সরকার তামাক খাত থেকে যত রাজস্ব পায় তার চাইতে দ্বিগুণের বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয়, অকাল পঙ্গুত্ব ও মৃত্যু এবং পরিবেশের ক্ষতির কারণে অপচয় হয়। তাই, শুধু রাজস্ব আয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তামাক কোম্পানিগুলোকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেয়ার অর্থ হবে আরও বেশি মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের সঙ্গে আপোষ করা।
'জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক কোম্পানির সাথে আপোষ নয়’ এ নীতিকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়ে, দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী পাশ করায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে দেশের শতাধিক তামাক বিরোধী সংগঠন।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত “৬ষ্ঠ জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মশালায়”-এ আহ্বান করা হয়।
সংগঠনগুলোর মতে, ২০২৫ সালে পাস হওয়া অধ্যাদেশ-এ উল্লিখিত ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টসসহ ইমার্জিং তামাক পণ্য নিষিদ্ধের বিধান ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন থেক বাদ দেয়ায় নতুন প্রজন্মকে এই পণ্যের ভোক্তা বানানোর পথ সহজ হতে পারে। যেখানে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করা হযেছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো নতুন প্রজন্মকে লক্ষ্য করে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের বাজার সম্প্রসারণ করবে, যা শিশু-কিশোর ও তরুণদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়াবে। দীর্ঘমেয়াদে এর অর্থনৈতিক ক্ষতিও হবে ব্যাপক। সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত না হওয়া ই-সিগারেটকে “কম ক্ষতিকর” পণ্য হিসেবে বাজারজাত করার চেষ্টা চলছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই দ্রুত ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করা জরুরি।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) কর্তৃক যৌথভাবে দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মশালায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার টাস্কফোর্স কমিটির শতাধিক বেসরকারি সদস্য অংশ নেন। এতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, আইন বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, তামাক কর এবং তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ বিষয়ে ২৫ জন বিশেষজ্ঞ ও অতিথি আলোচক বক্তব্য দেন। পাশাপাশি ১০টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। উদ্বোধনী ও সমাপনী আয়োজন ছাড়াও একটি প্ল্যানারি সেশন এবং তিনটি প্যারালাল সেশনের মাধ্যমে কর্মশালাটি পরিচালিত হয়। প্রতিটি সেশনে অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলো বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ ওয়ার্কে অংশ নেয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল হেলাল আহমেদ। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য প্রদান করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আখতারউজ-জামান এবং ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের হেড অব প্রোগ্রাম মো. শফিকুল ইসলাম। সেশন সঞ্চালনা করেন সেতু’র প্রকল্প পরিচালক (তামাক নিয়ন্ত্রণ) শাগুফতা সুলতানা।
মো. আখতারউজ-জামান তৃনমুল পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থাগুলো সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত হয়। তামাক নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনে অনেক অর্জন রয়েছে। পাবলিক প্লেসে সিগারেটসহ সকল তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা করা হয়েছে। এ আইন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। টাস্কফোর্স কমিটিগুলো সক্রিয়করণে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের প্রতি আহবান জানান। ফরিদা আখতার বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস ইত্যাদি পণ্য নিষিদ্ধে উদ্যোগ নিতে হবে। ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণেও সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।
সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সারাদেশের তৃণমূল সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স সক্রিয় করার মাধ্যমে সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট। স্থানীয় বেসরকারি সংগঠনগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা দেয়ার জন্য তিনি জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল-কে অনুরোধ জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, স্কুল কলেজের আশেপাশে ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক পণ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স উদ্যোগ নিবে এবং বাস্তবায়নে কাজ করবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের জ্যেষ্ঠ কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ডিপিডিসির চেয়ারম্যান (পরিচালনা পর্ষদ) ও সিনিয়র সচিব (অব.) সৈয়দ মো. হামিদুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট'র বিভাগীয় প্রধান সৈয়দা অনন্যা রহমান।
শেখ মোমেনা মনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ কেবল স্বাস্থ্য ক্ষতি নয় বরং অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশের সাথেও সম্পৃক্ত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সম্পৃক্ত করেছে। ৬৪ জেলার স্কুলগুলোতে তামাক বিরোধী রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। তিনি কোন তামাক চাষি যদি তামাক চাষে প্রলুব্ধ না হয় সে বিষয়ে তাদের সচেতন করতে আহবান জানায়। একই সাথে জেলার জনপ্রতিনিধিদের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত করা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা, গণমাধ্যম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।
বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্য এফসিটিসি অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্বাচনী অঙ্গীকার রয়েছে। আপিল বিভাগ সিভিল আপিল নং ২০৪-২০৫/২০০১ মামলার ১ মার্চ ২০১৬ সালের রায়ে সরকারকে ধাপে ধাপে তামাক ব্যবহার কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন কোনো তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন না দেওয়া এবং বিদ্যমান কোম্পানিগুলোকে বিকল্প পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করার নির্দেশনাও রয়েছে। এ সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে আইন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এর সদস্য সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন মনিটরিং, আইন ও তামাকের ক্ষতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আইন লঙ্ঘনের প্রতিবেদন প্রণয়ন, মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমে সহায়তা, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ পর্যবেক্ষণ, তামাক কর বৃদ্ধির সুপারিশ এবং এফসিটিসি’র অনুচ্ছেদ ৫.৩ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এ সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে অব্যাহতভাবে সহযোগিতার অঙ্গীকার করে তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো। কর্মশালা থেকে সরকারের কাছে ই-সিগারেট, ভেপিং ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করতে পৃথক আইন প্রণয়ন, আমদানি আদেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধান বহাল রাখা, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন মনিটরিং কার্যক্রমে বেসরকারি সংগঠনসমূহকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত করা, জেলা ও উপজেলাসহ সকল তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন টাস্কফোর্সসমূহ কমিটি সক্রিয় করা, স্কুল-কলেজের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি ও বিজ্ঞাপন বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে এফসিটিসি’র অনুচ্ছেদ ৫.৩ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা, তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনায় বেসরকারি সংগঠনসমূহের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা, কার্যকর তামাক কর আরোপ ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ
২০১৮ সালে টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হকের হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর বলেছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)।
ওই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামির তালিকায় সে সময় র্যাব–৭ (চট্টগ্রাম) এর অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ রয়েছেন। তখন কক্সবাজার র্যাব–৭ এর আওতায় ছিল।
একরামুল হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের এক দিন পর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিনকে হেফাজতে নিল সেনাবাহিনী।
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন একরামুল। তিনি ১২ বছর উপজেলা যুবলীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ছিলেন।
২০২১ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত প্রবেশ নিষিদ্ধ কর্মকর্তার দুই কর্মকর্তার তালিকায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের সঙ্গে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদও ছিলেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আফ্রিকায় আগুনে ঘুমন্ত ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (বর্তমান কোমানি) থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের সমো এলাকায় একটি দোকানে অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়।
সূত্রে বরাতে জানা গেছে, দোকানের ভেতরের আবাসিক কক্ষে ৭ জন বাংলাদেশি ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে ৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অপর একজনকে উদ্ধার করে কুইন্সটাউন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মো. ফয়সাল (২৫), মো. ফাহিম (২৮), শামীম হাসান (৩০) ও মোহাম্মদ আপন (২৪)-এর পরিচয় জানা গেছে। আরও দুইজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের সবার বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন এলাকায়। আহত আরেকজনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকায়।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।
এর আগেও দেশটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের ব্রিটস শহরে একটি দোকানে আগুন লেগে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার একই পরিবারের তিনজনসহ চার বাংলাদেশি নিহত হন।
এছাড়া ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পিটারম্যারিটজবার্গের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে তাঁর কার্যক্রম শুরু করেছেন
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে তাঁর কার্যক্রম শুরু করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এ প্রথম কার্যক্রম শুরু করেন। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় তিনি বঙ্গভবনে পৌঁছেন।
বঙ্গভবনের প্রধান ফটক-২ এ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানায় এবং গার্ড অব অনার প্রদানের জায়গায় নিয়ে যায়। পরে পিজিআর-এর একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার দেন।
গার্ড অব অনার শেষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব খান মো. নূরুল আমিন, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে অক্টাগনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর কার্যালয়ে উপস্থিত হন এবং সেখানকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় সামরিক সচিব ও জনবিভাগের সচিব তাঁকে বঙ্গভবনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেন।
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে ইসির বৈঠক
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বৈঠক করেছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠকে আলোচনা হয় বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে কমিশন। দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি।
সিইসি জানান, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এ–সংক্রান্ত আইনে নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দিনক্ষণ ঠিক করার কথা বলা আছে। সে জন্য নির্বাচন কমিশন ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশন থাকলে এ নির্বাচন একভাবে হবে, আর না থাকলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলে জানানো হবে।
সিইসি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে, তা জানানো হয়েছে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে। সংসদ সচিবালয় এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা দেবে, এ জন্য নির্বাচন কমিশন চিঠিও দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। এ আসনের বিষয়ে সংসদ সচিবালয় পদক্ষেপ নিতে বললে কমিশন ব্যবস্থা নেবে।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সংসদ সচিবের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের দফা ২-এর বিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের কারণে এই পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এর ৫ ধারার (২) ও (৩) উপ-ধারার বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের সাথে আলোচনাক্রমে নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ঘোষণা করতে হবে। এ বিষয়ে স্পিকার কর্তৃক নির্ধারিত সুবিধাজনক তারিখ ও সময়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর চৌধুরী)
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীকে (এস কে সুর চৌধুরী) তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় আজ মঙ্গলবার তাঁকে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন। দুদকের কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সকালে কারাগার থকে এস কে সুরকে আদালতে হাজির করা হয়। সাজা ঘোষণার পর তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে দুদক ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১৫ জুলাই এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ যুক্তিতর্ক তুলে ধরে তাঁর সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা প্রার্থনা করেন আদালতের কাছে। আসামি পক্ষের আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার আসামির খালাস চান। মামলাটির বিচার চলাকালে আদালত সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন । আলোচিত পি কে হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম আসায় ২০২২ সালে এস কে সুরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই বছরের মার্চে তাঁকে দুদকে তলব করা হয়। এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান।
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
অভিযোগ আছে, এস কে সুর ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন এবং সুবিধা নিয়েছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, এসকে সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে তাঁর ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার জন্য সম্পদের হিসাব বিবরণীর নোটিশ জারি করা হয়। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করেন তিনি। তবে আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর দুদক মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন। ২৫ আস্ট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন। ৬ নভেম্বর এস কে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) দায়িত্ব পালন করা ৩২ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। ওই নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ হিসেবে আলোচিত।
তারা সবাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পান। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। আজ সোমবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, তাদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া প্রয়োজন বিবেচনায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তারা অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।
ওই সময়ের ডিসিদের মধ্যে রয়েছেন—নেত্রকোণার ডিসি মঈনউল ইসলাম, কুমিল্লার ডিসি মো. আবুল ফজল মীর, বান্দরবানের ডিসি মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নাটোরের ডিসি মো. শাহরিয়ার, চাঁদপুরের ডিসি মো. মাজেদুর রহমান খান, শরীয়তপুরের ডিসি কাজী আবু তাহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি এ জেড এম নুরুল হক, ময়মনসিংহের ডিসি মো. মিজানুর রহমান, চট্টগ্রামের ডিসি মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, লক্ষ্মীপুরের ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল, রাঙ্গামাটির ডিসি এ কে এম মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের ডিসি মো. কামাল হোসেন, কুষ্টিয়ার ডিসি মো. আসলাম হোসেন, শেরপুরের ডিসি আনার কলি মাহবুব।
এছাড়া তৎকালীন মানিকগঞ্জের ডিসি এস এম ফেরদৌস, চুয়াডাঙ্গার ডিসি গোপাল চন্দ্র দাশখাগড়াছড়ির ডিসি মো. শহিদুল ইসলাম, ফেনীর ডিসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বরিশালের ডিসি এস এম অজিয়র রহমান, ভোলার ডিসি মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পটুয়াখালীর ডিসি মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, সুনামগঞ্জের ডিসি মো. আব্দুল আহাদ, পাবনার ডিসি মো. জসিম উদ্দিন, ঝিনাইদহের ডিসি সরোজ কুমার নাথ, নীলফামারীর ডিসি নাজিয়া শিরিন, রাজশাহীর ডিসি এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার ডিসি মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের ডিসি মাহমুদুল কবীর মুরাদ, কিশোরগঞ্জের ডিসি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার ডিসি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, কুড়িগ্রামের ডিসি মোছা. সুলতানা পারভীনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।