপদ জায়গায় সরে আসতে পারে।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ অন্য বড় শহরগুলোতে তেমন নিরাপদ জায়গা নিশ্চিত করা ও সেটি সম্পর্কে সবাইকে অবগত করার কথা বলছেন স্থপতি ইকবাল হাবিব।
জাপানে অবকাঠামোগত নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। বড় শহরের উঁচু ভবনগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে ভূমিকম্পের সময় সেগুলো কাঁপে না, বরং দুলতে থাকে, যা এগুলোকে নিরাপদ করে তোলে।
বাংলাদেশে তেমন সুউচ্চ ভবন অপেক্ষাকৃত কম।
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, বাংলাদেশেও সাধারণত সুউচ্চ ভবনগুলো বিল্ডিং কোড মেনে ভূমিকম্প সহনীয় হিসেবে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু, অপেক্ষাকৃত ছোট ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনগুলোর ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড মানা হয় না এবং ভূমিকম্পের আঘাত সামলানোর মতো নির্মাণশেলী প্রয়োগ করা হয় না।
এই ভবনগুলোই অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এ ক্ষেত্রেও জাপানকে অনুসরণ করে 'অবকাঠামোগত নিরাপত্তা কার্যকর' করার ওপর জোর দেন তিনি।
এ ছাড়া রেজিলিয়েন্স প্ল্যান বা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা কার্যকর করা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
জাপানে আকাশচুম্বী ভবনগুলো কীভাবে ভূমিকম্পে টিকে থাকে
বছরজুড়ে শত শত কম্পন সহ্য করার পরও জাপান কী করে বিশ্বের সবচেয়ে 'স্থিতিস্থাপক' ভবনগুলোর আবাসস্থল, তা একটি কৌতূহলের বিষয়।
স্থিতিস্থাপকতার মানে হলো, কোনো আঘাত বা চাপের ফলে কিছুটা সরে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসার ক্ষমতা। জাপানের ভবনগুলোর স্থিতিস্থাপকতার রহস্য লুকিয়ে আছে মূলত মাটির নিচে 'নেচে ওঠার' ক্ষমতায়।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ও সহযোগী অধ্যাপক জুন সাতো বলেন, ‘জাপানের টাওয়ার ব্লকগুলো সাধারণ ভবন নয়। দেশটিতে সব ভবন, ছোট বা অস্থায়ী হলেও, ভূমিকম্প-সহনশীল হতে হয়।’
প্রকৌশলীরা দুটি প্রধান পর্যায়ে স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে কাজ করেন বলে জানা যায়—প্রথম পর্যায় হলো স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করা। তেমন ভূমিকম্পে মেরামত করার মতো কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। ভবনের নকশা এমনভাবে করা হয়, যাতে এসব ভূমিকম্পে কোনো ক্ষতি না হয়। দ্বিতীয় পর্যায় হলো, ভয়াবহ ভূমিকম্প সহ্য করা, যা অপেক্ষাকৃত বিরল।
এ ক্ষেত্রে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয় জাপানের ইতিহাসে অন্যতম প্রলয়ংকরী গ্রেট কান্তো ভূমিকম্পকে। ১৯২৩ সালের ৭ দশমিক ৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পে টোকিও ও ইয়োকোহামা বিধ্বস্ত হয় এবং এক লাখ ৪০ হাজারের এর বেশি মানুষ নিহত হয়।
এই মাত্রা বা তার চেয়ে বড় ভূমিকম্পে ভবনকে সম্পূর্ণ অক্ষত রাখা আর লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় না। প্রাণহানি এড়ানোই মূল লক্ষ্য।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ জিগি লুবকোভস্কি বলেন, ‘আপনি ভবনগুলো মানুষের জীবন রক্ষার জন্য নকশা করেন। এটাই এক্ষেত্রে ন্যূনতম শর্ত।’
আর সাতোর মতে, ‘যখন কোনো কাঠামো ভূমিকম্পের সব শক্তি সহ্য করতে বা শুষে নিতে পারে, তখনই আর এটি ধসে পড়বে না।’
সিসমিক আইসোলেশন নামে একটি প্রক্রিয়া এ ক্ষেত্রে কাজ করে।
ভবনগুলোকে এমন একধরনের বিয়ারিং বা শক অ্যাবজরবার (আঘাত সহনীয় বস্তু) এর ওপর বসানো হয়, যা ভূমিকম্পের প্রভাবে নড়াচড়া প্রতিরোধ করে।
কখনো কখনো ৩০ থেকে ৫০ সেমি পুরু রাবারের ব্লক ব্যবহার করা হয়। যেখানে ভবনের কলাম ফাউন্ডেশন বা ভিত্তির সঙ্গে জুড়ে থাকে, সেখানে এই রাবার প্যাড বসানো হয়।
এ ছাড়া মোশন ড্যাম্পার ও মেশ স্ট্রাকচারের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিও প্রয়োগ করা হয় ভূমিকম্প সহনশীলতা বাড়াতে। মোশন ড্যাম্পারগুলো দেখতে অনেকটা সাইকেলের পাম্পের মতো, তবে এতে বাতাসের বদলে তরল থাকে।
লুবকোভস্কি বলেন, ‘একটি উঁচু ভবন হয়তো দেড় মিটার বা পাঁচ ফুট নড়তে পারে। কিন্তু যদি নির্দিষ্ট স্তরে, প্রতি দ্বিতীয় তলায় ড্যাম্পার বসানো হয়, তবে সেই নড়াচড়া অনেক কমে যায়। ফলে সুপারস্ট্রাকচারের (ওপরের কাঠামোর) ক্ষতি রোধ হয়।’
আর মেশ স্ট্রাকচার ব্যবহার ভবনের সাপোর্টগুলোকে বাঁকানো থেকে রক্ষা করে। যদি একটি অংশ বাঁকতে শুরু করে, কাছাকাছি থাকা অন্য অংশ তা ঠেকায়। এসব প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের কাজে লাগিয়েই দিনের পর দিন ভূমিকম্পের সঙ্গে বসবাস করে আসছে জাপানিরা।
যদিও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তির চেয়ে প্রস্তুতিমূলক মহড়া ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
একই সঙ্গে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান যাতে সবাই মেনে চলেন তা নিশ্চিত করার তাগিদ তাদের। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিমত, এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া গতিশীল করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবস্থাপনা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ পাঁচ সদস্যের ‘কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দল’ (প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন টিম - পিআইটি) পুনর্গঠন করেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) অর্থ বিভাগের বাজেট শাখা-৩ থেকে জারি করা এই সংক্রান্ত বিশেষ প্রজ্ঞাপনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা ও প্রেক্ষাপট
প্রজ্ঞাপনটি গত ২৮ অক্টোবর জারি করা হলেও তা রোববার প্রকাশ করা হয়। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুনর্গঠিত এই দলের মেয়াদ ও কার্যকারিতা ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।
অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আনিছুর রহমান বালীর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটির অনুলিপি এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রধান দপ্তরসমূহে পাঠানো হয়েছে। মূলত অর্থ বিভাগ প্রণীত ‘সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ (পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট - পিএফএম) সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পিএফএম কর্মপরিকল্পনার আওতাধীন ‘কম্পোনেন্ট-২: ডমেস্টিক রিসোর্স মোবিলাইজেশন (ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউ)’ নামক কৌশলগত অংশ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই এই দল পুনর্গঠন করা হয়েছে।
পুনর্গঠিত টিমের সদস্যবৃন্দ
অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ে আধুনিক কৌশল প্রয়োগ ও তদারকি জোরদার করতে এনবিআরের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ৫ সদস্যের এই উচ্চপর্যায় কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন:
* দলনেতা: কাজী লতিফুর রহমান — সদস্য (চলতি দায়িত্ব) (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
* সদস্য: মো. মনিরুজ্জামান — পরিচালক, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), এনবিআর।
* সদস্য: সিরাজুম মুনীর — প্রথম সচিব, কর অডিট, ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন, এনবিআর।
* সদস্য: তারেক হাসান — প্রথম সচিব, কাস্টমস নীতি, এনবিআর।
* সদস্য: নাজমা জ্যাবিন — দ্বিতীয় সচিব, কাস্টমস আধুনিকায়ন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, এনবিআর।
মূল দায়িত্ব ও প্রত্যাশা
পুনর্গঠিত এই দলটি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা (পিএফএম) কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে:
* দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিত করা।
* কাস্টমস ও কর নীতি আধুনিকীকরণ।
* কর ফাঁকি রোধে সিআইসি ও অডিট শাখার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা।
* কাস্টমস ডিজিটালাইজেশন ও নতুন রাজস্ব নীতি প্রণয়নের কাজ ত্বরান্বিত করা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি টেকসই ও স্বনির্ভর রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনবিআরের এই বাস্তবায়ন দল একটি কার্যকর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।
শ্রম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় গিয়ে কাজে ফেরার আহ্বান জানান শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। সোমবার ঢাকার বিজয়নগরে শ্রম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তৈরি পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার। এ সময় ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত না থেকেও আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দয়া করে আপনারা কারখানায় ফিরে কাজে যোগ দিন। আমরা আপনাদের ন্যায্য মজুরির জন্য লড়াই করব। প্রয়োজন হলে আন্দোলনে যোগ দিতে আপনাদের ডাকব।’
তিনি বলেছেন, ‘আমরা মজুরি বোর্ডে এমনভাবে কাজ করব, যাতে আগামী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা বাড়তি মজুরি হাতে পান। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ার কোনো কারণ নেই। সভা করার অজুহাতে নতুন মজুরি কার্যকরে কোনো বিলম্ব হতে দেব না।’
বাবুল আখতার বলেন, ‘চলমান মজুরি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অজুহাতে কিছু শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেসব শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা শুধু মজুরি–সংক্রান্ত ন্যায্য দাবি উত্থাপন বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে আটক হয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হোক।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রমিক ভাইবোনদের আশ্বস্ত করতে চাই, মজুরি বোর্ডে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব। আমরা একা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। সব শ্রমিক ফেডারেশন, কারখানাভিত্তিক ইউনিয়ন এবং সাধারণ শ্রমিকদের মতামত নিয়ে একটি সম্মিলিত অবস্থান তৈরি করতে চাই।’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার ও মালিকপক্ষকে বলতে চাই, একটি গ্রহণযোগ্য মজুরিকাঠামো নির্ধারণের জন্য শ্রমিকদের বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, পরিবারের মৌলিক চাহিদা এবং শিল্পের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন। আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার, আবুল হোসাইন, লাভলী ইয়াসমিন, সুলতানা বেগম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, চলমান আন্দোলনে শ্রমিকদের কোনো উপকার হচ্ছে না; বরং এতে তাদের ন্যায্য দাবিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে কারখানার মালিকেরা ক্রয়াদেশ হারাচ্ছেন। শ্রমিকদের আন্দোলনে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করেছে কিনা, তা চিহ্নিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রোববার তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দাবি পূরণ হওয়ায় সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমকিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা।
বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কেমিক্যাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে অভিযান চালিয়ে ৮১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন কেমিক্যালের সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। রোববার এ অভিযানে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মেসার্স এমআর ট্রেডার্সের গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে
এনবিআর বলছে, একই সঙ্গে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ৪৫ মেট্রিক টন কেমিক্যালের হদিস দিতে না পারায় সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযানে মেসার্স এমআর ট্রেডার্সের গুদামে সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটসহ প্রায় ৮১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল মজুদ পাওয়া যায়।
তবে এসব পণ্য ক্রয়, আমদানি কিংবা বৈধভাবে মজুদ রাখার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পরে মজুদ করা পণ্যসহ গুদামটি সিলগালা করা হয়। অন্যদিকে, সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডেও অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দার একটি দল।
প্রতিষ্ঠানটি গত ১৭ অক্টোবর ভারত থেকে বন্ড সুবিধায় ৪৫ মেট্রিক টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট আমদানি করে। তবে সরেজমিনে আমদানি করা কেমিক্যালের মজুদ দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা এসব কেমিক্যাল উৎপাদন কাজে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
এনবিআর বলছে, একদিকে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কেমিক্যালের হদিস নেই, অন্যদিকে নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের গুদামে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল পাওয়া গেলেও সেগুলোর বৈধ কাগজপত্র নেই। এ দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জব্দ কেমিক্যালের প্রকৃত উৎস, আমদানি ও কেনা-বেচার তথ্য, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং এর মাধ্যমে সরকারের কী পরিমাণ শুল্ক-কর ফাঁকি হয়েছে, তা নিরূপণে তদন্ত চলছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্কমুক্ত কাঁচামালের অবৈধ বাজারজাতকরণ এবং রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চলবে।
সচিবালয়ে পোশাক শিল্প মালিকদের দুটি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
দেশের পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন,‘এ কাজে কিছু শিল্প মালিকও জড়িত রয়েছেন বলে সরকারের কাছে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের আলোচনা চলার মধ্যে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। এ ঘটনায় জড়িত শিল্প মালিক, শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।’
সচিবালয়ে সোমবার পোশাক শিল্প মালিকদের দুটি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যেসব শিল্প মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তাঁদের তালিকা সরকারের কাছে জমা দেবেন মালিকপক্ষ। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত সন্দেহভাজন শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের নামের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব শিল্প মালিকের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, যারা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে কেউ সংসদ সদস্য, কেউ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, সেসব শিল্প মালিক এই অস্থিরতার পেছনে কাজ করছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে এবং এর প্রমাণও রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠনের আলোচনা চলছে। এমন একটি সময়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন কেউ কেউ। এর পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে। দুঃখজনক হলেও কিছু শিল্প মালিক এ কর্মকাণ্ডে জড়িত। পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা এমন কিছু ব্যক্তিও জড়িত, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে শ্রমিকদের কল্যাণ চান কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শ্রমিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। বরং এর ফলে দেশের শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কারখানা বন্ধের তালিকা চেয়েছে সরকার
বৈঠকে শিল্প মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু শিল্প মালিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের কারখানা বন্ধ রেখেছেন। এমন কারখানা ও মালিকদের তালিকা সরকারকে দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কারখানার তালিকা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রাখা শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের নামও দিতে বলা হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে, কোনো শ্রমিক কিংবা শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে না। তবে ভুলক্রমে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ইন্ধন দিয়ে থাকলে কিংবা জড়িত থাকলে তাঁদের সেখান থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা করবে। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি কিংবা রাজনৈতিক কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সীমান্তের ওপার থেকে ইশারায় কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।
শিল্প কারখানা বন্ধ চায় না সরকার
পোশাক খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো শিল্প কারখানা বন্ধ হোক, তা চায় না। এক মুহূর্তের জন্যও কোনো কারখানা বন্ধ থাকুক, সেটি সরকারের কাম্য নয়। একইভাবে শিল্প খাতে কোনো ধরনের অস্থিরতাও চায় না সরকার।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা জরুরি। শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর
এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও একটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে যাচ্ছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে। এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘মুরাসু’। গত ২৭ অক্টোবর অন্ধ্রের উপকূলে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। নামটি ছিল বাংলাদেশের দেওয়া। আর ‘মুরাসু’ নামটি দিয়েছে ভারতই। এটি আজ সোমবার সন্ধ্যার দিকে আঘাত হানতে পারে বলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।
‘মুরাসু’একটি তামিল শব্দ। এর অর্থ হলো বিশাল আকারের ড্রাম বা রণঢাক জাতীয় বাদ্যযন্ত্র। কোনো দুর্যোগ সম্পর্কে বা কিছু ঘোষণা করতে, সবাইকে সচেতন করতে এই বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয়। অনেক সময় এটিকে যুদ্ধের বাদ্য হিসেবেও ধরে নেওয়া হয়। এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আকার নিতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক আজ সকালে বলেন, গতবার অর্ণব যেখানে আঘাত হেনেছিল, সেখান থেকে বেশ অনেকটা দূরে আরও উত্তরে প্রবল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে আজই।
আগের ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূল এবং দেশের নানা স্থানে বৃষ্টি হয়েছিল। এর পরিমাণ বেশি না হলেও তাতে কয়েক দিনের তাপপ্রবাহ কমে গিয়েছিল। তাহলে এবারের ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের ওপর প্রভাব কী?
ওমর ফারুক বলেন, অর্ণবের যেমন প্রভাব ছিল, তার চেয়ে মুরাসুর প্রভাব অনেকটাই কম হতে পারে। এতে বৃষ্টির সম্ভাবনা তেমন নেই। তবে আজ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। তবে তাতে বৃষ্টি হবে, এমন সম্ভাবনা কম। আগামীকাল মঙ্গলবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা তেমন নেই। আসলে বাংলাদেশের উপকূল থেকে মুরাসুর এবারের সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল অনেকটাই দূরে।
এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গরম কমছে না। গত মাসে কয়েক দফায় তাপপ্রবাহ বয়ে গিয়েছিল। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়, ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে গতকাল তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির যে চেষ্টা চলছে, তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে সরকার।
আজ রোববার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে জরুরি বৈঠক শেষে এ কথা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এরপরও পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যাহত করা এবং অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে মনে করছে সরকার। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে শ্রমিক অসন্তোষের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং তা মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণ এবং পোশাক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।
ব্রিফিংয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দাবি যেটা ছিল, মজুরি বোর্ড সেটাতো হয়ে গেছে। কাজেই এখন যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়, পোশাক খাতে যাতে অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। এটা পরিষ্কার যে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লোকজন ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’
সোমবারও শ্রমিকদের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। সরকার তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দিনভর উত্তেজনা, সংঘর্ষ: মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আজ সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুরসহ গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। দিনভর বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
এতে কয়েকটি এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পোশাক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া ও অসন্তোষের কারণ বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং সংসদ সদস্য ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।