সরকার তামাক খাত থেকে যত রাজস্ব পায় তার চাইতে দ্বিগুণের বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয়, অকাল পঙ্গুত্ব ও মৃত্যু এবং পরিবেশের ক্ষতির কারণে অপচয় হয়। তাই, শুধু রাজস্ব আয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তামাক কোম্পানিগুলোকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেয়ার অর্থ হবে আরও বেশি মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের সঙ্গে আপোষ করা।
'জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক কোম্পানির সাথে আপোষ নয়’ এ নীতিকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়ে, দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী পাশ করায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে দেশের শতাধিক তামাক বিরোধী সংগঠন।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত “৬ষ্ঠ জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মশালায়”-এ আহ্বান করা হয়।
সংগঠনগুলোর মতে, ২০২৫ সালে পাস হওয়া অধ্যাদেশ-এ উল্লিখিত ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টসসহ ইমার্জিং তামাক পণ্য নিষিদ্ধের বিধান ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন থেক বাদ দেয়ায় নতুন প্রজন্মকে এই পণ্যের ভোক্তা বানানোর পথ সহজ হতে পারে। যেখানে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করা হযেছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো নতুন প্রজন্মকে লক্ষ্য করে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের বাজার সম্প্রসারণ করবে, যা শিশু-কিশোর ও তরুণদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়াবে। দীর্ঘমেয়াদে এর অর্থনৈতিক ক্ষতিও হবে ব্যাপক। সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত না হওয়া ই-সিগারেটকে “কম ক্ষতিকর” পণ্য হিসেবে বাজারজাত করার চেষ্টা চলছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই দ্রুত ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করা জরুরি।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) কর্তৃক যৌথভাবে দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মশালায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার টাস্কফোর্স কমিটির শতাধিক বেসরকারি সদস্য অংশ নেন। এতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, আইন বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, তামাক কর এবং তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ বিষয়ে ২৫ জন বিশেষজ্ঞ ও অতিথি আলোচক বক্তব্য দেন। পাশাপাশি ১০টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। উদ্বোধনী ও সমাপনী আয়োজন ছাড়াও একটি প্ল্যানারি সেশন এবং তিনটি প্যারালাল সেশনের মাধ্যমে কর্মশালাটি পরিচালিত হয়। প্রতিটি সেশনে অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলো বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ ওয়ার্কে অংশ নেয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল হেলাল আহমেদ। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য প্রদান করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আখতারউজ-জামান এবং ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের হেড অব প্রোগ্রাম মো. শফিকুল ইসলাম। সেশন সঞ্চালনা করেন সেতু’র প্রকল্প পরিচালক (তামাক নিয়ন্ত্রণ) শাগুফতা সুলতানা।
মো. আখতারউজ-জামান তৃনমুল পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থাগুলো সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত হয়। তামাক নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনে অনেক অর্জন রয়েছে। পাবলিক প্লেসে সিগারেটসহ সকল তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা করা হয়েছে। এ আইন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। টাস্কফোর্স কমিটিগুলো সক্রিয়করণে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের প্রতি আহবান জানান। ফরিদা আখতার বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস ইত্যাদি পণ্য নিষিদ্ধে উদ্যোগ নিতে হবে। ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণেও সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।
সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সারাদেশের তৃণমূল সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স সক্রিয় করার মাধ্যমে সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট। স্থানীয় বেসরকারি সংগঠনগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা দেয়ার জন্য তিনি জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল-কে অনুরোধ জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, স্কুল কলেজের আশেপাশে ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক পণ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স উদ্যোগ নিবে এবং বাস্তবায়নে কাজ করবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের জ্যেষ্ঠ কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ডিপিডিসির চেয়ারম্যান (পরিচালনা পর্ষদ) ও সিনিয়র সচিব (অব.) সৈয়দ মো. হামিদুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট'র বিভাগীয় প্রধান সৈয়দা অনন্যা রহমান।
শেখ মোমেনা মনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ কেবল স্বাস্থ্য ক্ষতি নয় বরং অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশের সাথেও সম্পৃক্ত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সম্পৃক্ত করেছে। ৬৪ জেলার স্কুলগুলোতে তামাক বিরোধী রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। তিনি কোন তামাক চাষি যদি তামাক চাষে প্রলুব্ধ না হয় সে বিষয়ে তাদের সচেতন করতে আহবান জানায়। একই সাথে জেলার জনপ্রতিনিধিদের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত করা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা, গণমাধ্যম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।
বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্য এফসিটিসি অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্বাচনী অঙ্গীকার রয়েছে। আপিল বিভাগ সিভিল আপিল নং ২০৪-২০৫/২০০১ মামলার ১ মার্চ ২০১৬ সালের রায়ে সরকারকে ধাপে ধাপে তামাক ব্যবহার কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন কোনো তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন না দেওয়া এবং বিদ্যমান কোম্পানিগুলোকে বিকল্প পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করার নির্দেশনাও রয়েছে। এ সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে আইন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এর সদস্য সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন মনিটরিং, আইন ও তামাকের ক্ষতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আইন লঙ্ঘনের প্রতিবেদন প্রণয়ন, মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমে সহায়তা, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ পর্যবেক্ষণ, তামাক কর বৃদ্ধির সুপারিশ এবং এফসিটিসি’র অনুচ্ছেদ ৫.৩ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এ সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে অব্যাহতভাবে সহযোগিতার অঙ্গীকার করে তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো। কর্মশালা থেকে সরকারের কাছে ই-সিগারেট, ভেপিং ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করতে পৃথক আইন প্রণয়ন, আমদানি আদেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধান বহাল রাখা, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন মনিটরিং কার্যক্রমে বেসরকারি সংগঠনসমূহকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত করা, জেলা ও উপজেলাসহ সকল তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন টাস্কফোর্সসমূহ কমিটি সক্রিয় করা, স্কুল-কলেজের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি ও বিজ্ঞাপন বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে এফসিটিসি’র অনুচ্ছেদ ৫.৩ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা, তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনায় বেসরকারি সংগঠনসমূহের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা, কার্যকর তামাক কর আরোপ ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে টহল জাহাজ দেওয়ার অনুদান সংক্রান্ত চুক্তিসহ মোট ৪টি সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া দুটি প্রকল্পে পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৬৫৬ বিলিয়ন ইয়েন অর্থাৎ ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি।
টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমানের রুমন, উপ প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন।
প্রতিমন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, সফরকালে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করতে টহল জাহাজ দেওয়ার অনুদান সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনুদান হিসেবে জাপান বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ২১২ কোটি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) দেবে।
এছাড়া জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন বিষয়ক একটি সহযোগিতার স্মারক (এমওসি) সই হয়েছে।
জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য দুই দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান বিষয়ক এমওসি হয়।
জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও সহযোগিতার একটি স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে সই হয়েছে লেটার অব ইনটেন্ট বা প্রাথমিক সমঝোতাপত্র।
যে দুটি প্রকল্পে ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে সেগুলো হল, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন ও উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ ২)। এর মধ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৫৮৮ বিলিয়ন ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন ডলার) ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ ২) এর জন্য পাওয়া গেছে ৩ হাজার ৬৮ বিলিয়ন ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন ডলার) ঋণের প্রতিশ্রুতি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) মাধ্যমে বেসরকারি খাতেও ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, “বেসরকারি খাতেও দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারকসহ বিভিন্ন চুক্তি ও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
“এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।”
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে সস্ত্রীক জাপানে যান। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আজ বঙ্গভবনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু চাকরি প্রত্যাশী নয়, বরং দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির চাহিদা বিবেচনায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা এবং উদ্যোক্তা সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ দুপুরে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
তাঁরা জানান, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সর্বশেষ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম।
মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি যুগোপযোগী জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতায় প্রশিক্ষিত করে দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নুরুল হক নুর
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীতে উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অভিবাসন সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে একজন কর্মীর যেতে আনুমানিক ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।
নুরুল হক বলেন, নভেম্বরের শুরুতে মালয়েশিয়ায় কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু হলে দুই থেকে চার দিনের মধ্যে পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ করে কর্মীরা যেতে পারবেন। নভেম্বরের ১ তারিখ অথবা প্রথম সপ্তাহে ফ্লাইট চালু হতে পারে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে মেডিকেল পরীক্ষার অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করবে বলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ করবে। মেডিকেল পরীক্ষার খরচও নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। তবে নভেম্বর থেকে কর্মী পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, মালয়েশিয়ার অনুমোদিত ৩৩৮টি বড় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের চাহিদাপত্র (ডিমান্ড লেটার) জমা দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগের নির্ধারিত ব্যবস্থা এফডব্লিউসিএমএস এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট সেবার মাধ্যমে এসব চাহিদাপত্র জমা দেওয়া হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো চাহিদাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, চাহিদাপত্র সত্যায়নের পাশাপাশি কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। কোন কোন মেডিকেল কেন্দ্রে পরীক্ষা করা যাবে, তা দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
অনুমোদনহীন মেডিকেল কেন্দ্রে পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, মেডিকেল পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অনুমোদিত কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষা না করতে কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।
আইইডিসিআর এর পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের কক্ষে ঢুকে তাঁকে মারধর করা হয়
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকীরের কক্ষে ঢুকে মারধরের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, এ ঘটনায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসানের সদস্যপদ স্থগিত করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক জাকিরের কার্যালয়ে ঢোকেন কিছু ব্যক্তি। মিটিং চলাকালীন পরিচালকের শার্ট ধরে টেনে হিচড়ে বের করে আনছেন।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হাসান ড্যাবের আজীবন সদস্য এবং সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক। এমন অসদাচরণের ঘটনায় তার সদস্যপদ স্থগিত করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনির মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।
পরিচালকের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের বিষয়টি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেলেও, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, আইইডিসিআরে এ ঘটনাকে মব সৃষ্টি করে হামলা হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে একটি ‘গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ বা বিশ্বমানের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে জাপানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে জাপানের টোকিওতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম’-এ দেওয়া মূল বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
টোকিওস্থ জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রধান কার্যালয়ে এই ফোরামের আয়োজন করা হয়। জেটরো এবং দ্য জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (জেবিসিসিইসি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হওয়ায় জাপানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থানে রয়েছে। সেই থেকে জাপান আমাদের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার।’
জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বাজার ১৮০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের। আমাদের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি রয়েছে যাদের গড় বয়স ২৭ বছর। প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। আর ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর ভর করে ২০৩৪ সালের মধ্যে আমাদের জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।’
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও প্রসারিত করতে চলতি বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (ইপিএ)’-এর কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এটিই প্রথম কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ধরনের চুক্তি। আমাদের অংশীদারত্ব শুরু হয়েছিল উন্নয়ন সহযোগিতার মাধ্যমে। এখন সময় এসেছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে একে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার।’
জাপানি বিনিয়োগকারীদের তিনটি প্রধান উদ্বেগের
নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, দক্ষ অবকাঠামো এবং শুল্ক ও কর নীতি-কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু সমস্যার সমাধান করেছে এবং বাকিগুলো দ্রুত সমাধানে কাজ করছে। আড়াইহাজারে ‘জাপানিজ ইকোনমিক জোন’-এ বিনিয়োগের সুবিধাও তুলে ধরেন তিনি।
জাপানি কোম্পানিগুলোকে তিনটি মূল খাতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী
১. জ্বালানি খাত
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি জ্বালানি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগ চান।
২. প্রযুক্তি ও মহাকাশ
এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিক্স নিয়ে একটি উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক 'বাংলাদেশ-জাপান টেকনোলজি পার্ক' স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া মহাকাশ প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জাপানের উন্নত সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার সহায়তা নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
৩. উন্নত অবকাঠামো
৬টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দেশব্যাপী এলিভেটেড রোড নেটওয়ার্ক এবং হাই-স্পিড রেল নির্মাণের মহাপরিকল্পনায় জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী।
জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে আগামীতে লাখো তরুণ জাপানি ভাষায় কথা বলতে পারে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
‘জাপান আমাদের ভিত্তি গড়তে পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন আমি আপনাদের আমাদের শিল্প-কারখানা গড়তে, নতুন সুযোগ তৈরি করতে এবং আমাদের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে জাপানের ভাইস মিনিস্টার শিনজি, জেটরো প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকাসহ দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়িক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাশির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশের নাগরিক মোহাম্মদ হাচিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয়। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব মেরিল্যান্ড এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৩৩ বছর বয়সী হাচিবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হয়েও নিজের নাগরিকত্ব না থাকার বিষয়টি জেনেশুনে ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছিল।
মেরিল্যান্ডের ইউএস অ্যাটর্নি কেলি ও. হেইস এবং এফবিআইয়ের বাল্টিমোর ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট ইনচার্জ জিমি পল এ মামলার ঘোষণা দেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাচিবুর রহমানের সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে প্রকৃত সাজা সাধারণত সর্বোচ্চ নির্ধারিত সাজার চেয়ে কম হয়। সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের বিচারক সাজা নির্দেশিকা ও সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয় বিবেচনা করবেন।
বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, মামলা দায়ের হওয়া অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
তদন্তে সহায়তার জন্য এফবিআই এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউএস অ্যাটর্নি কেলি ও. হেইস। মামলাটি পরিচালনা করছেন সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি ফিলিপ মোৎসে।