অটোরিকশা জনদুর্ভোগের কারণ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৩ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা স্থাপনের পর সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। 


তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আধিক্যের কারণে এবং সেগুলোর নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলের কারণে ট্রাফিক বিভাগকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। তাই ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা উঠিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও ট্রাফিক বিভাগ।


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এসব আলোচনায় অটোরিকশার চলাচল নিয়ে বিস্তারিত বিষয় ও সমস্যাগুলো উঠে আসে। কিন্তু একইসঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকায় অটোরিকশার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।


তবে আলোচনায় উপস্থিত দুই পক্ষই অন্তত প্রাথমিকভাবে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আগামী মাসে একটি বৈঠকের কথা রয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের।


আলোচনায় উপস্থিত থাকা ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অটোরিকশা বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগ দুই পক্ষই চায়, ঢাকার প্রধান সড়কে আর অটোরিকশা চলাচল করতে দেওয়া না হোক।




তিনি বলেন, দুই পক্ষ এ বিষয়ে একমত হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে। আগামী মাসে সরকারের উচ্চপর্যায়ে একটি চূড়ান্ত বৈঠক হতে পারে। ওই বৈঠকের পর অটোরিকশা বন্ধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরকার ও প্রশাসন ইতোমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে প্রথম ধাপে ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীতে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী মাসের ১৫ তারিখের পর এ বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নগরবাসীকে জানানো হতে পারে। 


এরপর সরকারের সহযোগিতা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কঠোর অবস্থানে যাবে ট্রাফিক বিভাগ। সড়ক থেকে অটোরিকশা সরাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানায়, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় এআই ক্যামেরা চালুর পর বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সিগন্যাল অমান্য, স্টপলাইন ভাঙা, উল্টো পথে চলাচল ও হঠাৎ লেন পরিবর্তনের মতো ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পর প্রায় সব ধরনের যানবাহনকে একটি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হয়েছে। ক্যামেরার মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করে ই-প্রসিকিউশনের আওতায় আনা হচ্ছে। এতে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বেড়েছে।


তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এসব যানবাহনের বড় অংশের নেই কোনো বৈধ নিবন্ধন, নেই নির্ধারিত নম্বরপ্লেট, এমনকি চালকদেরও নেই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স। ফলে এআই ক্যামেরায় আইন ভঙ্গের দৃশ্য ধরা পড়লেও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।


ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অটোরিকশার চলাচল নিয়ে ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল, উল্টো পথে প্রবেশ, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রবণতায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাই ট্রাফিক বিভাগ মনে করছে, রাজধানীতে বর্তমানে যে পরিমাণ অটোরিকশা চলাচল করছে তা নিয়ন্ত্রণে না আনলে ঢাকার সড়কে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়। অটোরিকশার কারণে শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাই ব্যাহত হচ্ছে না, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।


এ কারণে ট্রাফিক বিভাগ ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা সরানোর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চায়। এ সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। 


সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মন্ত্রণালয়ও প্রাথমিকভাবে ঢাকার প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।


ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের মতো পর্যাপ্ত জনবল তাদের নেই। প্রতিদিন এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনের আওতায় আনতে গেলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সরকারি ও রাজনৈতিক পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ। কারণ এসব অটোরিকশার মালিক ও গ্যারেজ মালিকদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরানো সম্ভব হবে। বিষয়গুলো আসন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তুলে ধরবে ট্রাফিক বিভাগ।


এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে। অটোরিকশার বিষয় উঠলেও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকায় বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সেই অনুযায়ী আগামী মাসের ১৫ তারিখের দিকে সম্ভাব্য বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, ওই বৈঠকে অটোরিকশার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সিদ্ধান্ত হলে ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে। প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল আগেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে জনবল সংকট ও ডাম্পিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্প্রতি রাজধানীর কাওরানবাজার মোড় ও বাংলামোটর এলাকায় দেখা যায়, এআই ক্যামেরার কারণে ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে আগের তুলনায় নিয়ম মানার প্রবণতা বেড়েছে। কিন্তু সিগন্যাল লাল থাকলেও অটোরিকশাগুলো সুযোগ পেলেই সামনে ঢুকে পড়ছে, উল্টো পথে চলাচল করছে এবং যত্রতত্র যাত্রী তুলছে।


মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক কর্মকর্তারা বলছেন, বড় যানবাহনের ক্ষেত্রে ক্যামেরার মাধ্যমে আইন প্রয়োগ সহজ হয়েছে, কারণ তাদের রেজিস্ট্রেশন ও মালিকানার তথ্য রয়েছে। কিন্তু অটোরিকশার ক্ষেত্রে এসব না থাকায় প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।


এক ট্রাফিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এআই ক্যামেরার কারণে বড় গাড়িগুলো নিয়মের মধ্যে এসেছে। কিন্তু অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে আলাদা অভিযান চালাতে হয়। লাখ লাখ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের মতো জনবল আমাদের নেই।


ডিএমপির কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু ট্রাফিক আইন ভঙ্গ নয়, অটোরিকশাকে ঘিরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও হচ্ছে। এ কারণে অটোরিকশার বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৫১ এএম

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় প্রকাশিত পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।


আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।


পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।


এ সময়ে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।


মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ সময় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। ফলে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।


নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। 


বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আজ সোমবার বিকালে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, “আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজটি আমরা তখনই সফলভাবে করতে পারব, যখন তোমরা আজকে যারা গ্যালারিতে বসে আছ এবং যারা খেলার মাঠে পুরস্কার পেয়েছ, তোমরা নিজেদেরকে আগামী দিনের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। এখন পড়ার সময় মন দিয়ে পড়তে হবে, একইভাবে মন দিয়ে খেলতে হবে।”


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা সঠিকভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের দিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাকিয়ে আছে, বাংলাদেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা যদি নিজেদের গড়ে তুলতে পারো, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এই কাজ আমরা হয়তো শুরু করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ গড়ার কাজ তোমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”




আমার দৃঢ় বিশ্বাস-আজ প্যান্ডেল ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশুর মধ্য থেকেই আগামী দিনের সফল ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে; যারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা শক্তভাবে নিজেদের আত্মগঠনে মনোযোগ দাও।


ছোট্ট শিশুদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদের সকলের কাছে আমি একটি সহযোগিতা চাই। এই দেশটা আমাদের সকলের। এই দেশের আলো, এই দেশের বাতাস, এই দেশের পরিবেশ আমরা সকলে মিলে যদি ঠিক রাখি, তাহলে একটি সুন্দর পরিবেশ গড়তে পারব। তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তোমার বাসার আশপাশে অনেকে বিভিন্ন রকম ময়লা, প্লাস্টিকের বোতল ফেলে যায়। কেউ এগুলো ফেলছে-সেটি পুকুর হোক, নদীনালা হোক বা বাসার আশপাশে; এখন থেকে যদি এরকম কোনো দৃশ্য তোমাদের চোখে পড়ে, প্লিজ! তোমরা তাকে বারণ করবে। দরকার হলে সেই ময়লাটি তোমরা তুলে নিয়ে গিয়ে যেখানে ময়লা ফেলার জায়গা, নির্দিষ্ট সেই জায়গায় ফেলবে। যাতে আমাদের পরিবেশ, আমাদের নদীর পানি, পুকুরের পানি পরিষ্কার থাকে। সেখানে মানুষ সুন্দরভাবে হাঁটাচলা করতে বা বসতে পারে।”


শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রতিবছর চেষ্টা করবে, তোমার বাড়ির আশপাশে হোক, স্কুলের আশপাশে হোক অথবা যেখানে তুমি সুবিধা মনে কর সেইখানে একটি করে গাছ লাগাতে হবে। গাছ যদি আমরা লাগাতে পারি, আমাদের পরিবেশটা সুন্দর হবে, পরিষ্কার হবে। আমরা সকলে মিলে বুকভরে শ্বাস নিতে পারব।”


তিনি আরও বলেন, “কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা প্রকৃতির প্রতি, বিভিন্ন পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত নির্দয়। আজকে আমার সকল ছোট্ট বন্ধুদের আমি অনুরোধ করব, আসো আমাদের আশপাশে যত কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল যত রকম পশুপাখি আছে আমরা চেষ্টা করব এই যে প্রকৃতির, আল্লাহ দেওয়া বিভিন্ন জীব, পশুপাখি এদের যত্ন নেওয়ার। যত্ন যদি নিতে না পারি, অন্তত আমরা চেষ্টা করব তাদের যাতে কোনো প্রকার ক্ষতি হতে না পারে।”


বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সরকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শিশুরা যে ক্ষেত্রে নিজেদের বিকশিত করতে চায়, তা পড়ালেখা, খেলাধুলা, গান বা ছবি আঁকা-যা-ই হোক না কেন-সরকার তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২২ পিএম

৪৫ দিন পর পুনরায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর অনুমোদন পেয়েছে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স ফেরত দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা চালুর অনুমতি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লাইসেন্স ফেরত পাওয়ায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগ, অন্তঃবিভাগ, জরুরি বিভাগসহ সবধরনের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু হবে।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৪৫.০০.০০০০.০০০.১৬৩.২৭.০০১৪.২৬ (অংশ-২).১০৩ নং স্মারকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে হাসপাতালের কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেয়া হয়।


এদিকে লাইসেন্স ফেরত পাওয়ায় আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি শুকরিয়া আদায় করছে। একই সঙ্গে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেবাগ্রহীতা, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠন, আইনজীবী, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সোস্যাল মিডিয়া এক্টিভিস্ট, শুভানুধ্যায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে যারা আদ্-দ্বীনের পক্ষে সোচ্চার থেকে কথা বলেছেন তাদের সবার প্রতি কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছে।

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহকে আগামী ৫ বছরের জন্য জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ড. মাহবুব উল্লাহ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তিনি কোনো গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে নিজের পছন্দমতো ক্ষেত্রে গবেষণামূলক কাজ করবেন। গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) অবহিত করবেন। পাশাপাশি গবেষণাকাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও প্রতিবেদন জমা দেবেন।


এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ তার গবেষণাকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে অবহিত রাখবে। একই সঙ্গে গবেষণার তথ্য-উপাত্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে পাঠাবে।


প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর গ্রেড-১ অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।


তবে এ সময়ে তিনি অন্য কোনো চাকরিতে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।


আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:৩৭ পিএম

রাজধানীর বড় মগবাজারে অবস্থিত আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সন্তোষজনক বিবেচনা করে শর্তসাপেক্ষে হাসপাতালটিকে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


আদেশে বলা হয়, হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাখিল করা আপিল ও এর বিস্তারিত বিবরণ পর্যালোচনার জন্য গঠিত তদন্ত কমিটিকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত শেষে কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।


তবে হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- দ্য মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২- এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ডিউটি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ সম্পন্ন করা এবং ভবিষ্যতে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ হলে সরকার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।


স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা আদেশে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তার কাছেও আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।


এর আগে হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপিল করলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়।


 চিকিৎসাসেবা চালুর দিন-তারিখ জানালো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল


সিএনজি স্টেশন মালিকদের কর্মসূচি স্থগিত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৪৭ পিএম

গ্যাস সংকটের কারণে আগামী ৩০ জুলাই সিএনজি স্টেশন বন্ধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে স্টেশন মালিক সমিতি। ৩০ জুলাইয়ের কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও দাবি মানতে। এজন্য আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।


সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের কারণে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। দাবি না মানলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও জানান সমিতির নেতারা।


সংগঠনটির চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ, ভবিষ্যতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিশন সমন্বয়ের ব্যবস্থা চালু করা, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত নেওয়ার প্রথা বাতিল এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি ইজারাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।


এর আগে কমিশন বৃদ্ধিসহ ৪ দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই সারা দেশের সব সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।